ইনসাইড বাংলাদেশ

পদ্মা সেতু বিশ্বব্যাংকের সবচেয়ে বড় ভুল?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২২ Jun, ২০২২


Thumbnail পদ্মা সেতু বিশ্বব্যাংকের সবচেয়ে বড় ভুল?

পদ্মা সেতু উদ্বোধন হচ্ছে আগামী ২৫ জুন। এই সেতুটি বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেতুর কাজ শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনে সেখান থেকে সরে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত পদ্মা সেতু এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ তার আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখছে পদ্মা সেতুকে। শুধুমাত্র আত্মমর্যাদা নয়, বাংলাদেশে যে পারে সেই বিষয়টি জানান দিচ্ছে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের স্বাবলম্বিতা, বাংলাদেশের শক্তি এবং বাংলাদেশের সাহসের প্রকাশ পদ্মা সেতু। এখন যখন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে, তখন বিশ্বব্যাংকও পুরো বিষয়টাকে নুতন করে মূল্যায়ন করছে। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত এবং সেখান থেকে সরে আসা কি বিশ্বব্যাংকের কোন ভুল সিদ্ধান্ত ছিল? বিশ্বব্যাংক যতগুলো ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যেই কি পদ্মা সেতু অন্যতম ছিল? ওই প্রশ্নগুলো এখন সামনে চলে এসেছে। 

বিশ্বব্যাংক বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক সহায়তায়কারি প্রতিষ্ঠান হলেও এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা এবং বিভিন্ন দেশে তার কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বব্যাংককে নিয়ন্ত্রণ করে এমন অভিযোগ করে উন্নয়নশীল এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো। বিশ্বব্যাংককে সৃষ্টি করেছিল পশ্চিমা দেশগুলো, যেন উন্নয়নের জন্য সংগ্রামরত রাষ্ট্রগুলো সমাজতান্ত্রিক বলয়ের মধ্যে ঢুকে না পরে। আর এ কারণেই বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন দেশে উন্নয়নের যে সমস্ত ফর্মুলা দিয়েছিল, সেইসব ফর্মুলাই ছিল মূলত ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে জিইয়ে রাখার জন্য। ফলে অনেক দেশেই কল্যাণের বদলে বিশ্বব্যাংক রাজনৈতিক ঋণ প্রদান করেছিল। যে ঋণগুলো আসলে ওই দেশগুলোকে পরমুখাপেক্ষী করেছে এবং বিশ্বব্যাংকের যে প্রক্ষেপণ সেই প্রক্ষেপণগুলো ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বহু দেশ বিশ্বব্যাংকের ফাঁদে পরে আরও দরিদ্র হয়ে গেছে। ঋণে ফাঁদে ফেলে ওই রাষ্ট্রগুলোর উপর নানা রকম শর্ত চাপিয়ে দেওয়া বিশ্বব্যাংকের একটা অন্যতম নীতি-কৌশল। কিন্তু পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে সেটি ঘটেনি। বরং পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের সরে আসাটা ছিল সম্পূর্ণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়, যেটি প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন। 

বিশ্বব্যাংক যে দুর্নীতির কথা বলে পদ্মা সেতু থেকে সরে এসেছিল, সেই দুর্নীতির তদন্ত হয়েছে কানাডায় কোর্টে এবং তদন্তে দেখা গেছে যে, বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ একটি গালগল্প হিসেবেই চিত্রিত হয়েছে। এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাহলে বিশ্বব্যাংক কেন এরকম একটি গালগল্প শুনে অর্থায়ন থেকে সরে আসলো? এখন এটি মোটামুটি পরিষ্কার যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন না করার ক্ষেত্রে কিছু মানুষ প্ররোচিত করেছিল। যারা আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী, তারাই বিশ্বব্যাংককে অর্থ না দেওয়ার জন্য এক ধরনের প্রচারণা করেছিল। আর বিশ্বব্যাংক যেহেতু মার্কিন প্রশাসন দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত, মার্কিন প্রশাসনই বিশ্বব্যাংকের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ে, তাই মার্কিন প্রশাসনের নির্দেশেই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করেনি বিশ্বব্যাংক। কিন্তু এর ফলে বিশ্বব্যাংক একটি বড় উন্নয়ন বিজ্ঞাপন থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত করলো।

পদ্মা সেতুতে যদি বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করতো তাহলে তারা প্রমাণ করতে পারতো যে, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তারা বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে বিশ্বব্যাংকের নির্ভরতা বাড়তো এবং বিশ্বব্যাংক প্রশংসিত হতো। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করলে বিশ্বব্যাংক এটাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে পারতো। বিভিন্ন দেশে বিশ্বব্যাংক কি করতে পারে, তার উদাহরণ হিসেবে পদ্মা সেতুকে দেখাতে পারতো। আর সে কারণেই পদ্মা সেতুর যখন উদ্বোধন হচ্ছে, তখন বিশ্বব্যাংকের অনেক গবেষকই বিশ্বব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে হতাশ। অনেকেই মনে করছেন, এটি বিশ্বব্যাংকের সেরা ভুলগুলোর একটি। 

পদ্মা সেতু   বিশ্বব্যাংক   পদ্মা সেতু উদ্বোধন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

অসত্য বক্তব্যে সাফাই গাইলেন ড. ইউনূস

প্রকাশ: ০৬:২৯ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail অসত্য বক্তব্যে সাফাই গাইলেন ড. ইউনূস

বয়স শেষ হলেও গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে থাকার জন্য হিলারি ক্লিনটনের দ্বারস্থ হওয়া, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন বন্ধে দেনদরবার, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে তিন লাখ ডলার অনুদান এবং আরেকটি ফাউন্ডেশনকে ছয় মিলিয়ন ডলার অনুদানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে দেয়া বক্তব্যগুলো যে সম্পূর্ণ অসত্য সেটি একটু খতিয়ে দেখা যাক।

প্রথমত, ড. ইউনূসের বয়সসীমা পার হয়ে গেলেও তিনি এমডি পদে বহাল থাকতে চান। কিন্তু আইন অনুযায়ী তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে থাকতে পারেন না, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি পদত্যাগ না করে এই পদে থাকার জন্য তিনি হিলারি ক্লিনটনের দ্বারস্থ হন। হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করিয়ে অনুরোধ করান তাকে যেন গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে বহাল রাখা হয়। এরপর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

৬০ বছর বয়স হলেও গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে পদত্যাগ না করে পাল্টা মামলা করার প্রসঙ্গে জবাবে ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক এমন একটি ব্যাংক যার ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এর ঋণগ্রহীতারা। একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশ করে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ফলে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে এর পার্থক্য আছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় এর পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে একটি চুক্তির অধীনে। এই নিয়োগের জন্য কোনও বয়সসীমা আইনে বা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে উল্লেখ ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিয়মিত পরিদর্শন প্রতিবেদনগুলির একটিতে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিলে গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে। পরে ২০১১ সালে পদত্যাগ করতে বলায় গ্রামীণ ব্যাংকের মৌলিক আইনি মর্যাদা রক্ষায় তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। এর সঙ্গে চাকরি ধরে রাখার কোনো সম্পর্ক নেই।

কিন্তু ড. ইউনূসের এই বক্তব্য অসত্য। কারণ ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংকের অর্ডিন্যান্স এর ধারা ১৪(১) অনুযায়ী এই ব্যাংকের এমডি'র নিয়োগ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমডি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি সিলেকশন কমিটি থাকে এবং সেই বাছাইয়ের ভিত্তিতে ব্যাংকের বোর্ড এমডি নিয়োগ করে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানও নিয়োগ করে সরকার। গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান বলেই আইনে এই নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতেই রাখা হয়েছে। তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছিল মূলত এমডি পদে বহাল থাকার জন্য।

হিলারি ক্লিনটনসহ বিশিষ্টজনদের দিয়ে ফোন করানোর বিষয়ে ইউনূস সেন্টারের বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. ইউনূসের অপসারণ বিশ্বব্যাপী সংবাদে পরিণত হয়েছিল। ড. ইউনূসকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না, তারা দেখতে চাইছিলেন গ্রামীণ কর্মসূচিগুলোর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। ড. ইউনূসের এই বক্তব্যও সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং হিলারি ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন দিয়ে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে বহাল রাখার অনুরোধ জানান।

দ্বিতীয়ত, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনসহ আরেকটি ফাউন্ডেশনে দেয়া অনুদান, ব্যক্তিগত হিসেবে ছয় কোটি টাকা নেওয়ার কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ সংক্রান্ত ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে বলে দাবী করেছেন ড. ইউনূস। এর কোন সঠিক তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। কেবলমাত্র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি ব্যর্থ চেষ্টা করলেন ড. ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, অনুদান কিংবা কোনো উৎস থেকে টাকা আসলে সেটা প্রকাশ করতে হয়। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, ড. ইউনূস ওই ফাউন্ডেশনে অনুদান দেন। কিন্তু বিবৃতি ড. ইউনূস এটি অস্বীকার করেন।

এপির তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে তিনবার দেখা করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং টেলিফোনে কয়েকবার কথা বলেছেন। ওই সময় বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্ব থেকে মুহাম্মদ ইউনুসকে পদত্যাগের জন্য বাংলাদেশ সরকার চাপ দিচ্ছিল। সে কারণে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করে সাহায্য চেয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনুস। এ সময় গ্রামীণ আমেরিকা, যে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন ড. ইউনুস, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে এক লাখ থেকে আড়াই লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে। গ্রামীণ রিসার্চ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান,যেটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও রয়েছেন ড. ইউনুস, সেই প্রতিষ্ঠান থেকেও ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেয়া হয়েছে।

শুধু ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নয়, ড. ইউনূস আরও একটি ফাউন্ডেশনকে ছয় মিলিয়ন ডলার অর্থ দেওয়া এবং এক চেকে ছয় কোটি টাকা ব্যক্তিগত হিসাবে নিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে এটিকেও সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত বলে একই উত্তর দিলেন তিনি, যেখানে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা-প্রমাণ দিতে পারেননি।

তৃতীয়ত, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন ড. ইউনূস। এই বিষয়ে ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ দুই বন্ধুর খেয়ালখুশি কিংবা একজন পত্রিকা সম্পাদকের সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার ওপরও নির্ভর করে না। প্রফেসর ইউনূস পদ্মা সেতু বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বা অন্য কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির কাছে কখনও কোনো অভিযোগ বা অনু্যোগ জানাননি। সুতরাং বিষয়টি নিতান্তই কল্পনাপ্রসূত।

পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের জন্য কথিত দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংকে চিঠি দেন ড. ইউনূস। সেই সাথে হিলারি ক্লিনটকে দিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে চাপও প্রয়োগ করেন তিনি। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের পেছনে একটি পত্রিকার সম্পাদককে সাথে নিয়ে ড. ইউনূস যে দেনদরবার করেছেন তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এই প্রমাণিত অভিযোগকেও কেবল কল্পনাপ্রসূত বলা ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের আর কোন উপায়ও নেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের।

অসত্য বক্তব্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই গাইতে যেয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে কেবল একটিই যুক্তি উঠে এসেছে যে, সকল অভিযোগই 'কল্পনাপ্রসূত'। এছাড়া তিনি আর তেমন কোনো ব্যাখ্যাই দিতে পারেননি। অসত্য বক্তব্য দিয়ে ড. ইউনূস বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করলেও সেখানেও তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ, তার এই বক্তব্যে যে অযৌক্তিক এবং মিথ্যা সেটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পদোন্নতি পাওয়া ৩৫ ডিআইজিকে বদলি

প্রকাশ: ০৫:১৬ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail পদোন্নতি পাওয়া ৩৫ ডিআইজিকে বদলি

বাংলাদেশ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ৩৫ জনকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে তাদের নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে।

বদলিকৃতদের অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বদলিকৃতদের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন।

পুলিশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

১,৪০০ বন্যার্ত পরিবারকে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

প্রকাশ: ০৪:৩১ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail ১,৪০০ বন্যার্ত পরিবারকে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

বসুন্ধরা ফুড এন্ড বেভারেজ এবং বসুন্ধরা মাল্টি ফুড লি. এর উদ্যোগে এক হাজার ৪০০ বন্যার্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ৫টি উপজেলায় বানভাসি পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, মুড়ি, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করেও বন্যার্ত মানুষের হাতে ত্রাণ তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, বন্যায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কাজকর্ম নেই। ত্রাণ পেয়ে বেশ উপকার হয়েছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য কল্পনা বেগম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন খবরে দেখি বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক অসহায় মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। আমার এলাকার প্রত্যন্ত চরে বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ ত্রাণ পাঠিয়েছে, বিষয়টি খুবই ভালো লাগছে।

এ সময় বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই জনপ্রতিনিধি।

ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অনেকগুলো বন্যাকবলিত এলাকায় বিতরণ করা খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিলো চাল, ডাল, তেল, মুড়ি ও বিশুদ্ধ পানি। উল্লেখযোগ্য এলাকাসমূহ হলও সিলেটের জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বিষোড়ম্বরপুর, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন, কুড়িগ্রামের চিলমারী সহ আরও বন্যাকবলিত স্থান।

ত্রাণ সরবরাহ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, প্রোডাক্ট লাইন-বি এর এজিএম মওদুদ আহমেদ (নর্থ বেঙ্গল), ডিএসএম-প্রোডাক্ট লাইন-বি আবুল বাশার (রংপুর বিভাগ), ডিএসএম- প্রোডাক্ট লাইন-বি আতাউর রহমান (ময়মনসিংহ), ডিএসএম- প্রোডাক্ট লাইন-বি দীপঙ্কর রয় (সিলেট) সহ স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটর, ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বসুন্ধরা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চার মেট্রোপলিটনে নতুন কমিশনার

প্রকাশ: ০৪:৩১ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail চার মেট্রোপলিটনে নতুন কমিশনার

চট্টগ্রাম, রংপুর, গাজীপুর ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে নতুন চার কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপ-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়কে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জ কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত নুরে আলম মিনাকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোল্যা নজরুল ইসলাম গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মো. সাইফুল ইসলামকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই আদেশে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্যকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

জনস্বার্থে এ আদেশ কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

চার মেট্রোপলিটন   নতুন কমিশনার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মশার উৎস খুঁজতে ড্রোনের মাধ্যমে চিরুনি অভিযান চালাবে ডিএনসিসি

প্রকাশ: ০৪:০৬ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail মশার উৎস খুঁজতে ড্রোনের মাধ্যমে চিরুনি অভিযান চালাবে ডিএনসিসি

এডিস মশার উৎস খুঁজতে ড্রোনের মাধ্যমে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করবে উত্তর সিটি কর্পোরেশন। আগামী শনিবার (২জুলাই) থেকে দশ দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সকালে রাজধানীর উত্তরা সেক্টর-৪ এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে মশার উৎস শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম। 

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, 'নগরের প্রতিটি বাড়িতে প্রবেশ করে ছাদ বা বেলকনিতে মশার উৎস খুঁজে বের করা কঠিন এবং এটি অনেক সময় সাপেক্ষ কাজ। তাই অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিটি বাড়ির ছাদে এডিসের লার্ভা আছে কিনা সেটি  খুঁজে বের করা হবে এবং পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  'আগামী ২ থেকে ১১ জুলাই ঢাকা উত্তরের আওতাধীন প্রতিটি বাসা বাড়িতে অত্যাধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে মশার উৎস খুঁজতে আমরা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করবো। ' 

তিনি জানান, 'সিটি করপোরেশন ড্রোন থেকে ছবি নিয়ে তথ্য উপাত্ত নিয়ে যেসব বাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়া যায় তার একটি তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করবে। যা আগামী বছরে মশক নিধন কার্যক্রমে কাজে লাগবে।'

অনুষ্ঠানে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রাজধানীর হাসপাতাল ও রোগীদেরকে ডেঙ্গুর বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়ার আহ্বান জানান। 

মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্তদের অনুরোধ করবো আপনাদের সঠিক ঠিকানা দিন। আমরা আপনাদের জরিমানা করবো না। আমরা শুধু ওই বাসায় গিয়ে আশেপাশে মশার কীটনাশক ছিটিয়ে দেব। কিন্তু আপনি যদি ভুল তথ্য দেন তাহলে তো আমরা সঠিকভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালাতে পারবো না। '

তিনি বলেন, 'আমরা নোভালিউরন নামে ট্যাবলেট জলাশয় ও বাসাবাড়ির পানির মিটারে ব্যবহার করছি যা তিনমাস পর্যন্ত পানিতে মশার জম্ম নিয়ন্ত্রণ করে।'

মশার উৎস শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে মেয়র উত্তরা সেক্টর-৪ কল্যাণ সমিতি মাঠে সমিতির উদ্যোগে স্থাপিত Qista Mosquito Trap Machine (মশা ধরার মেশিন) এর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। 

উল্লেখ্য, এটি মশা নিধনের একটি আধুনিক মেশিন। মেশিনটি একাধারে এডিস এবং কিউলেক্স মশা capture করতে পারে। এই মেশিনটি চতুর্দিকে ২৪৫ ফুট বা ৮০ মিটার ব্যাপী কার্যকরী। এটি Qista নামক একটি অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত হয় যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কতটি মশা ধরা পড়ল তা যানা যায় এবং মেশিনটি ON/OFF করা যায়। এটি সম্পূর্ণরূপে শব্দ দূষণমুক্ত! পাইলট প্রকল্প হিসেবে উত্তরা ৪নং সেক্টরের কল্যাণ সমিতি মাঠ ও পার্কে ৬টি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের সাথে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

মশা   চিরুনি   অভিযান  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন