ইনসাইড বাংলাদেশ

বন্যার সঙ্গে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে মেলাচ্ছে কারা?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৩ Jun, ২০২২


Thumbnail বন্যার সঙ্গে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে মেলাচ্ছে কারা?

আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। আমাদের অহংকারের প্রতীক আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। সারাদেশে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ যেন এক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়। কিন্তু এই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে বাঙালির প্রাণের উৎসবকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে কোনো কোনো মহল। বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যে সমস্ত ব্যক্তি-গোষ্ঠী পদ্মা সেতু চায়নি, যারা পদ্মা সেতু হবে না বলে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা করেছে তারাই এখন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগেই নানা ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হয়েছিল। সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, ঢাকা-সিলেট রেলে আগুন লাগার ঘটনা এবং বিভিন্ন স্থানে নাশকতার চেষ্টা প্রকাশিত হয়েছে। এরকম প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই জনগণকে জানিয়েছিলেন যে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে নানা রকম নাশকতার চেষ্টা চলছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, বড় বড় স্থাপনা গুলোর উপর আক্রমণ হতে পারে। এজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই পরিস্থিতি যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভাবে সামাল দিলো, তখন শুরু হয়েছে নতুন ষড়যন্ত্র, জনগণকে বিভ্রান্ত করার এক নতুন কৌশল।

বাংলাদেশে প্রতিবছরই জুন থেকে আগস্টের শেষ ভাগ পর্যন্ত ছোট-বড় নানা আকারে বন্যা হয়। এবার সিলেটের বন্যার মাত্রাটা অনেকটাই বেশি। কিন্তু এই বন্যা বাংলাদেশের জন্য একটি স্বাভাবিক ঘটনা। বন্যার সঙ্গেই বাংলাদেশের মানুষের বসবাস। এরকম বন্যা মোকাবেলা করেই আমরা টিকে থাকি। আর এই বন্যা মোকাবিলায় বিশ্বের যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ হলো অন্যতম প্রধান দেশ। তাই বন্যা নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সিলেটের বন্যাদুর্গতদের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বন্যা দুর্গত এলাকা সফর করেছেন, মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলেই জানা গেছে। আর একারণেই বন্যার সঙ্গে পদ্মা সেতুকে মুখোমুখি করানোর কোনো কারণ থাকতে পারেনা বলেই বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। কারণ দুটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়।

পদ্মা সেতু দীর্ঘদিনের বাঙালির একটি ত্যাগ-তিতিক্ষার অর্জন। পদ্মা সেতু নিয়ে নানারকম ষড়যন্ত্র হয়েছে, পদ্মা সেতু যেন না হয় সেজন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নানারকম রাজনীতি হয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। এ নিয়ে উৎসব হবেই। এর সঙ্গে বন্যার কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে কিছু কিছু মানুষ আছে, সবকিছুর মধ্যেই একটা বাগড়া দেওয়ার কৌশল খোঁজে। যারা বন্যার কারণে পদ্মা সেতুর উৎসব করা উচিত নয় বলছেন তারা চিহ্নিত এবং তাদের পরিচয় দেশবাসী আগে থেকেই জানে। বিভিন্ন সময়ে যারা পদ্মা সেতু হবে না, এই সরকারের আমলে পদ্মা সেতু করা যাবে না কিংবা বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার পরিণতি বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ হবে ইত্যাদি কথা বলেছিল, তারাই এখন বন্যার অজুহাত দেখিয়ে পদ্মা সেতুর উৎসবকে ম্লান করতে চাইছে। কিন্তু দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গকে পরস্পর মুখোমুখি করার উদ্দেশ্য কি, সেটি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মনে করে যে, যাই ঘটুক না কেন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হবে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা উৎসব।

পদ্মা সেতু   বন্যা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সারাদেশে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৯২

প্রকাশ: ০৯:০৭ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail

সারা দেশে বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। ১৭ মে থেকে ২৮ জুন দুপুর পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯২ জন হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্ঘটনা এবং বিভিন্ন রোগে তাদের মৃত্যু হয়। বন্যায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেটে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৭ মে থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত বন্যায় সিলেট বিভাগে ৫৫, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩১,  রংপুর বিভাগে পাঁচ ও ঢাকা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়।

জেলাভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে সুনামগঞ্জ। ১৭ মে থেকে ৩০ জুনের মধ্যে সেখানে ২৭ জন মারা যান। তাছাড়া সিলেট জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। নেত্রকোনায় ১০ এবং জামালপুরে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।  শেরপুরে মারা গেছেন সাতজন। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে পাঁচজন করে  মারা গেছেন।

ময়মনসিংহে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। আর কুড়িগ্রামে চার ও লালমনিরহাটে একজন মারা গেছেন। টাঙ্গাইলে মৃত্যুবরণ করেছেন একজন।

অপরদিকে বন্যার কারণে নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৪৯৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ১৫২ জন। এতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরটিআই (চোখের রোগ) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮১ জন। এক্ষেত্রে কারও মৃত্যুর খবর নেই। বজ্রপাতে ১৫ জন আহত হয়েছেন।তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন ১২ জন। এতে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৬৬ জনের।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চাঁদ দেখা গেছে, ১০ জুলাই ঈদুল আজহা

প্রকাশ: ০৭:৪৫ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail

দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে হিসেবে ১ জুলাই জিলহজ মাস শুরু হবে এবং আগামী ১০ জুলাই (রোববার) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি, শেরপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চাঁদ দেখার সংবাদ জেলা প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গতকাল বুধবার সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, সে হিসেবে বুধবার (২৯ জুন) সেখানে জিলহজ মাস শুরু হয়েছে। দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ৯ জুলাই (শনিবার)।

জিলকদ মাসের পরই আরবি বছরের শেষ মাস জিলহজ মাস। জিলহজ মাসে মুসলমানেরা পবিত্র মক্কায় হজ করতে যান। জিলহজ মাসের ৮-১০ তারিখে হজ অনুষ্ঠিত হয়। ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়। এই ঈদে কোরবানি দেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।

ঈদুল আজহা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ১৬ নির্দেশনা

প্রকাশ: ০৭:০৫ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ১৬ নির্দেশনা

আসন্ন ইদুল-আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় ১৬টি নির্দেশনা পালনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। 
 
নির্দেশনাগুলো হলো:

১. হাট বসানোর জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নির্বাচন করতে হবে। কোনো অবস্থায় বদ্ধ জায়গায় হাট বসানো যাবে না; 
২. হাট ইজারাদার কর্তৃক হাট বসানোর আগে মহামারি প্রতিরোধী সামগ্রী যেমন-মাস্ক, সাবান, জীবাণুমুক্তকরণ সামগ্রী ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হবে। পরিষ্কার পানি সরবরাহ ও হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল সাবান/সাধারণ সাবানের ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে;
৩. পশুর হাটের সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও হাট কমিটির সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হাট কমিটির সকলের ব্যক্তিগত সুরক্ষা জোরদার করা এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে;
৪. হাটের সাথে জড়িত সকল কর্মীর স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা দিতে হবে। জনস্বাস্থ্যের বিয়ষগুলো যেমন মাস্কের সঠিক ব্যবহার, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার, শারীরিক দূরত্ব, হাত ধোয়া, জীবানুমুক্তকরণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিগুলো সার্বক্ষণিক মাইকে প্রচার করতে হবে;
৫. মাস্ক ছাড়া কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা হাটের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। হাট কর্তৃপক্ষ চাইলে বিনামূল্যে মাস্ক সরবরাহ করতে পারেন বা এর মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারেন;
৬. প্রতিটি হাটে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ডিজিটাল পর্দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করতে হবে;
৭. পশুর হাটে প্রবেশের জন্য গেট (প্রবেশপথ ও বাহিরপথ) নির্দিষ্ট করতে হবে;
৮. পর্যাপ্ত পানি ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিস্কার করতে হবে। কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি করা      যাবে না;
৯. প্রতিটি হাটে সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক এক বা একাধিক ভ্রাম্যমান স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টিম গঠন করে সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মেডিকেল টিমের নিকট শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য ডিজিটাল থার্মোমিটার রাখা যেতে পারে, যাতে প্রয়োজনে হাটে আসা সন্দেহজনক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করা যায়। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে আলাদা করে রাখার জন্য প্রতিটি হাটে একটি আইসোলেশন ইউনিট (একটি আলাদা কক্ষ) রাখা যেতে পারে;
১০. একটি পশুর থেকে আরেকটা পশু এমনভাবে রাখতে হবে যেন ক্রেতারা কমপক্ষে ৩ (তিন) ফুট বা ২ (দুই) হাত দূরত্ব বজায় রেখে পশু ক্রয় করতে পারেন।
১১. ভিড় এড়াতে মূল্য পরিশোধ ও হাসিল আদায় কাউন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
১২. মূল্য পরিশোধের সময় সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়ানোর সময়কাল যেন কম হয় সেদিকে লক্ষ্য রাকতে হবে। লাইনে ৩ (তিন) ফুট বা কমপক্ষে ২ (দুই) হাত দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে রেখা টেনে বা গোল চিহ্ন দিতে হবে; 
১৩. সকল পশু একত্রে হাটে প্রবেশ না করিয়ে, হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী পশু প্রবেশ করাতে হবে;
১৪. হাটের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করা সম্ভব, এমন সংখ্যক ক্রেতাকে হাটে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। অবশিষ্ট ক্রেতারা হাটের বাইরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করবেন। ১টি পশু ক্রয়ের জন্য ১ বা ২ জনের বেশি ক্রেতা হাটে প্রবেশ করবেন না;
১৫. অনলাইনে পশু কেনা-বেচার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা যেতে পারে;
১৬. স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শ্রঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে সকল কাজ নিশ্চিত করতে হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

অসত্য বক্তব্যে সাফাই গাইলেন ড. ইউনূস

প্রকাশ: ০৬:২৯ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail অসত্য বক্তব্যে সাফাই গাইলেন ড. ইউনূস

বয়স শেষ হলেও গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে থাকার জন্য হিলারি ক্লিনটনের দ্বারস্থ হওয়া, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন বন্ধে দেনদরবার, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে তিন লাখ ডলার অনুদান এবং আরেকটি ফাউন্ডেশনকে ছয় মিলিয়ন ডলার অনুদানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার আত্মপক্ষ সমর্থনে দেয়া বক্তব্যগুলো যে সম্পূর্ণ অসত্য সেটি একটু খতিয়ে দেখা যাক।

প্রথমত, ড. ইউনূসের বয়সসীমা পার হয়ে গেলেও তিনি এমডি পদে বহাল থাকতে চান। কিন্তু আইন অনুযায়ী তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে থাকতে পারেন না, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি পদত্যাগ না করে এই পদে থাকার জন্য তিনি হিলারি ক্লিনটনের দ্বারস্থ হন। হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করিয়ে অনুরোধ করান তাকে যেন গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে বহাল রাখা হয়। এরপর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

৬০ বছর বয়স হলেও গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে পদত্যাগ না করে পাল্টা মামলা করার প্রসঙ্গে জবাবে ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক এমন একটি ব্যাংক যার ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এর ঋণগ্রহীতারা। একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশ করে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ফলে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে এর পার্থক্য আছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় এর পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে একটি চুক্তির অধীনে। এই নিয়োগের জন্য কোনও বয়সসীমা আইনে বা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে উল্লেখ ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিয়মিত পরিদর্শন প্রতিবেদনগুলির একটিতে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিলে গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে। পরে ২০১১ সালে পদত্যাগ করতে বলায় গ্রামীণ ব্যাংকের মৌলিক আইনি মর্যাদা রক্ষায় তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। এর সঙ্গে চাকরি ধরে রাখার কোনো সম্পর্ক নেই।

কিন্তু ড. ইউনূসের এই বক্তব্য অসত্য। কারণ ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংকের অর্ডিন্যান্স এর ধারা ১৪(১) অনুযায়ী এই ব্যাংকের এমডি'র নিয়োগ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমডি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি সিলেকশন কমিটি থাকে এবং সেই বাছাইয়ের ভিত্তিতে ব্যাংকের বোর্ড এমডি নিয়োগ করে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানও নিয়োগ করে সরকার। গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান বলেই আইনে এই নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতেই রাখা হয়েছে। তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছিল মূলত এমডি পদে বহাল থাকার জন্য।

হিলারি ক্লিনটনসহ বিশিষ্টজনদের দিয়ে ফোন করানোর বিষয়ে ইউনূস সেন্টারের বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. ইউনূসের অপসারণ বিশ্বব্যাপী সংবাদে পরিণত হয়েছিল। ড. ইউনূসকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না, তারা দেখতে চাইছিলেন গ্রামীণ কর্মসূচিগুলোর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। ড. ইউনূসের এই বক্তব্যও সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং হিলারি ক্লিনটন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন দিয়ে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে বহাল রাখার অনুরোধ জানান।

দ্বিতীয়ত, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনসহ আরেকটি ফাউন্ডেশনে দেয়া অনুদান, ব্যক্তিগত হিসেবে ছয় কোটি টাকা নেওয়ার কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ সংক্রান্ত ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে বলে দাবী করেছেন ড. ইউনূস। এর কোন সঠিক তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। কেবলমাত্র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি ব্যর্থ চেষ্টা করলেন ড. ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, অনুদান কিংবা কোনো উৎস থেকে টাকা আসলে সেটা প্রকাশ করতে হয়। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, ড. ইউনূস ওই ফাউন্ডেশনে অনুদান দেন। কিন্তু বিবৃতি ড. ইউনূস এটি অস্বীকার করেন।

এপির তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে তিনবার দেখা করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং টেলিফোনে কয়েকবার কথা বলেছেন। ওই সময় বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্ব থেকে মুহাম্মদ ইউনুসকে পদত্যাগের জন্য বাংলাদেশ সরকার চাপ দিচ্ছিল। সে কারণে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে দেখা করে সাহায্য চেয়েছিলেন মুহাম্মদ ইউনুস। এ সময় গ্রামীণ আমেরিকা, যে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন ড. ইউনুস, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে এক লাখ থেকে আড়াই লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে। গ্রামীণ রিসার্চ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান,যেটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও রয়েছেন ড. ইউনুস, সেই প্রতিষ্ঠান থেকেও ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেয়া হয়েছে।

শুধু ক্লিনটন ফাউন্ডেশন নয়, ড. ইউনূস আরও একটি ফাউন্ডেশনকে ছয় মিলিয়ন ডলার অর্থ দেওয়া এবং এক চেকে ছয় কোটি টাকা ব্যক্তিগত হিসাবে নিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে এটিকেও সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত বলে একই উত্তর দিলেন তিনি, যেখানে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা-প্রমাণ দিতে পারেননি।

তৃতীয়ত, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন ড. ইউনূস। এই বিষয়ে ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ দুই বন্ধুর খেয়ালখুশি কিংবা একজন পত্রিকা সম্পাদকের সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার ওপরও নির্ভর করে না। প্রফেসর ইউনূস পদ্মা সেতু বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বা অন্য কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির কাছে কখনও কোনো অভিযোগ বা অনু্যোগ জানাননি। সুতরাং বিষয়টি নিতান্তই কল্পনাপ্রসূত।

পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের জন্য কথিত দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংকে চিঠি দেন ড. ইউনূস। সেই সাথে হিলারি ক্লিনটকে দিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে চাপও প্রয়োগ করেন তিনি। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের পেছনে একটি পত্রিকার সম্পাদককে সাথে নিয়ে ড. ইউনূস যে দেনদরবার করেছেন তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত। এই প্রমাণিত অভিযোগকেও কেবল কল্পনাপ্রসূত বলা ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের আর কোন উপায়ও নেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের।

অসত্য বক্তব্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই গাইতে যেয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে কেবল একটিই যুক্তি উঠে এসেছে যে, সকল অভিযোগই 'কল্পনাপ্রসূত'। এছাড়া তিনি আর তেমন কোনো ব্যাখ্যাই দিতে পারেননি। অসত্য বক্তব্য দিয়ে ড. ইউনূস বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করলেও সেখানেও তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ, তার এই বক্তব্যে যে অযৌক্তিক এবং মিথ্যা সেটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পদোন্নতি পাওয়া ৩৫ ডিআইজিকে বদলি

প্রকাশ: ০৫:১৬ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail পদোন্নতি পাওয়া ৩৫ ডিআইজিকে বদলি

বাংলাদেশ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ৩৫ জনকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে তাদের নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে।

বদলিকৃতদের অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বদলিকৃতদের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন।

পুলিশ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন