ইনসাইড বাংলাদেশ

বরিশাল বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক সভাপতি ও সানা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

প্রকাশ: ০৭:৩৭ পিএম, ৩০ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বরিশাল বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক সভাপতি ও সানা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

দীর্ঘ এক দশক পরে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯ অক্টোবর শনিবার দিনভর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম ফারুক সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। 

এছাড়াও খিজির সরদার ও আক্তার হোসেন মোল্লাকে সহ-সভাপতি, সুব্রত লাল কুন্ডু,অধ্যাপক জাকির হোসেন ও অধ্যাপক আশরাফুল হাসান সুমনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মামুন-উর-রশিদ স্বপন, জাকির হোসেন সরদার ও নুরুল হুদাকে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী পদ মর্যাদায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও  পরীবিক্ষণ কমিটির (আহবায়ক),আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্য  ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ্ এমপি বলেছেন, গণতন্ত্র হত্যা করে বন্দুকের নলের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল করা ও  তার আমলে হ্যাঁ  না ভোটের কথা দেশের মানুষ আজও ভুলেনি। সেই বিএনপির মুখে গণতন্ত্র,মানবাধিকার ও ভোটাধিকারের কথা মানায় না। সপরিবারে নির্মমভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে ঘাতকদের বাঁচাতে কুখ্যাত ইনডেমিনিটি আইন ও ঘাতকদের পুরস্কৃত করা, নির্বিচারে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা-সৈনিকদের ফাঁসি দেওয়া, যুদ্ধাপরাধী ও ১৫ আগষ্টের ঘাতকদের পবিত্র জাতীয় সংসদের সদস্য ও মন্ত্রী সভায় ঠাঁই দেওয়ার মত ঘৃনিত কাজ করা এবং পাকিস্তানী ভাবধারায় সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র তৈরীর চেষ্টাকারী বিএনপি ও তাদের দোসর জামায়াত-শিবিরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্ববাসী দেশের মানুষ আগামী নির্বাচনেও ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশজুড়ে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবে । 

এসময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পরাজিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সকল  চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্তক ও ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহবান জানান। ২৯ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টায় বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস,স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম,আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনিসুর রহমান এবং বরিশালের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার মীরা প্রমুখ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হাসান সুমনের সঞ্চালনায় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানা শোক প্রস্তাব ও সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন। এছাড়াও বক্তৃতা করেন শেরে বাংলার দৌহিত্র একে ফাইয়াজুল হক রাজু,পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল,বানারীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুন্ডু,উপজেলার বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী,বিশারকান্দি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদার,উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মমিনুল কবির মিঠুন প্রমুখ। 

দুপুর ২টায় প্রথম অধিবেশন শেষ করে বিকাল ৪টায় দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত ও বিভিন্ন সময় দলের বহিস্কৃত নেতাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সভাপতি পদে দুই জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৬ জন তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ গোলাম ফারুককে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানাকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক করে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এদিকে নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দকে আওয়ামী লীগ ও এর সকল অঙ্গ সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উষ্ণ অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জামালপুরে গোয়াল ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৩:২৮ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত গোঁয়াল ঘর থেকে আবু সাঈদ (৫৫) নামে মৌসুমি ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ পৌর শহরের চরকাউরিয়া সীমার গ্রামে অবস্থিত আবু সাঈদের নিজের পরিত্যক্ত গোঁয়াল ঘর থেকে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকাল ৩ টায় মরদেহ উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরকাউরিয়া সীমারপাড় গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে আবু সাঈদ ধান, চাল , সরিষা সহ মৌসুমি ব্যবসায়ী ।

সোমবার দুপুরে তার বাড়ির পাশে অবস্থিত নিজের একটি পরিত্যক্ত গোঁয়াল ঘরের ধর্নার সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। গলায় রশি দিয়ে ঝুলা হলেও তার পা দুটি ছিল মাটির সঙ্গে লাগানো। এলাকাবাসীর ধারণা যেভাবে মরদেহটি ঝুলে ছিল তাতে রহস্যজনক মৃত্যু বলে মনে হয়। এ খবর জানাজানি হলে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন।

জ্বলন্ত মরদেহ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শপথ নিলেন রসিক মেয়র মোস্তফা

প্রকাশ: ০২:৪২ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

শপথ গ্রহণ করেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) সদ্য নির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে শপথ নিয়েছেন নির্বাচিত সাধারণ ও নারী কাউন্সিলররাও। 

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথমে মেয়র মোস্তাফিজার রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। এরপর ৩৩ জন ওয়ার্ড কাউন্সিল এবং ১১ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলকে পড়ানো হয় শপথবাক্য।

রসিক মেয়র   মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নিখোঁজ প্রার্থী আবু আসিফ আত্মগোপনে আছেন: ইসি আনিছুর

প্রকাশ: ০২:১১ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ প্রার্থী আবু আসিফ আত্মগোপনে আছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান। 

আজ মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের করা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান ইসি আনিছুর।

ইসি আনিছুর বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ প্রার্থী আত্মগোপনে আছেন। জেলা প্রশাসকের রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি নিখোঁজ আছেন। নিখোঁজ ও আত্মগোপন একই শব্দ। সে ক্ষেত্রে আমরা বলছি তিনি আত্মগোপনে আছেন।


ইসি আনিছুর   নিখোঁজ   আবু আসিফ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

লাশ নিয়ে টানাটানি, ঠাঁই হলো হিমঘরে

প্রকাশ: ০১:৪৬ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

দুই বছর আগে পরিবারের অগোচরে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমাদ। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার নাম ছিল ‘রতন দাশ’। তবে ধর্ম পরিবর্তনের পর থেকে নিয়মিত নামাজ-রোজা পালনের পাশাপাশি মুখে দাঁড়ি রাখাও শুরু করেন আহমাদ। পরিবারের আড়ালে ইসলাম ধর্মের সব রীতিনীতি মেনে চলতো। এছাড়া বিভিন্ন হুজুরের সঙ্গে দেখা করতেন আর তাদের বয়ানও শুনতেন।

তবে এতো সবকিছু ঠিকভাবে পালন করে এলেও রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর লাশ হস্তান্তরের সময় সামনে আসে কোন ধর্মীয় রীতিতে তার দাফন হবে বিষয়টি। 

আহমাদ ওরফে রতন দাশের পরিবারের দাবি- তাদের সন্তান মুসলমান হননি। বন্ধুরা এসব সাজিয়েছে। ভুয়া কাগজ দেখিয়ে তারা তাদের ছেলেকে আলাদা করছে। তাই তাদের ছেলেকে সনাতন ধর্মের রীতিতেই শেষকৃত্য করবে। 

এদিকে বন্ধুরা জানায়- দুই বছর আগেই হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমাদ। তাই তাকে ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী দাফন করবে।

এদিকে লাশ হস্তান্তর নিয়ে পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় ওই যুবকের মা পটিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।  

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক বিশ্বেস্বর সিংহ জানিয়েছেন, নিহত ওই যুবকের ধর্ম পরিচয় শনাক্ত হয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে। আর সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের রায়ের পর কথা হয় নিহত যুবকের মা সন্ধ্যা রানী দাশের সঙ্গে। তিনি  বলেন, ‘না, আমি কিছু জানি না। আমার ছেলে ধর্ম পরিবর্তন হওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কালকে সকালেও আমার ছেলে ঘরে পূজা দিয়েছে। পরশু দিনও আমার ছেলে পূজা দিয়েছিল। আমার ছেলে মুসলিম হওয়ার বিষয়টি তারা (বন্ধুরা) সাজিয়েছে।

মুখে দাঁড়ি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে একটা প্রতিজ্ঞা করেছিল। আমি তাকে বিয়ের কথা বলেছিলাম। সে বলেছিল, যতদিন সে প্রতিষ্ঠিত হবে না ততদিন দাঁড়ি কাটবে না। আর যতদিন প্রতিষ্ঠিত হবে না ততদনি বিয়েও করবে না। আমি দাঁড়ি ফেলবো না।

এদিকে বন্ধুরা জানিয়েছেন, আহমাদ মুসলমান হওয়ার পর থেকে ইসলামে ধর্মের রীতিনীতি অনুসরণ করতো এবং সবকিছু মেনে চলতো। এরপর থেকে সে কোনো পূজামণ্ডপেও যেত না। আহমাদ প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তো  আর সে বের হলে তার মা জানতো। এছাড়া মসজিদ থেকে জুতা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তার মাকে সে জানিয়েছিল।

শুক্রবারে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি জানতেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আহমাদের মা সন্ধ্যা রানী দাশ  বলেন, না, আমি কখনও দেখিনি। গত শুক্রবারও আমার ছেলে বিকেল ৪টা বাজে ঘুম থেকে ওঠেছে। এর আগের শুক্রবারও বিকেল ৫টার দিকে ঘুম থেকে ওঠছে। এরপর তার বন্ধুরা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। আমার ছেলেকে তারা (বন্ধুরা) ফোনে বিরক্ত করতো। ওদের ফোনের জন্য আমার ছেলে ঘুমাতে পারতো না।

মসজিদ থেকে জুতো চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না সেই জুতো চুরির বিষয়টি মসজিদে না। আমার ছেলে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। সেখানে তার জুতো চুরি হয়েছে। সেই বিষয়টি সে আমাকে বলেছে।

আহমাদ ওরফে রতন দাশের চার বছর বয়সের সময় থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন মা সন্ধ্যা রানী দাশ। এসময় মাসিক ৩শ’ টাকা বেতনে চাকরি করে ৫০ টাকা দিয়ে ছেলের জন্য শিক্ষক রেখেছেন। ছেলেকে এতবড় করেছেন গার্মেন্টসে চাকরি করেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তার যখন ৪ বছর বয়স। তখন থেকে আমি গার্মেন্টসে কাজ করতাম। মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৩শ’ টাকা। সে টাকার মধ্যে ছেলের জন্য ৫০ টাকা খরচ করতাম তার পড়ালেখার জন্য। এখনও আমি গার্মেন্টসে কাজ করি।

আদালত রায়ের কথা সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আদালত কি রায় দিবে জানি না। আপাতত এখন আমার ছেলের লাশ চমেকের হাসপাতালের হিমঘরে রাখতে বলেছে। কিন্তু আমি চাই  আমার ছেলের লাশ আমার কাছে হস্তান্তর করুক। এবং আমার ছেলে শেষকৃত্য আমাদের ধর্মের রীতিতেই হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের লাশ যদি আমাকে হস্তান্তর না করে তাহলে তার বন্ধুদের কাছেও হস্তান্তর করতে পারবে না। আমি যদি আমার ছেলের লাশ না পাই, তাহলে তার বন্ধুরাও পাবে না। তার লাশ দরকার হলে নদীতে ভাসিয়ে দিবে। তারপরও আমি আমার ছেলের লাশ তার বন্ধুদের কাছে হস্তান্তর করুক সেটা চাই না।

অপরদিকে আহমাদ ওরফে রতন দাশের বন্ধুরা জানিয়েছেন, তারা বন্ধুর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সব প্রমাণ রয়েছে। এসব কাগজপত্র আদালতের সামনে উপস্থাপন করে ইসলাম ধর্মীয় রীতিতে বন্ধু আহমাদকে দাফন করবেন। তবে অবশ্যই সেটা কখন নিষ্পত্তি হবে সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নন।

এদিকে আহমাদ পুরোপুরিভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিয়মিত তা পালন করতেন বলে জানিয়েছেন এডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি  বলেন, ‘আহমাদ দুই বছর আগে কওমী আকিদার এক মাওলানার কাছে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে আমার কাছে আসেন এফিডেভিট (হলফনামা) করতে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানামতে, আহমাদ ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী চলতো। তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়েই ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, আজ আদালত এ বিষয়ে রায় দিয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত আহমাদের লাশ চমেকের হিমঘরে থাকবে। পটিয়া থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আদেশ দিয়েছেন এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে। এরপরই সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ‘আদালত রায় দিয়েছেন আপাতত লাশ চমেক হাসপাতালের হিমঘরে রাখার জন্য। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনে দেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি শুধু জানি লাশ আপাতত হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে।

উল্লেখ্য, রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া বাদামতল মোড়ে তেলবাহী লরির চাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী আহমাদ ওরফে রতন দাশের মৃত্যু হয়। এসময় হাসান নামে তার এক সহকর্মীও আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

এরপর থেকে তার লাশ দাফন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বন্ধুদের। বন্ধুদের দাবি- দুই বছর আগে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমাদ। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার নাম ছিল ‘রতন দাশ’। তবে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এটা ওনাদের ছেলে। তাই তাদের ধর্ম রীতিতে তার শেষকৃত্য করবে। ধর্মান্তরিত হওয়ার ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না।

অন্যদিকে বন্ধুরা চান- সে যেহেতু মারা যাওয়ার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে  সেহেতু তাকে মুসলিম রীতিতেই দাফন করা হবে।

নিহত আহমাদ চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবু তোরাব বাজার এলাকার মৃত মনো দাশের ছেলে। বর্তমানে মায়ের সঙ্গে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালে ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি বন্ধুদের বলেছিলেন, তার মৃত্যুর পর যেন তাকে ইসলাম ধর্মের রীতিতে লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে পটিয়া-ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) স্নেহাংশু বিকাশ সরকার  বলেছিলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুনলাম তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। তবে এই বিষয়টি তার পরিবার জানতেন না। তাই পরিবারের দাবি- হিন্দুরীতি তাঁর শেষকৃত্য করবে। আর বন্ধুরা চান- সে যেহেতু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। তাই তাকে ইসলাম ধর্মের নিয়ম মেনেই দাফন করবে।

ওই যুবক মুসলিম হওয়ার এফিডেভিট (হলফনামা) থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, সেটার এখনও সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেরকম কোনো ডকুমেন্ট নেই। এফিডেভিট তো আদালতে যায়নি। শুধু নোটারি পাবলিকের কাছে গেছে। নোটারি পাবলিকের সঙ্গে কথা হয়েছে জানালো তারা (আহমাদ) আদালতে যাওয়ার কথা ছিল যায়নি। আদালতে না গেলে তো এফিডেবিট হয় না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি আসনে ৩৫২ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন ৮ লাখ ভোটার

প্রকাশ: ০১:৪৩ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

সংসদীয় আসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) থেকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করায় শূন্য আসন দুটিতে আগামীকাল ১লা ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা চলবে। দুই আসনে ৩৫২ ভোট কেন্দ্রে ভোট দিবেন ৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৫ জন ভোটার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের তিনটি উপজেলায় একজন করে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এবার আসন দুটিতে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ৬ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে ৩ জন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মু. জিয়াউর রহমান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোহাম্মদ আলী সরকার (আপেল), আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী খুরশিদ আলম বাচ্চু (মাথাল), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (লাঙ্গল), জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ’র নবীউল ইসলামের (টেলিভিশন) মধ্যে হবে ভোটযুদ্ধ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সামিউল হক লিটন (আপেল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান খাঁন (টেলিভিশন)।

জেলা নির্বাচন অফিসার মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে প্রিজাইডিং অফিসার ১৮০ জন এবং ১ হাজার ২৩০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ২ হাজার ৪৬০ জন পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন। ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮০টি এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ১ হাজার ২৩০টি।

অপরদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ১৭২ জন প্রিজাইডিং, ১ হাজার ২৪০ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ২ হাজার ৪৮০ জন পোলিং অফসার ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন। সদর আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৩ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬১২ জন। এ আসনে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭২টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ১ হাজার ২৪০টি।

ভোটার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন