ইনসাইড বাংলাদেশ

রাজনৈতিক সহিংসতার শঙ্কা বিদেশী দূতাবাসগুলোর

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা হতে পারে বলে কয়েকটি পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা মনে করছেন। বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহাবস্থান, সমঝোতা এবং সহনশীলতারনীতি অনুসরণ না করা হয় তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠতে পারে যেটি বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারে। বাংলাদেশ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে। তারা আগামী ১০ ডিসেম্বরের ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এই পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতেই বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকরা এরকম অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দূতাবাসই এখন পর্যন্ত ১০ ডিসেম্বর নিয়ে কোনো বিবৃতি বা মন্তব্য করেনি।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে। তারা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির যদি অবনতি ঘটে তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীলতা এবং সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করার জন্য আহ্বান জানাবেন এবং সন্ত্রাস-সহিংসতা পরিহার করার অনুরোধ করবে বলে জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাতে তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শেষ পর্যন্ত যদি জনসভার স্থান নিয়ে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য না হয় তাহলে সহিংসতার শঙ্কা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উড়িয়ে দিচ্ছে না।

শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও একইরকম অভিমত মনে করছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তাপ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। তবে সকল পক্ষকে ধৈর্যধারণ করা উচিত এবং তাদেরকে রাজনৈতিক রীতি-নীতি অনুসরণ করেই যেকোনো কর্মসূচি পালন করতে হবে। জাপানও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর পর্যবেক্ষণ করছে। তারা মনে করছেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেন এমন না হয় যেখানে জনগণের জীবন হুমকির মুখে পড়ে। জাপান দূতাবাসও মনে করছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এতে জনজীবনের দুর্ভোগ বাড়বে, এটি কারোই কাম্য নয়। আর এইজন্যই রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও দূতাবাস সূত্রগুলো বলছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনানুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিরোধী দলের কর্মসূচির ক্ষেত্রে যেন রাজনৈতিক সহনশীলতার সীমা অতিক্রম না করে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন ধৈর্য এবং সংযমের পরিচয় দেয়। সন্ত্রাস-সহিংসতা কোনো রাজনৈতিক সমাধান আনতে পারে না, এমন বার্তাও বিএনপিকে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের কাছেও যুক্তরাজ্য অনুরোধ জানিয়েছে যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে যেন সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের অধিকার দেওয়া হয়। এই দূতাবাসগুলোর এই শঙ্কা এবং অভিমত শেষ পর্যন্ত আমাদের রাজনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষায় বাংলাদেশ এগিয়ে : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯:৪৮ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদে জানিয়েছেন, জাতিসংঘের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

এছাড়া আমাদের উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা বিশ্ব বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যায়কে হারিয়ে চাম্পিয়ন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় সংসদে মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়- মেহেরপুর বিল, ২০২৩ পাসের জন্য উপস্থাপনের পর জনমত যাচাইয়ে প্রস্তাবের আলোচনায় দেশের শিক্ষার মান নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সামালোচনা করলে তার জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি। শর্ট কোর্স সেগুলো করা হচ্ছে। শিক্ষকের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ডিপ্লোমা এবং শর্ট কোর্সগুলো বহিরবিশ্বে বর্তমান যে বাজার চাহিদা সে অনুযায়ি করা হচ্ছে। আমাদের উচ্চ শিক্ষায় ৭০ ভাগ যেখানে আছে সেখানে আমাদের প্রচেষ্টাগুলোর মাধ্যমে মানে একটা ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হবে। আমি আশা করি এক সময় যে ঢালাওভাবে বলা হতো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ওখানে কোনো মান নেই, ওখানকার শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে কাজ পায় না। সেটি আর একেবারেই থাকবে না। স্কুল পর্যায়ে যে শিক্ষা সেটি এক সময় জ্ঞান ভিত্তিক ছিলো সেটার সঙ্গে দক্ষতার বৃদ্ধির বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই আমরা মাধ্যমিক শিক্ষায় আমরা যে পরিবর্তনগুলো নিয়ে এসেছি, জাতি সংঘের গবেষণাও বেরি এসেছে দক্ষিণ এশয়িা মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব চেয়ে এগিয়ে আছে’।

দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের উচ্চ শিক্ষার মান কমেছে এটা আসলে কোনো গবেষণা করে কেউ বের করেছেন তেমন নয়। র‌্যাংকিংয়ের কথা বলা হয়েছে, র‌্যাংকিংয়ে কতগুলো বিষয় দেখা হয় তার মধ্যে গবেষণা, বিদেশী শিক্ষার্থী, বিদেশেী শিক্ষক, বিদেশের সঙ্গে এক্সচেঞ্চ এ রকম অনেকগুলো বিষয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে আছে। র‌্যাংকিংয়ের দিকে কখনই নজর দেওয়া হয়নি। সেই কারণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। কিন্তু এখন আমরা র‌্যাংকিংয়ের দিকে নজর দিচ্ছি এবং খুব সম্প্রতি আমাদের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক ও প্রাইমারি র‌্যাংকিংয়ে অনেক নীচু থেকে উপরের দিকে ক্রমাগত উঠে আসছে গত দুই তিন বছরে। আমরা এগুলোয় নজর দেওয়ার ফলে বিশেষ করে গবেষণায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। মান পড়ে যাওয়া তো এ দিনের ব্যাপার না। একটা লম্বা সময় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্ত্রের ঝনঝনানি ছিলো। শিক্ষক নিয়োগে পুরোপুরি দলীয় বিবেচনায় এক সময় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিরো। শিক্ষকের কোনো যোগ্যতা দেখা হয়নি। শিক্ষায়, গবেষণায় কোনো বিনিয়োগ ছিলো না। উচ্চশিক্ষায় আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে তার ফলাফল ইতোমধ্যে আপনারা কতগুলো বিশ্ববিদ্যায়ে নানান ক্ষেত্রে যে তাদের অর্জন রয়েছে দেখতে পারেবন। আমাদের উচ্চশিক্ষার শিক্ষার শিক্ষার্থীরা বিশ্ব যে ডিভেড কমপিটিশন আছে সেখানে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যায়কেও হারিয়েও চাম্পিয়ন হচ্ছে। নাসার রোবোটিক্স এ চাম্পিয়নশিপে চাম্পিয়ন হয়ে আসছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। আমাদের শিক্ষার মান নেই এটি বোধ হয় বলা সঠিক না। আমাদের ইউজিসির তদন্ত অনুযায়ি ব্যবস্থাগুলো নেয়া হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে হয় তো সব ব্যবস্থা দেখা যায় না। কিন্তু অনেক ব্যবস্থাই এ পর্যন্ত নেয়া হয়েছে, আরও যেগুলো নেয়া সম্ভব নেয়া হবে’।

 

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২০ হাজার ৩১৬টি :

টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদে জানান, বর্তমানে সারাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মোট ২০ হাজার ৩১৬টি। এর মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও একটি করে বিদ্যালয় সরকারিকরণ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

সংসদে দেওয়া শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-৮ম) ২,০৫৭টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ-১০ম) ১৬,৫১৬টি এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১৪৪৩ টি। বর্তমানে সারাদেশে ৩৫৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়েছে।

 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা হবে:

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদে জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি কাঠামো সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কাঠামোগুলো পর্যালোচনা শেষে “টিউশন ফি” যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত নীতিমালা/ গাইডলাইন প্রণয়ন করা হবে।

এসময় তিনি আরো জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ৯ (৪) ধারা অনুযায়ী শতকরা তিনভাগ আসনে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা স্বল্প বেতনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়া করছে।


শিক্ষামন্ত্রী   সংসদ   শিক্ষা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চাপ অনুভব করাতে নির্বাচন থেকে সরে গেছি: আবু আসিফ

প্রকাশ: ০৯:৪৪ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail আবু আসিফ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু আসিফ আহমেদ বলেছেন, ‘প্রথম থেকে আমার কাছে নির্বাচন অগোছালো মনে হয়েছিল। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি বেশি চাপ নিতে পারছিলাম না। বেশি চাপ অনুভব করাতে আমি নির্বাচন থেকে সরে গেছি। চাপ নিয়ে আমি থাকতে পারব না। এ জন্য আমি নির্বাচন ছাইড়া সইরা গেছি।’

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পাঁচটার দিকে আশুগঞ্জের শরীয়তনগর এলাকায় নিজ বাসায় ফেরেন আবু আসিফ। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সাংবাদিকেরা তাঁর বাসায় যান। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময়  সাংবাদিকদের আবু আসিফ বলেন, ‘চাপ নিতে পারছিলাম না। আমি মানসিকভাবে ভেঙে গিয়েছিলাম। নির্বাচন শেষ হয়েছে, আমি চলে এসেছি।’ 

সাংবাদিকদের প্রশ্ন কোথায় ছিলেন?- উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি ছিলাম আমার একটি জায়গায়।’ 

সরে দাঁড়ানোর জন্য কেউ কোনো চাপ বা ভয়ভীতি দেখিয়েছে কি না?- বলতে গিয়ে থেমে যান আবু আসিফ। স্ত্রী মেহেরুননিছা মেহরীন তাঁকে থামিয়ে দেন।

জানা গেছে, সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেই আবু আসিফ নিজ কক্ষে বিছানায় কম্বল জড়িয়ে শুয়ে ছিলেন। কিছুটা অসুস্থ দেখাচ্ছিল তাঁকে। সে সময় স্ত্রী মেহেরুননিছা, শ্যালক সায়ায়েত সুমন, দারোয়ান ইছু মিয়াসহ অনেকেই তাঁর কক্ষে ছিলেন।

আসিফের স্ত্রী মেহেরুননিছা মেহেরীন বলেন, ‘আমি আশুগঞ্জের বাসায় ছিলাম। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে জানতে পারি, স্বামী ঢাকার বসুন্ধরার বাসায় ফিরেছেন। আমাকে ফোন দেওয়ার পর ঢাকায় চলে যাই। স্বামীকে নিয়ে বিকেল পাঁচটায় আশুগঞ্জে চলে আসি। তিনি অসুস্থ বোধ করছেন। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে থেকে তিনি চাপ অনুভব করা শুরু করেন। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তাই চাপ থেকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এক কাপড়ে গিয়েছেন, এক কাপড়েই ফিরেছেন। এতটাই হতাশায় ভুগছিলেন তিনি, নিজের মুঠোফোনটিও বাসায় রেখে চলে যান।’

নিরাপত্তাহীনতার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ভয় পাচ্ছিলেন। নিজে নিজে ভয় পাচ্ছিলেন। অন্য কোনো কারণ নেই। মানসিক চাপ থেকেই ভয় পাচ্ছিলেন। নিখোঁজের দুই দিন আগেও তিনি কাজে বের হননি। মানসিক চাপে থাকলে মানুষ যেমন অসুস্থ থাকে, তেমনই এখন তাঁর অবস্থা।

এর আগে দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন মেহেরুননিছার বরাত দিয়ে আসিফের সন্ধান পাওয়ার কথা জানান। তিনি বলেছিলেন, আসিফের স্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় তাঁদের বাসায় আছেন। সন্ধ্যার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌঁছাবেন।

প্রসঙ্গত, আবু আসিফ আহমেদ আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে জয়ী বিএনপির দলছুট নেতা আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে আবু আসিফের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মুঠোফোন বাসায় চার্জারে রেখে বের হন তিনি। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। নিখোঁজের ৯২ ঘণ্টা পর তাঁর সন্ধানে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলমের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন তাঁর স্ত্রী মেহেরুননিছা।

উপনির্বাচনে ১৩২টি কেন্দ্রের ফলাফলে ৪৪ হাজার ৯১৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের আশীর্বাদপুষ্ট উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া (কলার ছড়ি)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল হামিদ ভাসানী (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৩৫ ভোট। অন্যদিকে আবু আসিফ আহমেদ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৬৯ ভোট। এ আসনে ভোট পড়েছে ১৬ দশমিক ১০ শতাংশ।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া   আবু আসিফ আহমেদ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মেহেরপুরে হবে মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বিল পাস

প্রকাশ: ০৯:৪০ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের কোনো উদ্ভাবন, মেধাস্বত্ব আবিষ্কার এবং বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতে সহযোগিতা করার বিধান রেখে ‘মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিল ২০২৩’ পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ‘মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিল-২০২৩’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিলটি পাসের আগে তা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। তবে তাদের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এরপর বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বিলে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ-১৯৭৩ এর বিধান পরিপালন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। আচার্য নির্ধারিত শর্তে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ করবেন। কোনো ব্যক্তি একাধিক্রমে বা অন্য কোনোভাবে উপাচার্য হিসেবে দুই মেয়াদের বেশি সময়ের জন্য নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না। আচার্য যে কোনো সময় উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

বিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলী নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বেতনভোগী শিক্ষক ও কর্মচারী যদি, সংসদ সদস্য বা স্থানীয় সরকারের কোনো পদে নির্বাচিত হতে প্রার্থী হতে চাইলে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে চাকরি থেকে ইস্তফা দেবেন।

বিলে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে আচার্যের অনুমোদন নিয়ে ‘বিজনেস ইনকিউবেটর’ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়। বিজনেস ইনকিউবেটর হলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্থাপিত বা পরিচালিত কোনো বিজনেস ইনকিউবেটর, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে প্রাথমিক পর্যায়ে সব সহযোগিতা প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষার্থী কর্তৃক কোনো উদ্ভাবন, মেধাস্বত্ব, আবিষ্কার বা প্রক্রিয়া, বাজারজাত এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য সহযোগিতা প্রদান করবে।


মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়   সংসদ   বিল পাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

২০৪১ সালের মধ্যে দেশ হবে উন্নত: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯:২৩ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হয়েছে, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। এগিয়ে যাবে দেশ, কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।  

বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংবিধান উপহার দেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রথম বৃক্ষ রোপণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করে তার যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে শুরুতেই মাত্র সাতদিনে ভার্চ্যুয়াল আদালত আইনের প্রবর্তন করেন। প্রবর্তিত ভার্চ্যুয়াল আদালতে দেড় লক্ষাধিক মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছিল। ভার্চ্যুয়াল আদালতে তিন লাখ ৫৯ হাজার ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর হওয়ায় কারাগারগুলোর বন্দি ধারণ ক্ষমতা সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল।

আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দ্রুততম সময়ের মধ্যে করোনার টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র ২৯ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে এক লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছেন। কেউ না খেয়ে ছিল না। অথচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার মতো উন্নত দেশগুলো এ মহামারিতে হিমশিম খেয়েছে।  

নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-১ (লালপুর ও বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বকুল, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, জেলা ও দায়রা জজ শরীফ উদ্দীন, জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম রমজান এবং নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি। পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে নাটোরে কর্মরত বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


আইনমন্ত্র   ২০৪১  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বিএনপির নির্বাচনে আসা উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮:৩২ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘রাজনীতিবিদ হিসেবে বলব বিএনপির নির্বাচনে আসা উচিত। তবে তারা যদি নির্বাচন বর্জন করে সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তবে নির্বাচন ছাড়া দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে না।’

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ‘হ্যালো পুলিশ মানিকগঞ্জ’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যদি ষড়যন্ত্র বা অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতায় আসতে চায় তাহলে তা অসম্ভব। কারণ ভোট ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এ দেশের শাসনভার নেওয়ার।’


বিএনপিকে বাধা দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কোথায় বাধা দিয়েছি? তারা প্রতিটি জেলা ও বিভাগে সভা করছে। এখন আবার মানুষের রাস্তাঘাট বন্ধ করে পদযাত্রা শুরু করেছে।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিএনপি রাজনৈতিক কর্মকান্ড করুক তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করলে, ধ্বংসাত্মক কিছু করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খানের সভাপতিত্বে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম প্রমুখ।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   আসাদুজ্জামান খান কামাল   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন