ইনসাইড বাংলাদেশ

৫ ইস্যুতে মনোযোগী সরকার

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বিএনপির আন্দোলন নয়, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি করবে না সেটি নিয়েও নয়। বরং পাঁচটি ইস্যুতে সরকার মনোযোগী হয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগে এই পাঁচটি ইস্যুতে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনে যেতে চায় এবং টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চায়। আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যদি সহনশীল থাকে, জনগণ যদি ভাল থাকে তাহলে বিএনপির আন্দোলন বা উস্কানিতে কোনো লাভ হবে না। বিএনপির নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কেউ জলও ঘোলা করতে পারবে না। আর এ কারণেই পাঁচটি অগ্রাধিকার ইস্যুকে সরকারের পক্ষ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পাঁচটি ইস্যুতে তড়িৎ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এই ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: সরকারের এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা। নভেম্বরে রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে, এই ধারা যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য তিনি সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

২. প্রবাসী আয় বৃদ্ধি: প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। হুন্ডি এবং অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে যেন প্রবাসীরা টাকা না পাঠান সেজন্য প্রবাসীদেরকে উদ্বুদ্ধ করা, সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে যেন পরিস্থিতি উন্নতি হয়, সে ব্যাপারে সরকার নজর রাখছে।

৩. অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করা এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা: যারা বিভিন্নভাবে অর্থ পাচার করেছে, যারা ওভার ইনভয়েসিংসহ বিভিন্নভাবে অর্থ পাচার করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং এই সমস্ত চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং তাদেরকে টাকা ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করার ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যেই সরকার ভেতরে ভেতরে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং যে সমস্ত বড় বড় রাঘববোয়াল অর্থ পাচারকারী আছেন তাদেরকে জালের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৪. ঋণখেলাপি এবং ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সরকার ঋণখেলাপি এবং ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ছাড় দিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সম্প্রীতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এ ব্যাপারে তার কঠোর বার্তা দিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, এরা যারাই হোক না কেন, এদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক যেন কঠোর হয় এবং ঋণ খেলাপিদেরকে আর কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং সহযোগিতা না করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

৫. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা: সরকার জানে যে দ্রব্যমূল্যের অবস্থা অনেকটাই নাগালের বাইরে। এই অবস্থা থেকে দ্রব্যমূল্যকে সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা এবং আগামী রমজানে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ে কোনো রকম পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মজুদ নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই সমস্ত বিষয় গুলোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে এই পাঁচটি বিষয়ে খবর রাখছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে এই পাঁচটি বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তাহলে অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী থাকবে। আওয়ামী লীগ মনে করছে, অর্থনীতির ভিত যদি শক্তিশালী তাহলে সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক আন্দোলন বা ষড়যন্ত্র জনগণ পাত্তা দেবে না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সাক্ষীর অভাবে বারবার পেছায় কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার

প্রকাশ: ১১:১৬ এএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

সাবেক অর্থমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ১৮ বছর আজ। তবে দেড় যুগেও কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ হয়নি। নিয়মিত সাক্ষী হাজির না হওয়ায় বারবার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পেছাচ্ছে। সরকারি কৌঁসুলিরা বলছেন, অনেক সাক্ষীর মারা যাওয়া, সাক্ষী হিসেবে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরে চলে যাওয়াসহ নানা কারণে সাক্ষীরা ধার্য তারিখে সাক্ষ্য দিতে না আসায় মামলার বিচারকাজ শেষ হচ্ছে না।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে একটি জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন কিবরিয়া। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন সিদ্দিক আলী নিহত হন। আহত হন আরও ৭০ জন। ঘটনার পরদিন হত্যা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়।

এদিকে এত দিনেও মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা। নিহত ব্যক্তির ছেলে রেজা কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ বছর অপেক্ষা করেছেন, আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করবেন। তাঁর মা বিচারের দাবিতেশান্তির সপক্ষে নীলিমানামে একটা কর্মসূচি করতেন। প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি রাস্তায় দাঁড়াতেন। শারীরিক দুর্বলতার কারণে এখন পারেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের মতো এভাবে কাউকে যেন রাস্তায় দাঁড়াতে না হয়, এটাই আমরা চাই। যাঁরা আসল খুনি, তাঁদের যদি চিহ্নিত করতে পারি, তাহলে তাঁদের আপনজনদের রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।

আদালত সূত্র জানায়, মামলা দুটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৫ সালে ১৮ মার্চ শহীদ জিয়া স্মৃতি গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাইউমসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করে বাদীপক্ষ। পরে মামলার পুনর্তদন্তের পর ২০১১ সালের ২০ জুন আসামির সংখ্যা ১৬ বাড়িয়ে ২৬ জনের নামে দ্বিতীয় দফা অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এটি নিয়েও আপত্তি জানায় নিহত ব্যক্তির পরিবার।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে নতুন করে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

সরকারি কৌঁসুলিরা বলছেন, একের পর এক তদন্ত এবং বাদীপক্ষের নারাজির কারণে মামলার বিচারকাজ শুরু হতে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। মূলত হত্যাকাণ্ডের সাড়ে ১০ বছর পর মামলার বিচার শুরু হয়। হত্যা মামলার ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আর বিস্ফোরক মামলায় ১৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। অনেক সাক্ষীর মারা যাওয়া, সাক্ষী হিসেবে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরে চলে যাওয়াসহ নানা কারণে সাক্ষীরা ধার্য তারিখে অনুপস্থিত থাকছেন। অবস্থায় সাক্ষীদের উপস্থিত করতে সমন জারিসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

আদালত সূত্র জানায়, সর্বশেষ ১৫ জানুয়ারি সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পেছানো হয়েছে। ওই দিন মো. শাহাদাত হোসেন প্রামাণিকের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। মামলার পরবর্তী তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন আদালত। সর্বশেষ তারিখে উপস্থিত না হওয়া কয়েকজন সাক্ষীর নামে পরোয়ানা সমন জারি করেন আদালত। তবে ওই দিন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসসহ কয়েকজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ছাড়া মামলায় অভিযুক্ত জামিনে থাকা পাঁচজন আদালতে উপস্থিত হতে না পেরে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।

ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি সরোয়ার আহমদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ধার্য দিনে সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় নিষ্পত্তি হতে সময় লাগছে। তবে সাক্ষীদের হাজির করে দ্রুত মামলা শেষ করার চেষ্টা রয়েছে।

নিহত ব্যক্তির ছেলে রেজা কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ১৮ বছরের মধ্যে বছর বিএনপি, বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১৪ বছর ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু কেউ বিচার করেনি। আমরা বারবার দুটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দাবি জানিয়েছি, হত্যাকাণ্ডের মদদদাতা কে এবং গ্রেনেডের উৎস কি? কিন্তু নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আগ্রহ কম। আছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। জন্য বর্তমান সরকারের সময় হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত বিচার আশা করি না। তবে সরকার পরিবর্তন হলে আশা করি সুষ্ঠু বিচার হবে।

এদিকে সাবেক অর্থমন্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ঢাকার বনানী কবরস্থানে বেলা ১১টায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মোনাজাত ফাতেহা পাঠের পর মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মানববন্ধনে গণঅধিকার ফোরামের সভাপতি রেজা কিবরিয়াসহ সংগঠনের নেতাদের উপস্থিত থাকবেন। ছাড়া হবিগঞ্জে কিবরিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল বৈদ্যের বাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

৭০ বছরেও ঘুরে দাড়াতে পারেনি চট্টগ্রামের কাস্টমস হাউস

প্রকাশ: ১০:০২ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

চট্টগ্রামের কাস্টমস হাউস হচ্ছে সরকারের সবচেয়ে বেশী আমদানী - রপ্তানী খাতে রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্টান।

৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। পুরোপুরি ডিজিটালাজিষ্টের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। জনবল সংকট আর অপর্যাপ্ত ল্যাবের বিষয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আধুনিকায়নের নামে দশ বছর আগে চালু হওয়া অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমটি এখন স্টেক হোল্ডারদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দশ বছরেও হয়নি সার্ভার সমস্যার সমাধান। উল্টো কাস্টমস অফিসার কম্পিউটার খুললেই বলে সার্ভার সমস্যা। ফলে অর্থ ও সময় অপচয় রোধের পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চলমান সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্টেক হোল্ডাররা। 

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের জন্য অনুমোদিত পদ রয়েছে ১ হাজার ২৪৮টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কাজ করছেন ৬১২ জন। এরমধ্যে প্রথম শ্রণির ২১০ পদের বিপরীতে ১১৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৯৭ পদের বিপরীতে ২৫৮, তৃতীয় শ্রেণির ৪২৩ পদের বিপরীতে ১৬৮ জন ও চতুর্থ শ্রেণির ১১৮ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৯৫ জন। এভাবে চলতে থাকলে স্মাট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এমনটা মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সাতক্ষীরায় এতিমখানায় রান্না ঘরে দগ্ধ মরিয়ম, নিরুপায় মা

প্রকাশ: ০৯:৫৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

অভাবের তাড়নায় মেয়েকে এতিমখানায় দেন দিনমজুর মা। সেখানেই রান্না করতে গিয়ে আগুনে দগ্ধ হয় ৮ বছরের শিশুটি। শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। এখন চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয়ভার বহন করতে পারছে না পরিবারটি।  

শিশু মরিয়ম খুলনার পাইকগাছা থানার দরগামহল গ্রামের শেখ লিটনের মেয়ে। তবে নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে লিটন এখন নিরুদ্দেশ। যোগাযোগ নেই পরিবারের কারো সঙ্গে। স্ত্রী মমতাজ বেগম এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন হরিঢালী ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে সরকারি গুচ্ছগ্রামে।

জানা গেছে, গত ২৯ ডিসেম্বর সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর জেঠুয়া কওমিয়া মহিলা হাফিজিয়া এতিমখানা মাদরাসায় রান্নার সময় আগুনে দগ্ধ হয় শিশু মরিয়ম। শিশুটিকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এরপর নেওয়া হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে গত ১৫ জানুয়ারি ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।

শিশুটির মা মমতাজ বেগম জানান, নয় মাস আগে বড় মেয়ে মরিয়মকে জেঠুয়ার এতিমখানায় দিয়েছিলাম। সেখানে থেকে লেখাপড়া শিখতো। সেখানে রান্না করার কোন বাবুচ্চি নেই। একটা মেয়ে রান্না করছিল সে গোসলে যাওয়ার আগে মরিয়মকে রান্না ঘরে রান্না দেখার জন্য রেখে যায়। সেখানে জামাকাপড়ে আগুন ধরে যায় মরিয়মের। 

তিনি বলেন, আমি দিনমজুরী করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমার কোন টাকা নেই। দৈনিক ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বিভিন্ন মানুষদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে মরিয়মের চিকিৎসা করছি। আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মরিয়ম ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের চারতলায় শিশু ওয়ার্ডে ১৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে গলায় অপারেশন হয়েছে মেয়েটির। সুস্থ হতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসক। 

মরিয়মের মামা শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল থেকে কিছু ওষধপত্র দিচ্ছে। বাইরে থেকে দৈনিক অ্যালবোটিন নামের একটি ইনজেকশন কিনতে হচ্ছে তার দাম ৩৫শ টাকা। এছাড়া আনুসঙ্গিক আরও কিছু ওষধ কিনতে হচ্ছে।

জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মফিদুল হক লিটু বলেন, রান্না করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে যায় মেয়েটি। পরিবারটি খুবই গরীব। সবার সহযোগিতায় তার চিকিৎসা চলছে। আমি নিজেও সহায়তা করেছি।

মরিয়মের চিকিৎসার জন্য কেউ সহায়তা করতে চাইলে ০১৯৪২১৫৮৬৬৯ (শিশুটির মা মমতাজ বেগম)।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

গলাচিপায় কালো ডিম পেড়েছে পাঁতিহাস!

প্রকাশ: ০৯:৪৮ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি পাতি হাঁস টানা চারটি কালো ডিম পেড়েছে। উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ক্লোজার বাজারের মোহাম্মাদ সরদারের বাড়িতে তার স্ত্রী লাইজু আক্তার বন্যার পোষা একটি দেশি জাতের পাতিহাঁস এ অস্বাভাবিক রঙের ডিম দেয়। 

এ নিয়ে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ছুটে আসে ডিম আর হাঁস দেখতে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাশ বলেন, এ হাঁসটি কোন কারণে জেন্ডিং জাতের সাথে ক্রস হতে পারে।

মোহাম্মাদ সরদার জানান, তার  স্ত্রী লাইজু আক্তার ১০টি দেশি প্রজাতির পাতিহাঁস পালন করেন। এর মধ্যে গত চারদিন আগে থেকে পর পর চারটি কালো ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ দেখে কিছুটা বিচলিত হয়ে যায় তারা। পরে প্রথম ডিমটি ভেঙে দেখার চেষ্টা করে। প্রথম ডিমটির উপরের রঙ কালো হলেও ভিতরের রঙ স্বাভাবিক রয়েছে।  কিন্তু এ খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই ডিম দেখতে মানুষ ভিড় জমায়। তিনি আরো বলেন, আমরা গ্রামের স্বাভাবিক খাবারই দিয়েছি। তার পরেও কেন এমন তা বুঝতে পারছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাশ বলেন, দেশি প্রজাতির হাঁসটি কোন কারণে হয়তো জেন্ডিং জাতের হাঁসের সাথে ক্রস হতে পারে। জেন্ডিং জাতের হাঁস নীল বর্ণের ডিম দেয়।


পটুয়াখালী   গলাচিপা   কালা ডিম   পাঁতিহাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কবরস্থানের গাছ থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৯:৪৫ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরায় মোহাম্মাদিয়া জামে মসজিদের কবরস্থান থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) লাশটি উদ্ধার করা হয়। তবে নিহতের নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তিনি কুমিরা এলাকায় জিপিএইচ কারখানায় কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে বের হন মোহাম্মাদিয়া জামে মসজিদের মুসল্লিরা। এ সময় কবরস্থানের একটি সেগুন গাছে এক যুবকের লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন তারা।

সীতাকুণ্ডু মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, লাশটির আঙুলের ছাপ নেয়া হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। ওই যুবককে বাইরে হত্যার পর কবরস্থানের একটি সেগুন গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন