ইনসাইড বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে আরও সহায়তা করা হবে: বিশ্বব্যাংক এমডি

প্রকাশ: ০৬:২০ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি উন্নত করা এবং জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাসে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে আরও সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বব্যাংকের দৃঢ় সমর্থনের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির গতিপথ অনেক দেশের জন্য অনুপ্রেরণা। এটি উল্লেখযোগ্য উপায়ে অনেক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। বাংলাদেশ রেকর্ড সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাস করেছে। এছাড়া দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনে একটি অগ্রণী এবং উদ্ভাবনী ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বব্যাংক গত পাঁচ দশক ধরে একটি অবিচল অংশীদার এবং বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন অর্জনে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গতকাল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন ও দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং ২০২০-২০২২ সালের মধ্যে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ফোরামের সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ১৯৭১ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়জনিত মৃত্যু ১০০ গুণেরও বেশি কমিয়ে সাহসী ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি গ্রহণ করে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বিশ্বব্যাপী মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসনে সহায়তা করেছে। এক হাজারটি সাইক্লোন শেল্টার যা স্কুল হিসেবেও কাজ করে এবং ৫৫০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা যা আশেপাশের গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অবদান রাখছে।

ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। যা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসাবে কাজে লাগছে। এছাড়া, তিনি কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের উদারতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়ের মৌলিক চাহিদা পূরণে বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য ৫৯০ মিলিয়ন অনুদানের অর্থায়ন করেছে।

এমডি বলেন, বিশ্বব্যাংক মহামারির প্রভাব এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাবসহ বৈশ্বিক ধাক্কার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সাহায্য করছে। এছাড়া, উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে চ্যালেঞ্জগুলো দূর করতে সাহায্য করছে। আমরা ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি উন্নত করতে এবং জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস করতে আরও সহায়তা করব।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রটসেনবার্গ। এসব বৈঠকে বাংলাদেশকে আগামীতে আরও সহায়তার আশ্বাস দেন বিশ্বব্যাংক এমডি। তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে ট্রটসেনবার্গের।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

১০০ সেকেন্ড পরপর চলবে পাতাল মেট্রোট্রেন

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোট্রেন নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতি ১০০ সেকেন্ড পরপর চলবে এই মেট্রোট্রেন (এমআরটি লাইন-১)। ঢাকার জনসংখ্যার হিসাব এবং বাস্তবতার নিরিখে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর ইস্কাটনে ডিএমটিসিএলের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক।

তিনি বলেন, এমআরটি লাইন-৬ এ আমরা যে কন্ট্রোল সেন্টার থেকে পরিচালনা করছি, সেটা এখন সাড়ে ৩ মিনিট পরপর চলতে পারে। এটাকে আমরা কমিয়ে আনতে পারব। অন্যদিকে এমআরটি লাইন-১ এ ১০০ সেকেন্ড দিয়ে শুরু করব। এটাকে হেডওয়ে বলে। ১০০ সেকেন্ডের মধ্যে একটার পর আরেকটা ট্রেনে আসবে, এটি আর কমানোর সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা ৬টি কোচ দিয়ে এমআরটি লাইন-৬ শুরু করেছি এবং আরও দুটি কোচ সংযোজনের সুযোগ রেখেছি। অর্থাৎ এটি ৮টিতে উন্নীত করা যাবে। এমআরটি লাইন-৬ শুরু ৮টি কোচ দিয়ে চলবে। এখানে কোচ বৃদ্ধি করার বিষয়টি আর প্রয়োজন হচ্ছে না। ইন্টারন্যাশনাল ৮টি কোচ দিয়ে শুরু করে, আমরাও ৮টি কোচ দিয়ে শুরু করব। জনসাধারণের যেন ভোগান্তি না হয় সেজন্য আমরা সে কথা মাথায় রেখে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এখানে ব্যবহার করছি।

ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, পাতাল স্টেশনগুলো আমরা ওপেন কাট পদ্ধতিতে করব। রাস্তার অর্ধেক অংশ প্রথমে খনন করা হবে। ওই অংশে আমাদের সমস্ত যন্ত্রপাতি নিচে নামানো হবে এবং তার ওপর দিয়ে স্টিলের পাত দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে যান চলাচলের জন্য। ওই পাতের ওপর দিয়ে ৪০ মেট্রিক টন ক্ষমতা সম্পন্ন গাড়ি চলাচল করতে পারবে। এই অংশ গাড়ি চলা চলার জন্য খুলে দেওয়ার পর আমরা রাস্তার অপর অংশে কাটব এবং সেখানে একইভাবে কাজ শুরু করব। এই কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাস সময় লাগবে। পরে মাটির নিচে যে কাজ চলতে থাকবে, সেটি ওপর থেকে আর অনুমান করা যাবে না। আবার টিভিএম মেশিন দিয়ে যখন টানেল কাটা হবে, তখন এটিও ওপর থেকে কোনভাবে বোঝা যাবে না।

পাতাল ট্রেনের নির্মাণ কাজের জন্য এরই মধ্যে ৯২ দশমিক ৯৭২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার এবং জাইকা এর অর্থায়ন করবে।


পাতাল মেট্রোট্রেন   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জামালপুরে গোয়াল ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৩:২৮ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত গোঁয়াল ঘর থেকে আবু সাঈদ (৫৫) নামে মৌসুমি ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ পৌর শহরের চরকাউরিয়া সীমার গ্রামে অবস্থিত আবু সাঈদের নিজের পরিত্যক্ত গোঁয়াল ঘর থেকে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকাল ৩ টায় মরদেহ উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরকাউরিয়া সীমারপাড় গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে আবু সাঈদ ধান, চাল , সরিষা সহ মৌসুমি ব্যবসায়ী ।

সোমবার দুপুরে তার বাড়ির পাশে অবস্থিত নিজের একটি পরিত্যক্ত গোঁয়াল ঘরের ধর্নার সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। গলায় রশি দিয়ে ঝুলা হলেও তার পা দুটি ছিল মাটির সঙ্গে লাগানো। এলাকাবাসীর ধারণা যেভাবে মরদেহটি ঝুলে ছিল তাতে রহস্যজনক মৃত্যু বলে মনে হয়। এ খবর জানাজানি হলে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন।

জ্বলন্ত মরদেহ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শপথ নিলেন রসিক মেয়র মোস্তফা

প্রকাশ: ০২:৪২ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

শপথ গ্রহণ করেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) সদ্য নির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে শপথ নিয়েছেন নির্বাচিত সাধারণ ও নারী কাউন্সিলররাও। 

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথমে মেয়র মোস্তাফিজার রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। এরপর ৩৩ জন ওয়ার্ড কাউন্সিল এবং ১১ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলকে পড়ানো হয় শপথবাক্য।

রসিক মেয়র   মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নিখোঁজ প্রার্থী আবু আসিফ আত্মগোপনে আছেন: ইসি আনিছুর

প্রকাশ: ০২:১১ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ প্রার্থী আবু আসিফ আত্মগোপনে আছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান। 

আজ মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের করা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান ইসি আনিছুর।

ইসি আনিছুর বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ প্রার্থী আত্মগোপনে আছেন। জেলা প্রশাসকের রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি নিখোঁজ আছেন। নিখোঁজ ও আত্মগোপন একই শব্দ। সে ক্ষেত্রে আমরা বলছি তিনি আত্মগোপনে আছেন।


ইসি আনিছুর   নিখোঁজ   আবু আসিফ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

লাশ নিয়ে টানাটানি, ঠাঁই হলো হিমঘরে

প্রকাশ: ০১:৪৬ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

দুই বছর আগে পরিবারের অগোচরে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমাদ। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার নাম ছিল ‘রতন দাশ’। তবে ধর্ম পরিবর্তনের পর থেকে নিয়মিত নামাজ-রোজা পালনের পাশাপাশি মুখে দাঁড়ি রাখাও শুরু করেন আহমাদ। পরিবারের আড়ালে ইসলাম ধর্মের সব রীতিনীতি মেনে চলতো। এছাড়া বিভিন্ন হুজুরের সঙ্গে দেখা করতেন আর তাদের বয়ানও শুনতেন।

তবে এতো সবকিছু ঠিকভাবে পালন করে এলেও রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর লাশ হস্তান্তরের সময় সামনে আসে কোন ধর্মীয় রীতিতে তার দাফন হবে বিষয়টি। 

আহমাদ ওরফে রতন দাশের পরিবারের দাবি- তাদের সন্তান মুসলমান হননি। বন্ধুরা এসব সাজিয়েছে। ভুয়া কাগজ দেখিয়ে তারা তাদের ছেলেকে আলাদা করছে। তাই তাদের ছেলেকে সনাতন ধর্মের রীতিতেই শেষকৃত্য করবে। 

এদিকে বন্ধুরা জানায়- দুই বছর আগেই হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমাদ। তাই তাকে ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী দাফন করবে।

এদিকে লাশ হস্তান্তর নিয়ে পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় ওই যুবকের মা পটিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।  

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক বিশ্বেস্বর সিংহ জানিয়েছেন, নিহত ওই যুবকের ধর্ম পরিচয় শনাক্ত হয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে। আর সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের রায়ের পর কথা হয় নিহত যুবকের মা সন্ধ্যা রানী দাশের সঙ্গে। তিনি  বলেন, ‘না, আমি কিছু জানি না। আমার ছেলে ধর্ম পরিবর্তন হওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কালকে সকালেও আমার ছেলে ঘরে পূজা দিয়েছে। পরশু দিনও আমার ছেলে পূজা দিয়েছিল। আমার ছেলে মুসলিম হওয়ার বিষয়টি তারা (বন্ধুরা) সাজিয়েছে।

মুখে দাঁড়ি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে একটা প্রতিজ্ঞা করেছিল। আমি তাকে বিয়ের কথা বলেছিলাম। সে বলেছিল, যতদিন সে প্রতিষ্ঠিত হবে না ততদিন দাঁড়ি কাটবে না। আর যতদিন প্রতিষ্ঠিত হবে না ততদনি বিয়েও করবে না। আমি দাঁড়ি ফেলবো না।

এদিকে বন্ধুরা জানিয়েছেন, আহমাদ মুসলমান হওয়ার পর থেকে ইসলামে ধর্মের রীতিনীতি অনুসরণ করতো এবং সবকিছু মেনে চলতো। এরপর থেকে সে কোনো পূজামণ্ডপেও যেত না। আহমাদ প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তো  আর সে বের হলে তার মা জানতো। এছাড়া মসজিদ থেকে জুতা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তার মাকে সে জানিয়েছিল।

শুক্রবারে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি জানতেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আহমাদের মা সন্ধ্যা রানী দাশ  বলেন, না, আমি কখনও দেখিনি। গত শুক্রবারও আমার ছেলে বিকেল ৪টা বাজে ঘুম থেকে ওঠেছে। এর আগের শুক্রবারও বিকেল ৫টার দিকে ঘুম থেকে ওঠছে। এরপর তার বন্ধুরা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। আমার ছেলেকে তারা (বন্ধুরা) ফোনে বিরক্ত করতো। ওদের ফোনের জন্য আমার ছেলে ঘুমাতে পারতো না।

মসজিদ থেকে জুতো চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না সেই জুতো চুরির বিষয়টি মসজিদে না। আমার ছেলে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। সেখানে তার জুতো চুরি হয়েছে। সেই বিষয়টি সে আমাকে বলেছে।

আহমাদ ওরফে রতন দাশের চার বছর বয়সের সময় থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন মা সন্ধ্যা রানী দাশ। এসময় মাসিক ৩শ’ টাকা বেতনে চাকরি করে ৫০ টাকা দিয়ে ছেলের জন্য শিক্ষক রেখেছেন। ছেলেকে এতবড় করেছেন গার্মেন্টসে চাকরি করেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তার যখন ৪ বছর বয়স। তখন থেকে আমি গার্মেন্টসে কাজ করতাম। মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৩শ’ টাকা। সে টাকার মধ্যে ছেলের জন্য ৫০ টাকা খরচ করতাম তার পড়ালেখার জন্য। এখনও আমি গার্মেন্টসে কাজ করি।

আদালত রায়ের কথা সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আদালত কি রায় দিবে জানি না। আপাতত এখন আমার ছেলের লাশ চমেকের হাসপাতালের হিমঘরে রাখতে বলেছে। কিন্তু আমি চাই  আমার ছেলের লাশ আমার কাছে হস্তান্তর করুক। এবং আমার ছেলে শেষকৃত্য আমাদের ধর্মের রীতিতেই হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের লাশ যদি আমাকে হস্তান্তর না করে তাহলে তার বন্ধুদের কাছেও হস্তান্তর করতে পারবে না। আমি যদি আমার ছেলের লাশ না পাই, তাহলে তার বন্ধুরাও পাবে না। তার লাশ দরকার হলে নদীতে ভাসিয়ে দিবে। তারপরও আমি আমার ছেলের লাশ তার বন্ধুদের কাছে হস্তান্তর করুক সেটা চাই না।

অপরদিকে আহমাদ ওরফে রতন দাশের বন্ধুরা জানিয়েছেন, তারা বন্ধুর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সব প্রমাণ রয়েছে। এসব কাগজপত্র আদালতের সামনে উপস্থাপন করে ইসলাম ধর্মীয় রীতিতে বন্ধু আহমাদকে দাফন করবেন। তবে অবশ্যই সেটা কখন নিষ্পত্তি হবে সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নন।

এদিকে আহমাদ পুরোপুরিভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিয়মিত তা পালন করতেন বলে জানিয়েছেন এডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি  বলেন, ‘আহমাদ দুই বছর আগে কওমী আকিদার এক মাওলানার কাছে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে আমার কাছে আসেন এফিডেভিট (হলফনামা) করতে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানামতে, আহমাদ ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী চলতো। তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়েই ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, আজ আদালত এ বিষয়ে রায় দিয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত আহমাদের লাশ চমেকের হিমঘরে থাকবে। পটিয়া থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আদেশ দিয়েছেন এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে। এরপরই সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ‘আদালত রায় দিয়েছেন আপাতত লাশ চমেক হাসপাতালের হিমঘরে রাখার জন্য। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনে দেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি শুধু জানি লাশ আপাতত হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে।

উল্লেখ্য, রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া বাদামতল মোড়ে তেলবাহী লরির চাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী আহমাদ ওরফে রতন দাশের মৃত্যু হয়। এসময় হাসান নামে তার এক সহকর্মীও আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

এরপর থেকে তার লাশ দাফন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বন্ধুদের। বন্ধুদের দাবি- দুই বছর আগে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমাদ। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার নাম ছিল ‘রতন দাশ’। তবে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এটা ওনাদের ছেলে। তাই তাদের ধর্ম রীতিতে তার শেষকৃত্য করবে। ধর্মান্তরিত হওয়ার ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না।

অন্যদিকে বন্ধুরা চান- সে যেহেতু মারা যাওয়ার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে  সেহেতু তাকে মুসলিম রীতিতেই দাফন করা হবে।

নিহত আহমাদ চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবু তোরাব বাজার এলাকার মৃত মনো দাশের ছেলে। বর্তমানে মায়ের সঙ্গে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালে ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি বন্ধুদের বলেছিলেন, তার মৃত্যুর পর যেন তাকে ইসলাম ধর্মের রীতিতে লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে পটিয়া-ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) স্নেহাংশু বিকাশ সরকার  বলেছিলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুনলাম তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। তবে এই বিষয়টি তার পরিবার জানতেন না। তাই পরিবারের দাবি- হিন্দুরীতি তাঁর শেষকৃত্য করবে। আর বন্ধুরা চান- সে যেহেতু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। তাই তাকে ইসলাম ধর্মের নিয়ম মেনেই দাফন করবে।

ওই যুবক মুসলিম হওয়ার এফিডেভিট (হলফনামা) থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, সেটার এখনও সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেরকম কোনো ডকুমেন্ট নেই। এফিডেভিট তো আদালতে যায়নি। শুধু নোটারি পাবলিকের কাছে গেছে। নোটারি পাবলিকের সঙ্গে কথা হয়েছে জানালো তারা (আহমাদ) আদালতে যাওয়ার কথা ছিল যায়নি। আদালতে না গেলে তো এফিডেবিট হয় না।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন