ইনসাইড বাংলাদেশ

ধারাবাহিক গণতন্ত্র না থাকলে দেশে এত উন্নয়ন হতো না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০২:২২ পিএম, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার আছে বলেই দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশেরও উন্নতি হয়েছে। 

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর, রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়িত ১১টি প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে নিয়ে, শোষিত-বঞ্চিত মানুষ যারা একবেলা ক্ষুধার অন্ন জোগাড় করতে পারত না। এই বঞ্চনার হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়া, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং বাংলাদেশের মানুষকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে বিশ্বের দরবারে মর্যাদা দেয়াই ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একমাত্র লক্ষ্য।

তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর এ দেশে ক্ষমতা বদল হয়েছে বন্দুকের নল দিয়ে। অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে, হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক ধারা যে অব্যাহত হয়েছিল সেটা ব্যাহত হয়ে যায়। সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং মার্শাল ল’ জারি করা হয়, এটা সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী। আর সেই ধারায় ২১ বছর সরকার পরিচালিত হয়েছে। যার ফলে মানুষের যে উন্নয়ন এবং উন্নয়নের গতি ব্যাহত হয়েছিল।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, একদিকে যেমন তিনি (বঙ্গবন্ধু) ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সীমিত সম্পদ নিয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অপরদিকে সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রবৃদ্ধি প্রথম ৯ ভাগের ওপর অর্জিত হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আমলে ১৯৭৫ সালে। কিন্তু পঁচাত্তরের পরে সেই অগ্রগতি সম্পূর্ণ থেমে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী; জাতির পিতার হত্যার পর যিনি সেনাপ্রধান হলেন, তিনিই একদিন নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিলেন। ঘোষিত রাষ্ট্রপতি, অনির্বাচিত লোক দিয়ে কখনো দেশের উন্নতি হয় না, এটা প্রমাণিত সত্য। তাই ২১ বছরে উন্নয়নটা হতে পারেনি। ’৯৬ সালে সরকারে আসার পর জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছি। জনগণের উন্নয়ন অন্তত আমরা করতে পেরেছিলাম। বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বাক্ষরতার হার, খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছিলাম।

গণতন্ত্র-উন্নয়ন   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ভিসা নিষেধাজ্ঞা কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের চাপ?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

নির্বাচনের এখন পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন করার কথা ভাবছে। কিন্তু এর আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের কতিপয় ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ শুরু করেছে। তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি চায়? নির্বাচনের যখন তফসিলই ঘোষণা করা হয়নি তার আগেই এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা কেন? এই প্রশ্নটি কূটনীতিক অঙ্গনে এখন বড় করে আলোচনা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাহলে কি বাংলাদেশে অন্য কোনো পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যই এরকম ভিসা নীতি প্রয়োগ করছে? এ ব্যাপারে অবশ্য কূটনৈতিকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে।

কোনো কোনো কূটনৈতিক বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন বলতে কেবল ভোট গ্রহণ বোঝায় না। বরং এটিকে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ শুরু থেকেই নির্বাচনের পরিবেশ, একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, বিরোধী রাজনৈতিক দলের জন্য সমান্তরাল সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং সভা-সমাবেশ, মত প্রকাশের অধিকার এবং মানবাধিকার সুরক্ষা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্ব শর্ত—এমনটি মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর সে কারণেই তারা এই ভিসা নীতির প্রয়োগ শুরু করেছে এবং কিছু ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার। আর এ কারণেই তারা এই দুটি বিষয়কে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে। নির্বাচন মানেই শুধু ভোট প্রদানের দিন বা নির্বাচনের ফলাফল নয়, সামগ্রিক বিষয়। তাহলে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার তাৎপর্য কি? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর তাৎপর্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে যে, বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ থাকা দরকার বা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য যে রাজনৈতিক বাস্তবতা দরকার তা অনুপস্থিত রয়েছে। আর এই রকম একটি পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিষয় খুব পরিষ্কার। তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে সমর্থন করেনি। এটি না করলেও এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে ভিসা নীতি তা কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে সমর্থন করে? এই রকম প্রশ্নটি এখন রাজনৈতিক পাড়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। কারণ বিএনপি বলছে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা এটিও বলছে যে, এখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। সরকার একতরফা একটি নির্বাচনের জন্য পায়তারা করছে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার সাম্প্রতিক ঘোষণা বিএনপির এই বক্তব্যকেই সমর্থন জানায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। 

সাধারণত নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরেই নির্বাচন নিয়ে সকলে পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনা করে। কিন্তু এবার করা হচ্ছে বহু আগে। অর্থাৎ এর দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে। একটি হলো যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে চায়। এ কারণে ভিসা নীতি প্রয়োগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে আশ্বস্ত করতে চাইছে যে, অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সেটা করবো। কারো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তোমরা নির্বাচনে যাও। আর এটি যদি সত্যি হয় তাহলে তা হবে বিএনপির জন্য চাপ। আবার এর অন্য একটা ব্যাখ্যা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব না। এজন্য তারা ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই বার্তাটা দিয়েছে তারা আসলে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে সমর্থন করে। এই বক্তব্যটিরই একটি সংকেত তারা দিলো ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র   ভিসা নীতি   নির্বাচন   তত্ত্বাবধায়ক সরকার   নির্বাচন কমিশন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

এবার ঢাকায় আসছেন মার্কিন দূত রেনা বিটার

প্রকাশ: ০৯:২৩ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

বাংলাদেশ সফরে আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্সের সহকারী সচিব রেনা বিটার। তিনি সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকে আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সফর করবেন।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে, দূতাবাস ও কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক কার্যক্রম বিষয়ে আলোচনা করবেন। সেই সঙ্গে দুই দেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। তার সফরে গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের কর্মরত মার্কিন নাগরিকদের যাতায়াতসহ সার্বিক নিরাপত্তা। আরও গুরুত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি। 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তিনি। এর আগে, ২০২২ সালের ১৯ মার্চ বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে ঢাকায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতিবিষয়ক এই কর্মকর্তা। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

১১ জুলাই চার দিনের সফরে ঢাকায় আসে উজরা জেয়ার নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। সেদিন বিকেলে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন উজরা জেয়া এবং তার দল। ঢাকা সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধিদলটি আসন্ন সংসদ নির্বাচন পরিস্থিতি, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা, শ্রম অধিকার ও বাণিজ্য বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে। 

ঢাকা সফর   মার্কিন দূত রেনা বিটার   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র কখনো যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না: বিদায়ী প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ: ০৯:১৪ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

বিদায়ী প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, এদেশ স্বাধীন হয়েছে রক্তের বিনিময়ে, কারও অনুকম্পায় নয়। যারা স্বাধীনতার সময় বিরোধিতা করেছিল তারাই এখন বিরোধিতা করছে। এ কারণে আমরা এই ভিসা নীতিতে বিচলিত নই।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিমকোর্টে শেষ কর্মদিবস পালন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে, কারো অনুকম্পায় নয়। স্বাধীনতার সময় যারা বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন বিরোধিতা করছে। তাই এই ভিসানীতিতে আমরা বিচলিত নই। আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো যুক্তরাষ্ট্র যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না।

বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিচার বিভাগের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করেছি। কখনো নিজের কিংবা পরিবারের কথা ভাবিনি। মামলার জট নিরসনে সারা দেশের বিচারকদের উৎসাহিত করেছি। বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার জন্য সারা দেশের আদালত অঙ্গনে ন্যায়কুঞ্জ স্থাপন করেছি। মেডিয়েশনের মাধ্যমে মামলাজট কমাতে সুপ্রিমকোর্টে মেডিয়েশন সেন্টার স্থাপন করেছি।

তিনি আরও বলেন, নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি একজন ডায়নামিক ব্যক্তিত্ব। আশা করি তিনি বিচার বিভাগকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করবেন।

এ সময় নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও আপিল বিভাগের সব বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।


যুক্তরাষ্ট্র   ভিসা নীতি   বিদায়ী প্রধান বিচারপতি   ভিসা নিষেধাজ্ঞা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ভিসা নিষেধাজ্ঞা: শেখ হাসিনার হাতেই ‘ট্রাম্পকার্ড’

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, বিরোধী দলের নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন ওপর এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যখন এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করা হয় তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেখার পর তাৎক্ষণিকভাবে তিনি যে প্রতিক্রিয়া দেন তা ছিল সাহসী এবং দীপ্ত। তিনি এই ভিসা নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা দেননি। বরং নির্বাচনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন। ভিসা নিষেধাজ্ঞায় ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে তিনি অভয় দিয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যতই সাহসী হোক না কেন আওয়ামী লীগের মধ্যে ভিসা নীতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন। তারা মনে করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে এবং এই অবস্থান সরকারের বিরুদ্ধে। তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে দেবে কিনা তা নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার মধ্যে সংশয় রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা এখনো প্রকাশ্যে বলছেন, ভিসা নীতি সরকারের পক্ষেই আছে। বিশেষ করে যারা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে অর্থাৎ বিএনপির জন্য ভিসা নীতি প্রয়োগ হবে। কিন্তু এই কথা আওয়ামী লীগের কর্মীরা খুব একটা আমলে নিতে চাইছেন না। তবে কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, ভিসা নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অবস্থান দিয়েছেন সেটি সঠিক এবং তার কাছে একাধিক অস্ত্র রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এই ট্রাম্পকার্ডগুলো ব্যবহার করে সংকট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পারবেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রধানমন্ত্রী কেন ভিসা নীতি নিয়ে ভীত নন এবং তিনি কেন এটিকে আমলে নিচ্ছেন না এর ব্যাখ্যা হিসেবে কূটনীতিকরা একাধিক কারণ বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে-

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দরকার: প্রধানমন্ত্রী জানেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি চায়। এটি আসলে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইস্যু নয়। এটি আসলে দেনা পাওনার ইস্যু এবং এই দেনা পাওনার ইস্যুটা প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বাচনের আগে ফয়সালা করতে পারেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যা চাচ্ছে তার কতটুকু বাংলাদেশ দেবে। এই দর কষাকষির যদি সমাধান হয় তাহলে পরে নির্বাচন নিয়ে আর কোন অনিশ্চয়তা থাকবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপও কমে যাবে।

২. বিএনপিকে নির্বাচনে আনা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলছে এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশের কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার ক্ষেত্রে একাধিক ট্রাম্পকার্ড আছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে বিএনপি নির্বাচনে আসতে পারে এমন গুঞ্জন বাজারে রয়েছে। এছাড়া তারেক জিয়া যেহেতু একজন দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ এবং আর্থিক বিষয়কে প্রাধান্য দেন এই জন্য তার সাথে যেকোনো সময় সরকারের সমঝোতা করা সম্ভব বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। এর আগেও তারেক জিয়া সরকারের সঙ্গে একটা সমঝোতায় আসার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়ে ছিলেন। যে প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেননি। কাজেই নির্বাচনের আগে এই অস্ত্রটিও প্রধানমন্ত্রী প্রয়োগ করতে পারেন।

৩. নির্বাচন করে ফেলা: অতীতে বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে যে, নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানা রকম শর্ত দিয়েছে, নানা রকম অজুহাত দেখিয়েছে, অনেক বিষয় নিয়ে নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়েছে কিন্তু নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর আস্তে আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সর্বশেষ কম্বোডিয়া এবং নাইজেরিয়া তার বড় প্রমাণ। 

এই দেশগুলোতে নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান ছিল নির্বাচনের পর আস্তে আস্তে অবস্থা নমনীয় হতে শুরু করেছে। দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে। নির্বাচন যদি শেষ পর্যন্ত যেকোনো মূল্যে সরকার করে ফেলতে পারে তাহলেই আস্তে আস্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারা সম্ভব বলে কূটনীতিকরা মনে করছেন। আর এটি সরকারের বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড। তিনি মনে করছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে নির্বাচন করে ফেলতে হবে। আর নির্বাচন যদি করা যায় তাহলে পরেই সব সমস্যার সমাধান হবে।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা   শেখ হাসিনা   শেখ হাসিনার ট্রাম্পকার্ড  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ভিসা নিষেধাজ্ঞায় আতঙ্কে ব্যবসায়িক, আমলা এবং পুলিশ

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কয়েকজন নাগরিকের ওপর যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ভালোমতোই প্রভাব ফেলেছে। তবে রাজনীতিবিদরা ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আতঙ্কিত নয়। ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে সবচেয়ে আলোড়িত রাজনৈতিক দল অবশ্যই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরই এই ভিসা নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের মধ্যে খুব কমই ভিসা নীতিতে প্রভাবিত হবেন এবং ভিসা নীতি নিয়ে তাদের কোনো রকম গুরুতর রাজনৈতিক সমস্যা হবে—এটি তারা মনে করছেন না। বরং এরকম ভিসা নিষেধাজ্ঞা পেলে রাজনীতির মাঠে তাদের জনপ্রিয়তা প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়বে এবং ক্ষমতাসীন দলে তারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। 

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, আমার ওপর যদি ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাহলে তো আমি খুশি হবো। তাহলে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনেক ধাপ এগিয়ে যাব। রাজনীতিবিদদের মধ্যে যারা ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন তারাও এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে ভীত বলে মনে হয় না। তবে তারা স্বীকার করছেন যে, এটির ফলে একটি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হবে। আওয়ামী লীগ যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ সকলকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করছিল এখন সেটি বাধাগ্রস্ত হবে। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে অনেকেই দায়িত্ব পালনে ইতস্তত করতে পারে—এমন শঙ্কা আওয়ামী লীগ করছে। এটি ভিসা নীতিতে আওয়ামী লীগের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব বলে তারা মনে করছেন। তবে রাজনীতিবিদরা ভিসা নিষেধাজ্ঞায় আক্রান্ত হলেও এটি নিয়ে তারা খুব একটা উদ্বিগ্ন নন এবং এটার প্রভাব তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে পড়বে বলে তারা মনে করছেন না। কিন্তু এই ভিসা নীতি বাংলাদেশের তিন শ্রেণীর মানুষের ওপর অত্যন্ত ভালোভাবে প্রভাব ফেলেছে। 

২২ সেপ্টেম্বর ভিসা নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করার পর তিন ধরনের পেশাজীবীদের মধ্যে এই নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা শুধু যে তাদের ভিসা বাতিল হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে উদ্বিগ্ন তেমনটি নয় বরং তারা মনে করছেন এই ভিসা নীতির সূত্র ধরে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়, মার্কিন বাজার যদি বাংলাদেশের জন্য সংকুচিত হয় বা বন্ধ হয় সেটি হবে তাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি। 

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় বাজার হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই জন্য পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা ভিসা নিষেধাজ্ঞার পর ভালো মতো উদ্বিগ্ন। এদের মধ্যে আবার কিছু ব্যবসায়ী আছেন যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বসতবাতি করেছেন। তাদের সন্তান-সন্ততিরা সেখানে লেখাপড়া করে। সেখানেও তাদের বিনিয়োগ আছে, সম্পত্তি আছে। এরা আবার দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য নতুন করে আওয়ামী লীগ হয়েছেন। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবাড়িও করেছেন। এরকম যারা তারা ভিসা নিষেধাজ্ঞার সংকটে আছেন একাধিক কারণে। প্রথমত এর ফলে তাদের সন্তান-সন্ততি পরিবারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তারা যে সম্পদ রেখেছেন সেই সম্পদগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এবং তৃতীয়ত, ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য ইত্যাদি বন্ধ হতে পারে। 

ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়বে না—এমনটি দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আবদুল মোমেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, যদি ব্যক্তিগত ভিসা বাতিল হয়ে যায় তাহলে তার প্রভাব অবশ্যই ব্যবসার মধ্যে পড়বে। তাছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তারা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। কারণ এর আগেও তিনি যে সমস্ত বক্তব্য দিয়েছেন বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীদের মতোই আতঙ্কিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভিসা নিষেধাজ্ঞার প্রথম ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। 

ধারণা করা হচ্ছে যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ করা, গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা ইত্যাদির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কিছু ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করেছে। এটি তাদের জন্য আতঙ্কের এই কারণে যে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রীতি রয়েছে। এদের কেউ কেউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করেছেন। কারো কারো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। বেশ কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা রয়েছেন যাদের সন্তান-সন্ততিরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, নিকট জন আত্মীয় স্বজন সেখানে আছেন এবং তাদের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছেন। এই সংখ্যাটা কম না। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটা বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই আতঙ্কটি পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।

ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের প্রশাসনের লোকজনও বেশ আতঙ্কিত, উদ্বিগ্ন। কারণ পুলিশ বাহিনীর মতো প্রশাসনের লোকজনেরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আলাদা আকর্ষণ রয়েছেন। প্রশাসনের অনেকে অবসরের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিচ্ছেন এবং সেখানে তার সন্তান-সন্ততিকে রেখেছেন। অনেকেই গ্রীণ কার্ড নিয়ে সরকারি চাকরি করছেন। 

একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব পর্যায় পর্যন্ত এরকম অন্তত ১৪০ জন রয়েছেন যারা গ্রীন কার্ড ধারী অথবা যাদের সন্তান-সন্ততি বা পরিবারের সদস্যরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে। সেখানে তাদের সম্পদও রয়েছে। এরা এখন এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে উদ্বিগ্ন। আর এই তিন শ্রেণীর উদ্বিগ্ন থাকার ফলে এরা আগামী নির্বাচনের আগে কি ভূমিকা রাখবে এবং সরকারকে কতটুকু সহযোগিতা করবে তা নিয়ে নানামুখী আলাপ-আলোচনা চলছে।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা   ব্যবসায়িক   আমলা   পুলিশ   নির্বাচন   ভিসা নীতি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন