ইনসাইড বাংলাদেশ

আমরাও চাই দুর্নীতিবাজরা যেন ক্ষমতায় না আসে: দুদক চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০৫:৩৫ পিএম, ২১ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

নির্বাচন সামনে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয় এমন মন্তব্য করে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ বলেছেন, সাধারণ মানুষের মতো আমরাও চাই দুর্নীতিবাজরা যেন ক্ষমতায় না আসে। 

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুদকের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।  

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের মাধ্যমে প্রত্যাশা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে। তবে দুদকের কাজে জনগণকে করতে হবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দুদক আইন দ্বারা দুর্নীতি দূর করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে দমন ও প্রতিরোধের সঙ্গে জড়িত সরকারের অন্যান্য সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ সময় দুদক কমিশনার জহুরুল হক বলেন, আমাদের কাজ দুর্নীতি নিয়ে, তদাপি নির্বাচনের সময় দুদক কিছু করবে না, তা নয়। কোনো প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কিছুও করবে না।

দুদকের অপর কমিশনার আছিয়া খাতুন বলেন, দেশের সংস্কৃতিতে দুর্নীতি যাতে স্থায়ী অবস্থান না নেয় সেজন্য দুদক কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি হলো ধ্বংসকারী একটি শক্তি, যা দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি সহ সবকিছুকে গ্রাস করেছে। দুর্নীতি দমনে দেশের সব মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে দেশপ্রেমই হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে বড় পুঁজি।

মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার আগে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুদকের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। উপলক্ষে কমিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা সহ সারাদেশে দুদকের প্রধান কার্যালয় বিভাগীয় কার্যালয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক, কমিশনার (অনুসন্ধান) মোছা. আছিয়া খাতুন, সচিব মাহবুব হোসেন, মহাপরিচালকরা ও কমিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।

দুদক চেয়ারম্যান   মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্   দুদক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জবিতে ‌‘ছাত্রলীগ প্রবেশ নিষিদ্ধ’ ঘোষণা

প্রকাশ: ০৯:৪৫ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে (জবি) ‘ছাত্রলীগ প্রবেশ নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। 

বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ সংক্রান্ত নোটিশ লিখে প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসের সব ভবনে ঝুলিয়ে দেন। একইসঙ্গে, ‘ফাঁসির মঞ্চে ঝুলছে কে? গণতন্ত্র’, ‘পনেরোর হায়না’ লেখা পোস্টারও সেখানে দেখা গেছে।

এসময় নোটিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কয়টি ফটক ও ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে ঝুলিয়ে দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা।

এর আগে, বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধসহ ৬ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়   জবি   ছাত্রলীগ   কোটা আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আবার এক দফা আন্দোলন: নেপথ্যে কারা?

প্রকাশ: ০৮:৩০ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো। গত বছরের শেষ দিকে তারা এক দফা আন্দোলন শুরু করেছিল, সেই আন্দোলন নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিএনপি-জামায়াত সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তারা শুধু কোটা আন্দোলনকে সমর্থন দিচ্ছে না। তারা সরকার পতনের আন্দোলনকে এর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর এই আন্দোলনে মৌন সম্মতি দিচ্ছে গত বছর যে সমস্ত পশ্চিমা দেশগুলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আওয়াজ তুলেছিল তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কোটা আন্দোলন নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু হয়েছে। গতকাল সারাদেশে কোটা আন্দোলন নিয়ে এক ধরণের বিস্ফোরণ ঘটে। আর এই বিস্ফোরণের জেরে ছয় জন মারা যায়। সরকারের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে যে, এই কোটা আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি এবং জামায়াত যুক্ত হয়েছে। যার ফলে কোটা আন্দোলনকারীদের আন্দোলনটি এখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে নেই। এটি একটি রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, বিএনপি এবং জামায়াত পরিকল্পিত ভাবে কোটা আন্দোলনকে বিকশিত হতে দিয়েছে যেন এটি রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেয় এবং সেই লক্ষ্যে ধীরে ধীরে তারা সংগঠিত হয়েছে। এখন সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। আর এখান থেকে সুযোগ নিতে চায় বিএনপি। আর সেকারণেই গতকাল বিএনপির নেতাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন কোটা আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি ভাবে যুক্ত হয়। 

ছাত্রদল গতকালই সংবাদ সম্মেলন করে কোটা আন্দোলনের সঙ্গে নিজের একাত্মতা ঘোষণা করেছে। আজ তারা গায়েবানা জানাজা করার চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে ছাত্রশিবির পর এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য হচ্ছে না। কিন্তু কোটা আন্দোলনের আসল কলকাঠি তাদের হাতেই- এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনভাবে কোটা আন্দোলন এখানেই শেষ না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করার প্রেক্ষাপটে এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়ার ফলে এখন একটা নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই নতুন পরিস্থিতিতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আজ ছাত্রদল, ছাত্র শিবির ছাড়াও বিএনপি এবং অন্যান্য নির্বাচন বিরোধী সংগঠনগুলোকে মাঠে দেখা গেছে। আগামীকাল তারা আরও সংঘবদ্ধভাবে মাঠে নামবে বলে জানা গেছে। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই কোটা আন্দোলনের ব্যাপারে রহস্যময় ভূমিকা পালন করছে। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে দুইজনের মৃত্যুর খবর বলা হয়েছিল৷ অথচ সেই সময় পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলনে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্পষ্টতই এই আন্দোলনের পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। তাছাড়া সুশীল সমাজের একটি অংশ এই আন্দোলনকে উস্কানি দিচ্ছে। অর্থাৎ গত বছরের শেষদিকে যারা যারা নির্বাচন বানচাল করে সরকার পতনের নীল নকশার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল তারাই এখন নতুন করে একট্টা হচ্ছে এবং আবার নতুন করে এক দফা আন্দোলন শুরু করার পাঁয়তারা করছে।

উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এক দফা আন্দোলন শুরু করেছিল। সেই এক দফার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন এবং সহানুভূতি দৃশ্যমান হয়েছিল। একই সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনকে ইন্ধন যুগাচ্ছিল। এবার প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। এবার মূল বিষয় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার এবং এই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে তার ওপর করে বিএনপি-জামায়াত এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্ট করছে। সামনের দিনগুলোতে কেটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সারাদেশে সরকার পতনের আন্দোলন নতুন করে দৃশ্যমান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ রকম বাস্তবতায় সরকার কিভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে সেটি দেখার বিষয়। 

কোটা আন্দোলন   বিএনপি   জামায়াত   শিবির   সহিংস   রাজনৈতিক আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’

প্রকাশ: ০৮:০৭ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা সংস্কার আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা এবং নিহতদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ জুলাই) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এ ঘোষণা দিয়েছেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলেও জানানো হয়।

এদিকে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষে সারা দেশে যেসব প্রাণহানি ঘটেছে প্রতিটি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আদালতের চূড়ান্ত রায় দেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

সরকার প্রধান বলেন, কিছু মহল কোটা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, একটি আন্দোলন ঘিরে অহেতুক কতগুলো মূল্যবান জীবন ঝরে গেল। আপনজন হারানোর বেদনা যে কত কষ্ট, তা আমার চেয়ে আর কেউ বেশি জানে না।

উল্লেখ্য, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

কোটা আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ছাড়লেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ছেড়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর নীলক্ষেত মোড় থেকে সরে যান তারা।

এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার পর থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। পুলিশের বাধায় দুপুরে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে গায়েবানা জানাজা পড়তে ব্যর্থ হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গায়েবানা জানাজা পড়েন। জানাজা শেষে ক্যাম্পাসে কফিন নিয়ে মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ওই মিছিলে একের পর এক সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা আবার সূর্য সেন হলের সামনে এসে জড়ো হন।

এরপর ঘণ্টাখানেক পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ চলে। পুলিশ সদস্যরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। অপর দিকে শিক্ষার্থীরা মাস্টারদা সূর্য সেন হলের সামনে অবস্থান নেন। পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের জবাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন তাঁরা।

পুলিশের সঙ্গে টিকতে না পেরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই এলাকার হলগুলোর ভেতরে চলে যান শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সূর্যসেন হলের সামনে এসে অবস্থান নেয় পুলিশ। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল হক সেখানে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ বন্ধ করে পুলিশ। তখন হলগুলো থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ের দিকে চলে যান। সেখানে তাঁরা অবস্থান নিলে পুলিশ আবারও তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শিক্ষার্থীরা পুলিশের দিকে ইট–পাটকেল নিক্ষেপ করে। আধা ঘণ্টাখানেক পর সেখান থেকে চলে যান শিক্ষার্থীরা।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি সভা বসে। ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আজ সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই ঘোষণার পর থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা যখন হল ছেড়ে যান, তখন হলগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। যে কয়েকজন শিক্ষার্থী তখনো হলে ছিলেন, তাঁরাও বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

বিকেলে শিক্ষার্থীদের মিছিলে কেন হামলা চালানো হলো, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ভিসির বাসভবন ও আশপাশের নিরাপত্তার স্বার্থে ভিসির অনুমতিক্রমে মিছিল ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে।

অপর দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গায়েবানা জানাজা শেষে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শুরু করেন। সেখানে পুলিশ হামলা চালায়।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিদের জন্য এই গায়েবানা জানাজা ও কফিনমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন পরিচালনা করে আসা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। এই কর্মসূচির নির্ধারিত স্থান ছিল রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে। পুলিশের বাধায় সেখানে যেতে পারেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে ঘটনাস্থল থেকে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ আগেই আখতার হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হন। কিন্তু টিএসসি এলাকায় যাওয়ার প্রতিটি প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অবস্থান নেন।

সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আখতার হোসেনসহ আন্দোলনরত কয়েক শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। পুলিশ আখতার হোসেনকে আটকের চেষ্টা করে।

এ সময় সেখানে থাকা সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। কিন্তু পুলিশ সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের দিকে দুটি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। দুটি ফাঁকা সাউন্ড গ্রেনেডও ছোড়া হয়। এ সময় চ্যানেল এসের সাংবাদিক সোলেয়মান আহত হন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি পালন করা হয়।

এর আগে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র ও জনতার ব্যানারে গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার পর ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সেখানেই অবস্থান করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ দিয়ে বের হওয়ার সময় তাঁদের মুঠোফোন তল্লাশি করা এবং মারধর করতেও দেখা গেছে। বেলা তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে অন্তত তিনজনকে মারধর করা হয়। তাঁদের দুজনকে পুলিশ রক্ষা করে। একজন দৌড়ে শাহবাগ থানার মধ্যে ঢুকে যান।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়   সংঘর্ষ   কোটাবিরোধী আন্দোলন   কোটা সংস্কার আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭:৫৬ পিএম, ১৭ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

জাতির উদ্দেশ্যে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করলেন। বিশেষ করে গত ১৬ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে যারা হত্যাকাণ্ড করেছে, নাশকতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের বিচারের জন্য বিচার বিভাগীয় কমিটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। 

হাইকোর্টের রায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে আন্দোলন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন এই বিশ্বাস তার আছে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত হয়ে গেছে, যে মহলটি জ্বালাও পোড়াও, ভাঙচুরের মাধ্যমে অন্য উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, যখনই বাংলাদেশের জনগণ একটু শান্তিতে থাকে তখনই কিছু কিছু মহল অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রী ১৬ জুলাইয়ের ঘটনায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানান এবং আহতদের চিকিৎসা সহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী এই ভাষণে তার কঠোর এবং দৃঢ় অবস্থান পুনরায় ব্যক্ত করেন।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন