ইনসাইড বাংলাদেশ

রাজনৈতিক কৌশলেই সংকট থেকে বেরিয়ে আসে সরকার

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৯ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

যখনই মনে হয় যে আওয়ামী লীগ সরকার চাপে পড়েছে, সংকটে পড়েছে এবং অস্বস্তির মধ্যে উপনীত হয়েছে ঠিক তখনই একটি সঠিক রাজনৈতিক কৌশলে সংকট থেকে বেরিয়ে আসে টানা ক্ষমতায় থাকা দলটি। টানা চতুর্থবারের মতো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি পাবে কি না তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ এবং সংশয় দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ রাজনৈতিক কৌশলের কারণে নির্বাচন নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক সংকট তৈরি হয়নি। বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বললেও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করে। ফলে নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক চাপে পড়বে, বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে ইত্যাদি নানা গুঞ্জন ছিল সব গুঞ্জন গুলোই অপসারিত হয়ে যায়। 

এবার নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং প্রত্যয় পেনশন স্কিম নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে এই দুটি সংকট থেকেও আওয়ামী লীগের সহজ উত্তরণ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ এই সংকট সমাধানে সুস্পষ্ট কতগুলো কৌশল গ্রহণ করেছে, যে কৌশলগুলো ইতিবাচক এবং সাদামাটা রাজনীতির চোখে এই কৌশলগুলো প্রয়োগ করা কঠিন। 

কোটা আন্দোলনের কথা যদি আমরা ধরি তাহলে দেখব যে এই আন্দোলনে সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর দমন পীড়ন করেনি, শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়নি, ছাত্রলীগকে এই আন্দোলনে বাধা প্রদান করা বা বাড়াবাড়ি না করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক ভাবে আন্দোলন করছে এবং তাদের বক্তব্য দিয়েছে। 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল যে, এটি সরকারের বিষয় নয়। বিষয়টি আদালতের বিষয়। কারণ ২০১৮ সালে সরকার কোটা বাতিল করে দিয়েছিল এবং এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের কোটা পুনর্বহালের দাবিতে হাইকোর্টে কয়েকজন রিট করেন। এর প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালত মুক্তিযুদ্ধের কোটা বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। এখান থেকেই অস্বস্তির সূচনা এবং সরকার বারবার একটি বিষয় বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে এটি সরকারের বিষয় না, আদালতের বিষয়। আদালতে বিষয়টি সমাধানের জন্য সরকার উদ্যোগ নেয়। 

গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আনিসুল হক অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। আজ চেম্বার বিশেষ আদালতে আগামীকাল কোটা সংস্কার নিয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। নিশ্চয়ই শুনানির মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান হবে। এটির মাধ্যমে দুটি জিনিস অর্জন করল সরকার। প্রথমত, বিষয়টি যে সরকারের না, এটা আদালতের একটি বিচারাধীন বিষয় সেটা প্রমাণ করতে সক্ষম হল। দ্বিতীয়ত, আপিল বিভাগের হাতে এখন অনেকগুলো বিকল্প রয়েছে, যে বিকল্পের যে কোন একটি আপিল বিভাগ প্রয়োগ করতে পারে। অর্থাৎ রাজনীতির মাঠ থেকে বিষয়টি এখন আদালতের আইনি চুলচেরা বিশ্লেষণের পথে চলে গেল। আর এখানেই সরকারের কৌশলের সাফল্য। 

পেনশন স্কিম নিয়েও সরকার বিচলিত হয়নি। তড়িঘড়ি করে হুমকি-ধামকিও দেয়নি। আন্দোলনকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিয়েছে। শিক্ষকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এই যোগাযোগের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত শিক্ষকদের মধ্যেই এখন এটি নিয়ে একটি অন্তঃকলহ সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে এই আন্দোলন এখন অনেকটাই ম্রিয়মান হয়ে পড়েছে। শিক্ষকরা এখন আন্দোলন থেকে ফিরে আসার পথ খুঁজছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর অথবা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে তারা এর সমাধান খুঁজে পাবেন বলে আশা করছেন।

প্রতিটি সংকটকে সরকার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে এবং রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে দূরদর্শীর চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে। আর যে কারণে আপাতত দৃষ্টি সাধারণ মানুষের মনে হতেই পারে যে বড় ধরনের আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার স্বস্তিদায়ক জায়গায় ফিরে আসছে। মাঝখান থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ধোঁকা খাচ্ছে।

কোটা আন্দোলন   পেনশন স্কিম   প্রধানমন্ত্রী   সরকারি চাকরি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মধ্যরাতে জাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

প্রকাশ: ০২:১২ এএম, ১৬ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

সোমবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আসেন। এ সময় তারা হামলার বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। 

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্যাম্পাসে ছাত্র নিপীড়নের সুষ্ঠু বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিছিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল করছিলাম। মিছিলে ছাত্রলীগ আমাদের ওপরে অতর্কিত হামলা করে। ছাত্রলীগের এই হামলায় আমাদের একজন শিক্ষক পর্যন্ত আহত হন। এই সময় প্রক্টোরিয়াল টিম এবং কোনো নিরাপত্তা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে সন্ত্রাসী এনে আমাদের ওপরে হামলা চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ অভিভাবক, এ জন্য আমরা তার কাছে বিচারের দাবিতে এসেছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আলম বলেন, এই ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের প্রাধ্যক্ষদের নিয়ে আলোচনা করব। দ্রুত সময়ের মধ্যে অছাত্রদের হল থেকে বের করা হবে।  


কোটা আন্দোলন   জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়   জাবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কোন দিকে মোড় নিচ্ছে কোটাবিরোধী আন্দোলন?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

দিনভর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী স্লোগান এবং দিন শেষে দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিকাল ৩টায় সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন কোটা আন্দোলনকারীরা। এর ফলে কোটা বিরোধী আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা লাভ করলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এখন দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার একটি সুষ্পষ্ট পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার (১৫ জুলাই) রাতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাবি শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন।

এর আগে গতকাল রাত থেকে হঠাৎ করে অন্য দিকে মোড় নিয়েছে কোটা বিরোধী আন্দোলন। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হঠাৎ মধ্যরাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। যা এই কোটা আন্দোলনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আজও দিনভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের স্লোগান অব্যাহত ছিলো। বিকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। সবকিছু মিলিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন অনেকটা সহিংস হয়ে উঠেছে বলা বাহুল্য হবে না। ফলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে যে, কোটা আন্দোলন এখন কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?

গতকাল মধ্যরাত থেকে আজকে সারা দিন কোটা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে, কোটা আন্দোলন এখন স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক আবহ লাভ করেছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী দ্বারা এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। এটি এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয় বলেই সারা দিনের ঘটনা প্রবাহ সাক্ষাৎ দিচ্ছে। গতকাল আগ পর্যন্ত কোটা বিরোধী আন্দোলন ছিলো শান্তিপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে, বিক্ষোভ মিছিল করেছে, সর্বশেষ গতকাল তারা রাষ্ট্রপতির বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। এই পুরো বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, এমনকি গতকাল পুলিশের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির বরাবার স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু আজ হঠাৎ আন্দোলনের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।

উল্লেখ্য যে, গতকাল এক সংবাদ সন্মেলনে কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন বিষয় উল্লেখ্য করে তিনি বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আমার দাঁড়ানোর কোনো অধিকার নেই। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আদালতে যাওয়ারও পরামর্শ দেন। তিনি বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে যেমন সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন তেমনি যারা মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করছেন সে ব্যাপারে সোচ্চার কণ্ঠে বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্যকে একটি বিশেষ মহল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সারা দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। ফলে মধ্যরাত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উত্তাল হয়ে উঠে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে অবস্থান নেন রাজপথে। কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন ক্যাম্পাস। ফলে কোটা বিরোধী আন্দোলন তার চরিত্র হারায়। এখন এই কোটা বিরোধী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় সেটা দেখার বিষয়।

কোটা আন্দোলন   সহিংস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ঢাবিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এরা কারা?

প্রকাশ: ০৯:৫৩ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে কোটাবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্র করে সোমবার সারাদিন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকেলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, ফজলুল হক মুসলিম হল এবং অমর একুশে হলে বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল এবং গুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কিছু তরুণের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগতরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে।

ছাত্রলীগের দাবি, ছাত্রদলের কর্মীরা শহীদুল্লাহ হল এবং ফজলুল হক হল এলাকায় গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া তারা কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাত ৮টার দিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শহীদুল্লাহ হল এলাকা ঘেরাও করে। সেখানে পুলিশের একাধিক সাজোয়া যান ও জলকামান দেখা গেছে। হলের ভিতরে কোটাবিরোধীদের স্লোগান এবং বাইরে ছাত্রলীগের স্লোগান শোনা যায়।

বিকেলের দিকে, মাথায় হেলমেট পরা এক তরুণকে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। তার পরনে ছিল কালো ফুলপ্যান্ট এবং সাদা রঙের ছাপা ফুলহাতা শার্ট। তবে, তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর থেকে শিক্ষার্থীসহ বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেওয়ার সময়, বহিরাগতরা কার্জন হলের বায়োক্যামেস্ট্রি গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা হলগুলোতে ছাত্রলীগের নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই সময়ে বেশ কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে এবং তারা হলগুলোর ছাদেও অবস্থান নেয়। ছাদ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয় এবং গুলির শব্দ শোনা যায়।

শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, তারা মধুর ক্যান্টিন ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের নিয়ে শহীদুল্লাহ হলে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং তার ২৩২ নম্বর কক্ষসহ অন্যান্য নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করে।

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গনেশ চন্দ্র সাহস বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, কিন্তু অস্ত্রবাজি তাদের কাজ নয়। দিনভর ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

একুশে হলের এক শিক্ষার্থী জানান, বহিরাগতরা হামলা করেছে জেনে তারা হলের সামনে যান। তবে, হলের ভিতরে অবস্থান নেওয়া লোকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তারা জানতে পারেন।

রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আন্দোলনকারীরা শহীদুল্লাহ হলের ভিতরে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।


ঢাবি   কোটা আন্দোলন   ছাত্রলীগ   ছাত্রদল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

প্রভোস্ট কমিটির জরুরি বৈঠকে যা সিদ্ধান্ত নিলো ঢাবি

প্রকাশ: ০৯:০৬ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠক ডাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল। 

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকাল পাঁচ দিকে উপাচার্যের নিজ বাসভবনে বৈঠক শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠক শেষ ভিসি মাকসুদ কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আজ রাতে সব প্রভোস্টরা হলে অবস্থান করবেন, হলে বহিরাগত কাউকে থাকতে দেয়া হবে না।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- (১) শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব হলে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান (২) প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ (৩) হলসমূহে কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবেন না (৪) যেকোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো পাশাপাশি (৫) সকলকে নাশকতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং বিভিন্ন হল মূহের প্রাধ্যক্ষ। 

কোটা আন্দোলন   প্রভোস্ট কমিটি   ঢাবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নিন্দা

প্রকাশ: ০৯:০৩ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে রাজপথে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সেই সঙ্গে সময়ক্ষেপণ না করে অবিলম্বে কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সমাজের বিভিন্ন অনগ্রসর অংশকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে মূল স্রোতে নিয়ে আসার জন্য বিশ্বজুড়েই কোটাব্যবস্থা চালু আছে। সমাজের নারী, প্রতিবন্ধী, আদিবাসীসহ অনগ্রসর শ্রেণির জন্য কোটাপদ্ধতি থাকা প্রয়োজন; কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিদের সুবিধা দেওয়ার নামে ৩০ শতাংশ কোটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবি যৌক্তিক।

সরকার নির্যাতনের মাধ্যমে আন্দোলনকে দমন করতে চাইছে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, নির্যাতনের নগ্ন প্রকাশ হলো—আজকে ইডেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা। হামলায় ছাত্রফ্রন্টের সুস্মিতা মরিয়ম, অদিতি ইসলাম, ইনজামাম, প্রিয়া, ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সায়মা আফরোজ, সুমিসহ প্রায় দুই শতাধিক ছাত্র আহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে নেতারা সরকারের প্রতি হামলা, মামলা ও দমন-পীড়নের পথ পরিহার করার দাবি জানান। পাশাপাশি অবিলম্বে কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবি করেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ, সিপিবির সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী।


কোটাবিরোধী আন্দোলন   ছাত্র আন্দোলন   ঢাকা   অবরোধ   ছাত্রলীগ   সংঘর্ষ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন