ইনসাইড বাংলাদেশ

কোটা সংস্কারের দাবিতে দিনভর সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, স্থবির জনজীবন

প্রকাশ: ০৮:৩১ পিএম, ১০ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসলে আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে অবশেষে আজকের মতো সড়ক ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা। একইসাথে আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে পুনরায় ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ডাকও দিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘যদি নির্বাহী বিভাগের সর্বোচ্চ পদ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তাহলে আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাবো। নইলে এ আন্দোলন চলবে।’

এক দফা দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের এই কোটা সংস্কার আন্দোলনে ইতোমধ্যেই উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো দেশ। সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমেছেন। ছাত্রদের দাবি, সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে (১-২০) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য (প্রতিবন্ধী ও উপজাতি) কোটাকে নূন্যতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটাপদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে।

যদিও আজ ‍বুধবার (১০ জুলাই) সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবুও বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করতে নারাজ শিক্ষার্থীরা।

ঢাবি, জবি, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ
আজ বুধবার (১০ জুলাই) চলমান সকালে কোটা সংস্কারের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত বাংলা ব্লকেড’ এর আওতায় শাহবাগ মোড়ে নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এদিন সকাল ১০টা থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। সেখানে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট দল হয়ে মৎস্য ভবন, পরীবাগ মোড়, বাংলামোটর মোড়, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেটের দিকে ছড়িয়ে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও সায়েন্সল্যাব, ফার্মগেট সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো  অবরোধ করে কর্মসূচীতে অংশ নেন ঢাকা কলেজসহ ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এসময় এ এলাকা ও আশপাশের এলাকাগুলতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার বিভিন্ন মোড় অবরোধ করেন।

জানা যায়, আজ ঢাকার ভেতরে শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, ফার্মগেট, চানখাঁরপুল মোড়, চানখাঁরপুল ফ্লাইওভারে ওঠার মোড়, বঙ্গবাজার, শিক্ষা চত্বর, মৎস্য ভবন, জিপিও, গুলিস্তান, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, রামপুরা ব্রিজ, আগারগাঁও, ঢাকার বাইরে রাজশাহী (জিরো পয়েন্ট, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, রেলগেট, স্টেশন বাজার), চট্টগ্রাম ও বিভাগীয় শহরগুলোতেও চলছে ‘বাংলা ব্লকেড’। শুধু বাস ও মোটরযান নয়, ব্লকেডে আটকা পড়েছে রিকশাও। এক রিকশাচালক বলেন, ‘এমন গ্যাঁড়াকলে আছি মামা, একটু বাইর হতে পারতাছি না। বাইর হইলেই উল্টা দিক দিয়া বাসায় যামু গা। আগে তো জানতাম না এমন হইব।’

বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে সড়কপথের পাশাপাশি রাজধানীর রেলপথও অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এতে দুই ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসময় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে আসেন। সকাল ১০টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তারা শাহবাগ মোড়ে আসেন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে।

আন্দোলনকারীদের ভয়ে সকাল ১০টার আগে থেকেই রাস্তায় গণপরিবহন চলাচল কমে যায়। এমনকি সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও কমে আসে। এদিকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করে।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সর্বাত্মক ‘বাংলা ব্লকেড’ অনুযায়ী আগামীকাল (বুধবার) সারাদিন দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান অবরোধ করা হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশাপাশি হাইওয়ে এবং রেলপথও এই ব্লকেডের আওতায় থাকবে।

একদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শাহবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশিরা অবস্থান করছিলেন ঠিক সেসময় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে দুই দাবিতে বিক্ষোভ করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, মুক্তিযুদ্ধ সংসদ সন্তান কমান্ডসহ কোটার পক্ষের বেশ কয়েকটি সংগঠন। ফলে দুইপক্ষের অবস্থানে শাহবাগ এলাকায় এসময় বিরাজ করে চাপা উত্তেজনা। তবে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য এসময় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করে।

এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানান, ‘সর্বাত্মক ‘বাংলা ব্লকেড’ অনুযায়ী আগামীকাল (বুধবার) সারাদিন দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান অবরোধ করা হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশাপাশি হাইওয়ে এবং রেলপথও এই ব্লকেডের আওতায় থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করছি। এই আন্দোলনের ফলে জনসাধারণের যে ভোগান্তি হচ্ছে তার প্রতি আমরা সংবেদনশীল। কিন্তু এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। কারণ এতদিনের আন্দোলনের পরেও তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেনি। আমরা চূড়ান্ত সমাধান চাই। আমরা চাই, অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে। যেন পরবর্তীতে এটি আবার সমস্যা হিসেবে সামনে না আসে।’

কুবি
সকল চাকরির সকল গ্রেডে ও সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক কোটা নিরসনের দাবিতে  চতুর্থদিনের মতো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী অংশ অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সকাল ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি অবরোধ করেন। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন যাতায়াতকারী যাত্রীরা।

এদিকে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই মহাসড়কটি অবরোধ করে রাখা হবেও বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এই বিষয়ে ২০১৭-১৮ সেশনের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাকিব হোসাইন বলেন, 'সরকারি চাকরিতে কোটার বৈষম্য দূর করতে হবে এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ চাই। আর নয় আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।’

উল্লেখ্য, এর আগে একই দাবিতে গত ৪, ৭ ও ৮ জুলাই ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক প্রায় চার ঘন্টা করে অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

জাবি
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে সপ্তম দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। এরপর ব্যানার হাতে মিছিল নিয়ে মহাসড়কের ডেইরি এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ শুরু করেন তারা।

এ সময় মিছিলে শিক্ষার্থীদেরা ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘৭১ এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি হলো, সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘কোটা বাতিলের দাবিতে আমরা সারা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ গত সাত দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখান থেকে আজকের কর্মসূচির ঘোষণা হয়। সে হিসেবে আমরা সকাল-সন্ধ্যা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছি।’

এছাড়াও হাইকোর্ট যদি তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয় তাহলে তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবে বলেও তিনি জানান। আর যদি সন্তোষজনক কোন রায় না পেলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

চবি
সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করার এক দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও চবি অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টা দেওয়ান হাটে রেলপথ অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে চড়ে ১৭ কিলোমিটার দূরে দেওয়ান হাটে আসেন শিক্ষার্থীরা। ১১টা ২৭ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা দেওয়ান হাটের রেলপথে অবস্থান করছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, মেধাবীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আমরা অংশগ্রহণ করেছি। কোটা বৈষম্যের কারণে মেধাবীদের জন্য সকল রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমরা মেধাবী দ্বারা পরিচালিত একটি স্মার্ট বাংলাদেশ দেখতে চাই।

রাবি

সরকারি ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল বাতিল ও সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি জানিয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড অবস্থানের পর বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইট পরে রাজশাহী বাইপাসে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের সমন্বয়ক আমান উল্লাহ খান বলেন, বিচার বিভাগ আইনগত সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা জানিয়েছে। তাদের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা নেই। আমরা চাই, নির্বাহী বিভাগ থেকে নতুন পরিপত্র জারির মাধ্যমে আমাদের সার্বিক দাবিগুলো পূরণ। হুট করে স্থিতাদেশ দিয়ে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। আন্দোলন চলবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ তৎপর ছিল, আছে এবং থাকবে। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকারি চাকুরিতে মেধাবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সমান সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করার কোনো বিকল্প নেই। বৈষম্যমূলক কোটাপদ্ধতির সংস্কারের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সর্বদা সোচ্চার রয়েছে।

কোটাপদ্ধতি সংস্কার আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয় পরিষদের সদস্য মেহেদী সজীব বলেন, আজকে আমরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অপরাধ করেছি। আমাদের লাগাতারে কর্মসূচি চলবে। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি আদায় না হবে। এ সময় রাবির বিভিন্ন বিভাগের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী উক্ত অবরোধে অংশগ্রহণ করেন।

পাবিপ্রবি

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করেন । এ সময় সেখানে অবস্থান নিয়ে কোটা বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

অবরোধের কারণে ঢাকা পাবনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় বৈষম্যে ঠাঁই নাই। সবমিলিয়ে ৫৬ ভাগ কোটা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। কোটা বাতিল নয়, কোটা সংস্কার চাই আমরা। সবমিলিয়ে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৫ ভাগ কোটা রাখা হোক। আজ উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন আমরা সেটা মানি না। আমাদের আন্দোলন আদালতের সাথে নয়। আমরা নির্বাহী বিভাগ ও সংসদ থেকে কোটা সংস্কারের আদেশ চাই। তা না হলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর সাথে আন্দোলন চলবে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। পরে দুপুর আড়াইটায় অবরোধ তুলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।

বাকৃবি
কোটাবিরোধী আন্দোলন ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।বুধবার বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড়-সংলগ্ন এলাকায় ঢাকা থেকে জামালপুরগামী ‘তিস্তা এক্সপ্রেস’ ট্রেন অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন কোটা বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।

এর আগে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কে আর মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ভবন প্রদক্ষিণ করে জব্বারের মোড়ে এসে অবস্থান নেন।

এসময় রেলপথ অবরোধ নামেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তারা এক দফা কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, “আজ থেকে আমরা এক দফা কর্মসূচি পালন করব। সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে নূন্যতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে।“
এসময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ দেশের ছাত্র সমাজ দেশব্যাপী 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে আজ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ করে রাখার ঘোষণার কথা জানান বাকৃবি শিক্ষার্থীরা। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী প্রণব ঘোষ বলেন, “সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা সংস্কার করতে হবে।অন্যথায় হরতালের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

আদালতের অবস্থান
সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। বুধবার (১০ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।  চার সপ্তাহ পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত। একই সাথে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন আপিল বিভাগ।

এ আদেশের ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এছাড়া পূর্নাঙ্গ রায়ের পর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। শুধু এই মামলার শুনানির দিন ধার্যের জন্য চেম্বার বিচারপতির আদালত বসেছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীও হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানিও একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হয়। নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি পাঁচ ও প্রতিবন্ধীদের এক শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।

এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ বাতিল চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। গত ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে সরকারের পরিপত্র বাতিল করে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বহাল রাখার আদেশ দেয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রপক্ষ' আবেদন করলে ৪ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে নিয়মিত আপিল করতে বলেন।


কোটাবিরোধী আন্দোলন   ছাত্র আন্দোলন   ঢাকা   অবরোধ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নতুনবাজার ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা, যানচলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশ: ০৫:০১ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর নতুন বাজার এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এতে নতুন বাজার থেকে রামপুরাগামী রাস্তায় যান চলা চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ঐ রাস্তায়।

তবে বিকেল ৪টার দিকে রাস্তা ছেড়ে চলে যান শিক্ষার্থীরা। এতে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে রাস্তা ছেড়ে চলে যায়। এরপর নতুন বাজার থেকে রামপুরাগামী রাস্তায় আবারো যান চলাচল শুরু হয়েছে।

এর আগে বিকেলে ৪টা থেকে নতুন বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোডগামী রাস্তায় যান চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে থাকা যানবাহন ধীরে ধীরে কুড়িল বিশ্বরোডগামী রাস্তার দিকে এগোচ্ছে। 


কোটা আন্দোলন   বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়   সড়ক অবরোধ   যানচলাচল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইলে প্রতিহত করবে ইবি ছাত্রলীগ


Thumbnail

ক্যাম্পাসে রাজাকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ছাত্র সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগ। কেউ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে চাইলে তাদের প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ নেতারা।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় দলীয় টেন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে নেতাকর্মীরা। মিছিলটি নিয়ে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়ক কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে দলীয় টেন্টে এসে সমবেত হয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের নেতৃত্বে তিন শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, দেশের পবিত্র মাটিতে গতকাল রাতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থী নিজেদেরকে রাজাকার দাবি করে স্লোগান দিয়েছে। এতে পুরো ছাত্র সমাজ ব্যথিত হয়েছে। আজ থেকে এই পবিত্র বাংলায় কেউ রাজাকার রাজাকার স্লোগান দিলে তাদেরকে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে কেউ যদি আর একবার তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার স্লোগান দেয় তাহলে তাদেরকে সমূলে উৎপাটন করা হবে। 

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, যারা সামনে থেকে ধরণের স্লোগান দিবে তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা নিজেদেরকে রাজাকার দাবি করে তারা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। তারা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে চাই। আগামীতে কেউ ধরনের ধৃষ্টতা দেখালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ছাত্রলীগ তা প্রতিহত করবে।

এদিকে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উক্তি ঘিরে রোববার রাতে ক্যাম্পাসে তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। এরই প্রতিবাদে শাখা ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল ছাত্র সমাবেশ করেছে।


কোটা আন্দোলন   ইবি   ছাত্রলীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

অবৈধ অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে আটক ১

প্রকাশ: ০৪:৩২ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মনির হোসেন (২৮) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বিজিবির সদস্যরা।

 

সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে যশোরে শার্শা গোগা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মনির হোসেন শার্শার গোগা গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে।

 

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল মোহাম্মাদ খুরশিদ আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, বিনা পাসপোর্টে ভারতে কাজের উদ্দেশ্যে প্রবেশকালে কর্তব্যরত বিজিবি টহল সদস্যরা তাকে আটক করে।

আটক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দিয়ে শার্শা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


অবৈধ অনুপ্রবেশ   বিজিবি   আটক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ঢাবিতে মুখোমুখি আন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ

প্রকাশ: ০৩:৩৯ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়ায় মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে মুখোমুখি অবস্থান নেয় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ফলে মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ঐ এলাকা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ৩টার দিকে বিজয় একাত্তর হলের সামনে মাইকিং করতে শুরুর করলে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। এরপর কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পাল্টা ধাওয়া দেন।

এক পর্যায়ে ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিজয় একাত্তর হলে অবস্থান নেন। পরে তারা হলের তালা লাগিয়ে ভেতর থেকে ইট ছুড়তে থাকেন। শিক্ষার্থীরাও হলের দেয়ালের ওপর দিয়ে পাল্টা ইট ছুড়তে থাকেন। অন্যদিকে ছাত্রলীগের আরেকটি দলকে হেলমেট পরে একাত্তর গেটের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আন্দোলনের রিমোট কন্ট্রোল এখন শিক্ষার্থীদের হাতে নেই, এটি অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে।’

এছাড়াও যারা নিজেদের রাজাকার বলে স্লোগান দিচ্ছে তাদের শেষ দেখে নেয়ারও হুশিয়ারি দেন তিনি। 


কোটা আন্দোলন   ঢাবি   ছাত্রলীগ   আন্দোলনকারী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রাজাকার স্লোগানধারীরা এ যুগের রাজাকার: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩:৩২ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

কোটা আন্দোলনে যারা নিজেদেরকে রাজাকার বলে স্লোগান ‍দিচ্ছে তাদেরকে এ যুগের রাজাকার বলে অভিহিত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এ রাজকারদের পরিণতি ওই যুগের রাজাকারদের মতোই হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।  

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেছেন।

ফেসবুক স্টেটাসে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করেছে, আন্দোলন করেছে। এটি অবশ্যই নাগরিক অধিকার। ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত নেই।

কিন্তু যারা প্রকাশ্যে নিজের আত্মপরিচয়, জন্ম পরিচয়, ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে, ‘তুমি কে, আমি কে রাজাকার! রাজাকার!’ স্লোগান দিয়েছে, এরা সবাই এই যুগের রাজাকার।

এরা রাষ্ট্র মানে না, আদালত মানে না, ইতিহাস মানে না, এবং সর্বোপরি এই দেশকেই মানে না!

আর ফেসবুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই যুগের রাজাকারেরা একটু সক্রিয় বেশি। কারণ, কিছু একটা মন্তব্য লিখে, একটা স্ট্যাটাস দেওয়ার ভার্চুয়াল রাজাকারি করা অনেক সহজ।

তিনি বলেন, রাজাকার আগেও ছিল এবং এর ধারাবাহিকতায় এখনও আছে! ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে প্রায় ২০% শতাংশ ভোট পড়েছিল নেজামি ইসলামি, মুসলিম লীগ ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী পক্ষ তথা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এই ২০% এর অর্ধেক ১০% ধরে আজকের ১৬ কোটি মানুষের সাথে মেলালে আসবে . কোটি। এর মধ্যে . কোটিও যদি সারাদিন নিজের রাজাকারির অরাজকতা প্রকাশ করে, বাকি জনগোষ্ঠীর তুলনায় এরা নগণ্যই থাকবে!

উল্লেখ্য, রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সম্প্রতি নিজের চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে প্রসঙ্গক্রমে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়টিও উঠে আসে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা কোটা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিরা কোটা পাবে? তা তো আমরা দিতে পারি না।

সরকারপ্রধানের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে কোটা এদিন রাতেই বিক্ষোভে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালসহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


শিক্ষা মন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন