ইনসাইড বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত

প্রকাশ: ০৯:২৫ এএম, ১১ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে জোর দিয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ। বুধবার (১০ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫৬তম অধিবেশনে ওই প্রস্তাব গৃহীত হয়। ওই প্রস্তাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জেনিভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবাধিকার পরিষদের চলতি অধিবেশনে বাংলাদেশের উদ্যোগে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সব সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি পেশ করা হয়।

নিবিড় ও সুদীর্ঘ আপস-আলোচনা শেষে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাবটি বুধবার সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার কথা বলা হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পর জেনিভায় বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত স্থায়ী প্রতিনিধি সঞ্চিতা হক বলেন, “অপ্রতুল সম্পদ ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশের জন্য সম্ভবপর নয়।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা।

প্রত্যাবাসন নিয়ে চলমান দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা এবং এর নানা নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সঞ্চিতা হক। একইসঙ্গে, রাখাইনে দ্রুত সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের শুরু করার উপর জোর দেন তিনি।

গৃহীত প্রস্তাবটিতে সম্প্রতি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করা এবং তাদের জোরপূর্বক বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রস্তাবটি মিয়ানমারে যুদ্ধরত সকল পক্ষকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।

মিয়ানমার সংঘাতের কারণে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশের জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রস্তাবটি মিয়ানমারকে তার আন্তর্জাতিক সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়।

গৃহীত প্রস্তাবটিতে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সাময়িক আশ্রয় প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।

এই প্রস্তাবে, রোহিঙ্গাদের জন্য অপর্যাপ্ত ও সংকুচিত আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তা প্রদান করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

প্রস্তাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌন অপরাধসহ সব ধরনের নির্যাতন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনা ও তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে চলমান বিচার প্রক্রিয়াকেও সমর্থন জানানো হয়।

প্রস্তাবটিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান সব প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে এরূপ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এখতিয়ারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারকে মিয়ানমার বিষয়ক “নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধানী মিশন”-এর সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতির উপর মানবাধিকার পরিষদ এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়।


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন   জাতিসংঘ   ন্যায়বিচার   জবাবদিহি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কোন দিকে মোড় নিচ্ছে কোটাবিরোধী আন্দোলন?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

দিনভর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী স্লোগান এবং দিন শেষে দফায় দফায় সংঘর্ষের মধ্যেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। আগামীকাল (মঙ্গলবার) বিকাল ৩টায় সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন কোটা আন্দোলনকারীরা। এর ফলে কোটা বিরোধী আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা লাভ করলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এখন দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার একটি সুষ্পষ্ট পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার (১৫ জুলাই) রাতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাবি শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন।

এর আগে গতকাল রাত থেকে হঠাৎ করে অন্য দিকে মোড় নিয়েছে কোটা বিরোধী আন্দোলন। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হঠাৎ মধ্যরাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। যা এই কোটা আন্দোলনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আজও দিনভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের স্লোগান অব্যাহত ছিলো। বিকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। সবকিছু মিলিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন অনেকটা সহিংস হয়ে উঠেছে বলা বাহুল্য হবে না। ফলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে যে, কোটা আন্দোলন এখন কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?

গতকাল মধ্যরাত থেকে আজকে সারা দিন কোটা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে, কোটা আন্দোলন এখন স্পষ্টতই একটি রাজনৈতিক আবহ লাভ করেছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী দ্বারা এই আন্দোলন পরিচালনা করছে। এটি এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয় বলেই সারা দিনের ঘটনা প্রবাহ সাক্ষাৎ দিচ্ছে। গতকাল আগ পর্যন্ত কোটা বিরোধী আন্দোলন ছিলো শান্তিপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে, বিক্ষোভ মিছিল করেছে, সর্বশেষ গতকাল তারা রাষ্ট্রপতির বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। এই পুরো বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, এমনকি গতকাল পুলিশের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির বরাবার স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু আজ হঠাৎ আন্দোলনের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।

উল্লেখ্য যে, গতকাল এক সংবাদ সন্মেলনে কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন বিষয় উল্লেখ্য করে তিনি বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আমার দাঁড়ানোর কোনো অধিকার নেই। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আদালতে যাওয়ারও পরামর্শ দেন। তিনি বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে যেমন সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন তেমনি যারা মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করছেন সে ব্যাপারে সোচ্চার কণ্ঠে বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্যকে একটি বিশেষ মহল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সারা দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। ফলে মধ্যরাত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উত্তাল হয়ে উঠে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে অবস্থান নেন রাজপথে। কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন ক্যাম্পাস। ফলে কোটা বিরোধী আন্দোলন তার চরিত্র হারায়। এখন এই কোটা বিরোধী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় সেটা দেখার বিষয়।

কোটা আন্দোলন   সহিংস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ঢাবিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এরা কারা?

প্রকাশ: ০৯:৫৩ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে কোটাবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্র করে সোমবার সারাদিন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকেলে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, ফজলুল হক মুসলিম হল এবং অমর একুশে হলে বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল এবং গুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কিছু তরুণের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগতরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে।

ছাত্রলীগের দাবি, ছাত্রদলের কর্মীরা শহীদুল্লাহ হল এবং ফজলুল হক হল এলাকায় গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া তারা কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাত ৮টার দিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শহীদুল্লাহ হল এলাকা ঘেরাও করে। সেখানে পুলিশের একাধিক সাজোয়া যান ও জলকামান দেখা গেছে। হলের ভিতরে কোটাবিরোধীদের স্লোগান এবং বাইরে ছাত্রলীগের স্লোগান শোনা যায়।

বিকেলের দিকে, মাথায় হেলমেট পরা এক তরুণকে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। তার পরনে ছিল কালো ফুলপ্যান্ট এবং সাদা রঙের ছাপা ফুলহাতা শার্ট। তবে, তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর থেকে শিক্ষার্থীসহ বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেওয়ার সময়, বহিরাগতরা কার্জন হলের বায়োক্যামেস্ট্রি গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা হলগুলোতে ছাত্রলীগের নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই সময়ে বেশ কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে এবং তারা হলগুলোর ছাদেও অবস্থান নেয়। ছাদ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয় এবং গুলির শব্দ শোনা যায়।

শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, তারা মধুর ক্যান্টিন ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের নিয়ে শহীদুল্লাহ হলে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং তার ২৩২ নম্বর কক্ষসহ অন্যান্য নেতাদের কক্ষ ভাঙচুর করে।

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গনেশ চন্দ্র সাহস বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, কিন্তু অস্ত্রবাজি তাদের কাজ নয়। দিনভর ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

একুশে হলের এক শিক্ষার্থী জানান, বহিরাগতরা হামলা করেছে জেনে তারা হলের সামনে যান। তবে, হলের ভিতরে অবস্থান নেওয়া লোকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তারা জানতে পারেন।

রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আন্দোলনকারীরা শহীদুল্লাহ হলের ভিতরে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।


ঢাবি   কোটা আন্দোলন   ছাত্রলীগ   ছাত্রদল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

প্রভোস্ট কমিটির জরুরি বৈঠকে যা সিদ্ধান্ত নিলো ঢাবি

প্রকাশ: ০৯:০৬ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠক ডাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল। 

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকাল পাঁচ দিকে উপাচার্যের নিজ বাসভবনে বৈঠক শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠক শেষ ভিসি মাকসুদ কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আজ রাতে সব প্রভোস্টরা হলে অবস্থান করবেন, হলে বহিরাগত কাউকে থাকতে দেয়া হবে না।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- (১) শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব হলে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান (২) প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ (৩) হলসমূহে কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবেন না (৪) যেকোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো পাশাপাশি (৫) সকলকে নাশকতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং বিভিন্ন হল মূহের প্রাধ্যক্ষ। 

কোটা আন্দোলন   প্রভোস্ট কমিটি   ঢাবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নিন্দা

প্রকাশ: ০৯:০৩ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে রাজপথে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সেই সঙ্গে সময়ক্ষেপণ না করে অবিলম্বে কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সমাজের বিভিন্ন অনগ্রসর অংশকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে মূল স্রোতে নিয়ে আসার জন্য বিশ্বজুড়েই কোটাব্যবস্থা চালু আছে। সমাজের নারী, প্রতিবন্ধী, আদিবাসীসহ অনগ্রসর শ্রেণির জন্য কোটাপদ্ধতি থাকা প্রয়োজন; কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিদের সুবিধা দেওয়ার নামে ৩০ শতাংশ কোটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবি যৌক্তিক।

সরকার নির্যাতনের মাধ্যমে আন্দোলনকে দমন করতে চাইছে উল্লেখ করে নেতারা বলেন, নির্যাতনের নগ্ন প্রকাশ হলো—আজকে ইডেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা। হামলায় ছাত্রফ্রন্টের সুস্মিতা মরিয়ম, অদিতি ইসলাম, ইনজামাম, প্রিয়া, ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সায়মা আফরোজ, সুমিসহ প্রায় দুই শতাধিক ছাত্র আহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে নেতারা সরকারের প্রতি হামলা, মামলা ও দমন-পীড়নের পথ পরিহার করার দাবি জানান। পাশাপাশি অবিলম্বে কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবি করেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ, সিপিবির সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী।


কোটাবিরোধী আন্দোলন   ছাত্র আন্দোলন   ঢাকা   অবরোধ   ছাত্রলীগ   সংঘর্ষ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পরিস্থিতি কি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ১৫ জুলাই, ২০২৪


Thumbnail

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী রাজাকারদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু বক্তব্য রেখেছেন। কোটা সংক্রান্ত বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কটাক্ষ অবমাননার বিরুদ্ধেও সোচ্চার কণ্ঠে কথা বলেন। আর তার জের ধরে শিবির নিয়ন্ত্রিত কোটা আন্দোলনকারীরা গতকাল রাতে একযোগে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে। এই বিক্ষোভ আজও অব্যাহত রয়েছে এবং এই বিক্ষোভের সঙ্গে আজ ছাত্রলীগ এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সহিংসতার খবরও পাওয়া গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। 

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন গোষ্ঠী আজ কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ভাবে অবস্থান ঘোষণা করেছে এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এর ফলে কোটা আন্দোলন একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের দিকে রূপ পরিগ্রহ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে কোটা আন্দোলনকারীদের অবস্থান একটি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে এই আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলন হিসেবে এখন চিহ্নিত করা হচ্ছে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ কোটা আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এখন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারা বলেছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের আন্দোলনে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু গত রাত থেকে কোটা আন্দোলনের নামে যা শুরু হয়েছে তা চরম ও বিশৃঙ্খল এবং হঠকারিতা। এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে অন্যত্র। 

এতদিন ধরে কোটা আন্দোলনের ব্যাপারে সরকার যে সহানুভূতি এবং নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে, তার ফলাফল কি অন্যরকম হতে যাচ্ছে? এটি কি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? কারণ ইতিমধ্যে শিবিরের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এবং বিএনপির অর্থপুষ্ট হয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সারা দেশে একটি সক্রিয় শক্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। আর এই নেটওয়ার্কের ফলে কোটা আন্দোলনকারীদের আন্দোলন ক্রমশ বেগবান হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে কতগুলো ভুল তথ্য এবং ভুল উপাত্ত দিয়ে প্রকারান্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান তৈরি করতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ এবং কোটা সম্পর্কে এক ধরনের নেতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়েছে। 

কোটা আন্দোলন সম্পর্কেও মানুষের মধ্যে নানা রকম ভ্রান্ত এবং বিভ্রান্তিকর ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় আছে। সারা ঢাকা শহরে তীব্র গ্যাসের সংকট, অর্থপাচার, দুর্নীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে। এর মধ্যে।শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলন বা সরকারকে চাপে ফেলার আন্দোলনে পর্যবর্ষিত করার চেষ্টা করছে। এখন যখন সারাদেশে কোটা আন্দোলনের একটি সংঘবদ্ধ অবস্থান তৈরি হয়েছে এবং দেশব্যাপী কোটা আন্দোলন নিয়ে একটি ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কোটা আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক যে শক্তি জোগানো সেটির ফলশ্রুতিতে কোটা আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে রূপ পরিগ্রহ করে কি না সেটি যেমন দেখার বিষয়, এর ফলে সরকারের জন্য বাড়তি কোন চাপ সৃষ্টি হয় কি না সেটি নিয়েও নানা রকম আলাপ আলোচনা হচ্ছে।


কোটা আন্দোলন   শিবির  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন