ইনসাইড বাংলাদেশ

মোংলা বন্দরের দুই সর্বোচ্চ সম্মাননা পেল বসুন্ধরা

প্রকাশ: ০৬:১২ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ দুই সম্মাননা পেল বসুন্ধরা গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা শিপিং লি. ও বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড।

 

বন্দরের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিগত বছরে সর্বোচ্চ বন্দর ব্যবহারকারীদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা দেওয়া হয়।



 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।


বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড ‘সর্বোচ্চ সাধারণ পণ্য আমদানিকারক ক্যাটাগরিতে এবং বসুন্ধরা শিপিং লিমিটেড ‘সর্বোচ্চ বন্দর মাশুল প্রদানকারী শিপিং এজেন্ট ও সর্বোচ্চ সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ অনায়নকারী শিপিং এজেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়।



বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে হিসাব বিভাগের প্রধান মো. রবিউল ইসলাম সম্মাননা ক্রেস্টগুলো গ্রহণ করেন। ক্রেস্টগুলো হাতে তুলে দেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।


বসুন্ধরা গ্রুপ   বসুন্ধরা শিপিং লি.   মোংলা বন্দর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শাহজালালের ভিসি কি সরে যাবেন?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তেজনা কিছুটা হলেও কমেছে। সাত দিন পর আজ শিক্ষার্থীরা অনশন ভঙ্গ করেছেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং তার স্ত্রী ইয়াসমিন হক গিয়ে এই অনশন ভঙ্গ করান। তবে শিক্ষার্থীরা বলেছেন যে, তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মোঃ জাফর ইকবাল বলেছেন যে, তোমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং তোমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য তোমাদের অনশন প্রত্যাহার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মোঃ জাফর ইকবালের আবেগঘন দৃশ্য পুরো জাতিকে আবেগ আপ্লুত করেছে। প্রশ্ন হল যে, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের কি এর মধ্য দিয়ে সমাধান ঘটল। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন মোটেও নয়। বরং এর মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের একটি সম্মানজনক বিদায়ের পথ উন্মুক্ত হল। যদি অনশনের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগে বাধ্য হতেন তাহলে এটি তার জন্য যেমন অসম্মানজনক হত তেমনি সরকারের জন্য এটি হতো একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি। সরকার এই বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে চেয়েছে। আর এই কারণে শেষ পর্যন্ত এই সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উদ্যোগের উপর নির্ভরশীল হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন সংকট নিরসনে রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। 

জাহাঙ্গীর কবির নানক বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন এবং পরবর্তীতে তারা মোঃ জাফর ইকবালকে অনুরোধ করেছেন তার বাসায় গিয়ে যে তিনি যেন শিক্ষার্থীদের কাছে যান এবং শিক্ষার্থীদের অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন। জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের নেতা অসীম কুমার উকিল এবং সুভাষ সিংহ রায় মোঃ জাফর ইকবাল স্যারের বাড়িতে যান এবং জাফর ইকবাল সিলেট যাওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের সাথে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হল যে, জাফর ইকবাল কেন সিলেটে যেতে রাজি হলেন এবং তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের কি কথা হয়েছিল। জাফর ইকবাল নিজেই বলেছেন যে, তার বাসায় এসেছিলেন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এবং তারা অনুরোধ করেছেন এবং তারা আশ্বস্ত করেছেন যে তারা শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সহানুভূতি দেখাবেন। মোঃ জাফর ইকবাল এটিও বলেছেন যে, আমি আশা করি যে, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন সেই কথা রাখবেন। কি কথা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে যে টিম বাসায় জাফর ইকবালের বাসায় গিয়েছিলেন তারা। এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কিছু বলেননি। তবে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই সংকট সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিভাবে বিদায় নিবেন তার একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করবেন খুব শিগ্রই সরকার। আর সেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে এই সংকটের সমাধান সম্ভব হবে। 

উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী সমাধানের কোনো পথ নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একজন উপাচার্যের যে সম্পর্ক থাকা উচিত ছিল সেই সম্পর্কে এখন অনেকটাই চিড় ধরেছে। আর একারণেই উপাচার্যের প্রস্থানে ভালো উপায়। এখন উপাচার্যের প্রস্থান কিভাবে হবে সেটি নিশ্চয়ই সরকার আলাপ-আলোচনা করেই নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ফরিদ উদ্দিন যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকছেন না এটি এখন মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে। এখন দেখার বিষয় যে কিভাবে তার প্রস্থান পথ তৈরি হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চিকিৎসা সহায়তাসহ সংবাদপত্র হকারদের পাশে থাকবে বসুন্ধরা

প্রকাশ: ০৭:৩০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

প্রচন্ড শীত কিংবা ঝড়-বৃষ্টি যা-ই থাকুক, প্রতিদিন সূর্যের আলো ফোটার আগেই জনগণের হাতে পৌঁছে যায় দেশের খবর। কিন্তু প্রতিনিয়ত যারা এই কাজ করেন তাদের খবর রাখে না কেউ। হাজারো কষ্টে কাউকে পাশে পান না তারা। বলছি পত্রিকার সেই নেপথ্যের নায়ক হকারদের কথা। বরাবরের মতো গণমাধ্যমের অন্তরালের এই নায়কদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। দুর্ঘটনা-অসুস্থতাসহ যেকোনো বিপদে সারাদেশের ১৫ হাজারের বেশি হকারের পাশে থাকবে বসুন্ধরা। এছাড়াও কোনো হকারের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে নগদ ১ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বসুন্ধরা গ্রুপের এই ঘোষণাকে যুগান্তকারী বলে মন্তব্য করেছেন সংবাদপত্র হকার্স, এজেন্ট ও সংবাদপত্র পরিবহন সমিতির নেতারা।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব ঘোষণা দেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর।

এর আগে সংবাদপত্র হকার্স, এজেন্ট ও পরিবহন সমিতির নেতারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা-বঞ্চনা ও দাবির কথা বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের কাছে তুলে ধরেন। এসময় ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ বহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, পত্র-পত্রিকা বিতরণকারী বহুমূখী সমবায় সমিতি লিমিটেড, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিবহন সমিতির নেতাদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। সংবাদপত্রের এজেন্ট এবং হকারসহ পত্রিকার সেবাকর্মীদের পাশে থাকার অঙ্গিকার করে বসুন্ধরা ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, চিকিৎসা সহায়তাসহ যেকোনো প্রয়োজনে সংবাদপত্রসেবী ও হকারদের পাশে থাকবে বসুন্ধরা গ্রুপ। এছাড়া কোনো পত্রিকাসেবী হকারের মৃত্যু হলে ওই পরিবারকে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে। যতদিন বসুন্ধরা গ্রুপ থাকবে ততোদিন এই অনুদান চলবে।

হকারদের উদ্দেশ্য বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকেই আমার পরিবারের সদস্যের মতো। হাজারো সমস্যা মোকাবেলা করে আপনারা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মানুষের হাতে পত্রিকা তুলে দেন। তাই যেকোনো প্রয়োজনে আপনাদের পাশে পাবেন আমাকেও।’

বসুন্ধরা এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের এই ঘোষণা শুনে আবেগাপ্লুত রাজধানীতে পত্রিকা বিক্রি করে জীবন চালানো আব্দুস সালাম, হানিফ মিয়া, মোহাম্মদ রফিক ও আবেদ আলী।

তারা বলেন, এতোদিন মনে হতো আমাদের কথা কেউ ভাবে না। এখন মনে হচ্ছে আমাদের জন্য কেউ একজন আছেন। আমাদের চিকিৎসা সহয়তাসহ বিপদে আপদে আমাদের পাশে থাকবে বসুন্ধরা গ্রুপ। আল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি ও তার পরিবারকে ভালো রাখুক। বসুন্ধরার এই উদ্যোগে হকাররা সবাই খুবই আনন্দিত।

বসুন্ধরা এমডির এই ঘোষণাকে যুগান্তকারী মন্তব্য করে ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এর আগে কেউ এভাবে হকারদের পাশে দাঁড়ায়নি। সায়েম সোবহান আনভীরের এই ঘোষণায় আজ ১৫ হাজারেরও বেশি হকারের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘এজেন্ট-হকারদের কাজের কোনো মূল্যায়ন নেই। কাজের সময় কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে, কিংবা অসুস্থ হলেও হকাররা কোনো সহায়তা পান না। শুধু তাই নয়, কর্মরত অবস্থায় কোনো হকার মারা গেলেও অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ায় না কেউ। তাই বসুন্ধরা গ্রপের এই ঘোষণায় সারাদেশের হকাররা খুবই আনন্দিত। এখন নিজেদের কাজ আরও ভালোভাবে করার সাহস ও প্রেরণা পাবেন হকাররা। তারা জেনে গেছেন কোনো বিপদ হলে তার পাশে থাকবে বসুন্ধরা।’

এসময় বসুন্ধরা গ্রুপের পাশের থাকার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিবহন সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন রিন্টু বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে হকারদের বিপদের বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা যেমন হকারদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তেমনি ভবিৎষতে হকাররাও বসুন্ধরার পাশে থাকবে সবসময়।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইষ্ট ওয়েষ্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ও বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ গোলাম ও সার্কুলেশন বিভাগের প্রধান বিল্লাল হোসেন মন্টু প্রমুখ।


বসুন্ধারা   সায়েম সোবহান আনভীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

র‍্যাব নিয়ে ষড়যন্ত্র: উৎসের সন্ধানে

প্রকাশ: ০৭:০১ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

সাম্প্রতিক সময়ে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের দৃশ্যমান উদ্দেশ্য হলো র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করা। আর এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এক ধরনের অমানবিক সরকার হিসেবে উপস্থাপন করা। প্রশ্ন হলো যে, হঠাৎ করেই র‍্যাবকে কেন টার্গেট করা হয়েছে? র‍্যাবের বিরুদ্ধে কেন বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার এবং মিথ্যাচার করা হচ্ছে? প্রথমেই ডিসেম্বর মাসে র‍্যাবর বর্তমান এবং প্রাক্তন সাত কর্মকর্তার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ট্রেজারি বেঞ্চের এই নিষেধাজ্ঞাপত্রে বলা হয়েছে যে, কক্সবাজারে একরাম চৌধুরী নামের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে বিচার বহির্ভূত হত্যার ব্যাপারটিতে তাদের সংশ্লিষ্ট থাকার জন্য তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর নিগ্রহ করার উদ্দেশ্যেই এইরকম বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যে ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারের দেওয়া অভিযোগ এনে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, ওই ব্যক্তি কোনো বিরোধীদলের নেতা নন। তিনি যুবলীগের একজন নেতা ছিলেন। এর পরপরই দেখা যায় যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১২টি সংগঠন জাতিসঙ্ঘে র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সেই  অভিযোগে বলা হয় র‍্যাবকে যেন জাতিসঙ্ঘের শান্তি মিশনে নিষিদ্ধ করা হয়। শান্তি মিশনে কোন ব্যক্তি থাকবে, না থাকবে সেটি জাতিসঙ্ঘ একটি নিজস্ব প্রক্রিয়ার মধ্যে দেয় এবং র‍্যাব একটি গোটা বাহিনী। র‍্যাবের কোনো ব্যক্তি কোনোরকম অপকর্ম বা অপরাধের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। সেটির জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের রীতি র‍্যাবের শৃংখলা বিধিতেই রয়েছে এবং র‍্যাব এধরনের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু একটি ব্যক্তির অপরাধের জন্য পুরো আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীকে নিষিদ্ধ করাটা কোনো যৌক্তিক বিষয় হতে পারেনা এবং এটি কখনোই একটি গ্রহণযোগ্য আবেদন হতে পারেনা। কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই আবেদনটি করেছে। 

এই আবেদনের রেশ কাটতে না কাটতেই ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের একজন সদস্য র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টে। এখন যদি আমরা দেখি যে হঠাৎ করে র‍্যাবের বিরুদ্ধে এরকম আন্তর্জাতিক প্রচারণা করা হচ্ছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদেরকে একটু গভীরে যেতে হবে। বাংলাদেশের এলিট এই ফোর্সটি গঠিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে। র‍্যাব গঠিত হওয়ার পর থেকেই বাহিনীটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কাছে র‍্যাব একটি আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। র‍্যাব যখন আইন-শৃংখলা রক্ষা করার জন্য কঠোরভাবে কাজ করে, তখন কার গাত্র দাহ হয়? আমরা যদি একটু উৎসের সন্ধানে যাই তাহলে লক্ষ্য করবো যে র‍্যাব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রিত দুটি পত্রিকা বিভিন্নভাবে র‍্যাবের বিরোধিতা করছে। র‍্যাবের ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে। এই দুটি পত্রিকার প্রতিবেদন ধরে দেশীয় কিছু এনজিও র‍্যাবের বিরুদ্ধে প্রতিবছর বিভিন্ন রকমের প্রতিবেদন, রিপোর্ট ইত্যাদি প্রকাশ করে। আর এই প্রতিবেদনগুলোই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পাঠানো হয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাব আলোচিত ছিল দুটি কারণে। প্রথমত, জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে র‍্যাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দ্বিতীয়ত, মাদক নিয়ন্ত্রণে র‍্যাবের সাহসী ভূমিকা। আর এই দুটির সঙ্গে যারা যুক্ত তারাই মূলধারার জনপ্রিয় কিছু গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে র‍্যাব সম্পর্কে ক্রমাগতভাবে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির একটা নিরন্তর অপপ্রচার চালিয়েছে এবং যে অপপ্রচারগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা এখন দৃশ্যমান। মূলত যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী যারা জানে যে র‍্যাব থাকা মানেই জঙ্গীবাদমুক্ত বাংলাদেশ, র‍্যাব থাকা মানেই সন্ত্রাসবাদমুক্ত বাংলাদেশ, তারাই র‍্যাবের বিরুদ্ধে এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পিত প্রচারণায় অংশ নিয়েছে কিনা, সেটি খুঁজে দেখা দরকার।

র‍্যাব   আইন শৃঙ্খলা বাহিনী   পুলিশ   জাতিসংঘ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

একজন জাফর ইকবাল স্যার

প্রকাশ: ০৬:০৭ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

একজন শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক কি হওয়া উচিত, তা হাতেনাতে দেখালেন অধ্যাপক মোঃ জাফর ইকবাল। অধ্যাপক মোঃ জাফর ইকবাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়েছেন বেশ কিছু দিন আগে। এখন তিনি একরকম অবসর জীবন যাপনই করছেন। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যে তার আত্মার সম্পর্ক, তার হৃদয়ের সম্পর্ক, তিনি তা আরেকবার প্রমাণ করলেন। ড. জাফর ইকবাল একজন মেধাবী এবং একজন উদ্ভাবনী চিন্তার মানুষ। তিনি চাইলেই বিদেশে অনেক দামী দামী, অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠানে অনেক বেশি বেতনে চাকরি করতে পারতেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং মানুষ গড়ার কারিগর এই মানুষটি অর্থলোভে বিদেশে বিত্তশালী হওয়ার মোহে সেখানে অবস্থান করেননি। তিনি দেশে এসেছেন। দেশে এসেও মোঃ জাফর ইকবালের সামনে অনেকগুলো পথ খোলা ছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে পারতেন। তিনি যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বেতনে চাকরি করতে পারতেন। কিন্তু এসব না করে, তিনি চলে গেলেন হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তখন কেবল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একেবারেই নতুন আনকোড়া। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তিনি যেন সন্তানের মতো লালন করলেন। আজকে যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইমেজ, সেই ইমেজের পেছনে অনেকখানি অবদান আছে এই অসামান্য মানুষটির। তিনি শিক্ষক হিসেবে নয়, ছাত্রদের একজন অভিভাবক হিসেবে কাজ করেছেন। আর এ কারণেই তিনি সবসময় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। শিক্ষার্থীরা তাকে বিশ্বাস করতো এবং তার উপর আস্থা রাখতো। 

প্রশ্ন হলো, মোঃ জাফর ইকবালের কি অভিনবত্ব আছে? কেন তিনি শিক্ষার্থীদের এত আপন করে নিতে পেরেছিলেন? এর উত্তর খুব সহজ। মোঃ জাফর ইকবাল শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে দেখেছেন। শিক্ষার্থীদের তিনি অভিভাবক হিসেবে দেখেছেন। তিনি এবং তার স্ত্রী দুইজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে শিক্ষকদের ভূমিকা কি হওয়া উচিত, সেটি বারবার দেখিয়েছেন। একারণেই শিক্ষার্থীরা তাকে বিশ্বাস করে এবং তাকে অভিভাবক হিসেবে মনে করে। আসলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক এটাই হওয়া উচিত। জাফর ইকবাল অবশ্যই একটি রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনাকে ধারণ করেন, লালন করেন এবং তিনি তার বিশ্বাস প্রকাশে কোনো রকম কার্পণ্য করেন না। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে, তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে, তিনি একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। এজন্য তার জীবনের উপর হুমকিও এসেছে। তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি তার আদর্শ থেকে দূরে থাকেননি। 

একদিকে তিনি যেমন আদর্শে অটল ছিলেন, অন্যদিকে শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে কেবল একজন শিক্ষক। তিনি শিক্ষকদের দলাদলি, কোন্দল ইত্যাদিতে কখনোই মনোযোগী হননি। সবসময় তিনি চেয়েছেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি পবিত্রভূমি, এখানে শিক্ষকদের একমাত্র কাজ হলো তার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষিত করে তোলা। এই কাজটি নিষ্ঠার সাথে পালন করলেই যে একজন শিক্ষক শ্রদ্ধার পাত্র হন, একজন শিক্ষকের কথায় শিক্ষার্থীরা সবকিছু করতে পারেন, তার প্রমাণ হলো আজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন বা অন্যান্য রাজনৈতিকপ্রবণ লেজুড় শিক্ষকরা কি মোঃ জাফর ইকবালের কাছ থেকে কিছু শিখবেন? যারা দলকানা হয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেন, যারা দলকানা হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে অমানবিক আচরণ করেন, যারা চাটুকারিতা করে শিক্ষার মান মর্যাদাকে ভুলন্ঠিত করেন, তাদের জন্য ড. জাফর ইকবাল একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। জাফর ইকবাল যে নতুন কিছু করছেন এটি না, যেকোনো শিক্ষকেরই এই কাজটি করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো আমাদের শিক্ষকেরা অধিকাংশই এই কাজের সাথে যুক্ত না। সেই কারণেই শিক্ষার্থীরা তাদের পদত্যাগ দাবি করে, তাদের কুশপুত্তলিকা জ্বালায়। যদি সত্যিকারের শিক্ষকের মতো কেউ শিক্ষক হন, তবে তিনি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা পাবেনই। একজন জাফর ইকবাল সেটি আবার প্রমাণ করলেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়   ছাত্র আন্দোলন   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

পাবনা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতার্তদের মাঝে এফডিএসআরের কম্বল, মাস্ক ও খাবার বিতরণ

প্রকাশ: ০৫:৫৫ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর) এর উদ্যোগে পাবনা জেলার মানিকহাট, রাঘবপুর, মাছপাড়া, বোনকোলা, ও উলাট গ্রামে দুই শতাধিক দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল, মাস্ক এবং খাবার বিতরণ করা হয়। 

আজ (২৬ জানুয়ারি) সকাল দশটায় এফডিএসআর পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। 

উক্ত অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেছে এফডিএসআর স্টুডেন্টস উইংয়ের রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং রংপুরের সদস্যবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটা মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় করেন এফডিএসআর স্টুডেন্টস উইংয়ের মডারেটর শাকিলা দিল আফরোজ মিষ্টি। 

আগের দিন যখন গ্রহীতাদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছিল, তখন থেকেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের এইসব শীতার্ত মানুষের মধ্যে সাড়া পড়ে গিয়েছিলো। সকালে অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিল। অনুষ্ঠানে প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বক্তারা মহৎ কর্মের জন্য এফডিএসআরকে ধন্যবাদ জানান। গণমানুষের স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারে এফডিএসআর গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলেও বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী সকল চিকিৎসকদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। 

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রিন্সিপাল মো. রাজা মিয়া ,হাই স্কুলের  শিক্ষক আব্দুর রউফ,  প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা শিরিন আক্তার,  স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা আব্দুল হানিফ প্রামাণিক, দাউদ শেখ, মজিদ খান, প্রমুখ । 

এফডিএসআর এবং এফডিএসআর স্টুডেন্টস উইংয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, আল ফয়সাল ইমন, মোঃ সোয়ায়েব হোসেন, মোঃ ফাহাদ, আনান ইসলাম, ডা. মো. মেহেদী হাসান, মো. সফল, মো. আরাফাত পারভেজ, মোছা: নাবিলা, এবং ডা.মো. অভি।

এফডিএসআর   শীত বস্ত্র   মাস্ক  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন