ইনসাইড ইকোনমি

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩:৪৫ পিএম, ০১ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

চলতি অর্থবছরে ২৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের লক্ষ্যমাত্রা বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ শনিবার (১ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বাংলাদেশকে ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ’ সম্পর্কিত চূড়ান্ত সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় স্মারক অনুষ্ঠানের প্রি-ইভেন্ট প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা বাড়ালাম। আমি যখন পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলাম সেসময় আমি নিজে স্টাডি করেছি। সেসময় আমাদের রেমিট্যান্স যা অর্জন করার কথা, আমরা ৪৯ শতাংশ অর্জন করতাম ফরমাল চ্যানেলে আর ইনফরমাল চ্যানেলে বাকিটা আসতো। আমি চিন্তা করলাম এটাকে ফরমাল চ্যানেলে আনলে আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং সবাই এটার বেনিফিটটা পাবে। সেই চিন্তা থেকে আমরা প্রথম ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করি।

তিনি বলেন, এরপর লক্ষ্য করলাম আমাদের যে উদ্দেশ্য সেটি সফল। আমাদের যে অ্যাভারেজ রেমিট্যান্স ছিল ১৪ শতাংশ, এই প্রণোদনা দেওয়ার পর প্রথম বছরে রেমিট্যান্স বেড়ে হলো ১৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর আমাদের রেমিট্যান্স আরও বেড়ে যায় এবং ২০২০-২১ সালে আমাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। এই অর্জন আমি মনে করি একদিকে আমরা সহজ করেছি এবং পাশাপাশি ২ শতাংশ প্রণোদনা কাজে লেগেছে। কারণ রেমিট্যান্স পাঠাতে একটি খরচ করতে হয় সেটি কাভার করতে পারছে। এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ বিলিয়ন ডলার। সেটা করতে গেলে আমরা দেখলাম যদি ইনসেনটিভ আরেকটু বাড়িয়ে দেই তাহলে বর্ধিত যে খরচ তারা সেটি কাভার করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এই রেমিট্যান্সটা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক এলাকায় কত বড় ভূমিকা রাখে সেটি অর্থনীতিবিদরা বুঝবেন এবং তারা আমার সঙ্গে একমত পোষণ করবেন যে, এটি অসাধারণ ভালো কাজ হয়েছে। আমরা একদিকে এটাকে সঠিক চ্যানেলে আনার চেষ্টা করছি, তাহলে জানতে পারি কতটা আসা উচিত আর কতটা পেলাম। যেটা পাচ্ছিলাম না সেটা ইনফরমাল চ্যানেলে চলে যাচ্ছিল। আমরা সেই চ্যানেলটাকে অনুৎসাহিত করবো এবং ফরমাল চ্যানেলেই পুরোটা অর্জন করতে চাই। সেজন্যই প্রণোদনা ২ শতাংশ ছিল সেখানে থেকে বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ করা হয়েছে, আজ থেকে এটি কার্যকর হবে। আশা করি এই অর্থবছরে ২৬ বিলিয়ন অর্জন হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন অসৎ ব্যবসায়ীরা ভিন্ন পথে টাকা পাচার করছেন এবং রেমিট্যান্স থেকে সেটা কাভার করা হচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ থেকে টাকা পাচার হয় এটা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। আপনাদের (মিডিয়া) থেকে তথ্য নিয়েই আমরা ব্যবস্থা করছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগেও কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে, অনেকেই জেলে আছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যেটি সম্ভব তা বাস্তবায়ন করছি। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কে দোষী বা নির্দোষ সেটি কীভাবে প্রমাণ করবো? আমার যে চিন্তা সেটি হলো এখন বিদেশে টাকা রাখলে কেউ সেই টাকার ওপর কোনো লাভ পাচ্ছে না বরং দেশে ব্যাংকে টাকা রাখলে লাভ দিতে হয়। এই টাকাগুলো আমাদের কষ্টার্জিত টাকা, আমাদের ভাইবোন যারা বিভিন্ন ব্যবসা ও পেশায় জড়িত তারাই এ অর্থটি পাঠায়। আমরা চাই এই অর্থ দেশের মানুষের কাজে আসুক। দেশের সরকারের কাছে আসুক। সরকার যদি এই অর্থটি সম্পর্কে জানতে পারে তাহলে সরকার অর্থবহভাবে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ইম্পোর্ট বাড়বে, ইম্পোর্ট বাড়া ভালো। ইম্পোর্ট বাড়লে এক্সপোর্টও বাড়বে। আমাদের এক্সপোর্টও বেড়েছে। আমরা যতই রপ্তানি করি তার সিংহ ভাগই ইম্পোর্ট খাতে চলে যায়। তবুও আমাদের এক্সপোর্ট বাড়াতে হবে, আমরা সেই কাজটি অব্যাহত রেখেছি। আমরা কয়েকটি খাতকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। এবং সেখানেও বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিয়ে থাকি। এগুলোর মূল কথাটা হলো একটু সাহায্য-সহযোগিতা করা। আমাদের উদ্দেশ্য হলো দেশের টাকা যারা যেখান থেকে অর্জন করুক দেশে আসুক। দেশে আনার জন্য যা যা বাস্তবায়ন করা দরকার আমরা করবো।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির ফলে লাভবান হচ্ছেন মুষ্টিমেয় লোক, এমন একটি প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা এসডিজি অর্জন কিংবা উন্নত বিশ্বের কাতারে গিয়ে সাসটেইন করতে পারবো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ থেকে আমাদের যে স্বীকৃতি দিয়েছে সেখানে কিন্তু এ ধরনের প্রশ্ন ছিল না। আমাদের ইকোনমিক যে ইনডেস্ক সেটি বিবেচনা করা হয়েছে এবং সেই বিবেচনায় আমাদের মাথাপিছু আয়সহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করেই আমাদের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য তারা বিবেচনা করেছে। আমি মনে করি, আমাদের কাঙিক্ষত লক্ষ্যপথেই আমরা আছি। আমাদের জাতির পিতার দেখানো পথে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন, সেই স্বপ্নের জায়গায়। আমরা জাতির কাছে কমিটেট ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করবো। সেটি করলে একটি ইক্যুয়িটেবল জাস্টিজ এনশিওর করে আমাদের অর্থনীতি আরেও কীভাবে বেগবান হতে পারে সেভাবে এগিয়ে যাবো। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের স্বপ্ন পূরণ করা, ২০৩১ সালে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত বিশ্বের কাতারে আমরা পৌঁছাবো। আমাদের স্বপ্ন হচ্ছে সেই সময় পৃথিবীর ২০টি উন্নত দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। এ অর্জন আমরা করবোই করবো।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বক্তব্য দেন।

অর্থমন্ত্রী   অর্থনীতি   রেমিট্যান্স  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট, দর্শনীয় স্থান বন্ধ

প্রকাশ: ০৮:১৭ এএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) সরকারি ছুটির দিন। আজ রাজধানীর কোনো কোনো এলাকার দোকানপাট, মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে।

বন্ধ থাকবে যেসব শপিং সেন্টার: আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠ বাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তানবাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শরিফ ম্যানশন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট।

যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ: বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজীরবাগ, দোলাইপার, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারী বাজার, চানখাঁরপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ।

যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ
সামরিক জাদুঘর: এটি বিজয় সরণিতে অবস্থিত। প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ।  

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, আগারগাঁও: বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির জন্য বন্ধ থাকে। শনি থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫ টাকা। এ ছাড়া শনি ও রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা যায়।

শিশু একাডেমি জাদুঘর: শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। রবিবার থেকে 

শিশু একাডেমি জাদুঘর   সামরিক জাদুঘর   গুলিস্তান হকার্স মার্কেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

জুয়েলারি শিল্প গার্মেন্টসকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে: বসুন্ধরা চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০৯:৫৯ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘আমাদের দেশে একটা গোল্ড ব্যাংক দরকার। দারুণ একটা আইকনিক চিন্তা থেকে এটা এসেছে। এটা ঠিক যে বাংলাদেশের যারা স্বর্ণকার বা স্বর্ণ শিল্পী যারা- তাদের হাতের কাজ অনেক সুন্দর। এক সময় মসলিন যেমন বিখ্যাত ছিল। সেদিন সংসদে এটাও আলোচনা হয়েছে যে- বাংলাদেশে যারা স্বর্ণের কাজ করে তাদের হাত অনেক সুন্দর। যা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও খ্যাতি লাভ করা সম্ভব। এই একটা শিল্পে সত্যিকারের ভ্যালু অ্যাডেড অনেক অনেক বেশি টাকা। অল্প একটু স্বর্ণ গেলেই তো লক্ষ লক্ষ টাকা। ভ্যালু অ্যাডেড জিনিস আছে এটাতে আমাদের নজর দেওয়া দরকার। অসংখ্য হাতের কাজ করা মানুষ রয়েছে। যারা শত শত বছর ধরে উত্তরাধিকার সূত্রে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। আমাদের ভালো একটা স্কোপ রয়েছে।’

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায়  রাজধানীর  বসুন্ধরা  সিটি  শপিং  কমপ্লেক্সের  লেভেল  ১৯-এ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দেশ বরেণ্য শিল্প উদ্যোক্তা ও দেশের  শীর্ষ  শিল্প পরিবার বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। সভাপতিত্ব করেন বাজুস প্রেসিডেন্ট ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর।  সঞ্চালনা  করেন  বাজুস  সাধারণ  সম্পাদক  দিলিপ কুমার  আগারওয়ালা।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আরও বলেন, ‘দেশের জুয়েলারি  ব্যবসায়ীদের  হাতের  কাজের  মাধ্যমে  বাংলাদেশের  সুনাম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যাবে। আমি বিশ্বাস করি আপনাদের যোগ্যতা-পরমপরতা দিয়ে সফল হবো। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা  করি। কাজের  মাধ্যমে  বিশ্বব্যাপী আপনাদের  মুখ  উজ্জ্বল  হোক। বাজুস প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর একটা কথা বলেছেন- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা বসতে পারছি না। কিন্তু কাগজপত্র আমরা যেকোনো ভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাতে পারি। তারপরে যখন সময় হবে, সুদিন ফিরবে সবাই সবার সামনে বসতে পারবো তখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসবো। বললেই তিনি রাজি হয়ে যাবেন।’

ওই অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির আমলে প্রথম গোল্ড রিফাইনারির অনুমোদন পেয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে যুগান্তকারী সৃষ্টি। টিপু মুনশির মত একজন ব্যবসায়ী বাণিজ্যমন্ত্রী না হলে, কারও মাথায় আসতো না যে দেশে একটি গোল্ড রিফাইনারি দরকার। আমি মনে করি দেশের ঘরে ঘরে রিফাইনারি হবে। বাংলাদেশের স্বর্ণ শিল্পীরা পৃথিবীর মধ্যে বিখ্যাত। পুরো ভারতবর্ষে  বাংলাদেশের স্বর্ণ শিল্পীরা কাজ করেন। আমাদের জুয়েলারি শিল্প দিয়ে গার্মেন্টস শিল্পকে ছাড়িয়ে যেতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র চীন ও ইউরোপে এক্সপোর্ট করি, আমাদের টাকা রাখার জায়গা থাকবে না। গার্মেন্টসের দাম কম, স্বর্ণের প্রচুর দাম। এটার ভ্যালু অ্যাডিশন প্রচুর। কিছু কিছু স্বর্ণের ভ্যালু অ্যাডিশন ৩০, ৪০ ও ৫০ শতাংশ। যেখানে আমাদের গার্মেন্টেসের ভ্যালু অ্যাডিশন ৫,৭ ও ৮ শতাংশ।’

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে রিফাইনারি প্রতিষ্ঠার পর এখন থেকে রপ্তানি করেন। সবার ঘরে ঘরে ইন্ডাস্ট্রি করেন। আগামীতে বাংলাদেশ গর্ব করে বলতে পারবে পৃথিবীর বাংলাদেশেও একটি গোল্ড রিফাইনারি আছে। ইটস এ প্রেস্ট্রিজ। আমি মনে করি গোল্ড রিফাইনারি যুগান্তকারী।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বলছে বাংলাদেশে গোল্ড একচেঞ্জ দরকার, গোল্ড ব্যাংক দরকার। আমি নিশ্চিত বাণিজ্যমন্ত্রীসহ জুয়েলার্স মালিকরা যখন বলবেন, তখন প্রধানমন্ত্রী এক সেকেন্ডও দেরি করবেন না। হবে না কেন সবকিছুর ব্যাংক রয়েছে। গোল্ড ব্যাংক কেন হবে না। গোল্ড একচেঞ্জ কেন হবে না। আপনারা শুধু প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করেন।’

বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ‘আমরা জুয়েলারি সেক্টরে আরও উন্নতি করতে চাই। আমি বাণিজ্যমন্ত্রী এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। জুয়েলারি শিল্পে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি যৌথ মিটিং দেওয়ার অনুরোধ  করছি। প্রধানমন্ত্রী এবং বাণিজ্য মন্ত্রী থাকলে জুয়েলারি ভাইদের যত সমস্যা আছে বসে সমাধান করতে পারবো। সমস্যা শুধু একটা নয়, সমস্যা অনেকগুলো। একটা সময় মানুষ স্বর্ণ বন্ধক রেখে ঋণ নিতে পারতো। ১৯৮০ সাল থেকে এই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি মনে করি এটার জন্য ভালো একটা পলিসি দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো বাজুসের মাধ্যমে একটি গোল্ড ব্যাংক বা গোল্ড একচেঞ্জ পলিসি করা হোক। আজকে  পেপার-পত্রিকা খুললেই দেখা  যায়  স্বর্ণ  চোরাচালান ও পাচার  হচ্ছে।  এগুলো আসলে কতটুকু সত্য। সত্যটা হয়তো আমরা আসলেই লুকিয়ে গেছি। লুকিয়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে পরিকল্পিত কোন নির্দেশনা  নাই আমাদের। তো নির্দেশনার জন্য একটি ইনস্টিটিউট দরকার। যেখানে ডেইলি দাম নির্ধারণ হবে। গোল্ড ব্যাংক দরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা দরকার। অর্থমন্ত্রণালয়ের সহায়তা দরকার। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ না করলে এই সেক্টরের উন্নতি করা সম্ভব নয়।’

সায়েম সোবহান আনভীর আরও বলেন, ‘এই সেক্টরের উন্নতির জন্য আমাদের জুয়েলারি ভাইদের কাছে আমি অনুরোধ করবো। আপনারা সবাই আস্তে আস্তে জুয়েলারি ফ্যাক্টরির দিকে নজর দেন। সবাই ট্রেডিং করেছেন এখন ইন্ডাস্ট্রি করার সময় এসেছে। আমরা শুধু আমদানি করবো কেন রপ্তানির দিকে যেতে হবে। আমি যখন ভারতে গেলাম সেখানে প্রচুর বাঙালি ওয়ার্কার দেখলাম। তারা আমাকে বলল স্যার বাংলাদেশে একটা ফ্যাক্টরি করেন। যেখানে আমরা এসে কাজ করতে পারি। কারণ কেউ বিদেশে গিয়ে কাজ করতে চায় না, যদি বাংলাদেশে কাজ থাকে। আমরা আশা করবো আপনারা সবাই একটা একটা করে ইন্ডাস্ট্রি করার পরিকল্পনা করেন। আমদানির চিন্তা না করে রপ্তানি করে  দেশকে সমৃদ্ধশালী করেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে শক্তিশালী করেন।’

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ আগারওয়ালা বলেন, ‘বাজুসের প্রধান কার্যালয়টি ছিলো ৫০০ বর্গফুটের। আজ তার আয়তন ১০ হাজার বর্গফুট। এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীরের কল্যাণে। আমাদের বিশ্বাস উনার নেতৃত্বেই বাজুস অনেকদূর এগিয়ে যাবে।’

বসুন্ধরা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ব্যাংকিংখাতে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে ওমিক্রন

প্রকাশ: ০৯:০৪ এএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ হঠাৎ তীব্রতর হওয়ায় দেশের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া বিরূপ প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে ব্যাংক ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে দেওয়া চিঠিতে এসব কথা লিখেছেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। 

তিনি বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ধাক্কা ওমিক্রনের নেতিবাচক প্রভাব ব্যাংকিং খাতসহ পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

পত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, চলমান কভিড পরিস্থিতিতে দেশের বিরাজমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর সারা দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে এফবিসিসিআই। সভায় ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, কভিড পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলে এখনো অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পত্রে এফবিসিসিআই বলেছে, কভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ হঠাৎ তীব্রতর হওয়ায় দেশের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরকার ইতোমধ্যে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অর্ধেক জনবল নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে কভিড পুনরায় বিস্তার লাভ করায় লকডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃত খেলাপি গ্রাহকে পরিণত হবে, যা ব্যাংকিং খাতসহ পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ সমস্যা উত্তরণে সারা দেশের চেম্বারের নেতারা ঋণ বিরূপমানে শ্রেণীকরণ প্রক্রিয়া আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখার দাবি করেছেন। এফবিসিসিআই পত্রে বিষয়টি উল্লেখ করে জানায়, দেশের বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ব্যবসায়ী নেতাদের দাবির প্রতি সহমত পোষণ করেছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান কভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের অর্থনীতির স্বার্থে বিনা শর্তে ঋণ বিরূপমানে শ্রেণীকরণ প্রক্রিয়া আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশ ব্যাংক বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সচল রাখতে সক্রিয় সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসবে। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার পর এখন ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণে আবারও ব্যবসা বাণিজ্যে নাজুক পরিস্থিত তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ীর ঋণের কিস্তি দেওয়ার সক্ষমতা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক সময় না বাড়ালে ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই খেলাপি হবেন, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, মহামারিকালীন মন্দা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি-সহায়তা এখন আরও বেশি দরকার। মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। কিন্তু অন্যান্য প্রণোদনা তহবিলের অর্থ প্রায় শতভাগ ছাড় হলেও এসএমই প্রণোদনার বড় অংশ বিতরণ হয়নি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ছোট আকারের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর অনীহা আছে। 

করোনা   ভাইরাস   মহামারি   ব্যাংক   এফবিসিসিআই  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

করোনার কারণ দেখিয়ে হিসাব দিতে গড়িমসি ই-কমার্সের

প্রকাশ: ০৮:৪৮ এএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের টাকার হিসাব দিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো গড়িমসি করছে। অনলাইনে লেনদেনের পুরো হিসাব থাকলেও গড়িমসি করেই যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই মধ্যে দুই দফা সময় বেঁধে দেওয়ার পরও পুরো টাকার হিসাব দেয়নি কিউকম ও ফস্টার। 

প্রতিষ্ঠান দুটি করোনা মহামারির কারণ দেখিয়ে বলছে, সরকারের বিধিনিষেধের কারণে পুরোপুরি দাফতরিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না তারা। এ কারণে গ্রাহকের টাকার হিসাবও মেলাতে পারছে না।

অপরদিকে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের টাকা মামলার কারণে আটকে আছে। ধামাকা, আলাদিনের প্রদীপ নামে ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর কোনো অফিসই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই অফিসহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ৫০০ কোটি টাকার বেশি পাওনা থাকলেও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম ও পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টার করপোরেশন একটি আংশিক হিসাব দিয়ে বলেছে, তারা আপাতত ৫৯ কোটি টাকা ফেরত দিতে পারবে। মোট ৬ হাজার ৭২১টি লেনদেনের বিপরীতে তারা এ অর্থ পরিশোধ করবে। দুই দফা সময় বেঁধে দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠান দুটি গ্রাহকের টাকার সম্পূর্ণ হিসাব সরকারকে দেয়নি। এখন ওই আংশিক হিসাব  থেকেই ২০ জন গ্রাহক বাছাই করে আজ (সোমবার) থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কিউকম ও ফস্টার- এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অর্থের হিসাব দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরে আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়। এখন প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে তারা পুরোপুরি অফিস খুলতে পারছেন না। এ কারণে টাকার হিসাব দিতে আরও সময় চেয়েছেন। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, কিউকমের একমাত্র পেমেন্ট  গেটওয়ে অপারেটর ফস্টার পেমেন্ট। চলতি বছরের জুনের আগ পর্যন্ত কিউকম এবং ফস্টারের মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ  লেনদেন হয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠান দুটির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৯ কোটি টাকার হিসাব পেয়েছে সরকার। এর আগে গত অক্টোবরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ই-কমার্স খাতের কারিগরি কমিটি জানিয়েছিল বর্তমান পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর কাছে গ্রাহকদের প্রায় ২১৪ কোটি টাকা আটকে আছে। 

ইভ্যালি কেলেঙ্কারির পর গত জুলাই থেকে সব লেনদেন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে করার নির্দেশনা দেয় সরকার। ফলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্ডার দিয়েও পণ্য পায়নি এমন গ্রাহকদের মোট পাওনা হিসাব করা হয় ২১৪ কোটি টাকা। এই টাকা দুই মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে বলে ওই সময় জানিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তবে জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত পেমেন্ট গেটওয়ে ছাড়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গ্রাহকের পাওনার পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। এর মধ্যে ইঅরেঞ্জের কাছে ১ লাখ গ্রাহকের পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত বছরের জুলাইয়ে ইভ্যালি তার সম্পদ বিবরণীতে মোট দায় ও মূলধন দেখিয়েছিল ৫৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দায় দেখানো হয় ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা মামলা করায় এর টাকা এখনই ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রধান এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা চলমান, সেগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকের অর্থ ফেরতের সুযোগ নেই। সে কারণে মামলা নেই এমন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে আপসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে কিউকম ও ফস্টারের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ ২০ জন গ্রাহক প্রথম অর্থ ফেরত পাবেন। এ ছাড়া আলিশা মার্ট, ধামাকা, আলাদিনের প্রদীপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের টাকার পরিমাণ সম্পর্কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা জানান, অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মালিক পলাতক রয়েছেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অফিসও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব মালিকের অফিস খোলা তারা আবার করোনার কারণ দেখিয়ে বলছেন, তাদের হিসাব করার মতো লোকজন নেই। সফিকুজ্জামান বলেন, আমরা পলাতক মালিকদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জুমে মিটিংও হয়েছে। তারা টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

ই-কমার্স  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

যতটা ভয় পাচ্ছি, ততটা ভয়াবহ কিছু হবে না: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৩:৪৯ পিএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধের মধ্যে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি আছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা যতটা ভয় পাচ্ছি, ততটা ভয়াবহ কিছু হবে না।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে কী ধরনের চাপ আসতে পারে এবং প্রস্তুতি কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবসময় আমাদের সোশ্যাল সেফটিনেট বিস্তৃত, আমরা সবসময় সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। এজন্য আমরা মনে করি যতটা ভয় পাচ্ছি, ততটা ভয়াবহ কিছু হবে না। আমরা আগে যেভাবে মোকাবিলা করেছি, সেভাবে মোকাবিলা করতে পারবো।

এফবিসিসিআইয়ের অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা প্রণোদনা ঠিকমতো পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা যেসব প্রণোদনা দিয়েছি, এগুলো যাদের জন্য তারা অবশ্যই পাবে। যদি ডিলে (বিলম্ব) হয়ে থাকে তাহলেও সেটাও বাতিল হয়ে যাবে না। কারণ বাতিলের কোনো ব্যবস্থা নেই। যে শর্তসাপেক্ষে আমরা দিয়েছি সেই শর্ত পূরণ করলে তারা সেটি পেয়ে যাবে। আমি মনে করি এখানে ভুল বোঝাবুঝি আছে, হয়তো কোনো কারণ থাকতে পারে। আমি আবারও বলবো, যদি এমন কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে এগুলো আমাকে দিলে আরও দেখতে পারবো এবং আপনাদের ভালোভাবে জবাব দিতে পারবো।

আ হ ম মুস্তফা কামাল   অর্থমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন