ইনসাইড ইকোনমি

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: ২০২২-২৩ অর্থবছরে গোটা বিশ্বকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৮:৫১ পিএম, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

করোনার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি আরও কমবে। তবে এই সময়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ হবে বিশ্বসেরা। বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও অগ্রগতি ধরে রাখবে বাংলাদেশ। ২০২১–২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরে শুধু ভারত বাংলাদেশকে পেছনে ফেললেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে গোটা বিশ্বকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন থেকে বিশ্বব্যাংক এর প্রকাশিত গ্লোবাল আউটলুক এ এসব তথ্য জানানো হয়। প্রকাশিত আউটলুকে নতুন বছরের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকির কথাও বলেছে বিশ্বব্যাংক।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনা সংকটের কারণেই এমন বৈশ্বিক মন্দা। করোনার প্রকোপ কমাতে লকডাউন দেওয়া হয়, ফলে সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকে না। এতে করে শিল্প কারখানায় ব্যাপক ক্ষতিসহ অনেক মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন। উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতি বাধার সম্মুখীন হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল এবং আরও ভঙ্গুর হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। অনেক দেশে ভ্যাকসিনেশন অগ্রগতির মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এসবের ফলে বাড়ছে করোনা সংকট। যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

উন্নত দেশেও প্রবৃদ্ধি অর্জনে মন্দা: ২০২১–২২ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। ইউরোপেও বিপর্যয় হবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক থেকে। চলতি অর্থবছরে ইউরোপের দেশগুলো প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ শতাংশ। এর পরের অর্থবছরে হবে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির হার কমবে জাপানেও। মূলত ওমিক্রনের কারণেই এমন শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে গ্লোবাল আউটলুকে। ২০২১–২২ অর্থবছরে জাপানের প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার হবে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধি অর্জনে উন্নয়নশীল দেশেও বিপর্যয়: ওমিক্রনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে। এই বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে বাংলাদেশের আশেপাশে ভারত ছাড়া কোনো দেশ নেই। প্রবৃদ্দি অর্জনে চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ নানা দেশকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

পূর্ব এশিয়ায় চীন সেরা: তবে করোনা সংকটেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২২ সালে যা প্রাক্কলন করা হয় ৫ দশমিক ১ শতাংশ। তবে এই অঞ্চলে চীন সেরা প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। চলতি অর্থবছরে ইন্দোনেশিয়া ৫ দশমিক ২ ও পরের বছর ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্দি অর্জন করবে। চলতি অর্থবছরে থাইল্যান্ড ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পরের বছর ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

ইউরোপের সেরা পোল্যান্ড: চলতি অর্থবছরে ইউরোপের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে হবে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনে ইউরোপের সেরা হবে পোল্যান্ড। চলতি অর্থবছরে পোল্যান্ডের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে হবে মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে তুরস্ক ২ শতাংশ ও পরের বছর ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

ল্যাটিন আমেরিকায় মন্দের ভালো মেক্সিকো: ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো চলতি বছরের ২ দশমিক ৬ এবং পরের বছর ২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। দেশগুলোতে মন্দের ভালো মেক্সিকো। চলতি অর্থবছরে দেশটি ৩ শতাংশ এবং পরের বছর ২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ২০২১–২২ অর্থবছরে ব্রাজিলের প্রবৃদ্ধির হার হবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে আর্জেন্টিনা ২ দশমিক ৬ ও পরবর্তী অর্থবছরে ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সেরা মিশর: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চলতি অর্থবছরে ৪ দশমিক ৪ ও পরের অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। একই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার বেশি হবে মিশরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, পরের বছরেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে দেশটি। চলতি অর্থবছরে সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ইরানের প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

সাব-সাহারান আফ্রিকা: চলতি অর্থবছরে এই অঞ্চলে গড় প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এসব অঞ্চলে নাইজেরিয়া সেরা, দেশটি ২ দশমিক ৫ ও ২ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ১ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধির হার কমবে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে: এই অঞ্চলে ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার কমে হবে ৬ শতাংশ। অথচ ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। গ্লোবাল আউটলুকে দেখা গেছে ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতের অর্জন হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, পরের বছরের অর্জন হতে পারে ৪ শতাংশ। ফলে ২০২৩ সালে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ বাংলাদেশ হবে বলে বিশ্বব্যাংক গ্লোবাল আউটলুক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশ: ০৭:৪৬ পিএম, ২০ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

প্রথমবারের মতো ব্যাংকারদের জন্য সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে চাকরি থেকে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের মার্চ থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একনিষ্ঠতা, নৈতিকতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা অটুট রাখার লক্ষ্যে তাদের যথাযথ বেতন-ভাতা দেওয়া আবশ্যক। তবে সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে যে, কতিপয় ব্যাংক-কোম্পানির এন্ট্রি লেভেলের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা যথাযথভাবে নির্ধারণ না করে ইচ্ছামাফিক নির্ধারণ করা হচ্ছে। যা একই ব্যাংকের অন্য উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বেতন-ভাতার তুলনায় খুবই কম। উচ্চ এবং নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির মধ্যে এত অস্বাভাবিক ব্যবধান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার বা ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার বা ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশ অফিসার অথবা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা, যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, ব্যাংকের এন্ট্রি লেভেলে এরূপ নিযুক্ত কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে ন্যূনতম বেতন-ভাতাদি হবে ২৮ হাজার টাকা।

শিক্ষানবিশকাল শেষে কর্মকর্তাদের প্রারম্ভিক মূল বেতনসহ ন্যূনতম সর্বমোট বেতন-ভাতাদি হবে ৩৯ হাজার টাকা। নতুন নির্ধারিত বেতন-ভাতাদি কার্যকর করার পর একইপদে আগে থেকে কর্মরত কর্মকর্তার বেতন-ভাতাদি আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তার বেতন-ভাতাদির সঙ্গে ব্যাংকে সর্বনিম্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির পার্থক্য যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। অনুরূপভাবে সব স্তরের কর্মকর্তাদের জন্যও আনুপাতিকহারে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে।

কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি কোনো অবস্থাতেই বর্তমান বেতন-ভাতাদির চেয়ে কম হবে না। এরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইনক্রিমেন্ট দিয়ে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে। ব্যাংকের সার্ভিস রুলস অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্যান্য ভাতা ও সুযোগসুবিধা যথানিয়মে পাবেন।

ব্যাংক-কোম্পানি কর্তৃক নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্য আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনের শর্ত আরোপ করা যাবে না। কেবল নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে ব্যাংক-কোম্পানির কর্মকর্তাদের প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অনুরূপ অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচু্ত করা যাবে না। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা বা পদত্যাগে বাধ্য করা যাবে না।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, অফিস সহায়ক অথবা সমজাতীয় পদে বা সর্বনিম্ন যেকোনো পদে নিয়োগকৃত কর্মচারীদের ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন-ভাতাদি হবে ২৪ হাজার টাকা। কর্মচারীদের কাজ যদি চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিক ভিত্তিতে বা আউট সোর্সিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগকৃত কর্মচারীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়, সেক্ষেত্রে কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এরূপ কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে।

তবে ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন আউটলেটে নিযুক্ত ব্যাংকের এজেন্ট বা এজেন্টের মাধ্যমে নিযুক্ত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতাদি-পারিশ্রমিক চুক্তি নিজ নিজ এজেন্ট কর্তৃক নির্ধারিত হয় বিধায় তাদের ক্ষেত্রে ওপরে বর্ণিত এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।

রষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের বেতন কাঠামো সরকার কর্তৃক জারি করা জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভুক্ত বা অনুসরণে নির্ধারিত হওয়ায় উক্ত ব্যাংকসমূহের জন্য ওপরে বর্ণিত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।

বর্ণিত নির্দেশনাসমূহ পরিপালন নিশ্চিতকল্পে ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা নিজ নিজ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করে এসব নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকের এ সংক্রান্ত নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনবেন।

এতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনা বলবৎ থাকবে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫ এর উপ-ধারা (ঘ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হলো।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

জ্বালানি তেল ও বিটুমিনের মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা

প্রকাশ: ০৪:২৭ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

উদ্বেগ বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছাড়িয়ে গেল ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার, যা গত ৭ বছরে সর্বোচ্চ। বেড়েছে অন্যান্য অপরিশোধিত তেলের দামও। তবে নতুন বছরে টানা তিন সপ্তাহ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। এক মাসের ব্যবধানে এই তেলের মূল্যবৃদ্ধির হার অন্তত ২৩ শতাংশ। এতে দেশের বাজারে বিটুমিনের দাম ব্যারেলপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফের বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দামও। 

বছরের প্রথম সপ্তাহে ৫.১২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮১.৭৬ ডলারে উঠে আসে। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫.৭৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম দাঁড়ায় ৮৬.৪৭ ডলার। এক মাস আগে এই তেলের দাম ছিল ৭১.৫৭ ডলার। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৮৮.০৪ ডলার। মাসের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বাড়ল ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ডাব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এক দিনের ব্যবধানে প্রায় দেড় শতাংশ বেড়ে তা ছাড়িয়ে যায় ৮৫ ডলার।

উল্লেখ্য, দেশে বছরে বিটুমিনের মোট চাহিদা কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ লাখ টন। সরকারি পর্যায়ে উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন। চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে নিম্নমানের ভেজাল বিটুমিন আমদানি করে আসছিল। সেসব নিম্নমানের বিটুমিনে তৈরি সড়কগুলো ছয় মাসেই খানাখন্দে ভরে যায়। বাড়ে জনদুর্ভোগ এবং স্থায়িত্ব কমে সেসব সড়কে চলা যানবাহনেরও। আবার ক্ষতিগ্রস্ত সেই সড়কগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় উন্নতমানের বিটুমিনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে বিটুমিন উৎপাদনের প্লান্ট গড়ে উঠেছে।

গত এক বছরে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম গত বছর ঠিক এই সময়ে ছিল প্রতি ব্যারেল মাত্র ৫৫.৯০ ডলার। এক বছরের মাথায় তা বেড়ে ছাড়িয়ে গেছে ৮৮ ডলার। বিটুমিন উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রধান এই উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে বিটুমিনের বাজারে। এ ছাড়া ডিজেল, পেট্রলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলের ওপরও পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব।

জ্বালানী তেল   বিটুমিন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ভোজ্যতেলের দাম আপাতত বাড়ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০১:০০ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ভোজ্যতেলের দাম আপাতত বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আজ বুধবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছি একটু সময় দিতে। আমরা আগামী ৬ তারিখ মানে ১৬ দিন পর বসে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হলে বাড়াবে আর কমানোর প্রয়োজন হলে কমাব।

সবকিছু বিবেচনা করে যেটা সুবিধাজনক হয়, সেটি করা হবে বলেও এসময় জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

টিপু মুনশি বলেন, ভারতের বড় সুবিধা তাদের ডিউটি স্ট্রাকচার আমাদের চেয়ে কম। আমাদের যেখানে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ, সেখানে তারা ৫ শতাংশ দেয়। এসব বিবেচনা করে আমাদের দেখতে হবে। এজন্য আমি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেছি একটু সময় দিতে। আমরা আগামী ৬ তারিখ, মানে ১৬ দিন পর বসে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হলে বাড়াবো। কমানোর প্রয়োজন হলে কমাবো। সবকিছু বিবেচনা করে যেটা সুবিধাজনক হয় সেটি করা হবে।
 
উল্লেখ্য, এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার কথা উল্লেখ করে নতুন দাম কার্যকরের দাবি জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলো বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। পরে সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ট্যারিফ কমিশনে পাঠায় মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী   ভোজ্যতেল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

দেশে সর্বোচ্চ রেকর্ড ১৭ লাখ মেট্রিকটন চাল মজুদ আছে: খাদ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২:০৫ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

দেশে সর্বোচ্চ রেকর্ড ১৭ লাখ মেট্রিকটন চাল মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। 

আজ বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের চালের মজুত সর্বকালের সর্ববৃহৎ মজুত। সেটা মানসম্মত চালের মজুত। আশা করি মানুষ এই চাল নিয়ে খাবে।

তিনি বলেন, ওএমএস সারা বছরই চালু আছে। বৃহস্পতিবার থেকে ১,৭৬০ জন ডিলারের মাধ্যমে ‍উপজেলা পর্যায়ে খোলাবাজারে চাল বিক্রি হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই ওএমএস কার্যক্রম চলবে বলেও জানান সাধন চন্দ্র মজুমদার।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এ কার্য অধিবেশন হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।

খাদ্যমন্ত্রী   চাল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বাড়তে পারে গ্যাসের দাম

প্রকাশ: ১১:৩৫ এএম, ১৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

তেলের দাম বাড়ানোর পর এবার দাম বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের। এলএনজিতে ভর্তুকি সামাল দিতেই এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে এবং ইতোমধ্যে এ নিয়ে বিতরণকারী কম্পানিগুলো তোড়জোড় শুরু করেছে। এরই মধ্যে দুটি কম্পানি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহেই কোম্পানিগুলো প্রস্তাব জমা দেওয়া শুরু করতে পারে বলে সূত্রগুলো জানায়।

জানা গেছে, আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত প্রস্তাব এ সপ্তাহে জমা দিতে পারে গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলো। বিইআরসি বলছে, গত সপ্তাহে দু-একটি গ্যাস বিতরণ কম্পানি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তা বিধিসম্মত না হওয়ায় ফেরত পাঠানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্যাস বিতরণকারী বেশির ভাগ কম্পানি এরই মধ্যে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরির কাজ শেষ করেছে। চলতি সপ্তাহে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে যাবে।’

তবে গ্যাস বিতরণকারী কম্পানিগুলো কতটুকু দাম বাড়াতে চায় তার ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিইআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাব এলে প্রথমে তা কমিশনের বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি করে বর্ধিত দাম ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিতরণ এবং সঞ্চালন কম্পানির মার্জিন বৃদ্ধি করা হয়।

গত ২২ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির’ বৈঠকে অর্থ বিভাগ থেকে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওই সভায় বলা হয়, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম সমন্বয় বা বাড়ানো না হলে বাজেটে ভর্তুকি ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ বেড়ে যাবে। এরপর বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে নির্দেশনা পেয়ে গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলো প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করে।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় চলতি বছর সার, বিদ্যুৎ এবং গ্যাসে ৭০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি লাগবে। কিন্তু বাজেটে মাত্র সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি রাখা হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সংস্থানে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত বছরের জানুয়ারিতে প্রতি এমএমবিটিইউ (ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) বা প্রতি ইউনিট স্পট এলএনজির দাম গড়ে ১০ ডলার ছিল। বর্তমানে এটির দাম বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ ডলার হয়ে গেছে।

জ্বালানি বিভাগ চায় ভর্তুকি বাড়াতে। কিন্তু অর্থ বিভাগ জানিয়ে দিয়েছে, ভর্তুকি বাড়ানো সম্ভব নয়। বাজেট বরাদ্দ সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি করা সম্ভব নয়। নিজেদের তহবিল থেকেই সমন্বয় করতে হবে। সে কারণে দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় দেখছে না জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়ায় ভর্তুকি বাড়ছে। ভর্তুকি সামাল দিতে গিয়ে এখন গ্যাসের দাম বাড়াতে সরকার বাধ্য হচ্ছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়বে।’ তিনি মনে করেন, এখন গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও, যখন বিশ্ববাজারে কমে আসবে, তখন কমানো উচিত।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম বলেন, ‘কয়েক গুণ বেশি দামে এলএনজি আমদানি করছে সরকার। এ জন্য বড় ভর্তুকি যাচ্ছে গ্যাস আমদানিতে। সুতরাং গ্যাসের দাম কিছুটা হলেও বাড়াতে হবে। তবে গ্যাসের দাম বেশি বাড়ালে শিল্প-কারখানায় ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ, শিল্পের বড় একটি অংশ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতে চলে।’

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কম্পানি তিতাসের কর্মকর্তারা বলছেন, পেট্রোবাংলার নির্দেশনায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করেছেন তাঁরা। রবি-সোমবার (আজ-কাল) নাগাদ সেটি কমিশনে জমা দেওয়া হতে পারে।

গত ৩ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে সরকার। গ্যাসের দাম বাড়লে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন খরচও বাড়বে। সে হিসাবে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও দিতে পারে বিদ্যুৎ বিতরণকারী কম্পানিগুলো। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১ জুলাই গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল বিইআরসি।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন