ইনসাইড ইকোনমি

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: ২০২২-২৩ অর্থবছরে গোটা বিশ্বকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৮:৫১ পিএম, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: ২০২২-২৩ অর্থবছরে গোটা বিশ্বকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ

করোনার প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে এবং করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি আরও কমবে। তবে এই সময়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ হবে বিশ্বসেরা। বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও অগ্রগতি ধরে রাখবে বাংলাদেশ। ২০২১–২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরে শুধু ভারত বাংলাদেশকে পেছনে ফেললেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে গোটা বিশ্বকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন থেকে বিশ্বব্যাংক এর প্রকাশিত গ্লোবাল আউটলুক এ এসব তথ্য জানানো হয়। প্রকাশিত আউটলুকে নতুন বছরের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকির কথাও বলেছে বিশ্বব্যাংক।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনা সংকটের কারণেই এমন বৈশ্বিক মন্দা। করোনার প্রকোপ কমাতে লকডাউন দেওয়া হয়, ফলে সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকে না। এতে করে শিল্প কারখানায় ব্যাপক ক্ষতিসহ অনেক মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন। উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতি বাধার সম্মুখীন হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল এবং আরও ভঙ্গুর হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। অনেক দেশে ভ্যাকসিনেশন অগ্রগতির মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এসবের ফলে বাড়ছে করোনা সংকট। যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

উন্নত দেশেও প্রবৃদ্ধি অর্জনে মন্দা: ২০২১–২২ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। ইউরোপেও বিপর্যয় হবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক থেকে। চলতি অর্থবছরে ইউরোপের দেশগুলো প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ শতাংশ। এর পরের অর্থবছরে হবে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির হার কমবে জাপানেও। মূলত ওমিক্রনের কারণেই এমন শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে গ্লোবাল আউটলুকে। ২০২১–২২ অর্থবছরে জাপানের প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার হবে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধি অর্জনে উন্নয়নশীল দেশেও বিপর্যয়: ওমিক্রনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে। এই বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে বাংলাদেশের আশেপাশে ভারত ছাড়া কোনো দেশ নেই। প্রবৃদ্দি অর্জনে চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ নানা দেশকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।

পূর্ব এশিয়ায় চীন সেরা: তবে করোনা সংকটেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, ২০২২ সালে যা প্রাক্কলন করা হয় ৫ দশমিক ১ শতাংশ। তবে এই অঞ্চলে চীন সেরা প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। চলতি অর্থবছরে ইন্দোনেশিয়া ৫ দশমিক ২ ও পরের বছর ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্দি অর্জন করবে। চলতি অর্থবছরে থাইল্যান্ড ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পরের বছর ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

ইউরোপের সেরা পোল্যান্ড: চলতি অর্থবছরে ইউরোপের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে হবে মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনে ইউরোপের সেরা হবে পোল্যান্ড। চলতি অর্থবছরে পোল্যান্ডের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে হবে মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে তুরস্ক ২ শতাংশ ও পরের বছর ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

ল্যাটিন আমেরিকায় মন্দের ভালো মেক্সিকো: ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো চলতি বছরের ২ দশমিক ৬ এবং পরের বছর ২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। দেশগুলোতে মন্দের ভালো মেক্সিকো। চলতি অর্থবছরে দেশটি ৩ শতাংশ এবং পরের বছর ২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ২০২১–২২ অর্থবছরে ব্রাজিলের প্রবৃদ্ধির হার হবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। পরবর্তী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে আর্জেন্টিনা ২ দশমিক ৬ ও পরবর্তী অর্থবছরে ২ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সেরা মিশর: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চলতি অর্থবছরে ৪ দশমিক ৪ ও পরের অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। একই সময়ে প্রবৃদ্ধির হার বেশি হবে মিশরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, পরের বছরেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে দেশটি। চলতি অর্থবছরে সৌদি আরবের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ইরানের প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ২ দশমিক ২ শতাংশ।

সাব-সাহারান আফ্রিকা: চলতি অর্থবছরে এই অঞ্চলে গড় প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এসব অঞ্চলে নাইজেরিয়া সেরা, দেশটি ২ দশমিক ৫ ও ২ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ১ শতাংশ, পরবর্তী অর্থবছরে হবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধির হার কমবে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে: এই অঞ্চলে ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার কমে হবে ৬ শতাংশ। অথচ ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। গ্লোবাল আউটলুকে দেখা গেছে ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতের অর্জন হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, পরের বছরের অর্জন হতে পারে ৪ শতাংশ। ফলে ২০২৩ সালে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ বাংলাদেশ হবে বলে বিশ্বব্যাংক গ্লোবাল আউটলুক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশ্বব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

৬ ব্যাংকের এমডিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

প্রকাশ: ০৪:১৪ পিএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ৬ ব্যাংকের এমডিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ডলারের দাম বাড়ানোর পেছনে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় দেশি–বিদেশি ছয়টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

বুধবার (১৭ আগস্ট) এসব ব্যাংকের এমডি কাছে এ তলব নোটিশের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ব্যাংকগুলো হলো- ডাচ্–বাংলা, সাউথ ইস্ট, প্রাইম, দি সিটি, ব্র্যাক ও বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

এর আগে স্থানীয় ডলারের বাজার অস্থিতিশীল করে অতিরিক্ত মুনাফা করার অভিযোগে উল্লিখিত ব্যাংকগুলোর ট্রেজারিপ্রধানদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ছয় ব্যাংকের ডলার কারসাজিতে কারা জড়িত, সেটি জানাতে বলা হয়েছে চিটিতে। ব্যাখা তলবের পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডলারের দাম বাড়ানোর পেছনে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় গত ৮ আগস্ট ছয় ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডলার সংরক্ষণ করে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটানোর অভিযোাগে তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেছিলেন, যারা খোলাবাজারে ডলারের অবৈধ ব্যবসা করছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত পাঁচটি মানি এক্সচেঞ্জের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫ মানি এক্সচেঞ্জকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের পাশাপাশি আরও নয়টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স না নিয়েই ব্যবসা করে আসছিল।

সম্প্রতি খোলা বাজারে ডলারের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। গত ১০ আগস্ট খুচরা বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার পৌঁছে ১২০ টাকায়। রেকর্ড পরিমাণ দাম দিয়েও বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ডলারের জোগান না থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে এ সপ্তাহের শুরু থেকে খোলা বাজারে ডলারের দাম কমতে শুরু করে। ফলে বাজার চাঙ্গা করে বেশি দামে কেনা ডলারের মজুতকারীরা এখন লোকসানের আশঙ্কায়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বাজারে দাম কমেছে ডিমের

প্রকাশ: ০১:০৯ পিএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বাজারে দাম কমেছে ডিমের

জ্বলানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর থেকেই অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি ডিমের দাম ছিলো ঊর্ধ্বমুখী। তবে গতকাল (১৭ আগস্ট) 'দাম কমানোর স্বার্থে প্রয়োজনে ডিম আমদানি করা হবে' এমন মন্তব্যের পরে আজ (১৮ আগস্ট) বাজারে ডিমের দাম কমেছে। এই একদিনের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৬৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা কমে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি হালিতে ডিমের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায়, লাল ও সাদা ডিম প্রতি হালিতে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে। যা একদিন আগেই ছিলো ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। খুচরা বাজারে একদিনের ব্যবধানে প্রতি হালি ডিমের দাম কমেছে ৮ থেকে ১০ টাকা। তবে যারা ডজন কিংবা এক কেস ডিম কিনছেন তারা আরও কম দামে ১৪০ টাকায় কিনতে পারছেন।

দাম কমার কারণ জানতে চাইলে হাতিরপুলের এক দোকানি জানায়, আড়ত থেকে ডিম কম দামে কিনেছি। তাই কম দামেই বিক্রি করছি।
  
তিনি বলে, দাম বাড়ার পরে অনেকে ডিম কেনা কমিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন ১০ কেস ডিম বিক্রি হতো। এখন তার অর্ধেক বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েকদিন ৬০ টাকা হালি ডিম বিক্রি হচ্ছিল এখন ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।  

ডিম আমদানি করা হবে বলে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন ডিমের দাম কমানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানায়, আমরাও চাই ডিমের দাম কমাতে কিন্তু আমাদের উপায় নেই। ডিমের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি কমেছে। আমাদের ব্যবসাও কমেছে।

তবে বাজারে দেশি মুরগি কিংবা হাঁসের ডিমের দাম কমেনি। হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়।

ডিমের   দাম   কমলো  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

আগস্টের ১৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১১ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আগস্টের ১৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১১ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশে ডলার সংকটের উদ্বেগের মধ্যেই প্রশান্তির সুবাতাস নিয়ে আসছে রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। জুলাই মাসের পর আগস্টেও প্রবাসী আয় ঊর্ধ্বমুখী।

চলতি আগস্ট মাসের ১৬ দিনে ১১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) ১১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। এটি গত বছরের (২০২১ এর আগস্টের ১৬ দিন) একই সময়ের চেয়ে ১৬.৩০ শতাংশ বেশি। প্রতিদিন এসেছে ৭ কোটি ২৬ লাখ ডলার বা প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেভাবে রেমিট্যান্স আসছে এটা ইতিবাচক দিক। এ ধারা অব্যাহত থাকলে গত জুলাই মাসের মতো আগস্ট মাসেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসবে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। আর গত বছরের (২০২১) জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরের (চলতি মাস আগস্টের ১৬ দিন) প্রথম দেড় মাসে ৩২৮ কোটি ৮০ লাখ (৩.২৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা হিসাবে) এ অর্থের পরিমাণ ৩১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।

গত বছরের আগস্টের একই (১ থেকে ১৬ আগস্ট) সময়ে ১০০ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আর গত ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসে (২০২১ এর আগস্টের ১৬ দিন) ২৮৭ কোটি ৮০ লাখ (২.৮৮ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল দেশে। সে হিসাবে গত অর্থবছরের দেড় মাসের চেয়ে ১৩.৫০ শতাংশ বেশি এসেছে।

রেমিট্যান্স  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

কমলো স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ০৮:৫৮ পিএম, ১৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail কমলো স্বর্ণের দাম

বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে কমানো হয়েছে ২ হাজার ২৭৮ টাকা। ফলে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ৮২ হাজার ৫৬ টাকা। যা বুধবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত ছিল ৮৪ হাজার ৩৩১ টাকা।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ। 

এতে আরও বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম কমেছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে।

বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট থেকে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ কিনতে খরচ পড়বে ৮২ হাজার ৫৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৩২৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি পড়বে ৬৭ হাজার ১২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে  ৫৫ হাজার ২৮৭ টাকা।

তবে রূপার দাম আগের মতো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ১ হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রূপার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ৯৩৩ টাকায় অপরিবর্তিত আছে।


স্বর্ণ   দাম   বাজুস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ দেড় টাকা মুনাফা করতে পারবে মানি এক্সচেঞ্জ

প্রকাশ: ০৭:৫১ পিএম, ১৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail প্রতি ডলারে সর্বোচ্চ দেড় টাকা মুনাফা করতে পারবে মানি এক্সচেঞ্জ

মানি এক্সেচেঞ্জগুলোকেও ডলার কেনাবেচায় মুনাফার সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে মানি এক্সচেঞ্জ যে দামে ডলার কিনবে, তার চেয়ে ১ থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৫০ পয়সা বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে। এর আগে গত ১৪ আগস্ট বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল করতে ব্যাংকগুলোর জন্য ডলারের ক্রয়-বিক্রয় হারের মধ্যে ১ টাকার ব্যবধান বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশে ডলারের বাজার স্থিতিশীল করতে মানি এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনকে মুনাফার এ সীমার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) মানি এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল।

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সঙ্গে মিটিং করে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ব্যাংকগুলো যে দামে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বিল আনবে তার থেকে সর্বোচ্চ এক টাকা বেশিতে ডলার বিক্রি করবে। এ ব্যাপারে তারা নীতিগত একটা সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। 

'তেমনি মানি এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন সঙ্গে মিটিং করে একই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের গড় রেট থেকে তারা এক টাকা বাড়তি দামে ডলার কিনবে। পরবর্তী সময়ে বিক্রির ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো এক থেকে সর্বোচ্চ দেড় টাকা পর্যন্ত মুনাফা করতে পারবে।'

সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, 'বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করছে ২৩৫টি মানি চেঞ্জার। কিন্তু মার্কেটে ৭০০-র বেশি মানি চেঞ্জার রয়েছে। 

'বৈধ মানি চেঞ্জার কোনো অনিয়ম করলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। কিন্তু যারা অবৈধ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুরোধ করা হয়ছে। এ ব্যাপারে তারা অ্যাকশন নিচ্ছে। তাদের অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।'

ডলার   মুনাফা   মানি এক্সচেঞ্জ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন