ইনসাইড ইকোনমি

খোলা বাজারে ডলারের দাম ৪ টাকা বেড়ে ১০২ টাকা

প্রকাশ: ০৬:২৫ পিএম, ১৭ মে, ২০২২


Thumbnail খোলা বাজারে ডলারের দাম ৪ টাকা বেড়ে ১০২ টাকা

দেশের বাজারে ডলারের দামের ঊর্ধগতি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের মূল্য ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে যার গতকাল দর ছিল ৯৬ থেকে ৯৮ টাকা।

মঙ্গলবার (১৭ মে) রাজধানীর ব্যাংক পাড়া মতিঝিল, পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে, এক্সচেঞ্জ (মুদ্রা বিনিময়) হাউজগুলোতে আজ খুচরা ডলার ১০০ টাকা থেকে ১০২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এমন অস্বাভাবিক মূল্য ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্টদের। ডলারে দাম আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সাধারণ মানুষজন। কি কারণে এমন অস্বাভাবিক দাম? জানতে চাইলে সোজাসাপ্টা উত্তর- চাহিদা আছে, ডলার নেই।

একদিকে প্রচুর চাহিদা, অন্যদিকে ডলারের সল্পতা, অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ সোমবার (১৬ মে) ডলারের দর বেঁধে দিয়েছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু তাদের বেঁধে দেওয়া এ রেট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মানছে না। এখন ব্যাংকে এলসি করতে গেলে ডলারের বিপরীতে নেওয়া হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৩ টাকা। আবার কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকাও নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ব্যাপক হারে আমদানির চাপ বেড়েছে। ফলে আমদানির দায় পরিশোধে বাড়তি ডলার লাগছে। কিন্তু সেই তুলনায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়েনি। ফলে ব্যাংক-ব্যবস্থা ও খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দি‌য়ে‌ছে। যার কারণে টাকার বিপরীতে বাড়ছে ডলারের দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকগুলোর চাহিদার বিপরীতে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কিন্তু তারপরও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না ডলার।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে।

২০২১ সালের ৩ আগস্ট থেকে দু’এক পয়সা করে বাড়তে বাড়তে গত বছরের ২২ আগস্ট প্রথমবারের মতাে ৮৫ টাকা ছাড়ায় ডলারের দাম। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি এটি বেড়ে ৮৬ টাকা হয়। গত ২৩ মার্চ আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ৮৬ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়ায়। ২৭ এপ্রিল ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা, ১০ মে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা এবং গতকাল (১৬ মে) ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়ায় ডলারের মূল্য। যা এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। অর্থাৎ গত ৯ মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারে দর বেড়েছে দুই টাকা ৭০ পয়সা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ

প্রকাশ: ০৫:২৩ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

সোমবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। 

সার্কুলারে বলা হয়, করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য গঠিত ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের অব্যবহৃত স্থিতির ন্যূনতম ৪০ শতাংশ অর্থ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ হিসেবে দিতে বলা হয়েছে।   দেশের বন্যাকবলিত এলাকা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার পাশাপাশি দেশের উত্তররাঞ্চলে বন্যা কবলিত শেরপুর, জামালপুর, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত জেলাসমূহের জন্য এ ঋণ প্রযোজ্য হবে। 

গ্রাহক পর্যায়ে ৪ শতাংশ সুদহারে কৃষি ঋণ বিতরণের জন্য গঠিত ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের আওতায় বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যাংকসমূহ কর্তৃক তাদের অব্যবহৃত স্থিতির ন্যূনতম ৪০ শতাংশ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাসমূহে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বছর কৃষি খাতের জন্য নতুন করে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তহবিলের আওতায় কৃষক ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে পারবেন। 

করোনায় অর্থনৈতিক মন্দা থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম (দ্বিতীয় পর্যায়)’ নামে এ তহবিল গঠন করা হয়। এ প্যাকেজ থেকে ব্যাংকগুলো ১ শতাংশ সুদে তহবিল পাবে, আরও ৩ শতাংশ বাড়তি নিয়ে তারা ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

কাগজশিল্প ধ্বংসে মরিয়া আমদানিকারক চক্র

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail কাগজশিল্প ধ্বংসে মরিয়া আমদানিকারক চক্র

কাগজ উৎপাদনে দেশ অনেক আগেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও নানা অজুহাতে আমদানি থেমে নেই। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে দেশে অবাধে ঢুকছে আমদানিকৃত কাগজ। রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত আমদানি হওয়া কাগজ, বোর্ড, বস্ত্রসহ নানা পণ্য খোলাবাজারে দেদার বিক্রি হওয়ায় টিকতে পারছে না দেশীয় শিল্প। ৭০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা শিল্প খাতটিতে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে লোকসান গুনছেন উদ্যোক্তারা। ১০৬টি কাগজকলের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৭৯টির বেশি।

এমন প্রেক্ষাপটে কাগজ আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে আশঙ্কা করা হয়েছে, বন্ডের অপব্যবহার বন্ধ ও কাগজ আমদানিতে শুল্ক না বাড়ানো হলে দেশীয় কাগজশিল্প অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু ভুঁইফোড় ও স্বার্থান্বেষী আমদানিকারক এবং মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান দেশীয় মিল থেকে কাগজ সংগ্রহ না করে রেয়াতি শুল্কে কাগজ আমদানির পাঁয়তারা করছে। এ অপতৎপরতার একমাত্র উদ্দেশ্য অমিত সম্ভাবনাময় দেশীয় কাগজশিল্প ধ্বংস করা। যেখানে দেশীয় কাগজকলকে উৎপাদিত কাগজ বাজারজাতকরণের জন্য ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রদান করতে হয়, সেখানে রেয়াতি শুল্কে কাগজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে স্থানীয় ও আমদানিকৃত কাগজের মধ্যে তীব্র বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। তাই রেয়াতি শুল্কে কাগজ আমদানির প্রস্তাব বিবেচনা না করার জন্য আহবান জানিয়েছে পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০৬টি কাগজকলে ৩১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ছয় হাজার ১১২ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে। এ অবস্থায় দেশীয় কাগজশিল্পকে প্রায় বিনা শুল্কে আমদানিকৃত বিদেশি কাগজের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেওয়াটা এই শিল্পের জন্য হুমকি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমএ) মহাসচিব ও মাগুরা পেপার মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মহীউদ্দিন বলেন, ‘সব ধরনের কাগজ তৈরির সক্ষমতা আমাদের আছে। অতএব কোনো ধরনের কাগজ আমদানির প্রয়োজন নেই। বরং বাংলাদেশ থেকে ৪০টির বেশি দেশে কাগজ রপ্তানিও হচ্ছে। যেখানে রপ্তানি করার যোগ্যতা রাখে বাংলাদেশ, সেখানে আমদানি করা যথার্থ নয়। তাই দেশীয় শিল্পের বিকাশে আমদানি শুল্ক দু-তিন গুণ বাড়ানো উচিত।’

ভারতসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে এই শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশে আমদানিকৃত কাগজ থাকলেও খুব উচ্চ শুল্ক দিয়ে তা আমদানি করতে হয়। তাই আমাদের দেশেও একই নীতি গ্রহণ না করলে দেশীয় কাগজশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।’

কাগজশিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, আশির দশকে দেশীয় এ শিল্পের বিকাশ শুরু হলেও নব্বইয়ের দশকে বড় বড় শিল্প গ্ৰুপ এই খাতে বিনিয়োগে আসায় কাগজশিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। আমদানিনির্ভর এই খাতটি রপ্তানিতেও পা বাড়ায়। দেশের ১০৬টি কাগজকল স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে ৪০টির বেশি দেশে কাগজ রপ্তানি করছে। কাগজকলগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছে ১৫ লাখ মানুষ, পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। এ শিল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা। সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্বও পাচ্ছে এই শিল্প থেকে।

চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন: দেশের কাগজকলগুলো অফসেট, নিউজপ্রিন্ট, লেখা ও ছাপার কাগজ, প্যাকেজিং পেপার, ডুপ্লেক্স বোর্ড, মিডিয়া পেপার, লাইনার, স্টিকার পেপার, সিকিউরিটি পেপার ও বিভিন্ন গ্রেডের টিস্যু পেপার উৎপাদন করে। তবে উৎপাদিত পণ্যের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই লেখা এবং ছাপার কাগজ, যা শিক্ষার অন্যতম উপকরণ। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কাগজকলগুলোর। দেশে বিভিন্ন ধরনের কাগজের চাহিদা প্রায় ৯ লাখ টন। তবে দেশীয় কাগজকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। কাগজকলগুলোর মধ্যে ২০ থেকে ৩০টি মিল বড়। বাকিগুলো ছোট কারখানা। দেশের পেপার মার্কেটের আকার প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে মোট বাজারের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ লেখা ও ছাপার কাগজ পণ্য। আর অবশিষ্ট ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ অন্যান্য পণ্য।

বিপিএমএর তথ্য মতে, দেশের কাগজশিল্প খাতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যার সঙ্গে ৩০০ উপশিল্প তথা সহায়ক শিল্প যেমন মুদ্রণ, প্রকাশনা, কালি প্রস্তুত, ডেকোরেশন, প্যাকেজিং ও বাঁধাই শিল্প জড়িত। 

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার: দেশীয় কাগজশিল্প উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া স্বত্বেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে দেশে অবাধে ঢুকছে আমদানিকৃত কাগজ। প্রায় বিনা শুল্কে আনা এসব কাগজ খোলাবাজারে দেদার বিক্রি হওয়ায় দেশীয় কাগজশিল্প মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আমদানিকৃত কোটেড পেপার, গ্রাফিক পেপার, ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্ট কার্ড, মিডিয়া পেপার, শেলফ অ্যাডহেসিভ পেপারে রাজধানীর বাজার সয়লাব। যাদের সহায়তায় এসব কাগজ বিক্রি হচ্ছে, তাদের নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে অব্যাহত রাখা হচ্ছে এ বাণিজ্য। কাগজ আমদানির বেশির ভাগ বন্ড আবার ভুয়া। অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় কাগজ আমদানিকারকরা এত শক্তিশালী যে কয়েক দিন আগে পুরান ঢাকায় কাগজের মার্কেটে অভিযান চালাতে গেলে তাঁদের হাতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের নাজেহাল হতে হয়।

তাই দেশীয় কাগজশিল্পকে বাঁচাতে হলে আমদানিকৃত কাগজের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিপিএমএর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে পাঠ্যপুস্তকে ব্যবহারের জন্য দেশের কাগজকলগুলো গুণগত মানসম্পন্ন কাগজ সরবরাহ করে এসেছে। কাগজশিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প খাত। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কাগজশিল্প আমদানি বিকল্প, রপ্তানিমুখী ও পরিবেশবান্ধব শিল্প খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তাই রেয়াতি সুবিধায় কাগজ আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে আত্মঘাতী। বরং ডলার সংকটের এই সময়ে যেখানে আমদানি নিরুৎসাহ করা হচ্ছে, সেখানে আমদানির ওপর আরো শুল্ক আরোপ করতে হবে এবং আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, এরই মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প ও এর সহযোগী অন্যান্য শিল্পে বিনা শুল্কে বন্ড সুবিধার নামে কাঁচামাল হিসেবে কাগজ ও কাগজজাতীয় পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের দেওয়া বন্ড সুবিধা ব্যবহার করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী কারখানায় ব্যবহারের কথা বলে কাগজ ও কাগজজাতীয় পণ্য আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে সরকার প্রতিবছর বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে দেশীয় কাগজশিল্প অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে লোকসানে ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাবে। অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ‘তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিনা শুল্কে আমদানিকৃত কাগজজাতীয় পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করে এরই মধ্যে হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এর সঙ্গে বিনা শুল্কে পাঠ্যপুস্তকের জন্য ব্যবহৃত কাগজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে আর্থিক ক্ষতি আরো বাড়বে। দেশের কাগজশিল্প লোকসানে শেষ হয়ে যাবে।’

বাজেট প্রস্তাব: দেশীয় কাগজকলগুলোতে বর্তমানে আমদানি বিকল্প পণ্য সেলস কপি পেপার উৎপাদিত হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানো হতো। দেশের বাজারে থার্মাল পেপারের প্রচুর চাহিদা থাকায় এবং বর্তমান সরকারের উদার শিল্পনীতির সুযোগে এ যাবৎ আমদানিকৃত এই পণ্যের বিকল্প হিসেবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করছে। আমদানিকৃত শেলফ কপি পেপারের চেয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ভালো। এ ছাড়া এই উন্নত মানের কাগজ তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা কমছে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। বাজেটে কাগজশিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কাঁচামালের রাসায়নিকের আমদানি পর্যায়ে শুল্কহার হ্রাসের প্রস্তাব এবং আমদানিকৃত ফিনিশড পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপেরও দাবি করেছেন বিপিএমএর নেতারা। এ ছাড়া পরিবেশ সহায়ক শিল্পকে উৎসাহ দিতে মাইক্রো ক্যাপসুলের আমদানি পর্যায়ে কাস্টম ডিউটি (সিডি) ২৫ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

লিটারে ৬ টাকা কমলো সয়াবিন তেলের দাম

প্রকাশ: ০৬:৪৩ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail

দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। নতুন দাম অনুযায়ী বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম কমে হলো ১৯৯ টাকা।

রোববার (২৬ জুন) সংগঠনের নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন দাম অনুযায়ী, খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন ১৯৯ টাকা, পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামীকাল সোমবার থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, গত ৯ জুন বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।

মূল্যবৃদ্ধির পর সে সময় এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৮৫ টাকা। বোতলজাত এক লিটার সয়াবিনের সর্বোচ্চ খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয় ২০৫ টাকা। এছাড়া পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ঠিক করা হয় সর্বোচ্চ ৯৯৭ টাকা। এক লিটার খোলা পাম তেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৮ টাকায়।

সয়াবিন তেল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

দু-একদিনের মধ্যে কমবে ভোজ্যতেলের দাম: বাণিজ্যসচিব

প্রকাশ: ১২:৫০ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail দু-একদিনের মধ্যে কমবে ভোজ্যতেলের দাম: বাণিজ্যসচিব

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমায় আগামী দু-একদিনের মধ্যে দেশেও সেটি কমে আসবে।

রোববার (২৬ জুন) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দ্বাদশ মিনিস্টারিয়াল কনফারেন্স উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যসচিব বলেন, তেলের দামের ক্ষেত্রে আগামী দুই একদিনের মধ্যে একটা সুখবর আসতে পারে। আশা করছি, তেলের দাম কমবে। এখন সেই হিসাব-নিকাশ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ট্যারিফ কমিশন তেল রিফাইনারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে আমাদের জানাবে। তারপর আমরা জানাতে পারবো, কত টাকা কমবে। তবে বলা যায় যে, তেলের দাম কমবে।


ভোজ্যতেল   বাণিজ্যসচিব  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

‘বিশ্বের ২০৩ দেশে ৭৫১ পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ’

প্রকাশ: ০৯:২৬ পিএম, ২৩ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘বিশ্বের ২০৩ দেশে ৭৫১ পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ’

২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০৩টি দেশে ৭৫১টি পণ্য রপ্তানি করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি । এই রপ্তানির বিপরীতে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে এ কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের (জামালপুর-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ড ও বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে। আর জাপান, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে।

আরেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহম্মদ সিরাজের প্রশ্নে টিপু মুনশি জানান, বাংলাদেশের ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৫ হাজার ৩৬৭ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ৬১ হাজার ৬০৯ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আমদানির পরিমাণ ছিল। অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ১৬ হাজার ২৪২ দশমিক ০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো হলো নিটওয়্যার, ওভেন পোশাক, হিমায়িত মাছ, হিমায়িত চিংড়ি, হাঙ্গরের পাখনা, শুটকি মাছ, লবণযুক্ত মাছ, পশুর নাড়িভুঁড়ি, শাকসবজি, আলু, ফল, নারিকেল, সুপারি, শুকনা মরিচ, হলুদ, সরিষা, সয়াবিন-নারিকেল ও সরিষার তেল, তামাক, কফি বিনস, আদা, ধনিয়া, মধু, মসলা, চাল, শুকনা খাদ্য, বিস্কুট, জ্যাম, জেলি ও ফ্রুট জুস।

রপ্তানি করা আরও পণ্য হলো সস, চা, কাঁচাপাট, মাংস, কাঁকড়া, কনডেন্সড মিল্ক, মানুষের চুল, হাঁসের পালক, পশুর হাড়, শিং, খুর, তাজা ফুল, বাঁশের খুঁটি, চিনি, চিটা গুড়, মিনারেল ওয়াটার, হুইস্কি, কয়লা, সি শেল, ছোবড়া ও ছোবড়া জাত পণ্য, ঝিনুক, মুক্তা, ন্যাপথা, ফার্নেস ওয়েল, ফার্মাসিটিক্যালস, রাসায়নিক সার, পিভিসি পাইপ, পিডিসি ব্যাগ, পলিথিন সিট, প্লাস্টিক হ্যাম্পার, সিনথেটিক রোপস, প্লাস্টিকের বর্জ্য, সিমেন্ট, প্রসাধনী, সাবান, রাবার, মণ্ড, কাগজ, গ্লাস সিট, জিলোটিন, চামড়া, জুট ইয়ান, জুট টুয়াইন, জুট কারপেট, জুট ম্যানুফাকচারার্স, সিল্ক ফেব্রিক্স, কাঁচা তুলা, সুতি কাপড়ের বর্জ্য, কটন সূতা, পলিয়েস্টার ফ্রেড, অ্যাকরেলিক ইয়ার্ন, টেক্সটাইল ফেব্রিক্স, হস্তশিল্প, টেরি টাওয়েল, হোম টেক্সটাইল, পাদুকা (চামড়া), পাদুকা (পাট), পাদুকা (স্পোর্টস), সিরামিকের ইট, সিরামিক টাইলস, সিরামিক স্যানিটারি ওয়্যার ও সিরামিক টেবিল ওয়্যার।

এছাড়া এমএস রড, জিআই পাইপ, আয়রন চেইন, কাস্ট আয়রন আর্টিকেল, তামার তার, মেশিনারিজ, ইলেকট্রিক ফ্যান, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, ড্রাইসেল ব্যাটারি, টেলিফোন সেট, বৈদ্যুতিক তার, টেলিফোন ক্যাবলস, কার্বন রড, বাইসাইকেল, লাইট ফিটিংস, গাড়ির যন্ত্রাংশ, জিঙ্ক ওয়াল্ট, বিল্ডিং ম্যাটারিয়ালস, অডিও-ভিডিও ক্যাসেট, টেলিভিশন সেট, সার্কিট ব্রেকার্স/বোর্ড, ইনডিকেটর ল্যাম্প, কম্পিউটার সফটওয়্যার, সিগারেট, মোমবাতি, ফিচার ফিল্ম, মেলামাইন টেবিলওয়্যার, চামড়ার ব্যাগ ও পার্টস রপ্তানি করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রীর তথ্যমতে আরও যেসব পণ্য রপ্তানি হয়, চামড়ার তৈরি হার্ভ গ্লাবস, পার্টিকেল বোর্ড, করোগেটেড কার্টুন, কাঠের ফ্রেম, প্রিন্টেড পণ্য, স্টেশনারি সামগ্রী, জামদানি শাড়ি, কম্বল, বস্তা ও ব্যাগ, তাঁবু, মশারির কাপড়, টুপি, ছাতা, পরচুলা, প্রাকৃতিক পাথর, ছোট প্লাস, জুয়েলারি, অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি সামগ্রী, ব্লেড, স্টেলনেস স্টিলের তার, অ্যাকিউমুলেটর ব্যাটারি ও পার্টস, ফেরি বোট, ক্যামেরা পার্টস, দেওয়াল ঘড়ি, কাঠের আসবাবপত্র, খেলনা, গল সেফট, ঝাড়বাতি, টুথব্রাশ, জিপার, বলপেন, মিউজিক্যাল যন্ত্রাংশ, অ্যালুমিনিয়াম স্ট্রাকচার, উপহার সামগ্রী, চামড়ার তৈরি ফেব্রিক্স, হ্যান্ড গ্লাভস (রাবার) ও জাহাজের তৈরি যন্ত্রাংশ। এসময় মন্ত্রী বলেন, আম, পান, আলু ও শাকসবজিও প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি হচ্ছে।

সংসদ সদস্য মমতা হেনা লাভলীর প্রশ্নের জবাবে টিপু মুনশি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর প্রভাব পড়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এ যুদ্ধের কারণে আমদানি নির্ভর পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারেও দেখা যাচ্ছে ঊর্ধ্বগতি।

তিনি জানান, সরকার নিত্যপণ্যের দাম ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে রাখার জন্য নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশে তিন হাজার ডিলারের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

রপ্তানি   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন