ইনসাইড ইকোনমি

৯২.৮০ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশ: ০৯:১১ পিএম, ১৪ Jun, ২০২২


Thumbnail ৯২.৮০ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে ডলারের সংকট বেড়েই চলছে, দিন দিন বাড়ছে দাম। ডলারের বিপরীতে পতন হচ্ছে টাকার মানের। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৮০ পয়সা দরে।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে এই মূল্য দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক আজ সরকারি আমদানি বিল মেটাতে এই দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এটাই ডলারের আনুষ্ঠানিক দর। এক‌দিন আগেও প্রতি ডলা‌র বিক্রি করা হয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সায়। আর গত মাসের শুরুর দিকে এ দর ছিল ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সায়। এ হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে টাকার মান কমল ৬ টাকা ৩৫ পয়সা।
 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে প্রতি ডলার ৯২ টাকা ৮০ পয়সা দরে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। ডলার বিক্রির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় (রিজার্ভ) ৪১ দশমিক ৪৪ বিলিয়নে নেমে এসেছে।
 
বিভিন্ন ব্যাংক ও কার্ব মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ ব্যাংকগুলো আমদানি বিলের জন্য নিচ্ছে ৯৩ থেকে ৯৫ টাকা, নগদ ডলার বিক্রি করছে ৯৬ থেকে ৯৭ টাকা আর ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার বিক্রি হয় ৯৭ থেকে ৯৮ টাকা।

এর আগে, দেশে বেশি বেশি রেমিট্যান্স আনতে গত ২ জুন ডলারের দামের সীমা তুলে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্যাংকগুলো নিজেরাই ডলারের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। ওই সময় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ছিল ৮৯ টাকা। এরপর কয়েক দফায় মার্কিন এ মুদ্রাটির দাম বেড়ে ৩ টাকা ৮০ পয়সা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে বড় ধরনের আমদানি ব্যয় পরিশোধ করতে গিয়ে ডলার সংকট শুরু হয়। যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

পণ্য রপ্তানিতে ৫ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৯:১৮ পিএম, ০৩ Jul, ২০২২


Thumbnail পণ্য রপ্তানিতে ৫ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলকে বাংলাদেশ

দেশের পণ্য রপ্তানি অবশেষে ৫ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলকে পৌঁছাল। সব মিলিয়ে বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ হাজার ২০৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা দেশীয় মুদ্রায় ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকার সমান। এই আয় ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল করোনা। তার ওপর যুক্ত হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৮৫৮ কোটি ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করে রেকর্ড করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা।

রোববার (৩ জুলাই) রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ তথ্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত জুনে ৪৯০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের জুন থেকে ৩৭ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে তৈরি পোশাক ছাড়াও হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপক্রিয়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে ১০০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগে কোনো অর্থবছরে একসঙ্গে ৫টি খাতের রপ্তানি শতকোটি ডলার ছাড়ায়নি। যদিও পণ্য রপ্তানির সিংহভাগই বরাবরের মতো তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে ৪ হাজার ২৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা ২০২০–২১ অর্থবছরের চেয়ে ৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। এটিও এক অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানি। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।

ইপিবির তথ্যানুসারে, বিদায়ী অর্থবছরে ১৬২ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল, ১২৫ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ১১৬ কোটি ডলারের কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ১১৩ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

শুক্র ও শনিবার কিছু এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

প্রকাশ: ০১:১৯ পিএম, ০৩ Jul, ২০২২


Thumbnail শুক্র ও শনিবার কিছু এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

আসন্ন ঈদুল আজহার আগে পোশাক কারখানায় কর্মতর শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য পোশাকশিল্প এলাকায় আগামী ৮ ও ৯ জুলাই খোলা থাকবে ব্যাংক।

রোববার (০৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব সাইট সুপারভিশন থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি বিল বিক্রি এবং কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট শাখায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ৮ ও ৯ জুলাই পূর্ণদিবস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। ওই দুদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। তবে ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে উল্লিখিত এলাকার বাইরে অবস্থিত কোনো ব্যাংকের শাখার ওপর চেক দেওয়া যাবে না।

এছাড়া ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটে জাল নোট শনাক্ত করতে ব্যাংকগুলোকে বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যবসায়ীদের বিনা খরচে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুন) থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকরা যেন ভোগান্তি ছাড়াই নতুন টাকার নোট সংগ্রহ করতে পারেন সেই লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের ৪০টি শাখা থেকে এ টাকা ছাড় করা হচ্ছে। তবে একই ব্যক্তি একবারের বেশি নতুন টাকার নোট নিতে পারবেন না।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা অঞ্চলের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের শাখায় বিশেষ ব্যবস্থায় ১০, ২০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের নতুন নোট বিনিময় করা হবে। এক ব্যক্তির একাধিকবার নোট তোলার সুযোগ না থাকলেও চাইলে তিনি কাউন্টার থেকে যেকোনো পরিমাণ ধাতব মুদ্রা নিতে পারবেন। এটিএম বুথ থেকেও গ্রাহকরা নতুন টাকা পাবেন।

ঈদুল আজহা   শিল্প এলাকা   খোলা   ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে চাল ও সবজির, কমেছে মুরগির

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ০১ Jul, ২০২২


Thumbnail

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে দাম বেড়েছে চাল ও সবজির। এই সময় দাম কমেছে মুরগির। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সম্প্রতি বন্যায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার সব ধরনের শাক-সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর ফলে রাজধানীতে বিভিন্ন জেলা থেকে আগের তুলনায় কম আসছে শাক-সবজি। এ কারণে গত কয়েক দিনে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে চালের বাজারও কিছুটা বাড়তি।

শুক্রবার (০১ জুলাই) সকালে রাজধানীর মিরপুরের ১ নম্বর বড় বাজার, মিরপুর রায়েনখোলা বাজার ও পল্লবী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

বাজার বেশ কিছু সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা। একই সঙ্গে পেঁয়াজ ও আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে চালের দাম স্থিতিশীল ছিল পাইকারি ও খুচরা বাজারে। কিন্তু এ সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে দু-তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে মুরগি ও রসুনের দাম কিছুটা কমেছে। 

বাজারে শাক-সবজির সরবরাহ কমায় প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে এসবের  দাম বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে বেগুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, টমেটো ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটোল ও কাঁকরোল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, চায়না গাজর ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৬০ টাকা, চালকুমড়া প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। পেঁয়াজ কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুরের ১ নম্বর বড় বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রবিউল আওয়াল বলেন, ‘বন্যার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি এখন কারওয়ান বাজারে কম আসছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজি কম থাকায় দাম কিছু বেড়েছে। ’

বাজারে চালের সরবরাহ বাড়াতে এবং স্থিতিশীলতা আনতে আগামী চার মাসের জন্য চাল আমদানির ওপর শুল্ক কমিয়েছে সরকার। তার পরও বাড়ছে চালের দাম। অন্যদিকে বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় পেঁয়াজ আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দাম প্রতি কেজিতে দু-তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে এখন মোটা চাল (স্বর্ণা ও আটাশ) সরবরাহ কম থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে, যার কারণে সামনে মোটা চালের দাম আরো বাড়তে পারে। মোটা চাল স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ টাকায় আর আটাশ চাল ৫৪-৫৫ টাকায়। চিকন চাল (মিনিকেট) প্রতি কেজি ৬৪ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ’

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও রসুনের দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। দেশি রসুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন মানভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ডালের দাম। মোটা ডাল প্রতি কেজি ১১৫ টাকা আর চিকন ডাল দেশি ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।   

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সরবরাহ কমায় মাছের দামও কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। 

এছাড়াও সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৫৫ টাকায়।

চাল   সবজি   মুরগি   বাজার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পাস

প্রকাশ: ০৯:৩৮ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail

মহামারি করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবলা করে চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পাস করা হয়েছে। গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন’ শ্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ১৩ জন সংসদ সদস্য মোট ৬৬৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং জননিরাপত্তা বিভাগ ৪টি মঞ্জুরী দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, রুস্তম আলী ফরাজী, পনির উদ্দিন আহমেদ, মজিবুল হক, রওশন আরা মান্নান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন, রুমীন ফারহানা, গণফোরামের মোক্কাবির খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২২ পাসের মাধ্যমে ২০২২- ২৩ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।
এর আগে গতকাল ২৯ জুন সংসদে অর্থ বিল ২০২২ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আর্থিক ও কর প্রস্তাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুমোদন করা হয়।

এদিকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ  দেয়া  হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর বহির্ভূত ১৮ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতিত প্রাপ্তি ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫.৫ শতাংশ। ২০২১-২২অর্থ বছরের বাজেটে ঘাটতি ছিল জিডিপির ৬.২ শতাংশ।

এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা আহরণ করা হবে। বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ঋণ পরিশোধ খাতে ১৭ হাজার কোটি রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা  হয়েছে।

বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫.৬  শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭.০৫ শতাংশ; এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ৮৬০ কোটি টাকা বা ২৯.৬২ শতাংশ; যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৮৬ হাজার ৭৯৮ কোটি; যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৭৯ হাজার ২৬ কোটি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২২.৫৯ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭.৮৪ শতাংশ; সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১.৮৫ শতাংশ; নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ৭ হাজার ৪১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১.০৪ শতাংশ।

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

সূত্র: বাসস

বাজেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

প্রকাশ: ০৪:২৩ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতি (মনিটরি পলিসি স্টেটমেন্ট) ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থ সরবরাহ ক‌মি‌য়ে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানার চেষ্টায় এই নীতি ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্প‌তিবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে নতুন এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির। অনুষ্ঠানে উপ‌স্থিত ছি‌লেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, হেড অব বিএফআইইউ ও নির্বাহী পরিচালকরা।  

করোনার কারণে গত দুই বছর আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া শুধু ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতি প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করলেও গত দুই অর্থবছর ধরে তা এক বছরের জন্য করা হচ্ছে। এবারও মুদ্রানীতি এক বছরের জন্য ঘোষণা করেছেন গভর্নর ফজলে কবির। এটি বর্তমান গভর্নরের মেয়াদের শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হ‌য়ে‌ছে।

নতুন অর্থবছরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। ত‌বে মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু উপকরণ ব্যবহার ছাড়া তেমন কোনো করণীয় নেই। যে কয়েকটি উপকরণ রয়েছে, তার অন্যতম প্রধান হলো টাকার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা। অর্থাৎ বেসরকারি খাতে কম হারে ঋণ দেওয়া। এজন্য আগামী অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে কমিয়ে আনা হয়ে‌ছে।

মুদ্রানীতি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন