ইনসাইড ইকোনমি

কাগজশিল্প ধ্বংসে মরিয়া আমদানিকারক চক্র

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৬ জুন, ২০২২


Thumbnail কাগজশিল্প ধ্বংসে মরিয়া আমদানিকারক চক্র

কাগজ উৎপাদনে দেশ অনেক আগেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও নানা অজুহাতে আমদানি থেমে নেই। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে দেশে অবাধে ঢুকছে আমদানিকৃত কাগজ। রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত আমদানি হওয়া কাগজ, বোর্ড, বস্ত্রসহ নানা পণ্য খোলাবাজারে দেদার বিক্রি হওয়ায় টিকতে পারছে না দেশীয় শিল্প। ৭০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা শিল্প খাতটিতে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে লোকসান গুনছেন উদ্যোক্তারা। ১০৬টি কাগজকলের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৭৯টির বেশি।

এমন প্রেক্ষাপটে কাগজ আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে আশঙ্কা করা হয়েছে, বন্ডের অপব্যবহার বন্ধ ও কাগজ আমদানিতে শুল্ক না বাড়ানো হলে দেশীয় কাগজশিল্প অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু ভুঁইফোড় ও স্বার্থান্বেষী আমদানিকারক এবং মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান দেশীয় মিল থেকে কাগজ সংগ্রহ না করে রেয়াতি শুল্কে কাগজ আমদানির পাঁয়তারা করছে। এ অপতৎপরতার একমাত্র উদ্দেশ্য অমিত সম্ভাবনাময় দেশীয় কাগজশিল্প ধ্বংস করা। যেখানে দেশীয় কাগজকলকে উৎপাদিত কাগজ বাজারজাতকরণের জন্য ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রদান করতে হয়, সেখানে রেয়াতি শুল্কে কাগজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে স্থানীয় ও আমদানিকৃত কাগজের মধ্যে তীব্র বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। তাই রেয়াতি শুল্কে কাগজ আমদানির প্রস্তাব বিবেচনা না করার জন্য আহবান জানিয়েছে পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০৬টি কাগজকলে ৩১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ছয় হাজার ১১২ কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে। এ অবস্থায় দেশীয় কাগজশিল্পকে প্রায় বিনা শুল্কে আমদানিকৃত বিদেশি কাগজের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেওয়াটা এই শিল্পের জন্য হুমকি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমএ) মহাসচিব ও মাগুরা পেপার মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মহীউদ্দিন বলেন, ‘সব ধরনের কাগজ তৈরির সক্ষমতা আমাদের আছে। অতএব কোনো ধরনের কাগজ আমদানির প্রয়োজন নেই। বরং বাংলাদেশ থেকে ৪০টির বেশি দেশে কাগজ রপ্তানিও হচ্ছে। যেখানে রপ্তানি করার যোগ্যতা রাখে বাংলাদেশ, সেখানে আমদানি করা যথার্থ নয়। তাই দেশীয় শিল্পের বিকাশে আমদানি শুল্ক দু-তিন গুণ বাড়ানো উচিত।’

ভারতসহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে এই শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশে আমদানিকৃত কাগজ থাকলেও খুব উচ্চ শুল্ক দিয়ে তা আমদানি করতে হয়। তাই আমাদের দেশেও একই নীতি গ্রহণ না করলে দেশীয় কাগজশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।’

কাগজশিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, আশির দশকে দেশীয় এ শিল্পের বিকাশ শুরু হলেও নব্বইয়ের দশকে বড় বড় শিল্প গ্ৰুপ এই খাতে বিনিয়োগে আসায় কাগজশিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। আমদানিনির্ভর এই খাতটি রপ্তানিতেও পা বাড়ায়। দেশের ১০৬টি কাগজকল স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে ৪০টির বেশি দেশে কাগজ রপ্তানি করছে। কাগজকলগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছে ১৫ লাখ মানুষ, পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। এ শিল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা। সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্বও পাচ্ছে এই শিল্প থেকে।

চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন: দেশের কাগজকলগুলো অফসেট, নিউজপ্রিন্ট, লেখা ও ছাপার কাগজ, প্যাকেজিং পেপার, ডুপ্লেক্স বোর্ড, মিডিয়া পেপার, লাইনার, স্টিকার পেপার, সিকিউরিটি পেপার ও বিভিন্ন গ্রেডের টিস্যু পেপার উৎপাদন করে। তবে উৎপাদিত পণ্যের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই লেখা এবং ছাপার কাগজ, যা শিক্ষার অন্যতম উপকরণ। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কাগজকলগুলোর। দেশে বিভিন্ন ধরনের কাগজের চাহিদা প্রায় ৯ লাখ টন। তবে দেশীয় কাগজকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। কাগজকলগুলোর মধ্যে ২০ থেকে ৩০টি মিল বড়। বাকিগুলো ছোট কারখানা। দেশের পেপার মার্কেটের আকার প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে মোট বাজারের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ লেখা ও ছাপার কাগজ পণ্য। আর অবশিষ্ট ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ অন্যান্য পণ্য।

বিপিএমএর তথ্য মতে, দেশের কাগজশিল্প খাতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকা, যার সঙ্গে ৩০০ উপশিল্প তথা সহায়ক শিল্প যেমন মুদ্রণ, প্রকাশনা, কালি প্রস্তুত, ডেকোরেশন, প্যাকেজিং ও বাঁধাই শিল্প জড়িত। 

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার: দেশীয় কাগজশিল্প উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া স্বত্বেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে দেশে অবাধে ঢুকছে আমদানিকৃত কাগজ। প্রায় বিনা শুল্কে আনা এসব কাগজ খোলাবাজারে দেদার বিক্রি হওয়ায় দেশীয় কাগজশিল্প মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আমদানিকৃত কোটেড পেপার, গ্রাফিক পেপার, ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্ট কার্ড, মিডিয়া পেপার, শেলফ অ্যাডহেসিভ পেপারে রাজধানীর বাজার সয়লাব। যাদের সহায়তায় এসব কাগজ বিক্রি হচ্ছে, তাদের নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে অব্যাহত রাখা হচ্ছে এ বাণিজ্য। কাগজ আমদানির বেশির ভাগ বন্ড আবার ভুয়া। অসাধু কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় কাগজ আমদানিকারকরা এত শক্তিশালী যে কয়েক দিন আগে পুরান ঢাকায় কাগজের মার্কেটে অভিযান চালাতে গেলে তাঁদের হাতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের নাজেহাল হতে হয়।

তাই দেশীয় কাগজশিল্পকে বাঁচাতে হলে আমদানিকৃত কাগজের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিপিএমএর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে পাঠ্যপুস্তকে ব্যবহারের জন্য দেশের কাগজকলগুলো গুণগত মানসম্পন্ন কাগজ সরবরাহ করে এসেছে। কাগজশিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্প খাত। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কাগজশিল্প আমদানি বিকল্প, রপ্তানিমুখী ও পরিবেশবান্ধব শিল্প খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তাই রেয়াতি সুবিধায় কাগজ আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে আত্মঘাতী। বরং ডলার সংকটের এই সময়ে যেখানে আমদানি নিরুৎসাহ করা হচ্ছে, সেখানে আমদানির ওপর আরো শুল্ক আরোপ করতে হবে এবং আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, এরই মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্প ও এর সহযোগী অন্যান্য শিল্পে বিনা শুল্কে বন্ড সুবিধার নামে কাঁচামাল হিসেবে কাগজ ও কাগজজাতীয় পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের দেওয়া বন্ড সুবিধা ব্যবহার করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী কারখানায় ব্যবহারের কথা বলে কাগজ ও কাগজজাতীয় পণ্য আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে সরকার প্রতিবছর বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে দেশীয় কাগজশিল্প অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে লোকসানে ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাবে। অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ‘তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিনা শুল্কে আমদানিকৃত কাগজজাতীয় পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করে এরই মধ্যে হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এর সঙ্গে বিনা শুল্কে পাঠ্যপুস্তকের জন্য ব্যবহৃত কাগজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে আর্থিক ক্ষতি আরো বাড়বে। দেশের কাগজশিল্প লোকসানে শেষ হয়ে যাবে।’

বাজেট প্রস্তাব: দেশীয় কাগজকলগুলোতে বর্তমানে আমদানি বিকল্প পণ্য সেলস কপি পেপার উৎপাদিত হচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানো হতো। দেশের বাজারে থার্মাল পেপারের প্রচুর চাহিদা থাকায় এবং বর্তমান সরকারের উদার শিল্পনীতির সুযোগে এ যাবৎ আমদানিকৃত এই পণ্যের বিকল্প হিসেবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করছে। আমদানিকৃত শেলফ কপি পেপারের চেয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ভালো। এ ছাড়া এই উন্নত মানের কাগজ তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা কমছে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। বাজেটে কাগজশিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কাঁচামালের রাসায়নিকের আমদানি পর্যায়ে শুল্কহার হ্রাসের প্রস্তাব এবং আমদানিকৃত ফিনিশড পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপেরও দাবি করেছেন বিপিএমএর নেতারা। এ ছাড়া পরিবেশ সহায়ক শিল্পকে উৎসাহ দিতে মাইক্রো ক্যাপসুলের আমদানি পর্যায়ে কাস্টম ডিউটি (সিডি) ২৫ শতাংশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হলো ছয়টি নতুন প্রকল্প

প্রকাশ: ০১:০৭ পিএম, ১৬ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হলো ছয়টি নতুন প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বরেন্দ্র এলাকায় পানি সংরক্ষণসহ ছয় প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এক হাজার ৬২৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে ৮৭৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

এমএ মান্নান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সংকটের কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। এজন্য পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে— 

সোনাপুর-কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ (বসুরহাট-দাগনভুইয়া) আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৭ কোটি টাকা। গল্পামারী-বটিয়াঘাটা-দাকোপ-নলিয়ান ফরেস্ট সড়কের ২৮তম কিলোমিটারে চুনকুড়ি নদীর উপর চুনকুড়ি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৮ কোটি টাকা। কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু হকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বিসিক মুদ্রণ শিল্প নগরী প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বরেন্দ্র এলাকায় খালে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মামুন-আল-রশীদ, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সত্যজিৎ কর্মকার, তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম প্রমুখ।



একনেক   প্রকল্প  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় হবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৪:৪৭ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ২০৪১ সালে মাথাপিছু আয় হবে সাড়ে ১২ হাজার ডলার: প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মাথাপিছু আয় সাড়ে ১২ হাজার মার্কিন ডলার দাঁড়াবে।

সোমবার (১৫ আগস্ট) নগরীর এনইসি মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ পরিকল্পিত অর্থনীতির ধারায় ফিরে আসে। পরিকল্পনার ভিত্তিতেই জাতীয় পরিকল্পনা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের চিন্তা-চেতনার ওপর ভর করেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ভবিষ্যৎ কাঠামোর আওতায় দেশকে কোথায় নিয়ে যাবো সেটা নির্ধারণ করা হয়। সব কিছু এই পরিকল্পনায় বর্ণনা করা হয়েছে। দেশ পরিকল্পিতভাবেই এগুচ্ছো।

তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনার ফলে ১৯৭২-৭৩ সালের সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ এখন বেড়ে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে রূপ নিয়েছে। একইভাবে ২০৩১ সালের পরিকল্পনায় বলা আছে আমরা সর্বোচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হবো। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। চমৎকার পরিকল্পনা মাফিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা বিভাগর সচিব মো. মামুন আল রশীদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, এনডিসি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক (ডিজি) বিনায়ক সেন প্রমুখ।

মাথাপিছু   আয়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

৩০ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ডাচ-বাংলার এটিএমসহ ই-ব্যাংকিং সেবা

প্রকাশ: ১১:২০ এএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ৩০ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ডাচ-বাংলার এটিএমসহ ই-ব্যাংকিং সেবা

আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে টানা ৩০ ঘণ্টা কোর ব্যাংকিং সিস্টেম আপগ্রেড করার জন্য ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ, সিআরএম, পিওএস ও ই-কমার্স, ই-ব্যাংকিং লেনদেন সেবা বন্ধ থাকবে। এসব সেবা নিতে পারবেন না ব্যাংকটির গ্রাহক।

সোমবার (১৫ আগস্ট) ব্যাংকটির জনসংযোগ কর্মকর্তা সগীর আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছন।

ব্যাংকটি জানায়, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম আপগ্রেড করার জন্য এটিএম, সিআরএম, পিওএস, ই-কমার্স, এনপিএসবি, আইবিএফটি ফান্ড স্থানান্তর, রেমিট্যান্স পাঠানো, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, নেক্সাসপে, এজেন্ট ব্যাংকিং, রকেটের কোর ব্যাংকিং সম্পকিত লেনদেন ১৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টা থেকে ১৯ আগস্ট (শুক্রবার) দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা এখন ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার। সারাদেশে এ ব্যাংকের শাখা রয়েছে ২২০টি। এছাড়া ৪  হাজার ৭৬৬ মত এটিএম বুথ সার্ভিস রয়েছে ব্যাংকটিতে। এ সংখ্যা অন্য যে কোনো ব্যাংকের চেয়ে বেশি।



ডাচ বাংলা ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ডলারপ্রতি ১ টাকা লাভ করতে পারবে ব্যাংক

প্রকাশ: ১০:১৭ এএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ডলারপ্রতি ১ টাকা লাভ করতে পারবে ব্যাংক

ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার কেনাবেচায় দামের পার্থক্য (স্প্রেড) বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলো যে দামে ডলার কিনবে, তার চেয়ে সর্বোচ্চ এক টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে। ব্যাংকগুলো বলছে, এর ফলে প্রবাসী আয়ে প্রতি ডলার ১১০ টাকা ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ১০৫ টাকা হলে আমদানিতে ডলারের দাম হবে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা।

রোববার (১৪ আগস্ট) অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এবং বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সদস্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্যাংকগুলোর পক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

ডলারে স্প্রেড সর্বোচ্চ এক টাকা হবে, এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ আগের সিদ্ধান্ত। বর্তমান সংকটের কারণে যা কার্যকর নেই। এখন পুরোনো সিদ্ধান্ত আবারও কার্যকর করে সংকট সমাধানের পথ দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, ব্যাংকগুলো ডলার বাজার থেকে যে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে, তা ব্যাংকের আয়ে নিতে পারবে না। এখন আমদানিতে কম দাম নিয়ে তা সমন্বয় করতে হবে। ডলারের বাজার কঠোরভাবে তদারকি অব্যাহত রাখা হবে।

জানা যায়, গতকালের সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয়। ব্যাংকগুলো বেশি দামে প্রবাসী আয় আনার বিষয়টি তুলে ধরে। এ জন্য ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় প্রবাসী আয় আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে আমদানি দায় শোধ করা যাচ্ছে না। এতে যে ঘাটতি হয়েছে, সেই পরিমাণ ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়েছে। এরপরও কেন এত সংকট হবে। এই সুযোগে ব্যাংকগুলো দাম বাড়িয়ে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে।

সভায় ব্যাংকগুলোকে বুঝেশুনে আমদানি ঋণপত্র খুলতে বলা হয়। আর জানানো হয়, আমদানি ঋণপত্র খোলা কমেছে। প্রবাসী আয়ও বাড়ছে। ফলে সংকট কেটে যাবে। যে রপ্তানি হচ্ছে, তার আয় দ্রুত সময়ে এনে নগদায়ন করতে বলা হয়।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ডলারের বাজারে যে টানাপোড়েন চলছে, তা থামাতে পরামর্শমূলক সভা ডাকা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো যাতে রপ্তানি বিল দ্রুত দেশে আনে ও নগদায়ন করে, এ জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার কেনাবেচা শুরু করতে বলা হয়েছে। এটা হলে এক-দুই মাসের মধ্যে ডলারের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, আমদানি ঋণপত্রে সমন্বয়ে প্রতি ডলারে যত কম মুনাফা করা যায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আমদানি ঋণপত্র খোলা কমেছে, ব্যাংকগুলোকে বুঝে ঋণপত্র খুলতে বলা হয়েছে।

ডলার   ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

রাষ্ট্র মালিকানাধীন তিন ব্যাংকে নতুন এমডি

প্রকাশ: ০৮:৫১ পিএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail

রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তাদের তিন বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৪ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে অনুযায়ী, রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও হয়েছেন মো. আফজাল করিম। তিনি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্সের এমডি ছিলেন।

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থানা পরিচালক ও সিইও হয়েছেন মো. মুরশেদুল কবির। এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি এ ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপাল করে আসছিলেন।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন   ব্যাংক   নতুন এমডি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন