ইনসাইড ইকোনমি

সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পাস

প্রকাশ: ০৯:৩৮ পিএম, ৩০ জুন, ২০২২


Thumbnail

মহামারি করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবলা করে চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পাস করা হয়েছে। গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন’ শ্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ১৩ জন সংসদ সদস্য মোট ৬৬৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং জননিরাপত্তা বিভাগ ৪টি মঞ্জুরী দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, রুস্তম আলী ফরাজী, পনির উদ্দিন আহমেদ, মজিবুল হক, রওশন আরা মান্নান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন, রুমীন ফারহানা, গণফোরামের মোক্কাবির খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২২ পাসের মাধ্যমে ২০২২- ২৩ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।
এর আগে গতকাল ২৯ জুন সংসদে অর্থ বিল ২০২২ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আর্থিক ও কর প্রস্তাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুমোদন করা হয়।

এদিকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ  দেয়া  হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর বহির্ভূত ১৮ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতিত প্রাপ্তি ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫.৫ শতাংশ। ২০২১-২২অর্থ বছরের বাজেটে ঘাটতি ছিল জিডিপির ৬.২ শতাংশ।

এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা আহরণ করা হবে। বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ঋণ পরিশোধ খাতে ১৭ হাজার কোটি রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা  হয়েছে।

বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫.৬  শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭.০৫ শতাংশ; এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ৮৬০ কোটি টাকা বা ২৯.৬২ শতাংশ; যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৮৬ হাজার ৭৯৮ কোটি; যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৭৯ হাজার ২৬ কোটি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২২.৫৯ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭.৮৪ শতাংশ; সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১.৮৫ শতাংশ; নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ৭ হাজার ৪১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১.০৪ শতাংশ।

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

সূত্র: বাসস

বাজেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বাংলাদেশকে ২৮৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক

প্রকাশ: ০৬:৪১ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বাংলাদেশকে ২৮৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিলো বিশ্বব্যাংক

করোনা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতি ডলার সমান ৯৫ দশমিক ১৬ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

রোববার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে  অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান ও বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন সই করেন।

লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রকল্পের আওতায় ৩০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদকাল জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।

বিশ্বব্যাংকের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটসের (এসডিআর) মুদ্রায় এ ঋণ নেওয়া হবে এবং পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে উত্তোলিত ঋণের ওপর বার্ষিক শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ এবং এক দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে।

অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি দেওয়ার বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাংক কমিটমেন্ট ফি দেওয়ার বিষয়টি মওকুফ করে আসছে।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো- কোভিড-১৯ অতিমারি থেকে উত্তরণে নগর কেন্দ্রিক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বাড়ানো, স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং অত্যাবশ্যকীয় নাগরিক সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে- পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্যানিটেশন, ড্রেনেজ ইত্যাদি। এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে ভ্যাকসিন বিতরণ কার্যক্রম জনগণের কাছে পৌঁছানো এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর নিজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইটিভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

পদ্মা সেতুতে ৪২ দিনে শতকোটি টাকা টোল আদায়

প্রকাশ: ০৬:৪০ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail পদ্মা সেতুতে ৪২ দিনে শতকোটি টাকা টোল আদায়

গত ২৬ জুন পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। যান চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেওয়ার ৪২ দিনে দুই প্রান্তের টোল প্লাজা (মাওয়া ও জাজিরা) দিয়ে প্রায় আট লাখ যানবাহন পারাপার হয়েছে। আর এর বিপরীতে এই সময়ে ১০০ কোটির বেশি টাকা টোল আদায় হয়েছে। 

রোববার (৭ আগস্ট) পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ৪২ দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার করে যানবাহন পার হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, শুক্রবার (৫ আগস্ট) পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছিল ৯৯ কোটি ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং যানবাহন পার হয়েছিল ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯টি। 

পদ্মা সেতু   শতকোটি   টোল আদায়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

সপ্তাহে ১ দিন বন্ধ থাকবে সব শিল্পকারখানা

প্রকাশ: ০৬:১৪ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail সপ্তাহে ১ দিন বন্ধ থাকবে সব শিল্পকারখানা

লোডশেডিং কমাতে এলাকাভেদে সপ্তাহে একেক দিন একেক শিল্প এলাকায় শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলাকাভেদে ছুটি যেবারেই হোক, সেটি হবে সপ্তাহে এক দিন।

রোববার (৭ আগস্ট) ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাশেষে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি ফজলে এহসান শামীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে একেক এলাকায় সপ্তাহে এক দিন শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার নিয়ম ছিল। মাঝে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আমরা শিল্পমালিকেরা সেটি মানতাম না। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী আবারও সপ্তাহে এক দিন কারখানা বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছেন। আমাদের তাতে কোনো আপত্তি নেই। আমরা শুধু আগের রুটিন অনুযায়ী কারখানা সাপ্তাহিক বন্ধ রাখার কথা বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবে।’

ফজলে এহসান শামীম বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তখন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হবে। ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আসবে। তা ছাড়া শীতের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও কম থাকবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর পরিচালক রাজীব হায়দার প্রমুখ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

তিন দি‌নের ব্যবধানে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ০৮:১৬ এএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail তিন দি‌নের ব্যবধানে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়া‌নোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। তিন দি‌নের ব্যবধানেই বাড়ানো হলো স্বর্ণের দাম। ভা‌লো মা‌নের সোনার দাম ভরিতে বাড়া‌নো হ‌য়ে‌ছে ১ হাজার ৯৮৩ টাকা। ফ‌লে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভ‌রি সোনার দাম বে‌ড়ে দাঁড়াবে ৮৪ হাজার ৩৩১ টাকা। যা এতদিন ছিল ৮২ হাজার ৩৪৮ টাকা।

শনিবার (০৬ আগস্ট) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম বেড়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। রোববার (০৭ আগস্ট) থেকে সারা দেশে নতুন দাম অনুযায়ী সোনা কেনাবেচা করা হবে।

এর আগে ৩ আগস্ট সোনার দাম বাড়ানো হয়, যা ৪ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। এর এক সপ্তাহ আগে ২৮ জুলাই দাম বাড়া‌নোর ঘোষণা দি‌য়ে ২৯ জুলাই থেকে কার্যকর ক‌রে। তারও আগে দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ানো হয়। অর্থাৎ ২৬ জুলাই সোনার দাম বাড়ানো হয়, যা ২৭ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। অর্থাৎ দে‌শের বাজা‌রে ১০ দিনের ব্যবধানে চার দফা সোনার দাম বাড়ল।

বাজু‌সের নতুন ঘোষণায় ভালো মানের সোনার পাশাপাশি সব মা‌নের সোনার দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা থেকে ১ হাজার ৯৮৩ টাকা পর্যন্ত বাড়া‌নো হ‌য়ে‌ছে। তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

দাম বাড়ার কার‌ণে ৭ আগস্ট থেকে থেকে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা কিনতে খরচ পড়বে ৮৪ হাজার ৩৩১ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৮৬৭ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ হাজার ৪৮২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে বেড়েছে ১৫৭৫ টাকা, যা এখন বিক্রি হবে ৬৮ হাজার ৯৯৩ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে
৫৬ হাজার ৯৭৯ টাকা।

তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ১ হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৯৩৩ টাকায় অপরিবর্তিত আছে।

স্বর্ণের দাম   স্বর্ণ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

আবারও শর্তের জালে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৬ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আবারও শর্তের জালে বাংলাদেশ

অনেক কিছুতেই ভর্তুকি প্রত্যাহার হবে। শেষ পর্যন্ত আইএমএফের শর্ত মেনে নিলো সরকার। জ্বালানি খাতে ২৩ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকিকে অবাস্তব বলেছিলো আইএমএফ এবং এই ভর্তুকি কমানোর জন্য শর্ত দিয়েছিলো। আইএমএফের ঋণ পেতেই জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু জ্বালানি খাতে নয়, অন্যান্য বিভিন্ন খাতে যেখানে যেখানে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে সেই ভর্তুকি কমানোর শর্ত আইএমএফ দিয়েছে এবং সরকার যদি আইএমএফের ঋণ পেতে চায় তাহলে পর্যায়ক্রমে এই শর্তগুলো মানতে হবে। এর ফলে বিভিন্ন খাতে সরকারকে ব্যাপক ভর্তুকি কমাতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এইসব ভর্তুকি কমালে সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের উপর ভর্তুকি কমানোর কারণেই এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ইতিমধ্যে সরকার ইউরিয়া সারের উপর ভর্তুকি কমিয়েছে এবং আরো কিছু ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহারের কথা ভাবছে। বাংলাদেশ কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক পরিমাণে ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকার কিছুটা বেশি। এই ভর্তুকি কমানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। এর ফলে ন্যায্যমূল্যে বীজ, কম দামে ডিজেলসহ যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কৃষকরা পেত তা কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও খাদ্যের উপর ভর্তুকি কমানো হবে। ফলে খাদ্য পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, যেহেতু ডিজেল এবং পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি হলো সেক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে এবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাবে বলেও সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। কারণ, আমাদের বিদ্যুৎ খাত ডিজেল নির্ভর। এ কারণেই সরকারকে এখন বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। ফলে সামগ্রিকভাবে ভর্তুকি কমানোর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আগামী এক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। এই মূল্যবৃদ্ধি হলো ভর্তুকি কমানোর জন্য। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে এই মূল্যবৃদ্ধি গুলো হবে। এই সবই করা হচ্ছে আইএমএফের শর্তের কারণে। শুধু আইএমএফ না, বিশ্বব্যাংক এবং এডিবিও একই শর্তেই বাংলাদেশকে ঋণ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বব্যাংক কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি বন্ধের সুপারিশ দিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে সময় বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং কৃষিতে ভর্তুকি দিয়েছিলে। এর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিশ্বব্যাংকের পরামর্শের কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার করেছিলো। বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শেই বিএনপি-জামায়াত জোট আদমজী বন্ধ করে দিয়েছিলো। এখন আইএমএফ যে নতুন করে শর্তগুলো দিচ্ছে সেই শর্তের ফলে বাংলাদেশ আবার বিদেশি শর্তের জালে চলে গেল কিনা সেটাই দেখার বিষয়। কারণ, বর্তমান সরকার যে গণমুখী নীতি এবং কৌশল গ্রহণ করেছিলো, সেই গণমুখী কৌশলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিয়ে দেওয়া হতো যেন সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্ট না হয়। কিন্তু এখন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় আবার বিদেশিদের শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে সরকারকে। কিন্তু এই শর্ত মানার রাজনৈতিক প্রভাব কি হবে, সেটিও হিসেব-নিকেশ করে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন