ইনসাইড ইকোনমি

বাড়লো সোনার দাম, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

প্রকাশ: ০৭:৫০ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ দাম বাড়ানো হয়েছে। সব থেকে ভালোমানের সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নতুন দাম রোববার (৪ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

এর আগে গত ১৮ ও ১৩ নভেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়। ফলে ২১ দিনের মধ্যে দেশের বাজারে তিন দফা বাড়লো সোনার দাম। এতে দেশের বাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছে গেছে দামি এ ধাতুটি।

এর আগে চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সব থেকে ভালোমানের সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ২৮৩ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভালোমানের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৫৬৪ টাকা। দেশের বাজারে এতদিন এটিই সোনার সর্বোচ্চ দাম ছিল।

এখন সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালো সোনার দাম। ভালোমানের সোনার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের সোনার দাম। মান অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩৩ টাকা পর্যন্ত। তবে রুপার দামে কোন অপরিবর্তিত আসেনি।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি শনিবার বৈঠক করে এ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমেছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজুস সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে, যা ৪ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী— সব থেকে ভালোমানের বা ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৪৭ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে ৮৩ হাজার ২৮১ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৪৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭১ হাজার ৩৮৪ টাকা করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৭৯৯ টাকা বাড়িয়ে ৫৯ হাজার ৪৮৬ টাকা করা হয়েছে।

সোনার দাম বাড়লেও রুপার আগের নির্ধারিত দামই বহাল রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম এক হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৯৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ ও ১৩ নভেম্বর সোনার দাম বাড়ানো হয়। তার আগে ২৫ অক্টোবর এবং ২৭, ১৯ ও ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়। তার আগে ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২২ আগস্ট সোনার দাম বাড়ানো হয়। এর আগে ১৮ আগস্ট সোনার দাম কিছুটা কমানো হয়েছিল। তবে ৪ ও ৭ আগস্ট এবং ২৭ ও ২৯ জুলাই সোনার দাম বাড়ানো হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

কমলো স্বর্ণের দাম

প্রকাশ: ০৮:১৪ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমানো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। এতে ভালোমানের প্রতি ভরি সোনার দাম ক‌মে হয়েছে ৯২ হাজার ২৬২ টাকা। এ‌তো‌দিন ছিল ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকা। দেশের বাজারে এটিই ছিল সোনার সর্বোচ্চ দাম। 

শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে সোনার এ নতুন দাম কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বাজুস। 

নতুন দাম অনুযায়ী, রোববার থেকে ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনা কিনতে লাগবে ৯২ হাজার ২৬২ টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনার দাম ১১০৮ টাকা কমিয়ে করা হ‌য়ে‌ছে ৮৮ হাজার ৬৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনার দাম কমানো হ‌য়ে‌ছে ৯৯২ টাকা এখন কিন‌তে লাগ‌বে ৭৫ হাজার ৪৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৪৬৭ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হ‌য়ে‌ছে ৬২ হাজার ৮৬৯ টাকা।

সবশেষ গত ১৪ জানুয়ারি বাজুস সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। যা ১৫ জানুয়া‌রি থেকে কার্যকর হয়। ওই দাম অনুযায়ী আজ পর্যন্ত সোনা কেনাবেচা হয়েছে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনা ৮৯ হাজার ১৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৭৬ হাজার ৪৫৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বি‌ক্রি হ‌য়ে‌ছে ৬৩ হাজার ৩৩৬ টাকা।

এদিকে সোনার দাম কমা‌নো হ‌লেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রূপার দাম। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের রুপার দাম প্রতি ভ‌রি ১ হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে,২১ ক্যারেটের রুপার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ১৪০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১০৫০ টাকায় অপরিবর্তিত আছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

‘আইএমএফের ৪৭০ কোটি টাকা ঋণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না, বরং টার্নিং পয়েন্ট’

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ যে ঋণ পাচ্ছে, তা সংকট মোকাবিলায় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে অর্থনীতিবদদের একটি সম্মেলনে মত প্রকাশ করা হয়েছে। এই ঋণ অনুমোদনের পর বিশ্বব্যাংক ও এডিবি থেকেও সহায়তা আসবে বলে ধারণা তাদের।

এতে অংশ নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেছেন, আইএমএফের ঋণ দেয়ায় অন্য দাতা সংস্থাগুলোও এখন এগিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে আইএমএফ যে শর্তগুলো দিয়েছে, সেগুলোও দেশের জন্য ভালো হবে বলেই বিশ্বাস তার।

অর্থনৈতিক এই সংকট থেকে বের হয়ে আসতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ থেকে সরকার যে ঋণ নিচ্ছে, সেটি দেশের জন্য ইতিবাচক হবে বলেও মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আইএমএফ আমাদের আর্থিক খাতে যেসব সংস্কার প্রস্তাব করেছে সেগুলো যৌক্তিক। তাদের (আইএমএফ) পরামর্শে আর্থিক খাতে ধারাবাহিক সংস্কার করা হচ্ছে। এসব প্রস্তাব আমরা ইতিবাচকভাবে নেওয়ায় এখন অন্যান্য দাতা সংস্থাও ইন্টারেস্ট দেখাচ্ছে।”

আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি জমা পড়ার দুই দিন পর শনিবার ঢাকায় মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়া উইথ এ স্পেশিয়াল এম্ফেসিস অন ইকোনোমিক মডেলিংয়ের (সানেম) ষষ্ঠ বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

বৈশ্বিক সংকটে দেশের অর্থনীতিতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে তা মোকাবেলা ও উত্তরণের উপায় নিয়েই সানেমের এবারের সম্মেলনে আলোচনা করেন বক্তারা। সম্মেলনের প্রথম সেশনে সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, “আইএমএফের ৪৭০ কোটি টাকা ঋণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না, বরং টার্নিং পয়েন্ট। এই ঋণ পাওয়ার ফলে এখন অন্যান্য দাতা সংস্থা বাংলাদেশের ব্যাপারে আস্থা পাবে। তাদের কাছে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া সহজ হবে।”

এদিকে গত কয়েক মাস ধরে অর্থনীতির যে চাপ, তার নেপথ্যে বৈশ্বিক পরিস্থিতির চেয়ে অভ্যন্তরীণ দায়ই বেশি দেখছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অর্থনৈতিক সংকট যতটা না বৈশ্বিক সৃষ্টি, তার চেয়ে বেশি অভ্যন্তরীণ।”

সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতির জন্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে দায়ী করা হলেও এই প্রথম অন্য একটি কারণ তুলে ধরলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। তবে এই ‘অভ্যন্তরীণ সংকটের’ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তার বক্তব্যে তিনি দেননি।

সম্মেলনে বিশ্বের অন্যান্য অনেক বেশের মতো গত একটি বছর ভীষণ কঠিন যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্যও। বিশ্ববাজারে পণ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার মান পড়ে যাওয়ার কারণে মূল্যতে আরও বেশি প্রভাব, ডলার সংকট, রিজার্ভের ক্রমাগত পতন, প্রবাসী আয়ে ভাটা, ইত্যাদির কারণে গত এক যুগের মধ্যে অর্থনীতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনীতি ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে বলে যে সমালোচনা করা হয়, সেটিও তার বক্তব্যে তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশের রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতেই আছে, তবে সংসদে অনেক সদস্যই ব্যবসায়ী।”

গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। দুই দিন পরেই প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার জমা পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে। এই ঋণ নিতে সংস্থাটির ৩০টি শর্ত মানতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এর অন্যতম হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানো। তাই এক মাসের মধ্যে দুইবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো, আবাসিক ও পরিবহন ছাড়া অন্য খাতের গ্যাসের দাম আড়াই গুণ করে দেয়ার পেছনে এই শর্তই দায়ী বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। 

তবে আইএমএফ মনে করে, ভর্তুকি কমিয়ে দাম বাড়ানোর পদক্ষেপ বাংলাদেশের জন্য সামনের সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক হবে। এটি সামাজিক ও উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য আরও অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করবে। আইএমএফের অন্য শর্তের মধ্যে আছে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো। সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সরকার একমত পোষণ করেছে।

দেশের অর্থনীতি ঠিক করতে চারটি বিষয়ের উপর জোর দিতে বলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, “সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেসব আঘাত এসেছে সেগুলোর কোনটিতে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, তা খোঁজে বের করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে এসব আঘাতের প্রভাব কেমন, তার উপর জোর দিতে হবে।”

প্রসঙ্গত, দুই দিনের এই সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দেড়শ অর্থনীতিবিদ অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে ২৩টি অধিবেশনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অর্থনীতি-গবেষকরা ৮০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।


রাজনীতি   রাজনীতিবিদ   সংসদ সদস্য   ব্যবসায়ী   সানেম   অর্থনীতিবিদ   বৈশ্বিক পরিস্থিতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

আইএমএফের আমলাতন্ত্র খুশি, আমরাও খুশি: ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

প্রকাশ: ০৫:১১ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ‘অনেক দশক ধরে দেখেছি, কাগজে সই করলেই কি খেলাপি ঋণ কমে যাবে? এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ব্যাপার। খেলাপি ঋণ কমানোর শর্ত দেওয়ার মাধ্যমে আইএমএফের আমলাতন্ত্র খুশি, আমরাও খুশি।’

ষষ্ঠ সাউথ এশিয়া উইথ এ স্পেশিয়াল এম্ফেসিস অন ইকোনোমিক মডেলিং- এর (সানেম) বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ঋণ দিতে এবার আইএমএফ বেশি শর্ত দেয়নি।’ 

শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সাউথ এশিয়া উইথ এ স্পেশিয়াল এম্ফেসিস অন ইকোনোমিক মডেলিং (সানেম) বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনের বক্তা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ হিসেবে আহসান মনসুরের এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি খেলাপি ঋণ নিয়ে এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন কাল রোববার শেষ হবে এবং এ সম্মেলনে অর্থনীতি ও বাণিজ্য নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন দেশ-বিদেশের অর্থনীতিবিদেরা।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বড় কথা নয় বরং দেখতে হবে, প্রবণতা কী। রিজার্ভের প্রবণতা নিচের দিকে নামতে থাকলে ঠেকানো কঠিন। দেশের রিজার্ভ এক সময় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারও ছিল। তাই বলছি, পরিমাণ অনেক সময় বড় সমস্যা নয়, প্রবণতাটাই বড় কথা।’

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ নিতে অনেক শর্তের মধ্যে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানোর কথাও আছে। আইএমএফ বলেছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে তা ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশের বেশি উল্লেখ করে বেসরকারি খাতে শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শামসুল আলমের এই কথা প্রসঙ্গে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সজ্জন ব্যক্তি। কিন্তু শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যয়ের বিকল্প নেই, বেসরকারি খাত থাকবে পরিপূরক হিসেবে। ভারত ও নেপালে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ৫ শতাংশের বেশি। শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা এখন সমান।   


সানেম   অর্থনীতিবিদ   ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ   বার্ষিক সম্মেলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ব্যাংকিং খাতে আইএমএফকে দেওয়া সরকারের যে প্রতিশ্রুতি

প্রকাশ: ০৮:১৬ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

ঋণ পেতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত অন্যতম। বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতিতে বলেছে, ২০২৬ সালের মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের মধ্যে ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ জন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হচ্ছে, যেখানে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ও খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এই প্রতিশ্রুতি দেন। বিভিন্ন খাতে নানা রকম শর্ত পূরণের লক্ষ্য ঠিক করে দিয়ে আইএমএফ গত সোমবার ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই ঋণের প্রথম কিস্তি বাংলাদেশ পেয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। প্রথম কিস্তির পরিমাণ ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের তিন দিনের মাথায় সংস্থাটি প্রথম কিস্তি ছাড় করে।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক, বিডিবিএল—এই ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের গড় হার ২৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

এদিকে গত জুলাইয়ে আইএমএফের কাছে ঋণ প্রস্তাব দেওয়ার পর ছয় মাস ধরে খেলাপি ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোকে প্রতিবছর খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে। আবার বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে সমন্বয়ক ও পর্যবেক্ষক বসিয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমাতে নীতিছাড়ও দিয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কাগজে–কলমে খেলাপি ঋণ না কমিয়ে নগদ আদায় করতে হবে। তাহলেই এই খাতের প্রকৃত উন্নয়ন হবে। নতুন করে যেসব ঋণ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে যাচাই–বাছাই করে দিতে হবে।

এদিকে আইএমএফকে বাংলাদেশ আরও বলেছে, ব্যাংকের পুনঃতফসিল করা ঋণকে খেলাপি ঋণের হিসাবের আওতায় আনা হচ্ছে, যা আগামী জুনের মধ্যে কার্যকর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে এই তথ্য থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে। যেখানে পুনঃতফসিল করা ঋণের তথ্য থাকবে, যার বিপরীতে যথানিয়মে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে  এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকায়, যা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। ফলে গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।

গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। খেলাপিতে পরিণত হয়েছে মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। এর বাইরে বিদেশি ব্যাংকের ২ হাজার ৯৭০ কোটি ও বিশেষায়িত ব্যাংকের ৪ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।

ইতিমধ্যে দুর্বল পাঁচ ব্যাংকে ইতিমধ্যে সমন্বয়ক বসানো হয়েছে। ব্যাংক পাঁচটি হলো এবি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। আর আগে থেকেই পর্যবেক্ষক দেওয়া আছে সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে।

নতুন করে অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ায় পর্যবেক্ষক বসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে।

আইএমএফ   সরকার   ঋণ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

কমছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি, বাড়ছে ব্যাংক ঋণ

প্রকাশ: ০৮:২১ এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

সাধারণ মানুষের নিরাপদ বিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে সঞ্চয়পত্র বিবেচিত হলেও এখন সঞ্চয়পত্রে  বিনিয়োগে আগ্রহ কমছে মানুষের। সরকার কর্তৃক সুদহার কমানোসহ নানা কড়াকড়ির আরোপ করার  পর থেকেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নেমে এসেছে। এদিকে বিক্রির চেয়ে সুদ-আসল পরিশোধেই সরকারের বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে উন্নয়নসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে এ খাত থেকে কোনো ঋণ নিতে পারছে না সরকার। উল্টো আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধ করতেই সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এসব তথ্য উঠে এসেছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে।

চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) যে পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, সেই টাকা দিয়ে গ্রাহকের আগের বিনিয়োগ করা সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। উল্টো সরকার আরও তিন হাজার ১০৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার ও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেছে।

সদ্য সমাপ্ত বছরের ডিসেম্বরে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে পাঁচ হাজার ৫৪২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। একই সময়ে গ্রাহকদের আগের বিক্রয় করা সঞ্চয়পত্রের মূল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে তিন হাজার ২৩৪ কোটি টাকা এবং সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয় তিন হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকার ডিসেম্বরে আসল ও সুদসহ মোটা সাত হাজার ৩৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে।

 তথ্য বলছে, শুধু ডিসেম্বরেই সঞ্চয়পত্র থেকে টাকা সংগ্রহের পরিবর্তে উল্টো এক হাজার ৪৯১ কোটি টাকা সরকার কোষাগার কিংবা ধার করে পরিশোধ করেছে। এর আগের মাস নভেম্বরেও বিক্রিত সঞ্চয়পত্রের চেয়ে ৯৭৮ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করেছিল সরকার।

অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের অক্টোবরেও সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির চেয়ে উল্টো ৯৬৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেও সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ৭০ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল। এ নিয়ে টানা চার মাস সঞ্চয়পত্রে ঋণাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হলো।

আগস্টে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র আট কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৩ কোটি ১১ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। গত বছরের (২০২১ সালের জুলাই) একই মাসে বিক্রির অঙ্ক ছিল দুই হাজার ১০৪ কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা করেছে। বিপুল এ অঙ্ক নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও এর বিপরীতে প্রথম ছয় মাসে এ খাত থেকে কোনো ঋণ পায়নি সরকার। উল্টো তিন হাজার ১০৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা কোষাগার ও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করেছে সরকার।

চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্য ছিল এক লাখ ১৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। যেখানে প্রথম ছয় মাসে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আগের বিক্রয় করা সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা বাবদ পরিশোধ হয়েছে ৪৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে সর্বশেষ বছরের আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। পাশাপাশি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক-এ হিসাব খুলতেও রিটার্ন বাধ্যতামূলক, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবুও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সর্বশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকার যেন বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশ কমানো হয়। এরপর থেকেই বিক্রি কমছে।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন