ইনসাইড এডুকেশন

ছাত্রলীগকে আত্মসমালোচনা-আত্মশুদ্ধি করতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭:৫৯ পিএম, ০৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ছাত্রলীগকে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির পরামর্শ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‌‘ছাত্রলীগ তো ছাত্রদের কাগজ-কলম বইপত্র দেয়, অস্ত্রশস্ত্র নয়। ছাত্রলীগই তো ক্যাম্পাসে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। তাহলে এই ছাত্রলীগের কেন মন্দ কথা শুনতে হবে। যেখানে মন্দ কথা হয়, সেখানে নিজেরাই একটু বিশ্লেষণ করতে হবে। আমাদের জাতির পিতাই তো শিখিয়ে দিয়ে গেছেন, আত্মসমালোচনা করতে হবে, আত্মশুদ্ধি করতে হবে। তার কথা তো আমাদের মানতেই হবে।’

শনিবার (৮ জানুয়ারি) ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বটতলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। এতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ বুদ্ধিজীবী আলীম চৌধুরীর কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নানান সময় নানান লোকের মন্দ কথা আমরা শুনতে পাই। কেননা, ছাত্রলীগের নামকে অনেকেই ব্যবহার করে। আগাছা-পরগাছার তো শেষ নেই। আমাদেরও ক্রটি আছে, দল ভারী করার জন্য কাকে নিচ্ছি অনেক সময় খেয়াল করে দেখি না। আর সুযোগসন্ধানীদের তো অভাব নেই। তারা তো সুযোগের সন্ধানে থাকে, কার নাম ব্যবহার করে বাড়তি সুবিধা, অন্যায় সুবিধা নিতে পারবে। কিন্তু দোষ পড়ে সংগঠনের ওপর। এজন্য আগাছাদের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।’ 

দীপু মনি বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করার যে বোধ সেটা বোধহয় সবচেয়ে ভালো পারবে ছাত্রলীগ। কেননা, ছাত্রলীগের জন্মই এ কারণে। জাতির পিতা এ ভূ-খণ্ডের মানুষকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তার জন্য আগে ছাত্রলীগ গড়ে তুলেছিলেন।’ 

বিভিন্ন দুর্যোগের ত্রাণ কার্যক্রম, খাদ্য সহায়তা প্রদান, ভার্চুয়াল ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করায় ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ব্লাড ব্যাংক কাজ করলে আর কোনো রক্তের অভাব হওয়ার কথা নয়।

আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘গত বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন করেছিলেন। সেটির সুফল সারাদেশের মানুষ পাচ্ছে। এতে খুব সহজেই রক্ত সংগ্রহ করা যায়। এভাবেই ছাত্রলীগ দেশের মানুষের সেবা করে যাচ্ছে।’

এর আগে, শনিবার সকালে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ইউনিটগুলোর নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। 

শিক্ষামন্ত্রী   ছাত্রলীগ   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়   আল নাহিয়ান খান জয়   লেখক ভট্টাচার্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড এডুকেশন

ফেনসিডিলসহ শাবিপ্রবির অতিথি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী আটক

প্রকাশ: ০৮:৫০ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ফেনসিডিলসহ অতিথি ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আটক নিরাপত্তা কর্মীর নাম জাহিদুর রহমান। পরে ফেনসিডিলের সঙ্গে সম্পৃক্তার অভিযোগে আরেকজনসহ মোট দুই জনকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

গতকাল সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১১টার দিকে এই নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১১টার দিকে ফেনসিডিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। এ সময় জাহিদুরের কাছ থেকে একটি আইডিকার্ড পাওয়া যায়। ওই আইডিকার্ডে তার নাম জাহিদুর রহমান বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটকের পর জাহিদুর নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের পাশের অতিথি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর আটক জাহিদুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন, একজন স্যার আমাকে বলেন এক লোক একটি ওষুধ দেবে তা এনে দিতে। ওই শিক্ষকের কথামতো আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছ থেকে এক লোকের দেওয়া ওষুধ নিয়ে আসি। এটি ফেনসিডিল কিনা তা আমি জানতাম না। পরে গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ ও তিন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে তাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবন ও ডরমেটরিতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এ অভিযুক্ত শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। পরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকের ছবি দেখালে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মাজহারুল হাসান মজুমদারকে শনাক্ত করেন জাহিদুর।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে দেখেছি শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করেছেন।  তখন শিক্ষার্থীরা তার হাতে একটি ফেনসিডিলের বোতল পায়। এতে হিন্দি ও ইংরেজিতে লিখা আছে এটি ফেনসিডিল। আমরা এ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। তবে, কে অভিযুক্ত রয়েছেন তা মৌখিকভাবে বলা হলেও তদন্ত সাপেক্ষে তা বের হয়ে আসবে।  

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য নিতে তার মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।

ফেনসিডিল   শাবিপ্রবি   নিরাপত্তাকর্মী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড এডুকেশন

শাবিপ্রবির আন্দোলনকারীদের ‘টাকা পাঠানোয়’ সাবেক ২ শিক্ষার্থীকে আটকের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৮:৪৩ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাবেক ২ শিক্ষার্থীকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) লোকজন আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন-শাবিপ্রবির আর্কিটেকচার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজা নূর মুঈন ও সিএসই বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান।

চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের আন্দোলনকারীদের 'টাকা পাঠানোয়' রেজা নূর মুঈনকে আটক করা হয়েছে বলে মনে করেছেন তার স্ত্রী ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জাকোয়ান সালওয়া তাকরিম।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি অভিযোগ করে বলেন, রেজা সন্ধ্যায় উত্তরা অ্যাগোরার কাছে মুদি কেনাকাটার জন্য গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট তুলে নেয়।

পরে তারা রেজার গাড়ি ফেরত দিতে বাসায় আসে এবং জানায় যে রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা বাসায় এসেছিল তাদের গাড়িতে সিআইডির স্টিকার লাগানো ছিল বলে জানান রেজার স্ত্রী।

তার ধারণা, শাবিপ্রবিতে চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের আন্দোলনকারীদের 'টাকা পাঠানোয়' রেজাকে আটক করা হয়েছে।

তারা দুজনেই শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং কিছু অর্থ সহযোগিতা করেছি। আমাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। শুধু জুনিয়রদের সাহায্য করার জন্য টাকা দিয়েছি।

এদিকে শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী শাহ রাজী সিদ্দিক বলেন, আমি আর হাবিবুর রহমান গত প্রায় আড়াই বছর ধরে একসঙ্গে থাকি। তাকে সিআইডির লোকেরা উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গেছে। হাবিবুরকে নিয়ে যাওয়ার সময় ৩ জন সিআইডি কর্মকর্তা ছিল এবং যোগাযোগের জন্য মাহমুদুল ইসলামের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, হাবিব জার্মানির একটা সফটওয়্যার ফার্মে চাকরি পেয়েছে। গতকালই তার ভিসা হয়েছে।

তবে আটকের বিষয়ে জানতে সিআইডির মুখপাত্র আজাদ রহমান এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল ইসলাম তালুকদারকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফোনে মেসেজ পাঠালে, তারও উত্তর দেননি।

শাবিপ্রবি   আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড এডুকেশন

করোনায় ৩ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত

প্রকাশ: ০৮:২৮ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের তিন কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। 

গতকাল সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ করতে হলে তা অবশ্যই শেষ অবলম্বন হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ওমিক্রনের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় সরকার নতুন করে ২৩ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, কভিড-১৯ মোকাবেলার ক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ করতে হলে তা অবশ্যই শেষ অবলম্বন হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে করতে হবে। সংক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি তার মধ্যে প্রতিষ্ঠান বন্ধের ক্ষেত্রে সবার শেষে এবং খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে স্কুল থাকা উচিত। 

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ দফায় যদি এক-দুই মাস স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে খোলার পরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন স্কুলে আনতে হবে। প্রয়োজনে দুই শিফটের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি দীর্ঘমেয়াদি ৮-৯ মাস বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে আমার পরামর্শ—আগামী বছরও শিক্ষার্থীদের একই শ্রেণিতে রাখতে হবে। স্কুল খোলার পর সপ্তাহে এক-দুই দিন ক্লাসে আনলে কোনোভাবেই শিক্ষার গুণগত মান রক্ষা করা সম্ভব হবে না। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা গণনা ও সাক্ষরতার মৌলিক দক্ষতা হারিয়েছে। বৈশ্বিকভাবে পড়াশোনায় ব্যাঘাতের অর্থ হলো যে লাখ লাখ শিশু শ্রেণিকক্ষে থাকলে যে একাডেমিক শিক্ষা অর্জন করতে পারত, তা থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বঞ্চিত হয়েছে। যেখানে ছোট ও আরো বেশি প্রান্তিক শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্কুল বন্ধের কারণে পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ায় ১০ বছর বয়সীদের ৭০ শতাংশই সহজ পাঠ্য পড়া বা বোঝার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি, যা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেশি।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউনিসেফ বলছে, স্কুল বন্ধ থাকার কারণে এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। স্কুল বন্ধ থাকায় তা পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করেছে, তাদের নিয়মিত পুষ্টি প্রাপ্তির উৎস কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের নিগ্রহের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মেয়ে, কিশোর-কিশোরী এবং গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারীরা অধিক হারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

ইউনিসেফের শিক্ষাবিষয়ক প্রধান রবার্ট জেনকিন্স বলেন, বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় কভিড-১৯ সম্পর্কিত বিঘ্নের দুই বছর পূর্ণ হবে আগামী মার্চে। খুব সহজভাবে বললে, আমরা শিশুদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রায় অপূরণীয় মাত্রার ক্ষতি প্রত্যক্ষ করছি। তবে পড়াশোনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার অবসান ঘটাতে হবে এবং শুধু স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়াই এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়, পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শিক্ষার্থীদের নিবিড় সহায়তা প্রয়োজন। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, সামাজিক বিকাশ এবং পুষ্টি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে স্কুলগুলোকে শুধু শেখানোর নির্ধারিত গণ্ডির বাইরেও যেতে হবে। 

ইউনিসেফ বলছে, ইথিওপিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষে যে পরিমাণ গণিত শিখতে পারত তার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ শিখতে পেরেছে বলে ধারণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, টেনেসি, উত্তর ক্যারোলাইনা, ওহাইও, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ডসহ অনেক অঙ্গরাজ্যে পড়াশোনার ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসে ২০২১ সালে গ্রেড ৩-এর দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর তাদের গ্রেডের জন্য গণিতে দক্ষতা কম ছিল। ২০১৯ সালে এই হার ছিল অর্ধেক শিশু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলের বেশ কয়েকটি প্রদেশে গ্রেড ২-এর প্রতি চারটি শিশুর মধ্যে তিনটি পড়ার দক্ষতা অর্জন থেকে বিচ্যুত, যা মহামারির আগে ছিল প্রতি দুটি শিশুর মধ্যে একটি। দেশটিতে ১০-১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন জানিয়েছে, তাদের স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়ার পর তারা আর স্কুলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে না।

দক্ষিণ আফ্রিকায় স্কুলগামী শিশুদের শিক্ষাবর্ষে যে অবস্থানে থাকার কথা তার চেয়ে তারা ৭৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে আছে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জুলাইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে বলে জানা গেছে। স্কুল বন্ধ থাকার সময়ে বিশ্বব্যাপী ৩৭ কোটিরও বেশি শিশু স্কুলের খাবার থেকে বঞ্চিত হয়, যা কিছু শিশুর জন্য খাবার ও দৈনিক পুষ্টি প্রাপ্তির একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস।

করোনাভাইরাস   বাংলাদেশ   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান   ইউনিসেফ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড এডুকেশন

২৯ ঘণ্টা পর শাবিপ্রবি উপাচার্যের বাসভবনে বিদ্যুৎ-সংযোগ সচল

প্রকাশ: ০৮:২০ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনে বিদ্যুৎ-সংযোগ সচল করে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। 

আজ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা  হয়। এর আগে রোববার রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী উমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, উপাচার্যের বাসভবনে বিদ্যুতের যে লাইনটি গিয়েছে, সেই একই লাইন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০/৩৫ জন কর্মচারীর বাসায়ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ওই কর্মচারীরাও বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছিলেন। 

তিনি বলেন, বাসায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন জানিয়ে কর্মচারীরা আমাদের কাছে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে আজ রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করে দিয়েছি।

গত কয়েকদিন ধরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন চলছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। আন্দোলনের অংশ হিসেবেই উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

উপাচার্যের বাসভবনে সোমবার শিক্ষকরা খাবার নিয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রয়োজনে তারাই খাবার সরবরাহ করবেন। 

উল্লেখ্য, শা‌বিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত ১৩ জানুয়ারি। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ ছাত্রী। গত শনিবার ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

শাবিপ্রবি   উপাচার্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড এডুকেশন

শিক্ষামন্ত্রীকে হেলিকপ্টারে সিলেটে যাওয়ার আহ্বান আনু মুহাম্মদের

প্রকাশ: ০৯:০৮ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে সেখানে যেতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন শিক্ষামন্ত্রী। আমরা যে সময়ে রাজধানীর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যানজটের কারণে যেতে পারব না, মন্ত্রীর সুযোগ রয়েছে তার চেয়ে কম সময়ে প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে সিলেটে যাওয়ার।’

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) শাবিপ্রবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ দিন দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে কর্মসূচিটি পালন করা হয়। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

এর আগে রোববার শাবিপ্রবিতে চলমান সংকট সমাধানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে ডাবল মাস্ক পরে সিলেটে যাওয়ার পরামর্শ দেন সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সিলেটে গিয়ে কথা বলা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় সরকারের আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর তারা অধৈর্য হয়ে কোনো কিছু করে বসলে, তা কেন্দ্র করে সরকার তাদের দমন করবে। কিন্তু সরকার এই তরুণদের চেনে না।

তিনি বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে অন্যান্য উপাচার্য পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদি বিষয়টি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে সেটি আমাদের জন্য ভালো খবর। সরকারের উচিত হবে, উপাচার্যদের পদত্যাগ করার পরপর একটি তদন্ত কমিটি করা। তদন্তের মাধ্যমে তারা কী করেছেন, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী   ডা. দীপু মনি   শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন