ইনসাইড গ্রাউন্ড

উইন্ডিজ সিরিজের বাকি সব খেলা শুধুমাত্র টি স্পোর্টসে

প্রকাশ: ০২:০৯ পিএম, ২২ Jun, ২০২২


Thumbnail উইন্ডিজ সিরিজের বাকি সব খেলা শুধুমাত্র টি স্পোর্টসে

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চলমান সিরিজের বাকি সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের প্রথম ও একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেল টি স্পোর্টস। টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে সিরিজের ম্যাচগুলো সম্প্রচারের সত্ত্ব কিনে নিয়েছে দেশের বৃহৎ শিল্প পরিবার বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান টি স্পোর্টস। এতে করে টিভি পর্দায় কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশের মধ্যকার সম্প্রচার সংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটলো। 

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ও প্রসারে শুরু থেকেই বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা মেটাতে ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রথম স্পোর্টস চ্যানেল হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে টি স্পোর্টস। জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ফুটবল দলের সব আন্তর্জাতিক আসরই সরাসরি সম্প্রচার করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু, ওয়েস্ট ইন্ডিজে বাংলাদেশ দলের ২ টেস্টে ৩ ওয়ানডে আর ৩ টি টোয়েন্টি ম্যাচ সম্প্রচার নিয়ে তৈরী হয় নানা জটিলতা। দারুণ আন্তরিকতা থাকার পরও সিরিজ শুরুর আগে সম্প্রচার জটিলতা নিরসন সম্ভব হয়নি। যে কারণে ১৬ জুন থেকে আরম্ভ হওয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ টিভি পর্দায় দেখা থেকে বঞ্চিত হয় এদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। 

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্বিতীয় টেস্টের আগেই সব কিছুর সমাধান হয়েছে। আগামী ২৪ জুন থেকে সেন্ট লুসিয়ায় শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট সম্প্রচার নিয়ে আর কোন সংশয় নেই। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, “আমরা খেলাধুলার উন্নয়ন ও প্রসারে বরাবরই ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। বেশ কয়েকটি পেশাদার ক্লাব চালানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরীর জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। টি স্পোর্টস তৈরীর একমাত্র কারণই হলো, এদেশের মানুষের কাছে ক্রীড়া বিশ্বের সবখেলা পৌঁছে দেয়া। উইন্ডিজ সিরিজের প্রথম ম্যাচ টিভিতে দেখতে না পেরে সবার মতো আমিও দারুণ হতাশ হয়েছি। এখন আর সমস্যা নেই।“

এর আগে বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক সিরিজগুলো টি স্পোর্টসের পাশাপাশি আরেকটি বেসরকারী চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করলেও, উইন্ডিজ সিরিজ এককভাবে সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস। খেলা দেখানোর পাশাপাশি খেলার আগে ও মধ্যাহ্ণ বিরতিতে ‘অ্যানালাইসিস’ শো সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ সিরিজের যে ম্যাচগুলো দেখাবে টি স্পোর্টস


ম্যাচ
তারিখ
সময় (বাংলাদেশ)
ভেণ্যু
দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট
২৪ জুন - ২৮ জুন
রাত ৮টা
সেন্ট লুসিয়া
প্রথম টি-টুয়েন্টি
২ জুলাই (শনিবার)
রাত ১১:৩০
ডমিনিকা
দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি
৩ জুলাই (রবিবার)
রাত ১১:৩০
ডমিনিকা
তৃতীয় টি-টুয়েন্টি
৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার)
রাত ১১:৩০
প্রভিডেন্স
প্রথম ওয়ানডে
১০ জুলাই (রবিবার)
সন্ধ্যা ৭:৩০
প্রভিডেন্স
দ্বিতীয় ওয়ানডে
১৩ জুলাই (বুধবার)
সন্ধ্যা ৭:৩০
প্রভিডেন্স
তৃতীয় ওয়ানডে
১৬ জুলাই (শনিবার)
সন্ধ্যা ৭:৩০
প্রভিডেন্স

টি-স্পোর্টস   ক্রিকেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

ভারতীয় শিবিরে ফের করোনার হানা

প্রকাশ: ১২:৩৫ পিএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail ভারতীয় শিবিরে ফের করোনার হানা

গতবছর করোনার জন্য অসম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছিল ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজ। সেই অসম্পূর্ণ সিরিজ সম্পূর্ণ করতে গিয়ে ফের সমস্যায় পড়েছে ভারতীয় দল। ভারতীয় শিবিরে ফের হানা দিয়েছে করোনা। আক্রান্ত হয়েছেন ভারতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের প্রস্তুতি হিসেবে লেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলছে ভারত। অনুশীলন ম্যাচ চলাকালীন ভারতীয় দলের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করালে রোহিতের করোনা ধরা পড়ে। আপাতত তিনি আইসোলেশনে আছেন। অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করেননি রোহিত। প্রথম ইনিংসে ২৫ রানে আউট হন।  

বিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতীয় অধিনায়ক বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন। রোববার (২৬ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আরটি পিসিআর টেস্ট করানো হবে তার। 

ভারত ছাড়ার আগেই করোনায় আক্রান্ত হন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ইংল্যান্ডে গিয়ে জানা যায়, করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বিরাট কোহলিও। এবার আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে রোহিত শর্মার।

ভারতের ইংল্যান্ড সফরের একমাত্র টেস্টটি মাঠে গড়াবে ১ জুলাই। যে কারণে রোহিতের করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ওপেনিং নিয়ে দারুণ দুর্ভাবনায় পড়েছে ভারত।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন। সেই সিরিজে চারটি টেস্ট হওয়ার পরে পঞ্চম টেস্ট বাতিল হয়ে যায়। 

ভারত   করোনা   ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় লিডের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রকাশ: ০৯:৩২ এএম, ২৬ Jun, ২০২২


Thumbnail বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় লিডের পথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে উন্ডিজের বিপক্ষে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে টাইগারদের ২৩৪ রানে অলআউট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৪০ রানের সংগ্রহ পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখন পর্যন্ত তাদের লিড ১০৬ রানের।

হাতে ৫ উইকেট রেখে রোববার (২৬ জুন) তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন দুই ব্যাটসম্যান কাইল মায়ার্স আর জসুয়া ডি সিলভা। অনবদ্য ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি তুলে মায়ার্স ১৮০ বলে ১২৬ রানে অপরাজিত আছেন, তার সঙ্গী হিসেবে জসুয়া আছেন ১০৬ বলে ২৬ রানে।

সাদা পোশাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে পেলেই যেন জ্বলে ওঠে মায়ার্সের ব্যাট। টাইগারদের বিপক্ষে লাল বলে নিজের অভিষেক ম্যাচে ২১০ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে ক্যারিবিয়দের নাটকীয় জয় উপহার দেন এই বাঁহাতি। ১৩ টেস্টের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় শতকটাও পেলেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই, যখন দলের হয়ে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করাটা প্রয়োজন ছিল তার।

৪ উইকেটে হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ২৪৮ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় উইন্ডিজ। ১৪ রানের লিড বাড়িয়ে নিতে মায়ার্স ৮৬ বলে ৬০ এবং ব্ল্যাকউড ১১৭ বলে ৪০ রান নিয়ে দিনের তৃতীয় ও শেষ সেশনের খেলা শুরু করেন। তবে সেশনের শুরুতেই স্বাগতিকদের চেপে ধরেন বাংলাদেশ দলের দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান আর মেহেদী হাসান মিরাজ।

দ্বিতীয় ওভারে ব্ল্যাকউডকে ফরিয়ে শতরানের জুটি ভাঙেন মিরাজ। এই অফ স্পিনারের বলটি কুইকার পিচড হয়ে হালকা মুভ করে। আড়াআড়িভাবে খেলতে চেয়েছিলেন ব্ল্যাকউড। কিন্তু বল ব্যাট মিস করে লাগে পায়ে। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন ব্ল্যাকউড। কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন আম্পায়ার। ১২১ বলে ৪১ রান করেন ব্ল্যাকউড। এতে ভাঙে ১১৬ রানের জুটি।

সেই চাপ অব্যাহত রাখেন দুই স্পিনার। পার্টনারশিপে গড়ে টানা ১২ ওভার বল করেন সাকিব-মিরাজ। ফিল্ডিং দল চাইলে ইনিংসের ৮০ ওভারে নতুন বল নেওয়ার নিয়ম থাকলেও ২ ওভার পর সেই বল নেন সাকিব। নতুন বল হাতে নিয়েও দুই স্পিনার দুই প্রান্ত থেকে ২ ওভার হাত ঘোরান। যেখানে ১২ ওভার বল করে ১০ রানে নেন ১ উইকেট।

পরে একপাশে সাকিবের পরিবর্তে পেসার শরিফুল ইসলামকে আক্রমণে আনা হয়। তবে অন্য প্রান্তে নিজের দায়িত্ব পালন করে যান মিরাজ। কিন্তু নতুন বল নিয়ে ফায়দা তুলতে পারেনি বাংলাদেশ দল। বরং সময়ের সঙ্গে আরও আগ্রাসী হয়েছেন মায়ার্স। ১৫০ বলে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। অন্যপ্রান্তে দেখেশুনে খেলে মায়ার্সকে সঙ্গ দেন জসুয়া। গোটা সেশনে দলকে আর বিপদে পড়তে দেননি তারা।

এই সেশনে ১ উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজ তুলেছে ১৩০ রান। সব মিলিয়ে ৫ উইকেট খুইয়ে তাদের সংগ্রহ ৩৪০ রান। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১০৬ রানে লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

বাংলাদেশকে অলআউট করে ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং তাণ্ডব

প্রকাশ: ০৮:৫৩ এএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail বাংলাদেশকে অলআউট করে ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং তাণ্ডব

সেন্ট লুসিয়া টেস্টে যে উইকেটে বাংলাদেশি ব্যাটারদের দেখা গেছে খারাপ খেলতে, সেই একই উইকেটে ভয়ডরহীন ব্যাটিং করছেন ক্যারিবীয় দুই ওপেনার। আগের টেস্টে ধীরগতিতে ইনিংস সাজানোর চেষ্টা ছিল স্বাগতিকদের। তবে এবার বাংলাদেশকে ২৩৪ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর মারকুটে চেহারায় হাজির হন তারা। প্রথম দিন শেষে ১৬ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলে ফেলেছে বিনা উইকেটে ৬৭ রান। 

বাংলাদেশের পাঁচ বোলার বল করেও একটি উইকেটের পতন ঘটাতে পারেননি। ক্যারিবীয় অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেথওয়েট ৫৫ বলে ৩৩ আর জন ক্যাম্পবেল ৪১ রানে অপরাজিত আছেন ৩২ রানে।

এর আগে লিটন দাসের হাফসেঞ্চুরি আর টেল এন্ডারদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে পৌঁছাতে পেরেছে ২৩৪ রান পর্যন্ত। ৬৪.২ ওভার খেলে অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা।

অ্যান্টিগা টেস্টের সঙ্গে সেন্ট লুসিয়ায় কিছুটা পার্থক্য অন্তত তৈরি করতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে সেটা সন্তোষজনক নয়। কোনো ম্যাচে দ্রুত একটা-দুটা উইকেট পড়তেই পারে। তবে, নিয়মিত বিরতিতে যখন উইকেট পড়তে শুরু করে তখনই বিপদ।

সেন্ট লুসিয়া টেস্টের প্রথম সেশনে ২টি এবং দ্বিতীয় সেশনে পড়লো ৪টি উইকেট। এরপর শেষ সেশনের শুরুতে পড়লো বাকি ৪ উইকেটও। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ার কারণে অলআউট হতে হলো ২৩৪ রানে।

লিটন দাস সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেছেন। ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন তামিম ইকবাল, ২৬ রান করেছেন শরিফুল ইসলাম এবং এবাদত হোসেন করেন ২১ রান।

৭ বছরেরও বেশি সময় পর দলে ফিরে এসে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না এনামুল হক বিজয়। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচের পর ম্যাচ যেভাবে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন, সেন্ট লুসিয়ায় তার ছিটেফোঁটাও দেখাতে পারলেন না। বরং, দলকে হতাশা উপহার দিয়ে ফিরে গেলেন মাত্র ২৩ রান করে।

ক্যারিবিয়ান অভিষিক পেসার অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে উইকেট হারিয়েছিলেন টপ অর্ডারের ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়ও। ৬৮ রানে দুই উইকেট পড়ার পর এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে জুটি গড়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত; কিন্তু দলকে ১০৫ রানে বসিয়ে রেখে পরপর আউট হয়ে গেলেন বিজয় এবং শান্ত। বিজয় আউট হয়েছেন কাইল মায়ার্সের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে।

এনামুল হক বিজয় আর নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে মনে করা হচ্ছিল, বাংলাদেশ বুঝি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। হয়তো উইকেটে জমিয়ে বসে যাচ্ছেন এই দুই ব্যাটার। কিন্তু অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে প্রথমে বিজয় হলেন এলবিডব্লিউর শিকার। পরের ওভারে কাইল মায়ার্সের বলে হলেন এলবিডব্লিউ। বিজয় ৩৩ বল খেলে করেছেন ২৩ রান এবং শান্ত খেলেছেন ৭৩ বল। করেছেন ২৬ রান।

শান্ত বিজয়ের পর জুটি গড়েন সাকিব আল হাসান এবং লিটন দাস। কিন্তু এই জুটিও বেশিদুর এগুতে পারেননি। মাত্র ২০ রানের জুটি গড়ার পর তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেন জাইডেন সিলস। মাত্র ৮ রান করে সিলসের বলে বোল্ড হয়ে যান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

৬ নম্বর ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। অ্যালজারি জোসেফের লেগ স্ট্যাম্পের ওপর উঠে আসা একটি বাউন্সারকে ঠিকমত সামলাতে পারেননি। ঘাড়ের ওপর থাকা বলটাকে শেষ মুহূর্তে গ্লাভসে লাগিয়ে জমা দিলেন উইকেটের পেছনে জসুয়া ডা সিলভার হাতে। ৭ রান করে ফিরে যান সোহান।

মেহেদী হাসান মিরাজ স্বচ্ছন্দেই খেলছিলেন লিটনের সঙ্গে। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য। দুর্দান্ত এক ক্যাচের শিকার হলেন। কাইল মায়ার্সের বলে বদলি ফিল্ডার থমাসের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি। পয়েন্ট দাঁড়িয়ে তিনি ঝাঁপ দেন লং থার্ডম্যানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি ধরেন। মাত্র ৯ রান করে আউট হন মিরাজ।

শরিফুল ইসলাম আর খালেদ আহমেদ মিলে দারুণ জুটি গড়েন। মাত্র ১৭ বল খেলে ২৬ রান করে আউট হন শরিফুল। ২১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন এবাদত হোসেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে মাহমুদুল হাসান জয়ের উইকেট হারালেও হাফসেঞ্চুরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। কিন্তু মাত্র ৪ রানের জন্য ক্যারিয়ারে ৩২তম ফিফটিটি মিস করেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

ইনিংসের ২৩তম ওভারে আলজেরি জোসেফের বলে টাইমিং গড়বড় করে কভার পয়েন্টে ক্যাচ হয়েছেন তামিম। ৬৭ বলে গড়া তার ৪৬ রানের ইনিংসে ছিল ৯টি বাউন্ডারির মার। ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ৭৭ রান নিয়ে প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

গ্রস আইলেটের ড্যারেন স্যামি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টসভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রেথওয়েট টস জিতে টাইগারদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন।

প্রথম ওভারেই বিপদে পড়তে পারতো বাংলাদেশ। কেমার রোচের ওভারের পঞ্চম বলে জোরালো আবেদন হয়েছিল। তামিম ইকবালের প্যাডে বল লাগায় রিভিউও নিয়েছি ক্যারিবীয়রা। কিন্তু বল লেগ স্ট্যাম্প হালকা ছুঁয়ে গেলেও আউট পায়নি স্বাগতিকরা। বরং ওভারের শেষ বলটি ফ্লিক করে সীমানাছাড়া করেন তামিম।

রোচের পরের ওভারের প্রথম বলে আরেকটি বাউন্ডারি হাঁকান তামিম। এবার হাঁটু গেড়ে চমৎকার কভার ড্রাইভে। এমন শুরু করা তামিম এখন পর্যন্ত খেলছেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।

তবে প্রথম টেস্টের মতো বিপজ্জনক জায়গায় বল ফেলে ইনিংসের যাচ্ছেন কেমার রোচ। উইকেট পাওয়ার খুব কাছাকাছিই চলে এসেছিলেন ক্যারিবীয় পেসার। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।

ইনিংসের সপ্তম ওভারের ঘটনা। ওভারের চতুর্থ বলটি মাহমুদুল হাসান জয়ের প্যাডে লাগলে আবেদন করেন রোচ। আউট দেন আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওর্থ। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। দেখা যায়, বল জয়ের লেগ স্ট্যাম্পের অনেকটা বাইরে ছিলো।

পরের বলটি নিচু হয়ে লেগেছিল জয়ের প্যাডে। এবারও আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। বাংলাদেশ নেয় রিভিউ। এবারও দেখা যায়, বল লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যেতো। সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় আম্পায়ারকে। টানা দুই বলে বেঁচে যান জয়।

তারপরও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি না ডানহাতি এই ওপেনার। এবার আর রিভিউ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। ব্যক্তিগত ১০ রানে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে সরাসরি বোল্ডই হয়েছেন অভিষিক্ত পেসার অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে। ১২.২ ওভারে জয়-তামিমের জুটিটি ছিল ৪১ রানের।

সেন্ট লুসিয়া টেস্ট   বাংলাদেশ   ক্যারিবীয়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

২০২২ সালের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে হাজার রানের মাইলফলক লিটনের

প্রকাশ: ০৮:৪৬ এএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail ২০২২ সালের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে হাজার রানের মাইলফলক লিটনের

সাদা পোশাকে বেশ ছন্দেই ছিলেন লিটন দাস। তবে রঙীন পোশাক গায়ে চড়ালেই তা যেন ফ্যাঁকাসে হয়ে যেত। সেই সময়টা চলতি বছর পেছনে ফেলেছেন অবশেষে। চলতি বছর যখনই ব্যাট হাতে নেমেছেন, লিটন ভরসা যুগিয়েছেন বাংলাদেশকে। দেখালেন গত রাতেও। উইন্ডিজ বোলারদের তোপে বাংলাদেশ যখন ২০০’র নিচে অলআউটের শঙ্কায়, তখনই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। ফিফটি করলেন। ছুঁয়ে ফেললেন আরও একটা কীর্তিও। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টির দারুণ ফর্মের সুবাদে ২০২২ সালের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ছুঁয়ে ফেললেন সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০০ রান ছোঁয়ার মাইলফলক।

এই মাইলফলক ছুঁতে অবশ্য খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাকে। ৯৯৬ রান নিয়ে শুরু করেছিলেন সেন্ট লুসিয়া টেস্ট। এনামুল হক বিজয়ের বিদায়ে এসেছিলেন ক্রিজে। পরের ওভারে দেখলেন সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরে যেতে। 

তবে লিটন তাতে বিচলিত হলেন না একটি। অ্যান্ডারসন ফিলিপসের করা পরের ওভারেই রানের খাতা খুললেন দর্শনীয় এক চারে। ফিলিপসের ব্যাক অফ দ্য লেন্থের বলটা ব্যাটের ফেস খুলে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে পাঠিয়ে দেন সীমানার বাইরে। মাইলফলকটা ছুঁয়ে ফেলেন তাতেই।

সেখানেই অবশ্য থামেননি। ওপাশ থেকে সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজদের বিদায় নিতে দেখেছেন একে একে। তাতে ইনিংস গড়ার দায়িত্বটা এসে পড়ে তার কাঁধেই। সে দায়িত্বের পুরোটা পালন করা হয়নি অবশ্য। ৭০ বলে খেলেছেন ৫৩ রানের ইনিংস। তাতে বাংলাদেশ পেয়েছে ২০০ পেরোনোর দিশা।

এই ইনিংসের পর লিটনের রানসংখ্যা দাঁড়াল ১০৪৯। ২০ ইনিংস লেগেছে এই মাইলফলক ছুঁতে। ৪৯.৯৫ গড়ে করেছেন এই রান। গত রাতের এই ইনিংস শেষে লিটনের ফিফটি দাঁড়াল ৬টি, পাশাপাশি সেঞ্চুরিও আছে ৩টি। গেল সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছেন ১৪১ রানের ইনিংস, এখন পর্যন্ত সেটাই হয়ে আছে তার সর্বোচ্চ।

চলতি বছর লিটনের হাজার রানের ৩৩৬ রান এসেছে ওয়ানডে আর ৭৩ রান এসেছে টি-টোয়েন্টি থেকে। ৬ ওয়ানডেতে খেলেছেন, ৫৬ গড়ে একটি সেঞ্চুরি ও দুইটি ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। আর টি-টোয়েন্টিতে ২ ইনিংস খেলেছেন তিনি। এখানেও ফিফটি আছে একটি।

লিটন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

একাদশে দুই পরিবর্তন: থাকছেন বিজয়-শরিফুল

প্রকাশ: ০৭:৫৩ পিএম, ২৪ Jun, ২০২২


Thumbnail একাদশে দুই পরিবর্তন: থাকছেন বিজয়-শরিফুল

দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে অ্যান্টিগায় যে একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ দল, সেই একাদশ থেকে সেন্ট লুসিয়ায় দ্বিতীয় টেস্টে দুটি পরিবর্তন এনেছে টাইগাররা। টানা অফ ফর্মের কারণে বাদ পড়েছেন সদ্য সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক, বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানকে।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুলের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজের পরিবর্তে খেলবেন শরিফুল ইসলাম। প্রথম টেস্ট ৭ উইকেটে হারের পর সিরিজ বাঁচাতে এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই সফরকারীদের সামনে। এমন সমীকরণ নিয়ে খেলতে নেমে আবারো টস হেরে ব্যাটিং করবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দল।

ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে বাংলাদেশ দলে ডাক পেয়েছেন বিজয়। শুরুতে উইন্ডিজ সফরের টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে স্কোয়াডে নাম ছিল তার। পরে ইয়াসির আলি রাব্বির চোটে টেস্টেও ডাক পান। ২৯ বছর বয়সী বিজয়ের বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় প্রায় এক দশক আগে। তবে সাকুল্য ৪টি টেস্ট খেলেছেন। ৯.১২ গড়ে করেছেন ৭৩ রান। 

শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে। কাকতালীয়ভাবে বিজয় শেষবার সাদা পোশাকে খেলেছিলেন এই উইন্ডিজের বিপক্ষে, সেন্ট লুসিয়াতেই। সেই একই প্রতিপক্ষ, একই মাঠে প্রত্যাবর্তন হলো তার। মুস্তাফিজকে সাদা বলের দুই সিরিজের কথা ভেবে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। এজন্য চোট কাটিয়ে একাদশে ফিরছেন শরিফুল।

দ্বিতীয় টেস্টের জন্য বাংলাদেশ একাদশ-

তামিম ইকবাল খান, মাহমুদুল হাসান জয়, এনামুল হক বিজয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, এবাদত হোসেন, সৈয়দ খালেদ ও শরিফুল ইসলাম।

বিজয়   শরিফুল  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন