ইনসাইড গ্রাউন্ড

কত কোটিতে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি?

প্রকাশ: ০৫:৫৯ পিএম, ২০ নভেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। এই মাঠে আছে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা। গ্যালারি থেকে শুরু করে ভেতরের প্রত্যেকটি ফ্যাসিলিটিজ দেখলে মনে হবে এ যেন রীতিমতো এক ক্রিকেট রাজ্য। রয়েছে অভিনবত্ব ও অধুনিকতার এক বিশাল সম্ভার। ফুটবল হলে অন্য কথা। কিন্তু, কোনও ক্রিকেটের স্টেডিয়ামে ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শক একযোগে খেলা দেখতে পারে! ক্রিকেটের দেশ ভারত বলেই তা সম্ভব হয়েছে।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শহর আহমেদাবাদের প্রাণকেন্দ্রে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে এই স্টেডিয়াম। শেষ সংস্কারের পর তার নামেই নামকরণ করা হয়েছে স্টেডিয়ামটির। ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া স্টেডিয়ামে শুরুর দিকে কেবল ৪৯ হাজার দর্শক খেলা দেখতে পারতেন। ২০১৫ সালে গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন নতুন করে সংস্কার কাজ শুরু করে। তখনই সিদ্ধান্ত হয় এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম। এই আধুনিক ক্রিকেট মাঠটি নির্মাণ করতে ৩৬০০ শ্রমিক টানা ৩৮ মাস ধরে কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়া-আমেরিকা-চায়নার বিশেষজ্ঞরা এই স্টেডিয়াম নির্মাণ তত্ত্বাবধান করেছেন। ৮০০ কোটি রূপি খরচ হয়েছে এই অভিনব সুবিধা সম্বলিত মাঠটি নির্মাণ করতে।

 

সবরমতী নদীর তীরে ৬৩ একর জমিতে গড়ে ওঠা দৈত্যাকার এই স্টেডিয়াম বিশাল এক বিস্ময়ের সৃষ্টি। অস্ট্রেলিয়ার ডিজাইনার ফার্ম পপুলাসের বানানো এবং লারসেন অ্যান্ড টার্বোর তৈরি করা এই স্টেডিয়ামে পা রাখলে নিশ্চিতভাবেই ক্রিকেটের প্রেমে হাবুডুবু খেতে হবে। থরে থরে বসানো কমলা রঙের চেয়ারে সূর্যের আলো পরলে ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে। স্টেডিয়ামের সবুজাভ ঘাস আনা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। যেখানে পা রাখলে মখমলের চাদরের মতো অনুভব হবে।

 

ছাদখোলা এই স্টেডিয়ামের উচুঁতে যারা বসবেন তাদেরই কেবল সূর্যের রোদ থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু বাকিদের তেমন সমস্যা হবে না। স্টেডিয়ামের চারিপাশে এমনভাবে খোলা জায়গা রাখা হয়েছে যেখান দিয়ে সুবাতাস ছড়ায় সর্বক্ষণ। ফলে বাড়তি গরমেও তিক্ততা অনুভব হবে না। প্রবেশে রয়েছে ৮টি পথ, যা সরাসরি যুক্ত আহমেদাবাদের সঙ্গে। ফলে ক্রিকেটপ্রেমীরাও সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন স্টেডিয়ামে।

 

ক্রিকেট আধুনিকতার সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে। ৪টি ড্রেসিংরুম, ৬টি ইনডোর অনুশীলনের উইকেট, ৩টি আউটডোর মাঠ, ইনডোর ক্রিকেট একাডেমি। ৪০ জন অ্যাথলিটের জন্য রয়েছে ডরমেটরি, ক্লাবহাউস এবং অলিম্পিকের মানের সুইমিং পুল।

 

জিমনাসিয়াম হোক কিংবা রেস্তোরাঁ— সবই সরাসরি অভ্যন্তরীণভাবে যুক্ত অ্যাকাডেমি ভবনের সঙ্গে। বিত্তশালী দর্শকদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা। ৭৬টি কর্পোরেট বক্স রয়েছে। যেখানে ২৫ জন করে খেলা দেখতে পারেন। বিশেষ ব্যবস্থা রাখা রয়েছে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতা থাকা দর্শকদের জন্যও। ‘স্টেট অব আর্ট’ এ স্টেডিয়ামের চারপাশে উচুঁ কোনো ফ্লাডলাইটের স্ট্যান্ড নেই। সুউচ্চ স্টেডিয়ামের ছাদেই বসানো হয়েছে এলইডি লাইট। যা আনা হয়েছে স্পেন থেকে। তাতে স্টেডিয়ামকে এক ভিন্ন রূপ দিয়ে সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।