ইনসাইড গ্রাউন্ড

কোড ৭৫ : ম্যান ফ্রম অ্যানাদার প্ল্যানেট

প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১


Thumbnail

ভীনগ্রহের ক্যালেন্ডারে ২০৮৭ সালের শেষভাগের কোনো একটা সময়! ভীন গ্রহের একটি স্থানে তৈরি হচ্ছে একটি টাইম মেশিন। উদ্দেশ্যে ৭৫ নাম্বার কোডধারী এক যাত্রীকে নিয়ে পৃথিবী নামক দূরবর্তী একটি গ্রহ ভ্রমণ করে আসা। টাইম মেশিনটি তৈরি হবার পর ভ্রমণের দিন তারিখ ঠিক করা হলো, সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো পেছনের কোন একটি সময়ে ঘুরে আসবার। টাইম মেশিনের সময়ের ডায়ালে সেট করা হলো ১৯৮৭ ডিজিটটি। যাত্রা শুরু করলো টাইম মেশিন। পৃথিবীর একটি অজ্ঞাত দেশে চুপিসারে এসে থামলো টাইম মেশিন। পৃথিবীর নিয়ম মেনে বিশ্বের একটি উন্নত দেশে ছোট্ট একটা শিশু জন্ম নিলো।

বাবা মায়ের কোলজুড়ে আসা ছেলেটি বড় হতে লাগলো। ছোট্ট শিশুটি যে দেশে জন্মেছিলেন সেই দেশেরই একটি ব্যাংকে চাকরি করতো ছেলেটির বাবা। ছেলেটি বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে একদিন ছেলেটির বাবা আবিষ্কার করলেন যে তার ছেলেটি ক্রিকেটে পারদর্শী। ছেলের এই প্রতিভার কথা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলো গোটা দেশেই। ধীরে ধীরে মূলধারার ক্রিকেটে খুব সহজেই তাই ঢুকে পড়লো ছেলেটি। ছেলেটির দুইটি গুন ছিলো, একইসাথে ছেলেটি করতে পারতো ব্যাটিং ও বোলিং। ন্যাচারাল ক্রিকেট প্রতিভার সাথে সে এমন একটি দেশে জন্মেছিলো যে দেশের ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বের ধনী ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তাই ক্যারিয়ারের একদম শুরুতেই ছেলেটি বিশ্বের নামকরা সব ক্রিকেট কোচদের সান্নিধ্য পেতে শুরু করলো। যার ফলে তার সহজাত প্রতিভা নিয়মিত ক্রিকেট কোচিং এর বদৌলতে ধীরে ধীরে পৌঁছে গেলো এক অনন্য উচ্চতায়। এক সময় অভিষেক হলো দেশটির জাতীয় দলে। নতুন অভিষিক্ত সেই ছেলেটির পাশে থাকলো দেশটির ছোট বড় সব মিডিয়া। ছেলেটির ক্রিকেট প্রতিভা এতোটাই মুগ্ধ করতে লাগলো সবাইকে যে একের পর এক ক্রিকেট পরাশক্তিকে হারিয়ে সেই দেশটির সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের তকমা লাগাতে শুরু করলো অনেকে। গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম তকমা পাওয়াতে অনেকেই ছেলেটির পূজা করতেও শুরু করলো। চারদিকে শুধুই সেই ক্রিকেটারের বন্দনা। টানটান উত্তেজনায় হুট করে ঘুম ভাঙলো রেজা সাহেবের। হুড়মুড় করে ঘুম ভেঙ্গে লাফিয়ে ওঠাতে ঘুম ভাঙলো পাশে শুয়ে থাকা সন্তান সম্ভবা স্ত্রী শিরীন রেজার। এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার শুয়ে পড়লেন রেজা সাহেব। মনে গেঁথে থাকলো স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্নটি।

পৃথিবীতে তখন ১৯৮৭ সাল চলমান। বাংলাদেশের মাগুরা নামক জেলায় বসবাস করা রেজা সাহেব চাকরি করেন একটি ব্যাংকে। অন্যান্য দিনের মতো ব্যাংকের ব্যস্ততার মাঝেই বেড়িয়ে পড়তে হলো রেজা সাহেবকে। বাড়ি থেকে খবর এসেছে তাই রেজা সাহেব ছুটলেন বাড়ির দিকে। রেজা সাহেব খুব চিন্তিত, কারণ প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন তার সন্তান সম্ভবা স্ত্রী। কিছুক্ষণ পরে শোনা গেলো একটি সদ্যজাত শিশুর চিৎকার। রেজা দম্পতির কোলজুড়ে আসলো ফুটফুটে এক শিশু। রেজা সাহেব তার নাম রাখলেন সাকিব আল হাসান। ছোট্ট শিশুটি বড় হতে লাগলো। রেজা সাহেব বিকালে ছেলের সাথে ফুটবল খেলতেন আর মনে করতেন সেই রাতে দেখা সেই স্বপ্নটির কথা।

স্কুল পেরিয়ে ফেলা ছেলেটি একটা সময় ঝুকলো ক্রিকেটের দিকে। রেজা সাহেব প্রথমদিকে অবাক হতেন কিছুটা কিন্তু প্রোক্ষণেই ভাবতেন স্বপ্ন কি আর সত্য হয়। একটা সময় সত্যি সত্যি সাকিব নামের সেই ছেলেটি যুক্ত হলো বাংলাদেশ নামক নড়বড়ে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশটির ক্রিকেটের সাথে।

২০০৬ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের সাথে এক ওয়ানডে ম্যাচে অভিষেক হলো রেজা সাহেবের ছেলে সাকিব আল হাসানের। ওই সময়টায় ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো অনেকটাই পিছনে। কালে ভদ্রে পেছনের সারির কিছু দলের সাথে হারতে হারতে জিতে গেলে উল্লসিত হতো এদেশের ক্রিকেট পাগল জনতা। ওই সময়টায় ক্রিকেট মোড়ল দেশগুলো মাঝে মাঝেও আওয়াজ তুলতো বাংলাদেশের ক্রিকেট সামর্থ্য আর বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে। কিন্তু একজন তো আছেন যিনি হয়তো জন্মেছিলেন ক্রিকেট পাগল এ জাতির কঠিন সময়ের ত্রাণকর্তা হিসাবে।

আস্তে আস্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নিজের ক্রিকেট সামর্থ্য পৌঁছে দিতে শুরু করলেন সাকিব আল হাসান। মাঝে মাঝে ব্যাটিং বোলিং দুই পাশ থেকে একাই দলকে টেনে তুলতেন সাকিব। ফল আসতে শুরু করলো। নিজের প্রাপ্তির সাথে সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেট আগাতে লাগলো সামনের দিকে। সাকিবের এই পথচলায় পাশ থেকে অবদান রাখতে শুরু করলেন তামিম, মুশফিক, মাশরাফি আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মতো ক্রিকেটাররা।

তবে সবাইকে ছাপিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোষ্টার বয় হয়ে উঠলেন সাকিব। অন্যদিকে দলের অন্যতম ভরসাও হয়ে উঠলেন সাকিব কারণ যেদিন সাকিব বল হাতে জ্বলে উঠতে পারতেন না সেদিন হাসতো সাকিবের ব্যাট। ফলে উন্নতি হতে লাগলো অলরাউন্ডার সাকিবের। বিশ্বের অনেক নামীদামী ক্রিকেটারদের পেছনে ফেলে ধীরে ধীরে বিশ্বের অলরাউন্ডারদের তালিকার শীর্ষে উঠে আসলেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। একটা সময় তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটের শীর্ষ অলরাউন্ডারের তকমা নিজের নামের সাথে জুড়ে গেলো জার্সি নাম্বার ৭৫ এর।

কিন্তু বিধি বাম। যে কোনো ইস্যুতে পশ্চাৎ দেশের খাঁজের মতো দুইভাগে ভাগ হয়ে যাওয়া এ জাতি হয়তো সাকিবের মর্ম বুঝতে শিখবেনা কোনো কালেই। ক্রিকেট পাগল ভক্ত থেকে শুরু করে এ দেশের মিডিয়া কোনোটাই যেন পক্ষে থাকেনা সাকিবের। সাকিব আল হাসানই হয়তো দেশের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি দেশীয় দর্শকের কাছে বেয়াদব নামে পরিচিত। যদিও আজকের বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য যারা কাজ নিজেকে বাজি রেখেছেন বারবার তাদের মধ্যে প্রথমেই থাকবেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এই সাকিবই বাংলাদেশকে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে শিখিয়েছেন। এই সাকিব শিখিয়েছেন কিভাবে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে মনস্তাত্ত্বিক খেলায় এগিয়ে থাকতে হয়।

অথচ কোনো ম্যাচে একটু খারাপ করলে, কিংবা ব্যাটে বলে জ্বলে উঠতে না পারলেই শুনতে হয় সাকিবের দিন ফুরিয়ে এসেছে। কিন্তু যার জন্মই হয়তো হয়েছিলো দেশের ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে নিতে সেই সাকিব তো দুয়োধ্বনি শুনে দমে যাবার পাত্র নন। সাকিব বারবার ফিরে আসেন বীরদর্পে। একের পর এক রেকর্ড ভেঙ্গেচুরে নিজের রেকর্ডবুকে যুক্ত করেন রেকর্ডের নতুন নতুন পালক।

কোনো ম্যাচ খারাপ করলে বা টিম বাংলাদেশ হেরে গেলে হয়তো খুব মন খারাপ হয়ে যায় রেজা সাহেবের। কোনো এক মন খারাপের রাতে রেজা সাহেবের হয়তো মনে পড়ে যায় সেই স্বপ্ন অথবা দুঃস্বপ্নের কথা। আফসোস করে হয়তো রেজা সাহেব মাঝে মাঝে ভেবে বসেন যে তার ছেলে সাকিব আল হাসান হয়তো ভুল সময়ে অথবা ভুলদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। পাশের দেশ ভারতের মাঝারি মানের কোনো অলরাউন্ডারকে নিয়ে উন্মাদনা দেখে হয়তো নিজের অজান্তেই আফসোসে ভোগেন রেজা সাহেব। ঠিক ওই সময়ে হয়তো মনে পড়ে যায় রেজুয়া সাহেবের দেখা সেই স্বপ্নটির কথা, কারণ স্বপ্নের শেষটা যেমন দেখেছিলেন সেই সময়টা আসতে হয়তো এখনো বেশ খানিকটা সময় বাকী। হয়তো এ জাতি কোনো একটা সময় বুঝতে শিখবে সাকিব আল হাসানের গুরুত্ব আর উচ্চতা। সেটি মিলে গেলে হয়তো অবাক হবেন না রেজা সাহেব। কারণ মাঝরাতে দেখা রেজা সাহেবের সেই ভিনগ্রহের ক্রিকেটারকে নিয়ে দেখা স্বপ্নটি যে এখনো কাউকে জানাননি তিনি।

ওদিকে ভীনগ্রহ থেকে এ দশকে আসবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি স্পেসশিপ। টাইম মেশিমের সময়ের ডায়াল ফিক্স করার আগে বার কয়েক ভেবে নিচ্ছে ওই গ্রহের বাসিন্দারা। কারণ তাদের ধারনা ৭৫ নাম্বার কোডধারী ভীনগ্রহ থেকে পৃথিবীর বুকে আসা মানুষটির মূল্য দিতে পারেনি পৃথিবীর কোনো এক দেশের বাসিন্দারা। যাত্রা কি তবে শুরু হবে স্পেসশিপের, কে জানে হয়তো হ্যা, হয়তোবা না...

 

বিঃদ্রঃ লেখাটির অনেকটা অংশই কাল্পনিক, বিষয়টি পাঠক দয়া করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।  



মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

তামিমের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০১:০৬ পিএম, ১৭ মে, ২০২২


Thumbnail

টেস্টে ব্যাট হাতে দারুণ ধারাবাহিক তামিম ইকবাল কেবল সেঞ্চুরির দেখাটাই পাচ্ছিলেন না। চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই আক্ষেপে প্রলেপ দিলেন বাঁহাতি ওপেনার। দীর্ঘ ২৬ মাসের বেশি সময় পর সাদা পোশাক গায়ে চাপিয়ে তিন অঙ্কের স্বাদ পেলেন তিনি। এই ফরম্যাটে লঙ্কানদের বিপক্ষে এটি তার প্রথম শতক। তামিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে বড় সংগ্রহের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। ৫২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান।

ইনিংসের ৫১ম ওভারে শ্রীলঙ্কান পেসার অসিথা ফার্নান্দোকে মিড উইকেটে খেলে দৌড়ে ১ রান নিয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম। টেস্টে এটি তার ১০ নম্বর সেঞ্চুরি। এই ফরম্যাটে সবশেষ শতকটি করেছিলেন ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এর মাঝে কেটে গেছে ১৬ ইনিংস। যেখানে ৬টি অর্ধশতক হাঁকালেও ম্যাজিক ফিগারের দেখা পাচ্ছিলেন না তিনি। ২৬ মাসের বেশি সময় পর সেই আক্ষেপ ঘুচলো তামিমের।

৮৯ রান নিয়ে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যান তামিম, সেখান থেকে ফিরেই সেঞ্চুরির কোটা পূর্ণ করেন। ৭৩ বলে ফিফটি করলেও পরের পঞ্চাশ করতে লেগেছে ৮৮ বল। সাকুল্য তামিমের এই শতক এসেছে ১৬২ বলে। যেখানে নেই কোনো ওভার বাউন্ডারি, চার মেরেছেন ১০টি।

এর আগে টেস্ট সংস্করণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭টি অর্ধশতক থাকলেও ছিল না কোনো শতক। লঙ্কনাদের বিরুদ্ধে এটি তামিমের প্রথম তিন অঙ্ক ছোঁয়া রান। আগে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছিল ৯২ রান। এমনকি টেস্টে তামিমের পাকিস্তানের পর সবথেকে কম ব্যাটিং গড় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

বিনা উইকেটে দেড়শ রান পেরিয়ে ইনিংস বিরতিতে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১২:৩০ পিএম, ১৭ মে, ২০২২


Thumbnail বিনা উইকেটে দেড়শ রান পেরিয়ে ইনিংস বিরতিতে বাংলাদেশ

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনিং জুটিতে শতরানের দেখা পেলো বাংলাদেশ দল। এই পাঁচ বছরে ৬২ ইনিংসে কোন শতরানের জুটি গড়ে তুলতে পারেনি কোন বাংলাদেশি ব্যাটার। তবে সেই আফসোস শ্রীলঙ্কা সাথে খেলায় গোচালেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়। আর সেই সাথে ১৫৭ রানে কোন উইকেট না হারিয়েই তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে বিরতিতে গেলো বাংলাদেশ দল। 

যদিও শত রানের ইনিংসে বাংলাদেশের দুই ব্যাটারের যত অবদান তার কোন অংশও কম পাবে না শ্রীলঙ্কার ফিল্ডাররাও। কিছু সহজ ক্যাচ মিস কাজে লাগাতে পারলে হয়ত বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ভিন্ন চেহারার দেখা পাওয়া যেতো। তবে তৃতীয় দিনের প্রথম ইনিংসের খেলা শেষ বাংলাদেশের দুই ব্যাটার তামিম ইকবাল ১৫২ বল মোকাবেলায় ৮৯ রান এবং মাহমুদুল হাসান জয় ১৩৪ বল মোকাবেলায় ৫৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। 

সকাল থেকেই শ্রীলঙ্কান বোলারদের বিপক্ষে দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান। এই সেশনে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের মালিকও হয়েছেন তামিম। এই ইনিংসের আগে সর্বোচ্চ রান ছিল মুশফিকুর রহিমের। তামিম দাঁড়িয়ে ছিলেন ৪ হাজার ৮৪৮ রানে। মুশফিককে (৮১ টেস্টে ৪৯৩২) পেরিয়ে যেতে তামিমের দরকার ছিল ৮৪ রান। সেটি আজ তুলে ফেলেছেন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান। এই প্রতিবেদন লেখার সময় তামিম ১০ বাউন্ডারিতে ১৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ রানে। মুশফিকের চেয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন ৫ রানে।

তামিমকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন তরুণ মাহমুদুল হাসানও। তিনিও দেখেশুনে খেলছেন শ্রীলঙ্কান বোলারদের। মারার বলটাই মারছেন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটিটি তুলে নিয়েছেন মাহমুদুলও। তিনি অপরাজিত ১৩৪ বলে ৫৮ রান নিয়ে। তাঁর ইনিংসে বাউন্ডারি ৯টি। তবে তাঁর ইনিংসে একটাই খুঁত রয়ে যাচ্ছে। আসিত ফার্নান্দোর বলে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে লাসিথ এম্বুলদিনিয়াকে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটি ধরতে পারেননি এম্বুলদিনিয়া।

বাংলাদেশ   শ্রীলঙ্কা   টেস্ট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

মেসির বার্সায় ফেরা নিয়ে যা বললো বার্সা

প্রকাশ: ০৯:৪৩ পিএম, ১৬ মে, ২০২২


Thumbnail মেসিকে নিয়ে যা বললো বার্সা

লিওনেল মেসির বার্সেলোনায় ফেরার গুঞ্জন গত রোববার আবারও উসকে দিয়ে তার বাবা হোর্হে মেসি জানিয়েছেন, কোনো একদিন মেসিকে ফিরতে দেখতে চান বার্সেলোনায়। এরপর থেকেই গুঞ্জন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আবার। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন বার্সার ফুটবল পরিচালক মাতেও আলেমানি।

আর্জেন্টাইন এই তারকার সঙ্গে বার্সেলোনার সম্পর্কটা ছিল ১৭ বছর দীর্ঘ। সেটা গেল বছরের আগস্টে শেষ হয়ে গেছে লা লিগার বেধে দেওয়া নিয়মের বেড়াজালে।

মেসিকে হারিয়ে বার্সেলোনা ধুঁকেছে চলতি মৌসুমে। ১৭ বছর পর খেলতে হয়েছে ইউরোপা লিগে। লা লিগা আর কোপা দেল রেতেও শিরোপা জিততে পারেনি দলটি। সব মিলিয়ে মেসির শূন্যতাটা বার্সা টের পেয়েছে ভালোভাবেই।

বার্সেলোনা ছেড়ে মেসিও ধুঁকেছেন বৈকি। সব প্রতিযোগিতায় ৩৩ ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ১১ গোল, করিয়েছেন ১৩টি। যে কারণে পিএসজি তাকে দলে ভিড়িয়েছে, সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দেখা পাইয়ে দিতে পারেননি, উলটো দল প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছে শেষ ষোলো থেকেই। আশানুরূপ পারফর্ম্যান্স না পেয়ে দর্শকদের দুয়োও শুনেছেন মেসি।

সব মিলিয়েই তার বার্সেলোনায় ফেরার গুঞ্জন শুরু হয় আবার। মেসি আগে ফেরার আশা ব্যক্ত করেছিলেন। এরপর বার্সেলোনা রাইটব্যাক ও মেসির সাবেক সতীর্থ দানি আলভেস তাকে ‘শেষ একটা নাচের’ জন্য ক্লাবে ফেরাতে চেয়েছিলেন। কোচ জাভিও বলেছিলে, ‘মেসির জন্য বার্সার দুয়ার খোলা সবসময়।’ সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার কথাও ছিল জাভির মতোই। 

তবে মাঝে বিষয়টা অনেকটাই আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছিল। যা আবারও আলোচনায় ফিরেছে গতকাল। মেসির বাবা ফিরেছেন বার্সেলোনায়, সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্ন ধেয়ে যায় তার দিকে, তার একটা থাকে মেসির বার্সায় ফেরা প্রসঙ্গে। তিনি উত্তরে বলেন, ‘মেসি বার্সায় ফিরবে কি না? আশা করি, কোনো একদিন সে বার্সেলোনায় ফিরবে।’ 

হোর্হে শুধু মেসির বাবা হলে বিষয়টাকে নিছকই আবেগী কিছু বলে উড়িয়ে দেওয়া চলত। তবে তিনি যে মেসির এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন! সে কারণেই বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে বিষয়টি। 

স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পেলেও তা বার্সার পরিচালক আলেমানির কাছে পৌঁছায়নি। অন্তত বার্সেলোনা এই কর্তা দাবি করেন এমন কিছুই। আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। এরপরই তার উত্তর আসে এমন। 

তিনি বলেন, ‘আমি এখনো বিবৃতিটা (মেসির বাবার) শুনিনি। আমার মতে, তারা যদি কিছু বলতে চায়, সেক্ষেত্রে তাদেরকে আমাদের সঙ্গেই কথা বলতে হবে।’

যদিও ইউরোপীয় দলবদল বিষয়ক খবরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম ফ্যাব্রিজিও রোমানো সম্প্রতি জানিয়েছেন, এখনই পিএসজি ছাড়ার ইচ্ছে নেই সাবেক বার্সা অধিনায়কের। অন্তত চুক্তিটা শেষ করতে চান সেখানে, যা শেষ হবে ২০২৩ এর জুনে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

লাঞ্চের বিরতির পর সাকিবের জোড়া আঘাত

প্রকাশ: ০১:১১ পিএম, ১৬ মে, ২০২২


Thumbnail লাঞ্চের বিরতির পর সাকিবের জোড়া আঘাত

লাঞ্চ বিরতি থেকে ফেরার পর মাঠে নেমেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। ওভারের দ্বিতীয় বলে রামেশ মেন্ডিসকে (১) বোল্ড করার পরের বলেই ব্যাট করতে নামা লাসিথ এমবুলদেনিয়াকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পেলেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। রিভিউ নিয়েও আউট এড়াতে পারেন নি।  

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১২১ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩৪০ রান। ম্যাথিউস অপরাজিত আছেন ১৫৭ রানে।

এর আগে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন আগের দিন অপরাজিত থাকা শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও দিনেশ চান্দিমাল। ২০৮ বলে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন তারা। এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতকের দেখা পান চান্দিমাল। ১২৮ বলে তিনি পঞ্চাশ পূর্ণ করেন।

অর্ধশতক হাঁকিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি চান্দিমাল। ১১৪তম ওভারে এসে প্রথম বলেই লঙ্কান এই ব্যাটারের উইকেট তুলে নেন নাঈম হাসান। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ৬৬ রানে বিদায় নেন চান্দিমাল। একই ওভারের পঞ্চম বলে ব্যাট করতে নামা নিরোশান ডিকওয়েলাকে ৩ রানে বিদায় করে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন নাঈম। ৩২৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশন শেষ করে শ্রীলঙ্কা।  

এর আগে প্রথম দিন শেষে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ১১৪ ও চান্দিমাল অপরাজিত ছিলেন ৩৪ রান করে। বাংলাদেশের পক্ষে নাঈম হাসান দুই আর তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান নিয়েছেন একটি করে উইকেট।


সাকিব   জোড়া আঘাত   সাকিব আল হাসান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড গ্রাউন্ড

দ্বিতীয় দিনেও নাঈমের জোড়া আঘাত, বাংলাদেশের স্বস্তি

প্রকাশ: ১২:১১ পিএম, ১৬ মে, ২০২২


Thumbnail দ্বিতীয় দিনেও নাঈমের জোড়া আঘাত, বাংলাদেশের স্বস্তি

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে আগের দিনের অপরাজিত থাকা শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও দিনেশ চান্দিমাল দারুণ শুরু করেন। ২০৮ বলে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন তারা।

এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতকের দেখা পান চান্দিমালও। ১২৮ বলে তিনি পঞ্চাশ পূর্ণ করেন।

যদিও অর্ধশতক হাঁকিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি চান্দিমাল। ১১৪তম ওভারে এসে প্রথম বলেই লঙ্কান এই ব্যাটারের উইকেট তুলে নেন নাঈম হাসান। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ৬৬ রানে বিদায় নেন চান্দিমাল। একই ওভারের পঞ্চম বলে ব্যাট করতে নামা নিরোশান ডিকওয়েলাকে ৩ রানে বিদায় করে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন নাঈম।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১১৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৩২৪ রান। ম্যাথিউস ১৪৫ ও রামেশ মেন্ডিস ০ রানে অপরাজিত আছেন।

এর আগে প্রথম দিন শেষে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ১১৪ ও চান্দিমাল অপরাজিত ছিলেন ৩৪ রান করে। বাংলাদেশের পক্ষে নাঈম হাসান দুই আর তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

নাঈম   জোড়া আঘাত   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন