ইনসাইড হেলথ

ওমিক্রনের তিন উপধরনের খোঁজ মিলেছে

প্রকাশ: ০৫:৩৩ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail ওমিক্রনের তিন উপধরনের খোঁজ মিলেছে

রাজধানীতে ওমিক্রন ধরনের তিনটি সাব-টাইপ (উপধরন) পাওয়া গেছে। এ উপধরনগুলো বেশি ছড়াচ্ছে। ইতোমধ্যেই করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জায়গা দখল করেছে ওমিক্রন। জানুয়ারিতে জিনোম সিকোয়েন্সিং করা নমুনার ৯০ দশমিক ২৪ শতাংশেই মিলেছে ওমিক্রনের উপস্থিতি।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ-এর (আইসিডিডিআরবি) গবেষণা এবং গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (জিআইএসএইডে) ওয়েবসাইটে জমা হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আইসিডিডিআরবির গবেষণায় বলা হয়, ওমিক্রন ভেরিয়েন্টের জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ঢাকা শহরে তিনটি সাব-টাইপ রয়েছে। এগুলো আফ্রিকান, ইউরো-আমেরিকান এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ওমিক্রন ধরনের সঙ্গে মিলে যায়।

আইসিডিডিআরবি বলছে, জানুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহে তাদের ল্যাবরেটরিতে ১ হাজার ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৮ শতাংশই ছিল করোনায় আক্রান্ত। আর আক্রান্তদের মধ্যে ওমিক্রন ছিল ৬৯ শতাংশের দেহে।

গত রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশে করোনা সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ৮০ শতাংশই করোনা পজিটিভ। ধারণা করা হচ্ছে, এখন বেশির ভাগই করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম বলেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। আস্তে আস্তে ডেল্টার জায়গাগুলোকে দখল করে ফেলছে ওমিক্রন। বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এখন সিজনাল যে ফ্লু হচ্ছে তার সঙ্গে কিন্তু ওমিক্রনের মিল রয়েছে। তাই এখন থেকে আরও সতর্ক হতে হবে।

গত নভেম্বরে সংগ্রহ করা নমুনাতেই করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছিল। তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছিল, তাতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতিই ছিল বেশি। জানুয়ারিতে এসে সে চিত্র বদলে গেছে। জানুয়ারিতে জিনোম সিকোয়েন্সিং করা ৯০ দশমিক ২৪ শতাংশে নমুনাতেই মিলেছে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি। বাকি ৯ দশমিক ৭৬ নমুনায় পাওয়া গেছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জার্মান সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (জিআইএসএইডে) ওয়েবসাইটে জমা হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র উঠে এসেছে। দেশে কভিড-১৯ সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য বিভিন্ন স্থানে জিনোম সিকোয়েন্সিং করে এই ওয়েবসাইটে ফল জমা রাখা হয়। জিআইএসএইডের তথ্য বলছে, ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য সংগ্রহ করা ৪১টি নমুনার মাঝে ৩৭টিতেই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি নমুনায় পাওয়া গেছে ওমিক্রনেরই ‘গুপ্ত রূপ’ হিসেবে পরিচিত বিএ.২ লিনেজ। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, যশোর ও কুষ্টিয়ার নমুনাতেও ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

করোনাভাইরাস   উপধরন   ওমিক্রন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

মাঙ্কিপক্স হলে ৪ দিনের মধ্যে টিকা নিতে হবে: ডা. শারফুদ্দিন

প্রকাশ: ০৮:২১ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail মাঙ্কিপক্স হলে ৪ দিনের মধ্যে টিকা নিতে হবে: ডা. শারফুদ্দিন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগীদের দুই সপ্তাহ এমনকি সম্ভব হলে চার দিনের মধ্যেই গুটিবসন্তের টিকা দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, মাঙ্কিপক্সের উপসর্গ সাধারণত ১ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ইনকিউবেশন পিরিয়ড গড়ে ১২ দিন, ক্ষেত্রবিশেষে তা ৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এজন্য ২ সপ্তাহের মধ্যে, সম্ভব হলে ৪ দিনের মধ্যে এটিকা ব্যবহার করতে হবে। গুটিবসন্তের টিকা মাংকিপক্স থেকে শতকরা ৮৫ ভাগ সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ আরও জানান, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, এফডিএ গুটিবসন্ত বা মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের জন্য উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দেওয়ার জন্য একটি লাইভ, নন-রিপ্লিকেটিং স্মলপক্স এবং মাঙ্কিপক্স ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে। সিডোফোভির- মাঙ্কিপক্সের জন্য অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ স্মলপক্স ভ্যাকসিন, মাঙ্কিপক্স ভ্যাকসিন উভয়ই লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড ভ্যাক্সিনিয়া স্ট্রেন থেকে উদ্ভূত।

তিনি বলেন, মাঙ্কিপক্স একটি ডিএনএ ভাইরাস। কাউপক্স, ভ্যাক্সিনিয়া এবং ভ্যারিওলা (স্ম্যালপক্স) এই গ্রুপের ভাইরাস। এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মাধ্যম বলে বিবেচিত। ৯০ শতাংশ রোগী ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। ১৯৫৮ সালে ল্যাবরেটরিতে প্রথম বানরের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম দেখা দিয়েছিল বলে ১৯৭০ সালে এর নামকরণ হয় মাঙ্কিপক্স।

তিনি উপাচার্য বলেন, মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগীদের দেহে স্থায়ী ক্ষত, বিকৃত দাগ, সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, কেরাটাইটিস, কর্নিয়ার আলসারেশন, অন্ধত্ব, সেপ্টিসেমিয়া এবং এনসেফালাইটিস দেখা দিতে পারে।

অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি জ্বরের পরে ২-৩ দিনের মধ্যে ঘাড়ের চারদিকে দেখা যায়। ১ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ফুসকুড়ি তৈরি হয়। ফুসকুড়ি প্রায়ই মুখে শুরু হয় এবং তারপর শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ২ থেকে ৪ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। এগুলো মুখমণ্ডল, শরীর, হাত-পা এবং মাথার ত্বকে হতে পারে। হাতের তালু এবং পায়ের পাতায় ক্ষত দেখা যেতে পারে, এগুলো ব্যথাহীন হয়। যদি ব্যথা থাকে তাহলে এটি সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হতে পারে। চুলকানি থাকতে পারে।



মাঙ্কিপক্স   হলে   ৪ দিনে   টিকা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

বিএসএমএমইউতে ন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম আরওপি অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৮:০৭ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail বিএসএমএমইউতে ন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম আরওপি অনুষ্ঠিত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচুরিটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ ডা. মিলন হলে এর আয়োজন করা হয়। এই ন্যাশনাল সিম্পোজিয়ামে সারাদেশ থেকে রেটিনা বিশেষজ্ঞ, শিশু চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিশুদের চিকিৎসক, নিউন্যাটোলজিস্ট, গাইনোকোলজিস্টরা অংশ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইফুল  ইসলাম বাদল, সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ জাফর খালেদ।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিগত বছরের তুলনায় অন্যান্য রোগের মত শিশুদের রোগের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। আমরা গত ১০ -১২ বছর ধরে এ রোগ নিয়ে কাজ করছি। তারই অংশ হিসেবে অপরিণত নবজাতকের চোখের রোগের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার  জন্য কেবিন ব্লকের ৩ তলায় আরওপি সেন্টার চালু করা করেছি। যারা শিশুদের এ রোগের চিকিৎসার সাথে জড়িত তাদেরকে এসব বাচ্চাদের স্ক্রিনিং ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইফুল  ইসলাম বাদল বলেন, শিশুদের রোগ আরওপি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য বেশী প্রচার প্রচারণা প্রয়োজন। আপনারা যারা শিশু রোগ নিয়ে কাজ করেন তারা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করলে দেশব্যাপী এসংক্রান্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, আমি ১০ বছর ধরে  আরওপি রোগ সম্পর্কে সচেতন করার জন্য কাজ করছি।বিভাগ, জেলা ও উপজেলা লেভেলে এ রোগ সম্পর্কে  নানান সভা  সেমিনার সিম্পোসিয়াম করেছি।যার ফলে শিশুদের আরওপি  রোগ নিয়ে আমাদের কাছে অভিভাবকরা আসতে শুরু করেছে। ৬৪টি জেলায় নিউ ন্যাটাল আইসিইউ স্থাপন করা হচ্ছে। এ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য ইউনিসেফ আমাদের অত্যন্ত দামি ৮টি রেটিনাল আরটি ক্যামেরা দিয়েছে। একটি আরটি ক্যামেরার দাম কম করে হলেও দেড় কোটি টাকার মত হবে।

সিম্পোজিয়ামে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতের হায়দ্রাবাদের এনভি কোসাদ আই ইন্সিটিউটের ডা. সুভদ্রা জালালী ও কলকাতার চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. অভিজিত চট্টোপাধ্যায়, চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল খালেদ, অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী প্রমুখ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

দেশে এখনো মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়নি: বিএসএমএমইউ উপাচার্য

প্রকাশ: ০৬:৫০ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে এখনো মাঙ্কিপক্সের কোন রোগী ধরা পড়ে নাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও এখন পর্যন্ত মাঙ্কিপক্সের আক্রান্ত কোন রোগী পাওয়া যায়নি। তবে করোনা মহামারীকে আমরা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে মোকাবিলা করেছি, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে যেমনভাবে বাংলাদেশে আতংক সৃষ্টি করতে দেই নাই, সেরকমভাবে আমরা মাস্কিপক্স ভাইরাসের জন্যও প্রস্তুত আছি।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারির বিশ্ব থেকে এখনো শেষ হয়নি। এরমধ্যেই বিশ্বে আরো একটি ভাইরাস জেঁকে বসবার উপক্রম করছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ ১৪টি দেশে একটি ফুসকুড়িসহ জ্বরের ঘটনা ঘটেছে যা মাঙ্কিপক্স হিসাবে নির্ণয় করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাঙ্কিপক্সকে শনাক্তযোগ্য ও বর্ধনশীল ব্যাধি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইতোমধ্যে সংক্রামক রোগ ‘মাঙ্কিপক্স’ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি স্থল, নৌ এবং বিমান বন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তিনি আরও বলেন, মাঙ্কিপক্স একটি ডিএনএ ভাইরাস। কাউপক্স, ভ্যাক্সিনিয়া এবং ভ্যারিওলা (স্ম্যালপক্স) এই গ্রুপের ভাইরাস। এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস যার প্রাথমিক সংক্রমণ সংক্রমিত প্রাণীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বা সম্ভবত তাদের অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়। উদাহরণ-জংলী কুকুর, ইঁদুর, খরগোশ, কাঠবিড়ালি, বানর, সজারু ইত্যাদি। ১৯৫৮ সালে ল্যাবরেটরিতে প্রথম বানরের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম দেখা দিয়েছিল বলে ১৯৭০ সালে এর নামকরণ হয় মাঙ্কিপক্স।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, এই ভাইরাসের ২টা স্ট্রেইন আছে। কঙ্গো বেসিন স্ট্রেন পশ্চিম আফ্রিকার স্ট্রেইনের চেয়ে বেশি মারাত্মক। এই ভাইরাস পশু থেকে প্রাণী এবং পশু থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণই সবচেয়ে ভয়ংকর মাধ্যম বলে বিবেচিত। ৯০% রোগী ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। গুটিবসন্তের টিকা বন্ধ করা এর একটি কারণ হতে পারে। আফ্রিকাতে ১-১০% পর্যন্ত মৃত্যুর হার রিপোর্ট করা হয়েছে, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে প্রাদুর্ভাবে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। জটিলতার মধ্যে রয়েছে স্থায়ী ক্ষত, বিকৃত দাগ, সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, কেরাটাইটিস, কর্নিয়ার আলসারেশন, অন্ধত্ব, সেপ্টিসেমিয়া এবং এনসেফালাইটিস। গুটিবসন্তের টিকা মাংকিপক্স থেকে ৮৫% সুরক্ষা প্রদান করে। ২ সপ্তাহের মধ্যে, সম্ভব হলে  ৪ দিনের মধ্যে এটি ব্যবহার করতে হবে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড গড়ে ১২ দিন, ৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত। প্রড্রোম ১ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। জ্বরজনিত অসুখের সাথে ঠাণ্ডা লাগা, ঘাম, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা,  ফ্যারিঞ্জাইটিস, শ্বাসকষ্ট এবং কাশি হয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন, লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি জ্বরের পরে ২-৩ দিনের মধ্যে ঘাড়ের চারদিকে দেখা যায়। ১ থেকে ১০  দিনের মধ্যে ফুসকুড়ি তৈরি হয়। ফুসকুড়ি প্রায়ই মুখে শুরু হয় এবং তারপর শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ২ থেকে ৪ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। এগুলো মুখমণ্ডল, শরীর , হাত-পা এবং মাথার ত্বক জড়িত। হাতের তালু এবং পায়ের পাতায় ক্ষত দেখা যেতে পারে। এগুলি ব্যথাহীন হয়।  যদি ব্যথা থাকে তাহলে এটি সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হতে পারে। চুলকানি থাকতে পারে।

হেমোরেজিক এবং ফ্ল্যাট ফর্ম, যা গুটিবসন্তের সাথে দেখা যায়, মাঙ্কিপক্সের রোগীদের ক্ষেত্রে এটা দেখা যায় না। আক্রান্ত বা সন্দেহযুক্ত প্রাণীর সংস্পর্শে যাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। প্রাণীর কামড়, আঁচড় এবং লালা বা প্রস্রাবের স্পর্শ থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য। আর আক্রান্ত রুগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে সকল ক্ষত শুকানো পর্যন্ত  আইসোলেশন আর কোয়ারেন্টাইন করে চিকিৎসা করা আবশ্যক।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে, এফডিএ গুটিবসন্ত বা মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের জন্য উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দেওয়ার জন্য একটি লাইভ, নন-রিপ্লিকেটিং স্মলপক্স এবং মাঙ্কিপক্স ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে। সিডোফোভির- মাঙ্কিপক্সের জন্য অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ স্মলপক্স ভ্যাকসিন, মাঙ্কিপক্স ভ্যাকসিন উভয়ই লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড ভ্যাক্সিনিয়া স্ট্রেন থেকে উদ্ভূত।

তিনি বলেন, গতকাল সোমবার বিকালের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঙ্কিপক্সের প্রথম রোগী সনাক্ত হয়েছে বলে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। যা ছিল নিছক একটি গুজব। বিষয়টি প্রথমে আমাদের নজরে  আনেন গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল কিছু সংখ্যক সাংবাদিক ভাইয়েরা। তাদের এ তথ্যে আমাদের প্রশাসন  আরো তৎপর হয়ে পড়ে।  এহেন ঘটনার পরপরই আমরা খোঁজ নেয়া শুরু করি আসলে কী ঘটেছে।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, গুজব রোধ এবং গুজব রটনাকারীকে খুঁজে পেতে গণমাধ্যমের কর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের কাছে মৌখিকভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়। সাইবার ক্রাউম ইনভেস্টিগেশের তড়িৎ পদক্ষেপে আমরা যে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা.আসিফ ওয়াহিদ অর্কের বরাতে সংশ্লিষ্ট গুজব পোস্ট হয় তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ হই। তবে ডা. আসিফ ওয়াহিদ জানান এমন কোন ঘটনা সে জানে না। তিনি এমন পোস্টও করেনি। আমাদের ডাটাবেসেও মাঙ্কি পক্স রোগী ভর্তির কোন তথ্য নেই। সর্বোপরি এ গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মূলত গণমাধ্যম কর্র্মীদের সোচ্চার ভূমিকার কারণে আজ দেশ একটি বড় গুজব প্রতিরোধ করতে পেরেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, ডা. আসিফ ওয়াহিদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের নতুন ভর্তিকৃত রেসিডেন্ট হলেও কোন ক্লাস করেন নি। যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা তাকে ট্রেস করতে পারিনি। তিনি ৩৯ তম বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডার। তিনি পরে নিজ ফেসবুকে মাঙ্কিপক্স নিয়ে কোন স্ট্যাটাস পোস্ট দেননি বলে জানান।

মাঙ্কিপক্স  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

করোনায় শনাক্ত ৩৪, মৃত্যু নেই

প্রকাশ: ০৬:০২ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail করোনায় শনাক্ত ৩৪, মৃত্যু নেই

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে কারও মৃত্যু হয়নি। ফলে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ১৩০ জনই রয়েছে।

একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৪ জন। এনিয়ে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৮ জনে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

করোনাভাইরাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড হেলথ

দেশে ২৬ কোটি ৪ লাখ ডোজ টিকা প্রয়োগ সম্পন্ন

প্রকাশ: ০৯:৫৪ এএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail দেশে ২৬ কোটি ৪ লাখ ডোজ টিকা প্রয়োগ সম্পন্ন

দেশে চলমান মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা কর্মসুচির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৬ কোটি ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৪ ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।স

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন শাখার (এমআইএস) পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরিত করোনার টিকাদান বিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়। এতে স্বাক্ষর করেছেন ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২৪ হাজার ২৪ জন। এছাড়া দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছেন ১১ কোটি ৭২ লাখ ৮৬ হাজার ৯৪৮ জন মানুষ। আর টিকার বুস্টার ডোজ নিয়েছেন এক কোটি ৪৪ লাখ ২৪ হাজার ৯৪২ জন।

এতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার) সারা দেশে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৩২৩ জনকে, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ৫৯ হাজার ৮৭৪ জনকে। এছাড়া এই সময়ে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ১৬৮ জনকে। এগুলো দেওয়া হয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম, ফাইজার, মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে এই পর্যন্ত ২ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৫ জন ভাসমান জনগোষ্ঠী টিকার আওতায় এসেছেন। তাদের জনসন অ্যান্ড জনসনের সিঙ্গেল ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

দেশে করোনা টিকার নিবন্ধন শুরু হয় গত ২৭ জানুয়ারি। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। ১৮ বছর বয়সী যেকোনো মানুষ এখন টিকা নিতে পারছেন।

করোনাভাইরাস   ওমিক্রন   টিকা   বাংলাদেশ   ডোজ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন