ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

আবারও ড. ইউনূসের ব্যাংক হিসাব তলব

প্রকাশ: ০১:২১ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail আবারও ড. ইউনূসের ব্যাংক হিসাব তলব

নোবেলজয়ী প্রতিষ্ঠান গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূসের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হয়েছে। আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে তার সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালেও ড. ইউনূস ও তার পরিবারের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করেছিল বিএফআইইউ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

বিএফআইইউ গত বৃহস্পতিবার ড. ইউনূসের সব ধরনের ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগু‌লো‌কে চিঠি পাঠি‌য়ে‌ছে। চি‌ঠি‌তে গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক এই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কোনো লেনদেনের রেকর্ড থাকলে তা আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে বিএফআইইউকে পাঠাতে বলা হয়ে‌ছে। ত‌বে কী কারণে ড. ইউনূসের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে তা বলা হয়নি।

বিএফআইইউয়ের সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের প্রয়োজনে বিভিন্ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সংস্থা এ ধরনের কোনো তথ্য চায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিজস্ব প্রয়োজনে এই তথ্য চেয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ব্যাংকটিতে এমডির দায়িত্ব পালন করে আসছেন ড. ইউনূস। ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পান তিনি। তবে অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে ২০১১ সালে সরকার তাকে এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেয়। সরকারের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ইউনূস উচ্চ আদালতে গেলে হেরে যান। ওই সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলাতে সরকারকে চাপ দেন। উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যে দেখা যায়, ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে অর্থ দিয়েছেন ড. ইউনূস।

ড. ইউনূস   গ্রামীন ব্যাংক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার ৮৩

প্রকাশ: ০১:১৮ পিএম, ২২ মে, ২০২২


Thumbnail রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার ৮৩

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৮৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ৮৭৬৬ পিস ইয়াবা, ৩০ কেজি ৮১৫ গ্রাম গাঁজা, ১৪৭ গ্রাম ৫৬ পুরিয়া হেরোইন, ৯৫৫ ক্যান বিয়ার ও ১০৪টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার (২১ মে) সকাল ছয়টা থেকে রোববার (২২ মে) সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৬২টি মামলা রুজু হয়েছে।

রাজধানী   মাদকবিরোধী অভিযান   গ্রেফতার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৬২

প্রকাশ: ১১:০৬ এএম, ১৮ মে, ২০২২


Thumbnail মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৬২

রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকায় ডিএমপির নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৬২ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারদের কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ মে) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে এক হাজার ১৩২ পিস ইয়াবা, ৬৮ কেজি ৯৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১১৮ গ্রাম হেরোইন, পাঁচ বোতল ফেনসিডিল ও পাঁচ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


মাদক অভিযান   গ্রেফতার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৬২

প্রকাশ: ১২:১২ পিএম, ১৭ মে, ২০২২


Thumbnail

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে  ৬২ জনকে গ্রেফতার করা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ। মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মে) সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে থেকে ৫ হাজার ৪২৯ পিস ইয়াবা, ২৩ কেজি ২৯৫ গ্রাম ৪০ গাঁজা, ৩৪ দশমিক ২ গ্রাম ৫১ হেরোইন, ১০ বোতল ফেনসিডিল, ৮ ক্যান বিয়ার ও ২ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


মাদক অভিযান   গ্রেফতার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৪৯

প্রকাশ: ১২:৩০ পিএম, ১৬ এপ্রিল, ২০২২


Thumbnail রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ৪৯

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৯ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মাদক বিক্রি ও সেবনের অপরাধে তাদের আটক করা হয়। 

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ছয়টা থেকে শনিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, আটকের সময় আসামিদের কাছ থেকে ১০ হাজার ৬২৯ পিস ইয়াবা, ১২০ গ্রাম ১৫ পুরিয়া হেরোইন, ২৪ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা ও ২২ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপির থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আটক   মাদকবিরোধী অভিযান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইনভেস্টিগেশন

টিপুকে হত্যার পর মোবাইল বিক্রি করে দেয় নাছির, সিম ফেলে ডাস্টবিনে

প্রকাশ: ১০:২২ এএম, ১৫ এপ্রিল, ২০২২


Thumbnail টিপুকে হত্যার পর মোবাইল বিক্রি করে দেয় নাছির, সিম ফেলে ডাস্টবিনে

গত ২৪ মার্চ রাতে নিজ মাইক্রোবাসে করে বাসায় ফেরার সময় রাজধানীর শাহজাহানপুরে খুন হন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু। তার গাড়িটি শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শো-রুমের সামনে এলে যানজটে পড়ে। ঠিক তখনই তার মাইক্রোবাসের পাশে দাঁড়িয়ে গুলি ছোড়ে হেলমেটধারী আততায়ী। এলোপাতাড়ি গুলিতে শুধু টিপুই নন, সে পথে রিকশা দিয়ে যাওয়া সামিয়া আফরান প্রীতি নামের বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের এক ছাত্রীও নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন টিপুর গাড়িচালক মুন্না।

মাত্র মিনিটখানেকের মধ্যেই এই হত্যার সংঘটিত হয়। এরইমধ্যে হেলমেট পরা ওই ব্যক্তি সড়ক বিভাজক টপকে গুলি করতে করতে রাস্তার অন্য পাশে অপেক্ষায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই দুই হত্যার ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পরপরই জড়িতদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করতে মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খুলতে থাকে হত্যা-রহস্যের জট। টিপু হত্যার পরিকল্পনায় নাসিরকে শুটারদের নাম না জানালেও মুসা শুধু এটুকু বলেছিল যে, এ হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করতে তার ব্যাকআপ প্ল্যানও রয়েছে। কিন্তু ওই রাতে নাছির নিজেই ফোন করে ‘ইট ইজ ডান’ বলার পর মুসার ব্যাকআপ প্ল্যানের আর প্রয়োজন হয়নি। 

এক পর্যায়ে জানা যায়, দুবাইয়ে বসে টিপু হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছিলেন সুমন শিকদার ওরফে মুসা। সে রাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরপরই মো. নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির দুবাইয়ে থাকা মুসাকে ফোনে জানান ‘ইট ইজ ডান’। এরপর নিজেও ঘটনাস্থল থেকে গা-ঢাকা দেন। একটি মোবাইলের দোকানে গিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কয়েকবার ফ্লাশ করে বিক্রি করে দেন। সিমটি দাঁত দিয়ে কামড়ে নষ্ট করে ফেলে দেন সিটি করপোরেশনের ডাস্টবিনে। হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর কিলার নাছির র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম উদ্ধার করতে সময় লাগে আরও কয়েকদিন।

পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টিপু হত্যাকাণ্ডে নাছিরের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা সবচেয়ে বেশি। কারণ, ২০১৬ সালে স্বার্থগত দ্বন্দ্বে টিপুর অন্যতম সহযোগী রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবু হত্যাকাণ্ডে এক নম্বর আসামি নাছির। এমনকি গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে র‌্যাবকে জানিয়েছে, রিজভী হত্যায় মামলার বিচারিক কার্যক্রম ধীরগতির না হলে তার মৃত্যুদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় অর্ধযুগ আগের এ হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি দুবাইয়ে অবস্থানকারী মুসা।

সূত্র আরও জানায়, টিপু হত্যার পরিকল্পনায় নাসিরকে শুটারদের নাম না জানালেও মুসা শুধু এটুকু বলেছিল যে, এ হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করতে তার ব্যাকআপ প্ল্যানও রয়েছে। কিন্তু ওই রাতে নাছির নিজেই ফোন করে ‘ইট ইজ ডান’ বলার পর মুসার ব্যাকআপ প্ল্যানের আর প্রয়োজন হয়নি।

গত ১ এপ্রিল র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৩ এর অভিযানে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর ও মিরপুর এলাকা হতে মো. নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছিরসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন- ঘটনার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ওমর ফারুক ও পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ এবং মো. মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশ। অভিযানে নজরদারির কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, নগদ তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং মোবাইলসহ উদ্ধার হয় অন্যান্য সামগ্রীও।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মোট ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। যেখানে ফারুক একাই ৯ লাখ টাকার যোগান দেন। বাকি ৬ লাখ টাকা আসে মুসা, সালেহ ও নাছিরের কাছ থেকে। গত ১২ মার্চ দুবাই যাওয়ার সময় মুসা ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নেন এবং হুন্ডির মাধ্যমে তাকে আরও ৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়। বাকি ৬ লাখ টাকা দেশে হস্তান্তরের চুক্তি ছিল। 

এরপর প্রাথমিক গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে টিপু ও তাদের (গ্রেফতার ব্যক্তিদের) মধ্যে বিরোধ চলছিল। মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজে ভর্তি বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয়পক্ষের দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছিল চরমে। এরই একপর্যায়ে ২০১৩ সালের ৩০ জুলাই রাজধানীর গুলশানে শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে মিল্কী হত্যার ঘটনা ঘটে। টিপু হত্যার ঘটনায় গ্রেফতাররা এলাকায় মিল্কীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

নয় বছরেরও বেশি সময় আগে মিল্কী হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওইসময় টিপুর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে ওমর ফারুক ও তার সহযোগীরা। এ হত্যা মামলার বাদীর মাধ্যমে এজাহারে টিপুর নাম অন্তর্ভুক্ত করানো হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে মামলা থেকে অব্যাহতি পান টিপু। এতে ক্ষুব্ধ হয় ওমর ফারুক গং। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে টিপুর সহযোগী রিজভী হাসান ওরফে বোচা বাবু হত্যা। বর্তমানে রিজভী হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

শুরু থেকেই ফারুক ও তার সহযোগীদের ধারণা ছিল, টিপুর কারণেই রিজভী হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়েছে। এরইমধ্যে মামলার বাদী রিজভীর বাবা আবুল কালামের সঙ্গে ফারুক ও তার সহযোগীরা ৫০ লাখ টাকায় দফারফা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু টিপুর হস্তক্ষেপেই মীমাংসায় যাননি কালাম।

একপর্যায়ে কালামকে হত্যার পরিকল্পনা করে ওমর ফারুকরা। কিন্তু টিপুর সঙ্গে চলাচল করার কারণে তা সম্ভব হয়নি। রিজভী হত্যায় আদালতে কালামের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই টিপু হত্যার পরিকল্পনা নেয় তারা। যেন মামলা পরিচালনায় গতি না আসে। তাদের ধারণা ছিল, কালাম একা মামলাটি সঠিকভাবে চালাতে পারবেন না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাস তিনেক আগে রিজভীর মামলার সাক্ষ্য শেষে আদালত চত্বর এলাকায় টিপু হত্যার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন ওমর ফারুকরা।

রিজভী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী মো. মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশকে অর্থের বিনিময়ে সাক্ষ্যদানে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। এতে মোরশেদুল আলম প্রথমে রাজি হলেও পরে টিপুর চাপে সাক্ষ্য দেন। তবে রিজভী হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার আসামিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টিপুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নেন মোরশেদুল। এই মোরশেদুলই টিপু হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ফারুক ও মুসাকে ফোনালাপের মাধ্যমে কয়েকজন আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। হত্যাকাণ্ডটি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সমন্বয়ের জন্য গত ১২ মার্চ দুবাই যান হত্যার নির্দেশদাতা সুমন শিকদার ওরফে মুসা।

র‌্যাব জানিয়েছে, টিপু হত্যার মধ্য দিয়ে রিজভী হত্যা মামলার মূল আসামিরা মামলাটিকে প্রভাবিত ও বাদীকে ভয় দেখানো যাবে বলে মনে করেন। সে অনুযায়ী টিপু হত্যার পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নে সন্ত্রাসী ও শুটার মুসাকে দায়িত্ব দেন রিজভী হত্যা মামলার আসামি বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক। মুসা ও তার ভাই সালেহও রিজভী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির সম্পর্কে জানতে চাইলে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হত্যাকাণ্ডের দিন সকাল থেকে নাছির টিপুকে ফলো করছিলেন। ওইদিন সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সে নিয়মিত টিপুর আপডেট দুবাইতে থাকা মুসার কাছে দিচ্ছিলেন। রাত ১০টা ২৪ মিনিটে টিপুকে গুলি করার পর নাসির মোবাইলে মুসাকে জানায়, ‘ইট ইজ ডান’। টিপুকে গুলি করার পর শুটাররা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। নাছিরও তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থলে নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলেই পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, টিপু হত্যার পর ওই রাতেই মুসার সঙ্গে শেষবার করে বলে বিক্রি করে দেওয়া নাছিরের নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের আগে একাধিকবার বিক্রি হয়ে হাত বদল হয়। নাছিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সিমটি সিটি করপোরেশনের ময়লার ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা হয়। একাধিকবার বিক্রি হওয়ায় মোবাইলটি উদ্ধারে একটু সময় লাগে।

উদ্ধার হওয়া নাছিরের সেই মোবাইল ফোনে কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নাছির বুঝতে পেরেছিল তার মোবাইলে তথ্য থেকে গেলে সেটিই হবে অন্যতম আলামত। এ কারণে তিনি মোবাইলটি একাধিকবার ফ্লাশ করে বিক্রি করে। তার মোবাইল ফরেনসিকের জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর ওইদিন রাতেই শাহজাহানপুর থানায় নিহত টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।

টিপু-প্রীতি হত্যার ৪৮ ঘণ্টা পর গত ২৬ মার্চ গ্রেফতার হন মূল শুটার মো. মাসুম ওরফে আকাশ। গত ৫ এপ্রিল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন গ্রেফতার মাসুম। আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, টিপুকে গুলি করে হত্যার কথা জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন শুটার মাসুম। 


টিপু হত্যা   টিপু-প্রীতি হত্যা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন