ইনসাইড পলিটিক্স

তৈমুর: হিরো নাকি জিরো হবেন?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail তৈমুর: হিরো নাকি জিরো হবেন?

তৈমুর আলম খন্দকার একাই নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের উত্তাপ ছড়াচ্ছেন। এই নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকার প্রার্থী হওয়ার কারণেই জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। শুধু নির্বাচনী প্রচারণা জমে ওঠেনি নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন এখন সরকারের প্রতি আস্থার গণভোট হিসেবে পর্যবসিত হয়েছে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন। তৈমুর আলম খন্দকার নিজেকে জনতার প্রার্থী বলে ঘোষণা করেছেন এবং এই নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য তাকে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় পদ ছাড়তে হয়েছে। তাকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াননি বরং এই নির্বাচনকে ঘিরে তিনি তাঁর সারা জীবনের রাজনৈতিক অর্জনকে নিলামে উঠিয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এই নির্বাচনে তিনি হিরো হতে পারেন অথবা জিরো হতে পারেন। এই নির্বাচনের যদি শেষ পর্যন্ত সেলিনা হায়াৎ আইভীর মত জনপ্রিয় হেভিওয়েট এবং সব প্রার্থীকে তৈমুর আলম খন্দকার পরাজিত করতে পারে তাহলে রাজনীতিতে তিনি হিরো হবেন। 

শুধু নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে না এই নির্বাচনে তৈমুর যদি নির্বাচিত হন তবে দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ বিএনপি নির্বাচনে একটি ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছেন। কৌশলটি হলো এরকম যদি তৈমুর আলম খন্দকারকে বিজয়ী হয় তাহলে তাঁকে বিএনপি ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেবে এবং এই নির্বাচনের ফলাফলকে সরকারের প্রতি অনাস্থা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবে। তারা বলবে যে এই নির্বাচনে মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। এই নির্বাচনে যদি তৈমুর আলম খন্দকার বিজয়ী হন তাহলে বিএনপির পক্ষ থেকে এটাও বলা হবে যে ধানের শীষ প্রতীক না নিয়েও তিনি বিজয়ী হয়েছেন এটি সরকারের প্রতি গণঅনাস্থার একটি প্রতীক। আবার এই নির্বাচনে যদি তৈমুর আলম খন্দকার পরাজিত হন তাহলে বিএনপি বলবে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়না তার একটি বড় প্রমাণ নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন। তারা বলবে যে বিএনপি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি কাজেই এই নির্বাচনে বিএনপি'র হারার কোন প্রশ্নই আসে না। আর এই নির্বাচনে যদি তৈমুর আলম খন্দকার পরাজিত হন তাহলে তাকে যে বিএনপি ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল সেখান থেকে তাঁকে আর আলিঙ্গন করবে না। ফলে এই নির্বাচনে যেমন বিএনপি'র শুধুই লাভ, কোন ক্ষতির হিসেব নিকেশ নেই তেমনি তৈমুর আলম খন্দকারের এই নির্বাচনের মাধ্যমে যেমন হিরো হওয়ার সুযোগ আছে তেমনি জিরো হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। 

দীর্ঘদিন ধরেই তৈমুর আলম খন্দকার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক সংকট কালে তিনি বিএনপির সাথে থেকেছেন। তিনি সংস্কারপন্থী হন নাই, বিএনপি প্রতি কখনো অনাস্থা দেখাননাই। কিন্তু সেই তৈমুর আলম খন্দকারের সারা জীবনের রাজনীতির প্রাপ্তি এবং অর্জন এখন পরীক্ষার মুখোমুখি। এই নির্বাচনে যদি তিনি পরাজিত হন তাহলে পরে তার সব রাজনৈতিক অর্জন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং তিনি এতিম, পরিত্যক্ত একজন রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হবেন। আর যদি এই নির্বাচনের সবকিছু উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত তিনি জয়ী হতে পারেন তাহলে পরে হয়তো তিনি বিএনপিতে হিরো হবেন। শুধু বিএনপিতেই নয় বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে হয়তো তিনি হিরো হবেন। এখন দেখার বিষয় যে তৈমুর আলম খন্দকার হিরো হবেন নাকি জিরো হবেন। আর এটি দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।


তৈমুর আলম খন্দকার   বিএনপি   নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন   সেলিনা হায়াৎ আইভী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সম্রাটের ওপর এত ক্ষোভ কেন?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail সম্রাটের ওপর এত ক্ষোভ কেন?

শেষ পর্যন্ত সম্রাটের জামিন বাতিল করে দিয়েছে হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশন সম্রাটের জামিনের আবেদন পাওয়ার পরপরই হাইকোর্টে এই জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন এবং এই আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদের এবং বিচারপতি মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্রাটের জামিন বাতিল করেন। সম্রাটের জামিন যখন বাতিল করা হয় তখনও তিনি বিএসএমএমইউতে আইসিইউতে অবস্থান করছেন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জানান যে, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তিনি এখনো আইসিইউতে রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, ১১ মে সম্রাটকে নিম্ন আদালত জামিন দেয় এবং জামিনের পর পর ১৪ মে সম্রাটের জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিভিউ আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্রাট কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন, তিনি মাঠ পর্যায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে সম্রাটের অবদান প্রশংসনীয় বলেই আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে বলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় দলকে সংগঠিত রাখা, নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার পিছনে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মানে এই নয় যে তিনি যা খুশি তা-ই করার লাইসেন্স পেয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই বলেন যে, সম্রাটের চেয়েও বড় অপরাধ করে বা সম্রাটের চেয়েও গুরুতর অপরাধ করে অনেকে মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে তেমন কোনকিছু লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

যে ক্যাসিনো অভিযানে সম্রাট গ্রেফতার হয়েছিলেন সেই ক্যাসিনো অভিযানেই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক আনিসের নাম এসেছিল। আনিসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল কিন্তু আনিস দেশ ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে তিনি দেশে এসে বহাল তবিয়তে অবস্থান করছেন। এছাড়াও সে সময় সম্রাটের সঙ্গে যারা অভিযুক্ত ছিল তাদের অনেকেই মুক্তি পেয়েছে এবং তারা আবার আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কিন্তু ৩১ মাস কারা অন্তরীণ থাকার পর সম্রাটকে যখন জামিন দেয়া হলো তারপর দুর্নীতি দমন কমিশন এত দ্রুত তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো কেন, সেই প্রশ্নটি উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে যে, সম্রাটের ব্যাপারে এত ক্ষোভ কেন?

কিছুদিন আগেই সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের দণ্ড হাইকোর্ট বহাল রেখেছে। সেই দণ্ড বহাল রাখার পরও তার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাকে এক মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের ব্যাপারেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। তাই প্রশ্ন উঠেছে যে, শুধু কি সম্রাট অপরাধী? সম্রাটের শারীরিক অবস্থার কথা সকলেই জানেন। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও এই বিষয়টি অজানা নয়। তার জামিন প্রাপ্তিতে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু তিনি যে অসুস্থ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি যদি সুস্থ থাকতেন তাহলে জামিন পাওয়ার তিনি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যেতেন। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। অনেকেই মনে করেন যে, আওয়ামী লীগের জন্য সম্রাটের যে অবদান সেই অবদান স্বীকার করে তার প্রতি একটু উদার হওয়া প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুঃসময়ে সম্রাটরাই থাকেন, অন্যরা আপসকামিতায় জড়িয়ে যান। আর সম্রাটের প্রতি যেটা করা হচ্ছে সেটি রাজনীতিতে মাঠের কর্মীদেরকে একটি ভুল বার্তা দিতে পারে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ আশীর্বাদ’

প্রকাশ: ০৮:১৮ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail ‘শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ আশীর্বাদ’

ড. মো. আওলাদ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য মহান আল্লাহর বিশেষ আশীর্বাদ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ৪১ বছর ধরে এদেশের মানুষের স্বপ্নপূরণে নিরলসভাবে কাজ করে চলছেন তিনি।

শুক্রবার (২০ মে) বিকেল চারটায় জুরাইন রেলগেট এলাকাসংলগ্ন চত্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কদমতলী থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।



ড. মো. আওলাদ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা এসেছিলেন বলেই নিজের টাকায় পদ্মা সেতু হয়েছে। চলতি বছর জুন মাস থেকেই পদ্মা সেতুতে গাড়ী চলাচল করবে। খুব সহসাই পদ্মা সেতুতে রেল লাইন সংযোজিত হবে। শেখ হাসিনার আশীর্বাদেই এই জুরাইন রেলগেটে ফ্লাইওভারসহ পদ্মা নদীর তীর পর্যন্ত (মাওয়া পর্যন্ত) এত সুন্দর নয়নাভিরাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মহাসড়ক নির্মিত হয়েছে। কৃষির উন্নয়নে সারা বিশ্ব আজ ঈর্ষান্বিত।



তিনি আরও বলেন, মানুষের মাথাপিছু আয় আড়াই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষার উন্নয়ন, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র,  পায়রা বন্দরসহ অসংখ্য মেগা প্রকল্প, আজ দৃশ্যমান। শতভাগ মানুষের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।আশ্রয়হীন সকল মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নাই। আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মহাজোট থেকে পরপর দুইবার নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ঢাকা-৪ এলাকার উন্নয়নে নজর দিচ্ছেন না। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন না। প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষের আবাস অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা এই এলাকার ডিএনডি বাঁধের মধ্যে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশার কথা বিবেচনা করে এই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘ডিএনডি ড্রেনেজ অ্যান্ড স্যুয়ারেজ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’টি যথাসময়ে বাস্তবায়নসহ, মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন এবং খেলার মাঠসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।



সাবেক এই ছাত্রনেতা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৮০ সালের এই দিনে,  শেখ হাসিনা স্বদেশের পবিত্র মাটিতে ফিরেছেন। ঐদিন ঢাকায় প্রচণ্ড তাপদাহ ছিল। সারাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে সমবেত হতে থাকে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সাজসাজ রবরব। আমরা স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও আওয়ামী লীগের মিছিলের সাথে উপস্থিত হয়েছিলাম। প্রচণ্ড গরমে মানুষের নাকাল অবস্থা। শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি যখন বাংলার আকাশে প্রবেশ করলো, আবহাওয়ার কারণে আকাশ তখন মেঘলা হয়ে আসলো। আল্লাহর অশেষ রহমতে অঝোরে বৃষ্টি নামল। সেদিন মানিক মিয়া এভিনিউতে সমবেত জনতা তাপদাহের পর বৃষ্টিতে ভিজে স্বর্গীয় সুখ ও শান্তি পেয়েছিল। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনে মানুষের আনন্দাশ্রু ও প্রকৃতি যেন একীভূত হয়েছিল।

কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নাছিম মিয়ার সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা পরিষদের নির্বাচিত সাবেক প্যানেল মেয়র ও সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, ৫৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত মুফতি, ৫৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মহব্বত হোসেন, থানা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা শরীফ মো. শাহজাহান, রোকসানা বেগম পারুল, সৈয়দ আহমেদ, শহিদ মাহমুদ হেমী, কাজী জাহিদ, আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ, জাহাঙ্গীর খান, মুনিরুজ্জামান মুনীর, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌসী ইয়াসমিন পপি, থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাবু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামীম আহমেদ, থানা যুব মহিলা লীগ সভাপতি হাসিনা শেখ, প্রমুখ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উন্নয়ন দেখে অনেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে : আমু

প্রকাশ: ০৮:১১ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail উন্নয়ন দেখে অনেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে : আমু

আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা সহ্য না করতে পেরে অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি।

শুক্রবার (২০ মে) দুপুরে ঝালকাঠি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আমির হোসেন আমু বলেন, যে পাকিস্তান আমাদেরকে এতো ঠকালো আজকে উন্নয়নের ধারায় আমরা তাদের থেকে এগিয়ে। আমাদের এক টাকা পাকিস্তানের দুই টাকা ১০ পয়সার সমান। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখনও অনেক দেশ আমাদেরকে গ্রহণ করতে পারেনি। পারলেও আমাদের উন্নয়নে ঈর্শান্বিত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের প্রচেষ্টা থাকবে আমাদের উন্নয়ন ব্যাহত করা।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান আরিফুর রহমান, পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সালাহ্উদ্দিন আহম্মেদ সালেক, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার আওতাধীন ১০ ইউনিয়নের দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


দেশের   বিরুদ্ধে   ষড়যন্ত্র  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

৫ কারণে আওয়ামী লীগে অস্বস্তি

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail

নির্বাচনের আর দেড় বছর বাকি আছে। কিন্তু এর মধ্যেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভেতর নানারকম অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দেশে ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে। আগামী মাসে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হবে, অন্যান্য মেগা প্রকল্প গুলোর কাজও শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় নিজেদেরকে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছে। কিন্তু এতকিছুর পরও আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে অস্বস্তি, শঙ্কা দানা বেঁধে উঠছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী মনে করেন যে, নির্বাচন জয়ের জন্য শুধু উন্নয়ন নয় আরো কিছু প্রয়োজন এবং সাফল্যের মত ব্যর্থতাগুলোও মূল্যায়িত হওয়া প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের ধারণা, কিছু কিছু কারণে আওয়ামী লীগ সরকার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। পাঁচটি কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-

১. অস্থির বাজার: দ্রব্যমূল্য এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা নিজেই বলেছেন যে, বাজারে গেলে তাদেরই নাভিশ্বাস উঠছে, সাধারণ মানুষের অবস্থা তো আরো। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তাহলে সব উন্নয়ন অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে।

২. কিছু কিছু মন্ত্রীর ব্যর্থতা: আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন কিছু কিছু মন্ত্রীর প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। তারা বলেন, এ সমস্ত মন্ত্রীদের অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতার দায়ভার দলকে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, খাদ্য, শিক্ষা, রেলমন্ত্রীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের ঘরের ভিতর এখন তুলকালাম হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন যে, এ সমস্ত ব্যর্থ মন্ত্রীদের নিজেদেরই সরে যাওয়া উচিত।

৩. আন্তর্জাতিক চাপ: আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অস্বস্তি একটি বড় কারণ মনে করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক চাপ। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর একের পর এক চাপ সৃষ্টি করছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন। এই চাপ মোকাবেলার একটা কৌশল আওয়ামী লীগকে দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে বলেই তাদের ধারণা। কারণ, আগামী নির্বাচনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাদের ধারণা।

৪. দলের কোন্দল: আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আরেকটি বড় অস্বস্তির কারণ হলো দলের ভেতর কোন্দল। দলের ভেতর চেইন অব কমান্ড নেই, বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে তৃণমূল, একের পর এক নেতাকর্মীরা ফ্রি-স্টাইলে কথা বলছেন, সারা দেশে কোন্দল ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এই কাউন্সিলের মাধ্যমে যদি দলকে সংগঠিত না করা যায় এবং কোন্দল যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আওয়ামী লীগের জন্য সেটি একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও অনেকে মনে করেন।

৫. অর্থনৈতিক সংকট: ক্রমশ দেশে অর্থনৈতিক সংকট বাড়ছে। যদিও এর পেছনে কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে দুই বছর করোনা এবং তার আগে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা। এই সবকিছু থেকে বাংলাদেশ উতরে গেলেও এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর অর্থনৈতিক সংকট ক্রমশ দানা বেঁধে উঠছে। ইতিমধ্যে সরকার কৃচ্ছতা সাধনের জন্য কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ যাত্রার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এসবের পরও সামনের দিনগুলোতে যে অর্থনৈতিক সংকট হবে, সেই সংকট আগামী নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকের ধারণা। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, নির্বাচনের আগে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দিনাজপুরে ৬ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী আটক

প্রকাশ: ০৭:৪৮ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail দিনাজপুরে ৬ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী আটক

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। নাশকতা ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ভোরে বিরামপুর পৌরসভার কলেজবাজার-বটতলা এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক নেতাকর্মীরা হলেন-হাকিমপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম (৪৫), একই উপজেলার বোয়ালদার ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আলতাব হোসেন (৫৪), সেক্রেটারি আজাহার আলী মণ্ডল (৬০), শিবির কর্মী নবাবগঞ্জ উপজেলার আব্দুর রাফি (২০), রেজাউল ইসলাম (৩২) এবং নাজিম উদ্দিন (২০)।   

এ ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছেন বিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতাহারুল ইসলাম।  

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত জানান, বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বিরামপুরে একত্রিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে কলেজবাজার এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় সেখান থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। আর বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তিনি আরও জানান, আটক ছয়জনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


দিনাজপুরে   জামায়াত   শিবির   আটক  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন