ইনসাইড পলিটিক্স

টানেলে থাকা বিএনপি কি আলোর দেখা পাবে?

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১১ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail টানেলে থাকা বিএনপি কি আলোর দেখা পাবে?

টানেলের অভ্যন্তরে থাকা বিএনপি এখন আলোর সন্ধান করছে। একদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে নাকি আন্দোলনে যাবে, এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না দলটির হাইকমান্ড। অন্যদিকে জনগণ কর্তৃক ধিকৃত জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে হরিহর আত্মার সখ্যতা বজায় রাখবে নাকি জোট ভেঙ্গে দেবে, এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বিষয় এখনো স্পষ্ট নয় বিএনপির রাজনৈতিক নীতি-কৌশলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থেকে দলটিতে দিশাহীন অবস্থা বিরাজ করছে এবং দলটি বর্তমানে আলোর সন্ধানে ব্যতিব্যাস্ত। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত কাঙ্খিত আলোর দেখা পাবে কিনা, এ নিয়ে দলটির অনেক নেতাই দ্বিধান্বিত। বিশেষ করে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আদালত কর্তৃক দণ্ডিত পলাতক তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ দল আলোর দেখা পাবে কিনা, তা নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সহ রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেরই সন্দেহ আছে।

সম্প্রতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন যে, বিএনপির আন্দোলন এখন টানেলের শেষ পর্যায়ে, ভেতর থেকে তারা আলো দেখতে পাচ্ছেন। তার এ মন্তব্য থেকে এতটুকু স্পষ্ট যে, বিএনপির সিনিয়র নেতারাও মনে করে দলটি টানেলে আটকে আছে এবং আলোতে ফিরতে প্রাণপন চেষ্টা, প্রয়াস চালাচ্ছে। মানুষ সাধারণত কোথাও হারিয়ে গেলে অথবা দিক খুঁজে না পেলে আলো দেখার চেষ্টা করে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আজ অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নানা হিসাব-নিকাশে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন নেতা-কর্মীদের অনেকে। 

বিএনপির নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, রাজনীতিতে এখন বিশেষ ভূমিকায় নেই বিএনপি। বিশেষ করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের দিকটি এখনো স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা তো কাটেইনি, বরং বেড়েছে। গত কয়েক মাসের মধ্যেই জনপ্রিয় চার নেতাকে বহি:ষ্কার করেছে দলটি। লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়ার নির্দেশেই দলের জনপ্রিয় নেতাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তারেকের স্বৈরচারী মনোভাব দলকে দিনে দিনে জনবিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। অন্যদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিএনপি কতটা প্রস্তুত, সে প্রশ্ন উঠেছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে নাকি বর্জন করে আন্দোলনের ছক কষবে, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কাছেও এর জবাব নেই। তবে বর্তমানে মাঠপর্যায়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যে কমিটি দেওয়া হচ্ছে, তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে হচ্ছে যে এসব কমিটির লক্ষ্য নির্বাচন, আন্দোলন নয়। তবে দলটি কখন কি করবে, দলটির কে কি বলবে, বর্তমানে তা বোঝা অত্যন্ত মুশকিল। তাদের এই আচরণে দেশবাসী তো বটেই, দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও হতাশ। বিরোধী দলের ওপর জনগণের ভরসা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবতা হলো মানুষ বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির প্রতি আস্থা হারিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, জাতীয় সংসদে আসনসংখ্যা যত কমই হোক না কেন, এখনও বিএনপিই দেশের প্রধান বিরোধী দল। আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীদের প্রতিদিনকার বক্তৃতা-বিবৃতির লক্ষ্যবস্তুও বিএনপি। জাতীয় পার্টিকে মনে করা হয় সরকারের ‘ঘরের লোক’ বা ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল। বুদ্ধিদীপ্ত, গঠনমূলক রাজনীতি থেকে বিএনপির অবস্থান যোজন যোজন দূরে থাকায়  ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতা-অক্ষমতার ফসল যে বিএনপি ঘরে তুলে নেবে, তার কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিএনপির রাজনীতি ও সংকট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, বিএনপির রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট হল নেতৃত্বের সংকট। তাদের সমর্থক আছে, কিন্তু তাদের নেতৃত্ব নেই। খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে তারা যে আন্দোলনের কথা বলছে ও করছে, আমি মনে করি না এটি রাজপথের আন্দোলনের বিষয়। এটি হলো মানবতার বিষয়, সহনশীলতার বিষয় এবং একই সঙ্গে সহমর্মিতার বিষয়। রাজপথে কোনো কিছু সমাধান হয় না। রাজপথের সমাধান সাময়িক সমাধান। এটা ভবিষ্যতে আরো প্রকট আকার ধারণ করে। রাজনীতি হল আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো, ছাড় দেওয়া। এটাকে বলে রাজনীতি। রাজনীতি হচ্ছে সমাধানের প্রক্রিয়া, সমস্যা সৃষ্টি করার নয় বলেও মনে করেন তিনি।

বিএনপি   রাষ্ট্রপতি সংলাপ   তারেক রহমান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

লাইম লাইটে তোফায়েল আহমেদ

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail লাইম লাইটে তোফায়েল আহমেদ

বর্ষীয়ান নেতা, আওয়ামী লীগের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং জীবন্ত ডিকশনারি তোফায়েল আহমেদ আবার লাইম লাইটে এসেছেন। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়েই রাজনীতির মাঠে সদর্পে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন। গত শনিবার তোফায়েল আহমেদ ভোলায় যান। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেখান থেকে ফিরে আসার পরেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকা সফর করেন। এবারই তিনি প্রথম পদ্মা সেতু দিয়ে পাড়ি দিয়ে ভোলায় যান। ভোলায় গিয়ে তিনি বিরোধী দলের কঠোর সমালোচনা করেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন যে, রাজপথ দখল করা অত সহজ নয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পাল্টা জবাব হিসেবে তোফায়েল আহমেদ এ বক্তব্য দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন যে, আগে রাজপথ দখল করতে হবে তারপর হরতাল কর্মসূচি দেয়া হবে। ৭ আগস্ট রবিবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন। এ সময় তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৬৯ সালে আমরা আন্দোলন করে আইয়ুব খানকে বিতাড়িত করেছি, এটাকে বলে আন্দোলন। তিনি বলেন, আমরা গত ১৪ বছর ধরে বিএনপি মহাসচিবের একই বক্তব্য শুনেছি। তারা রাজপথ দখলের কথা বলে। রাজপথ দখল অত সহজ নয়। রাজপথ দখল করেছে আমরা। তোফায়েল আহমেদের এ বক্তব্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ব্যাপকভাবে উদ্বেলিত করেছে। কারণ, আওয়ামী লীগের যে কয়েকজন নেতার কথা মানুষ পছন্দ করে, যে কয়েকজন নেতার কথায় মানুষকে উজ্জীবিত হয় তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে তোফায়েল আহমেদ একজন।

দীর্ঘদিন পর তিনি নীরবতা ভঙ্গ করেন। যখন আওয়ামী লীগ সত্যিকারের সঙ্কটে তখন তোফায়েল আহমেদের এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এর আগে, ৫ আগস্ট শহীদ শেখ কামালের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি একাধিক জাতীয় দৈনিকে নিবন্ধন লিখেছেন। এই নিবন্ধটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে যখন আওয়ামী লীগের হাইব্রিড এবং নব্য আওয়ামী লীগাররা ইতিহাসের চর্বিত চর্বণ করছেন এবং তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি, অসম্পূর্ণতা দিয়ে নানা রকম লেখালেখি করছেন সেই সময় জীবন্ত কিংবদন্তী তোফায়েল আহমেদ যেন সব ঘটনাগুলোকে চোখের সামনে নিয়ে এসেছেন। আজ ছিলো বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মদিন। সেই দিনটি উপলক্ষে তোফায়েল আহমেদ একাধিক জাতীয় দৈনিকে এক হৃদয়গ্রাহী নিবন্ধন লিখেছেন। সেখানে তিনি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বঙ্গমাতার সঙ্গে তার হৃদ্যতা, ঘনিষ্ঠতা এবং সম্পর্ক উঠিয়ে নিয়েছেন। এই দুটি লেখা এবং ভোলায় তার রাজনৈতিক বক্তব্য তাকে আবার লাইম লাইটে নিয়ে এসেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং নিয়ে যখন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ হেভিওয়েট নেতারা নীরব, যখন ১৪ দলের মধ্যে টালমাটাল অবস্থা ঠিক সেই সময় তোফায়েল আহমেদ যেন আওয়ামী লীগের শঙ্কিত নেতাকর্মীদের আশার আলো হয়ে উদ্দীপ্ত হলেন।

তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগের একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং অপত্যস্নেহে তিনি রাজনীতিতে বেড়ে উঠেছেন। পঁচাত্তরের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় বটে কিন্তু সেই সময় তিনি ব্যাপকভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন। সারাজীবন তোফায়েল আহমেদ তার চিন্তা, আদর্শচ্যুত হননি। বরং আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ, এই পরিচয় দিতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সেই তোফায়েল আহমেদ যখন কথা বলেন তখন শুধু আওয়ামী লীগের কর্মীরা নয় সাধারণ মানুষও উদ্দীপ্ত হয়। তোফায়েল আহমেদ এভাবেই দীর্ঘদিন পর লাইম লাইটে চলে এলেন। সামনের দিনগুলোতে তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা কি, সেটাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেখতে চায়।

তোফায়েল আহমেদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মাঠে নামছে আওয়ামী লীগও

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail মাঠে নামছে আওয়ামী লীগও

সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকিসহ বিভিন্ন রকম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগও মাঠে নামছে। আগামী ১৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে বৈঠক করছেন। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আওয়ামী লীগ রীতিমতো একঘরে হয়ে গেছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলি এটিকে সমর্থন করছেন না এবং এটি নিয়ে নানারকম প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। একদিকে সুশীল সমাজ সরকারের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করছে এবং এটি যে অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত সে সম্পর্কে তারা জোরেশোরে কথা বলছেন। অন্যদিকে সমস্ত বিরোধী দল একযোগে এর প্রতিবাদে বিভিন্ন রকম কর্মসূচি দিচ্ছে। এমনকি মহাজোটে আওয়ামী লীগের শরিক জাতীয় পার্টি ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১৪ দলের পক্ষ থেকে জাসদ এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনায় মুখর হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে রাজনীতির মাঠে অনেকটাই কোণঠাসা আওয়ামী লীগ। আর এই কোণঠাসা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি একাধিক রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সামনের দিনগুলোতে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

শোকের মাস আগস্টে আওয়ামী লীগ সাধারণত আগস্টকেন্দ্রীক কর্মসূচীর মধ্যে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখে। এই সময় অন্য কোনো কর্মসূচি আওয়ামী লীগ করে না। এমনকি আগামী ডিসেম্বরে যে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে সেই কাউন্সিলের আগে স্থানীয় পর্যায়ের জেলা-উপজেলায় যে সম্মেলন করার কথা সেই সম্মেলনও শোকের মাসে আওয়ামী লীগ স্থগিত রাখে। কিন্তু এর মধ্যে যেভাবে সরকারবিরোধী প্রচারণা শুরু হয়েছে, সেই প্রচারণার জবাব দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে জনগণকে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার জন্য। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তবে এই বিষয়টি নিয়ে সমন্বিত প্রচারণার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ১৪ আগস্ট সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকের পরপর ১৫ই আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ বিএনপির অপপ্রচার এবং সুশীল সমাজের নানা রকম মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো যেমন- ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ এ বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য বলা হয়েছে। সবগুলো অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনই ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা শুরু করবে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, একতরফা প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। আর এ কারণেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জনগণকে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগ মনে করছে যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে বিরোধী দল এখন মাঠ গরম করতে চেয়েছে এবং সরকারকে কোণঠাসা করতে চাইছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পাল্টা মাঠে নামতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কর্মীদের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন বঙ্গমাতা: নানক

প্রকাশ: ০৭:৫৭ পিএম, ০৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail কর্মীদের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন বঙ্গমাতা: নানক

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কর্মীবান্ধব গুণাবলির শতভাগই আমরা বেগম মুজিবের মধ্যে দেখতে পাই। দলীয় কর্মীদের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন তিনি। হোক সে রাজনৈতিক কর্মী অথবা সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষ, তার কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে কেউ কখনও খালি হাতে ফিরে যেত না।

সোমবার (৮ আগস্ট) ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অসহায় দুস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।



জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদীর্ঘকাল বাঙালির জাতির অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার ও দৃঢ় প্রত্যয়ের নেপথ্যে আড়াল থেকে প্রচ্ছন্ন ভূমিকায় ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২ তম জন্মবার্ষিকী। কাল থেকে কালান্তরে জাতির পিতার বর্ণিল সময়, কারান্তরিত সময় কিংবা উত্তাল ছাত্র জীবনের বিদগ্ধ সময় সকল রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দিনযাপনের ব্যবচ্ছেদ করলে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সর্বংসহা ভূমিকা বেরিয়ে আসবে। বঙ্গবন্ধুর চিরচেনা বাইগারের জলের সাথে বঙ্গবন্ধুর যতটা সখ্যতা রয়েছে, টুঙ্গিপাড়ার সেই নদীটির সাথে যেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবেরও ঠিক সেরকমই ভাবগাম্ভীর্য ও মিতালি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খোকা থেকে মুজিব, মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু এবং সবশেষে বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা হয়ে ওঠার পেছনে যে নারীর অবদান অনস্বীকার্য তিনি আর কেউ নন, তিনি আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধু তার জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন জনগণের সেবায়, দেশের কল্যাণে, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সংকল্প ও স্বাপ্নিক সাহসে।সেই সাহসের অন্তমিলে যে নামটি জুড়ে রয়েছে তা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুর সাহসের অভিযাত্রায় দিগ্বিজয়ী দৃঢ়চেতা সুরে একটি নাম বারবার তিনি উচ্চারণ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে নামটি রেণু, আমাদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। মানুষের ভালোবাসার কাঙ্গাল ছিলেন বঙ্গবন্ধু। নেতা-কর্মীদের প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসতেন তিনি।



নানক জানান, ১৯৪৬ সালে দাঙ্গার সময় বেগম মুজিব নিজে অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও বঙ্গবন্ধুকে দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকায় যেতে বারণ করেন নি। সেই সময় বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুকে চিঠিতে লিখেছেন - “আপনি শুধু আমার স্বামী হবার জন্য জন্ম নেননি, দেশের কাজ করার জন্য জন্ম নিয়েছেন। দেশের কাজই আপনার সবচাইতে বড় কাজ। আপনি নিশ্চিন্তমনে সেই কাজে যান। আমার জন্য চিন্তা করবেন না। আল্লাহর উপর আমার ভার ছেড়ে দিন।” এভাবে নিজের জীবনটা উনি দিয়ে গেছেন। সবাইকে নিয়ে চলে গেলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে মহাপ্রয়াণের পরও বঙ্গমাতা আজও স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর আত্মত্যাগের অবদানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপ্রেরণার উৎস। সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থেকে অনুপ্রাণিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু রাজনীতির করেছিলেন দেশের জনগণের জন্য এবং বেগম মুজিবের কর্মকাণ্ডও ছিল এ দেশের মানুষের জন্য। তিনি ছায়ার মতো বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে দলের নেতাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

একটা দেশ সুসময়ে আইএমএফকে ডাকে না: রেজা কিবরিয়া

প্রকাশ: ০৭:৪৭ পিএম, ০৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail

আমরা বিরাট একটি অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে যাচ্ছি উল্লেখ করে গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া বলেছেন, একটা দেশ সুসময়ে আইএমএফকে ডাকে না। নিশ্চয় অনেক বড় বিপদে দেশ চলে যাচ্ছে।
 
সোমবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটে দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাত–দলীয় জোটের ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেন রেজা কিবরিয়া। 

রেজা কিবরিয়া বলেন, আইএমএফকে ডেকে আনা ভালো লক্ষণ নয়। নিশ্চয় অনেক বড় বিপদে দেশ চলে যাচ্ছে। আমি (রেজা কিবরিয়া) আইএমএফে নিজেও চাকরি করেছি।

সরকার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি ও জনশুমারি নিয়ে মিথ্যাচার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব গণতন্ত্র মঞ্চের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘ইতিহাসের অনিবার্য প্রয়োজনে এই মঞ্চ আত্মপ্রকাশ করল। কারণ, সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ও ভোটে জালিয়াতি করে ক্ষমতায় টিকে আছে। কোনো ষড়যন্ত্র নয়, আমরা ওপেন (প্রকাশ্যে) ঘোষণা দিচ্ছি, তোমাদের (সরকার) ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে গণতন্ত্র মঞ্চের রূপরেখা তুলে ধরেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি-লুণ্ঠন চরম সীমায় পৌঁছেছে। হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন, আগে যা কল্পনারও অতীত ছিল, বর্তমান সরকারের আমলে তা মামুলি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গুম, খুন, হামলা, মামলার মাধ্যমে দমন-পীড়ন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় শাহবাগে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার নিন্দা জানান।

আইএমএফ   রেজা কিবরিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মিছিলে লাঠিচার্জ করে ছাত্রদের বিরুদ্ধেই মামলা করলো পুলিশ

প্রকাশ: ০৬:৪৮ পিএম, ০৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail মিছিলে লাঠিচার্জ করে ছাত্রদের বিরুদ্ধেই মামলা করলো পুলিশ

গতকাল রোববার (৭ আগস্ট) জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিল বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিন্তু ‘পুলিশের ওপর আক্রমণের’ অভিযোগ এনে ছাত্রদের নামেই মামলা দায়ের করলো পুলিশ।

সোমবার (৮ আগস্ট) শাহবাগ থানার অপারেটর মোসাদ্দেকুল হক মামলাটি দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে দাঙ্গার উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা, ইটপাটকেলসহ পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াসহ হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে গুরুতর রক্তাক্ত করে জখম করেছে।

এসব আক্রমণে ২১ জন সরাসরিভাবে অংশগ্রহণ করেছে বলে মামলায় উল্লেখ আছে। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হচ্ছেন- ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সহ-সভাপতি অনিক রায়, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দীন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুনয়ন চাকমা, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সভাপতি তৌফিকা প্রিয়া, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দীপ ভট্টাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য শান্তা ও ছাত্র ফেডারেশনের জুবা মনি।

এজাহারে সানি আবদুল্লাহ, জাবিল আহম্মেদ জুবেন, জাওয়াদ, বাঁধন, আদনান, শাহাদাত, ইভান, অনিক, দিয়া মল্লিক, তানজিদ ও তামজিদ নামের ১১ জনের নাম দেওয়া হলেও পরিচয় দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, রোববার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পুলিশ বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হঠাৎ লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাম সংগঠনগুলো। আহতদের বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

মিছিল   লাঠিচার্জ   মামলা   পুলিশ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন