ইনসাইড পলিটিক্স

আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে নাসিক নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা

প্রকাশ: ০৯:৫৯ এএম, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আজ শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সকল প্রকার প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র এক দিন বাকি। ফলে নারায়ণগঞ্জে ভোট নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের নানা সমীকরণ। 

জয়ের জন্য প্রতিনিয়ত নিজেদের মতো করে কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। ভোটারদের মন জয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনে মেয়র পদে জয়-পরাজয়ে নিয়ামক বা ফ্যাক্টর কারা হবেন, তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা নাকি দলীয় প্রতীক, নারী নাকি নতুন ভোটার—কারা নির্ধারণ করবেন নগরপিতা-নগর জুড়ে এমনই আলোচনাই সবার মধ্যে।

জয়ের জন্য প্রতিনিয়ত নিজেদের মতো করে কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। ভোটারদের মন জয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। 
 
এক প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, সরকারদলীয় প্রার্থী হিসেবে কখনো কোনো বাড়তি সুবিধা পাইনি। বাড়তি সুবিধা নিতে আমি পছন্দও করি না। জনস্রোত যখন আমার আছে, আমি কেন বাড়তি সুবিধা নিতে যাব! আমি তো জনবিচ্ছিন্ন কেউ না।

প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী তৈমূর বলেন, আমার দলের নেতা-কর্মীরা তো নৌকায় ভোট দেবে না। নৌকার পক্ষে কাজ করছে না বলে সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের কমিটিও ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণ ভীত না। আমার নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছে।


তৈমুর   আইভী   নাসিক নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মানুষের ভালবাসায় শেখ হাসিনা মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আজ ২৪ জানুয়ারি। ১৯৮৮ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। স্বৈরাচারের পতনের দাবিতে চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ ডেকেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি তৎকালীন ১৫ দলীয় জোট নেত্রী শেখ হাসিনা। এই উপলক্ষে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রামে যখন তার উপস্থিতিতে জনতার ঢল নামে, তখন দিশেহারা হয়ে ওঠে স্বৈরাচার। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য লেলিয়ে দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায় শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানো জনসমুদ্রে। লক্ষ ছিলো একটাই, আওয়ামী লীগ সভাপতিকে হত্যা করা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেট সফল হয়নি। অকুতোভয় কর্মীরা তাদের জীবন দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে বাঁচিয়েছেন।

শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফেরেন এক ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ সময়। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিলো ভূলুণ্ঠিত, বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র হিসেবে হতাশাগ্রস্ত, শব্দহীন এবং বুটের তলায় পিষ্ট ছিলো গণতন্ত্র। ঠিক এরকম সময়ে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই শেখ হাসিনা তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফিরেছিলেন। তখন থেকেই বিভিন্ন সময় বারবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে তার ওপর একুশটি হত্যাচেষ্টার তথ্য পাওয়া যায়। আর এই চেষ্টাগুলো থেকে তিনি কখনও অলৌকিকভাবে, কখনো জনতার প্রতিরোধের মুখে বেঁচে যান।

১৯৮৮ সালের রকিবুল হুদার যে আক্রমণ তা ছিলো সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যই। এই ধারা অব্যাহত থাকে বিভিন্ন সময়ে। ১৯৯১ সালেও শেখ হাসিনা যখন গ্রিনরোডে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন তখনও তার ওপর আক্রমণ হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে তার গাড়িবহরের ওপর আক্রমণ হয়েছিল, তাকে হত্যার জন্য পুঁতে রাখা হয়েছিল গ্রেনেড। আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে শেখ হাসিনার বেঁচে যাওয়াটা ছিলো এক বিস্ময়কর ঘটনা। আর এভাবেই বারবার তিনি মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন। তিনি মৃত্যুর দুয়ার থেকে বারবার ফিরে আসেন মানুষের ভালোবাসা এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায়। হয়তো সৃষ্টিকর্তার এমনই অভিলাষ আছে যে তাকে দিয়েই বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করানো হবে, তার হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে উন্নয়নের এক নতুন মাইলফলকে। যে অভিযাত্রায় গত ১৩ বছর তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা যেন ফিনিক্স পাখি। যতবার তাকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয় ততবার তিনি আরো তীব্র, বেগবান হিসেবে জনতার ভালোবাসা নিয়ে ফিরে আসেন।

তবে দুর্ভাগ্যজনক হলো এই যে, আজ ২৪ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস। এই দিবসটিতে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারের পেট্রোল বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো, অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু আজকের দিনে বাংলাদেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলোতে এ সংক্রান্ত কোনো খবর নেই, আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি নেই। আওয়ামী লীগের কোন নেতাও এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এই হলো আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা। যে ২৪শে জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য জনতা মানবপ্রাচীর গড়েছিল, সেই ২৪শে জানুয়ারিকে স্মরণ করে না আওয়ামী লীগই। এটাই বোধহয় ক্ষমতায় থাকার দুর্ভাগ্য।

শেখ হাসিনা   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সরকার নিজেদের অনুগত লোক দিয়েই ইসি গঠন করবে: রিজভী

প্রকাশ: ০১:০৬ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ভদ্র-সাহসী কোনো লোক নয় সরকার তাদের অনুগত লোক দিয়েই নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মোনাজাতের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আমি আগেও বলেছি আওয়ামী লীগ চায় একদলীয় শাসন। আর বিএনপি চায় বহুদলীয় গণতন্ত্র। সেজন্য আমাদের বক্তব্য আর তাদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকবে। এখন যে সংসদ আছে সেটা একদলীয় সংসদ, নব্য বাকশালী সংসদ। ওখানে যে আইন হবে সেটা প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। আমি গতকালও বলেছি সার্চ কমিটির যে খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে এটা প্রধানমন্ত্রী যেভাবে চাইবেন, মুজিবকোর্ট পরা মানুষগুলোকেই সার্চ কমিটিতে নেওয়া হবে এবং উনারা সার্চ করে যে ব্যক্তিদেরকে দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করবেন তারাও সেই মুজিবকোর্ট পরা মানুষই হবে। সুতরাং এটা একেবারেই একতরফা।

তিনি বলেন, যেভাবে হুদা কমিশন, রকিব কমিশন করা হয়েছিল, ওই রকম আর একটি কমিশন তারা করছেন। এটা একটা ড্রেস রিহার্সাল। আইন যেটা করার কথা বলছেন সেটা ১৯৭২ সালের সংবিধানে নির্দেশনা আছে। কিন্তু কোন সংসদে, যে সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই। জনগণের অংশগ্রহণ নেই। জনগণ এখানে প্রশ্ন করতে পারে না। সেই সংসদে যে আইন হবে সে আইনতো বাকশালী আইন হবে। একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যে নির্বাচন কমিশন গঠন দরকার সেটি এই আইনের মাধ্যমে হবে না। এটা শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতিফলন হবে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও এসএম জাহাঙ্গীর আলম।

রিজভী   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ইসি গঠন আইন নিয়ে বিএনপি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: হানিফ

প্রকাশ: ০১:০১ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন আইন নিয়ে বিএনপি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, বিএনপি দেশে সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা চায় না। বিএনপি নিজেরাও জানে না, তারা কখন কী চায়। নির্বাচন কমিশন আইন ইস্যুতে সরকারকে বিব্রত করাই বিএনপির লক্ষ্য।

আজ সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বকশিবাজার নবকুমার ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে শহীদ মতিউর রহমানের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সপ্তাহখানেক আগেও বিএনপি বলেছিল, সরকার চাইলে এই অধিবেশনেই আইন পাস করতে পারে। এখন আইনমন্ত্রী যখন সংসদে আইন তুললেন, তখন বললেন তড়িঘড়ি করা হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন আইনের দাবিতে বিএনপি মাঠে আন্দোলনের চেষ্টা করেছিল। তখন কেউ কেউ বলেছিল, তিনদিনে আইন প্রণয়ন করা সম্ভব। এর যখনই আইন সংসদে তোলা হলো, তারপরই তাদের ভাষার পরিবর্তন হয়ে গেল।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন ইস্যুতে বিএনপির ভাষার পরিবর্তনে বোঝা যায়, তারা সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন চায় না।

বিএনপি নির্বাচন ব্যবস্থা পঙ্গু করে দিতে চায় জানিয়ে কামরুল ইসলাম বলেন, ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরে যে অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছিল, আজও সেই অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। এখনো সব অগ্রযাত্রা তারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, নির্বাচন ব্যবস্থা পঙ্গু করে দিতে চায় তারা।

এর আগে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর রবিবার (২৩ জানুয়ারি) সংসদে উঠেছে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের প্রস্তাব। এদিন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ জাতীয় সংসদের ১৬তম অধিবেশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

নিয়ম অনুযায়ী এই বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে। কিন্তু আইনটি উত্থাপনের পরপরই এর বিরোধিতা করেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। তাদের দাবি, এই আইনে হবে না সুখকর কিছু! রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের যে প্রত্যাশা, তা এই আইনটির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

মাহবুব উল আলম হানিফ   আওয়ামী লীগ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

চট্টগ্রামে শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টার সেই কালো দিন আজ

প্রকাশ: ০১:০০ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আজ ২৪ জানুয়ারি। ১৯৮৮ সালের এই দিনে স্বৈরাচার বিরোধী এক তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম সফরে যান। সেই সময় চট্টগ্রামে স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনীর পুলিশ কর্মকর্তা রকিবুল হুদার নেতৃত্বে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরের উপর হামলা চালানো হয়। 

এরশাদ বিরোধী তীব্র আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম মহাসমাবেশে উত্তাল জনস্রোতে যেন রাজপথে নেমে আসে। শেখ হাসিনা যখন সমাবেশ স্থলে যাচ্ছিলেন তখন মুসলিম হাইস্কুল মোড়ে শেখ হাসিনার গাড়ী বহরে পুলিশ বাধা দেয়। অতর্কিতে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলী ছোড়া হয়। সেই মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে গুলির মুখ থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বাঁচাতে গিয়ে সেই গুলীতেই প্রাণ হারান যুবলীগ কর্মী আবুল হাশেম। এরপর শুরু হয় পুলিশী তাণ্ডব। আইনজীবীরা কোন রকমে শেখ হাসিনাকে আদালত ভবনে নিয়ে যান।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বহুবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু জনগণের ভালোবাসায় এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তিনি বার বার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। চট্টগ্রামের এই ঘটনাটি ছিলও তারই একটি প্রকাশ। 

স্বৈরাচার   আওয়ামী লীগ   শেখ হাসিনা   হত্যা চেষ্টা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কি আন্দোলনে যাবে?

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নতুন নির্বাচন কমিশন ও আইন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে গতকাল রোববার (২৩ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তবে ‘তড়িঘড়ি’ করে এই আইন কেনো করা হচ্ছে, এমন প্রশ্ন ওঠছে বিরোধী মহল থেকে। পাশাপাশি এই আইনের অধীনে রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত কাকে মনোনীত করবেন ও নিয়োগ দিবেন এ নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে রাজনৈতিক দলগুলোতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষরা মনে করছেন, নতুন ইসি গঠিত হলে রাজনীতির মাঠ গরম করতে চাইবে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। শুধু বিএনপিই নয়, অন্যান্য বাম-ডান ও ইসলামী দলগুলোও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনীতির মাঠের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের। সংবিধান অনুযায়ী, এ অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে তাই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব নিকাশ, চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা। বিশেষ করে ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। প্রথমে ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের সময় নেই বললেও সব দলগুলোর দাবি ও সুশীল সমাজের চাওয়ার প্রেক্ষিতে গতকাল নির্বাচন কমিশন আইনের খসড়া জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও বিল পাস করে দলটি। কিন্তু বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ এ আইন নিয়ে সংসদেই আপত্তি তোলে। সাংসদ হারুন ও তার দল শুরু থেকেই বলে আসছে যে, তারা এই আইনে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত করা হবে, তা মানবেন না। নির্বাচন কমিশন নিয়োগে আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে ‘তামাশা’ বলেও অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন৷ 

অবশ্য বিএনপি প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে নেতিবাচক কথা-বার্তা বলে আসছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির আহ্বান উপেক্ষা করে সংলাপে বসতেও অপারগতা প্রকাশ করে দলটি। পাশাপাশি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। যদিও করোনা প্রকোপের কারণে এখন দলটি সভা-সমাবেশ বন্ধ রেখেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে দলটি তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ‘সর্বদলীয় বিরোধী জোট’ নামে একটি প্ল্যাটফরম বা এর কাছাকাছি একটি প্ল্যাটফরম তৈরি করে বাম-ডানসহ বিরোধী দলগুলোর সাথে একতাবদ্ধ হয়ে ‘ঐক্যবদ্ধভাবে’ কিংবা ‘যুগপৎ’ যেকোনো প্রক্রিয়ার আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় দলটি। তবে বামদলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোতে জামায়াতকে নিয়ে আপত্তি রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই কয়েকটি দল বিএনপির সাথে এক্ষুনি একজোট না হয়ে দলটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ফলে অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সাথে জোটবদ্ধ আন্দোলন করতে হলে বিএনপিকে অবশ্যই জামায়াতকে মাইনাস করেই আন্দোলনের কথা চিন্তা করতে হবে। 

শুধু বিএনপিই নয়, ইসি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে অন্যান্য বাম ও ইসলামী দলগুলোও মাঠের আন্দোলনে নামতে চাচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী জোট ঐক্যফ্রন্টে যুক্তথাকা একাধিক দলও রাজপথে আন্দোলনের কথা ভাবছে। ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের দুইটি সংগঠন জেএসডি এবং নাগরিক ঐক্য বলেছে যে, সার্চ কমিটির মাধ্যমে এই নির্বাচন কমিশন গঠন হলে সরকারের আজ্ঞাবহ এবং অনুগত ব্যক্তিরাই নির্বাচন কমিশনে আসবে। এতে এটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অন্তরায় হবে। এ কারণে তারা রাষ্ট্রপতির সংলাপেও যায়নি। এছাড়া বিএনপির ২০ দলভুক্ত দল এলডিপিও রাষ্ট্রপতির সংলাপ বর্জন করেছে। 

অন্যদিকে  বাম গণতান্ত্রিক জোট নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও বাম এ জোটটি ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির সংলাপ বর্জন করেছে। এদের পাশাপাশি জোনায়েদ সাকির গণসংহতি কিংবা সিপিবিও রাষ্ট্রপতি সংলাপ বর্জন করেছে। ফলে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া শুরু হলে বামদলগুলো আন্দোলনে নামলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো ইসলামী দলগুলোও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে একজোট হচ্ছে। ফলে একটি তৃমুখী আন্দোলনের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে এবং উগ্র এ দলগুলো নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কিছু একটা করার পরিকল্পনা করছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন ইস্যুতে একাট্টা হয়ে রাজপথে নামবে। এখন আলাদা আলাদা ফোরামে কথাবার্তা চালালেও সামনের দিনগুলোতে আন্দোলন করতে চাইবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন আইন নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে গেছে। দিন যত যাবে, এ পরিস্থিতি আরও বাড়বে এবং একটা সময় চূড়ান্ত লক্ষ্যে সবগুলো দলই রাজপথে নামবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমতাবস্থায় নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে আন্দোলন হবে সেই আন্দোলন কতটা ফলপ্রসূ হবে বা কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করতে পারবে, নাকি শেষ পর্যন্ত বিএনপির ‘ঈদের পরের আন্দোলনের’ মতো হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নির্বাচন   আওয়ামী লীগ   বিএনপি   বামদল   ইসলামী দল   রাষ্ট্রপতি সংলাপ   ইসি গঠন আইন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন