ইনসাইড পলিটিক্স

কূটনৈতিক পাড়ায় পাঁচ ইস্যুতে সরব বিএনপি

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিএনপি এখন রাজপথে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনৈতিক পাড়ায়ও সরব হয়েছে। বিভিন্ন দূতাবাস এবং বিদেশী মিশনে তারা ধরনা দিচ্ছে, বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে নালিশ করছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিএনপির পাঁচজন নেতা নিয়মিতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান চীনসহ বিভিন্ন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। মূলত পাঁচটি ইস্যুতে তারা এই যোগাযোগগুলো করছেন।

প্রথমত, খালেদার মুক্তি। বিএনপির নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পর্কে বিভিন্ন দূতাবাসে নিয়মিত আপডেট দিচ্ছেন এবং তারা বলতে চাইছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায্যভাবে বিদেশ যেতে দেওয়া হচ্ছেনা এবং তার বিদেশ যাওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। এটিকে তারা আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে দেখাতে চাইছে।

দ্বিতীয়ত, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করছে এবং গুম হওয়া ব্যক্তিরা অধিকাংশই বিএনপির নেতাকর্মী এই দাবী করছে। অন্তত তিনটি দূতাবাসে বিএনপি তাদের নেতাদের একটি তালিকা দিয়েছে যে তালিকায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে তাদের ভাষায় মিথ্যা মামলা নিয়েও বিএনপি এখন কূটনৈতিক মহলে দেন-দরবার এবং লবিং করছে।

তৃতীয়ত, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। বিএনপির নেতারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি বড় বাঁধা বলে দাবি করছেন এবং এই প্রেক্ষিতে তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের জন্য যেন আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয় সেজন্য বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন।

চতুর্থত, নির্বাচন কমিশন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। বিএনপির বিভিন্ন নেতারা কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে নানা রকম অভিযোগ করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কিভাবে পক্ষপাত হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কিভাবে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ইত্যাদি বিষয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে।

পঞ্চমত, দুর্নীতি। বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন নেতারা পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসে অভিযোগ করছে যে, বাংলাদেশে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে এবং এ সমস্ত দুর্নীতি সম্পর্কে বিদেশ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে সেই তথ্যগুলো তারা কূটনৈতিক মহলের কাছে তুলে দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বিএনপির পাঁচজন নেতা এখন কূটনৈতিক পাড়ায় অত্যন্ত সরব এবং কূটনীতিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান। ড. মঈন খান দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক মহলে পরিচিত এবং বিএনপির পক্ষ থেকে কূটনৈতিক বিষয়গুলো তিনি দেখাশোনা করেন। এর পাশাপাশি রয়েছেন বিএনপির নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং তার পুত্র তাবিথ আউয়াল। এরা দুজনও নিয়মিত বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কথা বলছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নিয়মিত তাদেরকে আপডেট দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকেও বিভিন্ন দূতাবাসের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রাখতে দেখা যাচ্ছে। বিএনপি মনে করছে যে, রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহল যদি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই পর্যবেক্ষণ করে তাহলে সেটি বিএনপির আন্দোলনের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। তবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এখন পর্যন্ত বিএনপির এ সমস্ত দেন-দরবারে কোনো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানা যায়নি।

বিএনপি   কূটনীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

লাইম লাইটে নানক

প্রকাশ: ০১:০৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এখন লাইম লাইটে। আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থাভাজন নেতা হিসেবে তিনি ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছেন। তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, সে দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করছেন এবং দায়িত্ব পালন করে তিনি শুরু আওয়ামী লীগেই নয়, দেশবাসীরও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রথম দৃশ্যমান দায়িত্ব ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন। সেই সিটি নির্বাচনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন তিনি করেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিজয়ী হয়।

জাহাঙ্গীর কবির নানকের দ্বিতীয় দায়িত্ব ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসন। এই সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভাপতি একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগ সফল হয়নি। রাজনৈতিক উদ্যোগেই আজ বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙ্গেছেন। এর মাধ্যমে একটি বিষয় প্রমাণিত হলো যে, প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক উদ্যোগের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর। 

যখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশনে গেলো, কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো, তখন এই সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকে উস্কে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার চেষ্টা করছিল বিভিন্ন মহল। এই আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতপন্থীরাও যুক্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিলো যে কোনো মূল্যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লাশ। জাহাঙ্গীর কবির নানক যখন দায়িত্ব নেন তখন তিনি একদিকে অসুস্থ রোগীদের যেনো সুচিকিৎসা হয় তার নিশ্চয়তা দেন। অন্যদিকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। এরপর তিনি বুঝতে পারেন যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য আওয়ামী লীগের একটি টিম নিয়ে জাফর ইকবালের বাসায় যান এবং শেষ পর্যন্ত জাফর ইকবালকে রাজি করাতে সক্ষম হন। ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে যাওয়াতে আজ সকালে এই অনশন ভেঙ্গেছে। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাহাঙ্গীর কবির নানকের কৌশল যেমন প্রশংসিত হয়েছিল, তেমনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নেওয়া কৌশল প্রশংসিত হয়েছে। ক্রমশ জাহাঙ্গীর কবির নানক লাইম লাইটে আসছেন। তবে জাহাঙ্গীর কবির নানকের একটি কৌশল আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে। তা হলো তিনি একা কোন কিছু না করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিটি কাজের জন্য একটি টিম তৈরি করছেন, যে টিমটি দিয়ে তিনি কাজটি করাচ্ছেন। যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি ৫ জনের একটি টিম তৈরি করেছিলেন যারা নির্বাচন পরিচালনা করেছিল এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিরোধ মিটিয়েছিল। এবারও তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে একা কাজ না করে একটি টিম তৈরি করেছিলেন। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ক্রমশ লাইভ লাইটে আসছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ করে তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম যুগের অবসানের পর, আওয়ামী লীগে যখন জাতীয়ে নেতৃত্বের একটা অভাব অনুভূত হচ্ছিল, তখন জাহাঙ্গীর কবির নানকের এই কর্মকাণ্ডগুলো রাজনীতির গণ্ডি পেড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বাংলাদেশ কেন আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

প্রকাশ: ০৭:২৪ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশকে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী এখনও কেন আমেরিকাকে বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না?

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে এক দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ অসুস্থ নেতাদের রোগমুক্তি কামনা এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে কৃষক দল।

আমেরিকার গণতান্ত্রিক সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ না পাওয়ার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটা ভালো যুক্তি দিয়েছেন, তিনি বলেছেন- উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে পরে ডাকবেন। দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে নিয়ে আগে বসেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিবেশী ভারত। তাদের আমরা পছন্দ করি বা না করি, সেখানে (আমেরিকার গণতান্ত্রিক সম্মেলন) আমন্ত্রিত হয়েছে তারা। আর বাংলাদেশ উন্নত গণতান্ত্রিক চর্চায় অভ্যস্ত বলে তারা ভিআইপি মর্যাদায় পরে দাওয়াত পাবে। আমরা কোন দেশে আছি। এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার মাধ্যমে বিদেশিরা আমাদের কীভাবে পরিমাপ করবে, আমরা কতটুকু নির্বোধ।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশে যা কিছু হয়, এটা কিছুই না। অর্থাৎ এ যে নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, গুম, খুন। এগুলো নিয়ে তো কথাবার্তা। মন্ত্রী বলেছেন, আমেরিকায় আরও বেশি হয়। বছরে লক্ষাধিক লোক হয়। তার মানে হচ্ছে মন্ত্রী পক্ষান্তরে স্বীকার করল অন্য দেশে বেশি হয়, আমাদের দেশে কম হয়। বাংলাদেশে হয় না, এটা অস্বীকার করার সুযোগ পেল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আগেও বলেছি, আজও বলছি, আমেরিকা যদি গুম, খুন ও মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। তাহলে বাংলাদেশে কেন এখনও আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আমেরিকা তো সিঙ্গেল দেশ না, তার মিত্র দেশ আছে। তার মিত্র দেশের তালিকায় ৮০টির বেশি দেশ আছে। অর্থাৎ আমেরিকার মনোভাব আর অন্য ৮০টি দেশের মনোভাব এক। তাহলে আমেরিকার বাধা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ৮০টি দেশে আমাদের অবস্থা একই রকম হবে। যাদের নাম আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় নেই তাদের ফেরত আসার মাধ্যমে বোঝা যায় এ তালিকা অনেক দীর্ঘ। এটা আমাদের আনন্দ বা পুলকিত হওয়ার নয়, এটা লজ্জার। দেশের নাগরিক হিসেবে অপমানের।’

সরকার বিভিন্ন অত্যাচার করে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে রেখেছে দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, ‘তারা আমাদের ভাবতে পারে অন্ধ। বিশ্ব কিন্তু অন্ধ না। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর চোখ খোলা। কারণ আমরা কিছু বলি বা না বলি তারা বাংলাদেশর কুকীর্তিগুলো বুঝতে সক্ষম। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সরকারের কুকীর্তিগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।’

বিএনপি   গয়েশ্বর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ফিরে এসেই ফাউল করলেন ফখরুল

প্রকাশ: ০৫:৩৬ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। করোনা থেকে মুক্ত হয়ে আজ গণমাধ্যমে তিনি বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজেই হোঁচট এবং ধরা খেলেন। লবিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে ৫ মিনিটের মধ্যেই তিনি দুই রকম বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে একজন সাংবাদিকের করা প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমরা লবিস্ট নিয়োগ করি দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, মানবাধিকার রক্ষার জন্য, দুর্বৃত্তের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য।

এই বক্তব্যের পরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলে যান। কিন্তু একটু পরেই তিনি আবার ফিরে এসে বলেন, বিএনপি কোন লবিস্ট নিয়োগ করেনি। বিএনপি গণতন্ত্র এবং দেশ রক্ষার জন্য নিজেরাই কাজ করছে।

হঠাৎ তিনি দুই রকম বক্তব্য কেন দিলেন এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে তোলপাড় চলছে।

জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন এই বক্তৃতা দেন তখন তিনি বুঝতে পারেননি যে লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি বললে কি পরিণতি হবে। কিছুক্ষণ পরে যখন তিনি বুঝতে পারেন যে এর ফলে তিনি তারেকের গাত্রদাহের কারণ হবেন তখন তিনি ফিরে এসে শেষ বক্তব্যটি দেন। তাঁর এই দুই ধরণের বক্তব্য এবং হোঁচট খাওয়া বিএনপিতেই কৌতুকের জন্ম দিয়েছে।

বিএনপি   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জনগণ বিএনপির আন্দোলনের ডাককে শব্দদূষণ মনে করে: কাদের

প্রকাশ: ০২:৩৩ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

দেশের রাজনীতি নয়, বিএনপি রাজনীতিতে এখন ঘোর দুর্দিন অতিক্রম করছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হতাশাগ্রস্ত বিএনপির আন্দোলনের ডাককে জনগণ শব্দদূষণ মনে করে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে কূটচাল ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির হতাশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি ৬৯’ এর মতো গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন দেখে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে যে অভ্যুত্থান দেখিয়েছে তা বিএনপি দেখেও দেখে না, বুঝেও বুঝে না। বিএনপি এখনও অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতা দখল করে জনগণের ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো সওয়ার হওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখে।

তিনি বলেন, সরকার চায় একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, আর এ লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। সরকারের এ উদ্যোগকে বিএনপির স্বাগত জানানোর প্রয়োজন ছিল, আজ তারা স্বভাবগতভাবেই সমালোচনা করছে।

বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের শাসনামলে তারা কেন এ আইন করতে পারলেন না?

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধানসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। করোনা সংক্রমণ বাড়লে একটি মহল গুজব এবং অপপ্রচার শুরু করে, জনমনে ভীতি সঞ্চার করতে চায়। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সব ধরনের গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের   বিএনপি   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মানুষের ভালবাসায় শেখ হাসিনা মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আজ ২৪ জানুয়ারি। ১৯৮৮ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। স্বৈরাচারের পতনের দাবিতে চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ ডেকেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি তৎকালীন ১৫ দলীয় জোট নেত্রী শেখ হাসিনা। এই উপলক্ষে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রামে যখন তার উপস্থিতিতে জনতার ঢল নামে, তখন দিশেহারা হয়ে ওঠে স্বৈরাচার। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য লেলিয়ে দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায় শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানো জনসমুদ্রে। লক্ষ ছিলো একটাই, আওয়ামী লীগ সভাপতিকে হত্যা করা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেট সফল হয়নি। অকুতোভয় কর্মীরা তাদের জীবন দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে বাঁচিয়েছেন।

শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফেরেন এক ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ সময়। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিলো ভূলুণ্ঠিত, বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র হিসেবে হতাশাগ্রস্ত, শব্দহীন এবং বুটের তলায় পিষ্ট ছিলো গণতন্ত্র। ঠিক এরকম সময়ে এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই শেখ হাসিনা তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফিরেছিলেন। তখন থেকেই বিভিন্ন সময় বারবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে তার ওপর একুশটি হত্যাচেষ্টার তথ্য পাওয়া যায়। আর এই চেষ্টাগুলো থেকে তিনি কখনও অলৌকিকভাবে, কখনো জনতার প্রতিরোধের মুখে বেঁচে যান।

১৯৮৮ সালের রকিবুল হুদার যে আক্রমণ তা ছিলো সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যই। এই ধারা অব্যাহত থাকে বিভিন্ন সময়ে। ১৯৯১ সালেও শেখ হাসিনা যখন গ্রিনরোডে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন তখনও তার ওপর আক্রমণ হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে তার গাড়িবহরের ওপর আক্রমণ হয়েছিল, তাকে হত্যার জন্য পুঁতে রাখা হয়েছিল গ্রেনেড। আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে শেখ হাসিনার বেঁচে যাওয়াটা ছিলো এক বিস্ময়কর ঘটনা। আর এভাবেই বারবার তিনি মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন। তিনি মৃত্যুর দুয়ার থেকে বারবার ফিরে আসেন মানুষের ভালোবাসা এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায়। হয়তো সৃষ্টিকর্তার এমনই অভিলাষ আছে যে তাকে দিয়েই বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করানো হবে, তার হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে উন্নয়নের এক নতুন মাইলফলকে। যে অভিযাত্রায় গত ১৩ বছর তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা যেন ফিনিক্স পাখি। যতবার তাকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয় ততবার তিনি আরো তীব্র, বেগবান হিসেবে জনতার ভালোবাসা নিয়ে ফিরে আসেন।

তবে দুর্ভাগ্যজনক হলো এই যে, আজ ২৪ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস। এই দিবসটিতে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচারের পেট্রোল বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো, অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু আজকের দিনে বাংলাদেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলোতে এ সংক্রান্ত কোনো খবর নেই, আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি নেই। আওয়ামী লীগের কোন নেতাও এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এই হলো আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা। যে ২৪শে জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য জনতা মানবপ্রাচীর গড়েছিল, সেই ২৪শে জানুয়ারিকে স্মরণ করে না আওয়ামী লীগই। এটাই বোধহয় ক্ষমতায় থাকার দুর্ভাগ্য।

শেখ হাসিনা   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন