ইনসাইড পলিটিক্স

নারায়ণগঞ্জ কি জাতীয় নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট?

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ১৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

 আগামীকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন নারায়ণগঞ্জে হলেও একাধিক কারণে এ নির্বাচনটি জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনের ভোটের পরিবেশ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর বিস্তর অভিযোগের কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক মহল বেশ চিন্তিত। এ রকম পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর জাতীয় নির্বাচনের অনেক কিছু নির্ভর করবে এবং নাসিক নির্বাচনই আগামী সংসদ নির্বাচনের ব্যারোমিটার হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনের চিত্র ও কৌশল বিশ্লেষণ করে আগামী নির্বাচনের বহুমাত্রিক ছবি আঁকার চেষ্টা করছেন দলগুলোর নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলেও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানো প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার আছেন। বিএনপি তৈমুর আলমকে দল থেকে অব্যাহতি দিলেও বহিষ্কার করেনি। ফলে তৈমুরকে অব্যাহতি দেওয়াকে নির্বাচনী কূটকৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, তৈমুরের বিপরীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণায় তেমন কোন অনিয়ম ঘটেনি। তৈমুর আলম খন্দকারও নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের দ্বারা কোনো ধরনের বাধার মুখেও পড়েননি, যদিও প্রচারণার শেষদিকে এসে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। এমন দু'চারটি অভিযোগ প্রতিটি নির্বাচনেই উঠে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ যদি এরকম বা এর কাছাকাছিও রাখা যায়, তাহলে জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের একটি ব্যারোমিটার হিসেবে কাজ করবে। অনেকেরই আশঙ্কা, ক্ষমতাসীন দল এতবছর ক্ষমতায় থাকার কারণে তাদের জনসম্পৃক্ততা কমে গেছে। নারায়ণগঞ্জে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে কোন দলের জনপ্রিয়তা বেশি, তার প্রমাণ পাওয়া যাবে এবং এর প্রভাব রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উপরও পড়বে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনেও এর প্রভাব পড়বে, নির্বাচনে যাদের ভূমিকা নিয়ে নিকট অতীতে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ না হয়, এটি বর্তমান সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে এবং আগামীতে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার দাবিতে রাজপথেও আন্দোলন হতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৩ সালের শেষ সপ্তাহে অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। সেই হিসাবে বাকি রয়েছে দুই বছর তিন মাসের মতো সময়। করোনার সংক্রমণ যদি কমে আসতে থাকে তাহলে রাজনৈতিক সভা সমাবেশ বা কর্মকাণ্ড হয়ত স্বাভাবিক গতিতে দলগুলো পরিচালিত করতে মাঠে নামবে। কিন্তু সেই নামাটি নির্ভর করছে করোনার ভয়াবহতার উপর। ফলে আবার নতুন কোনো কোভিড ভ্যারিয়েন্টের রূপান্তর ঘটায় তাহলে পরিস্থিতি কী হবে বলা মুশকিল।

নাসিক নির্বাচন   জাতীয় নির্বাচন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য পাতানো নির্বাচন আওয়ামী লীগ করে না: কাদের

প্রকাশ: ০৩:১১ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,  বিএনপি নেতাদের বলতে চাই, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য পাতানো নির্বাচন আওয়ামী লীগ করে না। পাতানো রাজনৈতিক খেলা বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি। ১৯৯৬ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারী ফেব্রুয়ারি পাতানো নির্বাচন যারা করেছিল, একই ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান যারা করেছিল, দলীয় লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে যারা গোপনে বিচারপতিদের বয়স সীমা বাড়িয়েছিল তারাই পাতানো খেলা আর গোপন ষড়যন্ত্রের কারিগর।

আজ বুধবার (২৬ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ কথায় কথায় ২০১৮ সালের নির্বাচন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অথচ ২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত স্থানীয় ১১৮টি সংস্থার মধ্যে ৮১টি সংস্থা অনুমতি প্রাপ্ত ছিল। সংসদে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও আছে। তাহলে বিএনপির সংসদ সদস্যগণ কীভাবে নির্বাচিত হলো? সংসদ অবৈধ হলে তাদের সংসদ সদস্যগণ কীভাবে সেখানে প্রতিনিধিত্ব করছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিদিন সংসদে বক্তব্য রাখছে? আসলে বিএনপি'র রাজনীতি দ্বিচারিতার রাজনীতি। তাদের রাজনীতি জন্মলগ্ন থেকে জনবিরোধী ও ক্ষমতালিপ্সু নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। 

তিনি বলেন, নির্বাচন ও সংসদের বৈধতা নিয়ে কোনো কথা বিএনপি'র মুখে মানায় না। অতীতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপি কীভাবে ছেলে খেলা করেছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানাবো, আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। সেখানে জাতির কপালে কলঙ্কের তিলক এঁকে দেওয়ার জন্য নিজেদের কুৎসিত প্রতিবিম্ব দেখতে পাবেন। জাতীয় ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টির জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে পরিশুদ্ধতার প্রয়াস নিন, তারপর সরকারের সমালোচনা করুন।

তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্র ও বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের দুঃস্বপ্নে বিভোর বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাল হারিয়ে ফেলেছে। একবার তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবী তোলে, আবার সরকারের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হলে তার বিরোধিতা করে। একদিকে তারা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা চালায়। অন্যদিকে তাদের কেউ কেউ নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলার দরকার নেই এবং নির্বাচন কমিশন কোন ফ্যাক্টর নয় বলে মন্তব্য করে। আসলে রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নেই। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা বলতে চাই, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ীই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোন সরকারের অধীনে হবে তা সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে। আমরা বার বার বলে আসছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের উচ্চ আদালত কর্তৃক একটি মীমাংসিত ইস্যু। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতই সংবিধানসম্মতভাবে নির্বাচন হবে। আমরা মনে করি, নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য শেখ হাসিনা সরকারের যে উদ্যোগ বিএনপি নেতৃবৃন্দ সরকারের সে উদ্যোগে মূল্যবান মতামত দিতে পারে।

তিনি বলেন, এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সর্বপ্রাচীন ও একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দেশের জনগণের উন্নত জীবন প্রতিষ্ঠায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশ পুনর্গঠনে প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে খুনি ঘাতকচক্র। জাতির পিতাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মূলহোতা স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসনে পাঠায়। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সবসময় ক্ষমতা দখলের রাজনীতি করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জনগণ নয়, বিএনপির কাছে মুখ্য হলো যে কোন উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতা ফিরে পেতে বিএনপি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরনের নীলনকশায় জড়িত বলেই কথায় কথায় তারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে লুটপাট আর অনিয়মতন্ত্র চালু করে বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পদে পদে বাধা সৃষ্টি করেছে।

ওবায়দুল কাদের   আওয়ামী লীগ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

লাইম লাইটে নানক

প্রকাশ: ০১:০৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এখন লাইম লাইটে। আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থাভাজন নেতা হিসেবে তিনি ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছেন। তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, সে দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করছেন এবং দায়িত্ব পালন করে তিনি শুরু আওয়ামী লীগেই নয়, দেশবাসীরও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রথম দৃশ্যমান দায়িত্ব ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন। সেই সিটি নির্বাচনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন তিনি করেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিজয়ী হয়।

জাহাঙ্গীর কবির নানকের দ্বিতীয় দায়িত্ব ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসন। এই সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভাপতি একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগ সফল হয়নি। রাজনৈতিক উদ্যোগেই আজ বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙ্গেছেন। এর মাধ্যমে একটি বিষয় প্রমাণিত হলো যে, প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক উদ্যোগের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর। 

যখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশনে গেলো, কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো, তখন এই সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকে উস্কে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার চেষ্টা করছিল বিভিন্ন মহল। এই আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতপন্থীরাও যুক্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিলো যে কোনো মূল্যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লাশ। জাহাঙ্গীর কবির নানক যখন দায়িত্ব নেন তখন তিনি একদিকে অসুস্থ রোগীদের যেনো সুচিকিৎসা হয় তার নিশ্চয়তা দেন। অন্যদিকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। এরপর তিনি বুঝতে পারেন যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য আওয়ামী লীগের একটি টিম নিয়ে জাফর ইকবালের বাসায় যান এবং শেষ পর্যন্ত জাফর ইকবালকে রাজি করাতে সক্ষম হন। ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে যাওয়াতে আজ সকালে এই অনশন ভেঙ্গেছে। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাহাঙ্গীর কবির নানকের কৌশল যেমন প্রশংসিত হয়েছিল, তেমনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নেওয়া কৌশল প্রশংসিত হয়েছে। ক্রমশ জাহাঙ্গীর কবির নানক লাইম লাইটে আসছেন। তবে জাহাঙ্গীর কবির নানকের একটি কৌশল আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে। তা হলো তিনি একা কোন কিছু না করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিটি কাজের জন্য একটি টিম তৈরি করছেন, যে টিমটি দিয়ে তিনি কাজটি করাচ্ছেন। যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি ৫ জনের একটি টিম তৈরি করেছিলেন যারা নির্বাচন পরিচালনা করেছিল এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিরোধ মিটিয়েছিল। এবারও তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে একা কাজ না করে একটি টিম তৈরি করেছিলেন। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ক্রমশ লাইভ লাইটে আসছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ করে তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম যুগের অবসানের পর, আওয়ামী লীগে যখন জাতীয়ে নেতৃত্বের একটা অভাব অনুভূত হচ্ছিল, তখন জাহাঙ্গীর কবির নানকের এই কর্মকাণ্ডগুলো রাজনীতির গণ্ডি পেড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বাংলাদেশ কেন আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

প্রকাশ: ০৭:২৪ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশকে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী এখনও কেন আমেরিকাকে বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না?

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে এক দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ অসুস্থ নেতাদের রোগমুক্তি কামনা এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে কৃষক দল।

আমেরিকার গণতান্ত্রিক সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ না পাওয়ার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটা ভালো যুক্তি দিয়েছেন, তিনি বলেছেন- উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে পরে ডাকবেন। দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে নিয়ে আগে বসেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিবেশী ভারত। তাদের আমরা পছন্দ করি বা না করি, সেখানে (আমেরিকার গণতান্ত্রিক সম্মেলন) আমন্ত্রিত হয়েছে তারা। আর বাংলাদেশ উন্নত গণতান্ত্রিক চর্চায় অভ্যস্ত বলে তারা ভিআইপি মর্যাদায় পরে দাওয়াত পাবে। আমরা কোন দেশে আছি। এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার মাধ্যমে বিদেশিরা আমাদের কীভাবে পরিমাপ করবে, আমরা কতটুকু নির্বোধ।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশে যা কিছু হয়, এটা কিছুই না। অর্থাৎ এ যে নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, গুম, খুন। এগুলো নিয়ে তো কথাবার্তা। মন্ত্রী বলেছেন, আমেরিকায় আরও বেশি হয়। বছরে লক্ষাধিক লোক হয়। তার মানে হচ্ছে মন্ত্রী পক্ষান্তরে স্বীকার করল অন্য দেশে বেশি হয়, আমাদের দেশে কম হয়। বাংলাদেশে হয় না, এটা অস্বীকার করার সুযোগ পেল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আগেও বলেছি, আজও বলছি, আমেরিকা যদি গুম, খুন ও মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। তাহলে বাংলাদেশে কেন এখনও আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আমেরিকা তো সিঙ্গেল দেশ না, তার মিত্র দেশ আছে। তার মিত্র দেশের তালিকায় ৮০টির বেশি দেশ আছে। অর্থাৎ আমেরিকার মনোভাব আর অন্য ৮০টি দেশের মনোভাব এক। তাহলে আমেরিকার বাধা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ৮০টি দেশে আমাদের অবস্থা একই রকম হবে। যাদের নাম আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় নেই তাদের ফেরত আসার মাধ্যমে বোঝা যায় এ তালিকা অনেক দীর্ঘ। এটা আমাদের আনন্দ বা পুলকিত হওয়ার নয়, এটা লজ্জার। দেশের নাগরিক হিসেবে অপমানের।’

সরকার বিভিন্ন অত্যাচার করে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে রেখেছে দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, ‘তারা আমাদের ভাবতে পারে অন্ধ। বিশ্ব কিন্তু অন্ধ না। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর চোখ খোলা। কারণ আমরা কিছু বলি বা না বলি তারা বাংলাদেশর কুকীর্তিগুলো বুঝতে সক্ষম। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সরকারের কুকীর্তিগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।’

বিএনপি   গয়েশ্বর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ফিরে এসেই ফাউল করলেন ফখরুল

প্রকাশ: ০৫:৩৬ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। করোনা থেকে মুক্ত হয়ে আজ গণমাধ্যমে তিনি বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলতে গিয়ে তিনি নিজেই হোঁচট এবং ধরা খেলেন। লবিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে ৫ মিনিটের মধ্যেই তিনি দুই রকম বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে একজন সাংবাদিকের করা প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমরা লবিস্ট নিয়োগ করি দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, মানবাধিকার রক্ষার জন্য, দুর্বৃত্তের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য।

এই বক্তব্যের পরই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলে যান। কিন্তু একটু পরেই তিনি আবার ফিরে এসে বলেন, বিএনপি কোন লবিস্ট নিয়োগ করেনি। বিএনপি গণতন্ত্র এবং দেশ রক্ষার জন্য নিজেরাই কাজ করছে।

হঠাৎ তিনি দুই রকম বক্তব্য কেন দিলেন এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে তোলপাড় চলছে।

জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন এই বক্তৃতা দেন তখন তিনি বুঝতে পারেননি যে লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি বললে কি পরিণতি হবে। কিছুক্ষণ পরে যখন তিনি বুঝতে পারেন যে এর ফলে তিনি তারেকের গাত্রদাহের কারণ হবেন তখন তিনি ফিরে এসে শেষ বক্তব্যটি দেন। তাঁর এই দুই ধরণের বক্তব্য এবং হোঁচট খাওয়া বিএনপিতেই কৌতুকের জন্ম দিয়েছে।

বিএনপি   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জনগণ বিএনপির আন্দোলনের ডাককে শব্দদূষণ মনে করে: কাদের

প্রকাশ: ০২:৩৩ পিএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

দেশের রাজনীতি নয়, বিএনপি রাজনীতিতে এখন ঘোর দুর্দিন অতিক্রম করছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হতাশাগ্রস্ত বিএনপির আন্দোলনের ডাককে জনগণ শব্দদূষণ মনে করে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে কূটচাল ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির হতাশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি ৬৯’ এর মতো গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন দেখে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে যে অভ্যুত্থান দেখিয়েছে তা বিএনপি দেখেও দেখে না, বুঝেও বুঝে না। বিএনপি এখনও অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতা দখল করে জনগণের ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো সওয়ার হওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখে।

তিনি বলেন, সরকার চায় একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন, আর এ লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। সরকারের এ উদ্যোগকে বিএনপির স্বাগত জানানোর প্রয়োজন ছিল, আজ তারা স্বভাবগতভাবেই সমালোচনা করছে।

বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের শাসনামলে তারা কেন এ আইন করতে পারলেন না?

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধানসহ সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। করোনা সংক্রমণ বাড়লে একটি মহল গুজব এবং অপপ্রচার শুরু করে, জনমনে ভীতি সঞ্চার করতে চায়। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সব ধরনের গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের   বিএনপি   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন