ইনসাইড পলিটিক্স

হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন ঢাকায়, জানালেন কন্যা সামিরা

প্রকাশ: ১১:৩২ এএম, ১৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

জীবনের ১৪টি বছর আত্মগোপনে থেকে নীরবে, নিভৃতেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন একসময়ের দাপুটে ও আলোচিত-সমালোচিত রাজনীতিবিদ হারিছ চৌধুরী। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ৩ তারিখে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তিকাল করেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার কন্যা সামীরা তানজীন চৌধুরী (মুন্নু)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৮ বছর। তাকে ঢাকার কাছে একটি গোরস্থান দাফন করা হয়েছে। কিছু নিকটজন এবং ওলামা-মাশায়েখ অনেকটা গোপনে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় শরিক হন।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরে হারিছ চৌধুরীর চাচাতো ভাই আশিক চৌধুরী ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুবরণের কথা ইঙ্গিত করলেও সরাসরি কিছু বলেননি। তখন থেকে বিষয়টি আলোচনায়। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান হারিছ চৌধুরী লন্ডনে ইন্তিকাল করেছেন। ফলে কয়েকদিন ধরে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়। পরে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার মেয়ে সামীরা তানজীন চৌধুরী মুন্নু বিষয়টি খোলাসা করেন। 

তিনি জানান, তার বাবা ঢাকাতেই ইন্তিকাল করেছেন।

এর আগে হারিছ চৌধুরীর অবস্থান নিয়ে ছিল নানান রকমের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। কিন্তু সবার ধারণা ভুল প্রমাণিত করেছেন হারিছ চৌধুরী। স্বদেশেই থেকেছেন। তবে কখনো তাবলিগ জামাতের হয়ে দ্বীনের দাওয়াতে আবার কখনো করেছেন মসজিদে ইমামতি।

সামীরা জানান, সিলেটের কানাইঘাটে পারিবারিক গোরস্থানে দাদুর কবরের পাশে বাবাকে সমাহিত করার কথা ছিল। কিন্তু আশিক চাচা ( আশিক চৌধুরী ) সাহস করলেন না।

হারিছ চৌধুরীর আত্মগোপনকালে তার পরিবারের সাথে খুব সামান্যই যোগাযোগ হয়েছে উল্লেখ করে সামীরা বলেন, বাবা চাইতেন, যা হয় তার উপর দিয়ে যাক। সন্তান হিসেবে আমাদের, আত্নীয়-স্বজন এমনকি তিনি যে রাজনীতি করতেন সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বও যাতে তার কারণে কোনো বিপদে না পড়ে সে জন্য কারো সাথে কোনো যোগাযোগ রাখতেন না। মাঝে মধ্যে তিনি ফোনে সবার খোঁজ নিতেন। সর্বশেষ তিনি যখন আমাকে কাছে চাইলেন, তখন সব শেষ।

সামীরা বলেন, আমি কয়েক ঘণ্টার নোটিশে সব ছেড়েছুঁড়ে ২৭ আগস্ট ঢাকা পৌঁছাই। ততোক্ষণে তিনি লাইফ সাপোর্টে চলে গিয়েছেন। করোনা থেকে নিউমোনিয়া হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে। বাঁচাতে পারলাম না বাবাকে। আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে এক মুহূর্ত চোখের আড়াল করতে চাইনি। সবসময় তার পাশে বসেছিলাম। ভয় আর শঙ্কা আমাদের সব তছনছ করে দিলো। মাত্র কয়েক দিন আগে ছোট চাচা (সেলিম চৌধুরী) স্ট্রোক করে মারা গেলেন। তার আগে মারা গেলেন হাসনাত চাচা (হারিছ চৌধুরীর ছোট ভাই), হারালাম এক ফুপু ও ৪ ফুপাকে। এমন বিপর্যয় আর কোনো পরিবারে হয়েছে কী না আমার জানা নাই।

হারিছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে সামীরা বলেন, এর সবটাই রাজনৈতিক। আমার বাবা হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসেননি। ১৯৭৭ সাল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন, সিলেট জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাকে যুবকদের সংগঠিত করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব। তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সাথে নিবিড় ভাবে কাজ করেছেন। সবকিছুকে ছাপিয়ে আমার বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। যিনি অস্ত্র হাতে দেশের জন্য লড়েছেন। তার সন্তান হিসেবে অবশ্যই আমি গৌরব বোধ করি।

তার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সামীরা বলেন, এসব অভিযোগ কোন্ শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আসেনি, বলেন! এগুলোর ভিত্তিও আমাদের কারও অজানা নয়। পারিবারিকভাবে চৌধুরী পরিবার অসচ্ছল নয়। জন্মের আগে থেকে ট্রলারের ব্যবসা আর ছোট বেলা থেকে আমাদের গাড়ির শো-রুম দেখে আসতেছি। ঢাকা এবং সিলেটে ব্রিটিশ আমল থেকে আমাদের পরিবার ঐতিহ্যমণ্ডিত। ক্ষমতায় থাকাকালীন গুলশানে একটি বাড়ি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাজউক থেকে কিনেছিলেন যা সরকার পরবর্তীতে বাতিল করে ফেরত নিয়েছে। আর কী এমন আছে! আমার দাদা সিও (সার্কেল) অফিসার ছিলেন, এমএলএ ইলেকশনও করেছেন। তার সবছেলে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। আমার বাবা নটরডেম থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং লোক প্রশাসনে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আমাদেরকেও সুশিক্ষিত করে গড়েছেন। আমি আইন পাশ করে ব্রিটিশ গর্ভনমেন্ট লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টের আইনজীবী হিসাবে কাজ করেছি। আমার ছোট ভাই নায়েম চৌধুরী (জনি) লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকস থেকে মাস্টার্স করে সিনিয়র এনার্জি ট্রেডার হিসাবে জুরিখে কাজ করছে।

হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে তার মেয়ে সামীরা চৌধুরী মুন্নু বলেন, আমি ২২ বছর থেকে দেশের বাইরে। পরপর দুই চাচা, ফুফু মারা গেলেন। এর বাইরে আমি তেমন কাউকে চিনি না। আশিক চাচাই বাবার সাথে যোগাযোগ রেখে সব করতেন বলে জানি। দাদার নামে বাবার প্রতিষ্ঠিত এতিমখানা, মাদ্রাসা সব তিনিই দেখাশোনা করেন। আমার ভাইয়ের মাধ্যমে সহায়তা দেই। আমরা আশিক চাচার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। চাচাই মৃত্যু সংবাদটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছেন।

লন্ডনে মারা গিয়েছেন বলে আশিক চৌধুরীর মন্তব্য প্রসঙ্গে সামীরা বলেন, হয়তো কোনো চাপে বা পরিস্থিতির কারণে তিনি এমনটা বলে থাকতে পারেন। যে কারণে তিনি বলেছিলেন সিলেটে দাফন করা নিরাপদ হবে না। আমার সাথে এ বিষয়ে তার কোনো কথা হয়নি। আমার বাবার মতো একজন বিশাল ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হোক সেটা সন্তান হিসেবে আমার কাম্য হতে পারে না।

হারিছ চৌধুরী   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যে কারণে সিলেটে গেলেন ডা. মুরাদ

প্রকাশ: ০৯:২৬ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আলোচিত রাজনীতিক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান সিলেট সফরে গিয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে তিনি সিলেট গিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টায় বিমানযোগে ডা. মুরাদ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সিলেটে যাওয়ার পর থেকে তিনি একরকম চুপচাপ আছেন বলে জানা গেছে। 

তিনি শাহাজালাল রাহ. এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে সিলেট গিয়েছেন। সিলেটে ডা. মুরাদ সার্কিট হাউসে অবস্থান করবেন।

ডা. মুরাদ হাসান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

করোনা সংক্রমণ কমলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে: মির্জা আব্বাস

প্রকাশ: ০৮:২৬ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কপাল ভালো। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। জনগণ অলরেডি রাজপথে নেমে গেছে। জনতার স্রোতে ১৪৪ ধারা ভেঙে যাচ্ছে। সংক্রমণ একটু হ্রাস পেলে দেখবেন আন্দোলন কাকে বলে। আন্দোলনের তোড়ে এই সরকার ভেসে যাবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাকশাল-গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে আরও বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। সভা সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক।

সভায় মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘দেশে আজ নতুনরূপে বাকশাল কায়েম হয়েছে। মানুষ কথা বলতে পারেন না। সাংবাদিকরা লিখলে সাগর-রুনির পরিণতি ভোগ করতে হয়, জেলে যেতে হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে টুটি চেপে ধরে রেখেছে। অনেক সাংবাদিক আজ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেছে! লবিস্ট কী জিনিস তাইতো আমরা জানতাম না। ১৪ সালে রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় এসে নানা অপকর্ম ঢাকতে আপনারাই অর্থ দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন। আপনারা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গুম করছেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছেন, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন তা কি বিশ্ব দেখে না?’

বিএনপি   মির্জা আব্বাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দলে কি গুরুত্ব হারাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগে টানা দ্বিতীয়বারের মত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু ইদানীং বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এ নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদের গুরুত্ব হারাচ্ছেন, অনেকেই মনে করছেন তিনি ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ওবায়দুল কাদের মোটেও ক্ষমতা হারাননি বরং শারীরিক অসুস্থতা এবং নানা রকম বাস্তবতার কারণে অনেকগুলো দায়িত্ব বিভিন্ন নেতার কাছে বণ্টন করা হচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, ওবায়দুল কাদের ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছেন বা দলে তার গুরুত্ব কমে গেছে। যে সমস্ত দায়িত্ব বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে দেয়া হচ্ছে সে সমস্ত দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে ওবায়দুল কাদেরও ভূমিকা রাখছেন বলে কেউ কেউ বলছেন। তবে দৃশ্যমান যেটি হচ্ছে তা হলো যে, দলের অনেক নীতি নির্ধারনী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদকের তেমন কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনটি নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। আওয়ামী লীগ সভাপতি এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজমের হাতে। মির্জা আজম ঢাকা বিভাগ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। কাজেই তাকে দায়িত্ব দেয়াটা যৌক্তিক। কিন্তু জাহাঙ্গীর কবির নানককে দায়িত্ব দেয়ার মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে। এই নির্বাচনে ওবায়দুল কাদের শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে এবং পরে দুটি বিবৃতি দিয়েছেন। তবে সেই বিবৃতি জাতীয় রাজনীতিতে তেমন কোন প্রভাব ফেলেনি। এরপর, সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট সমাধানের জন্য ওবায়দুল কাদেরকে ভুমিকাহীন দেখা গেছে। এমনকি এ নিয়ে তিনি বক্তৃতা-বিবৃতিও দেননি। এমনকি সংকট মোকাবিলায় সরকারের মূল দায়িত্ব যার তিনি হলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও বটে। তবে তাকে পাশ কাটিয়ে এখানেও জাহাঙ্গীর কবির নানককে সংকট সমাধানের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, আসীম কুমার উকিল এবং সুভাষ সিংহ রায় মো. জাফর ইকবালের বাড়িতে গিয়ে এই সংকট সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও দলের অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে, সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা আগের মত দৃশ্যমান নয়। তাহলে কি সাধারণ সম্পাদককে পাশ কাটিয়ে অন্য নেতাদেরকে সামনে আনা হচ্ছে? অনেকেই এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

তবে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলছেন যে, সাধারণ সম্পাদক অবশ্যই আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং সাধারণ সম্পাদক দলের দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তিও। নানা বাস্তবতার কারণে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের দৃশ্যমান উপস্থিতি কম। প্রথমত, তিনি অসুস্থ। তিনি গুরুতরভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিনি ফিরে এসেছেন। কিছুদিন আগেও তিনি আবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ছিলেন। এ কারণেই আওয়ামী লীগের মত একটি বড় রাজনৈতিক দলের সব চাপ তাকে যদি দেয়া হয় তাহলে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, এরকম ভাবনা থেকেই দায়িত্বগুলো বণ্টন করা হচ্ছে। তবে সাধারণ সম্পাদক এসব বণ্টন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বলছেন যে, দেশে যখন করোনার প্রকোপ এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের যখন অসুস্থতা সে কারণেই হয়তো ভাগ ভাগ করে নেতৃবৃন্দদেরকে দায়িত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও গত প্রায় এক বছর ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাইরে একটি নেতৃত্বের উন্মেষ দেখা যাচ্ছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, এস এম কামালের মতো নেতারা এখন আওয়ামী লীগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। এটি কি সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা খর্ব হওয়ার লক্ষণ কিনা সেটি বোঝা যাবে আরও পরে।

আওয়ামী লীগ   সাধারণ সম্পাদক   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আইন হলো, আন্দোলন কবে?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

জাতীয় সংসদে আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিল পাস হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ ৫০ বছর পর প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত একটি আইন হলো। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে এরকম একটি আইনের কথা বলে আসছিল। সরকার আইন না করে কেন সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করছে তা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। আর এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে নতুন নির্বাচন কমিশন আইন প্রথম অনুমোদিত হয় এবং আজ জাতীয় সংসদের এটি পাস হলো। নতুন নির্বাচন কমিশন আইন অনুমোদিত হওয়ার পরপরই এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা রকম বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।

শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, সুধীজনের মধ্যেও এই আইন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলো এই আইনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে যে, সরকার তাদের অনুগতদের নিয়েই একটি সার্চ কমিটি গঠন করবে এবং সেই সার্চ কমিটি অনুগত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। আর সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বদিউল আলম মজুমদার, অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদাসহ অনেকেই এই আইনের সমালোচনা করেছেন। এমনকি কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এটাও বলেছেন যে, নির্বাচন কমিশন আইন যদি পাশ করা হয় তাহলে তারা আন্দোলনে যাবে। কিন্তু সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন আইন ইতিমধ্যে পাস করেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে আগামী রোববার নাগাদ এই আইনের কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি নূতন সার্চ কমিটি গঠিত হবে, যা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে।

উল্লেখ্য যে, ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো বিরোধীদল কি করবে, বিরোধীদল কি সার্চ কমিটি পর্যন্ত গঠন এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, নাকি তারা এখনই আন্দোলন শুরু করবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির অন্যতম নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন যে, তারা নতুন নির্বাচন কমিশন আইন যে মানেন না সেটি আগেই বলেছেন। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন নয়, তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চান। কাজেই এটি নিয়ে তারা নতুন করে কোনো আন্দোলন করবে বলে মনে করার কোন কারণ নেই। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়ার পর এখন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আন্দোলনে বিএনপি নেতারাও খুব একটা উৎসাহী নয়। বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে দেখা গেছে, তারা মনে করছেন যে নির্বাচন কমিশন নয় বরং তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে একটি আন্দোলন গড়ে তোলার কাজ করছেন। এ লক্ষ্যে তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন, তবে এই আন্দোলন কবে হবে সেটি ভিন্ন বিষয়। 

বাংলাদেশের সুশীল সমাজরা এই আইনটি গ্রহণ করেননি এবং তারা মনে করছেন যে, এই আইনের ফলে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আজ জাতীয় সংসদের সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বিগত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যে আইনের খসড়া দেওয়া হয়েছিল সেই খসড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বর্তমান আইন করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এমনকি আইনমন্ত্রী এই আইনে যে তাড়াহুড়া করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তারও জবাব দেন। দৃশ্যত, এ সমস্ত বাস্তবতা থেকে মনে হচ্ছে যে, সকল পক্ষই এখন এই আইনের আওতায় কিভাবে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয় এবং অনুসন্ধান কমিটি কাদের নাম প্রস্তাব করে সে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে নির্বাচন কমিশন আইন নিয়ে আন্দোলন হবে বলে অনেকেই মনে করেন না।

নির্বাচন কমিশন   ইসি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ঝুলে গেছেন কামরুল-মায়া

প্রকাশ: ০৫:১৭ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে বলে গত বছর ১৯ নভেম্বর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু একমাত্র রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ছাড়া অন্য দুইজন এই সংক্রান্ত কোন চিঠি পাননি বলে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম উভয়ই নিশ্চিত করেছেন।

এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এরকম কোন তথ্য আমার কাছে নেই। এই সবকিছু মিডিয়ার সৃষ্টি।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন,  ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন