ইনসাইড পলিটিক্স

পঞ্চপান্ডব কি পারবে?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ১৫ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আগামীকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কেবল আইভী এবং তৈমুর আলম খন্দকারের লড়াই না, রাজনীতির অনেক হিসেব-নিকেশ এই নির্বাচনের মধ্যে লুকিয়ে আছে। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। এই নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ জয়ী হয় তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ তার অবস্থানকে আরও সংহত করতে পারবে। আওয়ামী লীগ বলতে পারবে যে, বর্তমান সরকার এখনও জনপ্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে আইভী যেমন তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হবে তেমনি জনপ্রিয় থাকলে একটি সরকার চারবারও ক্ষমতায় থাকতে পারে, এরকম একটি বোধ এবং ভাবনা জনগণের মধ্যে দেয়া সহজ হবে। তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও নানা হিসেব-নিকেশ মেলানোরও সুযোগ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এবারের এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পঞ্চপান্ডবের উত্থান ঘটেছে। এই পঞ্চপান্ডবকে এবারের নির্বাচনে দৃশ্যমান দেখা গেছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম এবং এসএম কামাল নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শেষের দিকে এমপি হওয়ার কারণে মির্জা আজম প্রত্যক্ষভাবে দৃশ্যমান হয়নি কিন্তু বাকিদের সবাইকে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গেছে এবং এই নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে তারা বিভিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াত আইভীর যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সেই কোন্দল মেটানোর ক্ষেত্রে পঞ্চপান্ডব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শামীম ওসমান আইভীর পক্ষে প্রচারণা করুক না করুক তাকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে পঞ্চপান্ডব। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগের মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করে শেখ হাসিনার বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই পঞ্চপান্ডব। এরকম একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে নেয়ার মাধ্যমে পঞ্চপান্ডব দেখিয়েছেন যে, তারা দলের স্বার্থে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হননি। নির্বাচনের আগে এদের সাফল্য হলো যে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে তারা অন্তত প্রকাশ্য হলেও ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন। এই নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন মেরুকরণ ঘটেছে।

একটা সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মানে বোঝা যেত আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাজ্জাক। এর পরবর্তী পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মানে মনে করা হতো মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফ প্রমুখ। এরপর আসে ওবায়দুল কাদেরের যুগ এবং সেই সময়ে ওবায়দুল কাদের, মাহাবুবউল আলম হানিফ, ডা. দিপু মনি, তারা পাদপ্রদীপে আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের পঞ্চপান্ডবের উত্থান ঘটেছে, যারা শেখ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এখন অনেকটাই সাইডলাইনে এবং নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে তার একটি বিবৃতি ছাড়া তার কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। শুধু নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয়ে পঞ্চপান্ডবি পাদপ্রদীপে এসেছেন। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে যদি শেষ পর্যন্ত একটি বিতর্কহীন নির্বাচনের মাধ্যমে আইভী বিজয়ী হয়, সেক্ষেত্রে এই পঞ্চপান্ডব যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হবে সেটা বলাই বাহুল্য।

আওয়ামী লীগ   জাহাঙ্গীর কবির নানক   আব্দুর রহমান   আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম   মির্জা আজম   এসএম কামাল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

স্ত্রী সহ করোনায় আক্রান্ত আমির খসরু

প্রকাশ: ০৯:৪৭ এএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও তার স্ত্রী তাহেরা খসরু। 

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাদের পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসে। 

বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
তিনি বলেন, দুজনেই চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। শারীরিকভাবে ভালো আছেন। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া চেয়েছেন।

বিএনপি   আমির খসরু   করোনা   টিকা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

এবার বেগম জিয়াকে নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অপপ্রচার

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আজ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বিএনপি-জামাতপন্থি কিছু সংবাদকর্মী অনলাইনে যুক্ত হতে পেরেছেন। অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা চেষ্টা করেও এই অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ঢুকতে পারেননি। অনলাইন এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন কেনো করা হয়েছে সে নিয়েও বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন বলছেন বেগম খালেদা জিয়া এখন মোটামুটি সুস্থ এবং তিনি বাড়ি যেতে চান। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা তখন প্রায় জোর করেই বেগম জিয়াকে এভার কেয়ার হাসপাতালের কেবিনে রেখেছেন। বেগম জিয়া নিজেও বলেছেন যে, তিনি এখন বাড়িতে যেতে চান। কিন্তু তারপরও তাকে এভার কেয়ার হাসপাতালে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য। দেশে আন্দোলন করতে না পেরে এখন বেগম খালেদা জিয়ার ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যাওয়ার একটু চেষ্টা চলছে এবং সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে যে সমস্ত ব্যক্তিদের নাম দেয়া ছিল তাদের অনেকেই এই সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে বাংলা ইনসাইডার কে নিশ্চিত করেছেন। 

তাহলে এ সংবাদ সম্মেলন উদ্যোক্তা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে সেটি একটি প্রশ্ন বটে। তবে একাধিক সূত্র বলছে যে র‍্যাবের ইস্যুটি যেমন নিরন্তর প্রচারণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশে র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করার জন্য এখনো আবেদন নিবেদন করা হচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে বেগম খালেদা জিয়ার ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক করণের একটি চেষ্টার অংশ হিসেবেই ব্রাসেলসে এই সংবাদ সম্মেলন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ব্রাসেলস নানাদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তর, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এখানেই। কাজেই সংবাদ সম্মেলন করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দৃষ্টি আকর্ষণ করার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকদের। উল্লেখ্য যে, এর আগেও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে আবেদন করা হয়েছিল যে বেগম খালেদা জিয়াকে যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার অনুমতি দেয় সরকার। কিন্তু সেই আবেদনের ব্যাপার ইউরোপীয় ইউনিয়ন তেমন কোনও সাড়া দেয়নি। সামনের দিনগুলোতে জাতিসংঘ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের আয়োজন করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, যেন বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সরকারের উপর একটি চাপ সৃষ্টি করা হয়। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া গত ১৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল রয়েছেন। প্রথমে চিকিৎসকরা দাবি করেছিলেন যে, তিনি  মুমূর্ষু, মরণাপন্ন এবং তাকে যদি এখনই বিদেশে না নেয়া হয় তাহলে পরে তার যেকোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু পরবর্তী দেখা গেল বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল যে সমস্ত বক্তব্য দিয়েছিল সমস্ত বক্তব্য অধিকাংশই বানোয়াট এবং এজন্য তাদের চিকিৎসক সনদ বাতিল হওয়া উচিত বলেও কোন কোন চিকিৎসক মনে করেন। কারণ কোন রোগীর সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দল এই গুরুতর অপরাধ করেছেন। 

এখন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপি যে আন্দোলন করার চিন্তাভাবনা করেছিল সেই আন্দোলনও তারা জমাতে পারেন নি। কারণ সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরেছেন একজন মুমূর্ষু, মৃত্যুপথযাত্রী এতদিন ধরে স্বাভাবিক থাকতে পারেন না আবার সিসিইউ থেকে কেবিনেও স্থানান্তর হতে পারেন না। আর এই সব কিছু মিলিয়ে দেশে যখন তারা কিছু করতে পারছে না তখন তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গেছেন। লক্ষণীয় ব্যাপার যে, র‍্যাবের বিরুদ্ধে বক্তব্য কিংবা বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে ইত্যাদি বক্তব্যের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিটি খুবই সম্পর্কিত। যারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিরুদ্ধে কথা বলছে তারাই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অর্থাৎ এদের মূল লক্ষ্য র‍্যাব কিংবা বেগম খালেদা জিয়া নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা। এই ধারণা সৃষ্টির প্রক্রিয়া হিসেবে সামনের দিনগুলোতে আরও নিত্যনতুন ইস্যু তুলে আনা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।

বিএনপি   জামায়েত   বেগম খালেদা জিয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সঙ্কটে আমলাদের চেয়ে রাজনীতিবিদরাই ত্রাতা

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

একটি গণতান্ত্রিক সরকারে রাজনীতিবিদরাই চালকের আসনে থাকবেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সংকট সমাধানে রাজনীতিবিদদের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভর করেন আমলাদের উপর। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, সংকট সমাধানে রাজনীতিবিদরাই বেশি পারদর্শী এবং বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন আমলাদের চেয়ে। বাংলাদেশে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমলাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দুটিই বেড়েছে। করোনা সংক্রমনের শুরুর পর থেকেই সরকারে আমলাদের উপর নির্ভরতা বাড়ে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ে সংকট সমাধানের জন্য আমলাদেরকেই রাজনীতিবিদদের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া শুরু হয়। আমলারা চালকের আসনে বসেন আর রাজনীতিবিদরা সাইডলাইনে চলে যান। এ নিয়ে রাজনীতিবিদদের মধ্যে অনেক ক্ষোভ, বিক্ষোভ,অভিমান ছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে ততই দেখা যাচ্ছে যে, আমলাদের চেয়ে রাজনীতিবিদরাই সংকট সমাধানে অত্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং তারাই সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি তার সর্বশেষ উদাহরণ। এই ঘটনায় দেখা যায় যে, প্রশাসনিক উদ্যোগের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ সফল হয়েছে। ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে গিয়েছিল এবং সাত দিন ধরেই অনশন চলে। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে  সকলেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। অনেকে মনে করেছিলো যে এরকম পরিস্থিতি চললে শেষ পর্যন্ত একটা বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন। প্রশাসনিক উদ্যোগটি দৃশ্যমান রেখেছিলেন রাজনৈতিক উদ্যোগ চলেছিল আড়ালে। একদিকে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব সহ সরকারের পক্ষ থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অন্যান্য ক্রিয়াশীল শক্তির সঙ্গে কথা বলা হচ্ছিল। আবার অন্যদিক থেকে এটির একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য জাহাঙ্গীর কবির নানককে দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল যে, প্রশাসনিক উদ্যোগ সফল হয়নি, সফল হয়েছে রাজনৈতিক উদ্যোগ। 

আজ সকালে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা তাদের অনশন ভঙ্গ করেন তবে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এটি সরকারের একটি বিরাট শঙ্কট থেকে মুক্তি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ এটি অনেকদূর গড়াতে পারতো। আর এখান থেকে আরেকবার প্রমাণিত হলো যে কোন সংকটের রাজনীতিবিদরাই আসলে সামনের ভূমিকা পালন করতে পারেন এবং রাজনীতিবিদরাই সংকট সমাধানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন এবং সামনের দিনগুলোতে সরকারের সামনে যে ইস্যুগুলো আসবে সেই ইস্যুগুলো সমাধানের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব থাকা প্রয়োজন বলেই অনেকে মনে করছেন। বিশেষ করে আগামীকাল জাতীয় সংসদে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিল পাশ হবে এটির পরে একটি রাজনৈতিক সংকট সরকারের উপর সৃষ্টি হতে পারে। সরকারের উপর বিভিন্ন মহল চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই সংকট সমাধানেও কোনো প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক সমাধান হবে না বলেই মনে করছেন বিভিন্ন মহল। রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলার ক্ষেত্রেও বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন যে,  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা,  ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে র‍্যাব নিষিদ্ধ করার দাবি সহ বিভিন্ন যে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে সেই চাপগুলো মোকাবেলার জন্য এখন রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ আমলারা যে কোন সমস্যাকে আপাত ধামাচাপা দেয়, সমস্যাকে আড়াল করতে পারে কিন্তু সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী বা চূড়ান্ত সমাধান করতে পারে না। এর জন্যই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা   জাহাঙ্গীর কবির নানক   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য পাতানো নির্বাচন আওয়ামী লীগ করে না: কাদের

প্রকাশ: ০৩:১১ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,  বিএনপি নেতাদের বলতে চাই, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য পাতানো নির্বাচন আওয়ামী লীগ করে না। পাতানো রাজনৈতিক খেলা বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি। ১৯৯৬ সালে ১৫ই ফেব্রুয়ারী ফেব্রুয়ারি পাতানো নির্বাচন যারা করেছিল, একই ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান যারা করেছিল, দলীয় লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে যারা গোপনে বিচারপতিদের বয়স সীমা বাড়িয়েছিল তারাই পাতানো খেলা আর গোপন ষড়যন্ত্রের কারিগর।

আজ বুধবার (২৬ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ কথায় কথায় ২০১৮ সালের নির্বাচন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অথচ ২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত স্থানীয় ১১৮টি সংস্থার মধ্যে ৮১টি সংস্থা অনুমতি প্রাপ্ত ছিল। সংসদে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও আছে। তাহলে বিএনপির সংসদ সদস্যগণ কীভাবে নির্বাচিত হলো? সংসদ অবৈধ হলে তাদের সংসদ সদস্যগণ কীভাবে সেখানে প্রতিনিধিত্ব করছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিদিন সংসদে বক্তব্য রাখছে? আসলে বিএনপি'র রাজনীতি দ্বিচারিতার রাজনীতি। তাদের রাজনীতি জন্মলগ্ন থেকে জনবিরোধী ও ক্ষমতালিপ্সু নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। 

তিনি বলেন, নির্বাচন ও সংসদের বৈধতা নিয়ে কোনো কথা বিএনপি'র মুখে মানায় না। অতীতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপি কীভাবে ছেলে খেলা করেছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানাবো, আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। সেখানে জাতির কপালে কলঙ্কের তিলক এঁকে দেওয়ার জন্য নিজেদের কুৎসিত প্রতিবিম্ব দেখতে পাবেন। জাতীয় ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টির জন্য জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে পরিশুদ্ধতার প্রয়াস নিন, তারপর সরকারের সমালোচনা করুন।

তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্র ও বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের দুঃস্বপ্নে বিভোর বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাল হারিয়ে ফেলেছে। একবার তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবী তোলে, আবার সরকারের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হলে তার বিরোধিতা করে। একদিকে তারা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা চালায়। অন্যদিকে তাদের কেউ কেউ নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলার দরকার নেই এবং নির্বাচন কমিশন কোন ফ্যাক্টর নয় বলে মন্তব্য করে। আসলে রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নেই। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা বলতে চাই, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ীই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোন সরকারের অধীনে হবে তা সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে। আমরা বার বার বলে আসছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের উচ্চ আদালত কর্তৃক একটি মীমাংসিত ইস্যু। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতই সংবিধানসম্মতভাবে নির্বাচন হবে। আমরা মনে করি, নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য শেখ হাসিনা সরকারের যে উদ্যোগ বিএনপি নেতৃবৃন্দ সরকারের সে উদ্যোগে মূল্যবান মতামত দিতে পারে।

তিনি বলেন, এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সর্বপ্রাচীন ও একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দেশের জনগণের উন্নত জীবন প্রতিষ্ঠায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশ পুনর্গঠনে প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে খুনি ঘাতকচক্র। জাতির পিতাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মূলহোতা স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নির্বাসনে পাঠায়। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সবসময় ক্ষমতা দখলের রাজনীতি করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জনগণ নয়, বিএনপির কাছে মুখ্য হলো যে কোন উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতা ফিরে পেতে বিএনপি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ধরনের নীলনকশায় জড়িত বলেই কথায় কথায় তারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে লুটপাট আর অনিয়মতন্ত্র চালু করে বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পদে পদে বাধা সৃষ্টি করেছে।

ওবায়দুল কাদের   আওয়ামী লীগ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

লাইম লাইটে নানক

প্রকাশ: ০১:০৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এখন লাইম লাইটে। আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থাভাজন নেতা হিসেবে তিনি ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছেন। তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, সে দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করছেন এবং দায়িত্ব পালন করে তিনি শুরু আওয়ামী লীগেই নয়, দেশবাসীরও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রথম দৃশ্যমান দায়িত্ব ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন। সেই সিটি নির্বাচনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন তিনি করেন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিজয়ী হয়।

জাহাঙ্গীর কবির নানকের দ্বিতীয় দায়িত্ব ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসন। এই সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সভাপতি একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগ সফল হয়নি। রাজনৈতিক উদ্যোগেই আজ বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙ্গেছেন। এর মাধ্যমে একটি বিষয় প্রমাণিত হলো যে, প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক উদ্যোগের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ অনেক বেশি কার্যকর। 

যখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনশনে গেলো, কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো, তখন এই সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকে উস্কে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার চেষ্টা করছিল বিভিন্ন মহল। এই আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতপন্থীরাও যুক্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিলো যে কোনো মূল্যে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লাশ। জাহাঙ্গীর কবির নানক যখন দায়িত্ব নেন তখন তিনি একদিকে অসুস্থ রোগীদের যেনো সুচিকিৎসা হয় তার নিশ্চয়তা দেন। অন্যদিকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। এরপর তিনি বুঝতে পারেন যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য আওয়ামী লীগের একটি টিম নিয়ে জাফর ইকবালের বাসায় যান এবং শেষ পর্যন্ত জাফর ইকবালকে রাজি করাতে সক্ষম হন। ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে যাওয়াতে আজ সকালে এই অনশন ভেঙ্গেছে। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাহাঙ্গীর কবির নানকের কৌশল যেমন প্রশংসিত হয়েছিল, তেমনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নেওয়া কৌশল প্রশংসিত হয়েছে। ক্রমশ জাহাঙ্গীর কবির নানক লাইম লাইটে আসছেন। তবে জাহাঙ্গীর কবির নানকের একটি কৌশল আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে। তা হলো তিনি একা কোন কিছু না করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিটি কাজের জন্য একটি টিম তৈরি করছেন, যে টিমটি দিয়ে তিনি কাজটি করাচ্ছেন। যেমন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি ৫ জনের একটি টিম তৈরি করেছিলেন যারা নির্বাচন পরিচালনা করেছিল এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিরোধ মিটিয়েছিল। এবারও তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে একা কাজ না করে একটি টিম তৈরি করেছিলেন। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ক্রমশ লাইভ লাইটে আসছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ করে তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম যুগের অবসানের পর, আওয়ামী লীগে যখন জাতীয়ে নেতৃত্বের একটা অভাব অনুভূত হচ্ছিল, তখন জাহাঙ্গীর কবির নানকের এই কর্মকাণ্ডগুলো রাজনীতির গণ্ডি পেড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন