ইনসাইড পলিটিক্স

ইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কি আন্দোলনে যাবে?

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail ইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কি আন্দোলনে যাবে?

নতুন নির্বাচন কমিশন ও আইন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে গতকাল রোববার (২৩ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তবে ‘তড়িঘড়ি’ করে এই আইন কেনো করা হচ্ছে, এমন প্রশ্ন ওঠছে বিরোধী মহল থেকে। পাশাপাশি এই আইনের অধীনে রাষ্ট্রপতি শেষ পর্যন্ত কাকে মনোনীত করবেন ও নিয়োগ দিবেন এ নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে রাজনৈতিক দলগুলোতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষরা মনে করছেন, নতুন ইসি গঠিত হলে রাজনীতির মাঠ গরম করতে চাইবে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। শুধু বিএনপিই নয়, অন্যান্য বাম-ডান ও ইসলামী দলগুলোও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনীতির মাঠের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের। সংবিধান অনুযায়ী, এ অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে তাই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব নিকাশ, চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা। বিশেষ করে ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। প্রথমে ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের সময় নেই বললেও সব দলগুলোর দাবি ও সুশীল সমাজের চাওয়ার প্রেক্ষিতে গতকাল নির্বাচন কমিশন আইনের খসড়া জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও বিল পাস করে দলটি। কিন্তু বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ এ আইন নিয়ে সংসদেই আপত্তি তোলে। সাংসদ হারুন ও তার দল শুরু থেকেই বলে আসছে যে, তারা এই আইনে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত করা হবে, তা মানবেন না। নির্বাচন কমিশন নিয়োগে আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে ‘তামাশা’ বলেও অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন৷ 

অবশ্য বিএনপি প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে নেতিবাচক কথা-বার্তা বলে আসছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির আহ্বান উপেক্ষা করে সংলাপে বসতেও অপারগতা প্রকাশ করে দলটি। পাশাপাশি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। যদিও করোনা প্রকোপের কারণে এখন দলটি সভা-সমাবেশ বন্ধ রেখেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে দলটি তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ‘সর্বদলীয় বিরোধী জোট’ নামে একটি প্ল্যাটফরম বা এর কাছাকাছি একটি প্ল্যাটফরম তৈরি করে বাম-ডানসহ বিরোধী দলগুলোর সাথে একতাবদ্ধ হয়ে ‘ঐক্যবদ্ধভাবে’ কিংবা ‘যুগপৎ’ যেকোনো প্রক্রিয়ার আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় দলটি। তবে বামদলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোতে জামায়াতকে নিয়ে আপত্তি রয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই কয়েকটি দল বিএনপির সাথে এক্ষুনি একজোট না হয়ে দলটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ফলে অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সাথে জোটবদ্ধ আন্দোলন করতে হলে বিএনপিকে অবশ্যই জামায়াতকে মাইনাস করেই আন্দোলনের কথা চিন্তা করতে হবে। 

শুধু বিএনপিই নয়, ইসি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে অন্যান্য বাম ও ইসলামী দলগুলোও মাঠের আন্দোলনে নামতে চাচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী জোট ঐক্যফ্রন্টে যুক্তথাকা একাধিক দলও রাজপথে আন্দোলনের কথা ভাবছে। ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্টের দুইটি সংগঠন জেএসডি এবং নাগরিক ঐক্য বলেছে যে, সার্চ কমিটির মাধ্যমে এই নির্বাচন কমিশন গঠন হলে সরকারের আজ্ঞাবহ এবং অনুগত ব্যক্তিরাই নির্বাচন কমিশনে আসবে। এতে এটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অন্তরায় হবে। এ কারণে তারা রাষ্ট্রপতির সংলাপেও যায়নি। এছাড়া বিএনপির ২০ দলভুক্ত দল এলডিপিও রাষ্ট্রপতির সংলাপ বর্জন করেছে। 

অন্যদিকে  বাম গণতান্ত্রিক জোট নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও বাম এ জোটটি ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির সংলাপ বর্জন করেছে। এদের পাশাপাশি জোনায়েদ সাকির গণসংহতি কিংবা সিপিবিও রাষ্ট্রপতি সংলাপ বর্জন করেছে। ফলে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া শুরু হলে বামদলগুলো আন্দোলনে নামলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো ইসলামী দলগুলোও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে একজোট হচ্ছে। ফলে একটি তৃমুখী আন্দোলনের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে এবং উগ্র এ দলগুলো নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কিছু একটা করার পরিকল্পনা করছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন ইস্যুতে একাট্টা হয়ে রাজপথে নামবে। এখন আলাদা আলাদা ফোরামে কথাবার্তা চালালেও সামনের দিনগুলোতে আন্দোলন করতে চাইবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন আইন নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে গেছে। দিন যত যাবে, এ পরিস্থিতি আরও বাড়বে এবং একটা সময় চূড়ান্ত লক্ষ্যে সবগুলো দলই রাজপথে নামবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমতাবস্থায় নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে আন্দোলন হবে সেই আন্দোলন কতটা ফলপ্রসূ হবে বা কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করতে পারবে, নাকি শেষ পর্যন্ত বিএনপির ‘ঈদের পরের আন্দোলনের’ মতো হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নির্বাচন   আওয়ামী লীগ   বিএনপি   বামদল   ইসলামী দল   রাষ্ট্রপতি সংলাপ   ইসি গঠন আইন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বাম গণতান্ত্রিক জোট থেকে সাইফুল হক ও সাকির দলের সদস্য পদ স্থগিত

প্রকাশ: ১০:০৩ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail বাম গণতান্ত্রিক জোট থেকে সাইফুল হক ও সাকির দলের সদস্য পদ স্থগিত

বাম গণতান্ত্রিক জোটের দুই শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনের সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) জোটের এক বৈঠকে বাম জোট থেকে এই দুই দলের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়।

জোটের সমন্বয়ক আব্দুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, আজকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বৈঠক ছিল। বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়দ সাকিও উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজেরাও জানিয়েছন, এ জোটে আর থাকতে পারছেন না তারা। এ কারণে বাম জোট থেকে এই দুই দলের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ভাসানী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এ ৭টি দল ও সংগঠনের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই জোটের নাম রাখা হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। এই জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সাইফুল হক ও সাকির দলের সদস্য পদ বাম জোট থেকে স্থগিত করা হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের মূল শক্তি জনগণ ও সংগঠন: হানিফ

প্রকাশ: ০৯:৩১ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail আওয়ামী লীগের মূল শক্তি জনগণ ও সংগঠন: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আওয়ামী লীগের শক্তি ক্ষমতা নয়, আমাদের মূল শক্তি জনগণ ও সংগঠন। এই দু’টির কোনো একটিও যদি আমাদের ক্ষতি হয় বা ভাটা পড়ে তাহলে আমাদের বিপর্যয় নেমে আসবে। যদি সংগঠন দুর্বলতা হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের বিপর্যয় নেমে আসবে। আবার যদি জনগণের সমর্থনের বিপর্যয় হয় তাহলে দলের বড় ক্ষতি হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, এ কারণে আওয়ামী লীগে নেতা-কর্মীদের মাথায় রাখতে হবে, আমাদের মূল শক্তি এদেশের জনগণ। জনগণের আস্থা ও সংগঠন যদি আমরা শক্তিশালী করতে পারি তাহলে আওয়ামী লীগকে কেউ কখনও পরাজিত করতে পারবে না। সে শক্তি বাংলাদেশে নাই। টানা ১২ বছরের বেশি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময় দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির মাধ্যমে দেশকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছি।

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি সারাক্ষণ বলে বাংলাদেশ নাকি শ্রীলঙ্কা হবে? তারা এসব বলে কারণ তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না। তারা সব সময় প্রার্থনা করে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো ধংস হয়ে যাক। তাদের প্রভু পাকিস্তান। পাকিস্তানের অর্থনীতি ধীরে ধীরে অধঃপতনের দিকে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের সকল দিক থেকে এগিয়ে আছে এটা বিএনপির পছন্দ হয় না। বিএনপি নেতারা আজ কাল মাঠে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন।

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি আর বাংলাদেশের অর্থনীতি এক নয় উল্লেখ করে হানিফ বলেন, শ্রীলঙ্কার ভিত্তি ছিল দু’টি। পর্যটন আর কৃষি। বিগত দুই বছর বিশ্ব করোনা মহামারিতে বিপর্যস্থ ছিল। এই সময় সারাবিশ্বের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এতো পর্যটন খাতে ধস নামে। আর এতে করে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা বিদায়ী সরকার হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা অর্গনিক ফুড উৎপাদন করবে। এতে দেখা গেছে, এক বিঘা জমিতে যেখানে ২০ মণ ধান হতো সেখানে সার না দেয়ার কারণে ৪ থেকে ৫ মণ ধান হয়েছে। এই যে খাদ্য ঘটাতি হয়েছে। এসব কারণে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হয়েছে। আর খাদ্য আমদানিও অনেক ব্যয়বহুল। এই দুটি কারণে তাদের অর্থনীতি বিরাট ধস নেমে যায়।

হানিফ বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি মূল ভিত্তি হলো কৃষি, গার্মেন্টস ও ফরেন রেমিটেন্স। এই করোনার সময়েও আমার আমাদের কৃষি খাত সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম। আমাদের কৃষকরা দুর্যোগের সময়েও সার পেয়েছে, কীটনাশক পেয়েছে তাদের ফসল উৎপাদন হয়েছে। এমনকি দুর্যোগের সময়ে যখন কৃষকরা ধান কাটতে পারছে না তখন আমাদের নেতা-কর্মীরা তাদের ধান কেটে দিছে। যার কারণে আমাদের যে খাদ্য ঘাটতি হওয়ার শঙ্কা ছিলো সেটা কিন্ত হয়নি।

আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করেছিলাম তখন ৪০ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য ঘাটতি ছিলো। আমরা সাড়ে ৩ বছরের মধ্যেই কিন্ত খাদ্য ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। পোশাক শিল্প আমাদের মূল রফতানির আয়ের জায়গা। প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার আমরা এক্সপোর্ট করি। করোনাকালীন সময় পুরো বিশ্বে শিল্প খাতে একটা বড় ধাক্কা লাগে। আমরাও ভাবছিলাম গার্মেন্টস খাতে বড় ধাক্কা লাগে কি-না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আল্লাহর রহমতে আছে। কারণ তিনি মনে প্রাণে এই দেশটাকে ভালোবাসেন। সকাল থেকে সারাদিন এই দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের জন্য অনেক কাজ করেন বলে আল্লাহ তাকে অনেক সহায়তা করেন। আমরা পোশাক শিল্প খাতে আমাদের ধাক্কাটা তেমন লাগেনি। যে ধাক্কাটা লেগেছিলো তা আমরা এই এক বছরে পুষিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। এখনো আমাদের গার্মেন্টস শিল্প খাত অনেক চাঙ্গা। এই খাতে আমাদের কোনো সমস্যা নাই।

তিনি বলেন, ফরেন রেমিটেন্সে আমাদের কিছুটা ঘাটতি দেখা দিযেছিল। কারণ করোনার সময় মধ্যপ্রাচ্যেসহ অনেক দেশেই কর্মচারী ছাঁটাই করেছে। অনেকে শঙ্কা করেছিল রেমিটেন্স বোধ হয় আমাদের একটা বড় ধাক্কা আসবে। আল্লাহর রহমতে এই রেমিটেন্স ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আমরা রেমিটেন্স নিয়ে মোটামোটি একটা সন্তোষজনক অবস্থায় আছি। এই তিনটা খাতে প্রমাণিত বাংলাদেশে অর্থনীতিক খাতে মন্দা বা শঙ্কা হওয়ার মতো কোনো কিছু নেই। বাংলাদেশ কখনো শ্রীলঙ্কা হবে না। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যথেষ্ট শক্তিশালী সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খানম এমপি ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বৈঠক শেষে যা বললেন ফখরুল-মান্না

প্রকাশ: ০৯:১৭ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail বৈঠক শেষে যা বললেন ফখরুল-মান্না

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি এই আলোচনার রেশ ধরে বাকি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। সত্যিকার অর্থে অতি দ্রুত আন্দোলন নিয়ে জনগণের সামনে প্রস্তুত হতে পারব।

মঙ্গলবার (২৪ মে) রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টার পর বৈঠক শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ আমি দুপুরের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেছি যে, আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবার জন্য, দেশের মানুষের যে অধিকারগুলো হারিয়ে গেছে, ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকবার অধিকার, বিচার পাওয়ার অধিকার ও তাদের কল্যাণের অধিকার এই বিষয়গুলোকে ফিরে পাওয়ার জন্য এবং এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের একটি পার্লামেন্ট গঠন করার জন্য বৃহত্তর আন্দোলনের কথা ভেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছি একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজ দেশের মানুষ আশা করে আছে যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটা ঐক্যের মধ্যে দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একটা সফল কার্যকরী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। সেই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এবং পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের সরকার এবং পার্লামেন্ট গঠন হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কথা বলেছি। অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গেও কথা বলব। অতি দ্রুত তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে আশা করছি একটা যৌথভাবে আন্দোলনের সূচনা করতে পারব। খুব শিগগিরই আমরা এই কাজটা করতে পারব। 

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আজ আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সময়ে একটা সরকার নিরপেক্ষ হবে। আলোচনা করেছি, নির্বাচন কমিশন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নিয়ে একটি মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে বলেছেন যে, একটা জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। আরেকটি প্রধান বিষয় আছে, তাতে উনিও (মান্না )একমত হয়েছেন, তিনি বলেছেন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে, তার মুক্তি। শুধু আমরা নই, দেশের বেশিরভাগ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা এবং আটক করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি ও মামলাগুলো প্রত্যাহার। এই যে নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে এগুলো বন্ধ করা।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে একটা আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যা যা করা দরকার, তা নিয়ে বিস্তারিত না হলেও মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। একটি বিষয়ে আমরা একমত যে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আমরা লড়াই করব। বৈঠকের শুরুতেই আমরা সেই বিষয়ে কথা বলেছি। এটাই ছিল আলোচনার ভিত্তি।

আন্দোলনকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে দলগুলোর বোঝাপড়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মান্না। 

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

দেশের উন্নয়ন দেখে বিএনপি দিশেহারা হয়ে পড়েছে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০২:০১ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail দেশের উন্নয়ন দেখে বিএনপি দিশেহারা হয়ে পড়েছে: ওবায়দুল কাদের

দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন-অর্জনে মানুষ যখন আনন্দিত তখন বিএনপি'র বুকে ব্যথা সৃষ্টি হয়। দেশের উন্নয়ন দেখে তারা বিষ জ্বালায় দিশেহারা হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (২৪ মে) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তাঁর রাজধানীর বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন। 

ওবায়দুল কাদের, মানুষের মুখে হাসি দেখলে বিএনপি নেতাদের মুখে শ্রাবণের আকাশের কালো মেঘের ছায়া পড়ে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যতবারই ক্ষমতায় ছিলো ততবারই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে, অন্যদিকে বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় ছিলো ততবারই জনগণ তাদের টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।

শেখ হাসিনা সরকার নাকি আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না- বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিবকে গনক আখ্যায়িত করে বলেন, ক্ষমতার মালিক আল্লাহ আর এদেশের জনগণ। 

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খানম, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এবং রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুসা মাতব্বর।


উন্নয়ন   বিএনপি   দিশেহারা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কুসিক নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ডেকেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ১২:৩৭ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail কুসিক নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ডেকেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন দলের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য মাসুদ পারভেজ খান ইমরান। এ অবস্থায় স্থানীয় নেতাকর্মী অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য মাসুদ পারভেজ খান ইমরানকে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। 

গতকাল ২৩ মে সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান ইমরান এবং তার বোন ও ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে ফোন করে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসতে বলেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল, জনমানুষের দল। অনেকের চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে, প্রার্থী হতে পারেন, তবে দিন শেষে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকবে ইনশাল্লাহ। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান এবং  আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে আজ ডাকা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ হারাতে পারবে না। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে।


বিদ্রোহী   প্রার্থীদের   ডেকেছে   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন