ইনসাইড পলিটিক্স

দীপু মনি কেন টার্গেট হলেন?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail দীপু মনি কেন টার্গেট হলেন?

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এখন সারা দেশে তোলপাড় চলছে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ভূমি অধিদপ্তরে এক অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগে তিনি বলেছেন যে, ৬২.৫ একর জমি মৌজা দরের ২০ গুণ ধরে দলিল করা হয়েছে। প্রকৃত মৌজা দরে জমি অধিগ্রহণ করলে তার ব্যয় হবে ১৯৪ কোটি টাকা। উচ্চমূল্য দেখানোয় দর দাঁড়ায় ৫৫৩ কোটি টাকা। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ থেকে আমার পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কোন সুযোগ নাই। জমি অধিগ্রহণে পরিবারকে জড়িয়ে দুর্নীতির অভিযোগ অসত্য, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ নিয়ে এখন রাজনীতি অঙ্গনে এখন নানামুখী আলোচনা চলছে।

প্রশ্ন হলো হঠাৎ করে কেন দীপু মনিকে টার্গেট করা হয়েছে। এই প্রশ্ন উঠেছে এই কারণে যে, এখন পর্যন্ত চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ভূমি মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে সেই প্রতিবেদনেই অসঙ্গতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু বিষয় পাওয়া গিয়েছে। যেমন-

প্রথমত, ভূমির মূল্য নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসন। কাজেই ভূমির মূল্য কমবেশি ইত্যাদি নির্ধারণ করবে জেলা প্রশাসক। যেমন- ঢাকার গুলশানের কথাই ধরা যাক। সেখানে প্রকৃত ভূমির দাম আর সরকার নির্ধারিত ভূমির দামের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। এখন সরকার কি যে দামে জমি কেনাবেচা হয় সেই দামে জমি কিনবে নাকি সরকার নির্ধারিত যে মূল্য রয়েছে গুলশানের জন্য সেই দামে কিনবে? কাজেই, প্রথম যে অভিযোগটি করা হয়েছে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সেটির মধ্যে এক ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কাউকে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, বলা হয়েছে যে ৬২.৫ একর মৌজা দরের ২০ গুণ দামে দলিল করা হয়। আবার দেখানো হয়েছে যে, প্রকৃত মৌজার দরে অধিগ্রহণের ব্যয় ১৯৪ কোটি টাকা আর উচ্চমূল্য দেখানো হয় এটার ব্যয় হবে ৫৫৩ কোটি টাকার। প্রশ্ন উঠছে যে, ১৯৪ কোটি টাকার ২০ গুণ কি ৫৫৩ কোটি টাকা? তাহলে তো অংকের নতুন হিসেব-নিকেশ করতে হবে। পুরো ঘটনাটার মধ্যে কোথাও নেই যে, দীপু মনি কোথাও জমি কিনেছেন। তার ভাই জমি কিনেছেন বা তার আত্মীয় বা তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা জমি কিনেছেন। তাহলে তার ভাই বা রাজনৈতিক সহকর্মীদের জমি কেনার দায় দীপু মনিকে বহন করতে হবে? একটি বিষয়ে অস্পষ্ট রয়েছে, দেখা গেছে যে দীপু মনির ভাই যে জমি কিনেছেন সে জমিগুলো কেনা হয়েছে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জমি নির্ধারণের বহু আগে। কাজেই, তিনি জেনে শুনে এখানে জমি অধিগ্রহণ করেছে এমনটিও ধোপে টেকে না। তার মানে পুরো বিষয়টিতে একটি নাটক সাজানো হয়েছে, যে নাটকে দীপু মনির ইমেজ নষ্ট করা যায়।

দীপু মনি হলেন আওয়ামী লীগের সেই নেতা যিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ওয়ান-ইলেভেনের সময় মুষ্টিমেয় যে কয়েকজন রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার পক্ষে এবং মাইনাস ফর্মুলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে ডা. দীপু মনি একজন। আর সেখানেই তার রাজনৈতিক জীবনের উত্থান ঘটে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন এবং ২০১৪ সালে তিনি কোন মন্ত্রিত্ব পাননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। দীপু মনি একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং মতিয়া চৌধুরীর পরে আওয়ামী লীগে যে সমস্ত নারী নেতারা স্বীকৃত বা ভবিষ্যতে নেতা হিসেবে বেড়ে উঠছেন তাদের মধ্যে দীপু মনি একজন। তাহলে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং রাজনীতিতে তার উত্থানের জন্যই কি কোন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করেছেন? কারণ জেলা প্রশাসকের যে রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান।

চাঁদপুরের আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি দীর্ঘদিনের এবং দীপু মনির নির্বাচনী এলাকায় একটি প্রবল প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। আর তারাই কি এই জমি অধিগ্রহণ নিয়ে একটি নাটক সাজিয়ে দীপু মনির ইমেজ নষ্টের চেষ্টা করলেন? এ প্রশ্নটির উত্তর খতিয়ে দেখা দরকার। তাছাড়া দীপু মনি দুই দফায় প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব করেছেন, তার বিরুদ্ধে কখনোই বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। তার আত্মীয়স্বজন কি করেছেন না করেছেন তার দায় কেন দীপু মনিকে নিতে হবে? তাই দীপু মনিকে কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য টার্গেট করা হয়েছে কিনা এটি খতিয়ে দেখা দরকার।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যত দোষ নন্দ ঘোষ

প্রকাশ: ১০:০১ এএম, ২৯ মে, ২০২২


Thumbnail

গত বুধবার (১৮ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে  টুস করে নদীতে ফেলে দেওয়া উচিত। আর যিনি আমাদের একটা এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো সেতুর টাকা বন্ধ করেছেন, তাকে পদ্মা নদীতে নিয়ে দুই চুবানি দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জেরে তীব্র প্রতিবাদী হয়ে উঠে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে বিএনপি। রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে দলটি। বস্তুত প্রধানমন্ত্রী সেদিন তার কথার মধ্য দিয়ে কাউকে কোনো প্রকার হুমকি দেন নি। দেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছেন, উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছেন তাদের তিনি উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন তার ওই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে।

এদিকে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর কথার কোনো জবাব না দিয়ে উল্টো প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দলটি যে হত্যা অভিযোগ তুলেছে সেই একই অভিযোগ এখন বিএনপির ওপর বর্তায়। প্রধানমন্ত্রী যখন ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দিলেন বিএনপি তখন হত্যার অভিযোগ তুলল। বিষয়টি এমন যে, যত দোষ নন্দ ঘোষ। অথচ তাদের কথায় যেটা হুমকি সেটি এখন তারা নিজেরাই করছেন। 

গত বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা ক্ষমতায় গেলে মহাসচিবকে পুলিশ মন্ত্রী বানিয়ে দিব। তাই যা করবেন একটু বুঝে শুনে করিয়েন। এখান থেকে চলে গেলেই বেঁচে যাবেন না।” এ কথার মধ্য দিয়ে দুদু সরাসরি সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন। যা অত্যন্ত গহিত অপরাধ।

এর পরের দিন শুক্রবার (২৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ-উত্তর বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দুদুকে অনুকরণ করে আবার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের পরিণতি বিশ্বজিৎ এবং আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের মতো হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শামসুজ্জামান দুদু এবং ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তা সরাসরি হুমকি। যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহি:ভূত অপরাধ। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর কে হামলা করলো সেটা তদন্ত সাপেক্ষের বিষয়। যারাই হামলা করুক না কেন সেটা তদন্তের পর আদালত আইন অনুযায়ী শাস্তি নিধারণ করবে, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে কথা বলার অধিকার রাখেন না। এ ধরনের দায়িত্বহীন বক্তব্য তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন। অতএব আমাদের অবশ্যই আইনে প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করতে হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ইভিএমে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব হবে না: জাপা মহাসচিব

প্রকাশ: ০৯:৩৫ পিএম, ২৮ মে, ২০২২


Thumbnail ইভিএমে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব হবে না: জাপা মহাসচিব

জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ইভিএমে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব হবে না। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভালো কিন্তু যারা পরিচালনা করবেন তারাতো নিরপেক্ষ নয়। তাই ইভিএমে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। ইভিএমে ভোট হলে আমরা নির্বাচনে যাব কী যাব না তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে জাপা।

শনিবার (২৮ মে) বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদী হাউজিংয়ের প্রধান সড়কে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চুন্নু বলেন, দেশে মেগা প্রকল্পের নামে তিনগুণ খরচ হচ্ছে। উন্নয়নের নামে লুটপাট হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি উন্নয়ন হোক কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে যেন স্পেশালাইজড হাসপাতাল তৈরি করা হয়। যেখানে হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ বিনা খরচে সু-চিকিৎসা পাবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের পরিমাপে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাই দেশের মানুষ এখন আর আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশের মানুষ জাতীয় পার্টির সরকার দেখতে চায়। তাই জাতীয় পার্টিকে আরও লক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এসময় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভূঁইয়া মো. আব্দুর রব রাজুর সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, আলমগীর সিকদার লোটন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান লিপ্টন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির উদ্দীন, আনোয়ার হোসেন তোতা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মুকুলকে সভাপতি ও ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করা হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পথ জানে না: মোজাম্মেল হক

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৮ মে, ২০২২


Thumbnail বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পথ জানে না: মোজাম্মেল হক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়ার তিনটি পথ রয়েছে। একটি নির্বাচনের ব্যালটের মাধ্যমে, অপর দুটি গণআন্দোলন ও গণঅভ্যূত্থান। আওয়ামী লীগ সবগুলো পথই ব্যবহার করতে জানে। অথচ বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো পথই জানে না। তারা নির্বাচনে না গিয়ে ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়, মানুষ হত্যা করে, বিদেশিদের কাছে নালিশ করে। এগুলো করে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না।

শনিবার (২৮ মে) দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্রীণ ভিউ গলফ রিসোর্টে গাজীপুর জেলা ৮০ ও ৯০ দশকের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পূর্ণমিলনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। কোন প্রভু এসে তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, এমন ধারণাও অবান্তর। তাই ক্ষমতায় যেতে হলে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করতে হবে, নির্বাচনে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ছাত্রলীগের উদ্দেশ্য এক অভিন্ন। জাতির পিতার হাতে প্রতিষ্ঠিত ছাত্রলীগ জাতীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হওয়ার পর তাদের লেজুরবৃত্তি করতে ছাত্রসংগঠনের জন্ম হলেও একমাত্র ছাত্রলীগের ইতিহাসই ব্যতিক্রম। এর ইতিহাস গৌরবের ইতিহাস।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার ২৯ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন জিয়া, এরশাদ ও খালেদা। এসময় তারা দেশকে সারাবিশ্বে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করেছেন। অথচ বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর আর তার কন্যা শেখ হাসিনার সাড়ে আঠারো বছর সব মিলিয়ে ২১ বছরে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলেছে আওয়ামী লীগ সরকার। দেশ এখন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আমরা পেয়েছি উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা।

পরে প্রয়াত দেশ বরেণ্য সাংবাদিক, লেখক গাফফার চৌধুরীর স্মরণে এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন। এসময় মন্ত্রী বলেন, গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুতে পুরো দেশ আজ শোকে আচ্ছন্ন। তিনি আমাদের যেমন বাংলা ভাষার জন্য গান লিখে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তেমনি স্বাধীনতার সময় পত্রিকা প্রকাশ করে স্বাধীনতার সংগ্রামেও অবদান রেখেছেন। পরে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদেও ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আজন্ম আওয়ামী লীগের আদর্শে উজ্জীবিত ছিলেন।

গাজীপুর জেলার ৮০ ও ৯০ এর দশকের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিলে এ পূণর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উক্ত সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হাদি শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্ভোধন করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকী এমপি। 

এসময় বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও জিএস গাজীপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক আখতারুউজ্জামান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আজমত উল্লাহ খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন, শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল আলম প্রধান, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা আকবর আলী চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগের নেতা হীরা সরকার, যুবলীগ নেতা জাহিদুল আলম রবিন প্রমুখ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মেগা উন্নয়নের কারণে বিএনপির মাথা নষ্ট হয়ে গেছে: তাজুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৮:৪১ পিএম, ২৮ মে, ২০২২


Thumbnail মেগা উন্নয়নের কারণে বিএনপির মাথা নষ্ট হয়ে গেছে: তাজুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়নে বিশ্বে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল।

শনিবার (২৮ মে) দুপুরে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেলসহ মেগা উন্নয়নের কারণে বিএনপির মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। এসব কারণে এখন তারা আবোলতাবোল কথাবার্তা বলছে। মানুষ তাদের ধিক্কার দিচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।

সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় রাখতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এ সময় ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সভাপতিত্ব বিশেষ অতিথি ছিলেন এলজিইডি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান, ভোলা জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন ও পৌর মেয়র মো. মোরশেদ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি নৈরাজ্য করলে জনগণ ও আওয়ামী লীগ প্রতিরোধ করবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬:১৫ পিএম, ২৮ মে, ২০২২


Thumbnail বিএনপি নৈরাজ্য করলে জনগণ ও আওয়ামী লীগ প্রতিরোধ করবে: তথ্যমন্ত্রী

'বিএনপির নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা জনগণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিরোধ করবে এবং এবিষয়ে লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে' বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার (২৮ মে) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতার আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

বিএনপি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'সারাদেশে বিএনপি আবার নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনকি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সামনে বহিরাগতদের নিয়ে সন্ত্রাস, দেশের অন্যান্য জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড -এগুলো দলীয়ভাবে  সিদ্ধান্ত নিয়েই নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা।'

'আমরা আওয়ামী লীগ যেহেতু রাষ্ট্রক্ষমতায়, জনগণ আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, সেহেতু আমাদের দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব হচ্ছে, দেশে যাতে কেউ শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে না পারে, ২০১৩-১৪-১৫ সালে বিএনপি যেভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, সেটি যাতে না করতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং আমরা তাদের সতর্ক করেছি' উল্লেখ করে  হাছান মাহমুদ বলেন, 'যদি এ ধরনের অপচেষ্টা আবারও চালানো হয়, জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা তা প্রতিরোধ করবো।'

সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান বলেন, 'আসলে বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কারণ তারা বলেছিলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করতে পারবেন না। বিশ্বব্যাংকসহ পৃথিবীর অন্যান্য অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করে, সেজন্য নানা ষড়যন্ত্র, অপচেষ্টা, বহুকিছু করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি দেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে ফেলেছে।'

'এ নিয়ে জনগণ যখন তাদেরকে ধিক্কার দিচ্ছে, তখন তাদের মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে এবং সেকারণেই তারা নানা ধরনের আবোল-তাবোল কথা বলছে- মির্জা ফখরুল সাহেব সকালে একবার বলেন, বিকেলে আরেকবার বলেন, গয়েশ্বর বাবু রাতের কথা দিনে বলেন' মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

'বিএনপি এই সরকারের বিদায় ঘন্টা বাজাচ্ছে, ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে' -এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে হাছান মাহমুদ বলেন, 'আমাদের বিদায় ঘন্টা তো তারা ২০০৯ সাল থেকেই বাজাচ্ছে। যতই ঘন্টা বাজাচ্ছে, ততই তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং নিজেদের বিদায় ঘন্টাই বাজিয়ে দিয়েছে। আর ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন সবাই দেখতে পারে, স্বপ্ন দেখতে কোনো দোষ আমি দেখি না। কিন্তু দেশে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়, তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।'

তিস্তা নদীর পানি নিয়ে ভারতের সাথে চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আপনারা জানেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২১০০ সালকে সামনে রেখে ডেলটা প্ল্যান করা হয়েছে। সারাদেশের জন্য একটা ফিজিক্যাল প্ল্যান করা হয়েছে। এর আওতায় সেটি বাস্তবায়নের কিছু কাজও শুরু হয়েছে। সেই মহাপরিকল্পনায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে  তিস্তার পানি বন্টনসহ অন্যান্য অনেক বিষয় রয়েছে।'

'সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী যিনি ভবিষ্যৎ দেখেন, তিনি যেভাবে সারাদেশের ফিজিক্যাল প্ল্যানিং করে এই পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাতে আমাদের মিলিত প্রচেষ্টা আর স্রষ্টার আশীর্বাদে ২০৪১ সাল নয়, তার আগেই বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হবে' বলেন আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি'র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর  সদস্য শাজাহান খান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, কার্যনির্বাহী সদস্য এড. হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, এড. সফুরা বেগম রুনি  প্রমুখ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন