ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়ার পরিণতি কী হবে?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail বেগম জিয়ার পরিণতি কী হবে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিস্মৃত অধ্যায় হতে চলেছেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৩ নভেম্বর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রথমে তাকে নিয়ে বিএনপি নেতাদের আবেগ-উচ্ছ্বাস থাকলেও এখন সে আবেগ-উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়ে গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজ-খবর নেওয়ার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী কিছুদিন তার সঙ্গে ছিলেন কিন্তু তিনিও এখন দেশে ফিরে গেছেন। মূলত তার ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী এবং তাঁর বোন সেলিনা ইসলামই বেগম খালেদা জিয়াকে দেখভাল করছেন। তাকে নিয়ে যে রাজনীতির আবেগ উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল বিএনপি, সেই আবেগ উত্তাপে এখন ভাটা পড়েছে। মিথ্যা এবং এবং ভুল তথ্য দেয়ার কারণে সাধারণ জনগণও বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে এখন আর আগ্রহী নয়। এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই রাজনীতিতেও বেগম খালেদা জিয়া একেবারে কর্তৃত্বহীন হয়ে পড়েছেন। বিএনপি এখন চালাচ্ছে লন্ডন থেকে তারেক জিয়া। বেগম খালেদা জিয়ার সেখানে কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে। দলে যেমন তিনি অপাংক্তেয় তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তিনি বিস্মৃতপ্রায়।

বেগম খালেদা জিয়ার যে আপোষহীন ইমেজ ছিলো তা ভুলন্ঠিত হয়ে গেছে ২০২০ সালে সরকারের সাথে মুচলেকা দিয়ে জামিন নেওয়ার কারণে। এখন সকলের প্রশ্ন, বেগম খালেদা জিয়ার পরিণতি কী হবে? তিনি কি এখন বাকি জীবন এভাবেই কাটাবেন, নাকি রাজনীতিতে তার পুনরুত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির অধ্যায় এখানেই শেষ। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন না দেন, তিনি যে আর রাজনীতিতে আলো ছড়াবেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের এই করুণ পরিণতি তার কিছু ভুলের জন্য সংগঠিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। অন্যদিকে, তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়ার ইমেজের চেয়ে নিজের ইমেজ বৃদ্ধিতে মনোযোগী এবং দলে খালাদাপন্থী হিসেবে যারা পরিচিত ছিলো, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনেও বদ্ধপরিকর। ফলে বিএনপিতে খালেদা যুগের অবসান হয়ে গেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব শূন্যতার সীমারেখা স্পর্শ করেছে। দলে কর্তৃত্বহীন থাকার কারণে দলের নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে আন্দোলন বেগবান করতে চান সেটিও করতে পারছেন না। ফলে পুরো পরিস্থিতি এখন খালেদা জিয়ার প্রতিকূলে।

বেগম খালেদা জিয়া সরকারের কৃপায় জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাকে জেল থেকে ছাড়ানোর জন্য বিএনপি যে আন্দোলন করে সেই আন্দোলনও মুখ থুবরে পড়ে। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের পরেই মৃতপ্রায় হয়ে গেছেন। অনেকেই মনে করেছিলো, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হলে সারাদেশে জ্বালাও-পোড়াও হবে, আগুন হবে, গণবিস্ফোরণ হবে। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। বরং মানুষ স্বাভাবিকভাবে এটি মেনে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে যখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতারা দেন-দরবার করেছেন তখন এটাকে সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বিচার বিভাগের বিষয় বলে আন্তর্জাতিক মহল এড়িয়ে গেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া এখন একজন অনাহুত রাজনীতিবিদ হিসেবে দিন কাটাচ্ছেন। তার বিদেশ যাওয়ার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। সরকার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন তারপরও আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া হবেন তুরুপের তাস।

বিএনপি এখন বলছে যে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াই হতে পারেন এই নির্বাচনে বিএনপিকে আনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পকার্ড। সরকার হয়তো সেরকম একটি বিবেচনা থেকেই বেগম খালেদা জিয়াকে তার আওতার মধ্যে রেখেছে, চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে দেয়নি। বেগম খালেদা জিয়া হয়তো তাকে সুরক্ষার জন্য দলকে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিবেন, এমনটি আশা করছেন সরকারের অনেকে। আর সে কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিণতির জন্য আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খালেদা জিয়া   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ইভিএম নিয়ে সরকার চক্রান্ত করছে: রিজভী

প্রকাশ: ১০:২৩ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail ইভিএম নিয়ে সরকার চক্রান্ত করছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইভিএম নিয়ে সরকার চক্রান্ত করছে। তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে দলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এর মাধ্যমে সুষ্ঠু ভোট হবে না। সুষ্ঠু ভোট হবে ব্যালটের মাধ্যমে। পৃথিবীর দেশে দেশে এটি প্রমাণিত হয়েছে।


বুধবার (২৫ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় রিজভী আরও বলেন, যখন প্রতিষ্ঠিত বিষয় বাদ দিয়ে ইভিএমে জোর করে ভোট করতে চাচ্ছে, তাহলে এখানে বুঝতে হবে সরকার চক্রান্ত করছে।


ইভিএম   সরকার   চক্রান্ত   রিজভী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ইশরাক

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail বিএনপিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ইশরাক

বিএনপির রাজনীতিতে তরুণ নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় খোকা পুত্র ইশরাক হোসেন। প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার পুত্র। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী। দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির এবং ঢাকা মহানগর কমিটির ১নম্বর সদস্য। বিএনপির দলীয় কর্মসূচিগুলোতে তিনি পুলিশি ভয় ভীতি উপেক্ষা করে সবার আগে গিয়ে উপস্থিত হন। তার দৃঢ় ও সাহসিকতার কারণে মাঠের রাজনীতিতে সবার নজরে আসেন তিনি। সেটা যেন মেনে নিতে পারছেন না দলের কোনো কোনো সিনিয়র নেতা। তাই পদে পদে ইশরাকে ঠেকাতে কাজ করছেন বিএনপির এই নেতারা। তারই সর্বশেষ প্রচেষ্টা ছিল সোমবার (২৩মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে ইশরাকে বক্তব্য না দেওয়ার সুযোগ।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইশরাক হোসেন সমাবেশের সঞ্চালক আমিনুল ইসলামকে অনুরোধ করেন, সম্পাদকমণ্ডলীর নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার আগে তাকে যেন বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি (আমিনুল ইসলাম) সেটা করেন নি। গত কয়েকটি অনুষ্ঠানে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে দলীয় নেতাদের অনীহা দেখা গেছে বলে ইশরাক হোসেনের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে।

এর আগে নানা ভাবে ইশরাককে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। গত ২ আগস্ট ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়।সেখানে ইশরাককে ১ নম্বর সদস্য করা হয় কিন্তু বিএনপির মাঠের নেতাকর্মীরা মহানগর কমিটিতে তাকে সদস্য সচিব হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। একটা সময় ইশরাক নিজেই ঢাকামহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক বা সদস্য সচিব হওয়ার জন্য তারেক রহমানসহ নানা মাধ্যমে লবিং করতে থাকেন। কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ইশরাককে সদস্য সচিব পদ না দিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উল্টা তদবির করেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও মির্জা আব্বাসের সঙ্গে যুক্ত হন বলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা আছে।

বিএনপির শুভাঙ্খী একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, ইশরাক সম্ভাবনাময় তরুণ নেতা। তাকে দেখলে মাঠের নেতারা উজ্জ্বীবিত হয়। বিএনপিতে ইশরাককে দরকার, তাকে ধরে রাখতে না পারলে সেটা বিএনপির দুর্ভাগ্য। জানা গেছে, এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কিন্তু বহিষ্কার আতঙ্কে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। কারণ, সাম্প্রতিক সময় বিএনপিতে কথায় কথায় কোনো কারণ ছাড়া সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। তাই সরাসরি প্রকাশ করতে না পারলেও অনেকে দলের সিনিয়র নেতাদের কাছে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন। কিছু নেতা দলের হাইকমান্ডকে ভুল বার্তা দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। ফলে ইশরাকের মতো তরুণ উদীয়মান নেতারা নিজ দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।


বিএনপিতে   কোণঠাসা   ইশরাক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বাম গণতান্ত্রিক জোট থেকে সাইফুল হক ও সাকির দলের সদস্য পদ স্থগিত

প্রকাশ: ১০:০৩ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail বাম গণতান্ত্রিক জোট থেকে সাইফুল হক ও সাকির দলের সদস্য পদ স্থগিত

বাম গণতান্ত্রিক জোটের দুই শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণসংহতি আন্দোলনের সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) জোটের এক বৈঠকে বাম জোট থেকে এই দুই দলের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়।

জোটের সমন্বয়ক আব্দুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, আজকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বৈঠক ছিল। বৈঠকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়দ সাকিও উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজেরাও জানিয়েছন, এ জোটে আর থাকতে পারছেন না তারা। এ কারণে বাম জোট থেকে এই দুই দলের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ভাসানী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এ ৭টি দল ও সংগঠনের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই জোটের নাম রাখা হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। এই জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সাইফুল হক ও সাকির দলের সদস্য পদ বাম জোট থেকে স্থগিত করা হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের মূল শক্তি জনগণ ও সংগঠন: হানিফ

প্রকাশ: ০৯:৩১ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail আওয়ামী লীগের মূল শক্তি জনগণ ও সংগঠন: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আওয়ামী লীগের শক্তি ক্ষমতা নয়, আমাদের মূল শক্তি জনগণ ও সংগঠন। এই দু’টির কোনো একটিও যদি আমাদের ক্ষতি হয় বা ভাটা পড়ে তাহলে আমাদের বিপর্যয় নেমে আসবে। যদি সংগঠন দুর্বলতা হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের বিপর্যয় নেমে আসবে। আবার যদি জনগণের সমর্থনের বিপর্যয় হয় তাহলে দলের বড় ক্ষতি হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, এ কারণে আওয়ামী লীগে নেতা-কর্মীদের মাথায় রাখতে হবে, আমাদের মূল শক্তি এদেশের জনগণ। জনগণের আস্থা ও সংগঠন যদি আমরা শক্তিশালী করতে পারি তাহলে আওয়ামী লীগকে কেউ কখনও পরাজিত করতে পারবে না। সে শক্তি বাংলাদেশে নাই। টানা ১২ বছরের বেশি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময় দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির মাধ্যমে দেশকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছি।

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি সারাক্ষণ বলে বাংলাদেশ নাকি শ্রীলঙ্কা হবে? তারা এসব বলে কারণ তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায় না। তারা সব সময় প্রার্থনা করে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো ধংস হয়ে যাক। তাদের প্রভু পাকিস্তান। পাকিস্তানের অর্থনীতি ধীরে ধীরে অধঃপতনের দিকে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের সকল দিক থেকে এগিয়ে আছে এটা বিএনপির পছন্দ হয় না। বিএনপি নেতারা আজ কাল মাঠে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন।

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি আর বাংলাদেশের অর্থনীতি এক নয় উল্লেখ করে হানিফ বলেন, শ্রীলঙ্কার ভিত্তি ছিল দু’টি। পর্যটন আর কৃষি। বিগত দুই বছর বিশ্ব করোনা মহামারিতে বিপর্যস্থ ছিল। এই সময় সারাবিশ্বের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এতো পর্যটন খাতে ধস নামে। আর এতে করে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কা বিদায়ী সরকার হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা অর্গনিক ফুড উৎপাদন করবে। এতে দেখা গেছে, এক বিঘা জমিতে যেখানে ২০ মণ ধান হতো সেখানে সার না দেয়ার কারণে ৪ থেকে ৫ মণ ধান হয়েছে। এই যে খাদ্য ঘটাতি হয়েছে। এসব কারণে বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করতে হয়েছে। আর খাদ্য আমদানিও অনেক ব্যয়বহুল। এই দুটি কারণে তাদের অর্থনীতি বিরাট ধস নেমে যায়।

হানিফ বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি মূল ভিত্তি হলো কৃষি, গার্মেন্টস ও ফরেন রেমিটেন্স। এই করোনার সময়েও আমার আমাদের কৃষি খাত সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম। আমাদের কৃষকরা দুর্যোগের সময়েও সার পেয়েছে, কীটনাশক পেয়েছে তাদের ফসল উৎপাদন হয়েছে। এমনকি দুর্যোগের সময়ে যখন কৃষকরা ধান কাটতে পারছে না তখন আমাদের নেতা-কর্মীরা তাদের ধান কেটে দিছে। যার কারণে আমাদের যে খাদ্য ঘাটতি হওয়ার শঙ্কা ছিলো সেটা কিন্ত হয়নি।

আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করেছিলাম তখন ৪০ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য ঘাটতি ছিলো। আমরা সাড়ে ৩ বছরের মধ্যেই কিন্ত খাদ্য ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। পোশাক শিল্প আমাদের মূল রফতানির আয়ের জায়গা। প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার আমরা এক্সপোর্ট করি। করোনাকালীন সময় পুরো বিশ্বে শিল্প খাতে একটা বড় ধাক্কা লাগে। আমরাও ভাবছিলাম গার্মেন্টস খাতে বড় ধাক্কা লাগে কি-না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আল্লাহর রহমতে আছে। কারণ তিনি মনে প্রাণে এই দেশটাকে ভালোবাসেন। সকাল থেকে সারাদিন এই দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের জন্য অনেক কাজ করেন বলে আল্লাহ তাকে অনেক সহায়তা করেন। আমরা পোশাক শিল্প খাতে আমাদের ধাক্কাটা তেমন লাগেনি। যে ধাক্কাটা লেগেছিলো তা আমরা এই এক বছরে পুষিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। এখনো আমাদের গার্মেন্টস শিল্প খাত অনেক চাঙ্গা। এই খাতে আমাদের কোনো সমস্যা নাই।

তিনি বলেন, ফরেন রেমিটেন্সে আমাদের কিছুটা ঘাটতি দেখা দিযেছিল। কারণ করোনার সময় মধ্যপ্রাচ্যেসহ অনেক দেশেই কর্মচারী ছাঁটাই করেছে। অনেকে শঙ্কা করেছিল রেমিটেন্স বোধ হয় আমাদের একটা বড় ধাক্কা আসবে। আল্লাহর রহমতে এই রেমিটেন্স ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আমরা রেমিটেন্স নিয়ে মোটামোটি একটা সন্তোষজনক অবস্থায় আছি। এই তিনটা খাতে প্রমাণিত বাংলাদেশে অর্থনীতিক খাতে মন্দা বা শঙ্কা হওয়ার মতো কোনো কিছু নেই। বাংলাদেশ কখনো শ্রীলঙ্কা হবে না। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যথেষ্ট শক্তিশালী সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খানম এমপি ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বৈঠক শেষে যা বললেন ফখরুল-মান্না

প্রকাশ: ০৯:১৭ পিএম, ২৪ মে, ২০২২


Thumbnail বৈঠক শেষে যা বললেন ফখরুল-মান্না

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি এই আলোচনার রেশ ধরে বাকি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। সত্যিকার অর্থে অতি দ্রুত আন্দোলন নিয়ে জনগণের সামনে প্রস্তুত হতে পারব।

মঙ্গলবার (২৪ মে) রাজধানীর তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টার পর বৈঠক শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এই বৈঠক চলে।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ আমি দুপুরের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেছি যে, আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবার জন্য, দেশের মানুষের যে অধিকারগুলো হারিয়ে গেছে, ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকবার অধিকার, বিচার পাওয়ার অধিকার ও তাদের কল্যাণের অধিকার এই বিষয়গুলোকে ফিরে পাওয়ার জন্য এবং এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের একটি পার্লামেন্ট গঠন করার জন্য বৃহত্তর আন্দোলনের কথা ভেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছি একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজ দেশের মানুষ আশা করে আছে যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটা ঐক্যের মধ্যে দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একটা সফল কার্যকরী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। সেই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এবং পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের সরকার এবং পার্লামেন্ট গঠন হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কথা বলেছি। অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গেও কথা বলব। অতি দ্রুত তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে আশা করছি একটা যৌথভাবে আন্দোলনের সূচনা করতে পারব। খুব শিগগিরই আমরা এই কাজটা করতে পারব। 

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, আজ আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সময়ে একটা সরকার নিরপেক্ষ হবে। আলোচনা করেছি, নির্বাচন কমিশন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নিয়ে একটি মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে বলেছেন যে, একটা জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। আরেকটি প্রধান বিষয় আছে, তাতে উনিও (মান্না )একমত হয়েছেন, তিনি বলেছেন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে, তার মুক্তি। শুধু আমরা নই, দেশের বেশিরভাগ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা এবং আটক করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি ও মামলাগুলো প্রত্যাহার। এই যে নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে এগুলো বন্ধ করা।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে একটা আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যা যা করা দরকার, তা নিয়ে বিস্তারিত না হলেও মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। একটি বিষয়ে আমরা একমত যে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আমরা লড়াই করব। বৈঠকের শুরুতেই আমরা সেই বিষয়ে কথা বলেছি। এটাই ছিল আলোচনার ভিত্তি।

আন্দোলনকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে দলগুলোর বোঝাপড়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মান্না। 

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন