ইনসাইড পলিটিক্স

জাতীয় সরকারের দাবির পিছনে ওয়ান-ইলেভেনের অপচ্ছায়া

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৭ মে, ২০২২


Thumbnail জাতীয় সরকারের দাবির পিছনে ওয়ান-ইলেভেনের অপচ্ছায়া

জাতীয় সরকারের দাবি নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে মাঠে নেমেছেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি প্রথমে জাতীয় সরকারের বিষয়টি ইনিয়ে-বিনিয়ে বলেছিলেন কিন্তু এখন তিনি খোলাসা করেই সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা দিয়ে জাতীয় সরকারের দাবি তুলছেন। যদিও তার জাতীয় সরকারের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলই। আওয়ামী লীগ এটিকে উদ্ভট এবং হাস্যকর হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি বলেছে এটি অগ্রহণযোগ্য এবং ষড়যন্ত্রমূলক। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল জাতীয় সরকারের সমালোচনা করলেও রাজনীতিতে জাতীয় সরকারের বিষয়টি কেউ উপেক্ষা করতে পারছে। কারণ এর পিছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

গত কিছুদিন ধরেই একদিকে জাতীয় সরকারের দাবি তুলছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। অন্যদিকে কয়েকজন ব্যক্তি সুপরিকল্পিতভাবে অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা বলছেন এবং সরকারকে নানাভাবে আক্রমণের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে একটি মহল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিষেদাগার অব্যাহত রেখেছেন। এর ফলে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, একটি অগণতান্ত্রিক শক্তি আস্তে আস্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। সেই অগণতান্ত্রিক শক্তির ছাতা হিসেবে জাতীয় সরকারের দাবিটি সামনে এসেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। এই জাতীয় সরকার দাবির পেছনে ওয়ান ইলেভেন ষড়যন্ত্রের কথাও কোনো কোনো মহল মনে করছে। ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একটি তৃতীয় ধারা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল এবং সেই সময় দেশের শীর্ষ দুইটি গণমাধ্যম তৎকালীন সরকার এবং বিরোধী দলের সমালোচনা করে জনগণের মধ্যে একটি বিরাজনীতিকরণ প্রেক্ষাপট তৈরির চেষ্টা করেছিল। সেই ধারায় ওয়ান ইলেভেন আসে এবং একটি অনির্বাচিত সরকার প্রায় দু'বছর দেশ পরিচালনা করে।

ওয়ান-ইলেভেন আসার পেছনে যারা কুশীলব ছিল সেই কুশীলবরা এখন আবার ইনিয়ে-বিনিয়ে সরকারের অযোগ্যতা, ব্যর্থতা এবং ক্ষতগুলো দেখানোর চেষ্টা করছে। জাফরুল্লাহ যখন জাতীয় সরকারের দাবি উত্থাপন করেছেন তখন দেশের প্রধান শীর্ষ দুটি দৈনিক বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে। এর মধ্যে একটি দৈনিক প্রতিদিন বিভিন্ন দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি খবর ছেপে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিতে চাইছে। দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার মহান দায়িত্ব যেন এই পত্রিকাটি নিয়েছে। অন্যদিকে কিছু কিছু সংগঠন হঠাৎ করেই মার্কিন প্রেমিক হয়ে উঠেছেন। তারা বাংলাদেশের মানবাধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সরব এবং সোচ্চার হচ্ছেন। স্পষ্টতই তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টায় ব্যস্ত। আবার ঠিক এই সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মধ্যে ব্যক্তিরা সরব হয়েছেন। একটু খতিয়ে দেখলেই বোঝা যায় যে, বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে যারা এ ধরনের কথাবার্তা বলছেন তারা সকলেই আসলে ওয়ান-ইলেভেনের সঙ্গে জড়িত। আর এই চক্রান্তের একটি আবরণ দেওয়ার জন্যই জাতীয় সরকারের দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে কিনা, সেটি হলো দেখার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সহ্যের সীমা লঙ্ঘন করলে ‘হাটে হাঁড়ি’ ভেঙে দেবো: সাক্কু

প্রকাশ: ০৯:৩৬ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail সহ্যের সীমা লঙ্ঘন করলে ‘হাটে হাঁড়ি’ ভেঙে দেবো: সাক্কু

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়েছে। সহ্যের সীমা লঙ্ঘন করলে আমিও ‘হাটে হাঁড়ি’ ভেঙে দেবো।

শনিবার (২৫ জুন) বিকেলে নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড় নিজস্ব বাসভবনে সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল আকবর হোসেনের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন বিএনপির সাবেক নেতা এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।

সাক্কু বলেন, যদি ২০২৩ সালে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকে। আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এছাড়াও আগামী কোরবানির ঈদের পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো।

কুমিল্লা নগরীর ২৭ টি ওয়ার্ড ও সদর আসনের ছয়টি ইউনিয়নের সাক্কুর অনুসারীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন সাক্কুর ছোট ভাই আইনজীবী কাইমুল হক রিংকু, বিএনপি নেতা নজরুল হক ভুইয়া স্বপনসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কুসিক নির্বাচনে সাক্কু ৩৪৩ ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের নিকট পরাজিত হন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কি পাবেন আবুল?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail কি পাবেন আবুল?

দীর্ঘদিন পর সৈয়দ আবুল হোসেনের দেখা মিললো। সৈয়দ আবুল হোসেনকে কাছে ডেকে নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সেই সময়ে যোগাযোগ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর পাশেই ছিলেন। সৈয়দ আবুল হোসেন পদ্মা সেতুর সবচেয়ে বড় ভিকটিম। এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যেয়ে তিনি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে বিসর্জন দিয়েছেন, তার ব্যক্তিগত ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয়েছে, রাজনীতি থেকেও তিনি প্রায় নির্বাসিত হয়েছেন। পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৈয়দ আবুল হোসেনকে যখন প্রধানমন্ত্রী ডেকে নিলো তখন এক নিমিষে তিনি যেন সবকিছু ফিরে পেলেন। কিন্তু রাজনীতিতে দলের নেতার স্নেহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সবকিছু নয়। পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক যখন দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলো সেই সময়ে যাদেরকে অপমানিত করা হয়েছিল, যাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল, তাদের অনেকেই অনেক কিছু পেয়েছেন শুধুমাত্র সৈয়দ আবুল হোসেন ছাড়া।

পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে তিনি চাকরি ফিরে পান এবং একের পর এক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পর এখন তিনি জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করছেন। ড. মশিউর রহমান রহমানও প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বহাল রয়েছেন। শুধুমাত্র মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন সৈয়দ আবুল হোসেন। তারপর তিনি একটি নিভৃত জীবনযাপন করেছেন। বিশেষ করে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর রাজনীতি থেকেও তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন। গত দুটি নির্বাচনে তিনি মাদারীপুর আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। ফলে আবুল হোসেনের রাজনৈতিক জীবন একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তিনি আবার কি রাজনীতিতে ফিরে আসবেন?

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেখে অনেকেই খুশি, আবেগাপ্লুত। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, এই একদিনের আবেগই কি যথেষ্ট? সৈয়দ আবুল হোসেন কি এবার কিছু পাবেন? পেলে তাকে কি দেয়া হবে? আবুল হোসেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যতই বা কি? এগুলোই এখন রাজনীতিতে ঘুরেফিরে আসছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের ঘটনা প্রমাণ করলো যে, সৈয়দ আবুল হোসেন আওয়ামী লীগে অপাংক্তেয় নন। বরং আওয়ামী লীগ সভাপতি পদ্মা সেতুর সময়কার একাধিক বক্তৃতায় আবুল হোসেনের ওপর যে অন্যায় হয়েছে সে প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছেন কিন্তু আবুল হোসেন এখন পর্যন্ত পুরস্কৃত হননি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, যারা বিভিন্ন সময় নির্যাতিত-নিপীড়িত হন, অন্যায়ের শিকার হন তাদেরকে বড় পুরস্কার দিয়ে চমকে দেন। সৈয়দ আবুল হোসেন কি সেরকম কোনো বড় পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন? কি পুরস্কার তিনি পাবেন, সেটি এখন রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের জল্পনা-কল্পনার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ফের করোনায় আক্রান্ত মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ০৮:০৯ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail ফের করোনায় আক্রান্ত মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

শায়রুল কবির খান বলেন, আজ ২৫ জুন সন্ধ্যা ৬টায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারের কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া গেছে। তিনি ডা. রায়হান রাব্বানীর তত্ত্বাবধায়নে আছেন।

আগামীকাল রোববার বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমান সমাধিতে নবগঠিত যুবদল কমিটির নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কথা ছিল। মির্জা ফখরুল করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১১ জানুয়ারি কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছিলেন তিনি। করোনার বোস্টার ডোজও নিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর   করোনাভাইরাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পদ্মা সেতু: রাজনীতির নতুন হিসেব-নিকেশ

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail পদ্মা সেতু: রাজনীতির নতুন হিসেব-নিকেশ

অনেক রাজনৈতিক চাপ এবং অস্বস্তি একবারে উপড়ে দিলো পদ্মা সেতু। আজ বাংলাদেশে পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো। এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যে জনগণের আবেগ-উচ্ছ্বাস, তা এক লহমায় যেন সরকারের অনেকগুলো চাপকে সরিয়ে ফেললো। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যে ছিলো সরকার। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনগণের মধ্যে নানারকম অস্থিরতা, বাজার সামাল দেওয়ার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ। বাংলাদেশের মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে যেন রীতিমত শাসন করতে চাচ্ছিলো। আবার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চলছিল নানা ষড়যন্ত্র। এর মধ্যেই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হলো। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে বিরোধীদল বারবার বলছিলো যে, তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আগে সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনে যাবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের কথা বলছিলো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এ রকম পরিস্থিতিতে সামনের দিনগুলোতে সরকার বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে বলেও কোনো কোনো রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছিলো।

সুশীল সমাজ পশ্চিমাদের সাথে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নানারকম কথাবার্তা বলছিলো। সবকিছু মিলিয়ে ১৩ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবারের মতো বড় ধরনের চাপ অনুভব করছিলো। এই সময়েই সরকার পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময়টা যেন উৎসবমুখর না হয়, সেজন্য নানারকম ষড়যন্ত্র হয়েছিলো। অনেকেই মনে করেন যে, সীতাকুণ্ডের ঘটনা কিংবা পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে নাশকতার চেষ্টা এই উৎসবকে ম্লান করারই একটি ষড়যন্ত্র। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেনে আকস্মিক আগুনের ঘটনাটি কোনোভাবেই সাধারণ ঘটনায় বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। এর মধ্যেই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আগে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা আরেকটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায় সরকারকে। এই বন্যার মধ্যে উৎসব করা উচিত হবে কিনা, এ নিয়েও নানা মত প্রকাশ হতে শুরু করে। বিশেষ করে, কোনো কোনো মহল এটিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ম্লান করার একটা অজুহাত হিসেবে দাড় করায়। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উৎসবমুখর করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং আজ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন সারাদেশের মানুষের মধ্যে যে আবেগ, অনুভূতি তৈরি করেছে সেটি রাজনীতির সব হিসেব নিকেশ পাল্টে দিয়েছে। এই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণের একটি বৃহৎ অংশ আওয়ামী লীগের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই হলো সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভিন্ন রকম অস্বস্তির মধ্যে থাকা এই সরকার এক পদ্মা সেতু দিয়ে দেশের সিংহ জনগোষ্ঠীর সমর্থন এবং সহমর্মিতা আদায় করে নিয়েছে। পদ্মা সেতু কেবল একটি অবকাঠামো হিসেবে মানুষ দেখছে না, এটি দেখছে বাঙালির বিজয় হিসেবে, আমাদের একটি আত্মপরিচয় এবং আত্মমর্যাদার স্মারকচিহ্ন হিসেবে। সে কারণেই পদ্মা সেতু রাজনীতির মাঠেও সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। এই আবেগ, উচ্ছ্বাসের কারণে বিরোধী দলগুলো হঠাৎ করে এখন যেমন আন্দোলনের সুযোগ পাবে না, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিপুল জনসমর্থনে থাকা এটি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম চাপ প্রয়োগ করেও খুব একটা সফল হতে পারবে না। জনগণের শক্তি যে বড় শক্তি, সেটি পদ্মা সেতু আবার প্রমাণ করেছে। এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারকে বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করেছেন, তিনি যা বলেন তা পালন করেন। ফলে আগামী রাজনীতিতে পদ্মা সেতুর একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দাঁড়াবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

যে সেতু বদলে দিলো কাদেরের ভাগ্য

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail যে সেতু বদলে দিলো কাদেরের ভাগ্য

পদ্মা সেতু আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো। সেতু বিভাগের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের জন্য এটি এক বিশাল অর্জন। আজ পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে মঞ্চে যে দুজন বক্তৃতা দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের একজন। তিনি শুধু বক্তৃতায় বক্তব্যই রাখেননি, এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন ওবায়দুল কাদের। পদ্মা সেতু ওবায়দুল কাদেরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি বিশাল অর্জন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পদ্মা সেতুর কারণে ওবায়দুল কাদের তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নতুন জীবন পেয়েছেন বলেও অনেকে মনে করছেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন ওবায়দুল কাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। বরং ওয়ান ইলেভেনের সময় সামরিকজান্তাদের কাছে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগের মধ্যে নানারকম সমালোচনার মুখে ছিলেন। এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই চলছিল। কিন্তু পদ্মা সেতু নিয়ে যখন বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ উত্থাপিত হলো, তখন শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার পরিবর্তন আনেন। সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এই সময়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। একটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, অন্যটি রেল মন্ত্রণালয়। রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে, আর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওবায়দুল কাদেরকে।

ওবায়দুল কাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিলো সবকিছু বিতর্ক পাশ কাটিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ঘোষণা করেছিলেন যে, নিজের টাকায় তিনি পদ্মা সেতু করবেন তখন এটি দেখভাল করার জন্য একজন ভালো দক্ষ ম্যানেজার দরকার ছিলো। ওবায়দুল কাদের দক্ষতার সঙ্গেই পদ্মা সেতুর সম্পন্ন করার দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে বারবার তিনি সেতু এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পদ্মা সেতুর সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর একাগ্রতা, নিষ্ঠা প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন এই কারণেই তিনি রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির আরও নজরে এসেছেন। এ কারণেই তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এবং এই পদ্মা সেতুর সাফল্যই হয়তো তৃতীয়বারের মতো ওবায়দুল কাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, ওবায়দুল কাদের নিঃসন্দেহে একজন ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতা। পচাঁত্তর পরবর্তী কঠিন সময়ে তিনি ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জেল-জুলুম, নির্যাতন ভোগ করেছেন। তারপর ধাপে ধাপে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এসেছেন। কিন্তু পদ্মা সেতু তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন প্রাণ দিয়েছে, দিয়েছে নতুন মাত্রা। তার মন্ত্রিত্ব অবস্থায় পদ্মা সেতু হয়েছে। এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্জন। আর যতদিন পদ্মা সেতু থাকবে ততদিন তার আমলেই পদ্মা হয়েছে এই কথাটি থাকবে। পদ্মা সেতু তার অনেক ব্যর্থতাও ছাপিয়ে দিয়েছে এবং সংগঠন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তার যে সীমাবদ্ধতাগুলো, সেই সীমাবদ্ধতাগুলোকেও চাপা দিয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পদ্মা সেতুর কারণে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন, পদ্মা সেতুর কারণেই রাজনীতিতে তার অবস্থান আগের চেয়ে এখন আরও শক্ত হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতু   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন