ইনসাইড পলিটিক্স

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আর নেই

প্রকাশ: ১১:৫৯ এএম, ২৯ জুন, ২০২২


Thumbnail আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আর নেই

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আর নেই। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। 

বুধবার (২৯ জুন) সকালে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১২ জুন দিবাগত রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় নির্মল রঞ্জন গুহকে। এরপরই তাকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। হার্টে দুটি ব্লক ধরা পড়লে সেখানে রিং বসানো হয়। তাতেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।

পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৬ জুন দুপুরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

এর আগেও তিনি হার্টের সমস্যায় ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ২০২০ সালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে মোল্লা কাওছার ও পঙ্কজ দেবনাথের কমিটির
জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ছিলেন নির্মল রঞ্জন গুহ। মোল্লা কাওছারকে অব্যাহতি দেওয়ার পর তিনি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হন। ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন নির্মল রঞ্জন গুহ। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন আফজালুর রহমান বাবু।

নির্মল রঞ্জন গুহের রাজনীতিতে পথচলা শুরু ছাত্রলীগের হাত ধরে। ছাত্রাবস্থায় তিনি নয়াবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তি হন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে। তিনি ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ   সভাপতি   নির্মল রঞ্জন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

'রাজপথ দখল করা অত সহজ নয়, রাজপথ দখল করেছি আমরা'

প্রকাশ: ১০:১২ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail 'রাজপথ দখল করা অত সহজ নয়, রাজপথ দখল করেছি আমরা'

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পদ্মা সেতু দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করেছে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। নিজস্ব অর্থায়নে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করেছেন। ভোলা-বরিশাল ব্রিজও একদিন হবে। ভোলা-লক্ষ্মীপুর ব্রিজও একদিন হবে ইনশাআল্লাহ।

রোববার (৭ আগস্ট) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৬৯ সালে আমরা আন্দোলন করে আইউব খানকে বিতাড়িত করেছি। এটাকে বলে আন্দোলন। আমরা গত ১৪ বছর ধরে বিএনপির মহাসচিবের একই বক্তব্য শুনছি। তারা রাজপথ দখল করার কথা বলে। রাজপথ দখল করা অত সহজ নয়। রাজপথ দখল করেছি আমরা। ১৯৯৫ সাল বিএনপি যে নির্বাচন করেছিল; ক্ষমতায় ছিল মাত্র ১৫ দিন। আমরা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করেছি। আমারা আন্দোলন করে বিএনপিকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছি। এটাকে বলে আন্দোলন। মনে রাখতে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে পুরাতন রাজনৈতিক দল। যার ভিত্তি তৃণমূল পর্যন্ত।

গতকাল বর্ষীয়ান নেতা সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলায় আসেন। এই প্রথম তিনি পদ্মাসেতু পারি দিয়ে ঢাকা থেকে সড়ক পথে ভোলায় এসেছেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাংলাবাজার স্বাধীনতা যাদুঘর চত্বরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব আব্দুল মমিন টুলু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দোস্ত মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক এনামুল হক আরজু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তত্ত্বাবধায়ক সরকার না, বিএনপি মাঠে নামছে ৫ ইস্যুতে

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail তত্ত্বাবধায়ক সরকার না, বিএনপি মাঠে নামছে ৫ ইস্যুতে

বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে এসেছে। কৌশলগত কারণে এ সরে আসা বলে বিএনপি'র একাধিক নেতা বলেছেন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয় বরং পাঁচটি জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তারা রাজপথ উত্তপ্ত করতে চায়। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, তাদের এখন প্রথম লক্ষ্য হলো সরকার পতন। আর এই জন্য তারা এই পাঁচটি ইস্যুকে সামনে আনছেন। বিএনপি নেতা স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন যে, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী কার কাছে করবো, এই সরকারের পতনই হলো আমাদের একমাত্র দাবী। আর এই সরকার এখন জনবিরোধী হয়ে উঠেছে। কাজেই জনগণের যে সমস্যা সেই সমস্যা গুলোকে আমরা সামনে আনতে চাই। বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছিলো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তারা তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছেন। এখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বদলে অন্যান্য ইস্যুগুলোকে সামনে আনতে চায় এবং এ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দিতে চায়। যে সমস্ত ইস্যুগুলো নিয়ে বিএনপি এখন আন্দোলন শুরু করবে বলে জানা গেছে তার মধ্যে রয়েছে-

১. জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: গত শুক্রবার জ্বালানি তেলের যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে এটি বিএনপির নেতাদের জন্য একটি চরম সুযোগ বলে তারা মনে করছেন। তারা মনে করছেন, এটি এমন একটি ইস্যু যেটি নিয়ে আন্দোলন করলে জনগণের সমর্থন পাওয়া যাবে এবং জনগণও এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। এজন্য তারা কর্মসূচির তালিকায় প্রথমে রেখেছে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। এমনকি ভোলায় তাদের একজন কর্মী মারা গেলে সেই শোকসভাতেও তারা জ্বালানি তেলের  ইস্যুটিকে সামনে এনেছে। বিএনপি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থা দেখতে চায়। এটি দেখার পর এ ব্যাপারে বড় ধরনের কর্মসূচি দেবে বলে জানা গেছে।

২. লোডশেডিং: বিএনপি কিছুদিন ধরে লোডশেডিং নিয়ে আন্দোলন করছে এবং লোডশেডিং, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচিতেই ভোলায় দুই জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আর সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে লোডশেডিংকেও তারা যুক্ত করতে চায় বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

৩. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিএনপির জন্য একটি বড় ইস্যু। অতীতে এই ইস্যুটিকে প্রাধান্য দেয়নি। কিন্তু বিএনপি নেতারা বলছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্য যে অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে তাতে এ নিয়ে আন্দোলন করার কোনো বিকল্প তাদের কাছে নেই। কারণ, জনগণ এখন হাঁসফাঁস করছে। মধ্যবিত্তের জন্য এখন জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে রাজনৈতিক ইস্যু করাটা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

৪. দুর্নীতি: বিএনপি নেতারা বলছেন যে, আজকের এই অবস্থার প্রধান কারণ হলো দুর্নীতি। বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নামে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। এ কারণেই আজকের এই সংকটে। আর তাই বিএনপি তাদের আন্দোলনের ইস্যুতে দুর্নীতিকেও যুক্ত করতে চায়। বিশেষ করে এ বিষয়ে তারা শ্বেতপত্র প্রকাশ, গণ-তদন্ত কমিশন গঠন ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করতে চায় বলে জানা গেছে। বিএনপি জনগণের কাছে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। তারা বলতে চায় এখন যে সংকট এবং সমস্যা তার প্রধান কারণ হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি যদি না থাকতো তাহলে এই সমস্যাগুলো তৈরি হতো না।

৫. গণপরিবহনের নৈরাজ্য: গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনা ইত্যাদি নিয়েও বিএনপি এখন সরব হতে চায়। বিএনপি নেতারাই বলছেন যে, এতদিন তারা যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ইস্যু যেগুলোতে জনগণের আগ্রহ নেই এসব নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণের কারণে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলো।

এখন তারা জনগণের জন্য যে ইস্যুগুলো গুরুত্বপূর্ণ, যে ইস্যুগুলোতে জনগণ সংকটে আছে সেই ইস্যুগুলোকে সামনে আনতে চায়। বিএনপি নেতারা বলছেন, যদি সরকারকে হটানো যায় তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এমনিতেই আসবে। এ নিয়ে আন্দোলন করার দরকার নেই। সরকারের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করে কোন লাভ নেই।

বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগ: হতাশ, বিব্রত, বিরক্ত, নিশ্চুপ

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আওয়ামী লীগ: হতাশ, বিব্রত, বিরক্ত, নিশ্চুপ

হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি আওয়ামী লীগকে হতবাক করেছে। আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতারা এ সম্পর্কে অন্ধকারের ছিলেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কিছুই জানতেন না। শুক্রবার রাতে যখন তেলের মূল্য এভাবে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করা হয়েছে, তারাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। আওয়ামী লীগের দুই একজন নেতা তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাফাই গাইলেও আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী এই ঘটনায় বিব্রত এবং কিছুটা ক্ষুব্ধও বটে। এটার প্রকাশ দেখা যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তির মন্তব্য থেকে। গতকাল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘরে এক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন করে। এই প্রশ্নে তিনি জবাব দেন, আপনারা এই বিষয়ে প্রথমে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া নেন। আমার প্রতিক্রিয়া কেন? আমি তো বিদ্যুৎ মন্ত্রী না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ, অর্থবহ।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিটা তিনি পছন্দ করেননি জন্য এরকম মন্তব্য করেছেন। শুধু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নয়, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, নির্বাচনের আগে এইভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাশুল আওয়ামী লীগ দিতে হবে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন যে, এর ফলে কৃষির উপর প্রভাব পড়বে এবং কৃষি পণ্যের দাম বাড়বে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন যে, এখন এই রকম সিদ্ধান্তটি এভাবে না নিলেও চলতো। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, আমরা যদি ধাপে ধাপে বাড়াতাম, সেক্ষেত্রে মানুষের জন্য এটি সহনীয় হত। কিন্তু একবারে এভাবে দাম বৃদ্ধিটি কোনোভাবেই যৌক্তিক হয়নি। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন যে, হাইব্রিড বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং আমলারা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। এ কারণেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গুলো হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন যে, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ কষ্টে আছে, তার মধ্যে এই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সর্বব্যাপী হবে। এর ফলে জনমনে অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠবে। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, পরিস্থিতি এখন নাজুক অবস্থায় চলে গেছে। এজন্য আমরা প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে পারছি না। কিন্তু জনগণের কাছে আমরা কি নিয়ে যাবো? আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে দেখা গেছে যে, তারা এইভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে হতাশ। তারা মনে করছেন যে, প্রধানমন্ত্রী গত ১৩ বছরের নিরলস পরিশ্রম করে যে অগ্রগতি, উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য এনেছেন তাকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং কালিমালিপ্ত করার জন্য কিছু আমলা এবং সরকারের কিছু মন্ত্রী যেন উঠে পড়ে লেগেছে। তারা একের পর এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আওয়ামী লীগকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সামনের দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ যখন জনগণের  কাছে যাবে, তখন এইসব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আওয়ামী লীগের অন্য একজন নেতা বলেছেন যে, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ যে অর্জন করেছিল, এই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাকে ম্লান করে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ করা দরকার বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করছেন যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিলো।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জনগণকে তোয়াক্কা করে না সরকার: মান্না

প্রকাশ: ০৫:৩৩ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail জনগণকে তোয়াক্কা করে না সরকার: মান্না

অসহনীয় দ্রব্যমূল্যের চাপে পিষ্ট জনগণের উপর জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য এবং সাথে সাথে বর্ধিত পরিবহন ভাড়ার খড়গ চাপানো প্রমাণ করে এই সরকার জনগণকে তোয়াক্কা করে না বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, গণবিরোধী এই সরকারকে এখনি হঠাতে না পারলে দেশের মানুষকে বাঁচানো যাবে না।

রোববার ( আগস্ট) দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব কথা বলেন  মাহমুদুর রহমান মান্না। 

মান্না বলেন, এই সরকার অগণতান্ত্রিক। ভোট ডাকাতি করে তারা ক্ষমতায় এসেছে। তাই তারা জনগণের দুঃখ কষ্টের কথা ভাবে না। সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থ পাচারের মাধ্যমে তারা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা দেশের ব্যাংক গুলোকে খালি করেছে, শেয়ার বাজার ধ্বংস করেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ খালি করে ফেলেছে, লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তাদের কাছে দেশ চালানোর টাকা নেই, আমদানির জন্য রিজার্ভ নেই। তাই এখন তারা জনগণের পকেট কাটার পাঁয়তারা করছে। তাদের লুটপাটের চাপ জনগণের ঘাড়ে চাপাচ্ছে। সরকার দেশকে একটি দুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। 
ডাকসুর সাবেক এই দুই বারের ভিপি বলেন, শ্রীলঙ্কার দূরত্ব আর মাত্র ২৯ পয়সা। দেউলিয়া রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় ডিজেলের দাম বাংলাদেশি টাকায় ১১৪ টাকা ২৯ পয়সা। আর বাংলাদেশে ১১৪ টাকা। শ্রীলঙ্কায় কেরোসিনের দাম ১২৩ টাকা আর বাংলাদেশে ১১৪ টাকা। অবৈধ ক্ষমতাসীনরা দেশকে খাঁদের কিনারায় নিয়ে গেছে।

জনগণের উদ্দেশে মান্না বলেন, এই দানব সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হলে আপনাদের রাস্তায় নামতে হবে। সকল বিরোধী শক্তি এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ গণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে উৎখাত করতে পারলে দেশকে বাঁচানো যাবে। না হলে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানো যাবে না, দেশের মানুষকে বাঁচানো যাবে না।

জনগণ   সরকার   মান্না   নাগরিক ঐক্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সরকারবিরোধী আন্দোলনকে গতি দিচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail সরকারবিরোধী আন্দোলনকে গতি দিচ্ছে সরকার

দেড় বছরেরও কম সময় বাকি আছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। প্রস্তুতির সময় হিসেবে খুব বেশি সময় নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এই সময়। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী যেমন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে, তেমনি সরকারবিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফলশ্রুতিতে সরকারি দল এতদিন একটা শক্ত অবস্থানে থাকলেও সেই অবস্থানে এখন ভাটা পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের একের পর এক সংকট সরকারের এ সমস্ত উন্নয়ন আর অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। সংকট যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না সরকারের। 

মূল্যস্ফীতি ও ডলার সংকটে নিত্যপণ্যের দামে সংসার চালাতে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঠিক সে সময়ে এলো বড় দুঃসংবাদ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে ৯ মাসের মাথায় ফের ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এবার অকটেন ও পেট্রোলের দামও বেড়েছে। এক লাফে ৪৭ শতাংশের বেশি দাম বাড়ানো রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ফলে জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি আমজনতাকেও বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে দেখা গেছে।

দেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকারবিরোধী শিবিরগুলো বলে আসছে শীঘ্রই দেশ শ্রীলঙ্কা হতে যাচ্ছে। সরকার এর তীব্র প্রতিবাদ করলেও এখন সংকট দিন দিন বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের কাছে বিরোধী শিবিরের কথা, দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাওয়ার প্রচারণা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল সারাদেশে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রাজপথে প্রতিবাদ জানিয়েছে। শুধু তাই নয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের অন্যতম শরিফ দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিও এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন গতি পাচ্ছে বলেই দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

আন্দোলন   সরকার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন