ইনসাইড পলিটিক্স

নতুন সংবিধান: কার এজেন্ডা?

প্রকাশ: ০৭:০২ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail নতুন সংবিধান: কার এজেন্ডা?

বিএনপি এখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। কেবল নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নয়, বিএনপি তিন ধাপে তাদের আইন এবং সাংবিধানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বিএনপি বলছে যে, নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। নির্বাচনের পর যে সমস্ত দলগুলো একসাথে আন্দোলন করবে তাদের নেতৃত্বে একটি জাতীয় সরকার গঠিত হবে এবং এই জাতিয় সরকার সংবিধান সংশোধন করবে। এই ত্রিমাত্রিক কর্মসূচীর কোন ধাপ কখন করবে সে সম্পর্কেও বিএনপি নেতারা বলছেন। তারা বলছেন যে, প্রথম তাদের লক্ষ হলো একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যেভাবে ছিল সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে, দ্বিতীয় ধাপে তারা যুগপৎ আন্দোলনে যে সমস্ত শরিকদের নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করবেন তাদেরকে নিয়েই একটি জাতিয় সরকার গঠন করবেন এবং তৃতীয় দফায় তারা সংবিধান সংশোধন করবেন। নতুন সংবিধান কেমন হবে সে সম্পর্কে বিএনপি নেতারা কিছু কিছু ধারণা দিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, নতুন সংবিধানে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয়ত তারা বলছেন যে, সংসদ হবে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট। হঠাৎ করে নতুন সংবিধানের এজেন্ডা কেন বিএনপির মধ্যে আসল, তা নিয়ে রাজনৈতিক অজ্ঞানে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন বিএনপি আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে সে নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী যখন সাংবিধানিক ভাবে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং শূন্যতার সৃষ্টি করেছে ঠিক তখন কিভাবে নতুন সংবিধানের কথাটি আসছে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, নতুন সংবিধানের ধারণাটি এসেছে সুশীল সমাজের কাছ থেকে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. শাহদীন মালিক, আসিফ নজরুলসহ যারা বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিবেচিত রয়েছেন তারাই নতুন সংবিধানের কথা বলছেন। আর নতুন সংবিধান করার পেছনে বিএনপির একটি উদ্দেশ্য আছে। বিএনপির নেতারা মনে করছেন যে, বর্তমানে তারেক জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া দুজনেই দন্ডিত। এই সংবিধান অনুযায়ী তারা কোনোভাবেই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এমনকি সরকারপ্রধান বা সংসদের নেতাও হতে পারবেন না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ কি, এটা ভাবতেই তারা নতুন সংবিধানের বিষয়টি সামনে এনেছে। অন্যদিকে, নতুন সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে সুশীল সমাজেরও উৎসাহ রয়েছে। সুশীল সমাজ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা চায়। যখনই অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে তখনই সুশীল সমাজ ক্ষমতার কেন্দ্রে জাঁকিয়ে বসতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যখন থেকে প্রতবর্তীত হলো তখন থেকে সুশীল সমাজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মানেই সুশীল সমাজের শাসন। ২০০৭ সালের সুশীল সমাজের এই কর্তৃত্ব আরও প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময় দুই বছর সুশীল সমাজনিয়ন্ত্রিত সরকার দেশ পরিচালনা করে। আর এ কারণেই সুশীল সমাজ মনে করছে যে, ক্ষমতায় তাদের স্থায়ী হিস্যা দরকার। আর এই হিস্যা লাভের জন্যেই তারা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের কথা বলেছে, যেখানে উচ্চকক্ষে সুশীল প্রতিনিধিরা থাকবে। আর এ কারণেই তারা বিএনপিকে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট এবং রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলছেন। সুশীলদের প্রস্তাবনা হলো যে, রাষ্ট্রপতি হবেন সুশীল নিয়ন্ত্রিত এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন দলীয়। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে সুশীল সমাজ যেটি পারেনি, সেটিই তারা এখন সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে হাসিল করতে চায়। এ কারণেই তারা এখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবীর সাথে সাথে নতুন সংবিধানের দাবিকে যুক্ত করেছে। কিন্তু সুশীলদের এই অভিপ্রায় পূরণ করতে পারবে কি বিএনপি?


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শেখ মনির ৮৪তম জন্মদিন

প্রকাশ: ১০:৫৭ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির ৮৪তম জন্মদিন রোববার (৪ ডিসেম্বর)। ১৯৩৯ সালের এই দিনে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ঐতিহাসিক শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেই শেখ মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম সামছুন্নেছা আরা আরজু মণিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতকরা।

শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ঢাকা নবকুমার ইনস্টিটিউট থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন জগন্নাথ কলেজে। ১৯৫৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করার পর ১৯৬০ সালে তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ষাটের দশকে সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাহসী নেতৃত্বের মাধ্যমে ইয়াহিয়া খানের গদি কাঁপিয়ে দেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুজিববাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালে যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে যুব রাজনীতির সূচনা করেন।

শেখ মনি ১৯৬২-৬৩ মেয়াদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মোনায়েম সরকার তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ ডিগ্রি কেড়ে নেয়। বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ৩ বছর কারাভোগ করেন। রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকও ছিলেন শেখ মনি। তিনি দৈনিক বাংলার বাণী, বাংলাদেশ টাইমস এবং বিনোদন পত্রিকা সাপ্তাহিক সিনেমার সম্পাদক ছিলেন। তার সম্পাদিত বাংলার বাণী ছিল বাংলাদেশের প্রথম অফসেটে মুদ্রিত সংবাদপত্র। বাকশালেরও সম্পাদক ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি।

শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি ব্যক্তি জীবনে দুই সন্তানের জনক ছিলেন। বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও ইংরেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বর্তমানে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। আর ছোট ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপস খ্যাতনামা ব্যারিস্টার এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র। মেয়র হওয়ার আগে ব্যারিস্টার তাপস ঢাকা-১২ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

শহীদ শেখ মনির জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যুবলীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বনানী কবরস্থানে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনিসহ ১৫ আগস্টে নিহত সব শহীদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে অসহায়-দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ।
  
এছাড়াও আগামী ৪, ৫ ও ৬ ডিসেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির ৮৪তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী সব মসজিদে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং অসহায়, এতিম ও দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র/খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

শেখ মনি   যুবলীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডেকেছে বিএনপি

প্রকাশ: ১০:৪৭ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডেকেছে বিএনপি। রোববার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। 

রোববার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

বিএনপির সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের সভাপতির গ্রেপ্তার এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন সামনে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো নিয়ে কথা বলবেন তিনি। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলবেন।

বিএনপি   সংবাদ সম্মেলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

রাজনৈতিক উত্তাপ ফিরছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

প্রকাশ: ০৯:৫৯ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেশের মুক্তি আর সংগ্রামের সাক্ষী। নানা আন্দোলন আর সংগ্রামের যাত্রা শুরু হয়েছে এখান থেকেই। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোর সভা সমাবেশের ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ এই ঐতিহাসিক ময়দান।

দীর্ঘদিন পর আবার স্বরূপে ফিরছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। গত ১১ নভেম্বর যুবলীগের মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে রাজনীতির উত্তাপ ফিরেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের বাকি আরও এক বছর। আগেভাগেই মাঠে নেমেছে সরকারবিরোধী বিএনপি। আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। যদি ডিএমপি জনস্বার্থে নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যোন সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। তবে নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং ডিএমপির মধ্যে চলছে ত্রিমূখী লড়াই।

এদিকে ময়দানে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটি বলছে, তারা জনমুখী দল। নানান সংকটের মধ্যেও কমেনি তাদের জনপ্রিয়তা। সেই বার্তা দিতেই, দলীয় কর্মসূচিতে বেশি মনযোগ দিচ্ছে, দেশের প্রাচীনতম এই রাজনৈতিক সংগঠন।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে প্রস্ততি। ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। তার আগেই ইতোমধ্যে গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে যুবলীগের মহাসমাবেশ। এরপর ২৫ নভেম্বর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সন্মেলন, ২৬ নভেম্বর মহিলা আওয়ামী লীগের সন্মেলন, ২ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগের যৌথ বার্ষিক সম্মেলন, ৩ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আওয়ামী লীগ মনে করে, নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে চাঙ্গা হয়ে উঠবে নেতাকর্মীরা। সরকারের জনপ্রিয়তার বার্তাও পৌছে যাবে দেশজুড়ে।

রাজনৈতিক উত্তাপ   সোহরাওয়ার্দী উদ্যান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা: সাধারণ লোকের জমায়েত শুরু হয়েছে পলোগ্রাউন্ড মাঠে

প্রকাশ: ০৮:২৫ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আজ (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ভাষণ দেবেন আওয়ামী লী সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষ্যে আগেই দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ থেকে ছয় হাজারের বেশি নেতাকর্মী চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন।

অন্যদিকে জনসভা ঘিরে আগেভাগে চট্টগ্রামে আসাদের মধ্যে অনেকে আবাসিক হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান করছেন। অনেকে নিজ আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের বাসায় উঠেছেন।

সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ঘাটে ঘুরে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে সন্দ্বীপ উপজেলা থেকে ফিশিং ট্রলার, পণ্যবাহী ট্রলার, বোট, স্পিড বোটে করে সীতাকুণ্ড ঘাটে এসে নামছেন মানুষ। পরে বাসে করে চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রবেশ করছেন তারা।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান জানান, পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে এরইমধ্যে সন্দ্বীপ থেকে ছয় হাজার নেতাকর্মী চট্টগ্রামে এসেছেন। জনসভার দিন নানা ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। সেই আশঙ্কায় আগেভাগে তারা চট্টগ্রাম শহরে এসেছেন। ২৫টি ট্রলারে করে তাদের আসার ব্যবস্থা করা হয়। স্পিডবোটেও অনেকে এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সমাবেশের অগ্রভাগে থাকতে চাই। তাই আগেই সভাস্থলের কাছাকাছি চলে এসেছি। চট্টগ্রামে অনেকে নিকটাত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন। অনেকে হোটেলে উঠেছেন। নেতাকর্মীদের যাতে সমস্যা না হয়, সেজন্য সবার থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

শুধু কচি নয়, যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী আগেভাগে চট্টগ্রামে এসেই যোগ দিয়েছেন জনসভার প্রচারণায়। সীতাকুণ্ড ঘাট থেকে ছোট-বড় বাসে করে মহানগরীতে আসেন তারা। অনেকটা র‌্যালির আকারে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করে সন্দ্বীপের নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়িগুলো।

প্রধানমন্ত্রী   জনসভা   পলোগ্রাউন্ড মাঠে  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আজ চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় ভাষণ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮:১০ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আজ চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নগরীর পলোগ্রাউন্ডে এ জনসভার আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে উৎসবের আমেজে পুরো চট্টগ্রাম প্রস্তুত। শেষ মুহূর্তে নগরজুড়ে চলছে সাজসজ্জা ও প্রচার-প্রচারণার কাজ। 

সাংবাদিকদের ব্রিফ্রিংয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাসির উদ্দীন বলেছেন, চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ ও সর্বস্তরের জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

মহামারি-কোভিড-১৯ এর কারণে প্রায় তিন বছর ঢাকার বাইরে গত ২৪ নভেম্বর যশোরে এক জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববারের জনসভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং সহযোগী সংগঠনগুলো চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে এবং মাইকিং ও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে বণার্ঢ্যতোরন নির্মাণ এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যানার ও পোস্টার টাঙানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানাতে নেতৃবৃন্দ নগরীর জামাল খান, কাজির দেউরি, হালিশহর, লালখান বাজার, টাইগার পাস,দেওয়ান হাট, কদমতলী, নিউমার্কেট, আন্দরকিল্লাসহ অন্যান্য স্থানে বিলবোর্ড, ব্যানার, বেলুন, ফেস্টুন এবং পোস্টার টাঙিয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে জনসভাকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি ফুটপাত পরিষ্কার, রং করা, ফ্লাইওভারগুলো আলোকসজ্জিত করা হয়।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক দলীয় ফোরামের সভাগুলোতে দলকে এখন থেকে আরও সময় দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগ প্রধান দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনা করছেন। এরই অংশ হিসেবে গত ২৪ নভেম্বর যশোর স্টেডিয়ামে প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। যশোরের জনসভার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। আগামী ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারে শেখ কামাল স্টেডিয়ামে শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে দলীয় সভায় ভাষণ দেবেন। এসব জনসভায় দলীয় প্রধান আওয়ামী নেতাকর্মী ও জনগণকে নতুন বার্তা দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনব্যাপী সফরে রোববার সকালে চট্টগ্রাম আসবেন এবং বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে যোগদান করবেন। তিনি সকালে ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে সামরিক বাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০২২ যোগ দেবেন।

তিনি সেখানে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করবেন। সেখান থেকে দুপুরে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে আসবেন। স্টেডিয়াম থেকে গাড়িতে করে প্রধানমন্ত্রী পলোগ্রাউন্ডে জনসভায় যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম নগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একটি ১৬০ ফুট লম্বা নৌকার আদলে সভা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে পলোগ্রাউন্ড মাঠে। চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার স্থলকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি বলেন, চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভূতপূর্ব উন্নয়ন কাজ করেছেন। তাই ৪ ডিসেম্বর জনসভায় আওয়ামী লীগ ছাড়াও সাধারণ জনগণও উপস্থিত হবে। এ কারণে এবারের জনসভা একটি ঐতিহাসিক জনসভায় রূপ নেবে। পলোগ্রাউন্ড মাঠ ছাপিয়ে বাইরেও জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সমাপ্তির পথে। আশা করি, এবার জনসভায় লোক জমায়েতে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। জনসভা স্বাচ্ছন্দ্যে দেখতে মাঠের বাইরেও এলইডি টিভি বসানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, পটিয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন। তাই পটিয়াবাসী উন্মুখ হয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীকে তাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য। পটিয়া থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সর্বস্তরের মানুষ জনসভায় উপস্থিত হবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সফরে ৩০টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এজন্য জনসভার মঞ্চের পাশে ভিত্তিফলকগুলো স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম   পলোগ্রাউন্ড মাঠ   জনসভা   প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন