ইনসাইড পলিটিক্স

ঘরের ছেলেরা ঘরে ফিরতে চায়: আওয়ামী লীগ নেবে কি?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাউন্সিলের আগে আওয়ামী লীগে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন এরকম বেশ কয়েকজন নেতা আবার ঘরে ফিরতে চান। ঘরে ফেরার জন্য তারা বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতার সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। কিন্তু কোনো নেতাই কোনো সবুজ সংকেত তাদের দিতে পারেননি। সব নেতারাই প্রাক্তন আওয়ামী লীগারদের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা। ঘরের ছেলেরা ঘরে ফিরতে চান, আওয়ামী লীগ কি তাদের নেবে? যে সমস্ত নেতা একসময় আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন কিন্তু এখন আওয়ামী লীগে ফিরতে চান তাদের মধ্যে রয়েছেন-

১. আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী: আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আসার পর মন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর দলের প্রাথমিক সদস্যপদও তিনি হারান। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি কঠিন সময় বিশেষ এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু ধর্মবিরোধী স্পর্শকাতর বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন কারান্তরীণ ছিলেন। এখন তিনি আবার আওয়ামী লীগের ফিরে আসতে চান। এজন্য তিনি যোগাযোগ করছেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগের ফিরতে পারবেন কিনা, এ প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে।

২. বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী: বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন ১৯৯৬ সালের পর যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল এবং তিনি আওয়ামী লীগ থেকে সরে গিয়ে নিজেই একটি রাজনৈতিক দল করেছিলেন। এই রাজনৈতিক দলটি খুব একটা দাঁড়াতে পারেনি। বরং তিনি এখন আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গেও তিনি দেখা করেছেন, যোগাযোগ করছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি একজন আওয়ামী লীগার হয়েই মৃত্যুবরণ করতে চান, এমন কথা বিভিন্ন মহলে বলেছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। একমাত্র বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা যিনি বীর উত্তম খেতাব পেয়েছিলেন। পঁচাত্তরের পর তিনি আরেকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জাতির পিতার হত্যার বিচারের দাবিতে তিনি আরেকটি ঐতিহাসিক প্রতিবাদ সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে দূরে চলে যাওয়ার পর তিনি এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত। আওয়ামী লীগ তাকে ফিরিয়ে নেবে কি?

৩. মোস্তফা মোহসীন মন্টু: মোস্তফা মোহসীন মন্টু একসময় আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। বিশেষ করে পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন মন্টুর ভূমিকা ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ১৯৯১ সালে মোস্তফা মোহসীন মন্টু আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন এবং তারপর তিনি দীর্ঘদিন গণফোরাম করেছেন। এখন ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং নতুন একটি পৃথক গণফোরাম গঠন করে তিনি না আলাদা অবস্থানে রয়েছেন। সেই অবস্থান থেকে তাকে আওয়ামী লীগ নেবে কিনা, সেটি এখন একটি বড় প্রশ্ন।

৪. অধ্যাপক আবু সাইয়িদ: অধ্যাপক আবু সাইয়িদ আওয়ামী লীগের অন্যতম তাত্ত্বিক নেতা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৭ সালে তিনি সংস্কারপন্থী হয়ে যান। এই সংস্কারপন্থী হওয়ার কারণেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়নি। সেই বার মনোনয়ন না পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটে পরাজিত হন। গণফোরামেও তিনি টিকতে পারেননি। এখন মোস্তফা মোহসীন মন্টুর গণফোরামের তিনি আছেন। এই তাত্ত্বিক নেতাও এখন আওয়ামী লীগে ফেরার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করছেন। শেষ পর্যন্ত তিনিও ফিরতে পারবেন কিনা, সেটিও একটু বড় প্রশ্ন।

৫. সুলতান মোহাম্মদ মনসুর: সাবেক ডাকসুর ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শেখ হাসিনার হাতে গড়া একজন রাজনীতিবিদ যিনি ছাত্রনেতা থেকে শেখ হাসিনার অপত্যস্নেহ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। কিন্তু এক-এগারোর সময় তিনি মাইনাস ফর্মুলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি, আওয়ামী লীগ থেকে তিনি নিজেই সরে যান। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ওই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়ে এখন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদেও তিনি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কথা বলছেন। আওয়ামী লীগের অনেকেরই সমালোচনা করছেন কিন্তু শেখ হাসিনার পক্ষে তাদের অবস্থান জাতীয় সংসদে সবসময় দেখা যায়।সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আওয়ামী লীগে ফিরবেন, এমন গুঞ্জন অনেকদিন ধরেই রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগে ফিরতে পারবেন কিনা, সে নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নরসিংদী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

প্রকাশ: ১১:৪৯ এএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকনের বাড়িতে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় সদর উপজেলার চিনিশপুর এলাকায় খোকনের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে সভাপতি মেহেদী হাসান রিফাতকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে পদবঞ্জিতদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। রাত টার দিকে চিনিশপুরের তিতাস গ্যাস অফিসের সামনে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ছাত্রদলের এই কমিটি মানি না স্লোগান দিয়ে মশালসহ খোকনের বাড়ির দিকে এগুতো থাকে। সময় তাদের কাছে লাঠি চাপাতি ছিলো। তারা মিছিল নিয়ে এসে বাড়ির প্রধান ফটকের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এই সময় ভিতরের ব্যানার, ফেস্টুন ভাঙচুর করে। তারা ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে মশাল নিক্ষেপ করলে ভেতরে থাকা চেয়ারসহ আসবাবপত্রে আগুন লেগে যায়। পরে তারা মিছিল নিয়ে জেলখানার দিকে চলে যায়।  

বাড়ির কেয়ারটেকার কাজল বলেন, আমি ভবনের ভিতরে ছিলাম। হঠাৎ একটি মিছিলের শব্দ শুনতে পেলাম। তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঞ্জুর এলাহীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঞ্জুর এলাহী বলেন, আজকে জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করায় পদবঞ্জিতদের মাঝে কিছুটা উত্তেজনা ছিলো। কিন্তু এঘটনার সাথে তারা জড়িত কিনা বলতে পারছি না। বাড়ির সিসি ক্যামেরা দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, কে বা কারা মশাল মিছিল নিয়ে গিয়ে বাসভবনের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শেখ হাসিনা সত্য ও সুন্দরের অভিসারী: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০৯:২৪ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সত্য ও সুন্দরের অভিসারী বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) এগিয়ে যাচ্ছেন ভিশন ২০২১ থেকে রূপকল্প ২০৪১-এর দিকে। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ।’

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে সরস্বতী পূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আসুন আমরা এ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে কারিগর হয়ে যার যার জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করি, তার হাতকে শক্তিশালী করি। অসুরের বিরুদ্ধে সুরের ঝংকার তুলি। অশান্তির বিরুদ্ধে শান্তির পতাকা উড্ডয়ন করি। শান্তির পায়রা উড়িয়ে আমরা বাংলাদেশকে একটা শান্তিময় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তর করি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে শান্তিময় ক্যাম্পাসে রূপ দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে সাম্প্রদায়িকতার আগ্রাসন আমরা চাই না। জঙ্গিবাদের আগ্রাসনও চাই না। অস্ত্রের ঝনঝনানি একসময় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করেছিল। ক্যাম্পাসে এখন আর অস্ত্রের ঝনঝনানি নেই। সেই ক্যাম্পাস এখন শান্তিপূর্ণ।’

জগন্নাথ হলের স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জগন্নাথ হল আমার জীবনের এক স্মৃতিময় অধ্যায় হয়ে রয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের সব কর্মকাণ্ড এ জগন্নাথ হল থেকে পরিচালিত হয়েছে। আমরা একঝাঁক তরুণ সেদিন প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলাম। এ জগন্নাথ হল থেকে প্রস্তুতি নিয়ে মধুর ক্যান্টিনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিলাম। এরপর বটতলা থেকে ৪ নভেম্বর আমরা গণমিছিল, শোক শোভাযাত্রা করেছিলাম। যার গন্তব্য ছিল বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাসভবন। ১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমানের কারাগারে আড়াই বছর জেল খেটেছিলাম। ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছিল।’

ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ধমনীতে ছাত্রলীগের রক্ত প্রবাহিত, আমার চেতনায়ও। আমি ছাত্রলীগের গৌরবময় ইতিহাসের উত্তরাধিকারী। শেখ হাসিনা সরকারের ১৬ বছর মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছি। কাজেই ছাত্রলীগ করলে কেউ হারিয়ে যায় না। কমিটমেন্ট থাকলে, লেগে থাকলে, জীবনে অনেক অসাধ্য সাধন করা যায়। অনেক কৃতিত্ব অর্জন করা যায়।’

বিদ্যার দেবী সরস্বতীকে সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকরে এদিনে বিদ্যা দেবীকে স্যালুট জানাই। আমাদের সবার অভিন্ন শত্রু সাম্প্রদায়িকতা। সনাতন ধর্মাবলম্বী সবাইকে আমি বলবো, আমাদের প্রধানতম শত্রু সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ। সাম্প্রদায়িকতা রুখতে হবে, জঙ্গিবাদ রুখতে হবে।’

আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল সাহা। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত কুমার নন্দী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ।


সড়ক পরিবহন   সেতুমন্ত্রী   আওয়ামী লীগ   সাধারণ সম্পাদক   ওবায়দুল কাদের   সরস্বতী পূজা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হচ্ছেন ডা. মুরাদ

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জেরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মুরাদ হাসান। পরে জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি এই আলোচিত-সমালেচিত নেতাকে সাধারণ ক্ষমা করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ থেকে সাধারণ ক্ষমা পেয়ে পুরষ্কৃত উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে তিনি একজন। 

এদিকে ক্ষমা পাওয়ার পর পরই বৃহস্পতিবার(২৬ জানুয়ারি) ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় দেখা যায় তাকে। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, আওয়ামী লীগের অনেককেই ক্ষমা করা হয়েছে, আপনি ক্ষমা পেয়েছেন কিনা?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমি আবেদন করেছিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি কিন্তু এখনো চিঠি আনতে যাইনি। মেয়র জাহাঙ্গীর আরও গুরুতর কথা বলেছিলেন, তাই তিনি চিঠিটা দ্রুত নিয়েছেন।’

এর আগে গত ১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ব্যক্তিগতভাবে গাজীপুরের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে ক্ষমার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই অডিওতে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করতে শোনা যায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ নভেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে বেশকিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর তাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।   

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, ডা. মুরাদ হাসানকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে ডা. মুরাদ ফের আওয়ামী লগের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারবেন। আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় কমিটির সভায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে অব্যাহতিপ্রাপ্তদের ক্ষমা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক তাকে দলীয় বিধি ভঙ্গের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে।  

সূত্রমতে, ২০১৯ সালে সরকার গঠনের সময় ডা. মুরাদ হাসানকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ৫ মাসের মাথায় ওই বছরের ১৯ মে তার দফতর পরিবর্তন করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়। পরে তার আপত্তিকর মন্তব্য এবং অস্বাভাবিক আচরণের কারণে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২২ ডিসেম্বর মুরাদ হাসান তাকে ক্ষমা করে দিতে আবেদন জানান।

সাধারণ ক্ষমার আবেদনে মুরাদ বলেন, ‘আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান তালুকদার ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২১ সালে ৭ ডিসেম্বর ওই পদ থেকে আমাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে দৃঢ়প্রত্যয়ে অঙ্গীকার করিতেছি যে- ভবিষ্যতে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করব না, যার ফলে আপনার বিন্দুমাত্র সম্মানহানি হয়। অতএব বিনীত নিবেদন এই যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করে বাধিত করবেন।’


মুরাদ হাসান   রাজনীতি   আওয়ামী লীগ   বাংলাদেশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির এমপিরা সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে এখন শেষ সময়ে ‘থুক্কু আর খেলুম না': নানক

প্রকাশ: ০৮:৩২ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে এখন শেষ সময়ে ‘থুক্কু আর খেলুম না। তারা গাড়ী নিয়েছে, কোটি টাকা দান, দানের বাড়ী নিলেন, জনগনকে কি দিলেন। মির্জা ফখরুল আজ আবার বলছে, সরকারের পদত্যাগ না হলে তারা ঘরে ফিরবে না, সরকার তো আছেই, আসলে ওদের লজ্জা নেই, শরম নেই। ওরা দেশকে নরক রাষ্ট্রে পরিনত করেছিলো।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) শহরের শহীদ খোকন পার্কে জেলা আ’লীগের উদ্যোগে নৌকা মার্কার নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন। সদর আসনে উপ নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থী রাগেবুল আহসান কে জয়ী করার লক্ষ্যে সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু।

তিনি বলেন, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নৌকায় ভোট দিন। রিপু আপনাদের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন। আর প্রধানমন্ত্রী আপনাদের উন্নয়নে যা যা দরকার তাই করবেন। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু নামে কোন কলঙ্ক নাই। তাকে মনোনীত করেছেন শেখ হাসিনা। বগুড়ার মানুষের উন্নয়নের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ বগুড়াবাসীকে হাতছাড়া করা যাবে না। কারণ এবার রিপু নির্বাচিত না হলে সরকার ক্ষমতায় থাকবে, কিন্তু বগুড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ এখানে ভাড়াটিয়া নির্বাচিত হয়েছে, তারা কখনও এই এলাকার মানুষের জন্য ভাবেনি। তারা ভেবেছে নিজের স্বার্থ ও দলের স্বার্থের কথা।

সরকার দলের উচ্চ পর্যায়ে এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উন্নয়নে বগুড়া ও গোপালগঞ্জের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তার কাছে চাইতে হবে। না চাইলে উন্নয়ন পাওয়া যায় না। তাই নৌকায় ভোট দিয়ে রাগেবুল আহসান রিপুকে বিজয়ী করে সদর আসন শেখ হাসিনাকে উপহার দিন। শেখ হাসিনা খুশি হয়ে বগুড়ায় উন্নয়নের যা যা দরকার তা রিপুকে দিয়ে আপনাদের কাছে পাঠাবেন। তাই এই নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক। তাই আর ভুল করার দিন নেই। নৌকায় ভোট দিয়ে বগুড়ার মানুষ কাঙ্খিত উন্নয়ন বুঝে নিন।

জনসভায় আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, সাবিক উন্নয়ন চাইলে নৌকায় ভোট দিন। নৌকার পাট থেকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে বগুড়ার জনগণের সার্বিক উন্নয়ন হবে। এর আগে বিএনপি'র এমপি থাকাকালীন সময় বগুড়া জনগণকে কিছুই দিয়ে যায়নি তারা শুধু লুটপাট করেছে।

জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নৌকার বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে বলেই দেশে আজ এত উন্নয়ন। বগুড়ার বাসিন্দারা সরকারের উন্নয়ন থেকে বাদ যায়নি। তাই এই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনুর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সরকার প্রশাসনকে কোনোভাবেই দলীয়করণ করেনি: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭:৪২ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail ডিসি সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সরকার প্রশাসনকে কোনোভাবেই দলীয়করণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন,‘সরকার তো প্রশাসন নিয়েই কাজ করে। সরকারের রাজনৈতিক অংশ এবং প্রশাসনিক অংশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং একসঙ্গেই কাজ করতে হয়। সরকার প্রশাসনের মাধ্যমেই তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। আমাদের সরকার প্রশাসনকে কোনোভাবেই দলীয়করণ করেনি এবং করার কোনও পরিকল্পনাও আমাদের নেই।’

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সমাপনী দিনে বক্তব্য ও মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।

এছাড়া, জেলা পর্যায়ে অনিবন্ধিত অনলাইন, আইপিটিভি ও ইউটিউব চ্যানেলের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সতর্ক করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এছাড়া অনিবন্ধিত পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও করণীয় বিষয়ে ডিসিদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১৬২টি অনলাইন সংবাদ পোর্টাল, ১৬৯টি দৈনিক পত্রিকার অনলাইন পোর্টাল, ১৫টি টেলিভিশনের অনলাইন পোর্টাল ও ১৪টি আইপিটিভিকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে, সেটি জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়েছে। বাকি সবগুলো রেজিস্ট্রেশনবিহীন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যারা ডিসি হয়েছেন কিংবা বিভাগীয় কমিশনার বা যারা সচিব হয়েছেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে এসএসবির মাধ্যমে এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদেরকে পদায়ন করা হয়েছে। সুতরাং, প্রশাসনকে আমরা কখনও দলীয়করণ করিনি বরং ইতোপূর্বে বিএনপি বিভিন্ন সময় যখন ক্ষমতায় ছিল, জিয়াউর রহমানের সময়, খালেদা জিয়ার সময়, সাত্তার সাহেবের সময়, আর এরশাদ সাহেব যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছিল।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে আজকে এখানে আলোচনা হয়নি। কারণ, সরকার নির্বাচন আয়োজন করে না। নির্বাচনের আয়োজক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। জেলা প্রশাসনকে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও নির্দেশনা দিতে হলে, সেটি নির্বাচন কমিশনই দেবে। সেটি আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সিনেমা হল পুনর্নির্মাণ, পুনরায় চালু করা, আধুনিকায়ন ও নতুন সিনেমা হল নির্মাণের জন্য যে ১ হাজার কোটি টাকা বিশেষ ঋণ তহবিল গঠন করা হয়েছে, সেটি মাঠ পর্যায়ে সবাইকে অবহিত করার জন্য জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে উপজেলা পর্যায়ে তথ্য অফিস করার প্রস্তাবও এসেছে। তবে আমি মনে করি, উপজেলা পর্যায়ে সব মন্ত্রণালয়ের অফিস থাকতে হবে তা নয়, ক্রমাগতভাবে সরকারের আকার বড় করা সমীচীন নয়, সেটি তাদেরকে বলেছি।’


ডিসি সম্মেলন   তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী   ড. হাছান মাহমুদ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন