ইনসাইড পলিটিক্স

‘বেগম জিয়াকে নিয়ে খেলবেন না’

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ০২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কানদার এবার বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ার করে দিলেন। বিএনপি নেতাদেরকে বললেন, ‘বেগম জিয়াকে নিয়ে খেলবেন না। আপনারা রাজনীতি করছেন করুন, আপনারা আন্দোলন করছেন করুন। সেই আন্দোলনে বা রাজনীতিতে আমার বোনকে জড়াবেন না।’ স্পষ্টভাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিনজন নেতাকে সাফ এই বার্তা জানিয়ে দেন তিনি। শামীম এস্কানদার গতরাতে বিএনপির তিন নেতার সাথে টেলিফোনে আলাপ করেন। 

জানা গেছে, বিএনপির একটি পরিকল্পনা আছে যে, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির একটি ঝটিকা মিছিল গুলশানে যাবে এবং সেখানে ফিরোজা থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে বের করে নিয়ে আসবে। এই মিছিলে বিভিন্ন কর্মীরা যুক্ত হবেন। আস্তে আস্তে গাড়ীকে বিএনপির কর্মীরা ঘিরে রাখবেন এবং এই গাড়িকে নিয়ে যাওয়া হবে পল্টনে। সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সংরক্ষিত চেয়ারে তাকে বসানো হবে। তিনি বক্তৃতা দিন না দিন সেখানে বসে থাকবেন। এই বিষয়টি বিএনপির একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এটি জানাজানি হবার পর শামীম এস্কানদার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, যদি গুলশান থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে বের করে আনার চেষ্টা করা হয় কিংবা যদি তাকে নয়াপল্টনের জনসভায় উপস্থিত করা হয় তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ দু’টি শর্তে বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তিলাভ করেন। এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ফৌজদারির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে বেগম জিয়াকে জামিন দেয়া হয়। আর এই জামিনে শর্ত দুটি ছিলো উনি বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং অন্য কোনো তৎপরতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। দফায় দফায় এই জামিনের মেয়াদ৬ মাস অন্তর অন্তর বাড়ানো হচ্ছে। এখন বেগম জিয়ার রাজনীতি করার কোনো আইনগত অধিকার নেই। এরকম পরিস্থিতিতে বেগম জিয়াকে ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচিতে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বিএনপি। 

বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করছেন যে, কর্মীরা যদি ঝটিকা মিছিল নিয়ে ফিরোজায় যায় এবং বেগম খালেদা জিয়াকে বের করে নিয়ে আসা হয় তাহলে পরে আন্দোলনের মোড় ঘুরে যাবে। কিন্তু শামীম এস্কানদার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোনরকম পরিকল্পনা না করার জন্য। তার মতে, বেগম জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ, তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেগম জিয়া এখনও পর্যন্ত ভালোমত হাটাচলা করতে পারেন না, ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। তাছাড়া এরকম হটকারি সিদ্ধান্ত বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সরকার কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। একারণেই শামীম এস্কানদার বিএনপি নেতাদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উল্লখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য শামীম এস্কানদার নিজেই ছোটাছুটি করেছিলেন। তিনি এবং তার বোন সেলিনা ইসলাম দুইজন গণভবনে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে অনুরোধ করেন বেগম খালেদা জিয়াকে অন্তত বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়ার জন্য। তাদের এই আবেদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুকম্পা দেখান এবং তাকে নির্বাহী আদেশে জামিন দেন। এখন যদি জামিনের শর্ত ভঙ্গ করা হয় তবে আপনা-আপনি বেগম জিয়ার জামিনের আবেদন বাতিল হইয়ে যাবে বলে আইণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে। আর এই বিষয়টি শামীম এস্কানদার বিএনপি নেতাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাদের আন্দোলনের জন্য যদি বেগম জিয়ার কোনো ক্ষতি হয় তবে তাদেরকে ছাড়া হবেনা।

বিএনপি   ১০ ডিসেম্বর   শামীম এস্কানদার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি-ছাত্রদলের আরও ৫ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৭:৪৩ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উকিল আব্দুস সাত্তারের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় বিএনপি ও ছাত্রদলের ৫ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

রোববার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সুনির্দিষ্টভাবে জড়িত থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক বিএম রিফাত বিন জিয়া, অরুয়াইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. বাদল আহমেদ, অরুয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুর রউফ, সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জব্বার ও চুন্টা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলমকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ সহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক বহিষ্কার করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুস সাত্তার। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন আবদুস সাত্তার। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ওই আসনে উপনির্বাচন অংশ নিচ্ছেন তিনি। 

বিএনপি   ছাত্রদল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

উপনির্বাচনের মাঠে নেই বিএনপি: ছক্কা হাঁকাচ্ছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৭:২৮ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ছয়টি আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ মাসের পরেই। কিন্তু উপনির্বাচনের মাঠে নেই বিএনপি। এর আগে নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু  প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু ভোটযুদ্ধে পাশ করতে পারেননি। কিন্তু এবার বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ছয়টি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। ফলে এসব উপনির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয়জয়কার দেখা যাবে এটাই স্বাভাবিক। 

এদিকে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য। পরে একটি সংরক্ষিত মহিলা আসন বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ছয় আসন শূণ্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এসব শূণ্য আসনে সিইসির তফসিল ঘোষণা মতে, আগামী ১ ফ্রেব্রুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কিন্তু এসব শূণ্য আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় ছক্কা হাঁকাতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।  

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদ সদস্যের মৃত্যু, দুর্নীতি, দলীয় নিয়ম-নীতি লঙ্ঘনের কারণে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন কারণে মহান জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন শূণ্য হতে দেখা গেছে। এছাড়াও বিএনপির এমপিদের পদত্যাগের কারণেও জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন শূণ্য হয়েছে। পরে এসব শূণ্য আসনে নির্বাচনের তফসিলও ঘোণা করা হয় এবং জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হতে দেখেছি আমরা। কিন্তু এসব কোনা আসনেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির মনোনীত কোনো প্রার্থীকে জয়লাভ করতে দেখা যায়নি। বিএনপির ছেড়ে দেওয়া ছয়টি আসনে একমাত্র আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া ছাড়া বিএনপি মনোনীত কোনো প্রার্থীও দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠে ছক্কা হাঁকাবে আওয়ামী লীগ। 

সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগের গণসমাবেশে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরদিন তারা সংসদ ভবনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দপ্তরে গিয়ে পদত্যাগপত্রও জমা দেন। পরে ছয়জনের আসন শূণ্য ঘোষণা করে ১১ ডিসেম্বর রাতেই গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। এসব আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে, ঠাকুরগাঁও-৩, বগুড়া-৪, বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। এসব আসনের উপনির্বাচনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ চলবে। ছয় আসনের তিন আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এগুলো হলো বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন। এর বাইরে দুটি আসনে জোটের শরিক জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টিকে একটি করে আসন ছাড় দিয়েছে। একটিতে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাকেই বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এটিকে ট্রাম্পকার্ডও বলছে দলটি।

বগুড়া-৪ আসনের ১৪ দলীয় মনোনীত প্রার্থী বগুড়া জেলা জাসদের সভাপতি একেএম রেজাউল করিম তানসেন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী। এই দুই আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহায়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কাজ করছে। এর বাইরে বগুড়া-৬, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন নিয়ে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ।

বগুড়া-৬ আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আওয়ামী লীগের প্রার্থী মু. জিয়াউর রহমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) মো. আব্দুল ওদুদ। প্রার্থীদের জেতাতে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ মাঠে নেমেছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীর সফরের পাশাপাশি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও তাদের দলবল নিয়ে ঘুরে এসেছেন।

এসব আসনগুলোর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা দেখা গেলেও বিএনপির কোনো সাড়া নেই। আসনগুলোতে বিএনপি থেকে কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। ফলে উপনির্বাচনের মাঠে নেই বিএনপি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াকে দেখা গেলেও তিনি বিএনপি ছেড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথেই আঁতাত করেছেন। তাকেই জেতাতে চায় আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন মিলনায়তনে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া সমর্থকগোষ্ঠীর ব্যানারে এক কর্মীসভায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ওই সময় আব্দুস সাত্তারের কলার ছড়া প্রতীকের অপর নাম ‘নৌকা’ বলেও মন্তব্য করেন আহমদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবো। ১ তারিখ (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর খবর হবে কলার ছড়া জিতেছে, নৌকা জিতেছে। কলার ছড়ার অপর নাম নৌকা। বেনামে দিলাম আরকি। এটা মনে করেই চলবেন। দেখলেন না, লোকজন সব আওয়ামী লীগের, নাম দিলাম সমর্থকগোষ্ঠী। আসলে ভাসুরের নাম বলা যায় না, এখানে সবই আমরা। এই নির্বাচনে জয়লাভ করা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করার জন্য। তিনি (আব্দুস সাত্তার) আমাদের ট্রাম্পকার্ড। আগামী দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এটা সেমিফাইনাল, এই সেমিফাইনালে জিততে হবে।’

এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নওগাঁ- ৬ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু । তার পর থেকেই বিএনপি নির্বাচন বিমুখ। নির্বাচনে তারা হেরে যাবে- জেনেশুনেই কোনো আসনেই প্রার্থী দেয়নি। আসছে ছয়টি উপনির্বাচনের মাঠেও নেই বিএনপি, ফলে নির্বাচনের মাঠে ছক্কা হাঁকাচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির আবদুস ছাত্তার ভূঁইয়া বিএনপির লোক হলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগও তাকে সমর্থন দিচ্ছে। এখন শুধুই অপেক্ষার পালা, কী ঘটতে যাচ্ছে ফ্রেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন।

উপনির্বাচন   বিএনপি   আওয়ামী লীগ   উকিল আব্দুস সাত্তার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি আবার সুযোগ পেলে দশ ‘বাংলা ভাই’ বানাবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬:৫৯ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি যদি আবার সুযোগ পায়, তারা একটা নয়, দশটা ‘বাংলা ভাই’ সৃষ্টি করবে, এই রাজশাহী অঞ্চলকে তারা জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করবে। কিন্তু মানুষ তা হতে দেবে না।

রোববার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতার আগে দলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ তার বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

ড. হাছান বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এখানে রাজশাহীতে 'বাংলা ভাই' সৃষ্টি হয়েছিল,  বিএনপির নেতারা তাকে বরণ করে নিয়েছিল। আজ শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনায় গত ১৪ বছরের উন্নয়নে রাজশাহী জেলা বদলে গেছে, রাজশাহী বিভাগ বদলে গেছে, পুরো দেশ বদলে গেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা যেমন দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন, রাজশাহীতেও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জননেত্রীর নেতৃত্বে, রাজশাহী মেয়রের নেতৃত্বে রাজশাহী আজ দেশের সবচেয়ে সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা আমাদের বলে 'পালাবার পথ পাবেন না'। অথচ তাদের বড় নেতা তারেক রহমানই পালিয়ে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন 'হাওয়া ভবন' তৈরি করে সারাদেশের মানুষের ওপর টোল বসিয়েছিল, চাঁদা বসিয়েছিল, আমোদ ফুর্তি করার জন্য 'খোয়াব ভবন' বানিয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, যদি মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয় হাওয়া ভবনের সবচেয়ে বড় চোরের নাম কি, তারা বলবে- তারেক রহমান। আর মির্জা ফখরুল বলেন, তারা যদি ক্ষমতায় যান, তাহলে না কি সেই তারেক রহমান আসবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে। সে কারণেই মানুষ তাদেরকে আর সেই সুযোগ দেবে না।

হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার জন্য রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দান থেকে জনতার ঢেউয়ে পুরো রাজশাহী শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী থেকে শুরু করে জাতীয় নেতৃবৃন্দ এখানে বক্তব্য রেখেছেন। তাই এই মাঠেই আমরা সমাবেশ করছি এবং মানুষও আমাদের আর বিএনপির সমাবেশের পার্থক্য বুঝতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশে দেখেছি তারা কাঁথা, কম্বল, বালিশ, মশার কয়েল এনেছিল, খিচুড়ি রান্না করে খেয়েছিল। সেটা কোনো জনসভা ছিল না, ছিল পিকনিক। বিএনপি সারাদেশে জনসভার নামে পিকনিক করেছে। আর আজকে এখানে জননেত্রী শেখ হাসিনার আগমনে মাদ্রাসা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার ও জেলা শাখার।সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারার সঞ্চালনায় দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জনসভায় বক্তব্য দেন।

বিএনপি   রাজশাহী   বাংলা ভাই   তথ্যমন্ত্রী   ড. হাছান মাহমুদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বার বার কেন মত পাল্টাচ্ছে গণ অধিকার পরিষদ

প্রকাশ: ০৬:১২ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বার বার মত পাল্টাচ্ছে ‘গণতন্ত্র মঞ্চের’ অন্যতম শরিক দল ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের গণ অধিকার পরিষদ। গত ১৯ জানুয়ারি এক জরুরী বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে রেবিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছে গণ অধিকার পরিষদ। ১৯ জানুয়ারির ওই বৈঠকে পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়াও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ গণতন্ত্র মঞ্চ ভেঙে যাওয়া যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এখন আর সেটি হচ্ছে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে কেন বার বার পরিষদ মত পাল্টাচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য যে, গত ১১ জানুয়ারি গণতন্ত্র মঞ্চের গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার কারণে মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গণ অধিকার পরিষদ। 

গণ অধিকার পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জানুয়ারি দেশে ফেরেন ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। দেশে ফেরা আগেই তিনি লাইভে বলেছিলেন যে, তিনি দেশে এসে গণতন্ত্র মঞ্চের গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। গণ অধিকার পরিষদের নেতারাও বিষষটি গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের জানান। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের পৌঁছানোর আগে মঞ্চের অন্যান্য শরিকরা অনেকটা তাড়াহুড়ো করে কর্মসূচি শেষ করেন বলে অভিযোগ পরিষদের নেতাদের। সেদিন গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ না পাওয়ার কারণে পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং সেদিনই এক ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয় যে, তারা মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যাবেন। এই সিদ্ধান্ত থেকেই গত ১৬ জানুয়ারি তারা গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়নি।

গণ অধিকার পরিষদ   রেজা কিবরিয়া   নুরুল হক নুর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সবার অংশগ্রহণে যুগপৎ আন্দোলন ভিন্নমাত্রা পেয়েছে: দাবি মির্জা ফখরুলের

প্রকাশ: ০৫:১৫ পিএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুল। ছবি: সংগৃহীত

চলমান যুগপৎ আন্দোলন মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণে যুগপৎ আন্দোলন ভিন্নমাত্রা পেয়েছে।’ 

রোববার (২৯ জানুয়ারি) ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। পরে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, মোহাম্মাদ শাহজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু বৈঠকে অংশ নেন বলে জানান দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে এ বৈঠক হয়। এতে চলমান আন্দোলন ও আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া সরকার পতনের আন্দোলন আরও বেগবান করতে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুল। ছবি: সংগৃহীত 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের কাছে স্পষ্ট, একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। মানুষ জানে না তারা ভোট দিতে পারবে কি না। এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশের তিনদিন আগে থেকে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমাদের কোনো কর্মসূচি করতে দিতে চান না তারা। আর তাদের কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় সব শক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। মুখে বলে একটা, বাস্তবে করে আরেকটা। দেশের পুরো চরিত্রটাই বদলে দিয়েছে। গোটা দেশকে অশান্ত অবস্থায় নিয়ে গেছেন ক্ষমতাসীনরা।’

বৈঠকে ১২ দলীয় জোটের মোস্তফা জামাল হায়দার, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সৈয়দ এহসানুল হুদা, শাহাদাত হোসেন সেলিম, মো. আবু তাহের, গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, রাশেদ প্রধান, আব্দুল করিম, আবুল কাশেম, মো. তফাজ্জল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


বিএনপি   লিয়াজোঁ কমিটি   বৈঠক   মির্জা ফখরুল  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন