ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল: কাদেরের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন নানক

প্রকাশ: ০৮:৫৮ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার কাউন্সিল হবে মাত্র একদিনের। এই একদিনের কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান আকর্ষণ হলো সাধারণ সম্পাদক। তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন সাধারণ সম্পাদক কে হবে সেটি নির্ধারণ করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাধারণ সম্পাদকের বাইরেও এবার আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অনেকগুলো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলার কৌশল এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করবেন। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক ধরনের উত্তাপ-উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির গোলাপবাগ সমাবেশ থেকে সাত এমপি পদত্যাগ করেছে। এখন বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের রুপরেখা দিয়েছে। আর এরকম পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি পথ রেখা তৈরি করবে আওয়ামী লীগ তার কাউন্সিলের মাধ্যমে। এটি মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তবে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে নেতাকর্মীদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ থাকে দলের নতুন নেতৃত্ব। এবার কাউন্সিলের মাধ্যমে কারা নেতৃত্বে আসবেন, কিভাবে নতুন নেতৃত্ব সাজানো হবে সেটি এবার কাউন্সিলের সবচেয়ে বড় বিষয়। 

কিছুদিন আগে মনে করা হচ্ছিল যে, ওয়াদুল কাদের নিশ্চিত ভাবেই আওয়ামী লীগের তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হতে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি সবুজ সংকেতও পেয়েছেন। কিন্তু কাউন্সিলের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সে ধারণার ভিন্ন মত শোনা যাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আনতে পারেন। কারণ সামনের দিনগুলো থাকবে ঝঞ্ঝার-বিক্ষুদ্ধ। পাশাপাশি নানা রকম দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে আওয়ামী লীগকে। আর এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার জন্য আওয়ামী লীগের সামনে একটি পথ রয়েছে। তা হলো শক্তিশালী সংগঠন করা। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলেছেন, সংগঠন যদি শক্তিশালী থাকে তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই আওয়ামী লীগকে রুখতে পারবেনা। 

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সাথে বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে উৎখাত করা এতো সহজ নয়।  স্পষ্টতই আওয়ামী লীগ সভাপতি জানেন যে, আওয়ামী লীগকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আর এই উৎখাতের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে একজন শক্তিশালী সংগঠক সরকার। যিনি সংগঠনকে তৃণমূল থেকে সংগঠিত করবেন, সকলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করবেন। আর এখানেই ওবায়দুল কাদের এর বিকল্প ভাবা হচ্ছে। 

ওবায়দুল কাদের দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ভালো করেছেন না খারাপ করেছেন সেটা দলের নেতৃত্ব এবং সাধণ কর্মীরাই ভালো বলতে পারেন। তবে শারীরিকভাবে অসুস্থ আওয়ামী লীগের এই ত্যাগী নেতাকে তৃতীয়বার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখা নাও যেতে পারে বর্তমান রাজনীতির বাস্তবতা। এক্ষেত্রে জাহাঙ্গীর কবির নানকের নাম কাউন্সিল এর আগে কর্মীদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। কর্মীরা মনে করছেন যে, সামনের আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবেলা করা, সংগঠনকে গুছিয়ে তোলার জন্য জাহাঙ্গীর কবির নানক হতে পারেন ওবায়দুল কাদেরের সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এর প্রধান কারণ মনে করা হচ্ছে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবেলা করা। ছাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি দল এবং সরকার আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া গত তিনটি কাউন্সিল থেকে শুরু করেছেন। সেই ধারায় আওয়ামী লীগ হয়তো একজন সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাউকে বেছে নিতে পারে। আর সেরকম যদি চিন্তা থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রথম পছন্দ হবেন। কাউন্সিলের সময় যত এগিয়ে আসছে ততই ওবায়দুল কাদেরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। ওবায়দুল কাদের কদিন আগে যেমন ছিলেন নিশ্চিত এখন তিনি আর নিশ্চিত নয়। তবে শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলের চমক হবে নাকি রুটিন একটি কাউন্সিল এর মধ্য দিয়ে পুরনো নেতৃত্বই অদল বদল হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

২৪ ডিসেম্বর   কাউন্সিল   আওয়ামী লীগ   ওবায়দুল কাদের   জাহাঙ্গীর কবির নানক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

শিগগির ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা, শ্রাবণকে নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশ: ০৯:৫৭ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে রাজপথে রয়েছে বিএনপি। আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে এরই মধ্যে কিছু কিছু রদবদল হয়েছে। কেউ কেউ আবার নজরদারিতে রয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এর মধ্যে শোনা যাচ্ছে নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্ভাবনার কথা। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে নারাজ। তবে ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ষোঘণা হলে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ দলীয় পদে ফিরবেন কি না তা নিয়েও রয়েছে ঘোর অন্ধকার।

ছাত্রদলের সূত্র জানা গেছে, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি শ্রাবণকে অসুস্থতার কথা বলে বিএনপি অব্যাহতি দিলেও তিনি ‘মহল বিশেষের’রোষানলে পড়ে দলীয় পদ হারান। এখন তাকে ছাত্রদল থেকে বিদায় জানাতে মরিয়া ওই পক্ষটি। শ্রাবণকে নিয়ে খোদ বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী প্রকাশ্যে তো দূরের কথা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা বলতে পারছেন না। এমনকি শ্রাবণ স্বপদে ফিরে এলেও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলবে বলে মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট ছাত্রদলের সভাপতির পদ থেকে শ্রাবণকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর সংগঠনটির একাংশের অভিযোগ, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। তারই ‘কূটচালে’ শ্রাবণ সভাপতির পদ খুইয়েছেন। যদিও বকুল তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করে বলেন, এটা গোয়েন্দা সংস্থার অপপ্রচার। যখনই সরকারবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে তখনই তারা এ ধরনের প্রচার চালিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায়।

ছাত্রদল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন মশিউর রহমান রাঙ্গা

প্রকাশ: ০৮:০৯ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের জাতীয় পার্টির এমপি ও দলটির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি অখুশি না। আমি শুনেছি আমাকেও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমার আমেরিকার দশ বছরের ভিসা আছে। আমার এখন যাওয়ার কোনো ইচ্ছাও নেই, সুযোগও নাই। সামনে নির্বাচন। গত পাঁচ বছরেও আমেরিকা যাইনি।

ভিসানীতির বিষয়ে রাঙ্গা বলেন, এটা আমেরিকার নিজস্ব বিষয়। আমার দেশে যদি কাউকে আসতে না দেই, যদি মনে করি এই লোকগুলো আমাদের জন্য ক্ষতিকর তাহলে বলার কিছু নাই। আমি মনে করি এটা দেশের জন্য ভালো। আমি এটাকে ভালোই বলছি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এটার প্রভাব পড়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

এর আগে, শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই তালিকায় রয়েছেন- আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সদস্য। বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা   মশিউর রহমান রাঙ্গা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

অক্টোবরেই পরিষ্কার হবে রাজনীতির আকাশ

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভয়ঙ্কর অক্টোবর আসছে। অক্টোবর মাসেই রাজনীতিতে প্রধান দুই দলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চূড়ান্ত রূপ ধারণা করতে পারে। সহিংস হয়ে উঠতে পারে রাজনীতির মাঠ। এছাড়া অক্টোবরেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি শক্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফয়সালাও করতে চায়। আর এ কারণেই অক্টোবর মাসে রাজনীতিতে এটা টানটান উত্তেজনা এবং সংকট ঘনীভূত হবে। তবে আশাবাদীরা মনে করছেন, অক্টোবরেই রাজনীতির আকাশ স্বচ্ছ হয়ে যাবে। এখন যে গুমোট মেঘ রয়েছে এবং যে অশনি সংকেত, দুর্যোগের ঘনঘটা তা কেটে পরিষ্কার হবে অক্টোবরেই।

একাধিক কারণে এরকম মনে করছেন রাজনীতিবিদরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে আসবেন। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর ৩ অক্টোবর তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন থেকে রওনা দিবেন। ৪ অক্টোবর তিনি দেশে ফিরে আসবেন। দেশে ফিরেই তিনি নির্বাচন এবং সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গুরুত্ব দেবেন। আওয়ামী লীগের গোটা অক্টোবর জুড়েই বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। অক্টোবর মাসে একাধিক  মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে একটি নির্বাচনী আবহাওয়া তৈরি করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। উন্নয়নের বিকল্প নেই এই স্লোগান তুলে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে আরেকবার আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাঠ দখল করতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, অক্টোবরে উন্নয়নের উৎসব যেমন হবে তেমনি এই সময়ে জনসংযোগ এবং ভোটের বার্তা নিয়ে আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।  

বিএনপির পরিকল্পনা ভিন্ন। বিএনপি এখন রাজপথে রয়েছে। তারা টানা কর্মসূচি দিয়েছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে আরও বড় ধরনের কর্মসূচি নিয়ে তারা উপস্থিত হবেন এবং যা কিছু করার ফয়সালা তারা অক্টোবরের মধ্যে করতে চান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের হাতে আর সময় নেই। যা কিছু করার আমাদেরকে অক্টোবরের মধ্যেই করতে হবে। কারণ এরপর যদি আমরা কোনো কর্মসূচি করতে চাই তাহলে সরকার একতরফা নির্বাচন করে ফেলবে।

ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন তাদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে। আর যদি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই যদি বিএনপি আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ অবস্থা দেশে তৈরি করতে না পারে তাহলে পরে সরকার কোনো চাপ অনুভব করবে না। বরং নির্বাচন আয়োজনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলবে। এ কারণেই বিএনপির জন্য অক্টোবরই হলো তাদের শেষ সুযোগ। 

এই দুই দলের পারস্পরিক অবস্থানের মধ্যে আবার কিছু তৃতীয় বিষয় রয়েছে। যেগুলো রাজনৈতিক গতি প্রকৃতির প্রবাহ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসছেন এবং তারা বাংলাদেশ সফরের পরে কি বার্তা দিবেন সেটাও দেখার বিষয়।

ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞা শুরু দেওয়া শুরু করেছে। এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার ফলাফল এবং প্রতিক্রিয়া মাঠে কি হয় সেটাও বোঝা যাবে অক্টোবরে। নতুন কারো ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় কিনা সেটির ওপর নির্ভর করবে রাজনীতির গতি প্রকৃতির অনেকখানি। এছাড়াও যদি সরকার এবং বিরোধী দলের রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা হয়, খালেদা জিয়ার যদি অন্য কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে রাজনীতিতে সব হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অক্টোবরই বোঝা যাবে যে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন গন্তব্যে যাচ্ছে।

অক্টোবর   রাজনীতি   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

৪৮ ঘণ্টা পর বিএনপি কি করবে?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশি নেওয়ার দাবীতে বিএনপি আল্টিমেটাম দিয়েছে। গতকাল এক সমাবেশ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৪৮ ঘন্টার এই আল্টিমেটাম দেন। এই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ইতিমধ্যে ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। সরকার এই দাবির ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি নিতে গেলে আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আদালতের মাধ্যমেই তিনি বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেতে পারেন।

কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী এটিকে অগ্রহণযোগ্য হিসাবে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বা আদালতের মাধ্যমে আবেদন করার বিষয়টি অমানবিক এবং অগ্রহণযোগ্য। আর এরকম বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে বিএনপি কি করতে চাচ্ছে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম আলাপ আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বিষয়টিকে রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন যে, ৪৮ ঘণ্টা পর তারা কিছুই করতে পারবে না। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডেন্ট সদস্যও বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে চাইছে এবং বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলনে খালেদা জিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বেগম জিয়াকে নিয়ে বিএনপি নোংরা রাজনীতির খেলা খেলছে বলেও আওয়ামী লীগের ওই নেতা জানিয়েছেন। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেছেন যে, এর আগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার এতো খারাপ অবস্থা দেখেননি। বিএনপির বিভিন্ন নেতারা যারা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করেন, স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন তারা বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা আসলেই খারাপ এবং যে কোনো সময় যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিএনপির একটি মহলের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে একধরনের উৎসাহ এবং চাঞ্চল্য রয়েছে। তারা মনে করছেন, যদি শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হয়ে যায় তাহলে আন্দোলনের গতি বাড়ানো সম্ভব হবে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে বেগম খালেদা জিয়ার চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে বিএনপির মধ্যে একটি প্রস্তুতি রয়েছে। তারা ইতিমধ্যে পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় এর ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে তারা পুরো রাজপথ দখল করে ফেলবে এবং সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা করতে পারে এমন প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও নজরে আছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ব্যাপারে যথেষ্ট প্রস্তুতিও রয়েছে বলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে। তবে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটামের পর বিএনপি কি করবে, কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিএনপির বিভিন্ন নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখন মার্কিন দূতাবাস সহ বিভিন্ন দূতাবাস গুলোতেও তথ্য দিচ্ছে। তারা বিষয়টিকে অমানবিক হিসেবে উল্লেখ করছে।

বিএনপির অন্যতম নেতা কায়সার কামাল বলেছেন যে, সরকার কালক্ষেপণের নীতি অনুসরণ করছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন যে বেগম খালেদা জিয়াকে যদি সত্যি তারা বিদেশ নিতে চায় তাহলে তাদের এই মুহূর্তেই আদালতে যাওয়া উচিত। তারা আদালতে যাচ্ছেন না কেন?

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে যদি বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা চরম অবনতি ঘটে তাহলে রাজনীতিতে একটা মৃদু উত্তেজনা তৈরি হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ৪৮ ঘণ্টা পর বিএনপি যে বড় কিছু করে ফেলতে পারবে এমনটি মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিএনপি   আল্টিমেটাম   আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিকে ৩৬ দিনের আল্টিমেটাম ওবায়দুল কাদেরের

প্রকাশ: ০৫:৩২ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

বিএনপিকে আগামী ৩৬ দিনের মধ্যে অপরাজনীতি, নাশকতা, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়তে আল্টিমেটাম দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে এ আল্টিমেটাম দেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা ৩৬ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়, তারাতো ৩৬ মিনিটও খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করতে পারেনি, তাই ৩৬ দিনের আল্টিমেটাম দিলাম, সঠিক পথে আসুন। যদি তারা সঠিক পথে না আসে তবে জনগণকে সাথে নিয়ে বিএনপির কালো হাত ভেঙে দেবো।

আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ফাইনাল খেলা হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি যদি অস্ত্র নিয়ে আসে ওই হাত ভেঙে দিতে হবে, যদি আগুন দিতে আসে ওই হাত পুড়িয়ে দেবো।

ভিসা নীতি নিয়ে তিনি বলেন, কারো ভিসা নীতির তোয়াক্কা করি না, কারো নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করি না। বাংলাদেশ রক্ত দিয়ে স্বাধীন করেছি, কারো নিষেধাজ্ঞা মানার জন্য নয়।

কাদের বলেন, বিএনপি এখন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির ওপর ভর করেছে। আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি। আমাদের নিজেদের শক্তিতে আমরা বলিয়ান। শেখ হাসিনার মতো নেতা আমাদের আছেন।

বাংলাদেশের জনগণ কোনো নিষেধাজ্ঞা, কোনো ভিসা নীতি মানে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে যারা নিষেধাজ্ঞার কথা বলেন, স্যাংশনের কথা বলেন তাদের নিজেদের দেশের মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।
 
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমার নির্বাচন আমি করব, কারো খবরদারিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র চলবে না, কারো খবরদারিতে বাংলাদেশের ভোট হবে না। ভোট হবে সংবিধানের নিয়মে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেলফি প্রসঙ্গে কাদের বলেন, বিএনপির ঘুম হারাম, দুই সেলফিতেই বাজিমাত। বিএনপির ঘুম হারাম।

উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দিতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে বিএনপি। গতকাল রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

বিএনপি   ওবায়দুল কাদের   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন