ইনসাইড পলিটিক্স

ট্রাম্পকার্ড ‘খালেদা জিয়া’: নির্ভাবনায় আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৯:৫৯ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

চলতি বছরের ডিসেম্বরই অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নেমেছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো। নির্দনীয় নিরপক্ষে সরকারের দাবি আদায়ে জোটবদ্ধ হয়ে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করছে দলগুলো। এদিকে নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ‘সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের’ আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো একটি ‍সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে আসছে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো সরাসরি সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু এতো কিছুর পরও নির্ভাবনায় আওয়ামী লীগ। বিরোধী দলের আন্দোলন, আন্তর্জাতিক চাপ কোনো কিছু নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না দলটির মধ্যে। অর্থাৎ বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন এবং বহিবিশ্বের চাপকে কোনো রকম তোয়াক্কা করতে দেখা যাচ্ছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিকে কৌতুহল বাড়ছে। আওয়ামী লীগের হাতে কি নির্বাচনের কোনো ট্রাম্পকার্ড আছে? এই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে সামনে চলে আসছে। আওয়ামী লীগের এমন নির্ভাবনার বিষয়ে ভাবছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো ট্রাম্পকার্ড রয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন সবার আগে আসছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের যদি কোনো ট্রাম্পকার্ড থেকে থাকে তাহলে সেটি হবে খালেদা জিয়া। যার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হল সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারা না–পারা প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এর বক্তব্য। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না—তাঁর মুক্তির সময় এমন কোনো শর্ত সরকার দেয়নি। অথচ এতাদিন সরকারের পক্ষ থেকে অনেকেই বলে আসছিলেন যে অসুস্থতার জন্য মানবিক কারণে সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়া মুক্ত রয়েছেন। ফলে বিএনপি নেত্রী অন্য কোনো কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না। 

আইনমন্ত্রীর মন্তব্যকে এক অর্থে সমর্থন দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, খালেদা জিয়া দণ্ডিত, এ অবস্থানটা তার নির্বাচন করার পক্ষে নয়। নির্বাচনের যোগ্য নন তিনি। বিএনপির নেতা হিসেবে তিনি যদি রাজনীতি করতে চান, তাহলে তাকে মুক্তির শর্ত অনুযায়ী করতে হবে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকও আজকে বলেছেন যে, খালেদা জিয়ার দেশে রাজনীতি করার ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই। অর্থাৎ এটা সুস্পষ্ট যে, খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকার ধীরে ধীরে নমনীয় হচ্ছে।

সরকারের এমন নমনীয়তার প্রশ্নে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠছে যে, সামনে খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকার হয়তো আরও নমনীয়তা দেখাবে। বিশেষ করে তাঁর (খালেদা জিয়া) উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার নমনীয় হবে বলেই জোর আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়ার আগে পরে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু সে সময় সরকার এতে অনুমতি দেয়নি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী খালেদা জিয়া নির্বাচনের অযোগ্য হলেও তার দল যেন নির্বাচনে অংশ নেয় এমন শর্তে তিনি বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সরকারের পক্ষ থেকে এমন শর্ত দিলে খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবার মেনে নেবেন বলে তাঁর পারিবাবিক সূত্রে জানা গেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় করে সরকারের যেকোনো শর্তে মেনে নেওয়া কথা ভাবছে তাঁর পরিবার। আর এমন তথ্যই আওয়ামী লীগকে নির্ভাবনায় রেখেছে। এখন দেখা বিষয় সরকার কিভাবে খালেদা জিয়াকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে।

ট্রাম্পকার্ড   খালেদা জিয়া   আওয়ামী লীগ   শামীম ইস্কান্দার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

গাজীপুর নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তলব করবেন প্রধানমন্ত্রী


Thumbnail

সম্প্রতি শেষ হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন জয়ী হয়েছেন। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা এবং গাজীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। কিন্তু তিনি পরাজিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারাও দলীয় প্রার্থী আজমত উল্লা’র পক্ষে নিবাচনী প্রচারণা, নির্বাচন পরিচালনা, এমনকি সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। কিন্তু গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর নাটকীয় পরাজয় ঘটে। কিন্তু এই পরাজয়ের কারণ কি?- এই নিয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠেছে।

দলের শীর্ষ পর্যায় অর্থাৎ দলীয় সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে আলোচনা করতে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নেতাদের তলব করবেন বলে জানিয়েছে একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র। সূত্র বলছে, ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের একজন জনপ্রিয় নেতা। দলের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর নির্বাচনের ব্যাপারেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। এমনকি একজন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যকেও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সার্বিক তদারকির সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সূত্রমতে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেনসহ যারা যারা ছিলেন- তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী ডাকবেন। কি হয়েছিল গাজীপুর নির্বাচনে?- এ ব্যাপারে তিনি সবার বক্তব্য শুনবেন। তারপর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়াও গাজীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত জেষ্ঠ্য মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেলকেও এ নির্বাচনের ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ দিতে ডাকা হতে পারে।

এছাড়াও, গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুর আওয়ামী লীগে একটি শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র। আবার অনেকে মনে করছেন, নির্বাচনের আগে শুদ্ধি অভিযান না করে, গাজীপুর আওয়ামী লীগের বিভক্তিকে যেন প্রশমিত করা হয়। সূত্রটি বলছে, দলীয় কোন্দল, বিভক্তির কারণেই গাজীপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহল। গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজমত উল্লা খান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ সবিস্তরে তুলে ধরেছেন।   
  
উল্লেখ্য যে, গাজীপুর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আজমত উল্লা খান ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে প্রতীকী প্রার্থী জায়েদা খাতুনের কাছে পরাজিত হয়েছেন। জায়েদা খাতুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা জাহাঙ্গীর আলমের মা। প্রথমবার বহিস্কৃত হওয়ার আগে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদকের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময়ে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করে বক্তব্য দেওয়ার কারণে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকেও বহিষ্কৃত হন। সেই থেকেই গাজীপুর আওয়ামী লীগ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। 

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ে গাজীপুর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বিধা-বিভক্তিকেই মূল কারণ হিসেবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বলছেন,গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনই আওয়ামী লীগের দখলে। গাজীপুর থেকে আওয়ামী লীগের দুজন মন্ত্রীও রয়েছেন। এইসব আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, মন্ত্রীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কি করেছেন? - এটাই প্রশ্ন। গাজীপুর সিটি নির্বাচন বিষয়ে এইসব আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রীদেরকেও দলীয় সভাপতির দপ্তরে তলব করা প্রয়োজন।

গাজীপুর নির্বাচন   প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কি হবে আজমত উল্লা’র?


Thumbnail কি হবে আজমত উল্লা’র?

সম্প্রতি শেষ হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আজমত উল্লা খান ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে প্রতীকী প্রার্থী জায়েদা খাতুনের কাছে পরাজিত হয়েছেন। জায়েদা খাতুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা জাহাঙ্গীর আলমের মা। প্রথমবার বহিস্কৃত হওয়ার আগে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদকের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময়ে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করে বক্তব্য দেওয়ার কারণে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকেও বহিষ্কৃত হন। সেই থেকেই গাজীপুর আওয়ামী লীগ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ে গাজীপুর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বিধা-বিভক্তিকেই মূল কারণ হিসেবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  

সেই সঙ্গে পর পর দুই দফায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান ভোটে পরাজিত হওয়ার কারণে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাচ্ছে বলেও মনে করেছিলেন কেউ কেউ। আজমত উল্লা একজন ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একজন শিক্ষিত সজ্জন ব্যক্তি, আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপোষ করেননি দলের এই দুঃসময়ের সাথী। তাই এমন একজন নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কি শেষ হয়ে গেল? -এমন প্রশ্নই ওঠেছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। 

কিন্তু গতকাল রোববার (২৮ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজমত উল্লা খানের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিস্তরে তুলে ধরেন। সাক্ষাৎ শেষে তিনি তার নিজের লেখা দুইটি বই ‘রাজনীতির মহাকবি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বগুণ : আদর্শ ব্যক্তি ও জাতি গঠনে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত’- শীর্ষক দুইটি বই প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। 

এই সাক্ষাতের পর থেকেই আলাপ-আলোচনা ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। গুঞ্জন ছড়িয়েছে, আজমত উল্লা খানকে ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। ওই আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আকবর হোসেন পাঠান (নায়ক ফারুক) গত ১৫ মে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায় আসনটি শূন্য হয়। ওই শূন্য আসনে আজমত উল্লাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলেও বলছেন কেউ কেউ।

আবার কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বও পেতে পারেন আজমত উল্লা। কেননা, প্রধানমন্ত্রী যার ওপর ক্ষুব্ধ হন, তাকে যেমন শাস্তি দেন- আবার যার ওপর সন্তুষ্ট ও যিনি ধৈর্য ধারণ করেন- তাকে একই সঙ্গে সব দেন, পুরস্কৃত করেন। গত ১৫ বছরে বহুজন এর উদাহরণ। গাজীপুরে মেয়র পদে আজমতকে হারানোয়, প্রধানমন্ত্রী ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীর- ভোটকে ঘিরে যে আচরণ করেছেন- সে সম্পর্কে ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গাজীপুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতি আজমত উল্লাকে নিয়ে যে খেলাধুলায় মেতেছে- সে আজমত উল্লাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন আরও ওপরে।

তবে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর যে নাটকীয় পরাজয় হয়েছে, তাতে আজমত উল্লা ব্যর্থ বলেই প্রতীয়মান হয়েছেন। কেননা তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলের সভাপতি হিসেবে এলাকায় তার একটা নিয়ন্ত্রণ, তার একটা জনপ্রিয়তা- তাকে এই নির্বাচনে জয়ী করে তুলতে পারতো। সেখানে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। একথা সত্য যে, দলের দুঃসময়ে তিনি অবদান রেখেছেন, দলের জন্য নিবেদিত ছিলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তার প্রাপ্তির বিষয়টি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে যে সমস্ত গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা ফলপ্রসূ হতে হলে কেবলই সময়ের অপেক্ষা। সময় বলে দিবে কি হবে আজমত উল্লা’র?

আজমত উল্লা   গাজীপুর   সিটি নির্বাচন   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কিসের জাদুতে আমেরিকা থেকে রেমিট্যান্স বাড়ছে: প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

প্রকাশ: ০৭:৫৫ পিএম, ২৯ মে, ২০২৩


Thumbnail

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার হঠাৎ করে বলছে আমেরিকা থেকে রেমিট্যান্স বাড়ছে! কি এমন জাদু তৈরি হলো যে রেমিট্যান্স বেড়েছে। এর মূল কারণ হলো চুরি হওয়া টাকা ফেরত আনছে লুটেরা।

সোমবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, কয়েকদিন আগে সরকার খুব লাফালাফি করেছিল। এখন কিন্তু থেমে গেছে। এখন বলেন, আমরা সংঘাত চাই না। আলোচনায় বসতে চাই। 

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিগত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে এসেছি। এ আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছে। আমাদের দশ দফার আন্দোলনের প্রথম দফা সরকারের পদত্যাগ। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন চাই, আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। 

তিনি সকলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মনে রাখতে হবে, তারা (সরকার) আমাদের ফাঁদে ফেলতে চাইবে। গাড়ি পুড়াবে, অগ্নিসংযোগ করবে তারা, দায়ভার দিবে আমাদের। 

প্রয়াত জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তার মৃত্যু সংবাদে সারাদেশ ছিল বাকরুদ্ধ। যে জিয়া মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করছেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে কোনো লাভ নেই।
 
দেশের কঠিন সময়ে এই জাতির সামনে ত্রাণ কর্তা হিসেবে হাজির হয়েছিলেন তিনি। যতই মিথ্যাচার করেন না কেন তাকে কারো মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না। যেখানে ভবিষৎ নেই সেখানে তিনি আশার আলো তৈরি করেছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, সে গণতন্ত্র আজ ১৫ বছর যাবৎ ভূলণ্ঠিত। সে গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হলে জিয়াউর রহমানকে জানতে হবে। কিভাবে তিনি একটি অন্ধকার জাতিকে আলোর পথে পথ দেখিয়েছিলেন। কিভাবে প্রতিটি জাতীয় সংকটে ত্রাণকর্তার ভূমিকা রেখেছেন। 

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান রাজনীতিবিদ হিসেবে সফল, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেও সফল। সৈনিক হিসেবেও সফল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে মৌলিক পরিবর্তন এনেছিলেন। ৭২ থেকে ৭৫ সালে অর্থনীতি লুটপাট হয়েছিল। অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে ফেলেছিল। সেখান থেকে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিল জিয়াউর রহমান। 

তিনি বলেন, আজকে যারা ক্ষমতায় তারা জিয়াকে ভয় পায়। তাই তার সম্পর্কে অবান্তর কথা ছড়ানো হচ্ছে। আজকে তারা (সরকার) বলেন, জিয়াউর রহমান নাকি মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না। মিথ্যাচার করে নতুন প্রজন্মের কাছে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। দেশকে চলমান সংকট থেকে মুক্ত করতে জিয়ার আদর্শিত সৈনিকদেরকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির লজ্জিত হবার কোনো ইতিহাস নেই, গৌরব করার মতো ইতিহাস আছে। আমরা সামরিক শাসন জারি করি নাই, গণতন্ত্র হত্যা করিনি। এ আওয়ামী লীগ ১/১১-এর অবৈধ সরকারকে বৈধতা দিয়েছে। বিএনপি কর্মী হিসেবে বলতে পারি বিএনপি শুধু স্বাধীনতা ঘোষকের দল নয়, গণতন্ত্র রক্ষাকারী দল। বিএনপির শাসনামলেই জনগণ গণতন্ত্রের সুফল পেয়েছিল। জিয়াউর রহমানকে আজ শ্রদ্ধা করা উচিত। অথচ আজ তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে, মিথ্যাচার করা হচ্ছে। মানুষ তাকে ভুলে নাই। স্বার্থবাদীরা ভুলেছে। 

তিনি বলেন, আজ দেশকে শেষ করে দেয়া হচ্ছে। বিদেশিরা আজ এ সরকারের ভোট চুরির কথা জানে। গণতন্ত্র কুক্ষিগত করে রাখার কারণে সারাবিশ্বে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। 

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি সৈনিকদেরও নেতা ছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ছিলেন। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। আজকে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্ব কি চিন্তা করছে তা আজ সবাই জানে। আমেরিকায় গণতন্ত্র সম্মেলনে পৃথিবীর ১০৭ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানালেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমেরিকার ভিসা নীতিতো আগেই ছিল, তবে কেনো বাংলাদেশের জন্য আলাদা ভিসা নীতি করতে হলো? কারণ দেশের গণতন্ত্র আজ ভূলণ্ঠিত তা আজ বিশ্ব অবগত। 

সেলিমা রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগের অত্যাচারের ইতিহাস আজ নতুন নয়। এর আগেও তারা গণতন্ত্র কুক্ষিগত করে রেখেছিল। অবাধ লুটপাটের কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল কায়েম করেছিল। মুক্তিযুদ্ধাদের মধ্যে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, তা ভূলণ্ঠিত করেছে এই আওয়ামী লীগ।

আমেরিকা   রেমিট্যান্স   মির্জা ফখরুল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগে যোগ দিল বিএনপির ৩ শতাধিক নেতাকর্মী

প্রকাশ: ০৬:২০ পিএম, ২৯ মে, ২০২৩


Thumbnail

মাগুরায় বিএনপির ৩ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। মাগুরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে রোববার রাতে শহরের শিবরামপুর সাইফুজ্জামান শিখর এমপি’র বাংলো বাড়িতে এ যোগদান অনুষ্ঠান হয়। 

এ সময় সাইফুজ্জামান শিখর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সী রেজাউল হক।

মাগুরা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পারনান্দুয়ালী গ্রাম থেকে ওই ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্টু মোল্যার নেতৃত্বে ৩ শতাধিক নারী পুরুষ আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন নিরু মোল্যা, তমাল মোল্যা, সোনা মোল্যা, সুমন মোল্যা ও কিসলু খান। সমন্বয়ে ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ রেজাউল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন মুক্তা এবং শ্রমিক নেতা সাজ্জাদ মোল্যা।

যোগদান অনুষ্ঠানে মিজানুর রহমান জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা এলাকার ৩ শতাধিক নেতা কর্মী মাগুরার সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করছি।

আওয়ামী লীগ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বরিশালে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে খোকন সেরনিয়াবাত

প্রকাশ: ০৬:০৯ পিএম, ২৯ মে, ২০২৩


Thumbnail

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আজমত উল্লা খান হেরে গেছেন। আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত জাহাঙ্গীর আলমের মায়ের কাছে ১৬ হাজারের বেশি ভোটে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা আজমত উল্লা পরাজিত হয়েছেন। এই পরাজয়ের পর আওয়ামী লীগ নানা রকম হিসেব-নিকেশ করছে। যদিও অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার কারণে আওয়ামী লীগের মধ্যে একটা আত্মতুষ্টি রয়েছে এবং এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। 

গাজীপুরের এই নির্বাচনের পর সবার চোখ এখন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। আগামী ১২ জুন আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরমধ্যে সেখানে মেয়র প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে দিন যত অতিক্রম হচ্ছে বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত আস্তে আস্তে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বরিশালে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিম হাতপাখা প্রতীকে প্রচারণায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন। এছাড়া সাবেক মেয়র এবং বিএনপি নেতা আহসান হাবীব কামালের ছেলে কামরুল আহসান রূপন প্রার্থী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছেন।

রূপনের বাবা বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল ২০১৩-১৮ মেয়াদে বিএনপির হয়ে মেয়র পদে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। বাবার অনুসারীদের ‘সহানুভূতি’ ছাড়াও দলের নেতা-কর্মীদের একটি অংশের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা রূপন। অন্যদিকে বরিশালে আওয়ামী লীগের যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সেটি এখনো রয়েছে গেছে। প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও এক পক্ষ অন্য পক্ষের নামে বিষেদগার ছড়াচ্ছে। যা আওয়ামী লীগ প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতকে আস্তে আস্তে কোণঠাসা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বরিশাল   খোকন সেরনিয়াবাত  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন