ইনসাইড পলিটিক্স

বেগম জিয়াকে নিয়ে কোন কৌশলে সরকার?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনীতির মাঠ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপি ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দিচ্ছে। অন্যদিকে সরকার তার অবস্থান থেকে এখন পর্যন্ত সরে আসেনি। গতকাল আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ব্যাপারে একটি নতুন কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার আবেদনপত্রটির ব্যাপারে তারা আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনা করে দেখছেন। তার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় কিনা সেটির আইনগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন বলেও আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দিনই পাসপোর্ট অধিদপ্তর বেগম খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু দণ্ডিত ব্যক্তি এজন্য তার পাসপোর্ট নবায়ন সম্ভব নয় বলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানিয়েছে। এর ফলে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকার নমনীয় হচ্ছে বলে আইন মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে যে ধরনের ধারণা পাওয়া গেছিল সেই ধারণাটি পাল্টে গেল।

দুই সপ্তাহ হয়ে গেল বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠনের ড্যাবের নেতারা দাবি করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট খারাপ এবং যেকোন মুহূর্তে যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে বলেও তার শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কারণেই তারা বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার দাবি তুলছেন। এই দাবিতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এমন হুমকিও দিচ্ছেন যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হলে তারা এক দফা আন্দোলন শুরু করবেন। তবে সমস্ত দাবি দাওয়ার দরকার খুব একটা কর্ণপাত করছে বলে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। সাম্প্রতিক সময়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী . আব্দুল মোমেন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি বিদেশ থেকে চিকিৎসকরা আসতে চান তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের মনোভাব সুস্পষ্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকার একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক এবং মানবিক দুটো বিষয়ই পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে যদি বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে এটা নিয়ে সরকারের মধ্যে একটা ভাবনা আছে। সরকার মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম বিবৃতি দেবেন এবং একটি সরকার বিরোধী আন্দোলনের ঘোষণাও দিতে পারেন। পাশাপাশি তার পুত্র তারেক জিয়া লন্ডনে বসে ইতিমধ্যে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। খালেদা জিয়া বিদেশে গেলেই তারেক জিয়ার ষড়যন্ত্রের মাত্রা এবং পরিধি আরো সর্বাত্মক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সম্ভবত এটিই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি না দেয়ার একটি বড় কারণ। তবে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন অন্য কথা। তারা বলছেন যে, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোন কিছু করা সম্ভব নয়।

সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি দুটি মামলায় দণ্ডিত এবং তার বিরুদ্ধে আরো অনেকগুলো মামলা রয়েছে। এই  মামলাগুলোর অধিকাংশই দুর্নীতি দমন কমিশনের। কাজেই দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সরকার যদি তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয় এবং তিনি যদি ফিরে না আসেন তাহলে ন্যায়বিচার লঙ্ঘিতে হবে। এটি সরকার করতে চাইছে না। তবে বেগম খালেদা জিয়ার শেষ পর্যন্ত যদি কিছু হয় তাহলে তার রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে সেটিও সরকারের একটি বড় বিবেচ্য বিষয় বলে জানা গেছে। কারণ এই সরকার বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ দিবেন কি দিবেন না এটা নির্ভর করছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশের উপর। সরকার তার রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে যদি মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেওয়া হলে রাজনৈতিকভাবে সরকার লাভবান হবে সেক্ষেত্রেই হয়তো বিষয়টি বিবেচনা করলেও করতে পারেন। অন্যথায় বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেক রাজত্বে নির্বাসিত জিয়া

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা স্বৈরশাসক, একনায়ক জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মদিন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা হলেও জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির তেমন কোনো আড়ম্বরতা ছিল না। জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ছাড়া বিএনপি কোনো উল্লেখযোগ্য কর্মসূচী পালন করেনি। একটি দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন এমন অনাদরে, অবহেলায় পালিত করা হয় এটা ভাবতেও অবাক লাগে বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতাই। তারা বলছেন যে জিয়াউর রহমানের জন্মদিন পালন করা উচিৎ অত্যন্ত ঘটা করে এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এই কর্মসূচী পালন করা উচিৎ কয়েকদিন ধরে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বিএনপি এখন জিয়াউর রহমানকে এড়িয়ে যায়। শুধুমাত্র দিবসভিত্তিক কর্মসূচী ছাড়া জিয়াউর রহমানকে তারা স্মরণও করেনা। বিএনপির একজন নেতা বলছিলেন যে জিয়াউর রহমানের ছবি এখন ছোট হতে হতে নিশ্চিহ্নপ্রায় হয়ে গেছে। এখন বিএনপিতে চলছে তারেক জিয়ার রাজত্ব। তারেক জিয়ার রাজত্বে তার পিতা জিয়াউর রহমানই নির্বাসিত। জিয়াউর রহমান পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম কুশীলব। জাতির পিতাকে হত্যার পর ক্ষমতার পালাবদলের নানা বাঁকে নিজেকে সামলে নিয়ে ৭ই নভেম্বর ক্ষমতা দখল করেন। ক্যু, পাল্টা ক্যু'র এই ধারায় জিয়াউর রহমানের মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখল করা। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং সেনাপ্রধান হওয়ার পর তিনি বিচারপতি সায়েমকেও বন্দুকের নলের মুখে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে হটিয়ে দেন। এরপর তিনি একাধারে সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। যা ছিল সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক। তিনি অবশ্য সংবিধান স্থগিত করেন এবং সংবিধানের কাটাছেড়া করে তিনি সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে উপড়ে ফেলেন। বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর কাজ করেন তিনি একনিষ্ঠভাবে। 

জিয়াউর রহমান তার মন্ত্রীসভায় যেমন রাজাকারদেরকে এনেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে তিনি শাহ আজিজের মতো রাজাকারকে বসিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি তিনি যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকেও বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি, কালো টাকার যে ছড়াছড়ি সবকিছুই জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। জিয়াউর রহমানের নাম ধরেই বিএনপি '৮২ এর পর থেকে এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছে। এই সময় জিয়াউর রহমানই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় পরিচিতি বা ব্র্যান্ড। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেছিলেন শুধুমাত্র জিয়ার ইমেজের উপর ভর করে। একটি গোষ্ঠী সফলভাবে জিয়ার একটি ইমেজ দিতে সক্ষম হয়েছিল এবং ইমেজটি ছিল সততার ইমেজ। একটি মহল জিয়াকে সৎ বানানোর প্রাণান্ত চেষ্টা করে সফল হয়েছিলেন। আর এ কারণেই '৮২ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মূল রাজনীতি ছিল জিয়াউর রহমান কেন্দ্রিক। জিয়াউর রহমানের আদর্শকেই তারা বিলি-বণ্টন করে রাজনীতিতে টিকে ছিলেন। 

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তারেক জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে আসার পর এখন জিয়াউর রহমানই বিএনপিতে নির্বাসিত হয়েছেন। তারেক জিয়া তার মাকে যেমন হটিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের পদ দখল করেছেন, ঠিক তেমনি জিয়াউর রহমানকেও স্মরণ করতে অনাগ্রহী। কারণ তারেক জিয়া বিএনপিকে নিজের কুক্ষিগত করতে চান এবং বিএনপিকে তার অর্থ উপার্জনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান। আর এ কারণেই জিয়ার ইমেজ বা জিয়ার নাম ব্যবহার করতে তার তীব্র অনীহা।

জিয়াউর রহমান   খালেদা জিয়া   তারেক জিয়া   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সব হারালেন তৈমুর?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বেশ সাড়াও জাগিয়েছিলেন। প্রায় ১ লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়েছেন। এ নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে তিনি নারায়ণগঞ্জের বিএনপিকে কিছুটা হলেও চাঙ্গা করেছেন। কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তের মাঝপথেই তাকে দলে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর ফলে তৈমুর আলম কি সব হারালেন কিনা এ প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে তৈমুর আলম খন্দকার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি সবসময় বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নারায়ণগঞ্জে কাজ করেছেন। কিন্তু সেই তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপি যখন দল থেকে বহিষ্কার করল, তখন স্বাভাবিক ভাবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিএনপি একটি বড় ধরনের হোঁচট খেল। বিএনপি এমনিতেই সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে পরেছিল।  নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি এমনিতেই সীমানা গণ্ডির মধ্যেই করতে হত ওসমান পরিবারের জন্য। তার মধ্যে এখন তৈমুর আলম খন্দকারকে বহিষ্কারের মধ্যদিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতির শেষ অধ্যায় রচিত হল কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য বহিষ্কার আদেশ পাওয়ার পর তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন যে, তিনি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন। 

বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন যে, তৈমুর আলম খন্দকারের বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি সাময়িক। সময় এলেই তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার আদেশ তুলে নেয়া হবে। কিন্তু এর ফলে বিএনপির যে সাংগঠনিক ক্ষতি হল, সে ক্ষতি কে পোষাবে এটি একটি বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকার সব হারাননি বরং বিএনপি সব হারিয়েছে। তৈমুর আলম খন্দকারকে যদি বিএনপি সমর্থন দিত তাহলে বিএনপি এখানে অনেককিছু অর্জন করতে পারত। এই নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকার প্রায় এক লক্ষ ভোট পেয়েছেন। এটি বিএনপির ভোট ব্যাংক এ নিয়ে সন্দেহ নাই এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলে বিএনপি যদি দলগত ভাবে এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত তাহলে হয়ত ভোট আর বাড়ত। ফলে নারায়ণগঞ্জে যে বিএনপির একটি ভালো ভোট আছে এটা এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এবং এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি যে সাংগঠনিক তৎপরতা করেছে সেটিও বিএনপির জন্য ইতিবাচক ছিল। এর ফলে নির্বাচনের পর যারা মাঠে কাজ করেছেন তাদেরকে একত্রিত করে সংগঠন গোছানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি কোন সুযোগই না নিয়ে একতরফা ভাবে তৈমুর আলম খন্দকারকে বহিষ্কার করেছে। তবে নারায়ণগঞ্জের কোন কোন বিশ্লেষকরা বলছেন যে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিএনপি এবং তৈমুর আলম খন্দকারের একটি বড় লাভ হয়েছে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। সেটি হল এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শামীম ওসমানের অধ্যায় শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে। 

নারায়ণগঞ্জে এমনিতেই শামীম ওসমানের প্রভাব প্রতিপত্তি অনেকখানিই কমছিল। এখন এই নির্বাচনের পর পর শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। বিএনপির নেতারা স্বীকার করেন যে, নারায়ণগঞ্জে আইভী কোন সমস্যা না, তাদের সমস্যা হল একমাত্র ওসমান পরিবার। যারা বিএনপি এবং জামাতকে কোনভাবে রাস্তায় নামতে দেয় না এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে। আর সেকারণেই তৈমুর আলম খন্দকার আত্মহনন করে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির জন্য একটি রাজনৈতিক জমিন উপহার দিয়েছেন বলে অনেকে মনে করেন। তারা মনে করছেন যে, এই নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির যে কোণঠাসা অবস্থা সেখান থেকে মুক্তি মিলবে। তবে, বিএনপি যদি সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না এবং সঠিক কাজ না করতে পারে তাহলে শামীম ওসমান কোণঠাসা হলেও বিএনপি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।

নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন   তৈমুর আলম খন্দকার   বিএনপি   সেলিনা হায়াৎ আইভী   শামীম ওসমান   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নতুন ইসি গঠন নিয়েই গরম হবে রাজনীতির মাঠ

প্রকাশ: ০৮:০৩ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

দেশে এখন আবার রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ আছে। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে সভা সমাবেশের মত রাজনৈতিক কর্মসূচি গুলোকে ১১ দফা নির্দেশনার আওতায় স্থগিত রাখা হয়েছে। আর এই নির্দেশনা মেনে বিএনপিও তার সমস্ত কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, নতুন ইসি গঠন হলে সে ইসি যাই হোক না কেন তা নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম হবে। বিএনপি শুধু একাই  নয় অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনীতির মাঠের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাষ্ট্রপতি প্রায় একমাস ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ শেষ করেছেন এবং এই সংলাপের শেষ দিনে মন্ত্রীসভার বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত নতুন আইন অনুমোদিত হয়েছে। এই আইনটি এখন জাতীয় সংসদে পাশ হলেই আইনে পরিণত হবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন নতুন আইন আর যেভাবে গত দু'বছর সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে দুটির মধ্যে খুব একটা মৌলিক পার্থক্য নেই। নতুন আইনেও সার্চ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে এবং সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে বলে বলা হয়েছে। কাজেই আইন হোক না হোক সার্চ কমিটির মাধ্যমেই যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হচ্ছে এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

ইতিমধ্যে এই বিষয় নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এবং তারা সার্চ কমিটির আদলে নির্বাচন কমিশন মানবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। বিএনপি অবশ্য নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে শুরু থেকেই নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তারা রাষ্ট্রপতির সংলাপেও যোগ দান করেননি। তারা মনে করেন যে, নির্বাচন কমিশন নয়, তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মনে করেন। এরকম বাস্তবতায় তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন এর সঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচন ইস্যুটিও যুক্ত করেছিলেন। যদিও তাদের আন্দোলন এখন নেই কিন্তু বিএনপি'র একাধিক নেতা বলছেন যে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া হলেই তারা তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি দেবেন। শুধু বিএনপি নয়, সাবেক জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের দুটি সংগঠন জেএসডি এবং নাগরিক ঐক্য ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন নিয়ে তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট করেছে। তারা মনে করছেন যে, সার্চ কমিটির মাধ্যমে এই নির্বাচন কমিশন গঠন হলে সরকারের আজ্ঞাবহ এবং অনুগত ব্যক্তিরাই নির্বাচন কমিশনে আসবে। এতে এটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অন্তরায় হবে। অন্যদিকে বাম গণতান্ত্রিক জোট এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কোন রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। তবে বামজোট রাষ্ট্রপতির সংলাপও বর্জন করেছে। এরকম পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া শুরু হলে বামদলগুলো আন্দোলনে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। 

উগ্র দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কিছু একটা করার পরিকল্পনা নিচ্ছে। বিএনপি চাইছে যে, নির্বাচন কমিশন গঠনের পর এর বিরোধিতা করে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গঠন করতে যেই প্ল্যাটফর্ম থেকে সবগুলো রাজনৈতিক দল ন্যূনতম ইস্যুতে আন্দোলন করবে। বিএনপির পরিকল্পনা হলো নির্বাচনের ইস্যুর এই আন্দোলনকে তারা আস্তে আস্তে সরকার পতনের আন্দোলনে নিয়ে যাবে। আর এ কারণেই তারা নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যু নিয়ে একক আন্দোলন নয় বরং একটি সম্মিলিত আন্দোলনের পক্ষে এবং বিএনপি এরকম প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন যে, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তারা জামায়াতকে পাশে নেবে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর অস্বস্তি রয়েছে, এ নিয়ে সরকারের সমালোচনা রয়েছে তেমনিভাবে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি রয়েছে। তারা মনে করে যে, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের যে অনৈতিক সম্পর্ক এটি প্রকাশ্যে থাকুক বা গোপনে থাকুক এটা দেখে বিএনপি'র সঙ্গে সহাবস্থানের আন্দোলন করা সম্ভব নয়। আর এই প্রেক্ষিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে আন্দোলন হবে সেই আন্দোলন কতটা ফলপ্রসূ হবে বা কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করতে পারবে সেটাই দেখার বিষয় ।

ইসি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান আসছে?

প্রকাশ: ০৭:০১ পিএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষ হয়েছে। নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। কিন্তু এই বিজয়ের পরও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির টালমাটাল অবস্থা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। নির্বাচনের পর পর কপাল পুড়েছে বিএনপি'র স্বতন্ত্র প্রার্থী  তৈমুর আলম খন্দকারের। আগে তাকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল এখন তাকে দল থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, এটি স্রেফ একটি নাটক। যেহেতু নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছেন সে জন্য সাময়িকভাবে এটা করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই আবার তৈমুর আলম খন্দকার কে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। বিএনপির রাজনীতিতে বহিষ্কার এবং ঘরে ফেরা ডাল-ভাতের মত ব্যাপার। অনেক নেতাই বহিষ্কৃত হন আবার ফিরে আসেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সংস্কারের কারণে ইমরান সালেহ প্রিন্সের মতো অনেকেই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, তারা আবার দলে ফিরে এসেছেন। এখন তারা দলের পক্ষ থেকে নানারকম বক্তৃতা বিবৃতিও দেন। আর একারণেই তৈমুর আলম খন্দকারের বহিষ্কারাদেশ নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ খুব একটা চিন্তিত নন। তৈমুর আলম খন্দকার নিজেও বলেছেন তিনি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে কাজ করবেন। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর আওয়ামী লীগের বিজয় কে সংহত করা এবং ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জকে বিতর্কমুক্ত এবং বিভক্তি মুক্ত রাখার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

cর আগেই শামীম ওসমানের সাথে সেলিনা হায়াত আইভীর বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ ছিল। এই নির্বাচনে শুরুতেই শামীম ওসমান আইভীর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন এবং তার পছন্দের কাউন্সিলরা তৈমুর আলম খন্দকার এর পক্ষেই কাজ করেছিলেন। এরপর পরই আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সেখানে হস্তক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে নৌকার পক্ষে প্রচার করবেন বলে জানান। যদিও তাকে কোনো প্রচারণায় দেখা যায়নি। এমনকি তার নিজস্ব লোক জন্ও এই নির্বাচনে নিরাপদ দূরত্বে ছিল। আইভী তার নিজের যোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তায় বিজয়ী হয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের পর পর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের এখন শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, নারায়ণগঞ্জে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে এবং এই কাজগুলোতে তারা হাত দেবেন। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে তারা বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। 

ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন নিয়ে একটি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৫ নেতা। নারায়ণগঞ্জ যেহেতু ঢাকা বিভাগের মধ্যে পড়ে সেহেতু ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এই প্রতিবেদনটি তৈরি করবেন এবং আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দিবেন। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের যে অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলো রয়েছে সেই কমিটিগুলো সবই শামীম ওসমানের পকেট কমিটি এবং এই কমিটিগুলোকে রেখে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করা অসম্ভব। আর এ কারণেই নারায়ণগঞ্জে একটি বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এই নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন সম্পর্কে মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিবেন। যেখানে যেখানে বিভক্তি আছে যেখানে যেখানে পকেট কমিটি আছে সেগুলো বিলুপ্ত করে দেওয়া হবে এবং বেশ কিছু ব্যক্তি হয়তো নারায়ণগঞ্জে পথ হারাবেন। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সংগঠনের দিকে মনোযোগী এবং সংগঠনে যারা বিভক্তি সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। 

নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন   আওয়ামী লীগ   শামীম ওসমান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় তৈমূর ও কামাল যা বললেন

প্রকাশ: ০৯:২৫ এএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বিএনপি থেকে বহিষ্কাদেশের প্রতিক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরাজিত স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন- ‘আলহামদুলিল্লাহ’। এর আগে দলীয় পদ হারিয়েও তিনি একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে তৈমূরকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমাকে যদি বহিষ্কার করে থাকে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। দুইটা বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে মহামারি লাগছে। দুইটা রাজনৈতিক দলেই বহিষ্কার-অব্যাহতির হুমকি চলছে। এই দুইটা দলের যারা ত্যাগী নেতাকর্মী তাদের আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া উচিত জালালি খতম পড়াইয়া।

এদিকে তৈমূর আলম খন্দারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকেও দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

এটিএম কামাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে আমি তা মাথা পেতে নিলাম। হয়তো আমি কোনো ভুল করেছি তাই দল আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে কাজ করেছি। তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

তৈমুর আলম   নাসিক নির্বাচন   এটিএম কামাল   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন