ইনসাইড সাইন্স

১৯ বছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল প্রথম নারী মহাকাশচারী কল্পনার স্বপ্ন

প্রকাশ: ১১:৩৮ এএম, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২


Thumbnail ১৯ বছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল প্রথম নারী মহাকাশচারী কল্পনার স্বপ্ন

২০০৩ সালের ১ লা ফেব্রুয়ারী, আমেরিকান স্পেস এজেন্সি নাসার স্পেস শাটল কলম্বিয়া পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সেই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় সমগ্র বিশ্বকে। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় কল্পনা চাওলার স্বপ্ন। ওই দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল নাসার ওপর। ১৯৮৬ সালে চ্যালেঞ্জারের পর এটি ছিল আমেরিকার দ্বিতীয় স্পেস শাটল দুর্ঘটনা। এরপর আমেরিকা থেকে মহাকাশে নভোচরদের পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। কলম্বিয়া দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো স্পেস শাটল ফ্লাইট চালানো হয়নি। তারপর নাসাকেও তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
  
সেই সাথে স্পেস শাটলের সঙ্গে সাতজন নভোচরীর জবনাবসান। তাদেরই একজন কল্পনা চাওলা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম নারী মহাকাশচারী তিনি। ভারত সহ সারা বিশ্বের নারীদের আইকন ছিলেন কল্পনা। কল্পনার জন্ম ১৯৬২ সালের ১৭ মার্চ হরিয়ানার কারনাল জেলায়। সেখানকার ঠাকুর বাল নিকেতনে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করেন কল্পনা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে কল্পনার কোনো আনুষ্ঠানিক নাম ছিল না। তাকে তার বাবা-মা আদর করে ডাকতেন মন্টু বলে। স্কুলে ভর্তির সময় যখন নামের দরকার তখন তারা বাবা সেখানে তার নাম দেন কল্পনা চাওলা।

স্কুল শেষ করার পর চণ্ডীগড় থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। ১৯৮২ সালে আমেরিকায় পাড়ি দেন। ১৯৮৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হন।

সেখানে মহাকাশ প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি।এরপর কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টর অফ ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯৫ সালের মার্চে NASA মহাকাশচারী কর্পস দলে যোগ দেন কল্পনা। শৈশবকাল থেকেই কল্পনার হাইকিং এবং পড়ার পাশাপাশি আগ্রহ ছিল বিমানের প্রতি। বয়স যখন ছয় বছর। তখন প্রথম আকাশে বিমান দেখেন। তখন থেকেই বিমানের প্রতি আগ্রহ জন্মায় ছোট্ট কল্পনার মনে।সেদিন মিশন সফল হওয়ার পর ফিরছিলেন কল্পনা ও তার সঙ্গীরা। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় দক্ষিণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর তাদের মহাকাশযান ভেঙে পড়ে।
 

১৯৯৭ সালে প্রথম মহাকাশ ফ্লাইটের জন্য নির্বাচিত হন। সেই যাত্রায় কল্পনা মহাকাশে ৩৭২ ঘন্টা কাটিয়েছিলেন। তার দ্বিতীয় মহাকাশ যাত্রা ছিল ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারি। কিন্তু মহাকাশযানটি ১ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় হঠাৎ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই দুর্ঘটনায় কল্পনা চাওলা সহ আরও ছয়জন মহাকাশচারী মারা যান।

মাত্র ১৬ দিনের মিশন ছিল তাদের। উড্ডয়নের আগে নাসার স্পেস শাটল কলম্বিয়া পরীক্ষা করা হয়েছিল ৮০ বার। সেসময় পুরো বিশ্বে জড়িয়ে পড়ে কল্পনার নাম। কল্পনা চাওলাকে জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন মানুষ। ভারত, আমেরিকা সহ বিশ্বের সব নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেন।


তার জনপ্রিয়তার পরিপ্রেক্ষিতে NASA তার একটি সুপার কম্পিউটারের নামকরণ করেছে কল্পনা চাওলা। বিশ্বের অনেক স্কলারশিপ প্রোগ্রাম এবং ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞান শাখার নাম কল্পনা চাওলার নামে রাখা হয়েছে।

নাসার মতে, মহাকাশযানটি নির্ধারিত অবতরণ থেকে মাত্র ১৬ মিনিট দূরে ছিল। সেই মহাকাশযানের ধংসাবশেষ ও যাত্রীদের দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল টেক্সাসে। মিশন সফল হলেও পৃথিবীতে আর ফিরে আসতে পারেননি কল্পনা ও তার সঙ্গীরা। ওই দুর্ঘটনা নাসাকে কাজ করার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছিল।

কলম্বিয়া স্পেস শাটল ২০০৬ সালে আবার চালু করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগে ২৬ জুলাই, ২০০৫-এ স্পেস শাটল ডিসকভারির মাধ্যমে সাতজন আমেরিকান যাত্রীকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। এর পর ২০০৭ সালে স্পেস শাটল অ্যান্ডোভার এবং ২০১১ সালে স্পেস শাটল আটলান্টিসের মাধ্যমে যাত্রীদের মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। আটলান্টিস ছিল মার্কিন মাটি থেকে মহাকাশে নাসার পাঠানো সর্বশেষ ক্রু যুক্ত যান। এরপর থেকে রাশিয়ান সুয়োজ রকেটে করে মার্কিন মহাকাশচারীদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

বিশালাকার একটি ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রকাশ: ০৩:০৯ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail বিশালাকার একটি ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

মহাকাশের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ব্ল্যাক হোলটি আবিষ্কার করে ফেললেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সেই নতুন ব্ল্যাক হোলটি এত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে যে প্রতি সেকেন্ডে সেটি একটি পৃথিবীকে গ্রাস করার সমান। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি'র জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরটি আবিষ্কার করেছেন। 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ব্ল্যাক হোলকে একটি মহাকাশীয় বস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি থেকে আসা সমস্ত আলোর চেয়ে ৭ হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল করে। স্কাইম্যাপার সাউদার্ন সার্ভে (এসএমএসএস) থেকে সিম্বিওটিক বাইনারি নক্ষত্রের অনুসন্ধানের সময় ব্ল্যাক হোলটি অপটিক্যাল রঙের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল এবং ফলাফলগুলি তখন থেকে আরএক্সিভ ডেটাবেসে প্রকাশিত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রকাশনায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে গবেষণাটি।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি'র প্রধান গবেষক ডক্টর ক্রিস্টোফার ওঙ্কেন একটি বিবৃতিতে দাবি করেছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা 50 বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জাতীয় বস্তুর সন্ধান করছেন। তারা হাজার হাজার বস্তু খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু এই আশ্চর্যজনক ভাবে উজ্জ্বল বস্তুটি তাঁদের নজরে আসেনি।
অনুমান করা হচ্ছে যে, বিশাল ব্ল্যাক হোল দু'টি বড় গ্যালাক্সির একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছে। উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রসহ নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় ব্ল্যাক হোল তৈরি হয়, যার কারণে তারার ভর একটি খুব ছোট জায়গায় চাপা পড়ে যায়। পাশাপাশি মৃত তারার আলোসহ সবকিছু আটকেও দেয়। এটিই ব্ল্যাক হোলগুলিকে অদৃশ্য করে তোলে, যা তাদের চারপাশের স্থানের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া আলো দ্বারা সনাক্ত করা যায়।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি'র পিএইচডি গবেষক স্যামুয়েল লাইয়ের মতে, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দ্বারা চিহ্নিত নতুন ব্ল্যাক হোলটির চাক্ষুষ মাত্রা ১৪.৫। এটি আমাদের নিজস্ব ছায়াপথের ব্ল্যাক হোলের চেয়ে ৫০০ গুণ বড়। ব্ল্যাক হোলটি এত বড় যে, আমাদের সৌরজগতের সকল গ্রহের কক্ষপথগুলি ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজনের ভিতরে ঢুকে যাবে। এটি আসলে একটি ব্ল্যাক হোল বরাবর সীমানা যার মধ্য দিয়ে কিছুই পালাতে পারে না।

সূত্র- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

বিশালাকার   ব্ল্যাক হোল   সন্ধান   বিজ্ঞানীরা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

বাংলাদেশের রিপনের ওআইসির সায়েন্টিফিক পুরস্কার লাভ

প্রকাশ: ০৩:৪১ পিএম, ১৯ মে, ২০২২


Thumbnail বাংলাদেশের রিপনের ওআইসির সায়েন্টিফিক পুরস্কার লাভ

মর্যাদাপূর্ণ মোস্তফা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফাউন্ডেশন আয়োজিত দ্য নলেজ অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড নোসন ফর সোসাইটি (কেএএনএস) প্রতিযোগিতা মুসলিম বিশ্বের ওআইসিভুক্ত দেশের তরুণ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে বাংলাদেশের ড. রিপন হোড় ডিপ্লোমা পুরস্কার লাভ করেছেন। ভূমিকম্প সহনশীল সড়ক বা মহাসড়ক নির্মাণে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য তিনি এ পুরস্কার লাভ করেন। পৃথিবীর বিখ্যাত গবেষক ও বিজ্ঞানী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে ১৭টি উদ্ভাবনকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনয়ন দেন। যেখানে পরিবহন সেক্টর বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন রিপন।

এ বিষয়ে ড. রিপন হোড় বলেন, গত শুক্রবার (১৩ মে) আমার উদ্ভাবিত বাঁধ নির্মাণ প্রযুক্তি ইরানের রাজধানী তেরহানে পারদিস টেকনোলজি হলে উপস্থাপিত হয়। প্রতিযোগিতায় আমি পরিবহন সেক্টর বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছি। পুরস্কার হিসাবে সম্মানিত ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। দেশের হয়ে এমন অর্জনে অনেক ভালো লাগছে।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার (১১ মে) পারদিস টেকনোলজি হলে বিজ্ঞান মেলা ইনোটেক্স ২০২২ এ বাংলাদেশ থেকে আমি মালয়েশিয়া থেকে পাইকসি চিহ এবং উই জি লাও এবং ইরান থেকে মোহাম্মদ আলী খায়াসিয়াম ও মেহেদী মালিকি উদ্ভাবনগুলো উপস্থাপনের সুযোগ পাই। উপস্থাপনায় বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রফেশনাল মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের রিপন হোড়সহ মালয়েশিয়ার দুইজন ও ইরানের ১৭ জনকে সম্মানিত ডিপ্লোমা পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মোস্তফা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ফাউন্ডেশনের প্রধান আয়োজক কমিটি ইরানের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিসহ পাকিস্তান, ওয়ার্ল্ড সাইন্স ফাউন্ডেশন ও ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ২৫টি দেশ যেমন, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তুর্কি, ইরান, ভিয়েতনাম, ইয়েমেন, কেনিয়া, রাশিয়া, ওমানসহ অন্যান্য দেশের ৬৫৮টি উদ্ভাবন জমা পরে। সে উদ্ভাবনগুলো দুটি ধাপে গত এক বছরে পৃথিবীর বিখ্যাত গবেষক ও বিজ্ঞানী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে সেরা ২০টি উদ্ভাবনকে উপস্থাপনার জন্য ইরানের রাজধানী তেহরানের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ওআইসি   সায়েন্টিফিক পুরস্কার   ড. রিপন হোড়   বাংলাদেশি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

চাঁদের মাটিতে জন্ম নিল গাছ

প্রকাশ: ০৬:২৯ পিএম, ১৪ মে, ২০২২


Thumbnail চাঁদের মাটিতে জন্ম নিল গাছ

চাঁদ বরাবরই মানুষের কাছে কৌতূহলের বিষয়। কখনো আবার সৌন্দর্যের উপমা। চাঁদ দিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই মানব মনে। তবে গত ৫০ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম চাঁদের মাটিতে জন্মেছে গাছ। প্রাণের স্পন্দ যেন নতুন মাত্রা যোগ করে দিয়েছে সকলের ভাবনায়। 

বিগত বছর গুলোতে চাঁদে হওয়া অভিযান যেমন, নীল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিনদের এপোলো-১১ গুলো থেকে এই মাটি পৃথিবীতে আনা হয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা বিকিরণ ও পরিবর্তনশীল এই মাটিতে প্রথমবারের মতন উদ্ভিদ এর জন্মের তথ্য জানিয়েছেন "ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডা" এর গবেষকরা। লক্ষ্য, চাঁদের মাটিতে আগামী অভিযাত্রীদের জন্য খাদ্য উৎপাদন করা। 

‘দুই দশকের মধ্যেই চাঁদে গ্রীণ হাউজ তৈরির মাধ্যমে খাদ্যশস্য উৎপাদন করা সম্ভব’ এই বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা কমিউনিকেশন বায়োলজি জার্নালে। তবে এই উদ্ভিদ জন্মানোর আগে কতখানি প্রস্তুতির প্রয়োজন তা এখন অজানা, তবে অনুসন্ধান চলছে প্রতিনিয়ত। 

বিজ্ঞানীরা আরো জানান, চাঁদের মাটির নাম রিগোলায়েথ। এই মাটি খুবই শুষ্ক, রুক্ষ এবং মাটির কণাগুলো ভয়ংকর তীক্ষ্ণ৷ মাটিতে বিদ্যমান বিভিন্ন খনিজ পদার্থ আর জৈব উপাদান এতটাই ক্ষতিকর যে পৃথিবীর আবহাওয়ায় থাকা কোনো উদ্ভিদ বা অনুজীবের এই মাটিতে সরাসরি বেঁচে থাকা সম্ভব না। বয়ে আনা চাঁদের মাটিতে এত বছর যাবৎ নানাবিধ পরীক্ষা এবং প্রস্তুতির পর গাছ এই  মাটিতে জন্ম নিয়েছে।  এই মাটিতে উদ্ভিদ জন্ম দিতে যোগ করতে হয়েছে তাই প্রচুর পানি এবং আনুষঙ্গিক নিউট্রিয়েন্ট।

ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার বিজ্ঞানী রবার্ট ফেরাল বলেন,  ‘আশা করছি,  আমরা চাঁদের মাটির সাথে  জৈব প্রক্রিয়াশীল আরো উন্নত মানের আগামীতে সিমুল্যান্ট পাব। এই গবেষণা এবং এর ফল থেকে আমরা সামনে আরো ভালো ফল পাবো বলে আশা রাখতে পারি।’

চাঁদের মাটিতে গাছ, এই যেন এক অসম্ভব সত্য। এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেও এই গবেষণার যে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে তা উল্লেখ্য করেন গবেষকরা। রুক্ষ প্রকৃতির আর নানা খনিজ পর্দাথের কারণে এই মাটিতে উদ্ভিদের বৃদ্ধি খুবই ধীর এবং এক পর্যায়ে গিয়ে বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।  

'প্রথম সপ্তাহে ল্যাবের অন্য উদ্ভিদের সাথে চাঁদের মাটির উদ্ভিদের বৃদ্ধি প্রক্রিয়াতে কোনরূপ পার্থক্য চোখে পড়েনি। এই থেকে প্রমাণ হয়, উদ্ভিদের প্রাথমিক বৃদ্ধি মাটিতে অবস্থিত বিষাক্ত উপাদান সমূহের জন্য  বাধাগ্রস্ত হয়নি। পরে সমস্যাগুলো নিবিড়ভাবে গাছের বৃদ্ধি বুঝতে আলাদা ছোট টবে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। দেরিতে হলেও সব চারাই বড় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বায়োলজিস্ট এনা লিসা পল ৷ 

বিজ্ঞানীরা চাঁদের বিভিন্ন স্থানে নতুন মাটি পাওয়ার আশা করছেন। আগ্নেয়গিরি খনন করেও মাটি পাওয়ার বিষয়েও তাঁরা বেশ আশাবাদী। তাছাড়া, বিজ্ঞানীদের জমাকৃত গবেষণা পত্রে চাঁদের আবহাওয়া প্রভাবিত করে উদ্ভিদ ও প্রাণী বসবাসের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির কথাও উল্লেখ করেছেন।

চাঁদ   মাটি   জন্ম   গাছ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

বেলুনে চাপিয়ে মহাকাশে কাবাব পাঠানোর চেষ্টা

প্রকাশ: ০৩:৫৮ পিএম, ২১ এপ্রিল, ২০২২


Thumbnail বেলুনে চাপিয়ে মহাকাশে কাবাব পাঠানোর চেষ্টা

গবেষণা বা আবিষ্কারের জন্য মহাকাশযানে চেপে মহাকাশে গিয়ে থাকেন নভোচারীরা। এক্ষেত্রে ভিন্নতর এক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে হাজির হয়েছেন তুরস্কের একদল মানুষ। তারা বেলুনে চাপিয়ে মহাকাশে কাবাব পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। অবশ্য চেষ্টাটি সফল হয়নি।

এনডিটিভি জানায়, একদল তুর্কি গত ১২ এপ্রিল ইফতারের আগে বিশাল একটি গরম বাতাসের বেলুনে চাপিয়ে রান্না করা কাবাব, পেঁয়াজ ও সালাদ মহাকাশে পাঠান। এই কাবাব ও সালাদ মহাকাশে পৌঁছানোর বিষয়টি দেখতে একটি ক্যামেরাও বসানো হয় ওই বেলুনে।

খবরে বলা হয়, বেলুনে চাপানো কাবাবটি কিছুটা উপরের দিকে ওঠার পর আবার নিচের দিকে নামতে থাকে। একপর্যায়ে বেলুনটি সাগরে গিয়ে পড়লে নৌকায় করে গিয়ে বেলুন ও কাবাবটি সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পুরো প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়। তারপরও উদ্যোক্তারা খুশি।

ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়ে তুরস্কের সাবাহ জানায়, ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের মূলে ছিলেন ইয়াসার আয়েদিন। তিনি মহাকাশে কাবাব পাঠাতে বিশেষ একটি বক্স ও হিলিয়ামে ভরা বেলুন ব্যবহার করেন।

উদ্যোক্তারা জানান, মহাকাশে প্রথম মানুষ বহন করা মহাকাশযান পাঠানো হয় ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল। ওই যানটি ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের, প্রথম মহাকাশচারী ছিলেন ইউরি গ্যাগরিন। ওই ঘটনার ৬৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মহাকাশে কাবাব পাঠানোর উদ্যোগ নেয় তুর্কি দলটি।

মহাকাশ   কাবাব  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

অচিরেই কি পৃথিবী আক্রমণ করবে এলিয়েনরা?

প্রকাশ: ০৯:৫৩ এএম, ২০ এপ্রিল, ২০২২


Thumbnail অচিরেই কি পৃথিবী আক্রমণ করবে এলিয়েনরা?

আমাদের সৌরজগতের বাইরে আরও কোনও সৌরজগৎ আছে কিনা, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রচুর কৌতূহল, প্রচুর অনুসন্ধিৎসা। এ বিষয়ে সব দেশই নিজের মতো করে অনুসন্ধান করছে। 

এই অনুসন্ধানের প্রধান জিজ্ঞাসা হল, এলিয়েন বলতে সত্যিই কি কিছু আছে? 

এলিয়েন নিয়ে সব চেয়ে বেশি ও ব্যাপক আকারে গবেষণা চালাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তারা এই গবেষণার সূত্রে মহাকাশে সাংকেতিক বার্তাও পাঠাচ্ছে। এই বার্তা পৃথিবীগ্রহ ছেড়ে বিশাল মহাকাশে ছড়িয়ে পড়লে গবেষণায় নতুন তথ্য জানার চেয়ে উল্টো বিপত্তি ঘটবে বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীদের একাংশ। 

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আমাদের সৌরজগতের বাইরে যদি সত্যিই কোনও ভিন-জগৎ থেকে থাকে, থাকে সেখানকার ভিনধাঁচের প্রাণীও তবে তারা পৃথিবী থেকে পাঠানো বার্তার সূত্র ধরে খোঁজ পেয়ে যেতে পারে পৃথিবী নামক গ্রহটির! আর পৃথিবীর অস্তিত্ব জেনে গেলে সেটা মোটের উপর পৃথিবীর পক্ষে ভালো হবে না। কেননা, যদি এলিয়েনেরা তখন পৃথিবী আক্রমণ করে, সে একটা ভয়ানক ব্য়াপার হবে।

'বেকন ইন দ্য গ্যালাক্সি' নামের বার্তা মহাকাশে পাঠিয়েছে নাসা। অক্সফোর্ডের ফিউচার অব হিউম্যানিটি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বিজ্ঞানী অ্যান্ডার্স স্যান্ডবার্গ জানিয়েছেন, মহাকাশে এরকম বার্তা পাঠানো বাড়তে পারে পৃথিবীর বিপদ। 

এলিয়েন   পৃথিবী   আক্রমণ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন