ইনসাইড সাইন্স

ফেসবুকের ‘মেটা’ ইসরায়েলে গিয়ে হলো ‘মৃত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪:২৭ পিএম, ৩০ অক্টোবর, ২০২১


Thumbnail

ফেসবুকের প্রাতিষ্ঠানিক নাম বদলে করা হয়েছে ‘মেটা’। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের এ ঘোষণা বেশ সাড়া ফেলেছে। হাসিঠাট্টার জন্ম দিয়েছে ঠিকই, তবে যেহেতু মূল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম অটুট থাকছে, তাই অনেকে সে পরিবর্তন মেনেও নিয়েছেন। তবে মানতে পারছেন না ইসরায়েলের হিব্রু ভাষাভাষীরা।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতের হিব্রু প্রতিশব্দের উচ্চারণ অনেকটা ‘মেটা’র মতো। সুনির্দিষ্ট করে বললে, হিব্রু ভাষায় মৃত শব্দটির স্ত্রী রূপের উচ্চারণ এমন। টুইটারে অনেকে এরই মধ্যে তা জানিয়েছেন। সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন ফেসবুক ডেড হ্যাশট্যাগ (#FacebookDead)।

অবশ্য ব্র্যান্ড নাম পরিবর্তনের পর কেবল ফেসবুককে নিয়েই ঠাট্টা হয়নি, এ তালিকায় রয়েছে আরও প্রতিষ্ঠানের নাম।

নিজের আঙুল খেয়ে ফেলুন’

আশির দশকে চীনে ব্যবসা শুরু করে ফাস্টফুড বিক্রেতা কেএফসি। তাদের স্লোগান ‘ফিঙ্গার লিকিন গুড’ স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে তা নেননি। মান্দারিন ভাষায় সেটির অর্থ দাঁড়ায় ‘নিজের আঙুল খেয়ে ফেলুন। তাতে অবশ্য প্রতিষ্ঠানটির খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। এখন দেশটির বড় ফাস্টফুড চেইনগুলোর একটি কেএফসি।

বিষ্ঠা’

ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোলস রয়েস তাদের ‘সিলভার মিস্ট’ গাড়ির নাম পরিবর্তন করেছিল, কারণ, জার্মান ভাষায় ‘মিস্ট’ অর্থ বিষ্ঠা। পরে গাড়িটির নাম রাখা হয় ‘সিলভার শ্যাডো’।

‘পতিতা’
২০১১ সালে নকিয়া যখন ‘লুমিয়া’ ব্র্যান্ডের ফোন বাজারে নিয়ে এল সেটি আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি। স্প্যানিশে পতিতার সমার্থক লুমিয়া।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

আগামীতে উৎক্ষেপণ করা হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২

প্রকাশ: ১২:২৬ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আগামীতে উৎক্ষেপণ করা হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ ও হবে। সেই কার্যক্রমও আমরা হাতে নিয়েছি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শাহজাহান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আগামীতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ করা হবে। তবে এ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট হবে না। এ স্যাটেলাইট ঘুরে ঘুরে পৃথিবীর সমস্ত জিনিসপত্র আমাদের দেখাবে।  

শনিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ হলেও আমাদের আনাচে কানাচে কমিউনিকেশনের সুযোগ নেই, সব কিছু আমরা দেখতে পারি না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটা বিরাট সমুদ্র অঞ্চল এনে দিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন। বাংলাদেশ আইনগতভাবে ওই সম্পদের অধিকারী। এতো বড় একটা অঞ্চল শুধু আনলেই তো হবে না, এটা দেখভাল করতে হবে। এসব সম্পদ অন্য কেউ  আহরণ করে যাতে না নিয়ে যায়, চুরি কিংবা ডাকাতি করে যাতে নিয়ে না যায়, সে খেয়াল রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু স্যালেলাইট-২ দিয়ে এ অঞ্চল পাহারা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্যাটেলাইটের শুরুটা করে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার নামে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি এর জন্য গর্বিত। আর তার নামে এমন একটি বিশাল প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সুরা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
 
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. সাজ্জাদ হোসেন, ব্যারিস্টার রেজা-ই-রাকিব, উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, ড. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইকবাল আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) শাহ্ আহমেদুল কবির এবং কোম্পানি সচিব (উপসচিব) মো. রফিকুল হক।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৫ জুলাই, ২০২২


Thumbnail জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের আদ্যোপান্ত

বর্তমানে বিশ্বের সব থেকে আলোচিত বিষয় হলো জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। যা উৎপক্ষেপন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার উদ্যোগে এবং সাম্প্রতিক ছবিটাও প্রকাশ করা হয় নাসা (NASA) থেকেই। গত বছর ২৫ শে ডিসেম্বর, বড়দিনের দিন এই টেলিস্কোপ মহাকাশে উৎক্ষেপন করা হয়। অতীতের মহাকাশের চিত্র তুলে ধরার জন্যই এই ব্যবস্থা। উৎক্ষেপণের পরে ওয়েব প্রায় ৩০ দিন মহাকাশ যাত্রা সম্পন্ন করে পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরত্বে (চাঁদের চেয়েও অধিক দূরত্বে) দ্বিতীয় লাগ্রঁজীয় বিন্দুতে (যে বিন্দুতে পৃথিবী ও সূর্যের মহাকর্ষীয় লব্ধিবল এবং মহাকাশযানের কেন্দ্রাতিগ বল একে অপরকে নাকচ করে দেয়) পৌঁছানোর পরে সেটিতে অবস্থান করে সবসময় পৃথিবীর অন্ধকার পার্শ্বে থেকে পৃথিবীর সাথে সাথে একই সময়ে বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। 

অবস্থান:
১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরেও পৃথিবী এবং সূর্যের তাপ থেকে বাঁচাতে ৫টি পর্দা লাগানো হয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে। এক-একটি পর্দার মাপ টেনিস কোর্টের সমান। এই টেলিস্কোপে রয়েছে ১৮টি ষড়ভুজ আয়না। যার সম্মিলিত ব্যাস ৬.৫ মিটার। ঠিক যেমনভাবে রাতের আঁধারে কোনও কোনও ফুল পাপড়ি মেলে সে ভাবেই ১৮টি আয়না মহাকাশে উন্মীলিত হয়েছে। তা দিয়েই চলেছে ব্রহ্মাণ্ডের অতীতের খোঁজ। 

আয়তন:
জেমস টেলিস্কোপের আয়তন ২০.১৯৭ মি × ১৪.১৬২ মি (৬৬.২৬ ফু × ৪৬.৪৬ ফু), সৌরঢাল এবং ক্ষমতা প্রায় ২ কিলোওয়াট। ব্যাস৬.৫ মি (২১ ফুট), ফোকাসের দৈর্ঘ্য ১৩১.৪ মি (৪৩১ ফুট), সংগ্রহ অঞ্চল ২৫.৪ মি২ (২৭৩ ফু২) এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য ০.৬-২৮.৩ মাইক্রোমিটার (কমলা থেকে মধ্য-অবলোহিত)। 



টেলিস্কোপের কাঠামো: 
মহাবিশ্বকে আরো স্পষ্টভাবে দেখার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। এটি নেক্সট জেনারেশন স্পেস টেলিস্কোপ (Next Generation Space Telescope বা NGST)। অবলোহিত বিকিরণ বা ইনফ্রারেড পর্যবেক্ষণের জন্য এবং একই সাথে এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ও স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপের ভবিষ্যত উত্তরসূরী। কারন এই দূরবীনে এমন অনেক কিছু যোগ করা হয়েছে, যা এর আগে অন্য কোন মহাকাশ দূরবীনে যোগ করে মহাকাশে পাঠানো হয়নি। এই দূরবীন কাজ করবে ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলোয়। এই টেলিস্কোপকে যত ইচ্ছা বড় করা যায়, যার ফলে যত খানি আলো আপতিত হয় প্রায় ততখানি আলো প্রতিফলিন হয়। যার কারণে সুস্পষ্ট ছবি দেখতে পারা যায়। এতে আছে প্রায় ১৮টি আয়না যার প্রতিটি সোনার পাত দ্বারা মুড়ানো। সোনার ইনফ্রারেড আলোর প্রতিসরণ ক্ষমতা সবথেকে বেশি তাই সোনার ব্যবহার করা হয়েছে। ১৮টি ষড়ভুজাকৃতির আয়না প্রতিটি ১.৩২ মিটার (৪.৩ ফুট) ব্যাস। (ওয়েবের সেকেন্ডারি আয়না ব্যাস ০.৭৪ মিটার)। এই আয়নায় ৪৮.২৫ গ্রাম ওজনের সোনার প্রলেপ দেয়া হয়েছে, যা একটি গলফ বলের ভরের সমান (একটি গলফ বলের ভর ৪৫.৯ গ্রাম)। তাছাড়া বিশেষ চারটি যন্ত্র এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে টেলিস্কোপের সুরক্ষার জন্য। 

কার্য প্রক্রিয়া:
এই টেলিস্কোপ আলোর গতিতে ছবিকে ধারণ করে প্রেরণ করে। যেখানে ফুটে উঠে অনেক আগের মহাকাশের চিত্র। এখন, অনেকেই বলতে পারে, এত বছর পুরাতন এই ছবি বর্তমানে পৃথিবীতে প্রেরণ করা কতটা সত্য। সেক্ষেত্রে নাসার বিজ্ঞানীরা বলেন, কোন বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে ধরা দিলে তবেই আমরা সেই বস্তু দেখতে পাই৷ আমরা যদি এখন সূর্যের দিকে  তাকায়৷ সেটা আসলে এখনের সূর্য না৷  সেটা প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগের সূর্য।  কারন সূর্য থেকে আলো আসতে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড লাগে সূর্য আর পৃথিবীর দূরত্বের উপর ভিত্তি করে। তেমনি,  মহাকাশ এতই বিশাল যে তার দূরত্ব সাধারণ মাইল কিলো দিয়ে হিসেব করা যায় না৷ এটা হিসাব করা সম্ভব কেবল আলো দিয়ে।  আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করবে সেটাকে বলা হয় এক আলোকবর্ষ ৷ কোন বস্তু আপনার থেকে এক আলোকবর্ষ দূরে মানে ঐ বস্তু থেকে আলো এসে আপনার চোখে ধরা দিতে ১ বছর লাগবে৷ তার মানে এখন,  এই সময়ে যদি আমরা  ঐ বস্তুকে দেখেন সেটি আসল এক বছর আগের বস্তুকে দেখবো। 

নাসা ১৩০০ কোটি বছর আগের যে ছবি প্রকাশ করেছে, পদার্থবিজ্ঞানের থিওরি অনুযায়ী সেক্ষেত্রে এই ছবি সত্য। মহাকাশের এসব ছবি তো সাধারণ ক্যামরায় তোলা যায় না। শক্তিশালী জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ বছর ধরে আকাশের দিকে তাক করে রাখা হয় আলোর জন্য। আলো এসে ধরা দিলে সেটাকে প্রসেস করে ছবি বের করা যায়। এখন ১৩০০ কোটি বছর আগের আলো টেলিস্কোপে এসে পড়েছে বলে ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ পদার্থ বিজ্ঞান৷ ঠিক এই প্রক্রিয়ায় এত আদিম ছবি তুলতে পেরেছেন এই টেলিস্কোপ এবং পৃথিবীতে প্রেরণের ফলে সেই ছবি আমরা দেখতে পাচ্ছি। অর্থাৎ, ১৩০০ কোটি বছর আগের আলো, এতগুলো বছর ধরে মহাকাশে পথ অতিক্রম করে এইটুকু এসেছে, যা টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে। যা আমরা এখন দেখছি তা মূলত আলোর গতি হয়ে এসেছে ১৩০০ কোটি বছর ধরে যা প্রায় পৃথিবী জন্মের আগের মহাকাশ এর চিত্র। এর মানে কিছুটা দাঁড়ায় এমন যে, পৃথিবী সৃষ্টির আগের এই গ্যালাক্সির ছবি আসতে ১৩০০ কোটি সময় লেগেছে সেসব গ্যালাক্সি বর্তমান অবস্থার ছবি পৌঁছাতে ঠিক একই সময়কাল লাগবে। 


 
কী আছে প্রেরিত ছবিতে:
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ক্ষেত্রে প্রেরিত ছবির প্রথম ছবিটিতে দেখা যায়  ‘মাত্র’ ২৯ কোটি আলোকবর্ষ দূরের পাঁচটি গ্যালাক্সি। ব্রহ্মাণ্ডে এমন আরো কত কত গ্যালাক্সি আছে তা অগণিত। হাজার হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরেও আছে এমন গ্যালাক্সি। দ্বিতীয় ছবিটিতে দেখা যায় দক্ষিণ গোলার্ধের একচিলতে আকাশের ছবি।  জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যার ছবি পাঠিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গ্যালাক্সি।

বিগত উদ্যোগ:
এর আগে মহাকাশে পর্যবেক্ষণ এবং ছবি তোলার জন্য হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা মূল ইংরেজিতে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ (ইংরেজি: Hubble Space Telescope, সংক্ষেপে HST), প্রেরণ করা হয়েছিল৷ মহাকাশে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের আয়ত্তাধীন ভাসমান পৃথিবীর প্রথম এবং একমাত্র টেলিস্কোপ ছিল এটি যা ২০১২ সালে প্রেরণ করা হয়। যা ওই সময়ের জন্য (২০১২) সবচেয়ে দূরাবধি দেখার জন্য মানুষের তৈরি শ্রেষ্ঠ দূরবীক্ষণ যন্ত্র। কিন্তু আলোর গতি এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী সঠিকভাবে এর চিত্র স্পষ্ট পৌঁছানো কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। 

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ উৎক্ষেপনের ধারণা এবং উদ্দেশ্য:  
ওয়েবের মূল দুইটি বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য হল ছায়াপথের জন্ম ও বিবর্তন এবং নক্ষত্র ও গ্রহসমূহের সৃষ্টি সংক্রান্ত গবেষণা করার লক্ষযে এটি প্রেরণ করা হয়। এটি জ্যোতির্বিজ্ঞান ও বিশ্বতত্ত্বের সমগ্র ক্ষেত্রজুড়ে বহু বিভিন্ন ধরনের গবেষণার দ্বার উন্মোচন করা হয়েছিল। এটির সাহায্যে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে মহাবিশ্বে বিরাজমান বস্তু ও সংঘটিত ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এই আশা থেকেই এই উদ্যোগ। যেমন এটির দ্বারা ধারণকৃত অবলোহিত বিকিরণ চিত্রণের মাধ্যমে আজ থেকে ১৩৫০ কোটি বছরেরও আগে (মহাবিস্ফোরণের প্রায় ১০ থেকে ২০ কোটি বছর পরে) মহাবিশ্বের প্রথম ছায়াপথ ও আদ্যনক্ষত্রগুলি কীভাবে রূপলাভ করেছিল, তা জানা যাবে। এছাড়া মানুষের বসবাসযোগ্য সম্ভাব্য বহির্গ্রহগুলির আবহমণ্ডলের বিস্তারিত খুঁটিনাটি চরিত্রায়নও সম্ভব হবে। উপরন্তু, এটি সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহ ও খ-বস্তুগুলির অনেক বেশী খুঁটিনাটি দেখতে সক্ষম হবে সেই ধারণা থেকে এই টেলিস্কোপকে রকেটের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। 

জেমস টেলিস্কোপ প্রেরণে অন্যান্য গবেষণা সংস্থা সমূহের ভূমিকা: 
১৯৯০-এর দশকে মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল এই টেলিস্কোপের। তখনই খরচ ধরা হয়েছিল ১০০ কোটি ডলার। ২০২১ সালে যখন এই টেলিস্কোপ মহাকাশে পাড়ি দেয়, তখন খরচ দাঁড়ায় ১০০০ কোটি ডলার। ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইএসএ) এবং কানাডার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (সিএসএ) নাসা-র দিকে আর্থিক সাহায্যের হাত না-বাড়ালে এই টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠানো যেত না।

জেমস টেলিস্কোপ প্রোজেক্টে বাঙালী বিজ্ঞানি লামীয়া:
নাসার সেই টেলিস্কোপ দলের একজন গর্বিত সদস্য বাংলাদেশি বিজ্ঞানী লামীয়া। লামীয়ার শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে  ঢাকার শান্তিনগরে। তিনি উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সাবেক এ শিক্ষার্থী ‘এ’ এবং 'ও' লেভেল পাশ করে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডানলপ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যানঅ্যাস্ট্রোফিজিকসে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করেন। গত মঙ্গলবার,  তিনি তাঁর নিজস্ব ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই টেলিস্কোপের ব্যবস্থাপনায় কাজ করার কথা জানান বিজ্ঞানী লামীয়া। 

অনেক বিজ্ঞানীদের মতে, এই টেলিস্কোপ বর্তমান সময়ে আগের তৈরি বা প্রেরিত যেকোনো টেলিস্কোপ থেকে বেশি কার্যকারি। বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্যই মূলত এটি সম্ভব হচ্ছে। যদি আগের সময়ের সাথে তুলনা করা হয়, তাহলে বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র যেসকল ছবি সংগ্রহ করেছে তার থেকে জেমস টেলিস্কোপের প্রেরণকৃত ছবির নির্ভুল হওয়ার হার বেশি এবং পরবর্তীতে আরো অনেক বিষ্ময়কর ছবি দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনাও সেক্ষেত্রে প্রবল। ওয়েব টেলিস্কোপের উন্নত প্রযুক্তি মহাজাগতিক ইতিহাসের প্রতিটি ধাপ অন্বেষণ করবে।


জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ   জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ   জেমস ওয়েব   টেলিস্কোপ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দলের সদস্য বাংলাদেশি বিজ্ঞানী লামীয়া

প্রকাশ: ১১:৩০ এএম, ১৪ জুলাই, ২০২২


Thumbnail জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দলের সদস্য বাংলাদেশি বিজ্ঞানী লামীয়া

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লামীয়া আশরাফ মওলা। পেশায় একজন অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট।

পৃথিবীর জন্মেরও আগের মহাশূন্যের হাজার হাজার ছায়াপথের ছবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এ ছবি তুলেছে যে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি), নাসার সেই টেলিস্কোপ দলের একজন গর্বিত সদস্য বাংলাদেশি লামীয়া।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে ধারণকৃত মহাবিশ্বের সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও রঙিন ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি) প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার জ্যোতির্বিদ কাজ করছেন। লামীয়া তাদের মধ্যে একজন।

এক হাজার ৩০০ কোটি বছর আগে বহুদূরের গ্যালাক্সিগুলো দেখতে যেমন ছিল, সেই ছবি আমাদের মহাবিশ্বের সূচনালগ্ন সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দেবে বলে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ছবিটি প্রকাশ করেন। তিনি এই ঘটনাকে একটি 'ঐতিহাসিক' মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি আমাদের মহাজাগতিক ইতিহাসে একটি নতুন জানালা খুলে দিয়েছে।

মঙ্গলবার লামীয়া তার ফেসবুক পেজে নাসা প্রকাশিত প্রথম ছবি ও কয়েকজন সহকর্মীসহ তার একটি ছবি পোস্ট করেন।

লামীয়া জেডব্লিউএসটির কানাডিয়ান দলের সঙ্গে ২০২০ সাল থেকে কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, লামীয়া ঢাকার শান্তিনগরে বেড়ে উঠেছেন। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সাবেক এ শিক্ষার্থী ‘এ’ লেভেল পাশ করে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডানলপ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করেন।

নাসা   জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ   বাংলাদেশি   বিজ্ঞানী   লামীয়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড সাইন্স

বিশালাকার একটি ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রকাশ: ০৩:০৯ পিএম, ২৫ জুন, ২০২২


Thumbnail বিশালাকার একটি ব্ল্যাক হোলের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

মহাকাশের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ব্ল্যাক হোলটি আবিষ্কার করে ফেললেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সেই নতুন ব্ল্যাক হোলটি এত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে যে প্রতি সেকেন্ডে সেটি একটি পৃথিবীকে গ্রাস করার সমান। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি'র জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরটি আবিষ্কার করেছেন। 

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই ব্ল্যাক হোলকে একটি মহাকাশীয় বস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি থেকে আসা সমস্ত আলোর চেয়ে ৭ হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল করে। স্কাইম্যাপার সাউদার্ন সার্ভে (এসএমএসএস) থেকে সিম্বিওটিক বাইনারি নক্ষত্রের অনুসন্ধানের সময় ব্ল্যাক হোলটি অপটিক্যাল রঙের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল এবং ফলাফলগুলি তখন থেকে আরএক্সিভ ডেটাবেসে প্রকাশিত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রকাশনায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে গবেষণাটি।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি'র প্রধান গবেষক ডক্টর ক্রিস্টোফার ওঙ্কেন একটি বিবৃতিতে দাবি করেছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা 50 বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জাতীয় বস্তুর সন্ধান করছেন। তারা হাজার হাজার বস্তু খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু এই আশ্চর্যজনক ভাবে উজ্জ্বল বস্তুটি তাঁদের নজরে আসেনি।
অনুমান করা হচ্ছে যে, বিশাল ব্ল্যাক হোল দু'টি বড় গ্যালাক্সির একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছে। উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রসহ নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় ব্ল্যাক হোল তৈরি হয়, যার কারণে তারার ভর একটি খুব ছোট জায়গায় চাপা পড়ে যায়। পাশাপাশি মৃত তারার আলোসহ সবকিছু আটকেও দেয়। এটিই ব্ল্যাক হোলগুলিকে অদৃশ্য করে তোলে, যা তাদের চারপাশের স্থানের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া আলো দ্বারা সনাক্ত করা যায়।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি'র পিএইচডি গবেষক স্যামুয়েল লাইয়ের মতে, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দ্বারা চিহ্নিত নতুন ব্ল্যাক হোলটির চাক্ষুষ মাত্রা ১৪.৫। এটি আমাদের নিজস্ব ছায়াপথের ব্ল্যাক হোলের চেয়ে ৫০০ গুণ বড়। ব্ল্যাক হোলটি এত বড় যে, আমাদের সৌরজগতের সকল গ্রহের কক্ষপথগুলি ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজনের ভিতরে ঢুকে যাবে। এটি আসলে একটি ব্ল্যাক হোল বরাবর সীমানা যার মধ্য দিয়ে কিছুই পালাতে পারে না।

সূত্র- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

বিশালাকার   ব্ল্যাক হোল   সন্ধান   বিজ্ঞানীরা  


মন্তব্য করুন