ইনসাইড টক

‘নারায়ণগঞ্জে আমাদের একজন গেছে মেয়র হইতে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

বিএনপির সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেছেন, আপনারা বলছেন ৫৬১ জন পদত্যাগ করেছে। এটি তো বলার জন্য হলে বলা-ই যায়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখেন ৫৬১ জন আছে কিনা। এটি কিন্তু আমার কাছে সন্দেহের ব্যাপার । সাংবাদিকরা খুব বড় বড় করে লেখে ৫৬১ জনের পদত্যাগ। কিন্তু আসলেই ৫০১ জন লোক পদত্যাগ করছে কিনা, সেই ক্রস চেকটি করবে না। সেটির খবর কেউ নেবে না। আমি মনে করি আমাদের দলের এভাবেই চলা উচিত। আমার নেতা নেত্রীরা আমার কথা তখন শুনেন নাই।  

বিএনপিতে কর্মীদের গণপদত্যাগ, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

মেজর আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপি একটি বিশাল দল। এটি অনেকটা সমুদ্রের মতো। এখানে যেমন স্বচ্ছ পানি আছে। তেমনি নর্দমার পানিও আছে। এখন নদীতে যখন স্রোত থাকে তখন নর্দমার পানি কোনো কিছুতেই আটকে থাকে না। কিন্তু জলাবদ্ধ স্থানে যখন নর্দমার পানি গড়ায়, তখন কিন্তু নর্দমার পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। বিএনপি একটি বেগবান পার্টি। এখন আপনি যদি বিচ্ছিন্নভাবে দেখেন, তাহলে মনে হবে বিএনপি নর্দমার পানির মতো দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। গন্ধে এলাকা দূষিত হওয়ার উপক্রম। কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে দেখলে আপনার অবস্থান পরিবর্তন হতে বাধ্য। একটি দলে পরিবর্তন তো আসবেই। দলে নতুনের আগমন, পুরাতনের চলে যাওয়া, দলীয় শৃঙ্খলার জন্য বহি:ষ্কার করা, এটি যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য একটি চলমান প্রক্রিয়া। 

তিনি বলেন, যখন কাউকে দলীয় কোনো পদ দেওয়া হয় না, তখনই তিনি ‍বুদ্ধিমান, বিশাল জনপ্রিয় নেতা হয়ে যান। যে ব্যক্তিটি অনেক বেশি বুদ্ধিমান, অনেক বেশি জনপ্রিয়, বহি:ষ্কার করলে তাকে কেন সংবাদ সম্মেলন করতে হয়? তারা তো আমার মতো বোকা না। তারা একটি দলে থাকবে, কাজ করবে। কিন্তু ভুল করলে, ভুল বললে তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না? আমরা যখন কোনো কিছু বলবো বা বক্তৃতা করবো, আমাদের তো কাণ্ডজ্ঞান ঠিক রেখে বলতে হবে। আমরা কথায় কথায় বলি, জীবন দিয়ে হলেও এই কাজটি করবো। পরে জীবন গেলে কান্নাকাটি করবে। আমার তো বলার সময়ই বুঝা উচিত এটির ফলাফল আমি হজম করতে পারবো না। আর বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলের জন্য ৫৬১ জন কি বড় সংখ্যা?

তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। বিএনপি তার আপন গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে। এখন আমাদের দরকার সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ঝাঁপ দেওয়া। কিন্তু আমরা পারছি না। এটি আমাদের ব্যর্থতা। এই যে নারায়ণগঞ্জে আমাদের একজন গেছে মেয়র হইতে। ভাবখানা এমন যেন উনি গেলেই উনাকে মেয়র বানায়ে দেবে। মেয়র হওয়ার জন্য যেই শক্তিটা দেখাচ্ছে, যেই শক্তির কথা বলছে, এই শক্তির কিছুটা যদি বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে দেখাতো, আমার মনে হয়, বেগম জিয়ার মুক্তিটা আরও অনেক আগেই ত্বরান্বিত হতো। সারা বাংলাদেশে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হতে বিএনপির অনেকে দাঁড়িয়েছে। আমার এলাকায় বিএনপির দুই জন অর্থ, সময়, কর্মী নিয়োগ করে এবং কর্মী-বাহিনী নিয়ে ঝগড়া-মারামারি করেছে চেয়ারম্যান হতে। তাদের মারামারির কারণে এলাকাবাসী ঘরছাড়া। কিন্তু তাদেরকে তো খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাস্তায় দেখি না।

বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ইসি গঠনে অতীতে যা হয়েছে, এবারও তাই হবে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সরকার অতীতে যা করেছে, এখন আইনের মোড়কে সব জায়েজ করে নিচ্ছে। তখন সংসদে পাস করে নাই, এখন পাস করে নিচ্ছে। ফলে অতীতে যা হয়েছে, এবারও তাই হবে। সরকার নিজের অনুগতদের অতীতে যেমন নিয়োগ দিয়েছে, এখনও তাই করবে। 

নির্বাচন কমিশন আইন, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, শাবিপ্রবিতে চলমান আন্দোলনসহসহ বিভিন্ন বিষয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশন আইনের নামে যা হতে চলেছে, তাতে কোনো ধরণের স্বচ্ছতা নেই। স্বচ্ছ পদ্ধতিতে যদি নিয়োগ দেওয়া হতো, তাহলে নূরুল হুদা কিংবা রকিব উদ্দিনরা নিয়োগ পেতো না। ওনারা নির্বাচন কমিশনে এসে সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন। নানাবিধ দুর্নীতির কারণে ওনাদের বিরুদ্ধে অতীতে অনেক প্রশ্ন ‍উঠতো। ফলে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

ইসি গঠন আইন নিয়ে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হবে কিনা, জানতে চাইলে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশে আন্দোলনও হবে না, রাজনীতির মাঠও উত্তপ্ত হবে না। আন্দোলনের কলকাঠি নাড়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ তো বাংলাদেশের কারও কাছে অজানা নয়। তাদের পক্ষপাতদুষ্টতা বাংলাদেশের রাজনীতিকে অত্যন্ত ভয়ানকভাবে প্রভাবিত করেছে। 

শাবিপ্রবির চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি সম্বন্ধে সরাসরি খোঁজ-খবর নিতে পারিনি কিন্তু বিষয়টি সমাধান হওয়া দরকার। আমরা অনুগতদেরকে সবসময় ভিসি বানাই। তাদেরকে ফায়দা হিসেবেই এসকল পদে নিয়োগ করি। ফায়দার ভিত্তিতে নিয়োগের কারণে আমরা সম্মানিত স্থানে সম্মানিত ব্যক্তিদের পাই না। ভিসির যদি সম্মান থাক তো, তাহলে তো অনেক আগেই সড়ে যেতো। ছাত্রছাত্রীরা যখন চায় না, তখন একজন ভিসি স্বপদে বহাল থাকে কিভাবে? কিন্তু ভিসি পদ মানেই তো এখন ফায়দা, সুযোগ-সুবিধা। এটার অবসান হওয়া দরকার। শিক্ষার্থীরা অনশনে আছেন, তাদের অনশন ভাঙ্গানো জরুরি।

ইসি গঠন আইন   সংসদ   শাবিপ্রবি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ভিসি থাকাকালীন ১৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলাম, কিন্তু পুলিশ ডাকিনি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, শাহজালালে যে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, সেটি তো কারও কাম্য নয়। আমি যেটা খবর নিয়ে শুনেছি ও মিডিয়াতে দেখে বুঝেছি তা হলো ছোট একটি বিষয় দিয়ে ঘটনাটির শুরু। একটি ছাত্রী হলে সমস্যা হয়েছে। প্রভোস্ট তাদের সাথে ওই সময় কথা বলেনি এবং শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে অসদাচরণ করেছে। কিন্তু একজন প্রভোস্ট একটি হলের শুধু প্রাধ্যক্ষই নন, অভিভাবকও বটে। সেটা ছাত্রী হল হোক আর ছাত্র হল হোক। ছাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভোস্ট প্রায়শই তাদের সাথে অসদাচরণ করেন।

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন, শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক, ৩৪ জন ভিসির একযোগে পদত্যাগের হুমকিসহ নানা বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আমি মনে করি, শিক্ষকতা পেশা অন্যসব পেশার মতো নয়। শিক্ষকতা পেশায় আসতে হলে অনেক জিনিস সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন হতে হয়। পাশাপাশি সংবেদনশীল ও সহনশীল হতে হয়। কারণ ছাত্ররা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে, বিভিন্ন পরিবেশ, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসে। ফলে সবার আচার আচরণ এক হবে, তা তো না। সেটা মেনে নিয়েই আমাদেরকে শিক্ষক হতে হবে, প্রাধ্যাক্ষ হতে হবে, ডীন হতে হবে, ভিসি হতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অনেক সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকদের মধ্যে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। 

তিনি বলেন, যারা গতকাল ছাত্র ছিল, তারাই আজকে শিক্ষক হবে, প্রশাসনিক দায়িত্ব পাবে। এটি সাধারণ নিয়ম। কিন্তু কিছুদিন আগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে যুবতী মহিলা শিক্ষক ছাত্রদের চুল কেটে দিচ্ছিল। এটা আমার কাছে একেবারেই শুধু অপ্রত্যাশিত না,  অবাক করা বিষয়ও ছিল। একজন শিক্ষক কেন ছাত্রদের চুল কেটে দিবে? উনি হয়তো ভালোভাবে সর্বোচ্চ বলতে পারতো একটু ভদ্রভাবে চুল কেটে আসো। এটাতো ওই ভদ্রমহিলাকে কেউ শিখিয়ে দেবে না। এটাতো ওনার নিজেরই জানার কথা। ছাত্ররা তো বাচ্চা না, ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এখন সিলেটে যেটা হয়েছে আমি মনে করি, শুরুতেই এটি শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। অভিযোগের আঙ্গুল প্রাধ্যক্ষ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা দরকার ছিল। ছাত্রদের অভিযোগ আমলে নিয়ে সেটি তদন্ত করে যেভাবেই হোক, এটি সুরাহা করা উচিত ছিল। কিন্তু আমি মনে করি পরবর্তীকালে পুলিশের অতিমাত্রায় উৎসাহী হওয়া ও তাদের হস্তক্ষেপ জিনিসটাকে ঘোলাটে করেছে। 

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের ছাত্ররা অসন্তোষ হতে পারে। তারা ভিসির বাসভবন ঘেরাও করতে পারে। আমাদের দেশে এটা অতীতেও ঘটেছে। এমনকি আমি নিজেও ভিসি থাকাকালীন একবার ১৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলাম। কই, আমি তো পুলিশ ডাকিনি। আমার ৪৯ বছর শিক্ষকতা চলছে। আমি জীবনে এগুলো অনেক দেখেছি। কিন্তু সিলেটে যা হলো, পুলিশ জল কামান, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার, শটগান ব্যবহার করেছে। এগুলো কেন ব্যবহার করতে হবে? শিক্ষার্থীরা কি বাইরের কেউ ছিল? পুলিশের এ আচরণ একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। যদিও উপাচার্য বলেছে উনি পুলিশ ডাকেননি। তাহলে পুলিশ ডাকলো কে? পুলিশের এ ধরণের আচরণের জন্য আমি বলবো পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে গেছে।

আবদুল মান্নান বলেন, এখন প্রাধ্যক্ষ বা প্রভোস্ট পদত্যাগ করেছেন। ছাত্ররা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছে। কিন্তু আমি মনে করি, উপাচার্যের পদত্যাগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর আগেও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও হয়েছে। ভিসির বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েই উপাচার্য বিরোধী প্রতিবাদ, সভা-সমাবেশ হয়েছে। এমনকি আট-দশজন উপাচার্য বিভিন্ন সময় পদত্যাগও করেছেন। কিন্তু তাতে কি ওইসব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমস্যা সমাধান হয়েছে? আজকে একজন পদত্যাগ করলে কালকে আরেকজন আসবে। উনি কি নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারবেন এসব হবে না। আমি মনে করি আমাদের আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা উচিত। অন্যথায় এ ধরণের আন্দোলনে তৃতীয়পক্ষ ঢুকে যেতে পারে।   

শিক্ষামন্ত্রীর সাথে শিক্ষার্থীদের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন শিক্ষামন্ত্রী যখন ছাত্রদের সাথে বৈঠকে বসতে চায়, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে, তখন আমার মনে হয় সৌজন্যতাবোধ থেকে হলেও শিক্ষার্থীদের তার কথা শুনা ও তার সাথে সমস্যা নিয়ে কথা উচিত। 

৩৪ জন ভিসির একযুগে পদত্যাগের হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি খবরে দেখেছি ৩৪জন ভিসি একযুগে পদত্যাগের কথা বলেছেন। আসলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরণের ঘটনা ঘটবেই। ভারতে এধরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি আমার জানা মতে ঘটেনি। যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই সহজ ও শ্রেয়। যদি যুদ্ধের ময়দানে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা যায়, এখানে যাবে না কেন?

শাবিপ্রবি   শিক্ষার্থীদের অনশন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘অথর্ব সুশীল সমাজ বললেই কি, আর না বললেই কি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২২ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ইসি গঠনে আইনের বিষয়ে বিএনপির সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেছেন, ইসি গঠনের আইনটি প্রকাশ না করার কারণে পুরোপরি জানি না। এখন আইন দেখে কথা বলতে হবে। আইনে তো অবশ্যই এই কথা বলবে না যে, বিরোধী দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবে। আইনে বলা হবে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেবে। আইন না হলেও এটিই হতো। তাহলে আইন করে লাভ কি?

ইসি গঠনে আইন, আগামী জাতীয় নির্বাচন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, রাষ্ট্রপতি যেটা ভালো মনে করবে, সেটাই হবে। আর রাষ্ট্রপতির যেকোনো কাজ করতে হলো প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ লাগবে। প্রধানমন্ত্রী যদি বলে মেজর আখতারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানাতে হবে, তাহলে রাষ্ট্রপতি মেজর আখতারকেই নিয়োগ দেবে। সংবিধান অনুযায়ী এটাই হওয়ার কথা। এর বাইরে রাষ্ট্রপতির ইসি গঠনের কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী যাকে ইসি বানাবে, সেই ইসি হবে। এখানে আইন করলেই কি, আর বেআইন করলেই কি!

আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুশীল সমাজের অনেকেই বলে ২০১৪ সাল বা ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচন হবে না। কিন্তু তাদের কথায় তো কিছু হবে না। বাংলাদেশ সরকার কি বলে, সেটিই হলো ভাষ্য। এর বাইরে সুশীল বলেন, কুশীল বলেন, তাদের তো ক্ষমতা নাই। ২০১৪ বা ২০১৮ সালের নির্বাচনের সুষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন তো কিছু বলেনি। তারা বলছে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। সরকারও বলে নাই। আমি আপনে মনের দু:খে বলে তো কোনো লাভ নাই। যা হওয়ার তাই হবে। অর্থহীন-অথর্ব সুশীল সমাজ বললেই কি, আর না বললেই কি?

তিনি আরও বলেন, একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থেকে জনগণের করের পয়সায় বেতন-ভাতা নিয়ে পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়ে আবারও পাঁচ বছর কাটাচ্ছে। আর তারা এতদিনে এসেছে ভোট সুষ্ঠু হয়নি বলতে। এই সমস্ত সুশীল সমাজের জন্যই তো আজকে সমাজ, রাষ্ট্র কাজ করতে পারছে না। কারণ এইসব সুশীলরা ডাকাতকে মারলে বলে বিচারবহির্ভূত হত্যা। কিন্তু এই ডাকাত যে আমার সব কিছু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, আমার স্বাধীনতা হরণ করছে, তা নিয়ে কিছু বলবে না। এই হলো সুশীলের চরিত্র।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, দুর্নীতির দায়ে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমার সাত কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞা করতে পারে, আওয়ামী লীগ সরকারকে নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখাতে পারে, তাহলে তো বিএনপির এ টু জেড, সবাইকেই নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। বিএনপির নেতারা তো ইতোমধ্যে দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কি বিএনপির বেলায় মাফ করে দেবে? এটা তো সম্ভব না। ওরা ওদের স্বার্থে কাজ করবে। আমাদের স্বার্থটা আমাদেরই দেখতে হবে।

ইসি গঠন   রাষ্ট্রপতি   মার্কিন নিষেধাজ্ঞা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বাইডেনও তা’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২১ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বেশকিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা বা এনজিও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে। এ ধরণের ১২টি প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের র‌্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব) সদ্যসদের নেওয়ার আগে তারা র‌্যাবে থাকাকালীন সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে কিনা, তা তদন্ত করতে অনুরোধ জানিয়েছে। পুরো চিঠি যদিও আমি পড়িনি তবে এখানে বলা দরকার, র‌্যাব প্রতিষ্ঠান হিসেবে শান্তিরক্ষা মিশনে যায় না, র‌্যাবের কিছু সদস্য যেতে পারে। 

মানবাধিকার ইস্যুতে ১২ এনজিওর জাতিসংঘে ঠিঠি, বাইডেন প্রশাসনের এক বছর পার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক অলিউল ইসলাম।

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এনজিওগুলো বলছে যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যদি র‌্যাবের সদস্য হয়ে থাকে, তারা যেন শান্তিরক্ষা মিশনে যেতে না পারে। সেটা এমনিতেও যেতে পারে না। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাঠানোর আগে এমনিতেও তাদের অতীত রেকর্ড বিশেষ করে মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলো দেখা হয়। ফলে যেসমস্ত অফিসারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ থাকে, তারা এমনিতেও যেতে পারবে না। তাদের বিষয়ে এটি এমনিতেই প্রযোজ্য। বিষয়টি কিন্তু সোজা। খবরটি শুনলে মনেহয় সাংঘাতিক ব্যাপার, আসলে কিছু না।

তিনি বলেন, এনজিওগুলো এটা করেছে হয়তো র‌্যাব যেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয় এবং এটিকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনে। এটি একটি ব্যাখ্যা হতে পারে। আরেকটি হতে পারে র‌্যাবের ওপর প্রেশার। সেটাতো সরকারও এখন বলছে যে, এই ব্যাপারে সরকারও এখন সচেতন। সে ব্যাপারে যদি কিছু করতে হয়, তারা সেটা করবে। কিন্তু কতখানি কাজ করতে পারবে তা নিয়ে শঙ্কা আছে। মনে রাখতে হবে, র‌্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে, সেটি এমন একটি বিষয়, যেটি নিয়ে র‌্যাবের একটু দুর্বলতা তো আছেই, এটা অস্বীকার করা তো চলবে না। র‌্যাবের বিরুদ্ধে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পত্রপত্রিকায় ওঠেছে। সেগুলো বন্ধ করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সুতরাং এগুলো নিয়েই এনজিওগুলো এটা করছে। বিশেষ করে আমাদের ঘরের ভেতরের কিছু এনজিও আছে, তারা এ নিয়ে বেশ হইচই করছে। সেই হিসেবে তারা সবাই মিলে জাতিসংঘকে একটি চিঠি দিয়েছে। এখন জাতিসংঘ কি পদক্ষেপ নিবে, সেটি আমরা এখনো জানি না। তবে এমনিতেও র‌্যাব প্রতিষ্ঠান হিসেবে কখনো শান্তিরক্ষা মিশনে যায় না, তারা বাংলাদেশের ভিতরে কাজ করে।

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, একটি বিষয় হলো লবিস্ট নিয়োগ অবৈধ কিছু নয়। তবে যদি বিরোধী দল লবিস্ট নিয়োগ করে থাকে, তাহলে কিছু প্রশ্ন তো অটোমেটিক চলে আসে। বিশেষ করে বিরোধী দল টাকাটি কিভাবে লবিস্টদের দিলো? ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার কি বাংলাদেশ থেকে দিলো? যদি দিয়ে থাকে, তাহলে সেটা কি নিয়ম মেনে দেওয়া হয়েছিল? আমরা তো জানি বিদেশে টাকা পাঠানোর ওই ধরণের বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক এর মাধ্যমে পাঠাতে হয়। এখন সরকার বলছে যে, ডকুমেন্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। এখন এটা দেখা দরকার যে নিয়ম মেনে দেওয়া হয়েছিল কিনা। আরেকটি হলো, যদি বাংলাদেশ থেকে না গিয়ে থাকে, তাহলে কোন দেশ থেকে গেল? এটিও বের করা উচিত। 

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে বলা একটি বিষয়। এখন যদি কোনো দল দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাহিরের মানুষকে নাক গলাতে আমন্ত্রণ জানায়, আরেকটি বিষয়। সেটি নিয়ে সমালোচনা তো হবেই।

বাইডেন প্রশাসনের এক বছর নিয়ে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বাইডেনও তা। ডোনাল্ড ট্রাম্প যা চালু করেছিল,সেটাই সে চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প যেমন চীন বিরোধীনীতি গ্রহণ করেছিল, বাইডেনও তাই অনুসরণ করে যাচ্ছে। মানুষ ভেবেছিল, বাইডেন হয়তো করোনা পরিস্থিতি সামাল দিবে। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি এখন পর্যন্ত এমন কিছু করতে পারেননি যেটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ স্বস্তি নিবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র   বাংলাদেশ   বাইডেন প্রশাসন   র‌্যাব  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মিউট্যান্ট ভাইরাস ওমিক্রন ভয়ঙ্কর হতে তো সময় লাগবে না’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২০ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, করোনার সংক্রমণ সামনে আরও বাড়বে। শুধু আমাদের দেশেই নয়, পৃথিবীর অনেক দেশেই একই অবস্থা। এর মূল কারণ, স্বাস্থ্যবিধি না মানা। এছাড়া এখনও অনেকে টিকা নেয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা, হাট-বাজার খোলা ফলে কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। নির্বাচন হলো, সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে গিয়েছে।

করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় বিভিন্ন মতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে এটাই সত্যি। যদিও শোনা যাচ্ছে এটা এত শক্তিশালী না, কিন্তু বেড়ে তো যাচ্ছেই। এটা তো মিউট্যান্ট ভাইরাস, চরিত্র তো বদলায়। হঠাৎ করে ভয়ঙ্কর হতে তো সময় লাগবে না এবং অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতেও কিন্তু সময় লাগবে না। এর থেকে বাঁচার দুইটিই উপায়, স্বাস্থ্যবিধি মানা ও টিকা দেওয়া। যারা টিকা নেয়নি তাদের অতি দ্রুত টিকা নিতে হবে। যারা দুই ডোজ নিয়েছেন তাদের বুস্টার ডোজ নিতে হবে। একমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও টিকা নিয়েই আমরা করোনার সংক্রমণের উর্ধগামীতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।

লকডাউন আসতে পারে কিনা এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লকডাউন কোনো সমাধান না, লকডাউন দিয়ে লাভ হয় না। আমার মনে হয় না, লকডাউন দেয়ার দরকার আছে। লকডাউন না দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানানোর দিকে নজর দিতে। যারা মানে না তাদেরকে মানাতে বাধ্য করতে হবে। লকডাউন দিতে হলেও সারা দেশব্যাপী দেয়া ঠিক হবে না, জোন/এলাকাভিত্তিক দেয়া যেতে পারে। তবে লকডাউন না দেয়াই ভালো।‘মিউট্যান্ট ভাইরাস ওমিক্রন ভয়ঙ্কর হতে তো সময় লাগবে না’

করোনা   ওমিক্রন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন