ইনসাইড টক

‘আইনের এ.বি.সি কেউ বুঝে না, আমিও বুঝাতে বুঝাতে ক্লান্ত’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail ‘আইনের এ.বি.সি কেউ বুঝে না, আমিও বুঝাতে বুঝাতে ক্লান্ত’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন আইনটি নিয়ে এখন অনেক সমালোচনা হচ্ছে। সব আইনের প্রথম এক নম্বর ধারা থাকে ‘শিরোনাম’। আমি শেষ মূহুর্তে আইনটির শিরোনাম নিয়ে বলেছিলাম, আইনটির শিরোনাম হোক আগামী পাঁচ বছরে নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন। তাহলে হয়তো একটা জায়গায় সরকার সৎ থাকতো। এটা তো আসলে তাই হয়েছে। আগামী নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন।

নির্বাচন কমিশন গঠন আইন, আগামী জাতীয় সংসদ আইনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন ড. শাহদীন মালিক।

আইনের শিরোনাম ‘আগামী নির্বাচনসমূহে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিতকরণ আইন’ রাখা উচিত মনে করার কারণ এবং আপনার কেনো মনে হয় সার্চ কমিটি কোনো যোগ্য মানুষ খোঁজে বের করতে পারবে না, জানতে চাইলে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আইনের এ বি সি ডি কেউ বুঝে না। আমিও ক্লান্ত হয়ে গেছি আইনের এ.বি.সি বুঝাতে বুঝাতে। আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্যও এরকম একটি আইন আছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে এরকম একটি আইন আছে, তথ্য কমিশন গঠনে এরকম একটি আইন আছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে পদাধিকার বলে কমবেশি হাইকোর্টের বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সদস্যরাই নিয়োগকৃত হয়।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন সাহেব গত রোববার বলেছিলেন যে, উনি প্রথম দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়োগের সার্চ কমিটিতে সদস্য এবং পরবর্তী মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত সার্চ কমিটির সভাপতি ছিলেন। ওনাদের মিটিংয়ে মন্ত্রীপরিষদ থেকে এনভেলাপে কয়েকটি নাম এবং সিভি দিয়ে দেওয়া হয়। উনারা ওই নাম ও সিভিগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। মতিন সাহেব খুবই সিনিয়র লোক। খায়রুল হক সাহেব তাকে ডিঙ্গিয়ে প্রধান বিচারপতি হয়েছিল। উনি গত রোববার একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে এ কথাগুলো বলেছেন।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শাহদীন মালিক বলেন, আইনমন্ত্রী বোধহয় আমাদের তৈরি করা আইনের খসড়াটি পড়েননি। তাই তিনি আইনের ব্যত্যয় ঘটেনি বলেছেন। ২০১১ সালে আমরা যে প্রস্তাবটি দিয়েছিলাম, সেটি ছিলো শামসুল হুদা কমিশনের জন্য। আমাদের দেশের মূল আইনের টেক্সট হলো ৪০ হাজার পৃষ্ঠা। এখন দশ বছর আগে শামসুল হুদা কমিশনকে কি আইন প্রস্তাব করেছিলাম, ওইটা তো আর মুখস্থ করে বসে নাই। আপনারা সাংবাদিকরাও তো চাইলে এটি মিলিয়ে দেখতে পারেন। তাহলেই তো দেখতে পাবেন ব্যত্যয়টা কোথায় আছে।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সকলে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো আইন পাস হয়ে গেছে। এখন তো পরামর্শের কোনো কিছু নাই। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করবে তারা এই আইনকে কিভাবে নিবে। আমরা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আইনের আলাপ-আলোচনা করে সবকিছু দেখে শুনে আইনের খসড়া করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে এই এই আদলে আইনটি হলে ভালো হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় থাকবে। আমরাও জানবো কাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, কেন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই আইনে তো স্বচ্ছতার কোনো জায়গাই রাখা হয়নি। এখন তো আইন-ই পাস হয়ে গেছে। এখন আর কথা বলে লাভ নেই। গতকাল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে বলেছিলাম, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন না বলে এটাকে বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ আইন বললে বোধহয় আরও সৎ হতো।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরণের অনিশ্চয়তা দেখেন কিনা প্রশ্নের উত্তরে ড. শাহদীন মালিক বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে আমার কিছু সাজেশন আছে। এটি আমাদের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতেও ছিল। ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে আমাদের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সংবিধান অনুযায়ী এই সংসদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। অর্থাৎ মার্চ ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীতে বলা হলো যে, বর্তমানে বিদ্যমান সংসদের মেয়াদ এই সংশোধনী পাস হওয়ার দিন থেকে আরও পাঁচ বছর বর্ধিত করা হলো। এটা তো হয়েছে এবং আমাদের এই ঐতিহাসিক উদাহরণ তো রয়েছে। এখন ঝুটঝামেলা না করে সংবিধান সংশোধন করে বলে দিলেই হবে যে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যে সংসদ নির্বাচন হইয়া ছিল, আজকে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর পর থেকে এই সংসদের মেয়াদ আরও ১০ বছর বৃদ্ধি করা হইলো। বিষয়টি এখন ওইদিকেই যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ আইনের একটি জায়গায় বলা আছে, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মেয়াদ পাঁচ বছর। এখন এটাকে পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর সংশোধন করে দিলেই ঝামেলা শেষ হয়ে গেল।

নির্বাচন কমিশন আইন   সংবিধান   রাজনৈতিক দল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘জাফরুল্লাহর জাতীয় সরকারের প্রেসক্রিপশন হলো অরাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আসা’


Thumbnail ‘জাফরুল্লাহর জাতীয় সরকারের প্রেসক্রিপশন হলো অরাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আসা’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ডা. জাফরুল্লাহ জাতীয় সরকারের প্রস্তাবনা কার কথায়, কার উপদেশে, কার নির্দেশে, কার প্রেসক্রিপশনে দিয়েছেন আমি ঠিক বুঝে ওঠতে পারছি না। আমি এইটুকু বলতে পারি যে, জাফরুল্লাহর জাতীয় সরকারের যে প্রেসক্রিপশন এই প্রেসক্রিপশন হলো একটি অরাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে টেনে নিয়ে আসা। সেইসব অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের যারা কোনদিন কোন মানুষের কল্যাণে আসে নাই, মানুষের সেবায় কোনদিন আসে নাই, জনগণের কাজে আসে নাই এবং এরা সবাই জনবিচ্ছিন্ন লোক। আমরা মনে করি জাফরুল্লাহর এই জাতীয় সরকারের যে প্রস্তাব, এটি হলো ২০০৭ সালে যে এক-এগারোর সরকার এসেছিলো, যে সরকার দেশের ক্ষতি করে গিয়েছে, এমন একটি স্বপ্ন নিয়ে সেই ভুতের সরকার কায়েমের জন্য ওপেনিং বোলার হিসেবে তিনি বল করেছেন।

জাতীয় সরকার, বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা, বিএনপির আন্দোলনের হুঙ্কারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে আলাপচারিতায় জাহাঙ্গীর কবির নানক এসব কথা বলেছেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জাফরুল্লাহ সাহেবকে আমি গতকালও প্রশ্ন করেছি যে, এরা কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়, বন্যা, কোথাও আগুন লাগলে এক মগ পানি নিয়ে এগিয়ে আসছে -এই ধরণের কোন দৃষ্টান্ত আছে? এমনকি এত বড় মহামারি করোনা সারা বিশ্বে ছোবল দিলো, বাংলাদেশ তার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হলো। শুধু করোনা মোকাবেলা নয়, সেই সময় শ্রমিকের অভাবে আমাদের ফসল প্রধান খাদ্য ধান নষ্ট হচ্ছিল ক্ষেতে, কঠোর লকডাউন। তখনও তো দেখলাম না যে কোন জমির কাছে দাঁড়িয়ে একগোছা ধান কাটতে অথবা কৃষকের কাছে।

তিনি আরও বলেন, এমনকি তাঁরা লকডাউনের সময় একব্যাগ খাবার নিয়ে কোন মানুষের কাছে দিয়েছে, এই ধরণের দৃষ্টান্ত তাঁরা দেখাতে পারবে না। কিন্তু এই লোকগুলি কি ভাবছে? এরা তথাকথিত সুশীল সমাজ, এদের জনগণের প্রতি কোন দায়-দায়িত্ব নেই। এরা সুযোগ বুঝে ষড়যন্ত্র করে এবং ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখে। এই স্বপ্ন কোনদিন বাস্তবায়িত হবে না বাংলাদেশে।

বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আমি মনে করি যে, সকল চক্রান্তে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে এখন তাঁরা শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে অর্থনৈতিক অঙ্গনে, সমাজে একটি আতঙ্ক ছড়াতে চায়। জনগণের শক্তি দিয়ে আমরা এটাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করবো।

বিএনপির আন্দোলন মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ প্রস্তুত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি যত হুঙ্কারই দেয় না কেন এসব হুঙ্কার মোকাবিলা আওয়ামী লীগ দলগতভাবে করে আসছে। কাজেই, তারা যে হুঙ্কারই দেয় না কেন বা যেকোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করুক না কেন, জনগণকে সাথে নিয়ে পূর্বেও আমরা মোকাবিলা করেছি এবং এখনো আমরা মোকাবিলা করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মাত্রাতিরিক্ত সুগার লেভেল থাকলে সেকেন্ডারি ইনফেকশনের সুযোগ থাকে’

প্রকাশ: ০৪:১২ পিএম, ১৬ মে, ২০২২


Thumbnail ‘মাত্রাতিরিক্ত সুগার লেভেল থাকলে সেকেন্ডারি ইনফেকশনের সুযোগ থাকে’

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবীর বুলবুল বলেছেন, ডায়াবেটিস রোগীর দাঁতের চিকিৎসার বেলায় আমরা যে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ইমপ্লান্ট এর কথা বলি, সেটা যারা ডায়াবেটিক রোগী তাদের বেলায় এটা শত ভাগ সফল হয় না। অর্থাৎ সব ক্ষেত্রে এটার ভালো ফল পাওয়া যায় না। আরেকটা বিষয় হলো দাঁত তোলার ক্ষেত্রে, আমরা যখন একটা দাঁত তুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেই তখন যাদের ডায়াবেটিক থাকে তাদের বেলায় ডায়াবেটিক মাত্রা চেক করে নিতে হয়। 

ডায়াবেটিস রোগীর দাঁতের সমস্যা, দাঁতের যত্ন সহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবীর বুলবুল। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবীর বুলবুল এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবীর বুলবুল বলেন, মাত্রাতিরিক্ত সুগার লেভেল থাকলে তখন সেকেন্ডারি ইনফেকশনের সুযোগ থাকে। সেজন্য ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে খুব যত্নবান হতে হয়। আর অন্যান্য ফিলিং বা রুট ক্যানেলের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের মাত্রা যাই থাকুক না কেন সেটা সমস্যা হয় না। আরেকটা বিষয় খুব বেশি কনসার্ন রাখতে হয়, যারা ডায়াবেটিক রোগী তাদের পেরিওডনটাইটিস প্রকোপ বা দাঁতের মাড়ির রোগ এবং দাঁতের সন্নিহিত টিস্যুগুলোর রোগ বেশি হয়ে থাকে। যার ফলে পেরিওডনটাইটিস ডেভেলপ হলে মাড়ি ফুলে যাওয়া, মাড়ি লাল হয়ে যাওয়া, যেকোন টাচে আঙ্গুল লাগলে বা ব্রাশ লাগলে তাতে রক্ত পড়া এই গুলো হলো উপসর্গ এবং আস্তে আস্তে পেরিওডনটাইটিস ডেভেলপ করে এবং পেরিওডনটাইটিস ডেভেলপ করলে মুখে গন্ধ হয়।

তিনি বলেন, আমরা যে প্রতিদিনের পরিচর্যার কথা বলি, নিয়মিত পরিচর্যা, দাঁতের যত্ন, এগুলো যদি সঠিকভাবে না করা হয় তাহলে অল্প বয়সে দাঁত নানা রোগে আক্রান্ত হয়। আমরা যে বলি দিনে দুইবার ব্রাশ করতে হবে। সকালের নাস্তার পরে এবং রাত্রে খাবারের পরে। অত্যন্ত যদি একবার ব্রাশ করে রাতে শোবার আগে। এটা যদি না মানা হয় অথবা নিয়মিত ব্রাশ করা, মাউথ ওয়াশ ব্যবহার না করা তাহলে দাঁতের এবং মাড়ির অন্যান্য রোগ দেখা দেয়। ব্রাশ করার একটা বৈজ্ঞানিক নিয়ম আছে, ব্রাশ করার সময় দুই তিন মিনিট ধরে ব্রাশ করা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'মাঝে মাঝে বৃষ্টি মশার বংশবৃদ্ধি ‍ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে'

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৫ মে, ২০২২


Thumbnail 'মাঝে মাঝে বৃষ্টি মশার বংশবৃদ্ধি ‍ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে'

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, এই যে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে, এটা মশার বংশবৃদ্ধি ‍ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এই বৃষ্টির ফলে ঘরে-বাইরে যেকোনো জায়গায় পানি জমবে। যেকোনো পরিত্যক্ত ক্যান, টায়ার, ডাবের খোসা, চিপসের প্যাকেট এই রকম পরিত্যক্ত যেকোনো জিনিসের মধ্যে অল্প অল্প বৃষ্টির পানি বিক্ষিপ্তভাবে জমে যায়। মাঝে মাঝে যে বৃষ্টি হচ্ছে এটাই বিপজ্জনক। মাঝে কয়েকদিন ভালো এরপর আবার বৃষ্টি এটা বিপজ্জনক। এই যে পানি জমছে এতে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটবে, এই মশাগুলো আবার ঘরে আসবে।

মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে মশা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি, প্রতিকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ঘরেরও যদি এমন জমা পানি কোথাও থাকে যেকোনো খানে যেমন, ফ্রিজের নিচে, এসির নিচে, বারান্দায়, বাথরুমে বালতিতে বা যেকোন জায়গায়। ছাদের ফুলের টব, চতুর পাশে নিমার্ণাধীন বাড়ি, এই মশাগুলো ঘরেই বেশি বংশবৃদ্ধি করে। এইগুলোতে যদি পানি জমে, তাহলে মশার ঝুঁকি বাড়তেই থাকে। সেজন্য মশা নিধন কার্যক্রম ঘরের বাইরে সিটি করপোরেশন করবে আর নিজের ঘর-বাড়ি নিজেকেই পরিষ্কার করতে হবে। সুতরাং জনগণকেও সর্তক থাকতে হবে, প্রশাসনকেও সচেতন থাকতে হবে। নাহলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। যখন ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হবে তখন নয়, সারা বছরই মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে। তাহলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও কম থাকবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর এখন একটা সম্ভাবনা আছে। মশা যেহেতু বাড়ছে, ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়তে পারে। সিটি কর্পোরেশন এখন থেকেই আরও সতর্ক অবস্থায় থাকা উচিৎ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরও যে সেল আছে তাদেরও কার্যক্রম আছে। সিটি কর্পোরেশনের সাথে তাদেরও যোগাযোগ আছে। তাদেরও এই ব্যাপারে এগিয়ে আসা উচিৎ। সম্মিলিতভাবে এই মশা রোধের উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ। তাহলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ ওইভাবে আসার সম্ভাবনা থাকবে না।

মশা   ডেঙ্গু   সংক্রমণ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মানুষ শেখ হাসিনার পক্ষে আছেন’


Thumbnail ‘মানুষ শেখ হাসিনার পক্ষে আছেন’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আমরা তেমন চিন্তিত নই। আমরা জানি বিএনপি আন্দোলনের নামে মানুষকে জিম্মি করে, মানুষ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা করবে। বিএনপি দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করবে। দেশের জনগণ বিএনপির এ অপকর্মের বিরুদ্ধে, বিএনপির এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে। জনগণই তাদেরকে প্রতিরোধ করবে। অতীতেও তারা ২০১৫ সালে অবরোধ করেছিল। জনগণ তাদের সেই অবরোধে সাড়া দেয়নি। খালেদা জিয়া নিজে মাঠে নামতে চেয়েছেন। তবে কাজের মেয়ে ছাড়া তার সাথে কেউ মাঠে নামেনি। বিএনপির আন্দোলনে আওয়ামী লীগ কখনোই বিচলিত হয় না, এ নিয়ে কখনো ভাবে না। আওয়ামী লীগ তার মতো করে দলকে গোছাচ্ছে, দলকে সাজাচ্ছে, জনগণের কাছে যাচ্ছে। জনগণের জন্য আওয়ামী লীগ যা করছে, জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ করেছেন, মানুষের জন্য যা কিছু করেছেন, মানুষ শেখ হাসিনার পক্ষে আছেন।

বিএনপির আন্দোলনের হুমকি, বিভিন্ন কর্মসূচী, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এস এম কামাল হোসেন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

এস এম কামাল হোসেন বলেন, বিএনপি বারবার চেষ্টা করছে তার কর্মীদের ধরে রাখার জন্য, কর্মীদের মাঠে নামার জন্য চেষ্টা করছে, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কর্মীদের মাঠে নামানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কর্মীরা মাঠে নামেনি, জনগণও তাদেরকে সমর্থন দেয়নি। বিএনপি আন্দোলনের নামে মামুনুল হকদের ওপর ভর করে দেশে নাশকতা করার চেষ্টা করছে। এরপর বিএনপি এখন এই রোজার ভিতরও ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সাথে নিউমার্কেটের কর্মচারীদের সংঘর্ষ বাধিয়ে দিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছিল। যার ফলে দুই সাধারণ নিরীহ কর্মচারীর জীবন দিতে হলো বিএনপি'র এই অসহিষ্ণু রাজনীতির কারণে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে, আন্দোলন-সংগ্রাম করতেই পারে। গণতান্ত্রিক দেশ এখানে আন্দোলন-সংগ্রাম করতেই পারে। এতে বাধা নাই কিন্তু আন্দোলনের নামে যদি কেউ রাস্তা অবরোধ করে রাখে, আন্দোলনের নামে যদি কেউ পেট্রল বোমা গান পর্দা দিয়ে ২০১৪ ও ২০১৫ এর মত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে তাহলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা না, সাধারণ মানুষই বিএনপিকে ঘরে তুলে দেবে।

জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রসঙ্গে এস এম কামাল হোসেন বলেন, আমরা চাই যে জাতীয় পার্টি বিকল্প শক্তি হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থান গ্রহণ করুক। এখন জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে এটাতে তাদের আমি অভিনন্দন জানাই। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তন হবে। জাতীয় পার্টির এই ঘোষণাকে আমি অভিনন্দন জানাই।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'ইলেকট্রিক ভেইকেলে চালনা খরচ শতকরা ৯০ ভাগ কমে যাবে'


Thumbnail 'ইলেকট্রিক ভেইকেলে চালনা খরচ শতকরা ৯০ ভাগ কমে যাবে'

ম্যাঙ্গো টেলিসার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উদ্যোক্তা, বাংলাদেশে ইলেকট্রিক গাড়ির স্বপ্নদ্রষ্টা মীর মাসুদ কবির বলেছেন, ইলেকট্রিক ভেইকেলের ইনিশিয়াল পারসেস প্রাইস অন্যান্য গাড়ির তুলনায় বর্তমানে প্রায় অর্ধেক হবে বলে আশা করছি আমরা এবং এটি চালাতে গিয়ে এর খরচ শতকরা ১০ ভাগ হবে। অর্থাৎ শতকরা ৯০ ভাগ কমে যাবে।

বাংলাদেশে ইলেকট্রিক গাড়ির উৎপাদন শুরু, দাম এবং এই গাড়ির খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন মীর মাসুদ কবির। পাঠকদের জন্য মীর মাসুদ কবির এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো.মাহমুদুল হাসান।

মীর মাসুদ কবির বলেন, বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেইকেল একটি পরিবর্তন আনবে বলে আমরা মনে করছি। যদি বাংলাদেশে আমরা ঠিকমত করতে পারি তাহলে আমরা এগুলো উৎপাদনের গ্লোবাল হাব হতে পারি। আমরা আশা করছি এই বছরের শেষের দিকে আমরা প্রোডাকশন শুরু করবো। আমরা মিরসরাই ইকোনমিক জোনের প্লটটা পেয়েছি ২০১৯ সালে। আমাদের সিভিল কনস্ট্রাকশন শেষ। এখন বিল্ডিং এন্ড মেশিনারি বসানোর কাজ হচ্ছে। 

তিনি বলেন, আমরা খুব ভালোমতোই আশা করছি যে, বাংলাদেশের মানুষ এই ইলেকট্রিক ভেইকেল গ্রহণ করবে। এর কারণ দুটি। প্রথম কারণটি হলো ইনিশিয়াল পারসেস প্রাইস অন্যান্য গাড়ির তুলনায় বর্তমানে প্রায় অর্ধেক হবে বলে আশা করছি আমরা এবং এটি চালাতে গিয়ে এর খরচ শতকরা ১০ ভাগ হবে। অর্থাৎ শতকরা ৯০ ভাগ কমে যাবে। এই বেনিফিট আমাদের মত দেশের জন্য অনেক বড় একটি বিষয়। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে একটি গাড়ি মানে কিন্তু দেশের একটি গাছ বাঁচানো এবং দেশের ভবিষ্যৎ বাঁচানো। কারণ এতে কার্বণ ডাই অক্সাইড নাই। ইলেকট্রিক গাড়ির সুবিধা হচ্ছে এই গাড়ির কোনো ইঞ্জিন নাই। ফলে এর পার্স অনেক কম। যার ফলে অনেক বেশি টেকশই এবং মেইনটেনেন্স ও অনেক কম। ফলে খরচটাও অনেক কমে যাবে। আমাদের গাড়ির মডেলগুলো আমরা সেইভাবেই ডেভেলপ করেছি যাতে আমাদের দেশের কনটেক্সট এ ভালো চলে। এটির ফলে বাংলাদেশের মানুষের ব্যবসার খরচ অনেক কমে আসবে।

গাড়ির দামের বিষয়ে মীর মাসুদ কবির বলেন, গাড়ির দাম আমরা আশা করছি ফোর হুইলার গাড়ি হ্যাচব্যাক মূলত ৮ লাখ টাকা থেকে শুরু হবে। ৮ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকার ভেতরে। সেডান গাড়িগুলো ১২ লাখ থেকে ১৬ লাখের ভেতরে, এসইউভি ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখের ভেতরে পাওয়া যাবে। এছাড়াও আমাদের মোটরবাইক থাকবে। এগুলো ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার ভেতরে। 

ইলেকট্রিক ভেইকেল   ভেইকেল   ইলেকট্রিক গাড়ি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন