ইনসাইড টক

‘পাকিস্তানে যেই ক্ষমতায় আসুক, মিলিটারির সমর্থনেই আসবে’


Thumbnail ‘পাকিস্তানে যেই ক্ষমতায় আসুক, মিলিটারির সমর্থনেই আসবে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব পড়বে না। পাকিস্তানের এটাতো নতুন কিছু না। পাকিস্তানের কোন সরকার মেয়াদ শেষ করতে পারে নাই। এখানে একটা ইন্সটিটিউশন মোটামুটি সবসময় আছে, সেটা হলো মিলিটারি। তাই যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন তাঁর সঙ্গে মিলিটারির একটা সমর্থন থাকবেই। শাহবাজ শরীফ বা ইমরান খান, যেই হোক না কেন মিলিটারির একটা সমর্থন থাকবে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং অস্থিরতা, ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড-সুইডেন যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এখন যেটা হবে, এই সঙ্কটে ইমরান খান দ্রুত নির্বাচন চাইবে। কারণ, তাঁরা সুবিধা নিতে চাইবে। বিরোধী দল যারা এখন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সরকার তৈরি করবে তাঁরা চাইবে এটাকে দেরি করতে। কিন্তু তাঁদের নিজেদের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে তখনই যে, কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবে, কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবে এই যে কতগুলো বড় বড় পদ রয়েছে, তখনই তো তাঁদের মধ্যে সমস্যা শুরু হবে। মুসলিম লীগ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), তাঁরা তো ঐতিহাসিক ঝগড়া করে যাচ্ছে। তাঁরা যদি একসাথে সরকার গঠন করে, করতে পারে। কিন্তু তা কদিন টিকবে।

তিনি আরও বলেন, ইমরান খানকে রাজনীতি থেকে বাদ দেয়া ঠিক হবে না এখনও। আমার মনে হয়, এটা আরও সময় লাগবে। তাঁর ফিরে আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। নির্ভর করবে সামনে যে নির্বাচন হবে সেখানে কোয়ালিশন তাঁর দরকার হবে নাকি কোয়ালিশন ছাড়া আসতে পারবে। তাঁর ওপর মূলত দরকার হলো যে, সামরিক বাহিনীর সবুজ সঙ্কেত থাকবে কিনা। এই কতগুলো বিষয়। এটা দক্ষিণ এশিয়ায় বড় ধরণের কোন প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা দেখছিনা।

পাকিস্তানের পটপরিবর্তনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে বলেই মনে করা হয়। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাথে ভারতের সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারতের ভূমিকা কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নে অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এখন ভারতেরই তো আগের মতো সম্পর্ক নেই। ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যুতে নতুন সঙ্কট তৈরি হয়েছে। দুর্বল সরকার থাকলে ভারতের লাভ, কিন্তু দুর্বল সরকার আবার মাঝে মাঝে কিন্তু ভারত বিদ্বেষী কথাবার্তা বেশি বলবে। পাকিস্তানের নির্বাচনের আগে দেখা যাবে ভারতকে নিয়ে কথাবার্তা থাকবে। কেউ বলবে ইমরান খান ভারতের দালাল, আবার ইমরান খান বলবে অন্যরা ভারতের দালাল -এটা থাকবেই। কারণ, ভারত একটা বিষয় পাকিস্তানে। কিন্তু এমনিতেই প্রভাব পড়ার কোন কারণ নেই।

ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড-সুইডেন যোগ দিচ্ছে, পশ্চিমা মিডিয়ার এমন সংবাদ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এটা এখনও ঠিক হয়নি। অনেক খবর পশ্চিমা গণমাধ্যমে বের হয়। এর বিভিন্ন ধরণের রাজনীতি থাকে। আমি ভুল প্রমাণিত হতে পারি তবে আমার মনে হয় ফিনল্যান্ডের যাওয়ার কথা না। কারণ, না যেয়ে তাঁদের সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো আছে। তাঁরা কোন ধরণের হুমকির সম্মুখীন হয়না। যতক্ষণ পর্যন্ত এটা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটা খবর তৈরি করার মত কোন বিষয় নয়।

পাকিস্তান   ইমরান খান   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র   চীন   ন্যাটো   ভারত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘নিজে সংক্রমিত হয়ে অন্যকে সংক্রমিত করা অন্যায়’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘নিজে সংক্রমিত হয়ে অন্যকে সংক্রমিত করা অন্যায়’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেছেন, এখন আমরা করোনার নতুন সংক্রমণ দেখতে পাচ্ছি। এটা হঠাৎ করেই আরও বেড়ে যেতে পারে এবং ইদানিং হঠাৎ করেই বেড়েছে। গত কিছুদিনের সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক। এই সংখ্যাটাকে বাড়তে দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ করোনার সংক্রমণ যেন না বাড়ে সেজন্য এখনই আমাদের অনেক বেশি সর্তক হতে হবে। কারণ করোনা কি পরিমাণ ক্ষতি (শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক) করতে পারে সেটা আমরা জানি। 

সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়া নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, আমরা টিকা দিলেও অনেকের শরীরে পর্যাপ্ত  প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেনি। বিশ্বের বিভিন্ন জার্নালে দেখা গেছে যে, আমরা দুটি টিকা নিয়েছি সেগুলো সর্বোচ্চ এক বছর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। সুতরাং প্রথম দুই ডোজ টিকায় আমরা এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নই। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এখন চতুর্থ ডোজ দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। এই সময় আমাদের বয়স্ক মানুষেরা, যাদের নানা ধরনের দীর্ঘ স্থায়ী অসুখ-বিসুখ আছে, তাদের যদি করোনা আক্রমণ করে তাহলে আবারও বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। অনেকে আছেন যারা টিকা নেয়নি, তারা যেন অবশ্যই টিকা নেয় এবং যারা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে কিন্তু বুস্টার ডোজ নেয়নি তারাও যেন শিগগিরই বুস্টার ডোজ নেয়। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো, প্রথমত নিজেকে রক্ষা করা এবং দ্বিতীয়ত হলো আমার কারণে যেন অন্য আরেকজন সংক্রমিত না হয়। নিজে সংক্রমিত হয়ে অন্যকে সংক্রমিত করা অন্যায়। ধরুন আমি বুস্টার ডোজ বা টিকা নিলাম না কিন্তু আমি সংক্রমিত হলাম এবং আমার দ্বারা আরেকজন সংক্রমিত হলো তাহলে সেটা বড় ধরনের অন্যায়। সেজন্য নিজেকে এবং পাশাপাশি অন্যকে রক্ষা করার জন্য আমাদের যে সমস্ত স্বাস্থবিধি আছে সেগুলো যথার্থভাবে প্রতিপালন করতে হবে। 

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে দেশের সকলকে আহ্বান করছি, যারা এখনো টিকার আওতায় আসেননি, তারা যেন দ্রুত টিকা গ্রহণ করেন। সরকার বিনামূল্যে টিকা দিচ্ছে, এর চেয়ে আর বড় সুবিধা হতে পারে না। কারণ আমরা আশঙ্কা করছি যে, দেশে আবার যেকোনো মুহূর্তেই করোনা বেড়ে যেতে পারে। আর করোনা বেড়ে গেলে আমাদের আবার সেই বদ্ধ জীবন-যাপন করতে হবে, যা আমরা কেউই চাই না। কারণ বদ্ধ জীবন-যাপনে আমরা কেউও মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকবো না, শারীরিকভাবেও নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং করোনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা মাথায় রেখে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত।

সংক্রমিত   করোনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহী’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহী’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, একটি মহল, একটি অপশক্তি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানতে পারেননি, যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে, তারা এখনো দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। শেখ হাসিনার হাতে যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা এসেছে তখন তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে যুদ্ধপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তা লক্ষ্য করেছে এবং অভিনন্দন জানিয়েছে। 

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার জন্য কমিশন গঠন করতে হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সেতু উদ্বোধনের পর সেতুর নাট-বল্টু খোলার ঘটনা নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে আলাপচারিতায় জাহাঙ্গীর কবির নানক এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এই পদ্মা সেতুসহ রাষ্ট্রকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করে সেই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা খালেদা জিয়া, ড. ইউনূসেরা। এই স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে তারা ষড়যন্ত্র করেছিল। স্বপ্নের পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থ সরিয়ে নেওয়া, পাশাপাশি জাইকার অর্থ সরিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে, এশিয়ান ডেভেলমেন্ট ব্যাংকের টাকা সরিয়ে নেওয়া জন্য কথিত দুর্নীতির অভিযোগ এনে তারা টাকা সরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশের এই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক, দুঃসাহসিক নেত্রী শেখ হাসিনা তা তোয়াক্কা না করে পদ্মা সেতু সফল করেছেন, সম্পন্ন করেছেন এবং স্বপ্ন এখন বাস্তবতায় এসেছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এবং ড. ইউনূসের সঙ্গে এদেশের আরও কিছু সুশীল ব্যক্তি জড়িত ছিল, যারা এই পদ্মা সেতুর বিরোধীতা করেছে। সেই ব্যক্তিদের অবশ্যই মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিশন গঠন করে তাদেরকে জাতির সামনে চিহ্নিত করা এবং তাদেরকে আইনের মুখোমুখি করা উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ সেই দিন ছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি, আজকে তা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহী। এই রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির মুখোশ উন্মোচন হওয়া উচিত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যারা বিরোধীতা করেছে, অবশ্যই তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে অভিযুক্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত এবং অবিলম্বে তাদের বিচার শুরু করা দরকার। এছাড়া পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খোলার ঘটনা ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে আমি মনে করি।

পদ্মা সেতু   বিরোধীতাকারীরা   রাষ্ট্রদ্রোহী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

প্রকাশ: ০৪:০৬ পিএম, ২৮ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, আমরা একটা অপসংস্কৃতির দিকে চলে যাচ্ছি। আগে সমাজের সব ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আলাদা একটা মর্যাদার জায়গা ছিল। নানা কারণেই আমাদের সমাজের এখন অবক্ষয় হয়েছে। এখন শিক্ষকরা মর্যাদা তো পায় না বরং তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে যে ঘটনাটি ঘটছে তা রীতিমতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যে ছাত্র এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তার নিজস্ব একটি কিশোর গ্যাং আছে। আমি মনে করি আমাদের ব্যর্থতার চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও একটা বড় ব্যর্থতা আছে। যেভাবে শিশু কিশোররা গ্যাং তৈরি করছে। তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এরা যে শুধু শিক্ষকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে না নয়, এরা হরহমাশেই বিভিন্ন মানুষের ওপর হামলা করছে। সেটা হয়তো কোনো ব্যবসায়ীর ওপর করছে কিংবা কোনো মহিলাকে হেনেস্তা করছে। যে গুলো হয়তো সেভাবে সামনে আসেনি।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র কর্তৃক শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো পিছনে নৈতিকতার ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলো দিন দিন লোপ পেয়ে যাচ্ছে। পরিবারকেন্দ্রিক আমাদের যে শিক্ষাগুলো ছিলো এগুলো আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা আর আগের মতো পরিবার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। আর যারা কিশোর গ্যাং এর সঙ্গের জড়িত তারা বেশির ভাগ এতিম। এখানে আমি দুই অর্থে এতিম বলছি। একটি হলো যে যাদের সত্যি সত্যি বাবা-মা নাই। আবার আরেকটি হচ্ছে, এদের বাবা-মা থেকেও নাই। কারণ বাবা-মা এদের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। হয়তো বাবা ও মায়ের মধ্যে সমস্যা আছে। তারা আলাদা থাকছে। কিংবা বাবা-মা হয়তো এক সঙ্গেই থাকে কিন্তু সন্তানের খোঁজ খবর নেওয়া বা সন্তানকে যেটুকু সময় দেওয়ার কথা তারা সেটা দিতে পারছেন না। এই বিষয়গুলো আমাদের দেশে আরেক ধরনের এতিম তৈরি করেছে। এই সমস্ত কিছুর জন্য আজ আমাদের সমাজের নৈতিকতার এই দুরাবস্থা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার কারণেও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় অনুভূতির অভিযোগ এনে শিক্ষকদের হেনেস্তার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কেউ একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দেয় আর এটা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে। যারা ধর্মীয় অনুভূতির নামে বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায় বা তাদের মন্দিরে, উপাসনালয়ে হামলা করে। এরা আসলে ধর্মান্ধ লোক। যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায় বা ফায়দা লুটতে চায় তারা ধরনের কাজের সাথে জড়িত থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের আলেম সমাজের বড় ভূমিকা আছে। কারণ কেউ একটা স্ট্যাটাস দিলেই তাতে আমার নবী খুব দুর্বল হয়ে পড়বে বিষয়গুলো তো আসলে এমন নয়। সেজন্য ধর্মীয় নেতাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কেউ অন্যায় করলে আইন অনুসারে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত কিন্তু সামান্য কোনো একটা বিষয় নিয়ে রীতিমতো হামলার করা, নাশকতা করা এগুলো হতে পারে না।

পরিবারকেন্দ্রিক   শিক্ষা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা নাট-বল্টু খোলার সাথে জড়িত’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা নাট-বল্টু খোলার সাথে জড়িত’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের উৎসাহ আর উদ্দীপনা ব্যাপক। এটি শুধু এখন নয়, উদ্বোধনের আগেও ছিল। পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের যে আবেগ ও উৎসাহ, সেটা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ, অতি উৎসাহ এটি থাকবেই। কারণ সারাদেশের মানুষের আবেগ জড়িত আছে এই সেতুর সাথে। তবে কারো কারো উৎসাহের সাথে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কিনা সেটা একটা প্রশ্নের বিষয় এবং সে বিষয়ে অবশ্যই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুসন্ধান করে দেখবেন। বিষয়টি নিয়ে আরও ভালোভাবে খোঁজ খবর এবং আরও নজরদারি করার দরকার বলে আমি মনে করি। 

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরের দিন সেতু উপরে উঠে ছবি তোলা, টিকটক ভিডিও বানানো এবং পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে নেওয়া প্রসঙ্গে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক। আমাদের স্বপ্ন পূরণের বাস্তব নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এই পদ্মা সেতু। ফলে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হতেই পারেই। এটা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সে সকল বিষয়ের দিকে বিশেষ নজরদারির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে, তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং আরও বেশি তৎপর থাকবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি। কারণ পদ্মা সেতু আমাদের একটি বড় স্থাপনা, যেটা আমাদের জাতীয় অগ্রগতি এবং উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। সেটার যেন কোনো ক্ষতি সাধিত না হয় এবং এটা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার।

তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলেছে পুলিশ ইতোমধ্যে তাকে গ্রেফতার করেছে। দেশের অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা এর সাথে জড়িত আছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বেশ তৎপর আছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। আমাদের দেশে অপরাজনীতি আছে। আবার বিরোধীতার জন্য বিরোধীতাকারীদের সংখ্যাও আছে। যারা মূলত এ ধরনের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে। এ ধরনের রাজনীতির করার নেতাও আছে, যারা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নকে সাধুবাদ জানাতে পারেন না। সুতরাং তাদের দিকে নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি। 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আসলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং সাময়িক সময়ের জন্য। সেতুতে পারাপারের সঙ্গে জড়িত সকল নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হলেই শিগগিরই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে আমি মনে করি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'বন্যার্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে'


Thumbnail 'বন্যার্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে'

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, বন্যাকবলিতদের পুনর্বাসনসহ যে সংকটগুলো আছে, সেগুলো নিরসনের জন্য সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাজ করছে। এই কাজ অব্যাহত থাকবে। 

বন্যা পরিস্থিতি, বন্যার্তদের পুনর্বাসন নদীভাঙনসহ বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য এ কে এম এনামুল হক শামীম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, বন্যার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়েছিলেন। আমিও এলাকাগুলোতে গিয়েছিলাম। এখন আওয়ামী লীগ এমপি, জনপ্রতিনিধি এবং সকল সহযোগী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। বন্যার্তদের পাশে সরকার এবং আওয়ামী লীগ রয়েছে। সর্বোচ্চ কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানি নেমে গেছে। দিন দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকা যেগুলো আছে, প্রত্যেক জায়গায় আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেইভাবেই আমরা এলার্ট রয়েছি, প্রস্তুত রয়েছি। জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলদের নির্দেশনা দেওয়া আছে যেনো নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে তারা সর্বোচ্চ নজরদারী দেন। 

এনামুল হক শামীম বলেন, প্রতি বছরই এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর অনেক ক্ষেত্রে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের দেশে বন্যা কয়েক দফা হয়, বর্ষা হয়, নদীভাঙন হয়, ঘূর্ণিঝড় হয়, সাইক্লোন হয় এটা আমরা প্রতি বছরই জানি এবং সেই ভাবেই আমরা আগাম প্রস্তুতি রাখি। মূলত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত সব সময় এলার্ট থাকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো এলার্ট থাকি। 

বন্যা পরিস্থিতি   বন্যা   বন্যার্ত  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন