ইনসাইড টক

‘যা-তা কাজ করে সংখ্যা বাড়াতে চাই না’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১০ Jun, ২০২২


Thumbnail

শিশুশিল্পী হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখেন অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনবার অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এখনো দর্শকদের চোখে ভাসে সেই ছোট্ট দীঘির অভিনয়, আর কানে বাজে তার মিষ্টি সংলাপ। দীঘি এখন আর শিশুশিল্পী নেই, দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছেন।

নায়িকা হিসেবে দিঘীর প্রথম চলচ্চিত্র ‘তুমি আছো তুমি নেই’। ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। ছবিটি মুক্তির পর বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিলো দিঘীকে। নায়িকা হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র দিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে বসে থাকেননি, কাজ করেছেন আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে। তবে কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিলো না তাঁর।



চলচ্চিত্রের পর বেশ কিছু মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন দিঘী। এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া তার একটি মিউজিক ভিডিও বেশ সাড়া ফেলেছে। তবে নিজেকে জাহির করতে, নিজের কাজ যাচাইয়ের জন্য এবার দিঘী পা রেখেছেন ওটিটি মাধ্যমে। প্রথমবারের নতুন মাধ্যম ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে দেখা গিয়েছে প্রার্থনা ফারদিন দীঘিকে। সুমন ধর পরিচালিত 'শেষ চিঠি' মুক্তি পেয়েছে গত বৃহস্পতিবার (২ জুন) রাত ৮টায়।  মুক্তির পর বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন দিঘী। সমসাময়িক নানা বিষয় ও কাজ নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের  সাথে কথা হলো হালের এই নায়িকার।

বাংলা ইনসাইডার: সম্প্রতি ‘শেষ চিঠি’ দিয়ে ওটিটিতে অভিষিক্ত হয়েছেন দীঘির। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

দিঘী: এতটা সাড়া পাবো ভাবিনি। সিনেমাটি রাত ৮টায় মুক্তি পায়। ১০টার পর থেকে আমার কাছে ফোন আসতে শুরু করে। সবাই কাজটি প্রশংসা করেছে।

প্রথম ওয়েব ফিল্ম নিয়ে টেনশনে পাঁচ দিন ঘুমাতে পারিনি। যখন দেখলাম মানুষের টিজার দেখে প্রত্যাশ অনেক বেশি তখন মনে হলো হয়ত পছন্দ হবে। যখন পজিটিভ সাড়া পেলাম তখন পাঁচ দিনের মাথায় ভাবলাম আজ একটু শান্তিতে ঘুমাবো। কিন্তু সারা রাত যখন সবাই ফোন করে প্রশংসা করছে সেই রিভিউ শুনতে শুনতে আর ঘুমাতে পারিনি। সবার ফোনেই রাত পার হয়ে গেছে।

বাংলা ইনসাইডার: সামনের দিনে কি ধরণের চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা আছে? 

দিঘী: বাইরের দেশে অনেক নারীকেন্দ্রিক সিনেমা নির্মিত হয় যেটা আমাদের দেশে খুব কম হয়। ইচ্ছে আছে নারীকেন্দ্রিক সিনেমায় কাজ করার। শুরু থেকেই এ ধরনের একটি কাজের জন্য মুখিয়ে আছি। সুযোগ পেলেই লুফে নেব। আর চরিত্রের কথা বললে বলতে হবে যে, আমি কারিনা কাপুরের অনেক ভক্ত। তাই তার ‘জব উই মেট’ এর গীত চরিত্রটি আমার খুবই পছন্দের। চরিত্রটি আমারই মনে হয়। এ রকম চরিত্র পেলে আমি খুব ভালো করব। তবে সব ধরনের সিনেমায় এবং চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চাই।



বাংলা ইনসাইডার: বর্তমান ব্যস্ততা কি?

দিঘী: এখন আসন্ন ঈদের কাজের ব্যস্ততা চলছে। বেছে বেছে বিভিন্ন ফটোশুটে অংশ নিচ্ছি। তবে এবার কম কাজ হাতে নিয়েছি। এখন আমি বেছে বেছে কাজ করছি। ঈদের পর শুরু করব সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা ‘শ্রাবণ জোৎস্নায়’-এর বাকি অংশের শুটিং। আসছে সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাবে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমাটি।

বাংলা ইনসাইডার: ‘মুজিব’ সিনেমার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

দিঘী: এই সিনেমায় কাজ করতে পারায় নিজেকে অনেক বড় ভাগ্যবান মনে করছি। কারণ, আমার মতো ছোট একটা মেয়ে অডিশন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে কাজের সুযোগ পেয়েছে। আমি ভাগ্যবান না হলে কাজটি পেতাম না। এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। সবমিলিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো।

বাংলা ইনসাইডার: ওটিটিতে নিয়মিত পাওয়া যাবে?  

দিঘী: ইচ্ছে আছে নিয়মিত কাজ করার। ভালো কাজ পেলে নিয়মিত দেখা যাবে। তবে যা তা কাজ করে সংখ্যা বাড়াতে চাই না। কাজ কম করব তবে মানসম্মত কাজ করতে চাই। আমি নিজেও একজন ওটিটির ভক্ত। আমার বাসায় নেটফ্লিক্স থেকে শুরু করে সব প্ল্যাটফর্মই আছে। যখন বাংলাদেশে ওটিটি আসেনি তখন থেকে আমি ওটিটি দেখায় অভ্যস্ত। ওটিটির কাজে ভিন্নতা আছে। 

ওটিটিতে কাজ করলে চর্চার জন্য ভালো হবে। আমি দুই মাধ্যমেই কাজ করব। তবে ওটিটিকে ছোট করে দেখা যাবে না। সালমান খানের মতো তারকার সিনেমা এখন ওটিটিতে মুক্তি পাচ্ছে। ওটিটি এখন অনেক বড় হচ্ছে। ওটিটির স্কিন ছোট হলেও প্ল্যাটফর্ম অনেক বড়। তাছাড়া ভালো ভালো কাজও হচ্ছে। বাংলাদেশেও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।



বাংলা ইনসাইডার: প্রায়ই দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি যা কিছুই শেয়ার করেন না কেন তা সব ভাইরাল হয়ে যায়। কেন? 

দিঘী: এগুলো মানুষ করে আমি কিছুই জানি না। কেন করে তারাই ভালো জানে। আলোচনা তাকে নিয়েই হয় যাকে নিয়ে সমালোচনা হয়। আবার যাকে নিয়ে সমালোচনা হয় তাকে নিয়েই কিন্তু আলোচনা হয়। আমাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দুটিই হয়। কখনই কারো শতভাগ ভক্ত হয় না। কিছু সমালোচকও থাকে।

দিঘী   চলচ্চিত্র   ওটিটি   প্ল্যাটফর্ম  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৫ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পদ্মা সেতুর উদ্ধোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টানিং পয়েন্ট’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, আজকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। স্বাধীনতা অর্জন করার পর আমার মধ্যে যে ধরনের অনুভূতি ছিল, আজকেও সেই একই অনুভূতি কাজ করছে। পদ্মা সেতুর মতো এতো বড় মেগা প্রজেক্ট যেটি নানা রকম ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে গিয়ে আজকে চূড়ান্ত দৃশ্যমান হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নিজের অর্থ ব্যয়ে যখন পদ্মা সেতু হলো তখন বার বার সেই একাত্তরের কথাই মনে পড়ছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক আবদুল মান্নান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বাঙালি জাতি পারে না এমন কোনো জিনিস বা কাজ নেই। প্রয়োজন শুধু যোগ্য নেতৃত্ব। নেতৃত্ব ঠিক থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে বাঙালি জাতি সম্ভব করতে পারে। আর সেটা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য নেতৃত্বে প্রমাণিত হয়েছে। আজ ২০২২ সালে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন, আর যিনি মানুষকে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে পারেন বা মানুষকে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে নিয়ে আসেন আসল কৃতিত্ব তখন তারই হয়। পদ্মা সেতু বেলায় সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পদ্মা সেতু নিয়ে এতো ষড়যন্ত্র, এতো বিরোধীতা, কিন্তু তিনি কখনো হতাশ হননি। 

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, একবার বঙ্গবন্ধুকে এক বিবিসি সাংবাদিক বলেছিল, আপনার দেশ যে স্বাধীন হলো, আপনার দেশে তো কিছু নাই, আপনি কি দিয়ে দেশকে দাঁড় করাবেন। তখন বঙ্গবন্ধু উত্তরে বলেছিলেন, আমার দেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। বঙ্গবন্ধু তাকে এও বলেছিলেন, মাটি ও মানুষ এই দুটি জিনিস কখনো আমাকে বিচলিত করে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকে সে কথাই পুনরাবৃত্তি করেছেন তার বক্তব্যে। শেখ হাসিনা যাদের উপর আস্থা রেখেছিল তারা উনার বরখেলাপ করেননি। সাধারণ শ্রমিক থেকে শুরু করে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই শেখ হাসিনার ওপর যেমন আস্থা রেখেছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনাও তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু হবে না বলে যারা সমালোচনা করেছিলেন, বিরোধীতা করেছিলেন, আজকে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, ক্ষমা চাওয়া উচিত। কারণ তারা নিজেদের ক্ষমতার ব্যাপারে অবগত নন। তারা দেশের মানুষের সক্ষমতাকে অস্বীকার করেছিলেন। যা তাদের ভুল ছিল। একাত্তরে আমরা বড় কোনো অস্ত্র শস্ত্র ছাড়াই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ােই করে জয়ী হয়েছি। কারণ আমাদের বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা ছিলেন। আজ বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা আছে, তার রক্ত আছে।

পদ্মা সেতু   উদ্বোধন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'পদ্মা পাড়ের মানুষকে পদ্মা সেতু নতুনভাবে বাঁচতে স্বপ্ন দেখাবে'

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৪ Jun, ২০২২


Thumbnail 'পদ্মা পাড়ের মানুষকে পদ্মা সেতু নতুনভাবে বাঁচতে স্বপ্ন দেখাবে'

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, পদ্মা সেতুর আশেপাশের যে অঞ্চলগুলো আছে, আমরা যেগুলোকে পদ্মা সেতুর বিশেষ সুবিধাভোগী বলে থাকি, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওই ২১টি জেলার মধ্যে ১৩টি জেলা একেবারে দরিদ্র্য জেলা। বাংলাদেশের দরিদ্র্য জেলাগুলোর যে তালিকা সেখানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩টি জেলা আছে। সেখানকার মানুষ যারা চরাঞ্চলের অর্থাৎ যারা সুন্দরবনের আশেপাশে বাস করছেন, যারা প্রতিবছর আইলা বা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যারা মেনেই নিয়েছে যে, তাদের জীবনটা এ রকমই হবে। খোলা আকাশের নিচে কোনো রকম একটা ঘর থাকবে, মাছ ধরবে সেটা বিক্রি করে তারা জীবন চালাবে। কারণ সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে এভাবে সৃষ্টি করেছেন, এভাবেই তাদের থাকতে হবে, এটা তারা মেনেই নিয়েছে। কিন্তু পদ্মা সেতুর হওয়াতে এখন তাদের মানসিক জগতের একটা পরিবর্তন হবে। 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সাধারণ মানুষের জীবনে পদ্মা সেতু কি ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে, ওই এলাকার মানুষের মধ্যে এখন একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে তাদের যে জীবনযাত্রা সেটাই তাদের জীবনযাত্রা না। আগে তারা শাক সবজি উৎপাদন করতো,  হয়তো মাছ ধরতো বা ফুল চাষ করতো, কিংবা ছোট খাটো কৃষিকাজ করতো। এগুলো তাদেরকে বেশিরভাগ সময় চরাঞ্চলেই বিক্রি করতে হতো। আবার যারা মহাজন আছেন তারাও এসব কিনে খুব বেশি লাভবান হতো  না। কারণ পদ্মা পাড়ে তাদের তিন/চার দিন ধরে অপেক্ষা করতে হতো, ৮/১০ মাইল গাড়ির লাইন দাঁড়িয়ে থাকতো, এতে করে বেশির ভাগ সময় প্রায় অর্ধেক কাঁচামালই তাদের পচে যেতো বা নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু পদ্মা সেতু হয়ে গেলে, একটি গ্রামের অতি ক্ষুদ্র কৃষকেরাও একসঙ্গে তাদের উৎপাদিত, পুইঁশাক, করলা বা তাদের ধরা ছোট মাছগুলো ছোট ট্রাকে করে সেটা ২/৩ টনের হতে পারে, এভাবে তারা কিন্তু এখন ঢাকা এনে বিক্রি করে আবার দিনের মধ্যে বাড়ি ফিরে যেতে পারবে। এই যে নতুন একটা জাগরণ, নতুনভাবে বাঁচতে তাদের স্বপ্ন দেখা বা আশা করা এটাই হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সবচেয়ে বড় অর্জন এবং এটাই হবে সেতুর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক প্রভাব। এর ফলে ওই এলাকার পুরো চিত্র বদলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিবার ঈদের সময় দেখি যে, লঞ্চ ডুবে যায়, আগুনে ফেরি পুড়ে যায়, মুর্মূষু রোগী ফেরির মধ্যেই মারা গেছে, এরকম শত শত ঘটনা আছে। কিংবা প্রসূতি মা সময় মতো হাসপাতালে যেতে না পারার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই রকম হাজারো নীরব কান্না আছে ওই অঞ্চলে। যাদের সাথে এই সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তারাই জানে এর কষ্টটা। আমরা হয়তো সেটা সেরকমভাবে উপলদ্ধি করতে পারবো না। যে কারণে আমাদের চেয়ে তারা আরও ভালো বুঝতে পারবে এই সেতু গুরুত্ব কতটুকু।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আমাদের মানসিকতা একটু আপডেট করতে হবে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৩ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘আমাদের মানসিকতা একটু আপডেট করতে হবে’

দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। তার নামটিই ঢালিউডের শোবিজ অঙ্গনের দুরন্ত এক মেধাবীর নাম। শোবিজে তার শুরুটা হয়েছিল আরজে হিসেবে। এরপর নিজেকে মেলে ধরেন উপস্থাপনায়। তারপর মডেলিং, স্টেজ শো উপস্থাপনা যখন যেখানে কাজ করেছেন সেখানেই সাফল্য কুড়িয়েছেন দুহাত ভরে। সিনেমায় নাম লেখিয়েও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।

বছর দেড়েক আগে নুসরাত ফারিয়া ছোট পর্দার অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘যদি...কিন্তু... তবুও’ নামের একটি ওয়েব ফিল্মে কাজ করেন। এরপর আর তাদের একসঙ্গে দেখা যায়নি। সেই ওয়েব ফিল্মের পর তারা আবারও নতুন করে জুটি বাঁধলেন।

এবার জুটি বেঁধে ৭৫ মিনিটের টেলিভিশন ফিচার ফিল্মে অভিনয় করেছেন তারা। ‘আইকন ম্যান’ নামের এই ফিচার ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন ছোট পর্দার দর্শকপ্রিয় নির্মাতা সঞ্জয় সমাদ্দার। সমসাময়িক কাজ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেন লাস্যময়ী এই নায়িকা।

প্রথমবার টিভি ফিচার ফিল্মে কাজ করা প্রসঙ্গে নুসরাত ফারিয়া বলেন, এখানে আমার চরিত্রটির নাম নোভা। এটা ধোঁয়াশার মতো একটি চরিত্র। যা আমি কখনো করিনি। এখন কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, দর্শক এখানে ভিন্ন এক নুসরাত ফারিয়াকে দেখতে পাবে। এর আগে সবাই আমাকে গ্ল্যামারস সব চরিত্রে দেখেছেন। তবে এটি একদমই আলাদা।



জানা গেছে, বর্তমান সমাজে প্রতিযোগিতা, অসংগতি আর প্রতিশোধের গল্প ‘আইকন ম্যান’। গল্পে কিছুটা থ্রিল আছে। চিত্রনাট্য লিখেছেন ইশতিয়াক অয়ন। আগামী ঈদে দীপ্ত টিভিতে প্রচারের পর একই চ্যানেলের ইউটিউবে মুক্তি দেওয়া হবে এটি।

দীর্ঘদিন ধরেই বড় পর্দায় নেই নুসরাত ফারিয়া। গেল রোজার ঈদেও মুক্তি পায়নি তার নতুন কোনো সিনেমা। আসন্ন ঈদে তার একটি সিনেমা মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। তাই এবারের ঈদেও বড় পর্দা থাকবে ফারিয়াবিহীন। প্রসঙ্গে নায়িকা বলেন, আমরা আমাদের কাজ করেই আসছি। শুটিং, ডাবিং এবং প্রমোশন পর্যন্ত থাকার চেষ্টা করি। এখন সিনেমা মুক্তির বিষয়ে আমাদের হাত থাকে না। আমার অনেকগুলো সিনেমা আটকে আছে।

যোগ করে নুসরাত ফারিয়া বলেন, কোরবানির ঈদে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমা আসার কথা চলছে। এছাড়া ‘পাতাল ঘর’ নামে আরও একটি সিনেমা মুক্তির কথা ছিল। তবে ঈদে সিনেমা মুক্তি না পেলে আমার খুব কষ্ট লাগে। আমি চাই, যেটাই আসুক না কেন সেটা যেন পরিপূর্ণভাবে প্রেক্ষাগৃহে আসে।

তবে ফারিয়া এবার আর তার ভক্তদের একেবারে নিরাশ করতে চান না। তাই তো সদ্য ফিচার ফিল্মে কাজ করেছেন তিনি। ‘আইকন ম্যান’ দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, আসন্ন ঈদের জন্য ভিন্নধর্মী একটি কাজ করেছি। এমন কাজ এর আগে কখনো করা হয়নি। এই প্রথমবার টিভি ফিচার ফিল্ম করেছি। ঈদে সবাইকে এটা দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

নুসরাত ফারিয়া অভিনীত মুক্তির অপেক্ষায় আছে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ সিনেমা। এই সিনেমার খ্যাতিমান পরিচালক শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এটা আমার কাছে স্বপ্নের প্রজেক্ট। এটার অংশ হতে পারাটাও একটা স্বপ্নের মতো। এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (ছোট বেলা থেকে ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত) চরিত্রে অভিনয় করছি। এটা আমার ওপর অনেক বড় একটি দায়ভার। পরিচালক শ্যাম বেনেগাল ও পুরো টিমের সহযোগিতায় এই দায়ভারটা আমি যথাযথ সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। আশা করি, সবাই কাজটি পছন্দ করবে।