ইনসাইড টক

‘যা-তা কাজ করে সংখ্যা বাড়াতে চাই না’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১০ জুন, ২০২২


Thumbnail

শিশুশিল্পী হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখেন অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনবার অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এখনো দর্শকদের চোখে ভাসে সেই ছোট্ট দীঘির অভিনয়, আর কানে বাজে তার মিষ্টি সংলাপ। দীঘি এখন আর শিশুশিল্পী নেই, দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছেন।

নায়িকা হিসেবে দিঘীর প্রথম চলচ্চিত্র ‘তুমি আছো তুমি নেই’। ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। ছবিটি মুক্তির পর বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিলো দিঘীকে। নায়িকা হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র দিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে বসে থাকেননি, কাজ করেছেন আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে। তবে কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিলো না তাঁর।



চলচ্চিত্রের পর বেশ কিছু মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন দিঘী। এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া তার একটি মিউজিক ভিডিও বেশ সাড়া ফেলেছে। তবে নিজেকে জাহির করতে, নিজের কাজ যাচাইয়ের জন্য এবার দিঘী পা রেখেছেন ওটিটি মাধ্যমে। প্রথমবারের নতুন মাধ্যম ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে দেখা গিয়েছে প্রার্থনা ফারদিন দীঘিকে। সুমন ধর পরিচালিত 'শেষ চিঠি' মুক্তি পেয়েছে গত বৃহস্পতিবার (২ জুন) রাত ৮টায়।  মুক্তির পর বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন দিঘী। সমসাময়িক নানা বিষয় ও কাজ নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের  সাথে কথা হলো হালের এই নায়িকার।

বাংলা ইনসাইডার: সম্প্রতি ‘শেষ চিঠি’ দিয়ে ওটিটিতে অভিষিক্ত হয়েছেন দীঘির। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

দিঘী: এতটা সাড়া পাবো ভাবিনি। সিনেমাটি রাত ৮টায় মুক্তি পায়। ১০টার পর থেকে আমার কাছে ফোন আসতে শুরু করে। সবাই কাজটি প্রশংসা করেছে।

প্রথম ওয়েব ফিল্ম নিয়ে টেনশনে পাঁচ দিন ঘুমাতে পারিনি। যখন দেখলাম মানুষের টিজার দেখে প্রত্যাশ অনেক বেশি তখন মনে হলো হয়ত পছন্দ হবে। যখন পজিটিভ সাড়া পেলাম তখন পাঁচ দিনের মাথায় ভাবলাম আজ একটু শান্তিতে ঘুমাবো। কিন্তু সারা রাত যখন সবাই ফোন করে প্রশংসা করছে সেই রিভিউ শুনতে শুনতে আর ঘুমাতে পারিনি। সবার ফোনেই রাত পার হয়ে গেছে।

বাংলা ইনসাইডার: সামনের দিনে কি ধরণের চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা আছে? 

দিঘী: বাইরের দেশে অনেক নারীকেন্দ্রিক সিনেমা নির্মিত হয় যেটা আমাদের দেশে খুব কম হয়। ইচ্ছে আছে নারীকেন্দ্রিক সিনেমায় কাজ করার। শুরু থেকেই এ ধরনের একটি কাজের জন্য মুখিয়ে আছি। সুযোগ পেলেই লুফে নেব। আর চরিত্রের কথা বললে বলতে হবে যে, আমি কারিনা কাপুরের অনেক ভক্ত। তাই তার ‘জব উই মেট’ এর গীত চরিত্রটি আমার খুবই পছন্দের। চরিত্রটি আমারই মনে হয়। এ রকম চরিত্র পেলে আমি খুব ভালো করব। তবে সব ধরনের সিনেমায় এবং চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চাই।



বাংলা ইনসাইডার: বর্তমান ব্যস্ততা কি?

দিঘী: এখন আসন্ন ঈদের কাজের ব্যস্ততা চলছে। বেছে বেছে বিভিন্ন ফটোশুটে অংশ নিচ্ছি। তবে এবার কম কাজ হাতে নিয়েছি। এখন আমি বেছে বেছে কাজ করছি। ঈদের পর শুরু করব সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা ‘শ্রাবণ জোৎস্নায়’-এর বাকি অংশের শুটিং। আসছে সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাবে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমাটি।

বাংলা ইনসাইডার: ‘মুজিব’ সিনেমার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

দিঘী: এই সিনেমায় কাজ করতে পারায় নিজেকে অনেক বড় ভাগ্যবান মনে করছি। কারণ, আমার মতো ছোট একটা মেয়ে অডিশন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে কাজের সুযোগ পেয়েছে। আমি ভাগ্যবান না হলে কাজটি পেতাম না। এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। সবমিলিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো।

বাংলা ইনসাইডার: ওটিটিতে নিয়মিত পাওয়া যাবে?  

দিঘী: ইচ্ছে আছে নিয়মিত কাজ করার। ভালো কাজ পেলে নিয়মিত দেখা যাবে। তবে যা তা কাজ করে সংখ্যা বাড়াতে চাই না। কাজ কম করব তবে মানসম্মত কাজ করতে চাই। আমি নিজেও একজন ওটিটির ভক্ত। আমার বাসায় নেটফ্লিক্স থেকে শুরু করে সব প্ল্যাটফর্মই আছে। যখন বাংলাদেশে ওটিটি আসেনি তখন থেকে আমি ওটিটি দেখায় অভ্যস্ত। ওটিটির কাজে ভিন্নতা আছে। 

ওটিটিতে কাজ করলে চর্চার জন্য ভালো হবে। আমি দুই মাধ্যমেই কাজ করব। তবে ওটিটিকে ছোট করে দেখা যাবে না। সালমান খানের মতো তারকার সিনেমা এখন ওটিটিতে মুক্তি পাচ্ছে। ওটিটি এখন অনেক বড় হচ্ছে। ওটিটির স্কিন ছোট হলেও প্ল্যাটফর্ম অনেক বড়। তাছাড়া ভালো ভালো কাজও হচ্ছে। বাংলাদেশেও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।



বাংলা ইনসাইডার: প্রায়ই দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি যা কিছুই শেয়ার করেন না কেন তা সব ভাইরাল হয়ে যায়। কেন? 

দিঘী: এগুলো মানুষ করে আমি কিছুই জানি না। কেন করে তারাই ভালো জানে। আলোচনা তাকে নিয়েই হয় যাকে নিয়ে সমালোচনা হয়। আবার যাকে নিয়ে সমালোচনা হয় তাকে নিয়েই কিন্তু আলোচনা হয়। আমাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দুটিই হয়। কখনই কারো শতভাগ ভক্ত হয় না। কিছু সমালোচকও থাকে।

দিঘী   চলচ্চিত্র   ওটিটি   প্ল্যাটফর্ম  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আমাদের কিছু করার নেই'


Thumbnail 'বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আমাদের কিছু করার নেই'

এখন দেশে অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে, টাকা পাচার বন্ধ, ব্যাংকিং খাতে লুটপাট বন্ধ এবং সার্বিকভাবে দুর্নীতি যদি কমানো যেতো তাহলে সরকারকে আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণও নিতে হতো না এবং সরকারকে এই সংকটে পড়তে হতো না। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে কথা বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. মাহবুব হোসেন। তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

বাংলা ইনসাইডার: দুর্নীতি বন্ধের জন্য দুদক কি করছে, কতটুকু সক্রিয় আপনারা?

মো. মাহবুব হোসেন: আমাদের তফসিলে যে বিষয়গুলো বলা আছে, সেই তফসিলের ক্ষমতাবলে বা তফসিলের আওতায় যে সমস্যা বা অভিযোগগুলো, সেগুলোর বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুদক সেইসব অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান করার করার পর যদি কোনো তথ্য থাকে তখন মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়ের হলে কোর্টে যাই। কাজ চলমান আছে।

বাংলা ইনসাইডার: বিদেশে টাকা পাচার, যেমন পিকে হালদারের বিষয় কি বলবেন?

মো. মাহবুব হোসেন: টাকা পাচারের ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। এক্ষেত্রে দুদকের ক্ষমতা সীমিত। কারণ মানিলন্ডারিং আইনে দুদককে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারী যদি মানিলন্ডারিং করে দুর্নীতির মাধ্যমে, সেইটা দুদক দেখভাল করতে পারবে বা মামলা নিতে পারবে বা তদন্ত করতে পারবে। তাছাড়া অন্য কোনো পাবলিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজে যদি না করে সেখানে দুদকের যাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। আইনগতভাবে আমরা পারি না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনারা কি মনে করেন না যে, এই আইনটি সংশোধন করা প্রয়োজন?

মো. মাহবুব হোসেন: আইন সংশোধন করা লাগবে। মহামান্য হাইকোর্টও বলেছে আইন সংশোধন করতে। আইন সংশোধনের জন্য আমরা কেবিনেটে চিঠিও দিয়েছি। কেবিনেট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দিয়েছে। ওইটার অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। সংশোধন বলতে ওই তফসিলে আমাদের দুদককেও ক্ষমতাটা দিয়ে দিতে হবে। তাহলে আমরা ওইগুলো করতে পারবো। কিন্তু ওই সংশোধনীর অগ্রগতি আমরা এখনো পর্যন্ত জানি না।

বাংলা ইনসাইডার: ব্যাংকিং খাতে যেমন বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হলমার্ক নিয়ে দুদক অনেক সক্রিয় ছিল, কিন্তু কোনো রেজাল্ট তো সাধারণ নাগরিকরা পেলো না। এটাতে এতো দীর্ঘদিন সময় কেন লাগছে? 

মো. মাহবুব হোসেন: আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যেগুলোর অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে, সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত আমাদের নিতে হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে নিতে হয়। সেটার জন্য সময় লাগে। চাওয়ার সাথে সাথে কেউ সহজে দেয় না। বারবার চাইতে হয়। এটা একটা কারণ। 

বাংলা ইনসাইডার: বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারি, এটার বিষয়ে আপনারা তো এখনো কিছু করতে পারলেন না?

মো. মাহবুব হোসেন: এগুলো আমাদের এইখানে এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে। তথ্য-উপাত্ত সব পাওয়া গেলে তারপরে তারা দিবে। এখনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে এখনো রেডি হয়নি। আমার ৭ মাসের অভিজ্ঞতায় আমার মন্তব্য এইরকম। আর সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে, এই বিষয়ে আমার এখতিয়ার নেই। অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা এগুলো আলাদা বিষয়। 

বাংলা ইনসাইডার: দুদকের সচিব হিসেবে আপনি কি মনে করেন যে, দুদক যদি আরও সক্রিয় হতো তাহলে দুর্নীতিটা আরও কমে যেতো?

মো. মাহবুব হোসেন: দুদক তো সক্রিয় আছে। সচিব হিসেবে আমার বক্তব্য হলো, দুদক তৎপর আছে। আপনারা অগ্রগতি সহসাই দেখতে পাবেন। 

বাংলা ইনসাইডার: কি করলে দুদক আরও মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে?

মো. মাহবুব হোসেন: আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পেতে সময় লাগে। এটাই সমস্যা। 

বাংলা ইনসাইডার: আপনাদের জনবল নিয়ে কি কোনো সমস্যা আছে?

মো. মাহবুব হোসেন: জনবল নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। জনবল যা আছে সেটা যথেষ্ট।

মানিলন্ডারিং   দুর্নীতি   দুদক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বাজার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘বাজার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেছেন, জ্বালানি হলো সব উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র। যে কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে সবকিছুর দাম স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে এর প্রভাব পড়বে না। শুধু পরিবহন নয়, পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু আছে, প্রতিটি সেক্টরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে।

সাম্প্রতিক দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। যার কারণে বাজারের অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়া আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অন্যান্য পণ্যের বাজারে কি ধরনের প্রভাব পড়বে এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ড. আবুল বারাকাত এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এ বি এম আজাদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে আমাদের দেশে একটা বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। আর সেটা হলো কোনো কিছুর দাম বেড়ে গেলে বাকি সব পণ্যের দাম আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে অন্যান্য পণ্যের দাম যতটুকু না বাড়ার কথা তার চেয়ে বেশি বেড়ে যাবে। যারা এটা বাড়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে জিনিসের দাম বাজার নির্ধারণ করে না, এটা সিন্ডিকেট করে থাকে। একই সাথে এই সিন্ডিকেট সেটা নিয়ন্ত্রণও করে। সুতরাং এই সিন্ডিকেটকে  নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সব কিছুর দাম এমন বাড়ার বাড়বে, সেটা অস্বাভাবিক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়। ফলে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। সুতরাং বাজার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো কিন্তু এর দাম আবার কখন কমবে সেটা বলা মুশকিল। এটা কেউ বলতেও পারবেন না, বলাও সম্ভব নয়। এমন এক অবস্থা যেটাকে ঝুঁকি বলা যায় না, এটা হলো অনিশ্চয়তা। আর অনিশ্চয়তা ঝুঁকির চেয়ে খুবই খারাপ ব্যাপার। কারণ এটা পরিমাপ করা যায় না।

জ্বালানি তেল   বাজার   সিন্ডিকেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'মূল্য বৃদ্ধির পরও জ্বালানি তেলে সরকারকে লোকসান দিতে হচ্ছে'


Thumbnail 'মূল্য বৃদ্ধির পরও জ্বালানি তেলে সরকারকে লোকসান দিতে হচ্ছে'

জ্বালানি তেলে এত বেশি পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেছেন, যেটা আমাদের মূল জ্বালানির সব থেকে বড় অংশ সেটা হলো ডিজেল এবং এই ডিজেলের মোট ব্যবহারের পরিমাণ ৭১ শতাংশের উপরে। ডিজেলের প্রতি লিটারের আমদানি খরচ এখন (জুলাই মাসের হিসেবে) ১২২.১৩ টাকা। সেখানে সমন্বয় করে নতুন দাম ধরা হয়েছে ১১৪ টাকা। এখনও ৮.১৩ টাকা সরকারকে লোকসান বা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ডিজেলের দাম ৩৪ টাকা বাড়লেও খরচ কিন্তু পুরোটা সমন্বয় হলো না।

সাম্প্রতিক দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহনের ভাড়া সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ বি এম আজাদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এ বি এম আজাদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

এ বি এম আজাদ বলেন, প্রান্তিক মানুষ ডিজেল ব্যবহার করে থাকে। সেখানে আমরা দেখেছি যে, ডিজেলের মূল্য ৩৪ টাকা বাড়ার কারণে দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে ১৬.২২ শতাংশ। আগে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ছিল ১.৮০ টাকা। আর এখন ২৯ পয়সা বেড়ে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া হবে ২.০৯ টাকা। সিটি এলাকার বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়বে ১৩.১৬ শতাংশ। সে হিসেবে আগে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ছিল ২.১৫ টাকা। সেটা এখন ২৮ পয়সা বেড়ে হবে ২.৪৩ টাকা। এখানে ভাড়া বৃদ্ধির হার সেই অর্থে বেশি নয়। তাহলে রোড সেক্টরে ১৬ শতাংশ এবং ১৩ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। লঞ্চেও মানুষ যাতায়াত করে। এটিও আমাদের এটি পরিবহণ ব্যবস্থা। সেখানে ভাড়া বাড়বে ১৯.১৮ শতাংশ। আগে ছিল প্রতি কিলোমিটারে ২.১৯ টাকা। সেখানে ৪২ পয়সা যোগ হয়ে হবে। তাহলে হবে ২.৬২ টাকা প্রতি কিলোমিটারে লঞ্চের ভাড়া। এটা আমাদের সব ক্যালকুলেশন অনুযায়ী করা হয়েছে। জ্বালানি সেক্টরে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিটা হবে। 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও কি ডিজেলের কম খরচ হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমাদের আগে জানতে হবে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ডিজেলের ব্যবহার কতটুকু। আমার কাছে যে তথ্য আছে সেটা হলো, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৭.২২ শতাংশ ডিজেল ব্যবহার হয়। এই ক্ষেত্রে পরিমাণের দিক দিয়ে যদি চিন্তা করি তাহলে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টর ডিজেল বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুতের বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গ্যাস। এখন ডিজেল চালিত যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারণ ডিজেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সব থেকে বেশি খরচ হয়। যার জন্য আগে থেকে বন্ধ রাখা হয়। গত বছর কিছুটা ব্যবহৃত হতো। এ বছর হয়তো আরও একটু কম ব্যবহৃত হবে। কারণ একটি বা দুই যে প্লান্ট ইকোনমিক্যালি ভায়াবল সেগুলো হয়তো করবে। এটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যুতের সাশ্রয় দরকার। করণ অনন্য জ্বালানিও তো এর সঙ্গে যুক্ত। যেটা আমার অংশ সেটা আমি বললাম। ডিজিলের বড় ব্যবহার হয় হলো পরিবহনে। এখানে সেই অর্থে সাশ্রয়ের কোনো পদক্ষেপ নেই। ডিমান্ড থাকলে সেটা তো আমাকে পূরণ করতে হবে। কারণ আমি তো পরিবহণ খাত নিয়ন্ত্রণ করি না।  

জ্বালানি তেল   সরকার   লোকসান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ০৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি’

দর্শকপ্রিয় অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু। ছোট পর্দার পাশাপাশি কাজ করছেন নিয়মিত বড় পর্দাতেও। দুই জায়গাতেই তিনি তার অভিনয়ের মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি ওয়েব ফিল্মে দিয়েও বেশ আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এবার ঈদেও মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত পরান সিনেমাটি। পাশাপাশি ওটিটি মাধ্যম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে সিন্ডিকেট নামের ওয়েব সিরিজ। দুই জায়গাতেই নিজের সর্বচ্চটুকু দিয়ে বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন এই অভিনেতা। সমসাময়িক কাজ নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হলো সময়ের এই আলোচিত অভিনেতার।

বাংলা ইনসাইডার: ‘সিন্ডিকেট’, ‘পরাণ’ দিয়ে বেশ সাড়া পাচ্ছেন। কেমন উপভোগ করছেন?

অপু: একজন অভিনেতার প্রাপ্তি হচ্ছে বা আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে তাঁর কাজ বিপুল সংখ্যক লোক দেখবে। সেই জায়গা থেকেই সিন্ডিকেট বেশ আলোচনায় এসেছে আর পরাণ তো ব্লকবাস্টার হিট। দর্শকদের কাছ থেকে অনেক বেশী সাড়া পাচ্ছি। সেই জায়গা থেকে আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি।



বাংলা ইনসাইডার: বেশীরভাগ কাজেই নেগেটিভ চরিত্রে দেখা যাচ্ছে এর কারণ কী?

অপু: প্রতিটি কাজে নেগেটিভ চরিত্রটি বেঁছে নিয়েছি কারণ এই জায়গাতে অভিনয়ের অনেক জায়গা থাকে। সিনেমার ক্ষেত্রে নায়ক ছাড়া অন্য কোন চরিত্রে তেমন অভিনয় করার সুযোগ থাকে না। পাশাপাশি এই চরিত্রটি করতে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

বাংলা ইনসাইডার: দীর্ঘদিন পর ফের হল মুখী হচ্ছেন দর্শক। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

অপু: আমি যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন বেদের মেয়ে জোসনা দেখতে গিয়েছিলাম। আমার বাবা একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন। সে সময় ব্যাংকের সবাই মিলে সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলাম। সেই যে ভালো লাগার উচ্ছ্বাস তা এতদিন পর পরাণ সিনেমায় দেখতে পেলাম। একজন অভিনেতার এরচেয়ে আর বড় প্রাপ্তি কী হতে পারে? পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা দেখার যে আনন্দ তা মুখে বলে প্রকাশ করার মত না।